সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১

#বিষয় : অনুগল্প # নাম : জামদার কাপ# লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

#বিষয় : অনুগল্প # নাম: জামদার কাপ☕ ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট (সংগ্ৰহ থেকে) টুকদির বিয়ের কথা হচ্ছে। ওর যে হবু বর আর দুদিন বাদে আমাদের জামাইবাবু হবে ,দেখতে এসেছে। আমরা বাচ্ছারা আনন্দে আত্মহারা। ছোটা ছুটি করেছি সকাল থেকে। দুপুরে হুটোপুটি করছি মামী ওর ছেলে আর আমায় ওপরের ঘরে টেনে নিয়ে বলল - পিকু, ভাইটুর পাশে তুইও শুয়ে নে । এখনও তোদের জামাইবাবু আসতে দেরি আছে। চায়ের সময় আসবে। তখন অন্য জামা পরিয়ে তোদের তৈরি করে দেব। - পাক্কা মামী, ডাকবে তো? ভাইটু ফুট কাটে - বিশ্বাস করিস না পিকুদা, মা ভড়কি দেয়।
- না রে বাবা, এই তিন সত্যি করছি। পিকু আমার খুব ভালো ছেলে। কত জায়গায় যায়। একটা তোমার স্টক থেকে গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও তো ভাইটুকে। ...... উৎসাহ পেয়ে ভাইটুকে নিয়ে আমি কত গল্প করছি। হঠাৎ গাড়ির আওয়াজ হল। জামাইবাবু এসে গেছে। জামাইবাবুকে আমি নাম দিয়েছি জামদা।আমরা দুজনে পা টিপে নীচে নেমে এলাম। তারপর কত খাবার সাজানো আছে জামাইবাবুর সামনে।  হাত দেওয়া চলবে না, মা এক সপ্তাহ ধরে বারন করেছে।অগত্যা বসে বসে সব কিছু দেখছি। টুকদিকে আর জামদা দু কাপ চা নিয়ে বসেছে বারান্দায়। আমাদের দিকে কারও নজর নেই। দুজন গিয়ে বারান্দার টেবিলে বসেছি। শুনছি ওরা কি বলছে। টুকদিকে কি সুন্দর লাগছে। আমার সাথে এমন চেঁচিয়ে ঝগড়া করে  আর এখন কত মিষ্টি করে বলছে - আমার ভাই পিকু একটু নটি। তবে ও অনেক জায়গায় ঘুরতে যায় আমায় না নিয়ে। আপনি আমায় খুব সুন্দর একটা জায়গায় নিয়ে যাবেন? জামদা বলল - তুমি একা কেন? আমি পিকুকেও নিয়ে যাব । সেই শুনে যেই একটু উত্তেজিত হয়ে... হু র রে বলেছি। পড়লাম জামদার চায়ের কাপে, সাথে ভাইটু । ও মা একি কান্ড আমি কেবল ছোট হয়েই যাই। এতো হাল্কা গরম সমুদ্র লাগছে। ভাইটু খুব ছোট, ওকে নিয়েই হল আমার সমস্যা। কাপ থেকে বের হতে সুইমিং জানতে হয়। আমি তো রোজ সুইমিং ক্লাসে যাই। তাই পারি। কিন্তু বেচারা ভাইটু। ডুবছে আর আমায় জড়িয়ে ধরছে। এদিকে জামদা চা খেতে খেতে কথা বলছে। আমরা যখন পড়ে ছিলাম তখন কাপ টেবিলে ছিল। এখন জামদা কাপ তুলে নিয়ে চুমুক দিতে যাচ্ছে। মানে আমরা জামদার পেটে যেতে পারি....... ভাইটুকে চেপে ধরে যেদিকে চা নীচু হয়েছে এগিয়ে গিয়ে কাপের কর্নার চেপে ধরলাম। ভাইটুকেও চেপে থাকতে বললাম। সহজ কাজ নয়, সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো আমাদের ঝাঁকিয়ে ফেলে দেবে ভাবছি। কাপ সোজা হল। আমরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। আবার..... এমন করে আরও দু তিনবার হবার পর জামদা চলে গেল। আরে একে আসছে..... কাজের মাসি কাজগুলো তুলে নিয়ে এমন যায়গায় ট্যারা করে রাখল, আমরা পাথরে পা দিয়ে লোকে যেমন নদী পেরে হয়, ঠিক অমনি করে কাপ ☕ডিসের ভেতর দিয়ে পা দিয়ে দিয়ে একে বারে সিঙ্কের বাইরে এসে গেলাম। আনন্দে দুজন দুজনকে ধরে নাচছি..... ভিজে কাপড়ে তাল সামলাতে পারলাম পড়লাম কেকের ওপর। দুজনে বেশ কিছুটা খেলাম। তারপর কে যেন আমাদের পিঁপড়ে ভেবে তুলে দিল টেবিলের পাশে। গিয়ে পড়লাম ঘরের কর্নারে রাখা ছোট ফাউন্টেনে। স্নান করলাম দুজনেই। ঠিক সেই সময় দেখলাম ফাউন্টেনের পাশে দুজন। ওমা... এতো জামদা আর তানিদিদি। টুকদির বোন। তারমানে টুকদি নেই। আমাদের দেখে ওরাও খুশি। কিন্তু কি করে যে আবার ঠিক সাইজে আসব , আমাদের মতো ওরাও জানে না। ওখান থেকে উঠে কাকুমনির এমেচার গার্ডেনে গিয়ে হাজির হলাম। ঠিক ছিলাম। ছোট ঘরে বসে আরামে গল্প করছি। একটা মাকড়সা ভাইটুকে তাড়া না করলে...... ভাইটু ছুটছে সাথে আমরা। গিয়ে পড়লাম পাপোশে । সবার বড়ো বড়ো পা পড়ছে আমাদের চারি দিকে। দে দৌড় দে দৌড় করে আবার এ্যামেচার গার্ডেনে ঢুকলাম। এবার জামদা ভাইটুকে কোলে তুলে নিয়েছে। আমি আগে আগে চলেছি। তানিদিদি মিষ্টি মেয়ে, আমার হাত ধরল। আমি এখন চাই তানিদিদি আর জামদা এক সাথেই থাকুক।  ঠিক সেই সময় গার্ডেনে জল দিচ্ছে কাকুমনি। থামো থামো..... চেঁচামেচি করছি শুনছে না। ভেসে জোরে নীচে পড়তাম জামদা ধরে তুলে নিল। আমরা আবার চায়ের কাপের দিকে গেলাম যদি ঠিক হয়ে যাই। কাপের একটুখানি চা আছে। চারজনে লাফ দিলাম। যথারীতি আমি খাটের নীচে। তানিদিদি তুলতে এসেছিল। বলল - এবার কোথায়? - জামদা এসে গেছে? - কখন। এসে তো চলে গেল। ডেকে ডেকে তোরা তো উঠলি না। ..... তানিদিদির দিকে তাকিয়ে হাসি দিলাম। - এবারও কি টুকদি না বলেছে? - তুই কি করে জানলি? হেসে হেসে চলে গেলাম। আমি যে আরও অনেক কিছু জানি বললাম না।  দুই কাপ বারান্দার টেবিলে পড়ে আছে । আর কিছু কথা যা কেবল আমি জানি। ...... ☕🍵

1 টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...