সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম - বালুকা মাঝারে ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - বালুকা মাঝারে
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বালি তটে আরামের আবেশে চলছে সানবাথ 
ট্যান ফ্যানকে না করে  পরোয়া,নিয়ে প্রকৃতির সাথ। 

ব্যস্ততার মাঝে অনুভব করে সে কারোর অনুপস্থিতি 
সব ভুলে তাই নিজেকে নিয়েই আছে মাতি।

'ভিটামিন ডি' এর ঘাটতি পূরণে সূর্যলোকের নেই যে তুলনা 
সেইজন্য মন প্রাণ ভরে নৈসর্গিক সৌন্দর্য আস্বাদনে নিয়োজিত ললনা।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম - ইফতার✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ইফতার
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

আজ ঈদের শুভদিনে একটা ছোট্ট ঘটনা মনে পড়ে গেলো। তখন সবে ফার্স্ট ইয়ারে এমডি করতে ঢুকেছি,মাস নয়েক পর রমজান মাস শুরু হলো।হোস্টেলে আমাদের ফ্লোরে রোশনারা,ফিরোজা এরা রোজা রাখা শুরু করলো। আমাদের গার্লস গ্রুপ ও ছিল একটা। তো ফিরোজা আর রোশনারা বাদে যারা আমরা ইফতারে হামলে পড়তাম সুস্বাদু খাবার খেতে তারা ঠিক করলাম একটা রবিবার দিন যেদিন আমাদের কারোর কোনো ডিউটি থাকবেনা দিনের বেলায় তারাও ওদের দুজনের মতো খাবার না খেয়ে (যদিও আমরা এমনিতেই সবাই ডিউটি চক্করে ৮-৯ ঘণ্টা না খেয়েই থাকতাম) জল না খেয়ে ওদের সাথে ইফতারে খাবো একসাথে। তো যেমন কথা তেমন কাজ! সারাদিন নির্জলা আর খাবার ছাড়া কাটিয়ে দিয়ে ঠিক ইফতারের সময় খেতে বসা হবে সেই সময় মৌমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লো,মাথা ঘোরাচ্ছে বলছিল, চোখে অন্ধকার দেখছে। ইফতার করা মাথায় উঠলো সবার,ওকে নিয়ে সকলে গেলাম মেডিসিন ওয়ার্ডে। আর এম ও স্যার বললেন ভেসোভ্যাগাল হয়ে গেছে। প্রচণ্ড ডিহাইড্রেটেড,এখুনি একে ফ্লুইড দাও আর মুখে কিছু খেতে দাও। পা দুটো একটু বালিশের ওপরে তুলে রাখুক। তারপর মোটামুটি স্টেবল হতে স্যার জিজ্ঞেস করলেন কি করে হলো এরকম? তখন ঐ ইফতার উপলক্ষ্যে সবার রোজা রাখার গল্প বললাম। স্যার হেসে বললেন পারিস ও ভাই তোরা! সব কটা যা একটা মিনারেল ওয়াটার বোতল কিনে জল খা। নয়তো বাকি গুলোও মাথা ঘুরিয়ে পড়বি সব। আর এত বেড কিন্তু নেই তোদের জন্য। সেদিন মৌমি একটু সুস্থ হতে স্যার বললেন দেখি কি কি অ্যারেঞ্জ করছিলি তোরা? তখন আবার হোস্টেলে ফোন করে ইফতারের সব খাবার হোস্টেলের ভিজিটিং রুমে আনানো হলো। স্যার ও খুব মজা করে খেয়েছিলেন সেদিন আমাদের সবার সাথে। আর বলেছিলেন দেখ ফিরোজা রোশনারা এরা প্রতি বছর রোজা রাখে, এদের অভ্যাস আছে আর এদের শরীরে বায়োলজিক্যাল ক্লকও এভাবে মানিয়ে নেয়। তোরা জল না খেয়ে গরমে থাকতে পারবি না, তাই এসব ওস্তাদি করতে যাস না। মৌমি আবার দুম করে সরি বলে ফেলেছিল। ফিরোজা ওকে জড়িয়ে বলেছিল কিসের সরি রে! তোদের এই কান্ড দেখে আমরা হতবাক। আমরা বললাম সত্যি খাবার ছাড়া থাকা গেলেও এতটা সময় জল ছাড়া থাকা অসহনীয়, জিভ ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছিলো খুব কষ্ট হচ্ছিল। তোরা সত্যি খুব কষ্ট করে রোজা রাখিস রে! ফিরোজা বললো এখন এগুলো আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। চল এরপর আর আমাদের কষ্ট বোঝার জন্য পাকামো মেরে তোদের জল আর খাবার না খেয়ে থাকতে হবে না! প্রমিস কর সবাই! মৌমি সহ আমরা সবাই প্রমিস করেছিলাম সেদিন। এখনো স্যারের সাথে দেখা হলে সেই দিনের কথা স্যার তুলবেন একবার হলেও। আজ ফিরোজা এসএস কে এম,রোশনারা মুর্শিদাবাদ,মৌমি ডায়মন্ড হারবারে,অর্চিতা ন্যাশনালে আর একজন এন আর এসে থাকলেও রমজান মাস শুরু হলে আর যে কোনো রকম উৎসবে সবাই আমরা ফোনের গ্রুপে মেতে উঠি এক অনাবিল আনন্দে,বুঝতেই পারিনা যে আমরা একে অপরের থেকে এতদূরে আছি, মনে হয় এই তো কালকের ঘটনা। এভাবেই স্মৃতির পাতায় জমে উঠছে কত কত গল্প।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫

জন্মদিনে শরদিন্দু

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনী
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বাংলা সাহিত্যে যাদের অবদান অনস্বীকার্য তাদের মধ্যেই একজন স্মরণীয় ও বরণীয় বিশিষ্ট সাহিত্যিক হলেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। ইনি তিরিশে মার্চ ১৮৯৯ সালে উত্তর প্রদেশে জৌনপুর নামক শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।আর কোলকাতায় এসে ওনার নিবাস হয় বরানগরের আদিকুঠি এলাকায়। 

 পড়াশোনা ও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ:
মাত্র ষোলো বছর বয়সে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ম্যাট্রিক পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হন। ছোটবেলা, স্কুল জীবন সবটাই মুঙ্গেরে কাটে তাঁর। আর খেলাধুলোতেও বেশ পারদর্শী ছিলেন তিনি। ছোট বেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি তাঁর একটা ভালোবাসা ছিল,কিন্তু তাঁর বাবা তারাভূষণ বন্দোপাধ্যায় চাইতেন ছেলে ব্যারিস্টার হোক। বাবার ইচ্ছে আর নিজের সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ এই দুই ভাবনার অন্তর্দ্বন্দ্বে ভুগতেন তিনি। বাবার ইচ্ছে রাখতে তিনি বি এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পাটনায় আইন নিয়ে পড়তে যান। কিন্তু মনে যার সাহিত্য বাস করে সে কি করে অন্য কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবে! পরে তাঁর বাবাও হয়তো বুঝেছিলেন ছেলের মন নেই ওকালতিতে, তাই ছেলে নিজের মনের কথা শুনে সাহিত্য চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।

১৯ বছর বয়সে মুঙ্গেরের উকিল জীবন চক্রবর্তীর পৌত্রী পারুল দেবীর সাথে তার বিবাহ হয়। 
১৯২৬ সালে  পাটনা থেকে আইন পাস করে ওকালতি শুরু করেন তিনি। কিন্তু তাঁর ওকালতি জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ওকালতি শুরুর তিন বছরের মাথায় পাটনা ছেড়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি দেন আর সেখানে মুভির জন্য স্ক্রিনপ্লে লেখা শুরু করেন। বেশিদিন মুম্বাই তে থাকেননি, ১৯৫২ সালে পুনে আসেন আর নিজের সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ কে প্রাধান্য দিয়ে মনোনিবেশ করেন সাহিত্য চর্চায়।

