মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০২১

# নাম- বৈষম্য। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ চিত্র আলোচনা-বাসর। 
  # বিষয় - চিত্রালোচনা।
        #নাম- বৈষম্য। 
    ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

     চিত্রে বিপরীত ছবি জীবনের বিপরীত পরিচয়। ঠিক সেইরকম ছবি - *চেরাপুঞ্জি থেকে একখানা মেঘ ধার দিতে পারো গোবি সাহারার বুকে।* - অর্থাৎ একদিকে ধনীর বিলাসব্যসন,বিলাসবহুল জীবন,ভোগৈশ্বর্য,খাদ্যের অপচয়। আর অন্যদিকে নিরন্ন,ক্ষুধার্ত মানুষের অন্নের জন্য হাহাকার। সমাজের এঈ বৈষম্য মেনে নেওয়ার হাঅন্ন শ্রেণি মনে করে বিধিলিপি। 
 কিন্তু এই বৈষম্যের জন্য ওরাই দায়ী যাঁরা হোটেলখানার পাশে আস্তাকুঁড় বানাচ্ছে। মানুষ ও কুত্তাতে আজ অন্ন চাঁটে একসাথে সেই ব্যবস্থা করছেন যাঁরা তাঁরাই সমাজের বৈষম্য সৃষ্টির প্রধান হোতা। ভারতবর্ষের বৈষম্যের আতুড় ঘর থেকে জন্ম অর্থনৈতিক,জাতপাত,নারী-পুরুষ,ধনী-দরিদ্র প্রভৃতি। এই ধনী-দরিদ্র বৈষম্য ভারতীয় জীবনধারা আজও অভিশাপ বয়ে বেড়ায়। এ যাওয়ার নয়। কারণ এর গভীরে আছে রাজনৈতিক ইন্ধন। মানুষকে গরীব বানিয়ে রেখে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি,ভোটরাজনীতি,আমরা ওরার রাজনীতির ত্রিকোণমিতির ধিঙ্গিপনা বোধ ও বোধিতে ঠক্কর খেলেও কিছুই করার নেই। এমন যন্ত্রণার আরেক নাম জীবন। ভিক্ষাদানকে দয়া,করুণা,পুণ্যার্জন বৈষম্যেরই মদতদাতা। সমাজে যত অভাবপীড়িত মানুষ তত তার দুর্বলতা। তাই বিশ্বের কাছে ভারতবর্ষ উন্নয়নশীল দেশ। কারণ গুটিকয়েক ধনী, সংখ্যা গরিষ্ঠ আম আদমী  অভাব-পীড়িত। এই চিত্রের আজও পরিবর্তন নেই। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একসময় শ্লোগান ছিল 'রোটি কাপড়া আর মকান'। এখন শ্লোগান- 'সবকা সাথ সরকা বিকাশ'। উন্নয়নশীলতার হাত ধরে শ্লোগান- 'আত্মনির্ভরশীল ভারত'।  
  ডিজিটাল ইন্ডিয়া তার স্বপ্ন।  বৈষম্যের দুর্বলতা যত স্বপ্ন দেখা তত। তাই ক্ষুধার্ত ভবিষ্যতের পাশে ডিজিটাল ভবিষ্যত আমাদের উন্নয়নশীলতার দিকে যাত্রাপথের কথাকে ছবিটি তাৎপর্যবহ করেছে। 
  @ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস। 

বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ, ২০২১

বুড়ির বাড়ী # শর্মিষ্ঠা ভট্ট

*বুড়ির বাড়ী* মনিদের বাড়ীর গা ঘেঁষে দোতলা বাড়ী কবে থেকে পড়ে আছে। কেবল নীচের তলায় ঠাকুমা থাকেন। আশি পেরিয়ে গেছেন । চোখে দেখেন না ভালো, তবে চলে যায় ছেলের পাঠানো মানি অর্ডারে। তখন পচা পুকুরের পাড়ে এই জলা জমির দাম না থাকলেও .... এখন শহরতলির বাড়ন্ত চেহারায় কেষ্টপুর দখিনদাঁড়ির এই জমিগুলো সোনার ডিম পাড়ে। বাজার মূল্য আছে বুড়িও বোঝে, আসেপাশের কাউকে ঢুকতেই দেয় না। প্রোমোটর কানাই ওঁত পেতে বসে আছে । ওর স্বপ্ন ওর ড্রিম প্রজেক্ট এত বড়ো জমিতে ঠিক সল্টলেকের গায়ে জমে যাবে। প্রতিষ্ঠা কে না চায়। এটা করতে পারলে এই অঞ্চলের বে তাজ বাদশাহ হয়ে যাবে। সেলিমটা বড়ো নফরচপর করছে। ঠিক তো বুড়ির এই ঘরের দাম লাখ ছাড়িয়ে কোটিতে খেলছে। ওর ছেলে ভেবেই রেখেছে, ওটা বেচে তার ব্যবসা আরও একটু বড়ো করবে। সামাজিক প্রতিষ্ঠিত সে, সেটা বয়ে নিয়ে যেতে মানি মেকিং এর ফ্লো বন্ধ করা চলবে না। কেবল বুড়ির মৃত্যুর সু সংবাদের অপেক্ষায়। বুড়ির হল অসুখ। শ্বশুর বাড়ী থেকে ভাসুরের ছেলে দেখাশোনা করতে এসেছে, বুড়ি গদ গদ। নিজের কাকার কাজে আসেনি। মানে বুড়ির বরের মৃত্যু পথ যাত্রী জেনেও আসেনি, তবে আজ এতদিন সব ভুলে এসেছে তো! স্বার্থান্বেষী ভাসুর পো সেবা করে খাওয়ায় পরায়। আর উইল কোথায় খোঁজ নেয়। ধরেই নিয়েছে বুড়ির ছেলে এখন আসবে না আর। চুলোয় যাক লজ্জা ভয়, এসে উঠেছে খুড়িমার ঘরে। ফিরে পেতেই হবে জুয়ায় হারানো দোকান। বৌ বাজারে চৌধুরী পরিবারের মান যে ঢুকতে বসেছে। এই বাড়ী বেচে হারানো প্রতিষ্ঠা আবার ফিরে পেতে হবেই।।। ধন্যবাদ ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট

বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১

ব্যাকট্রিয়া # শর্মিষ্ঠা ভট্ট

#####অনুগল্প নাম - ব্যাকট্রিয়া ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট
ডক্টর নিম্বুদ্রী গত কয়েক বছর ধরে এই গোপন কাজটা করে যাচ্ছে। তাকে করতে হচ্ছে। এভাবেই মানব কল্যাণ সম্ভব। মহিলাদের ধরে আনছে সে এখন অনেক বেশি। তাদের দেহেই নাকি এই ফাংগাস চড়বড় করে বাড়ে। নারীদের জনন ইন্দ্রিয় দিয়ে এর প্রবেশ ঘটে, সমুদ্রের জলে এর সংক্রামক বাহক ঘটকের কাজ করে। তাই সমুদ্র উপকূলগুলি তার ঘোরাঘুরির যায়গা। এমন একজনকে আজ আনা হয়েছে। একাই এসেছিল বীচে। তুলে এনেছে ডাক্তারের লোক। অল্প অবচেতন সৌমালী । এ কোথায়? ওর বস্ত্র পরিবর্তন হয়েছে। কিডনি পাচারকারী? সৌমালী গর্গ ডিটেকটিভ। কয়েক বছর ধরে কিছু ক্ষনিকের জন্য মহিলা গায়েব প্রশাসনিক মহল নাড়িয়ে দিয়েছে। কাগজে এলেও এই একরোখা ডাক্তার নিম্বুদ্রীর কিছু যায় আসে না। ওর আবিষ্কার শেষ পর্যায়ে...... ও একেবার নিশ্চিত মহিলা ইন্দ্রিয়টিয় মধ্যে দিয়ে সংক্রামিত হয়। হার্ট ফুসফুস লিভারে এই সাদা ব্যকট্রেরিয়া বসে যায়,দেহ অকেজো হতে থাকে ধীরে ধীরে। একসময় আসবে যখন সংক্রামন নিয়ন্ত্রণের বাইরে হয়ে যাবে ।। তাই তার পরীক্ষা ও এ্যান্টিবডি তৈরী চলছে জোর কদমে। মহিলাদের সসম্মানে ঘরে ফেরত ও দেয়, কেবল জোর চড়া ভেষজ রসে জ্ঞানের সাথে ক্ষনস্থায়ী স্মৃতি হারায় তারা। আন্দামানের জঙ্গলে এই গাছ থরে থরে। ডাক্তার ধরা পড়েছে। কিন্তু সৌমালী কি ছেড়ে দেবে? সংক্রামক ব্যাধি আর কয়েকটি মাস পরে সজোরে নেড়ে দিয়ে যাবে আবার। সৌমালীর কি মনে হলো... " ডাক্তার স্নান করতে যাওয়া মেয়েদের এ ভাবে নিয়ে এসো না। প্রশাসনিক দিক দিয়ে এসো। পুলিশকে জানতে দাও সেচ্ছা সেবক মহিলা আমি ব্যবস্থা করে দেবো। " নিম্বুদ্রীর হঠাৎ মনে হলো প্রস্তাব মন্দ নয়। ব্যবস্থা করবে সে। কিন্তু সৌমালীকে তো পরীক্ষা করা হল না! গোপন এক ইচ্ছা জাগে নিম্বুদ্রীর মনে।

ঝুট হ্যায় # শর্মিষ্ঠা ভট্ট

# চিত্রলেখা।। # অনুগল্প : ঝুট হ্যায় ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।।।।।।।।।। স্ট্যালিন ফ্রান্সিস কারখানায় কাজ করে। প্রচন্ড তাপে মাঝে মাঝেই সে অসুস্থ হয়। কিন্তু অসুস্থ হলে তো চলবে না। বিধবা মা ছাড়াও চার বোন আর এক বৈমাত্রেয় পঙ্গু ভাই আছে। কাজটা চালিয়ে যেতে হবে। প্রচুর শক্তি লাগে একাজে ভাঁটিতে কয়লা ঠেলে সে। কিন্তু আজ মালিকের শালা এ্যান্টনী অদ্ভুত জিনিস এনেছে সন্ধ্যায়। বড়ো বড়ো ব্যাগ নেমেছে ছোট টেম্পো থেকে। অজস্র নোট । একটা বান্ডিল যদি সে পেতো! হয়ত ওর প্রেমিকা লিলিকে এ খ্রিস্টমাসে লকেট দিতো। যেটা ও যেতে আসতে দোকানের কাঁচে মুখ লাগিয়ে দেখে। মাকে একটু ফল। কত দিন পুরো মুরগি কিনতে পারেনি!!বোন গুলো এক দিন মেলায় যেত শখ মেটাতো। ও জানে ওর দ্বিতীয় বোনটা রজ্জাকের দোকানে দুপুরে যায়, ভালো জামা পায় সে ওখান থেকে। প্রেম নয় এ। বোঝাতে পারে না, চায়ও না বোঝাতে আর। নিজের ক্ষমতা যখন সীমিত , হতাশ সে চোখের সামনে হতে দিয়েছে সে। ওই বোনটা বড়ো ভোগ বিলাসী। একগাদা নোট পুড়িয়ে ফেলতেই হবে। এগুলোর নাকি বাজার মূল্য আর নেই, সরকার ঘোষণা করেছে। তবু ছড়িয়ে দিতে পারতো গরীবদের মাঝে,রাতারাতি তারা কিছু কিনে খেতো।না জানিয়ে ছেলেগুলো বস্তির মুখে বসিয়ে দিলেই তো হত! কি দরকার ছিল পোড়ানোর ..... স্ট্যালিনের আফসোস হয়। পিছন থেকে হাঁক দেয় এ্যান্টনী " কিরে ঘুমিয়ে পড়লি নাকি আলসীর দল? " নোটের ওপর বসে সিগার ফুঁকছে । বলে এগুলো নাকি কেবল রদ্দি পেপার। সাগরেদ টনি একাজে পটু। উৎসাহ তার প্রবল। কাজটা ভালো ভাবে হয়ে গেলে মেয়ে আর মদ পাবে এক মাসের। পুলিশের জেরা থেকে বাঁচিয়ে এই ভাঁটিতে সেই ব্যাগ গুলো বয়ে এনেছে। ওরা মালিক পক্ষ জামা খুলতে হয়নি। স্ট্যালিনের বিষয়ে সচেতন ওরা, যদি একটা বান্ডিল পাচার হয়! জামা খুলিয়ে ছেড়েছে। রদ্দিই যখন এত পাহারা কেন ❓টাকায় ওপর ওই ছবি আর মূল্য এক গোলকধাঁধা। তাকিয়ে থাকলে সম্মোহিত হয় মানুষ। থাকলে কষ্ট না থাকলেও তাই। সব এক নেশা ইন্দ্রজাল। মরিচিকা ..... সব ঝুট হ্যায় চিৎকার করে মন।।।।

# বিষয় - বিজ্ঞান। #নাম- 'প্রকৃতির অলৌকিক পাঠ।' ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

নাম- প্রকৃতির অলৌকিক পাঠ।
  ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

      বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের তথা মহাশূন্যের দান এই পৃথিবী। মহাশূন্য পৃথিবীকে কীভাবে দান করেছিল তার কথা শত সহস্র মুখে গালগল্পের ইতিহাসের কথার কোনো শেষ নেই। তবে একটা স্থির প্রমাণে আসা গেছে যে পৃথিবী সৌর পরিবারের ন'জনের একজন। সূর্য থেকে একটা অগ্নিপিন্ড ছিটকে এসে ন'টি টুকরো হয়,নয়ে নবগ্রহ বলি যাদের। তাদের প্রত্যেকে পৃথক পৃথক নামে অভিহিত। একমাত্র পৃথিবীতেই জীব জগতের আবির্ভাব ঘটল। তাই মহশূন্যের প্রকৃতির দান। সূর্যের পরিবারে নয় সদস্যের জন্য মহাশূন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির সমাবেশ ঘটিয়েছে। এই প্রকৃতির সমাবেশ ঘটেছিল যেভাবে তাই এক অলৌকিক এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।
  বিশেষ করে পৃথিবীর জন্য আমাদের অলৌকিক অবিশ্বাস্য ব্যাপারটির আজও সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে সমাধান নেই। প্রতি পদে পদে কৌতূহল! 
মহাশূন্যে যে বস্তুর যত ভর বেশী তার আকর্ষণ বল তত বেশী। সূর্যের চেয়েও আরও ভারী ভারী নক্ষত্র আছে। তাদেরও সূর্যের  মত পরিবার থাকার কথা ভাবাই যেতে পারে,তবে সৌর পরিবারের মত সদস্যের বিভাজনের ঘটনা ঘটলে তো! সেই অলৌকিক ঘটনার খবর এখনও নেই। বিজ্ঞান মরিয়া সেই অলৌকিক ঘটনার খবর  জানতে। তবে বলা হচ্ছে মহাশূন্যের শতকরা পঁচানব্বই ভাগ অদৃশ্য,অজানা,রহস্যময় এক অন্ধকার জগৎ। মাত্র পাঁচ শতাংশ মহাশূন্যের গ্যালাক্সি অংশ। আর গ্যালাক্সির আলোর লীলার বাইরে অন্ধকার,যাকে জানার উপায় বের করতে বিজ্ঞানের এবার নতুন অধ্যায় আসতে শুরু করেছে। 
  সৌর পরিবারের সৃষ্টি অলৌকিক,এই অলৌকিকের মধ্যে অলৌকিক পৃথিবীর সূর্যের কক্ষপথে অবস্থান! একটু এবার ওধার অবস্থান হলে পৃথিবীতে প্রাণের সম্ভাবনা ছিল অসম্ভব। যেমন অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব


নিয়ে গবেষণায় বিজ্ঞানের প্রাণপণ লড়াই তো আজন্ম। প্রাণের সন্ধান পেলে পৃথিবীর ভার কিছুটা কমে।
  পৃথিবীর অক্ষাংশগত অবস্থান সত্যিই অলৌকিক! পৃথিবীকে নিয়ে জানার জগতটি সামান্য লাগে,কত অজানা তথ্যের মীমাংসা এখনো নেই বলে। যেমন নাইট্রোজেনের জন্য গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহন করে,মানুষ অক্সিজেন গ্রহণ করে ও কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে। এই যে গ্রহণ ও বর্জন মানুষ ও গাছেদের মধ্যে বোঝাপড়া কীভাবে এসেছিল ভাবলে অলৌকিক মনে কি হয় না! অবশ্যই হয়।
    পৃথিবীর আজকের রূপান্তরের ইতিহাস কোটি কোটি বছরের। যেমন,সেই সময়কার কথা বলছি যখন পৃথিবীর সমগ্র স্থলভাগ ছিল একটাই ভূখণ্ড। জার্মান অধ্যাপক আলফ্রেড ওয়েগনারের 'মহীসঞ্চরণ' মতবাদের মূল কথাই ছিল - চৌত্রিশ কোটি বছর আগে কার্বনিফেরাস যুগে পৃথিবীতে ছিল একটিই স্থলভূমি। তার নাম প্যানজিয়া। আর সমগ্র জলভাগের নাম ছিল 'প্যান্থালাসা'।
  পৃথিবী ঘুরছে বলে পৃথিবী তার উপরিভাগকে কেন্দ্রাতিগ বল প্রয়োগ করছে। তারই প্রভাবে বাইশ কোটি বছর আগে মেসোজয়িক যুগের শুরুতে প্যানজিয়া অর্থাৎ একটাই ভূখণ্ড প্রবল আলোড়নের ফলে একাধিক ভূখণ্ড তৈরি হয়। গড়ে ওঠে এক একটা মহাদেশ। সুতরাং একটা ভূখণ্ড প্রাকৃতিক কারনে সাতটি মহাদেশ হয়ে তিনভাগ জল ও এক ভাগ স্থলের কাহিনীর ঘটনা মনকে কৌতূহলে উদ্দীপিত করে। আর অলৌকিক ঘটনা মনে জুড়ে বসে। এও নিশ্চিতভাবে দেখা যাবে সাতটি মহাদেশকে টেনে এনে জুড়ে দিলে খাপে মিলে যাবে।
জীববৈচিত্র্য কোথা থেকে এলো? এককোশি প্রাণি অ্যামিবা পৃথিবী সৃষ্টির আদিতে যা ছিল তাই আছে,তাদের বংশ বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের বংশ বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য কে দান করল! আবার এক কোষ বহুকোশি হওয়া,তার সঙ্গে ভাইরাসের শত্রুতা ও ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিত্রতা কোথা থেকে এলো,কে দান করল যুতসই মীমাংসা নেই। মীমাংসা নেই সন্তান উৎপাদনের জন্য বিপরীতধর্মী দুটো কোশের আকর্ষণ বল কে দিল কেন হয়? এই কেনর উত্তর নেই। তবে কিভাবে সন্তান উৎপাদিত হয় সে উত্তর অনেক গবেষণায় বিবর্তনের ইতিহাস খুব চমকপ্রদ। সেই জ্ঞান থেকে জীবন ও জীবিকার কত বৈচিত্র্য।
    সুতরাং প্রকৃতির এই অলৌকিক রহস্য আছে বলেই জীবন ও জগতের পরিচয় অনেক।
  যখন লৌকিক হয়ে মানুষ বাঁচে মানুষ স্বার্থ,সুবিধাভোগ প্রভৃতি ক্ষুদ্রতার মধ্যে বাঁচে। আর যখন প্রকৃতির অলৌকিক ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় তখন সকল ক্ষুদ্রতা থেকে মুক্তির উল্লাস জাগে। প্রকৃতির অলৌকিক বিধানে মানুষ মুক্তি খোঁজে।
                 ******
  @ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।  

