সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২২

শিরোনাম - নীল পূর্বরাগ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - নীল পূর্বরাগ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


ছেলেকে নিয়ে গ্যাংটক বেড়াতে এসেছে রিনিতা। ছেলেই ওর সব।আজ ছবছর হলো স্বামী প্রতীকের সাথে ডিভোর্স হয়ে গেছে ওর।দিন রাত সংসারে অশান্তি লেগে থাকত রিনিতার চাকরি করা নিয়ে। প্রতীক বলতো," আমার এত ইনকাম,এর পরও তুমি কেনো চাকরি করবে?"না এরপর আর কোনো ঝামেলায় জড়াতে চায়নি রিনিতা।রোজকার অশান্তিতে ছেলেটা ভয়ে কুঁকড়ে থাকতো।ছেলের শৈশবকে নষ্ট হতে দিতে চায়নি রিনি।প্রতীককে মুক্তি দিয়েছিল।এখন তার জীবনের একটাই লক্ষ্য,ছেলে শুভমকে মানুষ করা। 
"মা মা,খুব পেট ব্যথা করছে,বমি বমি লাগছে।",শুভম বললো রিনিতাকে।অতীতের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে রিনি চোখ রাখলো ছেলের মুখের দিকে,শুকিয়ে গেছে শুভর চোখ মুখ।গাইড কে জিজ্ঞাসা করলো কাছাকাছি যদি কোনো ওষুধের দোকান পাওয়া যায়।গাইড বললো," না ম্যাডাম,তবে মন্তেসরি আছে,ওখানে আপনি ওকে নিয়ে একটু বসতে পারেন। এই পাহাড়ি রাস্তায় এতটা জার্নি করে এসে ওর শরীরটা খারাপ লাগছে হয়তো।" গাইডের সাথে রিনিতা শুভমকে নিয়ে পৌঁছলো মন্তেসরিতে।রিনিতাকে আসতে দেখে কিছু সন্ন্যাসীরা এগিয়ে এলেন।রিনিতা ছেলের অসুস্থতার কথা বললো।ওনারা ওদের দুজনকে নিয়ে মঠের অধ্যক্ষের ঘরে নিয়ে গিয়ে বসালেন। 
শুভমকে দেখে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন উনি। অবিকল নিজের ছোটবেলা যে!রিনিতা অধ্যক্ষের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলো!বলে উঠলো,"শুভ তুমি এখানে?" সেই সন্ন্যাসী বললেন,
" আপনার ভুল হচ্ছে ম্যাডাম, আমি এখানকার প্রধান বেদানন্দ মহারাজ।" 
"তুমি এখানে কি করে শুভ?","কে শুভ ম্যাডাম? আমি চিনি না এই নামের কাউকে।"  রিনিতা বললো," আমি সেদিন খুব বড়ো ভুল করেছিলাম তোমায় ছেড়ে চলে এসে।"
" কিসের ভুল ম্যাডাম? তখন যে এই বেদানন্দ ওরফে শুভ বেকার ছিল,আপনি টাকার মাপকাঠি তে বিচার করেছিলেন ভালোবাসাকে,চলে গেছিলেন নিজের বাবা মায়ের পছন্দের ধনী ছেলেকে বিয়ে করে।সেদিন থেকে শুভ নামটা আমি ঘেন্না করি।আর এই মঠে এসে আমি খুব শান্তিতে আছি।" রিনিতা বললো,"জানো শুভ,শুভম তোমারি সন্তান।প্রতীকের সাথে বিয়ের আগেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম সন্তান আসার কথা,কিন্তু বাবার ভয়ে কিছু বলতে পারিনি কাউকে।প্রতীক বিয়ের পর থেকে নিজের ব্যাবসা,পার্টি নিয়ে ব্যস্ত থাকতো।ও তাই বুঝতে পারেনি যে শুভম ওর সন্তান নয়। একসময় আমার সব স্বাধীনতা কেড়ে আমায় ঘরে বসিয়ে দিতে চেয়েছিল প্রতীক।তারপর অশান্তি চরমে ওঠে।আমরা এখন আলাদা থাকি ডিভোর্সের পর।" সব শুনে বেদানন্দের খুব ইচ্ছে হলো শুভমকে একবার জড়িয়ে ধরতে।কিন্তু না,সন্ন্যাসীদের পূর্বরাগের কোনো কথা মনে রাখতে নেই।নিজের ফার্স্ট এইড বক্স থেকে বমি কমানোর ওষুধ আর জল এগিয়ে দিলেন শুভমের দিকে।রিনিতাকে বললেন,"এটা খেয়ে ছেলে সুস্থ হলে,ওকে নিয়ে চলে যাবেন এখান থেকে।" বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন খুব তাড়াতাড়ি,হয়তো চোখের জল লুকোতে চাইছিলেন।রিনিতা অপরাধীর মত মুখ করে বেরিয়ে গেলো ছেলেকে নিয়ে।গাড়িতে উঠে বসলো। গাইড কিছুক্ষন পর এসে বললো," ম্যাডাম এই ওষুধটা আপনার জন্য বেদানন্দজী পাঠিয়েছেন,আর সাথে একটা চিরকুট।" চিরকুটটা খুলে দেখলো লেখা আছে,"গাড়ীর ঝাঁকুনিতে তোমারও তো বমি হয় রিনি,খেয়ে নিও ওষুধটা।"
      রিনিতা দুহাতে মুখ চেপে কাঁদতে লাগলো,শুভম জড়িয়ে ধরলো মাকে।আর গাড়িটা চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন বেদানন্দজী।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২

শিরোনাম - ত্রাতা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - ত্রাতা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