সাহিত্য জীবন - পড়াশোনা চলা কালীন কুড়ি বছর বয়সে কলেজে পড়ার সময়ে প্রথম সাহিত্য হিসেবে একটি কবিতা সংকলন প্রকাশ পায় যার নাম ছিল "যৌবন স্মৃতি"।এই সংকলনে প্রায় একুশটা মত কবিতা ছিল এবং প্রতিটি লেখাই ছিল পাঠকের মনোগ্রাহী। ওকালতি জীবনেই 'বসুমতী' তে ছাপা হয়েছিল তাঁর প্রথম গল্প 'উড়ো মেঘ'।শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার মধ্যে সব চেয়ে জনপ্রিয় ছিল গোয়েন্দা কাহিনী। এছাড়াও সামাজিক, রোমান্টিক, ডিটেকটিভ কাহিনী, ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস রচনা করেছিলেন তিনি। তাঁর বর্ণনা রীতি ছিল অসাধারণ আর ভাষার বুনন থাকতো খুব মজবুত। অতি সহজেই তাঁর লেখা তাই পাঠকের মনে আনন্দ দান করেছিল। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। উপন্যাসের পাশাপাশি লিখেছিলেন কবিতাও। তাঁর সাহিত্যে প্রেরণার কথা বলতে গিয়ে নিজের মা বিজলীপ্রভা দেবীর কথা বলেছেন যিনি কিশোর শরদিন্দুকে পড়ে শোনাতেন 'মেঘনাদবধ কাব্য'।সেই থেকেই তাঁর মনে সাহিত্য চর্চার উন্মেষ হয়।বম্বে টকিজ ছবির গল্প লেখক হিসেবে কাজ করার সুবাদে ভাবী,বচন, দুর্গা, কঙ্কন এগুলো তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাণিজ্যিক ফরমায়েশি পালন ছিল না তাঁর রক্তে, তাই পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা একটু ফিরতেই  আবার তিনি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। একটা কথা তিনি সবসময় বলতেন " জীবনকে এড়িয়ে কোনোদিন গোয়েন্দা গল্প লেখবার চেষ্টা করিনি "। কি, কেনো, কবে, কীভাবের উত্তর অন্বেষণ করতে করতে বাঙালি যে কখন গোয়েন্দা হয়ে ওঠে বোঝা মুশকিল। বাঙালির এই খানা তল্লাশি করার কাজে আজও তারা গোয়েন্দা গিরিতে চোখ বন্ধ করে ফলো করে ব্যোমকেশকে। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই বাঙালি তার প্রথম প্রাইভেট ডিটেকটিভ  হিসেবে পেয়েছিল সত্যান্বেষী কে। শরদিন্দু তাঁর বলিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে গোয়েন্দা কাহিনী গুলোকে এক অন্য রকম মাত্রা দিয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎ কারে বলেছিলেন " ওগুলো (ব্যোমকেশের কাহিনী গুলো) নিছক গোয়েন্দা কাহিনী নয়। প্রতিটি কাহিনী আপনি শুধু সামাজিক কাহিনী হিসেবেও পড়তে পারেন"। তাই শুধু গোয়েন্দা গল্পই নয়, শরদিন্দুর যে কোনো লেখাতেই জীবন সম্পৃক্ততার পূর্ণ প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। শুধু সমসাময়িক বা জীবনের দৈনন্দিন ঘটনা কেই তিনি শুধু প্রাধান্য দেননি, ইতিহাসকেও চমৎকার ভাবে দেখতে পারতেন তিনি। নিজেই বলতেন " আমি বাঙালিকে তাহার প্রাচীনের সাথে পরিচয় করাইয়া দিবার চেষ্টা করিয়াছি। বাঙালি যতদিন না নিজের বংশ গরিমার কথা জানতে পারিবে,ততদিন তাহার চরিত্র গঠিত হইবে না..."। তাই বাঙালি পেয়েছে 'কালের মন্দিরা ', ' গৌড়মল্লার ', ' কুমারসম্ভবের কবি', ' শিবাজী ও সদাশিব ' এর মত ঐতিহাসিক উপন্যাসকে। ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছিলেন " লোকে ইতিহাস পড়িবে না,কিন্তু আপনার বই পড়িবে"।ছোট গল্পেও তার অবদান অনস্বীকার্য। 'ভল্লু সর্দার', 'কর্তার কীর্তি' এই রচনা গুলো বারবার পড়েও পুনরায় পড়ার সাধ থেকে যায় পাঠকের মনে। বই পড়া, রচনার পাশাপাশি ভাষা চর্চার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল বেশ। নিজে সংস্কৃত শিখবেন বলে পণ্ডিতও নিয়োগ করেছিলেন তিনি। 