শুক্রবার, ১৯ মার্চ, ২০২১

#পিপাসা#শর্মিষ্ঠা ভট্ট

#বিষয় - গল্প # নাম - পিপাসা # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট চেয়ে ছিলাম ও না আসে। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে এই শীতের ঠান্ডা আরও জমিয়ে দিয়ে। চারিদিকে নিঃশব্দ কুয়াশার মতো হালকা চাদরে মুড়ে দিয়েছে। চাই না কেউ আমার একাকিত্বের রসে ভাঙ ঢালে। বেশ আছি। একা আছি। মানুষের নৈকট্য থেকে দূরে অনেক দূরে পাহাড়ি পঞ্চভরিতে। নৈনিতাল থেকে বেশি দূর না, যাতে স্কুল যেতে সুবিধা না হয়। তাই এখানে থাকা। আমি কেমিস্ট্রি পড়াই। চলে এসেছিলাম সব ছেড়ে। কলকাত্তাই চকাচক কেমন যেন মেকি হয়ে যাচ্ছিল। অলস এক জীবন কাটাই আমি। ওকে আসতে বারন করেছিলাম, তবু আসছে। কি করে আসবে কে জানে। পাহাড়ি পথে গাড়ি চালায় এত জোর, বুক কাঁপে বারন করলে থড়ি শুনবে? তেজি একটা গোঁ ওর আছে। আমায় ভাবনায় ফেলা ওর কাজ। এসেই জানি ওভার কোট টুপি রেখে ওই ফায়ার প্লেসের সামনে বসবে। ওর দিকে মুগ্ধ তাকাবো উষ্ণ কোন পানীয় এগিয়ে দিয়ে। জানি ও স্যাটেরিয়াসিস। তবু ........ দরজায় কড়া নড়ছে। কারেন্ট গেলো। বেল বাজছে না। যা ভেবেছি তাই এসে গেছে সে। এখন কেবল আমরা। এই নিঝুম পুরীতে কেবল আর কেবল আমি আর আমার হাবি ঋত্বিক, এয়ার ফোর্স অফিসার। যেকোন বাঁধা অতিক্রম করে সে আমার কাছে আসবেই। এসেছে ও । লাল ফুল কলার টাইট সোয়েটার আর ব্ল্যাক জিনস পরে আগুনের দিকে তাকিয়ে বসে। ওর শরীর থেকে বীরত্ব ঠিকরে বের হচ্ছে। কতদিন পর এলো। আমাদের জীবনের এমন ছন্নছাড়া ভাব, কি আর বলি। ওর কাছে যেতে আমার লজ্জা করছে কত দিন দেখিনি। তবু ট্রে সাজিয়ে এগিয়ে গেলাম। ওর মুখে চুরুট আল্তো লেগে। কাছে আরও কাছে যাচ্ছি, আকর্ষণ। মায়াবী ছোঁয়া পাবার ইচ্ছা মনে প্রবল হচ্ছে। ওর খাবারে মন নেই আমায় সে চিকেন তন্দুরি ভাবে। ভাবুক। আমার হাবি, এত দিন পরে। যত দিন যাচ্ছে ও আরও উগ্ৰ ও ভয়ঙ্কর হয়ে যাচ্ছে। কাউকে বলি না। ও আসলেই আমার স্কুলের কলিগরা জানতে পারে। আমার ফোলা ঠোঁট কপালে দাগ। তবু এই খেলায় আমিই সঙ্গী। ওর পৌরুষ.......... উফ্ চুল ধরে সজোরে ঠুকে দিলো দেওয়ালে। ঠুকেই চলেছে যতক্ষণ রক্ত না বের হয়। পালাতে চাই না। পালাতে নেই। এই নিঃশব্দ প্রকৃতি ও আর আমি একে অন্যের পরিপূরক। বৃষ্টি থেমেছে। আজ ডিনারে খাবার অপূর্ব করেছি। তবু ও আমার আঙুল কেটে দিল নুন বেশির অপরাধে। ওর দুঃখ দেওয়া মেনে নিয়েছি.... ওকে কোথায় ছেড়ে দেবো! ওর যে কেউ নেই। যেমন হোক ও কিন্তু আমার কথা শোনে। আহ্..... চাবুক!!! আর মেরো না। গুটিয়ে গেছি। সোফার তোশাকের তুলো ঘরময় উড়ছে। ওর শক্তির কাছে আমি পরাজিত। ঘুম চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে, আমি ক্লান্ত। হয়ত আবার মাঝ রাতে তুলবে। শুনেছি ডাক্তার দেখালে এ সব উৎপাত কমে যায়, কিন্তু ওর এই ধরন আমার পছন্দ। সকালের আলো ফুটলে ও পোশা বিল্লি হয়ে যাবে। একি ছুরি!! .......... দৌড়োচ্ছি দৌড়োচ্ছি। রাত্রিবাস লুটছে। আমি আপ্রাণ দৌড়োচ্ছি ওর হাত থেকে বাঁচবো বলে। এতটুকুই বলে ....গোঁ গোঁ করতে লাগলো অহনা। কাল রাতে ও স্কুলের বাংলোয় সুইসাইড করতে যাচ্ছিল, কেয়ার টেকার আর ওর বৌ কোন ক্রমে বাগে এনে ডাক্তারের কাছে এনেছে। অবশ্য সবাই ওর হাবভাব দেখে ভূতে ধরেছে, ওঝা ডাকতে বলেছিল। অবিবাহিত এই স্কুল টিচার বড়ো শান্ত মেয়ে। তবু তিন মাসে সে আরও দুবার এমন করে খাদে ঝাঁপ দিতে গিয়েছিল । ওর বাবা মা আজ এসে যাবে। ওদের হাতে দিয়ে তবেই শান্তি।। ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।

বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০২১

#বিষয় : আলোচনা। লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

#গল্পের মাধ্যমে অঙ্ক সল্ভ : ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।।।।।।
কি ত্যাগ করলে প্রিয় হওয়া যায়..... আত্মত্যাগ।। তনয়া আজ ৪৫বছর বয়স, নিজেকে ত্যাগ করে ভাই বোনেদের বুকে করে রেখেছে। এবার সব বড়ো হয়েছে, নিজের মতো গুছিয়ে নিয়েছে সব.... দিদি কেন্দ্রিক আবর্তনের পারিবারিক সুখে সে আপ্লুত। শান্ত পরিপাটি মায়ার বন্ধনের দিঘল দিঘিতে তরঙ্গ খেলছে। যখন কাল রাতে ওর বার্থডে কেক কাটতে আসা পরিবারের সামনে বলেছিল " এবার তোরা সবাই দাঁড়িয়ে গেছিস, ভাবছি দীপঙ্করের দেওয়া অনুরোধে হ্যাঁ করেদি।" অনেক্ষণ ধাক্কা সৈতে চুপ করেছিল সব.... তারপর ছোট ভাই গাট্টূ এক বছরের ছেলের বাবা, বলল " দিদিভাই বাড়ীর কি হবে? বিয়ের পর কে দেখেছে বল? তুই আগে বাড়ীর ব্যবস্থা করে যাস। " বড়োর মেয়ে বলল " এই বয়সে! তুমি অনুষ্ঠান আর কোরো না পিসি, আমার বন্ধুরা হাসবে। " বলে বিশ্রী ভাবে হেসে বেরিয়ে গেলো সাথে সবাই, যেতে যেতে একটা গুঞ্জন শুনলো। বুঝলো এখনও প্রিয় হতে পারেনি। থাক তবে। আর একটু না হয় ত্যাগ করা যাক। বড়ো লোক হবো কি করে? নতুন ওয়েব সাইট। প্রচুর জ্ঞান দিয়ে যাচ্ছে বড়ো কেতার মানুষ জন। এই পড়ো, টাকাটা এমন করে খাটাও। হু হু করে নোটি আসছে। মানুষের আগ্রহের জোয়ারে ভালোই চলছে। কর্নধার অভিকর্ষ ঝাঁ চকচকে অফিসে বড়ো লোক হওয়া শেখায়। ওর প্রেমিকা ভেগেছে । মা বাবাও আশা রাখে না কোনো। কারন চ্যানেল চালাতে চালাতে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। যত টাকা আছড়ে পড়ছে, তত রেসপন্সিবিলিটি বাড়ছে। দূর হচ্ছে পরিবার। আত্মীয় সজনহীন সে, কিন্তু চারি দিকে তার নাম ছড়াচ্ছে। মিডিয়া, বন্ধুরা তরিফ করছে। পয়সার পাহাড় বানাচ্ছে সে। শিশু বয়সের প্রেমিকা ফিরে এসেছে। বাবা মাকে হাই ক্লাস ট্রিটমেন্ট দেয় আয়া কাজের লোক ভরিয়ে দিয়েছে। একটি শিশু চাই। ব্যস্ত জীবনে কখন শরীর ও মন শুকিয়ে গেছে। ডাক্তার না বলেছে। না ওর দোষ কেউ দেয়নি। অর্থনৈতিক সুরক্ষা দিচ্ছে যে তার এসব ত্রুটি মেনে নিয়ে বেশ চলে যাচ্ছে। টাকার পাহাড় পর্বত হচ্ছে। ভীষণ সুখী ওরা একটা শূণ্যতা নিয়ে। সামান্য একরুম কিচেন। নীরু দারুন সাজিয়েছে। মনের ইচ্ছা গুলো ডানা মেলে ঘোরে ওর ঘরে। ছেলে মেয়ে শাশুড়ি নিয়ে ছোটো ঘরে, সাচ্ছন্দ কম। রানা, ওর বর মনে মনে ভীষণ সন্তুষ্ট থাকলেও মরমে মরে। নীরু যে বাড়ীর মেয়ে, ওর আরও হয়ত পাওনা ছিল। মাসান্তে যখন আসে, স্বীকার করে। মনে বড়ো অশান্তি হয়ত সংসারের জন্য আরও কিছু করার ছিল! নীরু র স্বর্গ..... নিজে হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাশা। তৃপ্তি ওকে সুখের সাগরে ভাসায়। ধন্যবাদ🙏

সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১

ক্যানভাসে। অনুগল্প। লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

ক্যানভাসে
প্রিয় তির্থদা, তোমার পলাশ গাছের প্রতি পাতায় লিখে দিলাম আমার নাম, আগামী শীতের আগেই ঝরে যাওয়া পাতা তোমায় ছুঁয়ে ঝরে পড়বে, তোমার মাথা বুক সর্বাঙ্গে থাকবে আমার পরশ। পতাঝরা দিনে মনে পড়বে হয়ত কলমটা হাতে নিয়ে, উদাস চোখে জানলা ছাড়িয়ে দূরে অনির্দিষ্ট দৃষ্টি মেলবে । মনে আসবে হয়ত এই ফাগুন আবার আসবে আবার তুমি ফিরে পেতে পারো নতুন হোলি। আবার রঙগুলো ভুলিয়ে দিতে পারে কাব্য বোঝাই পুরাতন খাতাখানা। কিংবা ধরো ওটা তুমি পলাশের শুকনো ফুলের স্তুপের মাঝে হারিয়ে ফেললে। শুকনো প্রতি পাতায় মর্মর ধ্বনি তুলে এগিয়ে যাবে। তোমার পায়ের স্পর্শে একটা একটা শুকনো পাতা ভেঙে গুড়িয়ে যাবে মাটিতে সঙ্গে আমার নাম । তখন, ঠিক তখনই তুমি গেয়ে উঠবে গান..... বেদনো ভরা এ বসন্ত কখনও আসেনি বুঝি আগে। তুমি হয়ত জানবে না তোমার চশমা কেন ঝাপসা হচ্ছে। তুমি জানবে না বুকটায় বেরঙা আবীর কে ছড়িয়ে গেল! তুমি জানবে না বিশ বছরের ছোট কেউ তোমার হৃদয়ে দোলের রঙ মাখিয়ে বিদায় নিয়েছে। অনভ্যস্ত তোমার মনে কখন প্রেম খেলে গেছে, জানবে না, জানলেও আমল দেবে না। পলাশের মালা গেঁথে পরেছি আমি, গেরুয়া হয়েছে মন। বাউলীয়া সুরে দেহ থেকে অনন্তের দিকে ভাসিয়ে দিলাম নিজেকে। তোমার রোজকার জীবনের রোজনামচা ভাঙলাম না আর। কাউকে নিয়ে আবার পলাশের রঙে হলি খেলো । আবার তোমার ছোঁয়ায় কোন ছাত্রী শিহরিত হয়ে ভাবতে শিখবে কাব্য জীবন কিংবা জীবনময় কাব্য! কি এসে যায় যদি আকন্ঠ আবীর মেখে মাথায় ঘোমটাখানা তুলে আয়নার সামনে এসে দাঁড়িয়ে স্বলজ্জ হাসিতে নিজেকে রাঙিয়ে তোলে। রাঙামাটি মনে দেহে বাহার আনার আগেই যদি তোমার নির্লিপ্ত অভিব্যক্তিতে সে বুঝতে পারে বড়ো ভুল হয়ে গেছে। পলাশ আর দোলের বাহার প্রকৃতির সাথে রসায়ন ঘটিয়ে ছলনা করে গেছে! আবার আবার আবার কত জন স্বপ্ন দেখবে মধু মাসে। জানে না শীতের আগেই পাতা ঝরে যাবে। পলাশ রঙের বিদায়, সুচরিতা।। চিঠিটা কি মনে হল ছিঁড়ে ভাসিয়ে দিল দখিনা বাতাসে। ঠিক তখন অর্কপ্রভ তুলিতে রঙ ভর ছিল দূরে আর্ট ফ্যাকাল্টির মাঠে, দূরে আবছা পাহাড়টার দিকে ফোকাস, ক্যানভাসে চোখ। গোলাপি ছেঁড়া দুটি পাতা রঙে এসে বসে গেলো। একটিতে লেখা পলাশ অন্যটি? ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।।।।।।।।

রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১

বিষয় : আধ্যাত্মিক# লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।


বিষয় : আধ্যাত্মিক ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।। 
 একদিন চেতবনে বর্ষাকালের বিশ্রাম রত বুদ্ধের কাছে শোকার্ত এক মহিলা তার সদ্য হারানো সন্তানের শোক নিয়ে হতাশা ভরে এসে বলল " তুমি তো দেবতা, পারো আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে? " " তুমি একটি ঘর থেকে এক মুঠো সর্ষের দানা আনো, যার ঘরে কেউ কখনও মৃত্যুর কোলে আশ্রয় নেয়নি।" শান্ত উত্তর ছিল বুদ্ধের। মহিলা অনেক খুঁজেও এমন ঘর একটিও পেলো না, তাদের দুঃখ কথা শুনতে শুনতে এক সময় পথ শ্রম ও হতাশায় সে ফিরে এল। বুদ্ধ বোঝালেন, নিজের দুঃখ বড়ো করে দেখলে, সঙ্কুচিত জগতে দুঃখ বড়ো হয়ে ওঠে যা ভেতর খোকলা করে নিঃস্ব করে দেয় যা মৃত্যু সম। বিশ্বের বিশাল ভান্ডারে দেখলে বোঝা যাবে কোন মূল্য নেই অহেতুক নিজস্ব দুঃখের সময় সীমা টেনে বাড়ানো। অনেকে ভাববে মুখে বলা যায়, নিজের হলে বড়ো কথা আর মুখ দিয়ে বের হত না। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ, শিশু থেকে যে নিজের আপন জনের মৃত্যু কাছ থেকে দেখেছেন, তিনি ও অনুভব করেছেন বুদ্ধের মতো। সংকোচন নয় বিশালের মাঝে মেলে ধরলে দৈহিক মানসিক শান্তি ও আত্ম তৃপ্তি আসে। রবীন্দ্রনাথের কথায় "ব্যক্তি হিসেবে দেখতে গেলে মৃত্যু জীবনে কত উৎকট, তার মধ্যে কোন শান্তনা নেই কিন্তু বিশ্বজগতের হিসেবে দেখতে গেলে মৃত্যুটা কত সুন্দর ও মানবাত্মার শান্তনা স্থল। " মন যদি আমিত্বে হারিয়ে যায়, তবে সঙ্কুচিত হতে থাকে অন্তরে বাহিরে। ধরা হল ঘোমটা বা বোর্খা ঢেকে দেওয়া সামাজিক এই প্রবণতা কেবল পিছনে টানে। সমাজ ও ব্যক্তি এতে এক গন্ডির মাঝে আঁটকে পড়ে, জীবনকে সেখানে বাঁধা হয়। সেখানে থাকে এক ধরনের শাসন। নারী সমাজকে মাটিতে ফেলে মাড়িয়ে যাবার এক প্রবনতা কাজ করে। কিন্তু যদি এই রীতিকে বিশালের আবহাওয়া দেওয়া হয়, স্বাধীন মুক্ত আকাশ! এ কেবল লজ্জা বস্ত্র, কোন শাসন নেই কোন বন্ধন, হয়ত মুক্তি র চেষ্টা না করে নিজেরা স্ব ইচ্ছায় তুলে নেবে, বিশাল বিচার শক্তি নিয়মের বেড়া জালে না বেঁধে মুক্তি দেয়, আর তাই হয়ে ওঠে প্রানের ডাক। আপনিই মন করে পথ চলতে। ঠিক তেমনই শত যাগযজ্ঞ নিয়ম কানুন দিয়ে বাঁধা ঈশ্বর চিন্তার পথ সঙ্কোচন বা শূন্য বা মৃত্যু আনে পদ্ধতিতে সমাজে ব্যক্তিতে। খোলা মনে বিশাল ব্যাপক অর্থে যখন সে চিন্তা করা যায়, তখন মনের মাঝে বিশালতা প্রাপ্ত হয়। আলোয় ভরে মন। আলোকিত মন মুক্তির দিশারী। বিশাল মন ক্ষয়হীন অমরত্ব লাভ করে। ধন্যবাদ বন্ধুরা।।।

