রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম - ইফতার✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ইফতার
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

আজ ঈদের শুভদিনে একটা ছোট্ট ঘটনা মনে পড়ে গেলো। তখন সবে ফার্স্ট ইয়ারে এমডি করতে ঢুকেছি,মাস নয়েক পর রমজান মাস শুরু হলো।হোস্টেলে আমাদের ফ্লোরে রোশনারা,ফিরোজা এরা রোজা রাখা শুরু করলো। আমাদের গার্লস গ্রুপ ও ছিল একটা। তো ফিরোজা আর রোশনারা বাদে যারা আমরা ইফতারে হামলে পড়তাম সুস্বাদু খাবার খেতে তারা ঠিক করলাম একটা রবিবার দিন যেদিন আমাদের কারোর কোনো ডিউটি থাকবেনা দিনের বেলায় তারাও ওদের দুজনের মতো খাবার না খেয়ে (যদিও আমরা এমনিতেই সবাই ডিউটি চক্করে ৮-৯ ঘণ্টা না খেয়েই থাকতাম) জল না খেয়ে ওদের সাথে ইফতারে খাবো একসাথে। তো যেমন কথা তেমন কাজ! সারাদিন নির্জলা আর খাবার ছাড়া কাটিয়ে দিয়ে ঠিক ইফতারের সময় খেতে বসা হবে সেই সময় মৌমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লো,মাথা ঘোরাচ্ছে বলছিল, চোখে অন্ধকার দেখছে। ইফতার করা মাথায় উঠলো সবার,ওকে নিয়ে সকলে গেলাম মেডিসিন ওয়ার্ডে। আর এম ও স্যার বললেন ভেসোভ্যাগাল হয়ে গেছে। প্রচণ্ড ডিহাইড্রেটেড,এখুনি একে ফ্লুইড দাও আর মুখে কিছু খেতে দাও। পা দুটো একটু বালিশের ওপরে তুলে রাখুক। তারপর মোটামুটি স্টেবল হতে স্যার জিজ্ঞেস করলেন কি করে হলো এরকম? তখন ঐ ইফতার উপলক্ষ্যে সবার রোজা রাখার গল্প বললাম। স্যার হেসে বললেন পারিস ও ভাই তোরা! সব কটা যা একটা মিনারেল ওয়াটার বোতল কিনে জল খা। নয়তো বাকি গুলোও মাথা ঘুরিয়ে পড়বি সব। আর এত বেড কিন্তু নেই তোদের জন্য। সেদিন মৌমি একটু সুস্থ হতে স্যার বললেন দেখি কি কি অ্যারেঞ্জ করছিলি তোরা? তখন আবার হোস্টেলে ফোন করে ইফতারের সব খাবার হোস্টেলের ভিজিটিং রুমে আনানো হলো। স্যার ও খুব মজা করে খেয়েছিলেন সেদিন আমাদের সবার সাথে। আর বলেছিলেন দেখ ফিরোজা রোশনারা এরা প্রতি বছর রোজা রাখে, এদের অভ্যাস আছে আর এদের শরীরে বায়োলজিক্যাল ক্লকও এভাবে মানিয়ে নেয়। তোরা জল না খেয়ে গরমে থাকতে পারবি না, তাই এসব ওস্তাদি করতে যাস না। মৌমি আবার দুম করে সরি বলে ফেলেছিল। ফিরোজা ওকে জড়িয়ে বলেছিল কিসের সরি রে! তোদের এই কান্ড দেখে আমরা হতবাক। আমরা বললাম সত্যি খাবার ছাড়া থাকা গেলেও এতটা সময় জল ছাড়া থাকা অসহনীয়, জিভ ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছিলো খুব কষ্ট হচ্ছিল। তোরা সত্যি খুব কষ্ট করে রোজা রাখিস রে! ফিরোজা বললো এখন এগুলো আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। চল এরপর আর আমাদের কষ্ট বোঝার জন্য পাকামো মেরে তোদের জল আর খাবার না খেয়ে থাকতে হবে না! প্রমিস কর সবাই! মৌমি সহ আমরা সবাই প্রমিস করেছিলাম সেদিন। এখনো স্যারের সাথে দেখা হলে সেই দিনের কথা স্যার তুলবেন একবার হলেও। আজ ফিরোজা এসএস কে এম,রোশনারা মুর্শিদাবাদ,মৌমি ডায়মন্ড হারবারে,অর্চিতা ন্যাশনালে আর একজন এন আর এসে থাকলেও রমজান মাস শুরু হলে আর যে কোনো রকম উৎসবে সবাই আমরা ফোনের গ্রুপে মেতে উঠি এক অনাবিল আনন্দে,বুঝতেই পারিনা যে আমরা একে অপরের থেকে এতদূরে আছি, মনে হয় এই তো কালকের ঘটনা। এভাবেই স্মৃতির পাতায় জমে উঠছে কত কত গল্প।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...