জীবনের শেষ উনিশ বছর নিজের তৈরী বাড়ি মিথিলা তে কাটিয়েছিলেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়।  তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিল শুধু বই আর বই। ভালো পাঠক না হলে ভালো লেখক হওয়া যায় না, শিক্ষিত পাঠক সৃষ্টি করে এক শিক্ষিত লেখকের। এর জলজ্যান্ত উদাহরণ ছিলেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। 
বড়োদের গল্প উপন্যাসের পাশাপাশি শিশু কিশোরদের জন্য ও তাঁর লেখালিখির পরিমাণ কম নয়। শিশু সাহিত্যে তাঁর স্মরণীয় নায়ক চরিত্র ছিল 'সদা শিব '।  

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরস্কার প্রাপ্তি :
শরৎ চন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার (১৯৬৭)
রবীন্দ্র পুরস্কার ( তুঙ্গভদ্রার তীরে)

তাঁর এই সাহিত্যময় জীবন ছেড়ে অবশেষে ১৯৭০ সালে
 ২২ সেপ্টেম্বর পুনেতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলা সাহিত্য তাঁর এই অবদানের জন্য তাঁর কাছে চিরঋণী।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম - কথকথা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - কথকথা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কথায় আছে ভাবিয়া করিও কাজ,করিয়া ভাবিও না। কোনো কিছু করার আগে অবশ্যই ভেবে নেওয়া উচিত বেশ খানিকটা। আর কথাতো হলো এমন এক,যা একবার মুখ থেকে বেরোলে তাকে আর ফিরিয়ে নেওয়া যায়না ঠিক ধনুক থেকে তীর নিক্ষেপের মতন। ব্যবহার দিয়েই মানুষকে চেনা যায় আর মনেও রাখা যায়। স্থান কাল পাত্র নির্বিশেষে কোথায় কোন কথা বলা যায় আর কোন কথা বলা যায়না এগুলো আগে থেকেই ভাবনাচিন্তা করা উচিত। হয়তো কোনো কিছু বলার আগে রাগ হচ্ছে তখন চুপ থাকাই শ্রেয়। কথার মারপ্যাঁচে কাউকে বিপদে ফেলাও অনুচিত। কারো বলা কথায় কেউ যাতে কোনো কষ্ট না পায় সেটাই ভাবা উচিত সব সময়। কোনো এক সিনেমায় একটা উক্তি শুনেছিলাম 'অ্যাডজাস্টমেন্ট মানে হেরে যাওয়া নয়,বরং নতুন করে মানিয়ে নিয়ে বাঁচা।' তা নতুনের সাথে মানিয়ে নিতে ক্ষতি তো কিছু নেই। কথা আদান প্রদান এমন হোক যাতে কারোর মনে কোনো কোনো খেদ না জন্মায়,ক্ষত না তৈরি হয়।দিন দিন বরং মানুষের ধৈর্য্য কমছে,না ভেবেচিন্তেই কথা দিয়ে আরেকজনকে আঘাত করছে। কথায় বলে মানুষ সব থেকে বেশী প্রেমে পড়ে কথার, কথা দিয়ে যেমন করো মন ভালো করা যায় আবার তেমন কথার দ্বারা কারো মন ভেঙেও দেওয়া যায়। তাই সব দিক ভেবেচিন্তে বুদ্ধি স্থির রেখে কথা বলা উচিত সে নিজের লোকই হোক বা বাইরের কেউ হোক। 