এক কাপ চা।

কলমে -সোমা দে। 

মানিকবাবু একসময় বেসরকারী অফিসে কাজ করতেন। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। দুই ছেলেই মস্ত বড় অফিসে কাজ করেন। তাই তারা অফিস থেকে যে ফ্ল্যাট পেয়েছে সেখানেই থাকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে। আর মেয়ে তারও বিয়ে হয়েছে ভালো ঘরেই। মেয়ে নিজেও একজন স্কুল শিক্ষিকা। বর্তমানে মানিকবাবু রিটায়ার্ড করেছেন। 

অফিস থেকে রিটায়ার্ড করার সময় মানিকবাবু যা সামান্য টাকা পেয়েছেন তা খরচ হয়ে গেছে স্ত্রীয়ের জন্য। কারণ তাঁর স্ত্রী যে খুব অসুস্থ। আর জমানো যা কিছু ছিল সবই  ছেলে মেয়েদের জন্য খরচ হয়ে গেছে। এখন মানিকবাবুর কাছে আর কিছুই নেই। ছেলে মেয়েরাও বাবা মায়ের সঙ্গে এখন আর কোন যোগাযোগই রাখেনা। সংসার চালাতে হবে। এইবয়সে সে কিভাবে রোজগার করবে? কেউ তো তাকে কোনো কাজেই রাখবেনা। কি করবে কিছুই মাথায় আসছিলনা মানিকবাবুর। 

একদিন পাড়ার চায়ের দোকানে বসে মানিকবাবু এক কাপ চা খাচ্ছিলেন ।হঠাৎ তাঁর মনে হল, তিনিও এই চা বানিয়ে সকলকে যদি এক কাপ খাাওয়াতে পারেন তাহলে সংসারে কিছু টাকা তো আসবে। কিন্তু চায়ের দোকান করার জন্য যে টাকার দরকার সেটাও তো তাঁর কাছে নেই। তাই সে ঠিক করলেন তাঁর বাড়ির সামনে যে কলেজটি আছে সেখানে বাড়ি থেকে চা বানিয়ে নিয়ে গিয়ে কলেজের সকলকে খাইয়ে কিছু আয় করবেন। 

মানিকবাবু প্রত্যেকদিন চা বানিয়ে নিয়ে গিয়ে কলেজের সামনেই দাড়িয়ে থাকতেন। প্রথম কিছু তাঁর বানানো চা কেউই খেতনা। কিন্তু পরে দিয়ে কলেজ স্টুডেন্টদের মানিকবাবুকে দেখে বড্ড মায়া হল। তখন তারা মানিকবাবুর হাতে বানানো এক কাপ চা খাওয়া শুরু করলো। এখনও মানিকবাবু কলেজের সামনে দাড়িয়ে তাঁর হাতে বানানো চা বিক্রি করে যা আয় করেন তাতে তাঁদের দুজনের সংসার চালানো কষ্টদায়ক কিন্তু কিছুই করার নেই এই ভাবেই তাঁদের দিন কোনরকম চলে যাচ্ছে।   

# নাম- জীবন দর্শন। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

 
 # বিষয় - আধ্যাত্মিক। 
  # নাম- জীবন দর্শন। 
  ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

   জীবন ব্যবহারিক ও জীবন আধ্যাত্মিক। ব্যবহারিক জীবন জানে ব্যবহারিক সুখ কি,আর ব্যবহারিক দুঃখ কি! এই সুখ ও দুঃখের কারণও জানা যায়। কেউ অবিরাম দুঃখের জন্য আসেনি। দুঃখের পর সুখ যে আসবে অনিবার্য কারণে - *চক্রবৎ পরিবর্তন্তে সুখানি চ দুখানি চ।*- এ গেল সাংসারিক ও ব্যবহারিক জীবনের কাছে সুখ ও দুঃখের একটা সহজ সমীকরণ। ব্যক্তি জীবনের কাছে সকল দুঃখ ও আনন্দের কারণ তার জীবনের শৈলিতে অহরহ অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে। এর দুঃখ ও সুখ আত্মার আমিত্ব থেকে আসে।
 আর আমিত্বের মোহ থেকে মুক্তির পথ দেখায় আধ্যাত্মিকচেতনা। 
   স্বামীজী জগতকে সেবার দীক্ষায় দীক্ষিত করলেন। তিনি তো নিজের মুক্তির জন্য সাংসারিক জীবন থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন। ঠাকুর শ্রাশ্রীরামকৃষ্ণ রাজি হননি। জগতে নিক্ষেপ করলেন- আর্ত,পীড়িত,দরিদ্র, অসহায় মানুষের সেবার জন্য। তাঁর সঙ্গে সেবা আছে, আর আছেন গুরু। জগতে সেবার জন্য সকলের জন্ম। সেবার পথেই আছে আনন্দ। সেবা একটি গুণ। ঈশ্বর সবাইকে দিয়ে সেবা করিয়ে নেন। সেবা গুণ দিয়ে পাঠান। যে যত বেশী সেবার কাছাকাছি হবে ততই তার আনন্দ,ততই তার জীবন প্রসারিত। সেবাই গড়ে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ। আর সেবার পথে না থাকলে হৃদয়কে চেনা যায়না। সেবার পথে না থাকলে হৃদয় হয় স্বার্থপর। স্বার্থপর জীবন মানেই সীমাবদ্ধ জীবন। উপনিষদ বলেছে আত্মা কখনও একা থাকে না। যে আত্মা একা থাকে মৃত্যুতে শান্তি পায় না। তার জন্য কেউ অনুশোচনা করে না। মহৎ আত্মা হয় বহুগামী,সেবা পরায়ণ। আর তিনিই তো মৃত্যুঞ্জয়ী। 
  সুতরাং সেবাপরায়ণ আত্মাই তো জীবনকে সম্প্রসারিত করে,আর স্বার্থপর জীবন সবার মধ্যে বাঁচতে শেখে না বলে সে নিজেকে রাখে সঙ্কুচিত করে। এহেন জীবন মোহে আবদ্ধ হলে, বুদ্ধ যাকে বলেছিলেন *তহ্না* (তৃষ্ণা) তার জন্য জীবন পৃথিবীতে বারে বারে ফিরে আসে। 
 স্বামীজী সেবার স্বরূপ বোঝাতে গিয়ে জীবনকে প্রসারিত করার উপায় বলেছেন। জীবন সঙ্কুচিত হয় কীভাবে তা থেকে মুক্তির উপায় যে সেবা তাই বলেছেন। এ তাঁর জীবনের পরীক্ষিত ফল। আর তাই  হয়েছে বাণী।
  বদ্ধ বা সঙ্কুচিত আত্মা যাই বলেন তাই হল কথা,আর মহৎ আত্মা যাই বলেন তাই হল বাণী। কারণ মহৎ আত্মা জীবন দিয়ে উপলব্ধি করে বলেন বলে তাঁর কথা বাণীরূপে মর্যাদায় ভূষিত হয়। আর সঙ্কুচিত আত্মার বা ব্যবহারিক জীবনের কথার সঙ্গে কাজের গরমিল থাকে বলে তাঁর কথা শুধু কথার কথা। 
 একটা গল্প দিয়ে শেষ করব। গাঁধীর জীবনের গল্প। কেন গাঁধী মহৎ আত্মা তথা সম্প্রসারিত জীবন সেই গল্প! গল্প হলেও সত্যি।
 এক মা তার সন্তানকে নিয়ে একদিন হাজির সবরমতি আশ্রমে। কারণ ছেলেটি এতো চিনি খাওয়া শুরু করেছে যে যদি সুগারের রোগী হয়ে যায় সেই ভয়ে তাকে বাপুজির কাছে এনেছেন। ছেলেটি বাপুজিকে ভয় করে যেমন, মানেও তেমনি। বাপুজি যদি বলে দেন তাহলে ছেলেটি শুনবে,আর চিনি ছোঁবে না।
 তাই শুনে বাপুজি বললেন "ঠিক পনর দিন পরে এসো।"
 পনের দিন পরে ছেলেকে নিয়ে মা আবার এলেন। বাপুজি ছেলেটিকে বললেন- "তুই আর চিনি খাবি না।" ছেলেটি তাই শুনে সুবোধ বালকের মতো ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাল। চলে যাওয়ার সময় ছেলেটির মা বললেন- "পনর দিন এই সামান্য কথাটা বলে দিলেই হতো। জানেন এই পনর দিনে অবাধ্য থেকে আরো কত চিনি খেয়ে শরীরের ক্ষতি করেছে।"
 বাপুজি তখন বললেন- "বলি কি করে,তখন আমিও যে রীতিমত চিনি খাওয়ার মধ্যে ছিলাম। আমি আর চিনি খাইনা বলেই তো ওকে আদেশ দেওয়ার অধিকার লাভ করলাম।"
  এই হল সঙ্কুচিত জীবন ও সম্প্রসারিত জীবনের অনুষ্ঠান। সঙ্কুচিত জীবন বদ্ধ। মৃতবৎ। আর সম্প্রসারিত জীবনে সদাই মুক্ত জীবনের উল্লাস।
  ধন্যবাদ।  শুভেচ্ছা।❤❤🙏🙏

শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১

রইল ঝোলা(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


রইল ঝোলা 

সুদেষ্ণা দত্ত 

 আজি দখিন দুয়ার খোলা-- 

তালা দেয়নি তো ভোলা! 

বউ গিয়েছে বাপের বাড়ী, 

ঘরেতে গয়না কিছু রয়েছে ভারী।

 মধ্যযামিনী ঘরে ওঠে খুটখাট ধ্বনি, 

গৃহে যেন তস্করের আগমন শুনি!

 করে গয়নাগাঁটি ভর্তি থলে, 

তস্কর সন্তর্পনে ফ্রিজটি খোলে। 

পেটপুরে খায় ভাত--মাংস,

 তস্করের আবার কুম্ভকর্ণের বংশ। 

শুনি ভোলার নাসিকা গর্জন, 

পারেনা তস্করও নিদ্রার ইচ্ছা করতে বর্জন। 

ভোলার পাশে শুয়ে নিদ্রা লাভ করে, 

চোখ খুলে দেখে আছে সে শ্রীঘরে!। 


 কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

# বিষয় - ছোটগল্প। # নাম- 'মায়ানমার- ২' ✍- মৃদুল কুমার দাস।

 
# বিষয় - ছোটগল্প
# নাম- 'মায়ানমার-২'
   ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

ঋত্বিক খাসকিল তক্কে তক্কে আছে। দিকমণি পাল স্যারকে কবে ঠিক গল্পের মুডে পাবে। স্বপ্নে দেখা মায়ানমার নিয়ে ঋত্বিক রচনা লিখে দিকমণি স্যারের বেশ প্রশংসা পেয়েছে। শুধু তাই নয় স্কুলের সব স্যার ও ম্যামের প্রশংসায় তার মনটায় এখন বেশ ফুরফুরে ভাব আসা যাওয়া করে। ঠিক করে রেখেছে সে মায়ানমার নিয়ে স্যারের কাছে একটা গল্প শুনবে। গোটা ক্লাসকেও বেশ উদ্বুদ্ধ করে রেখেছে ঋত্বিক। কিন্তু সময় সুযোগ কবে হবে তাই নিয়ে একটা উসখুসে ভাব মনের মধ্যে সদাই কাজ করে। এদিকে গ্রীষ্মের ছুটিও পড়ার সময় ক্রমশ এগিয়ে আসছে। তখন আর গল্প শোনার এরকম কি একটা আমেজ থাকবে! আবার এও সান্ত্বনা গল্প শোনার কোনো সময় অসময় হয়না। গল্প এমন একটা ভাব যা সবসময় সক্রিয় থাকে। শুধু গল্প বলিয়ের মুড থাকা চাই। 
স্যারের ক্লাস মানেই আলাদা মজা। বেশ রসিয়ে রসিয়ে গল্প বলেন। কিন্তু স্যারকে দিয়ে কোনোদিন ভূতের গল্প বলানো যায়নি। একদিন তো পিকলু স্যারকে চেপে ধরল -

  " স্যার একটা ভূতের গল্প বলতেই হবে। যেন ভয়ে প্যান্টে প্রস্রাব হয়ে যায়।"

" দূর পাগল এই দিনের বেলা, চারদিক জানলা দরজা খোলা। দিনের আলোর মাঝে ভূতের গল্প! ভূতের গল্প শুনতে হলে অমবস্যা রাতের ঘুটঘুটে জমকালো অন্ধকারে শ্মশানে যেতে হবে। কারা কারা যেতে রাজি বল আগামী পরশু অমবস্যা আছে, তাহলে তাদের নিয়ে আমি শ্মশানে যাবো। গল্প নয়, একেবারে চোখের সামনে ভূত দেখাব। রাজী? কে কে রাজী হাত তোল!" কথাগুলো এমন করে শোনাচ্ছেন দিকমণি বাবু যেন ভূতের সঙ্গে কন্টাক্ট করেই এসেছেন, ঋত্বিক হাসে মনে মনে এই ভেবে।

পিকলু বলে - " স্যার আমরা কেউ রাজী নয়। গত রবিবার পান্তি বুড়িকে ওখানে পোড়ানো হয়েছিল। বুড়ি খুব রাগী ছিল। বাচ্চাদের দেখলেই ঘাড় মটকাবে।" সমস্বরে সকলে বলে-

"হ্যাঁ স্যার আমরা রাজী নই।  ভোলা বলে - স্যার কাল ন'কড়ি নাপিত ঐ শ্মশানের কাছ দিয়ে গিয়েছিল। সে একটা সাদা থান পরা বুড়িকে শ্মশানে ঘুরতে দেখেছে। তাই দেখে নকড়ি নাপিত ঘরে এসে ফিট লেগে গিয়েছিল। জগেন গুনিন এসে সেই ফিট ছাড়ায়। বরং আপনি একটা যেকোনো  গল্প বলুন।" সেদিন আর গল্প শোনা হয়নি।

  সেই থেকে গল্প শোনা বাকি থেকে গেছে। এই সুযোগে শুনতে হবে। আমরা বায়না ধরলে স্যার কোনোভাবেই রাজী না হয়ে পারবেন না। ঋত্বিক এভাবে সকলকে বলে কয়ে রাজী করিয়ে রেখেছিল। সময় এলেই কেবল সকলকেই গল্প শোনার বায়না ধরতে হবে। 
আর ঠিক মোক্ষম সুযোগ স্যার নিজেই করে দিলেন। ঋত্বিককে ধরলেন দিকমণি বাবু- 

"সেদিন যে বললাম মায়ানমার নিয়ে আরেকটা গল্প লিখতে। লিখেছিস?"

