বইটির নামের প্রতি এক অমোঘ আকর্ষণের দরুণ কিনেই ফেলি বইটি। প্রচ্ছদের উপর জ্বলজ্বল করতে থাকা নামটি পাঠকের শুধু দৃষ্টি নয়, মস্তিষ্কে যেন সাময়িক আলোড়ন তোলে,“কি এর মানে! কি আছে এ দু মলাটের ভিতরের পাতা জুড়ে?”ষষ্ঠ মিথ্রিডেটিস ছিলেন প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্য পন্তুস এর রাজা। তার বাবার মৃত্যু হয়েছিল বিষ প্রয়োগে। মা কে বিষদায়িণী হিসেবে সন্দেহে, আত্মরক্ষার এক অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করলেন রাজা মিথ্রিডেটিস। শরীরে গড়ে তুললেন এক অদ্ভুত প্রতিরোধ শক্তি। তিনি নিজেই সহনীয় মাত্রায় (লেস দ্যান লিথাল ডোজ) অল্প অল্প করে বিষ নিতে শুরু করলেন।ফল স্বরূপ শরীরে তৈরি হল বিষ প্রতিরোধী ইমিউন সিস্টেম।ফলে তিনি হয়ে গেলেন পয়জন রেসিস্ট্যান্ট। সাধারণ বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হওয়া সম্ভব নয়। মিথ্রিডেটিস এর নাম অনুসারে এ পদ্ধতির নাম মিথ্রিডেটিজম।
গল্পের ব্যবচ্ছেদ:
"মিথ্রিডেটিস" শব্দটির অর্থ হলো *পয়জন প্রুফ* ।করণ ডিস্যুজা,কলকাতার একজন নামকরা গ্যাংস্টার,যাকে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে। সেই করণ ছোটবেলা থেকে নিজের অজান্তেই তার বাবা উইলিয়াম ডিস্যুজার দেওয়া বিষের মিশ্রণ খেতে খেতে হয়ে উঠেছিল মিথ্রিডেটিস। অর্থাৎ সাধারণ কোনো বিষ শরীরে ঢুকলেও কোনো ক্ষতি তার হবে না।অপরদিকে স্টারলাইন নামক কলকাতার এক বিখ্যাত নার্সিংহোমে লোকচক্ষুর আড়ালে হয়ে চলেছে "ইললিগাল মেডিক্যাল ট্রায়াল"। ফুটপাথবাসী বুভুক্ষু মানুষদের খাবারের লোভ দেখিয়ে তাদের সামান্য কিছু রোগ নিরাময়ের জন্য তুলে নিয়ে যাচ্ছে সেই নার্সিংহোমে কিছু তথাকথিত এজেন্টরা। যে মানুষগুলোর কাছে দু বেলা দু মুঠো খেতে পাওয়াই অনেক বড় ব্যাপার। তারপর টিবি, লেপ্রোসি,এইচ আই ভি নামক ভয়ঙ্কর রোগের স্টেইন তাদের শরীরে প্রবেশ করিয়ে দেখা হচ্ছে সেই ড্রাগ রোগকে নিরাময় করতে পারে কিনা। কিন্তু ফল হচ্ছে হিতে বিপরীত,অধিকাংশ মানুষ সেই ড্রাগের প্রভাব নিতে না পেরে মারা যাচ্ছে কিংবা শরীরে দেখা দিচ্ছে সেপটিসেমিয়া... ভয়ঙ্কর ঘা তে ভরে যাচ্ছে সারা শরীর।নিরুপায় ডাক্তার, সিস্টাররা কেউই ড্রাগের ডোজ কমাতে পারছেন না কারণ অথরিটির আদেশ। এর মাধ্যমে লেখিকা তুলে ধরেছেন এক নৃশংসতা,ইললিগাল মেডিক্যাল ট্রায়াল যা এক অনেক বড় ক্রাইম।এই সময়ই নার্সিংহোমে নিয়ে আসা হয় মিথ্রিডেটিস করণ কে। যার উপর দেওয়া হয় সেই ড্রাগের ডোজ এবং ফলস্বরূপ দেখা যায় সে অবিচল। বিষাক্ত ড্রাগের কোনো প্রভাবই তার উপর পড়ে না। এখানেই করণ খুঁজে পায় সিস্টার ডরোথিকে, যার সঙ্গে গড়ে ওঠে তার সুমধুর প্রেমের সম্পর্ক।শেষপর্যন্ত কেন্দ্রীয় চরিত্র করণ পারে এই নৃশংসতা বন্ধ করতে এবং সমস্ত রোগীরাই ফিরে আসে মৃত্যু মুখ থেকে। সর্বোপরি করণ-ডরোথি র সম্পর্কও পূর্ণতা পায়। "মিথ্রিডেটিস"মেডিক্যাল সায়েন্সের বিভিন্ন খটমট নামসহ সব ঘটনার বর্ণনা লেখিকা এক অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন এই বইতে।
মেডিক্যাল থ্রিলারের ওপর লেখা এই বইটি আমার প্রিয় বইগুলির মধ্যে অন্যতম একটি বই।
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
সুন্দর বইয়ের আলোচনা, ভালো লাগলো।👌👌
উত্তরমুছুনসুন্দর বিবরণ।চোখের সামনে ভেসে উঠছিল ঘটনাক্রম।
উত্তরমুছুনবেশ লাগল। অজানা বিষয়। বেশ সমৃদ্ধ হলাম। 👍🏼👍🏼❤️❤️🌻🌻🌲🌲
উত্তরমুছুন