"শব্দ হোক ভদ্র মার্জিত,কথাই হলো ব্যক্তির মনের প্রতিফলন
তাই ভেবে চিন্তে বলো কথা,এর যে হয়না বিপরীত গমন।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম-রুদ্ধ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম-রুদ্ধ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন,নেই যাওয়া আসা বহুদিন ধরে 
বিস্তৃত রেলপথ একাকী,গাছ উঠেছে তার বুক ফুঁড়ে।

ভুলে যদি যাও,না থাকে কোনো কথা বিনিময়
অপর প্রান্ত নিশ্চুপ থেকে অপেক্ষা করবে কিছু সময়।

জানোই তো সকলে,প্রকৃতি নিয়ম রক্ষার্থে বড়ই কঠোর
সংযোগহীনতায় বন্ধ হয় ফেরার পথ,রুদ্ধ হয় সব দ্বার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০২৫

সংস্কার ও কুসংস্কার✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 সংস্কার ও কুসংস্কার
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সংস্কার মানে কিছু নিয়ম বা আচার যা সৃষ্টি হয়েছে সেই আদিকাল থেকে, সমাজের মাথারা এসবের  হর্তাকর্তা। আর এই সংস্কারের বশবর্তি হয়ে কিছু অযৌক্তিক জিনিস মেনে নিয়ে চলাকে কুসংস্কার বলা হয়। 
"কুসংস্কার" শব্দটি ল্যাটিন সুপারস্টার থেকে আসে, সাধারণত "দাঁড়িয়ে থাকা" হিসাবে অনুবাদ করা হয়, তবে তার সঠিক মানে ব্যাখ্যা করার বিষয়ে কিছু মতভেদ রয়েছে।
কিছু যুক্তি দেয় যে এটি আশ্চর্যের কিছু কিছু "দাঁড়িয়ে" বলে অভিহিত করেছে, কিন্তু এটিও প্রস্তাব করা হয়েছে যে এটি "বেঁচে থাকা" বা "চলমান",যেমন অযৌক্তিক বিশ্বাসের দৃঢ়তা হিসাবে। 
সহজ ভাষায় কুসংস্কার অতিপ্রাকৃত একটি বিশ্বাস,  যা বিশ্বজগতের প্রকৃতি বা বিজ্ঞানের জ্ঞানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন অস্তিত্বের একটি বিশ্বাস।
আর এই বিশ্বাস জন্মানোর জন্য যে মূল দায়ী সে হলো সংস্কার। প্রাচীনকাল থেকে সংস্কারের জাতা কলে পিষ্ট হতে হতে কুসংস্কারের জন্ম হয়েছে মানুষের মনে। তাই আজও একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষ ধর্মের গোঁড়ামি থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি। যার ফল স্বরূপ আজও শোনা যায় ডাইনী সন্দেহে কাউকে মেরে ফেলা হয়েছে, সাপে কাটলে তাকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে গিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া,শিশুবলি, গণেশের দুধপান,বশীকরণ ইত্যাদি। 
লোকসমাজে চলে আসা এসব ভ্রান্ত ধারণা তথা কু সংস্কার দুর করতে পারে একমাত্র বিজ্ঞানের আলোচনা। বিজ্ঞান বনাম কুসস্কারাচ্ছন্ন মানুষের মন এই লড়াই চলে আসছে অনেক দিন ধরেই। 
যেদিন মানুষ মন থেকে কুসংস্কার দূরে সরিয়ে দিয়ে বিজ্ঞানের জয়গান গাইবে সেদিন নতুন সমাজের সৃষ্টি হবে,ধর্মীয় অনুশাসনের অচলায়তন থেকে বেরিয়ে আসবে মানুষ, মুক্ত হবে সংস্কারের প্রভাবে সৃষ্ট কুসংস্কারের নিগড় থেকে। আর এর জন্য চাই সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার দিশারী। বিজ্ঞান মঞ্চ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয় মাঝে মাঝেই। নানা রকম ক্যাম্প করে বিজ্ঞানের চিন্তাধারার মূল রোপণ করতে হবে সাধারণ মানুষের মনে। তবেই বাঁচবে সমাজ আর সমাজের লোক সকল।