ঋত্বিক তখন স্যারকেই উল্টে অনুরোধ করল - "স্যার অপনিই বরং মায়ানমার নিয়ে একটা জবরদস্ত গল্প বলুন না, আমরা শুনব।" যেই না ঋত্বিকের প্রস্তাব শুনেছে সকলে সমস্বরে দাবি করে বসল - "হ্যাঁ স্যার আজ আপনার কাছে শুনব মায়ানমার নিয়ে গল্প।"
তখন তিনি বললেন -
  "ঠিক আছে সকলে চুপচাপ বোস। বলছি।" 
এই বলে মিনিট খানেক চুপ করে ভাবতে লাগলেন। ছেলেরা তখন একেবারে চুপটি করে বসে। আর স্যারের গল্প মানেই একটা আলাদা জমজমাট গল্পের আসর।
বললেন - " তোদের মায়ানমার নিয়ে আজ ইতিহাসের গল্প বলব।" এই বলে বলতে শুরু করলেন।    
         মায়ানমারের আরেক নাম বার্মা বা ব্রহ্মদেশ। এর আরো একটা প্রাচীন নাম পাই 'রমন্ন-দেশা'। অনেকের মতে এর থেকেই নাকি মন ও বর্মন জাতির উদ্ভব ঘটেছিল। আমাদের রামায়ণের সঙ্গে এই 'রমন্না- দেশা' নামের সঙ্গে যোগসূত্র খুব নিবিড়। এ থেকেও এই দেশের নাকি এমন নাম হয়েছিল।
আরো প্রমাণ পাই এই দেশের একটা বিরাট অংশ বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী ছিলেন। বৈষ্ণব ধর্মে অনুরাগী ছিলেন বহু রাজা রাজড়া। প্রাচীন বার্মার এক রাজা ছিলেন 'বেইকথানো',যা 'বৈকুন্ঠ' শব্দের অপভ্রংশ থেকে এসেছে অনুমান করা হয়। এছাড়াও 'শ্রীক্ষেত্র' নামে রাজা ছিলেন। কিংবা 'মৈইথ্যা'- মিথিলার রূপ।
'হংসাবতী' নামে এক বিখ্যাত রাজা ছিলেন। 'বেইকথানো' বা বৈকুন্ঠপুরকে 'রামান্না পুরা' বলা হয়। একে বর্তমানে 'বিষ্ণু সিটি' নামে অভিহিত করা হয়, কেননা এখান থেকে প্রচুর বিষ্ণু মন্দির পাওয়া গেছে বলে।
এই বৈকুন্ঠপুর,শ্রীক্ষেত্র ছিল 'প্যু' বা 'তিরকুল' সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এই সাম্রাজ্যের বেশিরভাগ রাজারা এদেশের গুপ্ত সাম্রাজ্যকে অনুসরণ করে শাসন করতেন। ব্রাহ্মণ ও বৈষ্ণবরা ছিলেন প্রবল প্রতাপশালী। রাজারা প্রবল অনুরাগী ছিলেন এই দুই সম্প্রদায়ের। হিন্দু বৈদিক সভ্যতার প্রভাব পড়েছিল এখানে। রামায়ণের প্রভাব তারই প্রমাণ।
  পরে বৌদ্ধদের ধর্মের বিপুল প্রভাব পড়ে। স্বয়ং বুদ্ধদেব এখানে এসেছিলেন বলে বার্মাবাসীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন। বিখ্যাত রাজা তিস্য নিজেকে হিন্দু রাজা নামে অভিহিত করেন। রাজত্বকাল ৭৬১ খ্রিস্টাব্দ। পরবর্তীকালে যত হিন্দু রাজা রাজত্ব করেছেন সকলেই একসাথে তিনটি ধর্মবিশ্বাসকে সমানভাবে নিয়ে চলতেন। যথা - হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ও ব্রাহ্মণ্যবাদ। আরাকান রাজসভায় এই সর্বধর্মের সহাবস্থান ছিল। প্রমান দৌলতকাজি- 'লৌরচন্দ্রানী' ও আলাওলে- 'পদ্মাবতী' রচয়িতা দুই কবি আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন।
   জনপ্রিয়তা সর্বশ্রেষ্ঠ ছিল বাল্মীকি রামায়ণ। যা বার্মিজ ভাষায় অনুদিত হয়। এর লিখিত নিদর্শন মেলে সপ্তদশ শতাব্দী থেকে। এর আগে মৌখিক চর্চা গানের আকারে ছিল।
   আবার দশম শতাব্দীতে এক দূর্ধর্ষ মায়নাম নামক এক ঘোড়সওয়ার জাতি শাসন কায়েম করেছিল। তারাই নাম দেন মায়ানমার।
     আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী দেশ। রাজধানী রেঙ্গুন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এখানে চাকরি সূত্রে আবাসিক ছিলেন। তাঁর বহু উপন্যাসের ঘটনা ও চরিত্রের উৎস এই বার্মা। যেমন শরৎচন্দ্রের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের অনেকাংশই এই বার্মার পটভূমিতে রচিত। শ্রীকান্তের আড়ালে আসলে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রেরই নিজের কথা,তথা জীবনী পাই।
   এছাড়া 'পথের দাবি' উপন্যাসের সব্যসাচী চরিত্রের আড়ালে সুভাষচন্দ্র বসুকে খুঁজে পাই। ওখানে শরৎচন্দ্রের পন্ডিত ম'শাই নামে খুব খ্যাতি ছিল।
     এই বার্মা বা মায়ানমার ছাড়াও ইন্দোচীনের অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন- মালয়েশিয়া, সুমাত্রা, জাভা,বোর্নিও,বালিদ্বীপ, ফিলিপাইন্স, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়ার সঙ্গে ভারতবর্ষের খুব নিবিড় সম্পর্ক ছিল।
      ব্রহ্মদেশ বা বার্মা বা মায়ানমার সবচেয়ে আয়তনে বড়। প্রায় দু'লক্ষ সাঁইত্রিশ হাজার বর্গমাইল জুড়ে এই দেশটি অবস্থিত। দৈর্ঘ্যে বারোশ' মাইল। প্রস্থে পাঁচশ' মাইল। ভারতবর্ষের খুব কাছাকাছি বলে জলপথ ও স্থলপথে এর সঙ্গে যোগাযোগ ভালো মতই ছিল। এখনো আছে।
  এই দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের দেশের সংস্কৃতির অনেক মিল রয়েছে। অতি প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশের বণিক, ধর্মপ্রচারক, নানা শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে খুব যোগাযোগ ছিল। শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবি' উপন্যাসের আড়ালে যে সুভাষচন্দ্র বসুকে সব্যসাচী রূপে কল্পনা করে চরিত্রটি সৃষ্টি হয়েছে,তা ব্রহ্মদেশের ভৌগলিক পরিচয় অনেক জানতে পারি। সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠনে বার্মিজদের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এখনো আমরা আমাদের পুণ্যভূমি হিসেবে দেখি। এখানে রবীন্দ্রনাথ তিন তিনবার গিয়েছিলেন অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণে।
দিকমণি বাবুর এক বন্ধু স্বপ্নিল থাকেন  মায়ানমারের ইয়াঙ্গনে। তার ডাকে দিন পনের ইয়াঙ্গনে বেড়াতে যাই আমি। দেখলাম ইয়াঙ্গনের গায়ে এখন আধুনিকতার কত সাজই না উঠেছে। অবশ্য সে সাজ ব্রিটিশ আমল থেকেই লেগেছিল। মিলটুকু যেমন কলকাতা ও ইয়াঙ্গন নদীবন্দর। কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং ইয়াঙ্গনের বাড়ীর মতো। দুই শহর ব্রিটিশদের উপনিবেশিক শহর। এখন আরো অনেক পরিবর্তিত ইয়াঙ্গন। ইয়াঙ্গন মানে একটা আধুনিকতার রূপটান।

ঋত্বিক তখন বলল - "কী দেখলেন স্যার?" সকলে চুপচাপ যেন গোগ্রাসে গিলছে গল্প। 
  একটু থেমে আবার শুরু করলেন দিকমণি বাবু।
   ইয়াঙ্গন হল মায়ানমারের গৌরবময় স্থান। মায়ানমারের অহংকার। রাজধানী রেঙ্গুনও কোনো অংশে কম নয়। রাজধানী তো গুরুত্ব তো থাকবেই তার। রেঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাঠক্রম কলকাতা ও ঢাকার মতো সমগোত্রীয়।
  জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের জন্য মহাত্মা গাঁধীজির আন্দোলন ইয়াঙ্গনের ছাত্র আন্দোলন প্রভাবিত হয়েছিল। এই আন্দোলন খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। ভারতবর্ষ এই আন্দোলনের জেরে ব্রিটিশ সরকারের যতটা না টনক নড়াতে পেরেছিল, এঁরা তার চেয়েও বেশি ব্রিটিশ সরকারের ভীতির কারণ হয়ে উঠেছিলেন। 
  সেই আক্রোশে মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্করণ ভারতীয় নেতাদের হাতে ক্ষমতা অর্পনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ছিল। সেই অর্থে মায়ানমার যে ভারতের  মদতপুষ্ট ও রাজনৈতিক চেতনাহীন বলেই ব্রিটিশ সরকার বার্মার প্রতি প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে, কোনো রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেয়নি; বার্মার নেতৃত্বদের ভারতের মতো ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেনি।
   এতে মায়ানমারের ক্ষোভে আরো ঘৃতাহূতি পড়ল সেদিন, যেদিন ব্রিটিশ রাজত্বে রাজধানী কলকাতা থেকে জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বগন, এমনকি কোনো বাঙালি নেতৃত্বও পর্যন্ত সরকারের এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে সামান্যতম কথা খরচ করেননি বলে। 
বার্মাবাসীরা খুব বাঙালি প্রেমী ছিলেন। পাশাপাশি বাঙালিরা কম বার্মাপ্রেমী ছিলেন না। এতো যখন প্রেমের ঘটা,ঘণিষ্ঠতাবোধ সামান্যতম প্রতিবাদ নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর দরকার কি ছিল না?
     এই প্রশ্নের উত্তর বাঙালি কাছে কোনো দিন পাওয়ার জো নেই। কারণ বাঙালি যে সেদিন গট আপ গেম খেলেছিল এটা পরিষ্কার। অর্থাৎ সেদিন বড়ই স্বার্থপরের মতো নিজের স্বার্থসিদ্ধির কথা ভেবেছিল ভারতীয় নেতৃবৃন্দ। জালিয়ানওয়ালাবাগের জন্য মায়ানমারের এত বড় স্বার্থত্যাগ মায়ানমারের গর্ব যেখানে,ভারতবর্ষ তথা বাঙালি সেখানে মাথা একেবারে নিচু। ইতিহাস বাঙালির জন্য খুব কষ্টে সেই কলঙ্কিত অধ্যায় মাথায় ধরে রেখেছে।
    বর্তমানে ভারতবর্ষ মায়ানমারের জন্য যেসব নীতি গ্রহন করেছে তার তালিকা একটা করলে দাঁড়ায় -

এখানে ওখানকার কৃষিপণ্য আমদানি হচ্ছে। ওষুধ ও ইস্পাত ওখানে রপ্তানি হচ্ছে।

পুবে তাকাও নীতির দৌলতে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল- ম্যান্ডেলা উড়ান চলছে। সড়ক যোগাযোগের আরো উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা চলছে।

  ওরা কুটির-শিল্প সামগ্রী দিয়ে কলকাতা থেকে পর্যটক ভালোই টানছে।

ভারি শিল্প কিছু উপহার দেওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু আমাদের ওতে একটা দূর্বলতা তো আছেই। এই ব্যর্থতা থেকে আরাকানের খণিজ তেল, গ্যাসের ব্লক বাধ্য হয়েছি চিনকে ছেড়ে দিতে। পাইপ লাইন পাতার অসুবিধায়। এই দুর্বলতার জন্য মায়ানমারের বাজার এখন চিন-জাপান- কোরিয়ার খপ্পরে।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বহুতল বাড়ি এখন চিনা ছাঁদে তৈরি হয়। রাস্তায় বেশিরভাগ গাড়ি মেড ইন চায়না-জাপান- কোরিয়া। আমাদের শুধু টাটা মোটর্সের অফিস ইয়াঙ্গন থেকে ম্যান্ডেলাতে আসার পথে পড়ে।
  তবে কলকাতার প্রতিশ্রুতির জায়গাটা হলো বিভিন্ন গ্রহ ও রত্ন যেমন - পোখরাজ, চুনি, পান্নার একচেটিয়া বাজার দিতে পারবে। মুম্বাইয়ের জাভেরিবাজার বা সুরাতের দক্ষ কারিগর ওখানে আছে। ব্যাঙ্কিং সেক্টরগুলো কম কিসে।
সম্পর্ক আরো সুনীবিড় হচ্ছে। এতো যার সঙ্গে ঐতিহ্যের সম্পর্ক মায়ানমার ভারতবর্ষ তথা বাঙালি এক হোক...এক হোক! আবার যাবো মায়ানমারে! 
            *******
@কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১

# বিষয় - ছোটগল্প। #নাম- মায়ানমার। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।


# বিষয় - ছোটগল্প।
 # নাম- 'স্বপ্নে  মায়নামার'
     ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

ঋত্বিক খাসকিল। বয়স আর কত! ঐ বছর বারো। ক্লাস সেভেনে পড়ে। কৈশোর পেরিয়ে যৌবনের সন্ধিক্ষণে। তাই ভালো মন্দের জোর লড়াই লাগে মনে। এই বয়সের নিয়মটা তাই। মুখে মুখে তর্ক, স্যারদের পেছনে স্পাইগিরি করা...। ঋত্বিক অবশ্য একটু বেশ নিরীহ প্রকৃতির।
স্কুলের পড়াশোনা- পাঠ্যপুস্তক, সিলেবাস, ক্লাসে পজিশন নেওয়ার প্রতিযোগিতা এসব তার একদম ভালো লাগে না। ক্লাসে ফার্স্ট যারা হয় তাদের দেখলে খুব রাগ হয়। ওরা কেমন স্বার্থপর। বিদ্যাকে নিজের মধ্যে যেন কুঁদে কুঁদে রেখে দেয়। কেউ টেনে বের করতে না পারে,হাতিয়ে নিতে না পারে,একদম সিল করে রাখে। আর সদা পাহারায় থাকে। যথা সময়ে ভুর ভুর করে বের করবে। সে এক একটা স্বার্থের যত্ত ধাড়ি, সব এক একটা স্বার্থের ডিপো! আর কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে সে বলবে কি বলবে না, দ্বিধায় থাকে। যদি সর্বনাশ হয়। এদের এই কঞ্জুসি ভাব দেখলে ঋত্বিকের এমন রাগ তিরতিরিয়ে ওঠে, পারলে একটা কষিয়ে গাট্টা লাগায়।
আর এদের নিয়েই শিক্ষক ক্লাসে যত আদিখ্যেতায় মেতে থাকেন। শিক্ষকের প্রকৃত ভোজ্য এরা। শিক্ষকের যত জ্ঞানের খোরাক যেন। সে খোরাক গোপাল,সুবল,রাখাল মেটায়। আর এই ঋতমের মতো অধমদের নিয়ে গুরুকুল ভাবেন কিস্যু হবে না। 
শিবাস সিকদার বলে একজন অঙ্কের স্যার,সনাতন বিশ্বাস ভূগোলের,সন্দীপ শাসমল ইংরেজির... প্রত্যেকে ক্লাসে আসেন ওদের কাছ থেকে রেসপন্স পেয়ে ধন্য হয়ে চলে যান। বাকিরা যে পিছিয়ে পড়ল,মিডিওকার যারা তারা যে আধো আধো নিল,তাতে কোনো যায় আসে না।
তবে হ্যাঁ বলতে হবে বাংলার স্যার দিকমণি পাল বাবু! স্যার তো স্যার! ওনাকেই একটু স্যার স্যার মনে হয়। সবার জন্য কি দরদ! তবে ভাষার একটু 'র'~'ড়'~ 'শ'- এর দোষ আছে। ভেঁড়িকে ভেঁরি বলেন। রজনীকে যখন ড়জনী বলেন, নারীকে নাড়ী বলেন সত্যি পড়া উদোর পিণ্ডে বুধোর ঘাড়ে চেপে যায়। সবাই হাসে। কিন্তু আমার ভালো লাগে। ওনার মতো সবাইকে দরদ দিয়ে এপর্যন্ত কাউকে পড়াতে দেখিনি। 
  সবাইয ক্লাসে যেন চেয়ার, টেবিল,চক, ডাসটারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আসেন। কি যেন জ্ঞানের পাহাড়! আর দিকমণি স্যার কার কতটা দুর্বলতা ঠিক জানেন। সবার পড়ায় রেসপন্স পেলে তবে এগোন। আর তোদের হবে না এজাতীয় মন্তব্য করতে কোনোদিন শুনিনি। দিকমণি স্যারকে সকলের খুব পছন্দ। নামটাও বেশ! ঋত্বিকের তো সবার চেয়ে...
  দিকমণি স্যার বিভিন্ন টপিক্স নিয়ে রচনা লিখতে দেন। একদিন স্বপ্ন নিয়ে রচনা লিখতে দিয়েছেন। মায়নামার নিয়ে 'সন্দেশ' পত্রিকায় একটা গল্প পড়েছিল। সেই গল্প কি আর হুবহু স্বপ্নে আসবে। স্বপ্নে মায়নামার লেগেছিল এই যা। স্বপ্নে যা এসেছিল তাই রচনায় হুবহু তুলে দিল ঋত্বিক। 
    স্বপ্নে ঋত্বিক দেখছে ঋত্বিকের মায়নামারে এক কাকু থাকেন। পূজোর ছুটিতে বেড়াতে গেছে ঋত্বিক। কাকুর কাছে গল্পটা শোনা।
ময়মনসিংহ থেকে এক ব্রাহ্মণ যুবা গেছে চাকরির খোঁজে। শিক্ষিত মোটামুটি। কি করে কাকুর ঠিকানা জোগাড় করেছে। সটান হাজির কাকুর কাছে। বলে কয়ে একটা চাকরি যদি করে দেন এই ব্রাহ্মণ সন্তানের উপকারের জন্য। পুণ্য হবে আপনার। কাকু এমনিতেই একটু ধর্ম-ভীরু মানুষ। শালকাঠের কারবারীদের সঙ্গে বেশ আলাপ আছে। এদেশীয় হিন্দু রমেশ তালুকদারের কাঠগোলায় একটা চাকরি জুটিয়ে দেন। হিসাব রক্ষকের। বেতন প্রথম প্রথম হাজার খানেক। খাওয়া দাওয়া ফ্রি। তাতেই সই। মাথাতো গোঁজা যাক।
চাকরির সাথে সাথে দু'চারটা ছেলে বাড়ি বাড়ি পড়ানো ধরে। উপরি রোজগার। বছর খানেক পরে কাকুর সঙ্গে ব্রাহ্মণ যুবার দেখা। তাকে দেখেই চেনাই যাচ্ছে না, যদি না চেনায়। মাথায় লম্বা টিকি। পরণে সাদা কাপড়, গায়ে নামাবলী,খালি পা। কাকুকে পেছন থেকে কে যেন ডাকতে,পেছন ঘুরে দেখে ত কাকু থ।

   "হ্যাঁ আমি শঙ্কর হালদার। চিনতে পারছেন।" চোখে মুখে বড়ই উচ্ছ্বাস!

