বৃহস্পতিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

প্রিয় গ্রন্থ

গ্রন্থালোচনা
✍️ডা: অরুণিমা দাস

গ্রন্থের নাম - শিখণ্ডী
লেখিকার নাম - দেবারতি মুখোপাধ্যায়

সদ্য সদ্য পড়ে শেষ করেছি *শিখণ্ডী* নামক উপন্যাস টি। বেশ ভালো লেগেছে। বইটি কিনেছিলাম, কারণ নামটি বেশ আকৃষ্ট করেছিল মনকে। আরও একটি কারণ ছিল অবশ্য,পুরাণের গল্পের প্রতি একটা টান।কিন্তু বইটি পড়ে বুঝতে পারলাম শুধু পুরাণ নয়,বইটি প্রতিহিংসা, কামনা,সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সমাজ এবং সবশেষে থ্রিলার এর ওপর নির্ভর করে রচিত হয়েছে।

সারাংশ : মহাভারতের অনেক চরিত্রের কথা আমরা জানি, কিন্তু কিছু কিছু এমন চরিত্রও ছিল যাদের ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়নি কোনোদিনই। সেরকম একটি উপেক্ষিত চরিত্র ছিল শিখণ্ডী, যে আজও মানুষের মনে কিছুটা হলেও দাগ কাটে ভীষ্মহন্তা বলে। আর এই উপন্যাসে সেই শিখণ্ডী র চরিত্র কে ফুটিয়ে তুলতে মিতু নামক একজনকে আনা হলো, যে কিনা শিখণ্ডী র মত ক্লীব বা আজকের সমাজের চোখে বৃহন্নলা। মিতু ছোটবেলায় একটি আশ্রমে থেকে মানুষ হচ্ছিলো, বড়ো হবার সাথে সাথে বাহ্যিকতায় ওর মধ্যে পুরুষালী গুণাবলী দেখা গেলেও অন্তঃস্থলে নারীর বৈশিষ্ট বিরাজমান ছিল। আশ্রমের অনেকেই ওর সাথে অভব্য আচরণ করেছিল কিন্তু তাও মিতু হেরে যায়নি জীবন যুদ্ধে। অনেক লাঞ্ছনা, গঞ্জনা সহ্য করে নার্সিং ট্রেনিং নেওয়ায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিল। শহরে যখন একটি মেসে এসে থাকতে শুরু করেছিল মিতু, পাশে পেয়েছিল সাহানার মতো এক বন্ধুকে যে সবসময় মিতুর ছায়া সঙ্গী হয়ে থাকতো। এই বন্ধুত্বের জন্যই শেষ পর্যন্ত মিতু ধরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল আশ্রমের খারাপ লোক গুলো কে। 
একটা সাবলীল ভাষায় দুই সময়ের সমান্তরাল ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে উপন্যাসের শেষে রয়েছে একটি দারুন সামাজিক বার্তা যা পাঠক মনকে নাড়া দিয়ে যায়। সমাজের সব চেয়ে উপেক্ষিত শ্রেণীকে নিয়ে যে এত ভালো কিছু লেখা যায়, তার জন্য লেখিকা কে কুর্নিশ জানাই। 
সাধারণ মানুষ মহাভারতে পঞ্চপাণ্ডব আর দৌপ্রদীকে যে চোখে দেখে এসেছে সেই দৃষ্টি পুরোদস্তুর ঘুরিয়ে দিয়ে অন্য একটি দিক আবিষ্কার করতে সাহায্য করবে এই যুগের পাঠক সমাজকে। 
মহাভারত না পড়লেও অনেকেই ঠাকুমা বা দিদার কাছে গল্প নিশ্চই শুনেছেন। কিন্তু সেই গল্প গুলো সবসময় একই দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেখা হয়েছে। পঞ্চ পাণ্ডব যেমন সর্বদা শ্রেষ্ঠ,দৌপ্রদী সতী,কৌরবরা খল নায়ক, শিখণ্ডী দুর্ভাগ্যের স্বীকার প্রভৃতি। কিন্তু এই উপন্যাসে লেখিকা মহাভারতের চরিত্র গুলোকে অন্য দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। 

সবশেষে বলবো পুরাণ আর থ্রিলারের সংমিশ্রণে উপন্যাসটি অন্য এক মাত্রা পেয়েছে আর বইটির প্রতি পরতে পরতে একটা রহস্য লুকিয়ে রয়েছে যেটা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

1 টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...