"এসেছে সময় সংস্কারজাত কুসংস্কার থেকে মুক্তির
দিশা দেখাবে বিজ্ঞান সকলে গাও জয়গান তার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫

'ফিল গুড' এক্সপ্রেশন✍️ ডা:অরুণিমা দাস

'ফিল গুড' এক্সপ্রেশন
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

লবণের অনুপস্থিতি যেমন তরকারিতে তার উপস্থিতি উপলব্ধি করায়, জলের মূল্য যেমন জীবনে অপরিহার্য, সেরকম মনের কথা যতক্ষণ থাকে অবলা, ততক্ষণ পর্যন্ত সেটি প্রকাশের জন্য অপেক্ষমান থাকে। কোনো কথা যদি জমা থাকে মনের কোণে,যদি মনে হয় কাউকে বলা যায়না তাহলে সেটা লিখে ফেলা উচিত কোনো খাতায়, ডায়রী লেখার অভ্যাস হয়তো এই জন্য থাকা ভালো। সেটা অবশ্যই যে যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। একটু ডাক্তারি পরিভাষায় নিরিখে কিছু কথা এসে যাচ্ছে মনে। অবলা কথা মনে জমে থাকা একটা কষ্টের সৃষ্টি হওয়া যা মানসিক চাপকে বাড়িয়ে দেয় বেশ খানিকটা। ফলস্বরূপ নিঃসৃত হয় স্ট্রেস হরমোন যা বেশ ক্ষতিকর শরীর ও মন দুইয়ের পক্ষে। তাই মনের জমে থাকা কথা প্রকাশে একটা ফিল গুড অনুভূতি আসে মনে,চাপ কমে অনেকটা। আর চাপ কমার সাথে সাথে নিঃসৃত হয় হ্যাপি হরমোন যেমন ডোপামিন,সেরোটোনিন ইত্যাদি। মন যেমন ভালো হয় এতে তেমন নিজেকে বেশ হাসি খুশী আর উদ্যমী লাগে। এভাবেই কোনো কথা অব্যক্ত না রেখে যে কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করে গুমরে না থেকে,অবসাদে না ভুগে প্রাণখোলা আনন্দে মেতে থাকা উচিত। 

"রেখো না কিছুই অব্যক্ত,যে কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করো মনের কথা
হ্যাপি হরমোন দেবে 'ফিল গুড' তোমায়,ভোলাবে সকল ব্যথা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম - দূরত্ব✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দূরত্ব
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

মান অভিমানে বেড়েছে দূরত্ব, তবুও যত্নশীল একে অপরের প্রতি 
আসলে ভালোবাসা থাকলে মনে,রাগেও ফোটে সহানুভূতি।

যতই আসুক ঝড় ঝাপটা, ভরসার হাত ছেড়ো না কখনো 
স্বামী স্ত্রী যে একে অপরের অবলম্বন সকলেই তো জানো। 

চলবে জীবন নিজের মতন, থাকবে হাতাহাতি আর ঝগড়া ঝাঁটি 
এর মাঝেই চিরস্থায়ী থাকুক যত্নসুখের আবেশ,তবেই না ভালোবাসা হবে খাঁটি। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম - উপহার ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - উপহার
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