"চিনলাম তো বটে। হঠাৎ এই পোশাকে?" অবাক হয়ে কাকু জিজ্ঞেস করলেন।

"আর বলবেন না। ঐ হাজার টাকায় পোষায় বলুন। এখানে কয়েক ঘর যজমান পেয়েছি। পূজো আচ্চা করে নেহাৎ মন্দ আসছে না।" বেশ সপ্রতিভ লাগে।

কাকু কাজের তাড়ায় হনহনিয়ে চলে যান সেদিনের মত। বছর তিনেক পরে কাকু মায়নামার থেকে আরো উত্তরে শ'খানেক কিলোমিটার দূরে এক কাঠ ব্যাবসায়ী সুরেশ খাস্তগীরের মেয়ের বিয়েতে আমন্ত্রিত হয়ে গেছেন দিন দু'য়েকের জন্য। 
হঠাৎ রাস্তায় পেছন থেকে কে যেন ডাকছে আকুল হয়ে-

"ও বিশ্বেশ্বর বাবু,ও বিশ্বেশ্বর বাবু।"

পেছন ফিরে তাকিয়ে পুরু চশমা হাত দিয়ে নাকের ডগা থেকে একটু তুলে ভালো করে দেখেও চিনতে পারছেন না। আর এই এতো দূরে এমনভাবে ডাকছে প্রাণের আবেগে, এতো গভীর সম্পর্কের কেউ তো থাকার কথা নয়। কাকুতো বেশ ধন্দে পড়ে গেলেন। অবাক চোখে তাকিয়ে। তার উপর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ, এ তো কস্মিনকালেও চেনা জানা হতেই পারে না। 

"চিনতে পারছেন না। আমি সেই শঙ্কর হালদার।" হাসি ধরে না।

"সে কি! এ আবার কি দেখছি! এখানে,এই বেশে!" 

"অবাক হয়ে গেছেন তো। ওখানে রোজগারপাতি ঠিক পোষাচ্ছিল না। একদিন এক রহিম চাচার হাত ধরে এখানে চলে আসি। তিনি ইব্রাহিম হোসেনের মাংসের দোকানের কাজে লাগিয়ে দেন। দোকান দেখাশোনা করা,হিসেব পত্র দেখার জন্য মালিক বেশ ভালই বেতন দিচ্ছিল। একদিন ইব্রাহিম পেটের ব্যামোতে পড়ল। পেটে আলসার নিয়ে শয্যাশায়ী থেকে কবরে চিরনিদ্রায় চলে গেল। শেষে তার বিধবা স্ত্রীকে বিয়ে করে এখন ব্যবসা চালাচ্ছি। ধর্মান্তরিত আমি। ভালোই পয়সার মালিক এখন। ছাগল,ভেড়া,শূয়োর সব নিজের হাতে কাটি। কেবল গরু কাটতে এখনো সড়গড় নই। সাহায্য নিতে হয়।" কি গড়গড়িয়ে নিজের কথা পরম আহ্লাদের সঙ্গে বলে গেল সেক মইনুদ্দিন ওরফে শঙ্কর।

"বামুনের ছেলে হয়ে কসাই হলাম কী করে ভাবছেন তো? প্রথম প্রথম অসুবিধা হচ্ছিল। পয়সা সব একাকার করে দিল। দড়ি ও দাঁড়ির কি তফাৎ আজো বুঝতে পারিনি। মানুষ যে আমি এটুকু মানি। ধর্ম দিয়ে অত্যাচার মনে হয়- ধর্মের জন্য মানুষ, না মানুষের জন্য ধর্ম - দুটোই পরখ করে দেখলাম। জানেন দারুন লাগল।"

"তা বেশ বলেছ। মানুষের জন্মানোর পরে সংস্কার নিয়ে চলার মধ্যে কত কান্ড করে দেশ জাতি উদ্ধার করে শেষে মাটিতেই মিশে যায়। সবাই একা এসেছে নাঙ্গা হয়ে, যাবে একা নাঙ্গা হয়ে। মাঝখানে শুধু বাছবিচার মানুষে মানুষে কেবল তফাৎ!" কাকু তার মঙ্গল কামনা করে বিদায় নেন।
এই পর্যন্ত এসেই স্বপ্নে ভেগে যায়। 
  এই রচনা পড়ে দিকমণি স্যার তিড়িং করে লাফিয়ে উঠলেন। গোটা স্টাফ রুমে সকল স্যারেদের পড়ে শোনান। রীতিমত ঋত্বিকের দর বেড়ে গেল। দিকমণি স্যারের প্রশংসা শুনে ঋত্বিক বলেছিল - 

"মায়নামার নিয়ে আরেকটা স্বপ্ন আছে স্যার।" খুব উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বলে।

দিকমণি স্যার বলেন - 

" তুমি কি শুধু মায়নামার নিয়ে স্বপ্ন দেখ? তা আরেক দিন লিখে দিও। নাম দিও -
           ' স্বপ্ন মায়নামার - ২' 

             ***********
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস। 
  

সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১

চেনো কি আমায়? (ডাইরি) শর্মিষ্ঠা ভট্ট

# বিষয় - ডাইরি # নাম - চেনো কি আমায়? # লেখায় - শর্মিষ্ঠা ভট্ট ৮ই মার্চ ২০২১ কে জানে তুমি আমায় কতটা চেনো, আমি তোমার বাড়ীর কয়েকটি বাড়ী পরে থাকি, এক সামান্য সাস্থ্য কর্মী। তুমি যখন রোজ হেঁটে যাও আমার পাশ দিয়ে, অপূর্ব একটা গন্ধ ছড়িয়ে যাও। আমি হয়ত তখন কাজে চলেছি, নয়ত বাজার। দেখা হয়ে গেলে শুধু চোখাচোখি। তোমায় আমি দেখেছি বারান্দার গ্রীলের ওপাশ থেকে তুমি আমার সাথে কথা বলো। বড়ো মধুর তোমার আওয়াজ। আমার ঘর্মাক্ত কলেবরে বার বার তোমার সামনে চলে আসা বড়ো বেমানান। অগোছালো পোশাকে সংসার সামলে শুধু ছোটাছুটি। আর এখন তো কাজ বেড়ে সাংঘাতিক চাপ। সন্ধ্যায় যখন ধুকতে ধুকতে ফিরি, দেখি তুমি লনে বসে চা খাচ্ছো । দূরত্ব, ঘরে থাকা এসব তো আমাদের জন্য নয়, লোকের মাঝে কাজ। জানি না তুমি আমায় কতটা চেনো তোমার বাড়ীর কাছেই আটান্ন নম্বর আমার নম্বর, বি আটান্ন ! ভাড়া থাকি, সর্ব সাকুল্যে আমার ঘরে লোক পাঁচ। এখানকার ভোটার আইডি নয়। কাজের খাতিরে বসত। বর রেলের গান ম্যান , চলে যায় বেশ। লোকে বলে সরকারি কাজ। কতটা রোজগার, কেমন করে মাসের শেষে চেপে খরচ করি সে আমার লোকানো অধ্যায়। প্রতি দিন লোক দেখে চান খাওয়া করে মেয়েটা হাতে পাঁচ বছরের বাচ্ছা নিয়ে ছুটছে। ওকে সরকারি স্কুলে রেখে অটো তারপর মোড়ের মাথায় বাস। ঘরটার ভাড়া একেবারে কম তাই গুঁজে গেছি। শাশুড়ি সংসার সামলায় আর আমায় গালি দেয়, উপায় নেই দুজনের চাকরি ছাড়া সংসার চালানো বড়ো সমস্যা। তোমার পরীর মতো মেয়েকে দেখেছি, স্কুলে যেতে, কালো কাঁচের ওপারে। একবার ওকে কোন কারনে ইঞ্জেকশন দিতে গিয়েছিলাম। মাখনের মতো নরম গায়ে আমার আঙুল লাগছিল হয়তো। একটু নড়ছিল, মুখে কিছু বলেনি। এই আঙুল এখন অসংখ্য মানুষের কাজে লাগে। আমার কলিগ মীরাদি যখন কাশতে কাশতে লাল হয়ে যেতো কিংবা প্রচন্ড জ্বরে হারিয়ে যাওয়া বরের জন্য চেঁচিয়ে উঠতো! ছুটে যেতাম, রইল না মানুষটা। বন্ধু হারানো হয়ত কখনও বড়ো লাগে। যাক তুমি বেশ প্রটেকশন নাও দেখি। আমার এখন রাতেও বাড়ী ফেরা হয় না। বুড়ি শাশুড়ি পঙ্গু মেয়ে আর আমার ছোট ছেলে সারা দিন সামলে নাটাপাটা । হঠাৎ ফোন এলো পাড়ার মানুষ ঠিক করেছে, সাস্থ্যকর্মী ঘরে ফিরতে পারবে না। যতক্ষণ এসব না শেষ হবে। মাথায় হাত। বর ওদিকে ট্রেনের কাজে। বন্ধ তো সব হয় না। কিছু কাজ তো অন্ত সলীলা হয়ে বয়ে চলে, তাই তুমি বা তোমরা ঠিক থাকো। এত যে আমি তুমির দ্বন্দ্ব, জানো কি কত জনের লাশের ওপর তোমার ঘর? তবে কিসের এত স্বভিমান! কিসের অহংকার! তুমি আমায় কতটুকু চেনো? পাড়ার সবচেয়ে রঙ চটা ঘরের আমি ভাড়াটে। যেতে আসতে চোখাচোখি। কুশল বিনিময় হয়নি কখনও। তবে তুমি জানো ইঞ্জেকশন দিতে আমি আছি। কে জানে আমার ছোটো ছেলে কি করছে। মায়ের মন বড়ো টন টন করে। ওরা আমি গেলেই সপরিবারে পাড়া ছাড়া করবে বলেছে। মনে মেরে রোগীতে মন দিয়েছি। কত রকমের মানুষ আসে। অর্থনৈতিক কম জোর চিকিৎসা পাচ্ছে গ্যাদাগেদি করে হাসপাতালে। অনেকে পয়সা খরচে ছুটছে বড়ো নার্সিং হোমে। কিন্তু মৃত্যু! কে যে কখন কোথায় থাবা মারে। তোমার বর পা হড়কেছে । বাড়ীর কাছের এই খানে এনেছো। আমায় দেখতে পেলে, বিহবল তখন তুমি। ওমা, চিনতেও পারলে ! একটি রাতের কেবিন, আমি তোমার পাড়ার। প্রতিবেশী! করতে হল একটু ম্যানেজ, বৃদ্ধ রঙ্গলাল বাবু অনেক দিন আছেন। বাড়ী থেকে পয়সা আসে কাজের লোকের মার্ফত, বেশ এখানে বাসা বেঁধেছেন। কেউ আসে না নিতে, কর্তৃপক্ষ পয়সা খায়। আজকের মতো তাঁকে একটু সিফ্ট করিয়ে দিলাম আমার পাড়াতুতো নতুন পাতানো বৌদিকে যায়গা করে দিতে। রাতের বেলা কত কথা হল । বড়ো ডাক্তারের সাথে ফোনে ব্যবস্থা করছে চকচকে কোথাও সরিয়ে নিয়ে যাবার। ভেসে আসছে কথা - এখানে মানুষ থাকে! কিন্তু রোগী ও আমরা যারা প্রতি নিয়ত এই জায়গা আর অপরিছন্নদের ঘাঁটি! সত্যি কি মানুষ নোই? ওনার তো গা বমি করছে। রাতে শুনলেন মন দিয়ে আমার দুখঃ। মমতার সাথে মিলে মিশে এক হয়ে গেলেন। তারপর আজ চারদিন হল আমি এখানে ,ঘরে যাইনি। ভিডিও কলে দেখি ওর বাবা ছেলে কোলে। ছেলে কদিনে শিখেছে 'ছিঃ মা' বলতে। হয়ত লোক বলে নোংরা ঘাঁটি আমরা কিংবা ওকে সামাল দিতে ওর ঠাকুমা নয়ত... ওর বাবাই..... আমায় তুমি কি চেনো? পুলিশ এসে এসব ঠিক করেছে সংবাদ মধ্যম সোচ্চার হয়েছে, যেমন কোন ঘটনা ঘটলেই হয়। তাতে এবার কাজ হয়েছে। আমি আজ ঘরে ফিরছি। তুমি বারান্দা থেকে হাত নাড়লে । জানো মন ভরে গেলো। আমার ওটুকুই পাওনা। তুমি চিনেছো আমায় সেই মেয়ে, রাত জাগা পাখি ফিনিক্স আমি, আমি বিপন্ন ঢেউ, বুকে চাপা আলো আমি তোমার প্রতি দিনের সাথী স্বাস্থ্য। স্বাস্থ্য কর্মী, নারী আমি।। ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১

মা-মেয়ে (কথপোকথন) ✍️নন্দিনী তিথি

 


তাং ১৭ - ২ - ২১

সময়ঃ ৯:১০ pm

--- good evening রে তিথি।তোর কি খবর বলতো! সেই ১০

তারিখ তোর সাথে কথা হলো। আর তোর কোনো খবরই নেই।

একটা গুড মর্নিংও পাঠাস না।

--- সরি! পি.মণি। দেখলাম তোমরা ভ্রমণে বেরিয়েছো।ভ্রমনটা

উপভোগ করে এসো আনন্দ করে তারপর নাহয় তোমার 

ভ্রমণকাহিনী শুনবো, এইভেবে তাই তোমাকে আর বার্তা 

পাঠাইনি পি.মণি।

--- ও বাবা! আমার পাগলি মেয়েটা কত বোঝে,কত বড় হয়ে 

গেছে।

--- হুম।পি.মণি এখন রাখছি আমার একটা ক্লাস আছে।

তোমার সাথে পরে কথা বলি।

---ঠিক আছে। যা ক্লাস কর।

তাং ১৯ - ২ - ২১

সময়ঃ ১০:৪৪ am

--- তোমার মাথার অবস্থা কি?এখন কেমন আছো?

--- নারে ! আর বলিস না Backpain এর মতো এই আঘাতটাও

মাথায় চেপে বসে আছে।এ আঘাত আর ঠিক হবেনা বোধহয়!

--- ধুর! কি বল।একটু চোট বেশি লেগেছে তো তাই সারাতে

তো কয়দিন সময় নিবে।তুমি একদম ওসব বাজে ভাবনা নিয়ে

বসে থেকো না তো।

--- হ্যাঁ রে তুই ঠিকই বলেছিস রে তিথি।

--- এখন বলো খাবার খেয়ে ঔষধ খেয়েছো?

--- খেয়েছি।তুই খেয়েছিস?

তোর শরীর ঠিক আছে  তো,ভালো আসিস তো তুই?

--- হ্যাঁ খেয়েছি।

আর আজ অনেকটা সুস্থ পি.মণি।

--- দেখেছিস দু'দিন কথা হয়নি বলে নিজে অসুস্থ হয়ে বসে আছিস।আরও তোর পি.মণি কে জানানোর চিন্তাও করলি না

একবার। তিথি তোর কি হয়েছে? আমাকে তুই জানালি না 

কেন?

---সরি পি.মণি। ১৪ তারিখ ডাক্তার দেখাতে যেতে হবে বলে 

 ভোরেই উঠে গেলাম।ফ্রেশ হয়ে পরিবারে সবাইকে বসন্তের 

 শুভেচ্ছা  জানালাম।ব্যস্ততার কারণে সবাইকে আলাদাভাবে 

 শুভেচ্ছা জানানোর সময় পাইনি।তো রেডি হয়ে বাসা 

থেকে বের হয়ে মেডিক্যাল এ পৌঁছালাম।

--- আচ্ছা ভালোভাবে পৌঁছাতে পারছিলি তো। না, রিকশায় 

বসে ঘুমিয়ে পড়েছিলি আবার?

যে ভোরে উঠেছিস তোর কি ঘুম ভেঙেছিল বল তো আমায়!

--- হা হা হা হা,  না পি.মণি রিকশায় ঘুমোয়নি।কিন্তু টিকিটের

জন্য সিরিয়ালে দাঁড়াতে দাঁড়াতে পুরো পা অবশ হয়ে 

যাচ্ছিলো।বহু অপেক্ষার পর টিকিট হাতে পেলুম।এরপর 

আবার সেই ডাক্তারের কাছে গিয়ে পুরো সিরিয়াল। 

সারাদিনটাই দাঁড়াতে দাঁড়াতে চলে গেল।

--- আহারে,তোর খুব কষ্ট হয়েছে না তিথি।

--- হ্যাঁ হয়েছে।কিন্তু  কষ্টটাকেও বেশ ক্লান্তিমখা হাসির সাথে

উপভোগ করেছি।ক্লান্তির শরীর নিয়ে বাসায় পৌঁছে দিলাম

এক ঘুম।

--- কেন! কিছু না খেয়েই ক্লান্ত শরীরে ঘুম দিলি?

