শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০২৫

সংস্কার ও কুসংস্কার✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 সংস্কার ও কুসংস্কার
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সংস্কার মানে কিছু নিয়ম বা আচার যা সৃষ্টি হয়েছে সেই আদিকাল থেকে, সমাজের মাথারা এসবের  হর্তাকর্তা। আর এই সংস্কারের বশবর্তি হয়ে কিছু অযৌক্তিক জিনিস মেনে নিয়ে চলাকে কুসংস্কার বলা হয়। 
"কুসংস্কার" শব্দটি ল্যাটিন সুপারস্টার থেকে আসে, সাধারণত "দাঁড়িয়ে থাকা" হিসাবে অনুবাদ করা হয়, তবে তার সঠিক মানে ব্যাখ্যা করার বিষয়ে কিছু মতভেদ রয়েছে।
কিছু যুক্তি দেয় যে এটি আশ্চর্যের কিছু কিছু "দাঁড়িয়ে" বলে অভিহিত করেছে, কিন্তু এটিও প্রস্তাব করা হয়েছে যে এটি "বেঁচে থাকা" বা "চলমান",যেমন অযৌক্তিক বিশ্বাসের দৃঢ়তা হিসাবে। 
সহজ ভাষায় কুসংস্কার অতিপ্রাকৃত একটি বিশ্বাস,  যা বিশ্বজগতের প্রকৃতি বা বিজ্ঞানের জ্ঞানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন অস্তিত্বের একটি বিশ্বাস।
আর এই বিশ্বাস জন্মানোর জন্য যে মূল দায়ী সে হলো সংস্কার। প্রাচীনকাল থেকে সংস্কারের জাতা কলে পিষ্ট হতে হতে কুসংস্কারের জন্ম হয়েছে মানুষের মনে। তাই আজও একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষ ধর্মের গোঁড়ামি থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি। যার ফল স্বরূপ আজও শোনা যায় ডাইনী সন্দেহে কাউকে মেরে ফেলা হয়েছে, সাপে কাটলে তাকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে গিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া,শিশুবলি, গণেশের দুধপান,বশীকরণ ইত্যাদি। 
লোকসমাজে চলে আসা এসব ভ্রান্ত ধারণা তথা কু সংস্কার দুর করতে পারে একমাত্র বিজ্ঞানের আলোচনা। বিজ্ঞান বনাম কুসস্কারাচ্ছন্ন মানুষের মন এই লড়াই চলে আসছে অনেক দিন ধরেই। 
যেদিন মানুষ মন থেকে কুসংস্কার দূরে সরিয়ে দিয়ে বিজ্ঞানের জয়গান গাইবে সেদিন নতুন সমাজের সৃষ্টি হবে,ধর্মীয় অনুশাসনের অচলায়তন থেকে বেরিয়ে আসবে মানুষ, মুক্ত হবে সংস্কারের প্রভাবে সৃষ্ট কুসংস্কারের নিগড় থেকে। আর এর জন্য চাই সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার দিশারী। বিজ্ঞান মঞ্চ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয় মাঝে মাঝেই। নানা রকম ক্যাম্প করে বিজ্ঞানের চিন্তাধারার মূল রোপণ করতে হবে সাধারণ মানুষের মনে। তবেই বাঁচবে সমাজ আর সমাজের লোক সকল।

"এসেছে সময় সংস্কারজাত কুসংস্কার থেকে মুক্তির
দিশা দেখাবে বিজ্ঞান সকলে গাও জয়গান তার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...