উপহার যদি দেওয়া যায়, আমার মতে সেরা উপহার হলো সময় দেওয়া। সময় কাউকে দেওয়া মানে সেই মুহূর্ত গুলো দেওয়া যা কখনো আর ফিরে আসবে না কিন্তু স্মৃতির মণিকোঠায় ছাপ পড়ে থাকবে। আজকাল কার যুগে মানুষ এতটাই যান্ত্রিক হয়ে পড়েছে যে সময়ের অভাব বড্ড প্রকট। মোবাইল, ল্যাপটপ বা আইপ্যাড এসবে এতটাই বুঁদ হয়ে গেছে যে কাছের মানুষ আত্মীয় স্বজনদের সময় দেবার কথা ভুলেই গেছে। এর দরুন সম্পর্কে চিড় ধরছে, ভাঙ্গন ধরছে সম্পর্কে। ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়ছে, একাকীত্ব বাড়ছে। তাই সময় দেওয়া টা খুব প্রয়োজন। আর সারাদিনে নিজের জন্য সময় বের করে নিজের সাথে সময় কাটানো টাও নিজেকে দেওয়া সেরা উপহার। সময় বের করে নিজের প্যাশন গুলো এক্সিকিউট করাটাও দরকার।  সময় থাকতে সচেতন হওয়া দরকার, সময় দেওয়াটা খুব প্রয়োজন, নিজের ভালোর জন্য আর চারপাশের সবার ভালোর জন্য। 

"দিনদিন মানুষ হয়ে উঠতে যান্ত্রিক,সময় দিতে পারছে কোথায়
উপহার হিসেবে দাও তাই সময়,সেরা হয়ে থাকবে স্মৃতির পাতায়।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০২৫

জেনারেশন গ্যাপ ডা:অরুণিমা দাস

 জেনারেশন গ্যাপ
 ডা:অরুণিমা দাস

এসেছে দাদু অনেকদিনের পরে,খুশি তাই সকলে
ছুট্টে এসে জড়িয়ে ধরে নাতি আবদারখানা বলেই ফেললে।

চাই তার আইপ্যাড ফর ইমপ্রুভমেন্ট ইন এডুকেশন
ছোট্ট হেসে দাদু বলেন তাই নাকি!আগে বইতে করো কনসেনট্রেশন।

দাদুর মুখে ইংরেজি শুনে নাতি হয় ভীষণ অবাক
বুঝতে পেরে দাদু বলেন গ্যাজেট সব চুলোয় যাক।

বই পড়ো ভালো করে,বুক ভরে ঘ্রাণ নাও বইয়ের 
আইপ্যাড না বললে কিসব, ওসবকে করো ইগনোর।

হয়েছি আমরাও বড়ো,করেছি শিক্ষকতা বছরের পর বছর
লাগেনি কোনো ডিজিটাল হেল্প,ছিলাম বই আর ডিকশনারি নির্ভর।

আমিও ফেসবুক করি,শুনলে হতবাক হবে তুমি জানি তা
কিন্তু নই আমি গ্যাজেট নির্ভর,আছে নিজস্বতা।

আজও বলবো হোয়োনা যান্ত্রিক,তুমি যে আমার বড়ই নিকট
জানি একথা শুনে লাগবে খারাপ তোমার,জেনারেশন গ্যাপ যে বড়ই প্রকট।

দাদুর কথায় হেসে নাতি বলে, ভুল হয়েছে আমারই
আইপ্যাড আর নয়,জ্ঞান বাড়াবো বিভিন্ন বই পড়েই।

আজ তাই বুঝতে পারি তোমরা কতটা আলাদা ছিলে,ছিল অন্যরকম চিন্তা ভাবনা
তুমিই হবে আমার চলার পথে আদর্শ,বই হবে বন্ধু ওসব গ্যাজেট আর মানবো না।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০২৫

আজি এ দোলেতে✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 আজি এ দোলেতে
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বসন্তের সমাগমে চারিদিক যে হয়েছে মুখর
প্রকৃতি রেঙেছে লাল পলাশে খুশি ভরপুর।

দোল উৎসবে রঙের খেলাতে মেতেছে সবাই
লাল সবুজ হলুদ আবিরে সকলেরে রাঙাই।

মনের গভীরে যায় যে রঙ,আসে তার ছাপ রেখে
এই দোলেতে আনন্দ দ্বিগুণ হোক সেই রঙখানি মেখে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...