--- না রে, না খেয়ে ঘুমালে ঘুমটা ভালো হয় আমার।

--- ওরে আমার পাগলি মেয়েটার কথা শোনো দেখি।

--- হ্যাঁ রে পি.মণি।আমি দুপুরের খাবার ঘুম থেকে উঠার

পরই খাই।

--- দেখিস তিথি এমন করলে আবার যেন শরীর খারাপ করে

না বসে তোর।

---না ওসব কিছু হবে না।

তো ঘুম থেকে উঠে খেলাম।খেয়ে এসে ফোনটা অন করলাম।

নেট অন করে "আজ বসন্ত পরিবারে কত মজা করবো" এই

ভাবতে ভাবতে পরিবারে ঢুকলাম।ঢুকেই দেখি কাকাই এর 

মেসেজ- "পলো আর আমাদের মাঝে নেই মোবাইল ওর

জীবন কেড়ে নিয়েছে।" প্রথমে ভাবলাম ফোন বোধহয় hung

হচ্ছে বারবার তাই পি.মণি বার্তা করছে না।এরজন্য বুঝি

কাকাই এসব লিখছে।

আবার পড়লাম কাকাইয়ের মেসেজ।পড়ে মনকে আর ভাবতে

না দিয়ে চোখ অঝোর ধারায় অশ্রু দিতে লাগলো রে পি.মণি।

দিদি এসে ডাক দিয়ে বললো এই তোর কি হয়েছে?

"আমাদের পরিবারে" এইটুকু শুধু বলতে পারছিলাম আর 

কিছু বলতে পারিনি।দিদি হাত থেকে ফোনটা নিয়ে দেখলো।

--- আর তুই বোকার মতো কাঁদছিলি! 

--- না পি.মণি আমি একদম কাঁদতে চাইনি। কিন্তু চোখ সে

অশ্রু ঢেলেছিল অঝোর ধারায়। 

এমন অবস্থা দেখে দিদি বাইরে নিয়ে গিয়েছিল মনটা একটু

ফ্রেশ হবে এই বলে।কিন্তু আমি চোখকে কিছুতেই আটকাতে

পারছিলাম না।

অবশেষে দিদি আবার বাসায় নিয়ে এলো।

নে কিছু খেয়ে শান্ত হয়ে ঘুম দিবি।সামনে খাবারটা দিল।কিন্তু

আমার গলা থেকে কিছুই নামতেছিল না। প্লেটে জল ঢেলে

উঠে যাই।দিদি এসে মশারীটা টানিয়ে দিয়ে বলে একটু শান্ত

কর না মনটকে, একটু ঘুমানোর চেষ্টা কর না তিথি।

কোনো কথা বেরোলো না মুখ থেকে।মোবাইলের নেট অন

করে পরিবারে ঢুকে বসে থাকলাম।সবার মেসেজ পড়তে 

পড়তে সারা শরীর পাথর হয়ে যাচ্ছিলো।তবুও চোখের জল

পাথর হয়নি পি.মণি।

২টা প্রায় বাজতে চললো তখনও চোখের পাতা বন্ধ হলো না।

অশ্রুকে বাধ দিতে পারলো না।পনেরো বিশ মিনিট যেতেই

সারা শরীর কাঁপা শুরু করলো।উঠে কোনমতে বাথরুমে যাই

গিয়ে সব ঢেলে দেই বমি করো।কোনমতে বাথরুম থেকে 

বিছানায় এসে শুলাম।ভাবলাম এবার ক্লান্ত শরীরে চোখের

পাতা দুটি বুজে আসবে।নাহ্ পি.মণি আবার উঠে বাথরুমে

গেলাম বমি করে ঢেলে দিলাম।বুঝেছিলাম আর বোধহয়

বাথরুম থেকে বেরোতে পারবো না।কিভাবে যে বিছানায় এসেছিলাম তা শুধু আমিই জানি।

--- হ্যাঁ রে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাসনি এই রক্ষে।

--- ঠিক বলেছো পি.মণি  ঈশ্বরই বোধহয় আমাকে বিছানা 

 পর্যন্ত আসতে সাহায্য করেছিলো।শুধু শ্বাস টুকই নিতে 

পারছিলাম পুরো হাত-পা অবশ  হয়ে গিয়েছিল।

--- কেউ টের পায়নি তোর এমন অবস্থা?

---নাহ্, কেউ টের পায়নি।আর আমারও কাউকে ডাক দেয়ার

কোনো শক্তি ছিল না পি.মণি।

এরপরে ভোররাত্রে আসলো ধুমছে জ্বর।সারাদিন আর 

বিছানা থেকে উঠার জোর ছিল না।সারা শরীর ব্যাথায় 

ধরেছিল।

--- ওরে তিথি তুই এমন অসুস্থ আমাকে একবার জানালিও না।

--- কিভাবে জানাবো পি.মণি।সবার মেসেজ পড়ে পড়ে আমি

বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।তোমার তিথির মন একবারের

জন্যও ভাবেনি যে তোমার কিছু হতে পারেনা।তুমি ঠিক আছো

তোমার মাথায় একটু বেশি চোট লেগেছে। 

--- তোর পি.মণি তোদের ছেড়ে কোথাও যেতে পারেনা তা 

তুই জানিস না।কিছু না ভেবেই বোকার মতো কেঁদে চললি

সারাদিন রাত!কেঁদে কেঁদে জ্বরটাও বাধিয়ে নিলি।পাগল 

একটা।

তো এখন বলুন তো আপনি কিভাবে একটু শান্ত হয়েছিলেন?

--- জ্বর টা একটু কমার পরে পিশে কে কল করি। পিশে

সবকিছু বুঝিয়ে বলে।তুমি ঠিক আছো।মাথায় একটু চোট

লেগেছে বেশি তাই দু-তিন দিন পর ছাড়া হাসপাতাল থেকে 

বাসায় ফিরতে পারবে না।

তারপর তো তুমি মেসেজ করলে good evening বলে।

---আচ্ছা আপনাকে আর টেনশন করতে হবে না আমার জন্য

আমি ঠিক আছি।কাল বাসায় ফিরবো।আর আপনার সাথে

প্রতিদিন কথা হবে।না হলে আবার কেঁদে কেঁদে কিছু একটা

বাধিয়ে বসবেন।

আর হ্যাঁ শোন তিথি তুই ঢাকায় আসলেই কিন্তু আমার জন্য

খেজুরের রস নিয়ে আসবি।

---হ্যাঁ তা আর তোমাকে বলতে হবে না।মা'কে বলে তোমার 

জন্য মিঠা তৈরি করে রেখেছি।

তুমি ভাপা পিঠে খাবে খেজুরের রস দিয়ে।আর তোমার তিথি

তোমার জন্য সেই রস নিয়ে আসবে না সেটা কি হয় বল!!

আমি কিছুদিন পরেই ঢাকায় আসবো। আর তোমার সাথে

দেখা হবে কি যে আনন্দ হচ্ছে কি বলি।

--- এখন বলতো তোর পুরোপুরি জ্বর সেরেছে তো তিথি।

--- হ্যাঁ তুমি চিন্তা করো না একদম।আমি পুরো সুস্থ হয়ে যাবো

পি.মণি। আচ্ছা পি.মণি একটা কথা বলবো?

--- হ্যাঁ, বল।

--- তুমি তো বলেছিলে পূজোর সময় ইন্ডিয়াতে যাবে।

চলো না আমরা সামনে ঈদের ছুটিতেই যাই।

--- হ্যাঁ তিথি তুই ঠিকই বলেছিস।

--- আচ্ছা  পি.মণি আমরা কত মন ইলিশ মাছ নিবো।

--- হা হা হা কত মণ!! যা নিবো তোর মাথায় সব চাপিয়ে দিবো।

--- হ্যাঁ, আমি, তুমি,ঈশিতা দি,ক্যালভিন আঙ্কেল এই চারজনে

মিলে তো এক মণ নিতেই পারবো তাইনা বল।আর 

ভাইয়োটাকে সারাপথ চকলেট ধরিয়ে হাঁটাবো।

--- কেন রে তোর চকলেট লাগবে না?পরিবারে তো কেউ

চকলেট না দিলেই  তোর অভিমান হয়।

--- নাহ্ এবারে একবারে ইন্ডিয়াতে পৌঁছে সবার কাছ থেকে

চকলেট খাবো।

--- আচ্ছা তাই হবে।

এখনও ঈদ আসতে অনেক দেরী আছে রে তিথি।আগে তুই

ঢাকা আয় আমার জন্য রস নিয়ে।শীত চলে গেলে ভাপা 

পিঠা খেতে ভালো লাগেনা।

--- ঠিকই বলেছো।কিন্তু এখন তো বসন্ত।তবুও তুমি চিন্তা 

করো না।শীত এখনও বিদ্যমান।

--- আচ্ছা তাড়াতাড়ি চলে আয় তিথি।তোকে দেখিনা কতদিন 

হয়ে গেছে।

--- হুম এইতো ক'দিন পরেই তোমার কাছে চলে আসবো।

--- হ্যাঁ রে আয়।তোকে এবারে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে

আসবো তিথি।

--- ঠিক আছে তাই হবে।

ও পি.মণি এখন আসি আমার একটু পড়তে বসতে হবে

--- আচ্ছা পড়তে বস।আর স্নান করিস না বেশি পুরো সুস্থ

হয়ে নে তারপর করবি।

--- ওকে। গুড ডে পি.মণি।

 Copyright ©All Rights Reserved Nandini Tithi.

শ্রম(সুদেষ্ণা দত্ত)


 শ্রম

সুদেষ্ণা দত্ত

 

       শহরের হলুদ নিয়ন আলোর রাতবাতিরা সারারাত অতন্দ্র প্রহরী হয়ে নিরাপত্তা দেয় তার বুকে জেগে থাকা ,ঘুমিয়ে থাকা গল্পকারদের।রাতের শহর গল্প লেখে রূপকথার,রাতের শহর গল্প লেখে বিসর্জনের।

           কোথাও প্রাচুর্যের ফোয়ারার উদযাপিত হয় সাফল্যের রাত উৎসব।আবার কোথাও রাতবাতির নীচের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে ব্যর্থতার কাহিনী।

             অবসরপ্রাপ্ত বাবার বেকার ছেলে জয়।বাড়ীতে অবিবাহিতা বোন।নিত্য গঞ্জনা জোটে জয়ের কপালে।শুধু দিনের চাকা ঘোরে টিউশনির টাকায়।বছর তিরিশের জয় আজও চাকরী জোটাতে বিজিত।দিনের পর দিন ইন্টারভিউ দিয়ে যাচ্ছে।কিন্তু তার শ্রমের স্বীকৃতি আজও তার দুয়ারে অতিথি হয়ে কড়া নাড়েনি।

             আজও একটা ইন্টারভিউ দিয়ে ব্যর্থতার মুকুট পরে ফিরছিল জয়।পায়ে হেঁটে ফিরতে ফিরতে অর্থ ও যানবাহনের অভাবে সন্ধ্যা কখন রাতের চরণ চুম্বন করেছে।

           হঠাৎ রাতবাতির নীচে একটি মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জয়।মেয়েটির রাত পোশাক,সাজগোজ জানিয়ে দেয় তার পেশা।পকেটে পড়ে একশ টাকা।মাস শেষ হতে বাকি এখনও দিন পাঁচেক।কিন্তু ভিতরের হতাশা পাশবিক হয়ে ঠেলে উঠতে চায়।সে মেয়েটিকে তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য জোর করে।কিন্তু মেয়েটি জয়ের পোশাক-আশাক দেখে বুঝতে পারে সে ভদ্রবাড়ীর ছেলে,তবে জীবন যুদ্ধের যোদ্ধা ।আজ কোন কারণে এই নেশা বঞ্চিত সে এই নেশা চেখে দেখতে চায়।মেয়েটি তার সঙ্গে যেতে অস্বীকার করে।জয় তখন বলে তুমি তো দেহ বিক্রিই কর।মেয়েটি উত্তর দেয়, “না দাদাবাবু আমি শ্রম বিক্রি করি, তাই জানি শ্রমের মূল্য,শ্রমিকের শ্রমের মূল্য আমি দিতে জানি দাদাবাবু”।


©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

দেশ(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


দেশ

সুদেষ্ণা দত্ত

 

বিপিনের আজ বোঝাই বিপনী

কাগজভরা কত লেখনী

বিপিনের রাখে কেই বা খবর!

খবরে সব নাম লেখায় জবর।

 

বিপিন রুমালে বিপনী সাজায়

প্রেয়সী সূচে নামটি খোদায়।

মুছে দিয়ে পরিশ্রমের স্বেদ—

কোথাও জমে অবৈধতার ক্লেদ।

 

বিপিন বিপনী সাজায় কেতনে

মন্ত্রিমশাই নামেন সচেতনে

মন্ত্রী বলেন ,তুই সবকিছুই বেচিস বেশ!

বিপিন বলে বেচি না আমি কভু দেশ।


ছবি সৌজন্য--গুগুল

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১

বিষয় : চিত্রে লেখন # নাম : চলো যাই # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

চিত্রে লেখন # নাম : চলো যাই # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট
আর কিছু ঘন্টা পরে মোহনায় মিশে যাবে নদীটা। দুকুল তখন অনন্ত জলরাশির মাঝে হারাবে। রাতের অপেক্ষা রত নৌকা একটা একটা করে নদী বন্দর ছাড়ছে। গঙ্গাসাগর মেলায় যাবার জন্য নীপা বসে আছে এরমধ্যে কোন এক নৌকায়। কুয়াশার পর্দা ফুঁড়ে সকালের আকাশে সোনালী রদ্দুর ছড়িয়ে দিয়েছে। নৌকার ছাউনির নীচে থেকে চারিদিকে তাকিয়ে অসীম পরিতৃপ্তি ওকে ভরিয়ে দিল । পিছনে ফেলে দেয়া না পাওয়া অনেক স্মৃতি এই বিপুল বিশাল নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের কাছে মৃয়মান । নীপা ভাবে সময় আর পরিবেশ মানুষকে নদীর ধারার মতো ধীরে বয়ে নিয়ে চলে। একঘাট থেকে অন্য ঘাটে। সামনের জন্য অপেক্ষা ছাড়া আর কিছু ভাবার থাকে না। কবিতা মনে আসে নীপার.... চলছি সোনালী স্রোতে ভেসে, অনির্দিষ্ট আলোকময় ভবিষ্যৎ পথে। চিদানন্দ আনন্দের নাওয়ে, অদৃশ্য তর্জনীর অসীম মোহে। চলেছি ঘাট থেকে ঘাটে, জীবনের চৌম্বকীয় টানে। ©কপিরাইট সর্তাধিকার শর্মিষ্ঠা ভট্ট

মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১

রাস্তা

 রঙ্গন আর ঈশিকা ঠিক করেছে এইরকম ফাঁকা শুনশান জনবসতিহীন দুইপাশে গাছেদের সারির গা বেয়ে সহজ সুন্দর পথ ধরে দুজনে কোন এক নাম না-জানা ভালবাসার শহরে হারিয়ে যাবে।

রঙ্গন বাইক নিয়ে পথ চলা শুরু করলো। আর পিছনে ইশিকার দুই হাত মেলে পাখির ডানার মতো নিজেকে ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে এই প্রকৃতির মুক্ত বাতাসে। তারপর খানিক বাদে রঙ্গন কে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে বলল এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হতো তুমি বলতো। রঙ্গন একটু হালকা ইয়ার্কি মেজাজে বললো ভালোই হতো যদি বাইকের তেলের দামটা তোমার বাবা দিত। ঈশিকা একটু রেগে গিয়ে বলল তোমার সবসময় ইয়ার্কি না? আর কথায় কথায় বাবাকে টেনে আন কেন বলতো! প্রেম করবে তুমি আর তেলের দাম দেবে আমার বাবা? শয়তান পাজি কোথাকার। রংগন অল্প হাসতে হাসতে হাই স্পিডে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে।

রাত্রি তখন সাড়ে নটা ঈশিকা বলে উঠলো কিগো কোথাও তো কোন ধাবা বা রেস্টুরেন্ট কিছুই দেখতে পাচ্ছি না আমার কিন্তু প্রচন্ড জোরে খিদে পেয়ে গেছে। রঙ্গন হঠাৎ কিছু একটা দেখে জোরে ব্রেক কষে বসলো। ঈশিকা একেবারেই হুমড়ি খেয়ে পড়ার উপক্রম। রঙ্গন স্পষ্ট দেখল রাস্তা দিয়ে কেউ একটা মেয়ে হেঁটে চলে গেল কিন্তু কোথায় যে মিলিয়ে গেল আর একবারও দেখতে পাওয়া গেলোনা তাকে। ওর গা টা কেমন  যেন একটা ছম ছম করে উঠলো। কিন্তু একথা ইশিকাকে কিছুতেই জানানো চলবে না ও ভয় পেয়ে যাবে। রঙ্গনের আস্তে আস্তে মনে পড়ছে এই রাস্তার কাহিনী।

বছর পাঁচেক আগে তার এই এক বন্ধু নিলয় পামেলা কে নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে পালিয়ে বিয়ে করার উদ্যোগ নিয়েছিল। সাথে ছিল রঙ্গন সহ আরও কয়েকজন বন্ধুর বাইক। কিন্তু হঠাৎ এই নিলয় কার গাড়ির ব্রেক ফেল করে জোরে গিয়ে ধাক্কা মারে একটা গাছে। সঙ্গে সঙ্গে পামেলার দেহটা ছিটকে পড়ে জঙ্গলের দিকে। তারপর সকলে পামেলা দেহটা খোঁজাখুঁজি করতে করতে দেখে নিমেষের মধ্যে কে যেন পামেলা রক্তমাখা শরীরটা টানতে টানতে জঙ্গলের ভেতর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর পামেলা ক্ষীণকণ্ঠে চিৎকার করছে নিলয়! নিলয়! বাঁচাও আমায়। নিলয় ছুটে গিয়েছিল কিন্তু নিলয়ের মাথায় কে যেন সজোরে আঘাত করে অজ্ঞান করে দিল। অবস্থা বেগতিক দেখে বন্ধুরা সকলে এমনকি রঙ্গন ভয় পেয়ে পামেলা কে বাঁচানোর পরিবর্তে পালিয়ে গিয়েছিল। তারপর পামেলা দেহটা আস্তে আস্তে জঙ্গলের মাঝে থেকে কেমন যেন একটা ফাঁদ পাতা সুড়ঙ্গের মধ্যে ঢুকে গেল। তারপর থেকেই ওর এই  অতৃপ্ত আত্মা এখানে নাকি ঘোরাঘুরি করে। লোকমুখে তাই প্রচলিত হয়ে গেছে। প্রেমিক-প্রেমিকা জুটি দেখলে ভীষণ রাগ হয়। এক্সিডেন্ট করিয়ে দেয় মাঝে মাঝে।

সব কথা মনে পড়ে রঙ্গনের সারা শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে। এমনসময় রঙ্গন আবার দেখতে পেল সেই মুখটা। এবার আর অস্পষ্ট নয় স্পষ্ট সামনে থেকে। একি! এত পামেলা। হঠাৎ পামেলার অট্টহাস্য চিৎকারে রঙ্গন এর বাইকটা থেমে গেল।  কিছুতেই আর স্টার্ট নিচ্ছে না। ঈশিকার  কিন্তু কোন ভয় হয় নি। কিগো থেমে গেলে কেন ওই দেখো দূরে মনে হচ্ছে ওখানে একটা হোটেল আছে চলো ওখানে গিয়ে উঠি। পামেলা ততক্ষণে রঙ্গনের কলার ধরে মেরে ফেলতে যাবে এমন সময় সে বলে ওঠে প্লিজ পামেলা ছেড়ে দে আমায় প্লিজ বাঁচতে দে। পামেলা জোরে জোরে হেসে বলে যাক তাহলে চিনতে পেরেছিস? খুব বাঁচতে ইচ্ছে করে না রে তোর প্রেমিকার সঙ্গে? জানিস আমার আর নিলয়ের খুব ইচ্ছে করত এক সাথে ঘর বাধার। সেদিন আমরাও বাঁচতে চেয়েছিলাম কিন্তু তোরা কেউ এগিয়ে এলিনা সাহায্য করতে। আসলে জীবন মানে অনিশ্চিত এক যাত্রা পথ । আমিও চেয়েছিলাম নিলয় কে নিয়ে জীবনের যাত্রাপথ টা এইরকম এই রাস্তাটার মতো সহজ সুন্দর আর মসৃন ভাবে কাটাব। কিন্তু তা আর হলো না তাই আমি আর কাউকে একসাথে ঘর ভাঙতে দেখতে পারি না। এমনকি তোকেউ না। পিছনে তাকিয়ে দেখ। রঙ্গন পিছন ঘুরে দেখে ঈশিকা তার বাইকে নেই।  রঙ্গন আরো ভয় পেয়ে যায়। এদিক-ওদিক পাগলের মতো ছুটতে থাকে।

 হঠাৎ একজন বয়স্ক বৃদ্ধ লোক  এগিয়ে এসে বলে এত রাত্রে এখানে এসেছ কেন?  যদিও লোকটির মুখ দেখা যায়নি। সে বলে এই রাস্তা মোটেও ভালো না।  এই 5 বছরে এই রাস্তা এক অভিশপ্ত রাস্তায় পরিণত হয়েছে। চলো আমার ওই ভগ্ন ঘরটাতে আজকের রাতটা কাটিয়ে দাও। তোমার প্রেমিকা আমায় ডাকতে পাঠালো। ওই ওখানে বসে খাওয়া দাওয়া করছে। হঠাৎ রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে চুরমার করে ভেঙে গেল। লোকটি বললো চলো তাড়াতাড়ি চলো এখান থেকে। রঙ্গন ঈশিকা কে ফোন করল।  ওর কন্ঠস্বর কেমন যেন কেঁপে কেঁপে উঠছে। রঙ্গন সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গেল সেখানে। গিয়ে দেখে ঈশিকা নিশ্চিন্ত মনে খাবার খেয়ে যাচ্ছে মোমবাতির আলোয়। হঠাৎ রঙ্গন লক্ষ্য করলো অন্ধকারে যাকে বয়স্ক বৃদ্ধ ভেবে ভুল করেছিল সে আসলে মৃত নিলয়। সে এক গ্লাস জল দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ঈশিকা কে নিয়ে প্রানপনে দৌড়ে পালালো সেখান থেকে। রঙ্গনের সারা শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে। জোরে জোরে শ্বাস বইছে। ঈশিকা বলল কি হয়েছে বলোতো তোমার?  আমায় খেতে দিচ্ছ না কেন? রঙ্গন হাঁপাতে হাঁপাতে বলল সব পরে বলব। এখন এখান থেকে তাড়াতাড়ি পালাতে হবে নইলে বিপদ।

এমন সময় পুলিশ এসে নিলয় কে ধরে ফেলেন। আর বলেন এবার তোমার খেলা বন্ধ। নিজেকে মৃত ঘোষণা করে বেশ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলে না! ওই দেখো ওখানে তাকিয়ে দেখো তোমার সাজানো পামেলা। ও ধরা পড়েছে। মানুষকে ভয় দেখিয়ে তাদেরকে বিপদে ফেলে তাদের শরীরের অঙ্গ বৃদ্ধি করার প্ল্যান এবার থেকে জেলে বসে করবে।  এমনকি আমরা কেউ জানতে পেরেছি আমি নাকি তুমি মেরে ফেলেছ।  প্লান মাফিক।  তার নামে সমস্ত টাকা-পয়সা হাসিল করার জন্য।

এবার রঙ্গন শব্দ শোনার পর ধিক্কার দিয়ে বলে ওঠে ছি নিলয়। তুই এই ধরনের মানসিকতার ছেলে?  আমি তো ভাবতেই পারছিনা। তুই এই ধরনের নোংরা কাজ করতে পারিস। তুই জানিস একজন লোক তার প্রিয়তমার মৃত্যুর শোক ভুলতে একটা আসতো পাহাড় কেটে জীবনের চলার পথকে কত সহজ ও মসৃণ করে দিয়েছিল আর তুই এই সহজ-সরল রাস্তাটা কে কাজে লাগিয়ে রোমান্টিক সুন্দর মুহূর্তের সুর করে নিয়ে এম্বুলেন্স এর আওয়াজ শুনতে মজা হয়, জীবনের একেবারে শেষ গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিয়ে তৈরি শান্তি পাস! ছি নিলয় ছি।

তারপর পুলিশ অফিসার রংগনের সাথে হ্যান্ডশেক করে বলে থ্যাঙ্ক ইউ স্যার। আপনার অনুমানের উপর বিশ্বাস আর ভরসা না করে যদি এখানে আজ না আসতাম তাহলে সত্যিই অনেক বড় ভুল হয়েছে তো স্যার। আর আপনার এমন অভিনয় না হলে বোধহয় আমরা আজও নিলয় কে ধরতে পারতাম না। ঈশিকা অবাক হয়ে নিলয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলে তবে যে তুমি বলতে তুমি একজন বেকার ছেলে! আগে বলনি তো কখনো তুমি এসব করো। রঙ্গন বলল সময় হলে ঠিক বলতাম। আর টাকাপয়সা ছাড়াও তুমি আমায় ভালবাসতে পারো কিনা সেটা একবার বাজে দেখতে হবে না  বলেই রঙ্গন হালকা হাসি দিয়ে ইশিকার  হাত ধরে বেরিয়ে আসতে আসতে বলল চলো ওইখানে   ধাবাতে বসে এক কাপ চা খাওয়া খাই। তারপর ঈশিকা ওখানে পৌঁছে দেখে ভ্যালেন্টাইন্স ডের স্পেশাল আয়োজনে সে মুগ্ধ হয়ে যায় আর রঙ্গন কে জড়িয়ে ধরে বলে তুমি এত সব করেছ অথচ আমায় কিছু জানাওনি?  রঙ্গন বলে জানো তো ঈশিকা আমাদের জীবনের পথটা ও এই রকম কত জানা অজানা রাস্তার মধ্য দিয়ে যে হাঁটতে হয় তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই।  কিন্তু জীবনের যাত্রাপথের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হয়। তবে সেদিন পামেলা কে সত্যি সত্যি বাঁচাতে পারিনি বলে আজও এক অপরাধবোধ আমায় কুরে কুরে খায়। 

*****--****

সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১

# বিষয় : কাব্যছন্দ # নাম : কাব্যময় ১#লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

বসত করি🖋
আমি বাংলার আকাশে শঙ্খ চিল। 
 উড়ি,উড়ে বেড়াই খুঁজি, খুঁজে ফিরি তাকে 
 হপ্তা শেষেও যাকে নিয়ে কাঁদি। 
 আমি বাংলার আকাশে শঙ্খ চিল। 
 ভাটিয়ালী, বাউল গান সুরের মায়ায় 
রবীন্দ্রনাথ কবি জীবনানন্দ তোমার পাশে বসি। আমি বাংলার আকাশে শঙ্খ চিল। 
 ভালোবাসি, মায়ের মুখের ভাষা লিখি, 
অনুরণিত হয়ে চিন্তাগুলো বাংলার বুকে বসত করি।। ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট

ধায় তোমা দিকে মন🖋

উদাসী মন হেঁটে চলে যায় 
দিগন্তের পথে, 
যেখানে কঁকিয়ে কাঁদে আদুর
অসুখি সুখ
তোমার পথ চেয়ে। 
উদাসী মন পথ করে নেয় 
বাঁশির কাঁদা সুরে, 
আকাশ মেশে বাঁশের ওপর
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বেলে। 
হয়ত আবার তারা খসবে আবার কোন ধুমকেতু, 
আবার হয়ত আলতা পরা 
কিশোরী নয়ত বধূ। 
আবার কখনও দোয়েলের ডাকে কাঁদবে যখন মন, 
হেসে এসে বোলবে তুমি 
হরিণ নয়ন চেয়ে.. 
ভুলে যাসনে বোন, 
ধায়, তোমার দিকে মন। 
©শর্মি

আলোর বার্তা বাহী🖋

তুমি আমার অধিষ্ঠাত্রী দেবী
আমার শিশু মনের কাব্য
ফেনিল সাগর তুমি। 
শুভ্রবসনা স্নিগ্ধ  তুমি নারী
বন্দ চোখের বন্দনা তুমি
অনন্যা সৌন্দর্য্য ময়ী।
শ্রীপঞ্চমীর পূণ্য লগ্নে
আরতি ফুলে সুবাসিত
অসীম শান্তি বাসী। 
হে মা সরস্বতী 
বাসন্তী পলাশের পথ ধরে
বিদ্যাং দেহি। 
©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট🙏


পান্তা🖋
সবুজ তোমার আঁচলখানি ভরেছে শাপলা ফুলে, 
অসীম যেন ডেকে চলে বাউলিয়া সুরে। 
কাদা মাটি মাখা ভূমি পুত্রের
বাড়ন্ত শস্যদানা। 
কাব্যের মাঝে ছবি শুধু কটা অক্ষরে সাদা কালো কলি মাখা। 
মেঠো সোঁদা গন্ধের তিব্র আবেদন মাখা, 
টেঁপির দাওয়ায় বসে নুন পান্তা খাওয়া। 
©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

একদিন ছেলেবেলা ধার দেবে🖋

আদর মেখে সেই হাত সকাল বেলায় উঠিয়ে দাও। 
আবার চলো মুখস্থ করি রবীন্দ্রনাথের সহজ পাঠ। 
কিংবা ধরো নদীর পাড়ে পা ঝুলিয়ে বসি, 
আবোল তাবোল কথার ফাঁকে 
মা গো তোমায় ভালোবাসি। 
দুষ্টুমি ভরা সেই দুপুর বেলা কোই! 
কৎবেল আমের আচার আয় চুরি খাই। 
সেই যে ছুটতে পাওয়া এক্কাদোক্কা খেলা, 
আসবি তোরা সবাই মিলে শুধু কুমির চোর ধরা। 
কত খেলার মাঝে বকুনি খাওয়ে নিজেকে দুখী ভাবা, 
সত্যি কি দুখী ছিলাম কেবল সে তো ছিল দুখী সাজা। 
ঝুড়ি ভরে মজা করবো সময় পেলে প্রেম, 
কতবার আবার ভাসবো মনে রয়ে যাবে ভালোলাগার রেশ।
কানটি ধরে মৃদুল দা তখন ঘরে তুলে দেবে, 
লিখতে বস লেখিকা তুই ভুলেই গেছিস কবে। 
😝🙈
©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট

#বিষয় : অনুগল্প # নাম : জামদার কাপ# লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

#বিষয় : অনুগল্প # নাম: জামদার কাপ☕ ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট (সংগ্ৰহ থেকে) টুকদির বিয়ের কথা হচ্ছে। ওর যে হবু বর আর দুদিন বাদে আমাদের জামাইবাবু হবে ,দেখতে এসেছে। আমরা বাচ্ছারা আনন্দে আত্মহারা। ছোটা ছুটি করেছি সকাল থেকে। দুপুরে হুটোপুটি করছি মামী ওর ছেলে আর আমায় ওপরের ঘরে টেনে নিয়ে বলল - পিকু, ভাইটুর পাশে তুইও শুয়ে নে । এখনও তোদের জামাইবাবু আসতে দেরি আছে। চায়ের সময় আসবে। তখন অন্য জামা পরিয়ে তোদের তৈরি করে দেব। - পাক্কা মামী, ডাকবে তো? ভাইটু ফুট কাটে - বিশ্বাস করিস না পিকুদা, মা ভড়কি দেয়।
- না রে বাবা, এই তিন সত্যি করছি। পিকু আমার খুব ভালো ছেলে। কত জায়গায় যায়। একটা তোমার স্টক থেকে গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও তো ভাইটুকে। ...... উৎসাহ পেয়ে ভাইটুকে নিয়ে আমি কত গল্প করছি। হঠাৎ গাড়ির আওয়াজ হল। জামাইবাবু এসে গেছে। জামাইবাবুকে আমি নাম দিয়েছি জামদা।আমরা দুজনে পা টিপে নীচে নেমে এলাম। তারপর কত খাবার সাজানো আছে জামাইবাবুর সামনে।  হাত দেওয়া চলবে না, মা এক সপ্তাহ ধরে বারন করেছে।অগত্যা বসে বসে সব কিছু দেখছি। টুকদিকে আর জামদা দু কাপ চা নিয়ে বসেছে বারান্দায়। আমাদের দিকে কারও নজর নেই। দুজন গিয়ে বারান্দার টেবিলে বসেছি। শুনছি ওরা কি বলছে। টুকদিকে কি সুন্দর লাগছে। আমার সাথে এমন চেঁচিয়ে ঝগড়া করে  আর এখন কত মিষ্টি করে বলছে - আমার ভাই পিকু একটু নটি। তবে ও অনেক জায়গায় ঘুরতে যায় আমায় না নিয়ে। আপনি আমায় খুব সুন্দর একটা জায়গায় নিয়ে যাবেন? জামদা বলল - তুমি একা কেন? আমি পিকুকেও নিয়ে যাব । সেই শুনে যেই একটু উত্তেজিত হয়ে... হু র রে বলেছি। পড়লাম জামদার চায়ের কাপে, সাথে ভাইটু । ও মা একি কান্ড আমি কেবল ছোট হয়েই যাই। এতো হাল্কা গরম সমুদ্র লাগছে। ভাইটু খুব ছোট, ওকে নিয়েই হল আমার সমস্যা। কাপ থেকে বের হতে সুইমিং জানতে হয়। আমি তো রোজ সুইমিং ক্লাসে যাই। তাই পারি। কিন্তু বেচারা ভাইটু। ডুবছে আর আমায় জড়িয়ে ধরছে। এদিকে জামদা চা খেতে খেতে কথা বলছে। আমরা যখন পড়ে ছিলাম তখন কাপ টেবিলে ছিল। এখন জামদা কাপ তুলে নিয়ে চুমুক দিতে যাচ্ছে। মানে আমরা জামদার পেটে যেতে পারি....... ভাইটুকে চেপে ধরে যেদিকে চা নীচু হয়েছে এগিয়ে গিয়ে কাপের কর্নার চেপে ধরলাম। ভাইটুকেও চেপে থাকতে বললাম। সহজ কাজ নয়, সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো আমাদের ঝাঁকিয়ে ফেলে দেবে ভাবছি। কাপ সোজা হল। আমরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। আবার..... এমন করে আরও দু তিনবার হবার পর জামদা চলে গেল। আরে একে আসছে..... কাজের মাসি কাজগুলো তুলে নিয়ে এমন যায়গায় ট্যারা করে রাখল, আমরা পাথরে পা দিয়ে লোকে যেমন নদী পেরে হয়, ঠিক অমনি করে কাপ ☕ডিসের ভেতর দিয়ে পা দিয়ে দিয়ে একে বারে সিঙ্কের বাইরে এসে গেলাম। আনন্দে দুজন দুজনকে ধরে নাচছি..... ভিজে কাপড়ে তাল সামলাতে পারলাম পড়লাম কেকের ওপর। দুজনে বেশ কিছুটা খেলাম। তারপর কে যেন আমাদের পিঁপড়ে ভেবে তুলে দিল টেবিলের পাশে। গিয়ে পড়লাম ঘরের কর্নারে রাখা ছোট ফাউন্টেনে। স্নান করলাম দুজনেই। ঠিক সেই সময় দেখলাম ফাউন্টেনের পাশে দুজন। ওমা... এতো জামদা আর তানিদিদি। টুকদির বোন। তারমানে টুকদি নেই। আমাদের দেখে ওরাও খুশি। কিন্তু কি করে যে আবার ঠিক সাইজে আসব , আমাদের মতো ওরাও জানে না। ওখান থেকে উঠে কাকুমনির এমেচার গার্ডেনে গিয়ে হাজির হলাম। ঠিক ছিলাম। ছোট ঘরে বসে আরামে গল্প করছি। একটা মাকড়সা ভাইটুকে তাড়া না করলে...... ভাইটু ছুটছে সাথে আমরা। গিয়ে পড়লাম পাপোশে । সবার বড়ো বড়ো পা পড়ছে আমাদের চারি দিকে। দে দৌড় দে দৌড় করে আবার এ্যামেচার গার্ডেনে ঢুকলাম। এবার জামদা ভাইটুকে কোলে তুলে নিয়েছে। আমি আগে আগে চলেছি। তানিদিদি মিষ্টি মেয়ে, আমার হাত ধরল। আমি এখন চাই তানিদিদি আর জামদা এক সাথেই থাকুক।  ঠিক সেই সময় গার্ডেনে জল দিচ্ছে কাকুমনি। থামো থামো..... চেঁচামেচি করছি শুনছে না। ভেসে জোরে নীচে পড়তাম জামদা ধরে তুলে নিল। আমরা আবার চায়ের কাপের দিকে গেলাম যদি ঠিক হয়ে যাই। কাপের একটুখানি চা আছে। চারজনে লাফ দিলাম। যথারীতি আমি খাটের নীচে। তানিদিদি তুলতে এসেছিল। বলল - এবার কোথায়? - জামদা এসে গেছে? - কখন। এসে তো চলে গেল। ডেকে ডেকে তোরা তো উঠলি না। ..... তানিদিদির দিকে তাকিয়ে হাসি দিলাম। - এবারও কি টুকদি না বলেছে? - তুই কি করে জানলি? হেসে হেসে চলে গেলাম। আমি যে আরও অনেক কিছু জানি বললাম না।  দুই কাপ বারান্দার টেবিলে পড়ে আছে । আর কিছু কথা যা কেবল আমি জানি। ...... ☕🍵

# বিষয় :আলোচনা(ঐতিহাসিক উপাদানের প্রয়োজনীয়তা #নাম : বন্দী নবাব নন্দিনী।লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট। )

বন্দী নবাব নন্দিনী জিঞ্জিরা* প্রাসাদে এনে তোলা হল হতভাগ্য সিরাজদ্দৌলার পরিবারের নারীদের। বুড়ি গঙ্গায় তখন ভরা কোটালে বান ডেকেছে। বিশাল ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে পিছনের হিসেব করে যাচ্ছে ঘসেটি বেগম। দূরে নদী বুকে বানিজ্য নাওগুলোর আনাগোনা উদাস চোখে দেখে ঘসেটি, বন্দিনী ঘসেটি। মুর্শিদাবাদের বাঘিনী আলিবর্দি খাঁর বড়ো মেয়ে, এক সময় বাংলার রাজনৈতিক মহলের উজ্জ্বল  মনি। ইংরেজদের সাথে নিত্য ওঠাবসা, জগৎশেঠ নন্দকুমার দের সাথে জোট বেঁধে সিরাজকে মুছে ফেলে দেবার ঘৃন্য 'সাজিস রচনেবলী ' মাসি ঘসেটি। এখনও ভাবে একটা সুযোগ আর মুক্তি। তারপর ইংরেজ আর মিরজাফরকে বুঝিয়ে দেব মূর্শিদকুলির অনন্তপুরে হাত দেবার ফল। মোগল সুবেদারের সময় তৈরি জঞ্জিরা প্রাসাদ। এক বিশাল হাম হাম সমেত বিশাল প্রাসাদে অভাব তো কিছুই নেই শুধু স্বাধীনতা নেই। বাগ বাগিচা ঘেরা প্রাসাদে সুখ নেই, যুদ্ধ শেষের হতাশা গিলে খাচ্ছে তাকে। ঘসেটি বেগম একবার মূর্শিদকুলির সাধের মুর্শিদাবাদ ফিরতে চায়। আমিনা বেগম, সদ্য সন্তান হারা মা নামাজ পড়তে ছাদে এসে উদাস ঘসেটিকে দেখে ইতস্তত করে ফিরে যেতে থাকে। তখন পেছন থেকে ডাক দেয় ঘসেটি। অনেক দিন পর চেনা সেই আওয়াজ যাই যাই করেও যেতে পারল না আমিনা বেগম। - ক্ষমা করতে পারো আমিনা? চোখ না তুলে উত্তর দেয় সিরাজের মা - তুমি নিজে কি নিজেকে কখনও ক্ষমা করতে পারবে দিদি। - পারবো, যদি আবার মুর্শিদাবাদ ফিরতে পারি। - আবার ঘৃন্য রাজনীতি তে? আবার চক্রান্ত। আবার মায়ের বুক ফাঁকা করে কোন সন্তান বোলী! - এমন করে বলিস না আমিনা, বিশ্বাস কর  আমি তোর সিরাজের মৃত্যু চাইনি। শুধু ওকে দাবড়াতে চেয়ে ছিলাম। আমার প্রতি ওর ব্যবহার কেমন ছিল তুই তো জানিস। - তুমি নিজেকে নষ্ট করে ফেলেছিলে দিদি। বাবাই সিরাজকে তোমায় সামলাতে বলেছিলেন। নামাজের চাদর পেতে ফেলেছে আমিনা, অস্তমিত সূর্যের আলোয় বড়ো গরবিনী লাগছে ছোট বোনটাকে। ব্যাকুল ভাবে ঘসেটি বলে - বিশ্বাস কর । একবার সুযোগ পেলে সিরাজের মৃত্যুর বদলা নেব। আমিনা নীরবে নামাজ আদা করে। কে জানে হয়ত এ তার শেষ নামাজ। মিরনের চোখে কুটিল আগ্রাশন সে দেখেছে। সিরাজের বৌ আর মেয়ের জন্য যা মনটা শিউরে ওঠে। *অধুনা বাংলাদেশের মরা বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইমারত। এখন দখলদারদের দখলে আবর্জনা পূর্ন ধংসাবশেষ। ইতিহাস ঠিক রেখে কথপকথনে সাহিত্য আনার চেষ্টা করেছি। ওই বুড়িগঙ্গা তে মিরনের আদেশে দুই বোন কে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।। ইতিহাস কথা বলে পুরাতন ইমারত প্রাসাদ পান্ডুলিপি গুহা চিত্র লেখন ইত্যাদি ইতিহাসের উপাদান। একটা পুরাতন গল্প বা তথ্য জানতে পুরাতন বস্তু একান্ত দরকারী। এতেই লেখা থাকে সমাজ ও সংস্কৃতির অসংখ্য কাহিনী।।

#বিষয় : অনুগল্প #লেখা: গুড মর্নিং লেখনী: শর্মিষ্ঠা ভট্ট

বিষয় : অনুগল্প নাম: গুড মর্নিং
এই সময় যে বন্ধুত্ব এত জোরালো হবে ও নিজেই জানতো না। আজ ম্যাসেজের পর বড়ো আনমনা হয়ে গেছে, এমন ভাবে ছায়ার মতো নীরবে সরে যাবে বোঝা যায়নি আগে। আবার সকালে উঠেই ম্যাসেজ করল " রেসপন্স করছে? " উত্তরের আশায় বুকটা নড়ছে অল্প হাওয়ায় নারকেলের পাতার মতো। উত্তর এল অনেক পরে " এক ই রকম। " কেন দুচোখ জ্বলছে। কি বা সম্পর্ক! তবু এই কয় মাসে জড়িয়ে গেছে ভার্চুয়াল বন্ধুর সাথে। জানতো পঙ্গু মেয়েটা চেষ্টা করে রোজগার করে পরিবারের জন্য। একটু বেশি স্বচ্ছলতার আশায়। অসুখ তার ছেলেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। কারও কাছে মানুষ হচ্ছে সে। দাম্পত্য জীবনের সহজ গতি হারিয়ে গিয়ে ছিল মেয়েটার। গায়ে অপরিস্কার গন্ধ। চেষ্টা করেও সব সময় পরিস্কার থাকতে পারতো না। নিজেকে হয়ত আবর্জনা ভাবতো। না কুহুকে কখনও বলেনি মেয়েটা। সাহিত্যের গল্প গান কবিতা ছাড়া দুজনের সর্ত ছিল ব্যক্তিগত আলোচনা নয়। কুহু নিজের গল্প বলতে পছন্দ করে না, হয়ত তাই অন্যেরটা জানার ইচ্ছা দেখায় না। হয়ত শুনলে ভালো করত। নিজেকে ঘুমের কোলে শুয়ে দেবার আগে কুহুর সাথে শেষ কথা বলে.. " এই মন্দায় অন লাইন চাকরিটা গেল । আবার বোঝা হয়ে গেলাম। " কুহু বলেছিল কেবল " আবার সব ঠিক হবে। " আজ তিন দিন মেয়েটা হসপিটালে চোখ খোলেনি। ওর বর এই মাত্র ম্যাসেজ করল কিছু রেসপন্স নেই। ভিক্ষার ঝুলি এগিয়ে দিয়ে নিঃশব্দে অন্ধকারে কুহু নিয়তির উত্তরের অপেক্ষায়। একবার মেয়েটা যদি ফিরে আসে। আবার ফোনে রঙিন ছবিতে বলে - গুড মর্নিং। ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।

#বিষয় : অনুগল্প # নাম : ছায়া # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

#বিষয় : অনুগল্প (গাঁয়ের বধূ) #নাম: ছায়া
রেবতীকে রজত তেমন মেনে নিতে পারেনি কোন দিন। যদিও গ্রাম থেকে জীবনের শুরু জন্ম ও লেখাপড়া তবু গেঁয়ো সে কখনও নয়। বরং আই আই টি পাশ করা রজত প্রথম থেকেই ধোপদুরস্ত শহুরে। বাবা মার দেখা এই কাপড়ে মোড়া পুতুল, গাঁয়ের বধূ তার পছন্দ নয়। তাই রেবতী বৌভাতের পরের দিন দ্বিরাগমন করে আসার পর থেকে গ্রামের বাড়ীতে থেকে গেল। রজতের লেখা মাঝে মাঝে রবিবাসরীয়তে বের হয়। রেবতী আগ্ৰহ নিয়ে পড়ে। গল্পের নায়ক মেরে ফেলল তার বৌকে স্লো পয়জন দিয়ে দিয়ে । পছন্দ হয়নি তাকে তাই। শিউরে ওঠে। অদ্ভুত লাগে, গাঁয়ের মেয়ে হলেও স্বাভাবিক বুদ্ধি তার আছে। রজতের সামনে একবার দাঁড়াতে চায় মনস্থির করেছে। বেরিয়ে পড়ল এবং নিজেকে হারিয়ে দিল জন সমুদ্রে। রজত জুনিয়র অফিস স্টাফের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। রুবি, ভীষণ চঞ্চল মেয়েটা। কিন্তু রজত যা চায় তার জন্য এক মাত্র পথ বিয়ে । রুবিকে গত পরশু সেই প্রস্তাব দিয়েছে। রুবি বলল বাবামার সাথে একবার ফরমালি , চলেছে দুজন। ড্রাইভ করছে রুবি। ব্লু জিনস আর হোআইট টপে অসাধারণ সে। রজত চোখ ফেরাতে পারে না। শুধু মনে একটা কাঁটা গাঁয়ের বধূ!! একটু অন্যমনস্ক সে। কত পথ পেরিয়ে যখন নিজের বাড়ীর সামনে এলো তখন সম্মিত ফিরে পেল। রুবিকে বলল রজত "এখানে? ", রুবি বলল " ভাবলাম এই পথে যখন তোমার বাড়ীতে দেখা করে যাই, ভালো করিনি? একটু নেমে এগিয়ে যাও ,আমি একটু মিষ্টি দোকান থেকে আসছি। " বড়ো রাস্তায় উঠে একটু গেলেই বাজার। রুবি আসছে না সাথে, রজত ভাবলো ভালো হল পিছু টান ছিন্ন করা যাক। ঘরে ঢুকতে না ঢুকতে প্রচন্ড শব্দ।এ্যাক্শিডেন!! কাজের লোক দৌড়ে এসে বলল এখুনি বাড়ীর সামনে আসা গাড়ী উড়ে গেছে। উতলা মন আছাড় পাছাড় খেয়ে উঠল। সারাদিন পুলিশ নানা জায়গায় ছুটে ক্লান্ত রজত শোবার ঘরে আসতে, অল্প আলোয় ঘোমটা দেওয়া বৌ দুধের গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলল " কে ছিল ভেতরে"। রজত গম্ভীর হয়ে বলল " ড্রাইভার "..... ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট। দীর্ঘ তিন বছর পর রাত্রিযাপন, অনেকটা প্রকৃতির প্রয়োজনে, সকাল সকাল উঠে ফিরে যেতে চায় রজত। জামাকাপড় পরতে পরতে নজর পড়লো, বৌয়ের চাদর থেকে বেরিয়ে থাকা দুটো আঙুল। রুবি এই নেলপলিস পরেছিল না! কি রজত ভুল দেখছে। রেবতী তো নিতান্তই গ্রামের বধূ। পাটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেছে। হেলতে পারছে না রজত। রজত কি স্বপ্ন দেখছে? পুরোটাই কি তার মনের ভুল!!

মধুমিতা(অণুগল্প) ✍️নন্দিনী তিথি


রমেশ সাহার একমাত্র মেয়ে BUP তে BBA পড়ছে এই তিন বছর হলো।সামনেই ফাইনাল তাই পড়াশুনার খুব চাপ।প্রতিদিন ভোর হতেই ভার্সিটিতে যাওয়া, জার্নি করে বাসায় ফিরে কোনমতে কিছু খেয়ে সাত মিনিট  রেস্ট নিয়েই আবার পড়তে বসে যায় মেয়েটা। ও খুব মেধাবী। কিন্তু 

 ক্লাসে যে ওর থেকেও একজন ভয়ংকর মেধাবী আছে। 

যে কিনা হলো অত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের একটা ছেলে রূপক।ক্লাসের টপার এবং সকলের অধিনায়ক। মধুমিতা কখনও ক্লাসে বেস্ট হতে পারেনি। এই বলে, 

রূপকের উপর কোনো রাগ ছিল না।ভার্সিটির সেই প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত রূপক শুধু তিনটে জামা পড়েই আসছে।আর হাতে করে একটা বাটন ফোন।অবশ্য এ বছরে ওর হাতে একটা স্মার্ট ফোন দেখেলো মধুমিতা।তিন বছরে রূপকের সাথে মধুমিতার তেমন কোনো কথা হয়নি।বড়জোর কোনো সমস্যা নিয়েই কথা হতো মাঝেমাঝে।

আজ ভার্সিটি থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়েই বিছানায় মাথা দিল।কিছুক্ষণ পরে পাশের রুম থেকে -

এই মিতা খেয়েছিস? আমি তোর জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।আর তুইও এসে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লি মা!!

সরি, বাবা!আমার আজ কেন জানি খিদে নেই।আর হ্যাঁ তুমি আমার জন্য আর বসে থাকবে না। এমনিতেই অসুস্থ। কতদিন বলেছি বাবা তুমি ঠিক সময়ে খেয়ে নিবে।না খেয়ে আমার জন্য বসে থাকো এরপর আরোও অসুস্থ হয়ে পড়ো আমার ভার্সিটি যাওয়া বন্ধ হোক তারপর! একটু রাগী সুরে বললো।

-মিতা রাগ করিস না মা দেখ।

উঠে বাবাকে জড়িয়ে ধরে-

বাবা আমরা ব্রেকফাস্ট, রাতের ডিনার তো একসাথেই খাই বলো।

প্লিজ বাবা তুমি দুপুরের খাবারটা ঠিক সময় করে খেয়ে নিবে আমায় কথা দাও।

কিন্তু!

না,কোনো কিন্তু নয় বাবা তুমি ঠিক সময় করে খাবে এটাই আমার শেষ কথা।

আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে কথা দিলাম ঠিক সময়ে খাবো।

হুম,এইতো আবার ভালো বাবা।চলো এখন খেতে।

খেয়ে উঠে পাঁচ মিনিট আড্ডা  বাবার সাথে। এরপর পড়ার রুমে গেল।কিন্তু পড়তে বসে আজ আর পড়া হলো না।ক্লাসের সবার কথা মনে করতে করতে হঠাৎ রূপকের কথা মনে পড়লো। ওর পড়াশুনার খরচ চালাতে ওর মা বাবার অনেক কষ্ট হয়।কোনোভাবে কি আমি ওর উপকারে আসতে পারিনা!এইসব ভাবতে ভাবতে আর মধুমিতার পড়া হলো না।বই বন্ধ করে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো।কেন আমার এসব কথা আগে মাথায় আসলো না।তিন বছর পরে কেন মনে পড়লো ওর উপকারে আসার কথা এসব বিড়বিড় করে বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়লো।ভোরে উঠলো, ফ্রেশ হয়ে বাবার কাছে গেল দু-কাপ কফি বানিয়ে।দেখলো বাবা খবরের কাগজ পড়ছে।

-নেও, কফি টা খেয়ে নাও।

কফি খেতে খেতে - বাবা একটা কথা বলবো তোমায়।

-হ্যাঁ,বল মা।

বাবা আমি কারো উপকারে আসতে চাই,পাশে দাঁড়াতে চাই।

-কাদের মিতা?

-বাবা কাদের নয়। একটা ছেলের উপকারে আসতে চাই।রূপক, আামাদের ক্লাসের বেস্ট স্টুডেন্ট। ও অত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল থেকে এসেছে শহরে।আর্থিক দিক থেকে ওরা অনেক পিছিয়ে।ওর বাবার সামান্য ইনকামে ওদের সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়।ভার্সিটি থেকে সাহায্য পেলেও ওর উপকারে আসাটা আমার খুব জরুরি মনে হচ্ছে বাবা।

আচ্ছা, তুই আজ ভার্সিটিতে যা গিয়ে ওর নম্বর,আর ওর বাড়ির ঠিকানা নিয়ে আয়।

মধুমিতা আনন্দের টলমল চোখে বললো বাবা!!

Copyright ©All Rights Reserved Nandini tithi.

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...