স্ত্রী সরমা দেবী চলে যাওয়ার পর থেকে রমেশ বাবু একাই থাকেন। একমাত্র ছেলে অনীক কর্মসূত্রে বিদেশে থাকে। বাবাকে অনেক অনুরোধ করেও নিজের কাছে নিয়ে যেতে পারেনি অনীক। সরমা দেবীর স্মৃতি আকড়েই জীবনের বাকি দিন গুলো নিজের হাতে তৈরি বাড়ীতেই কাটাতে চান রমেশ বাবু। সামনে একফালি বাগানও আছে। নিজেদের মনের মত করে বাড়িখানি বানিয়েছিলেন সরমা দেবী আর রমেশবাবু। কিন্তু কদিন ধরেই পাড়ার এক মস্তান ছেলে এসে রমেশ বাবুকে হুমকি দিচ্ছে বাড়িটা প্রোমোটারকে দিয়ে দেওয়ার জন্য। ভালো পজিশন আছে, অনেক দাম পাওয়া যাবে। রমেশ বাবু বলেছেন প্রাণ থাকতে এই বাড়ী কাউকে দেবেন না। মস্তান বলে গেছে ভালো করে ভাবুন, সময় দিলাম তিন দিন। রমেশ বাবু পাত্তা দেননি অত বেশী। সেদিন রাতেই খেয়েদেয়ে ছেলের সাথে ফোনে কথা বলে ঘুমোতে গেলেন রমেশ বাবু। বেশ গুমোট ছিলো, জানলা গুলো খুলে দিলেন উনি। দমকা হাওয়া দিতে শুরু করলো হঠাৎ করেই, গুমোট ভাবটা কিছুটা হলেও কমলো। খানিক পরে ঝমঝম বৃষ্টি নামলো। স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলেন রমেশ বাবু। গরমে টেকা দায় হয়ে যাচ্ছিলো। পুরনো আমলের ঘড়িতে তখন ঢং ঢং করে বারোটা বাজার শব্দ হলো। বৃষ্টির তেজ ক্রমশ বাড়তে লাগলো, সহসা লোডশেডিং হয়ে গেলো। হঠাৎ করে বিদ্যুতের ঝলকানি আর কানে চাপা দেওয়ার মতো কড় কড়াত করে আওয়াজ। রমেশবাবু বিছানায় উঠে বসে রইলেন। ঘুম আসছেনা কিছুতেই, আলো টাও নেই। টেবিলে এসে বসলেন, মোমবাতিটা জ্বালিয়ে একটা ম্যাগাজিন খুললেন। পড়তে পড়তে কখন টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নিজেও জানেননা। কিছুক্ষন পর দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো ওনার। ভাবলেন এতো রাতে কে এলো রে বাবা! হাওয়ার ধাক্কা ভেবে আবার বইতে মনোনিবেশ করলেন। নাহ এবারে আর কড়া নাড়ার শব্দ নয়, কেউ যেনো জোর ধাক্কা মারছে দরজায় আর চেঁচিয়ে বলছে দরজা খোল বুড়ো! তোর বাড়ি কি করে আগলাস আমিও দেখবো! বেরিয়ে আয় বাইরে। রমেশ বাবু গলা শুনে বুঝলেন সেই মস্তান এসেছে যে হুমকি দিয়ে গেছিলো। বুকে সাহস নিয়ে রমেশ বাবু দরজা খুলে দিলেন। মস্তান তার সঙ্গীদের নিয়ে ঘরে ঢুকলো। রমেশ বাবু কিছু বলার আগেই ওনার গলায় ছুরি ধরে মস্তান একটা কাগজ দেখিয়ে  বললো এই কাগজে সই করে দে চটপট, বাড়িটা আমাদের চাই। একি অন্যায্য দাবী তোমাদের? এসব ঠিক করছোনা তোমরা! ঠিক ভুল পরে শেখাবি আগে সই কর। না প্রাণ থাকতে এই বাড়ী আমি কাউকে দেবো না! তাই নাকি? নে তাহলে মর তুই! ছুরিটা চালাতে যাবে রমেশ বাবুর গলায় এমন সময় ছুরিটা হাত থেকে পড়ে গেলো মস্তানের। মস্তান নীচু হয়ে ছুরিটা তুলতে যাবে, কেউ যেনো ধারালো কিছু রাখলো ওর পিঠের ওপরে। মস্তান ঘাড় ঘুরিয়ে পরে সোজা হয়ে উঠতে যায় কিন্তু পারে না! ঝোড়ো বাতাস বয়ে যায় বাড়ীর মধ্যে দিয়ে, রমেশ বাবু তখন মস্তানের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে একটু ধাতস্থ হতেই দেখে দশভূজা দেবীর পায়ের তলায় শুয়ে আছে মস্তান, পিঠে ত্রিশূল খোঁচা মারছে ওর। স্ত্রী সরমা যখন পুজো আচ্চা করতেন অতটাও গুরুত্ব দিতেননা রমেশ বাবু। নাস্তিক গোছের মানুষই ছিলেন তিনি। আজ এই দৃশ্য দেখে ভাবেন একি স্বপ্ন না সত্যি! স্ত্রীর ভক্তির জোরেই আজ কি এই অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হচ্ছেন তিনি? দুটো হাত নিজের অজান্তেই কপালে চলে আসে, প্রণাম জানান তাঁর রক্ষা কারীনিকে। ওদিকে মস্তান তখন ভয়ে চুপ,বাইরে কুকুরের চিৎকার শোনা যাচ্ছে, মনে হচ্ছে তারাও পারলে মস্তানকে ছিড়ে খেয়ে ফেলবে। দশভূজার পায়ের তলা থেকে ফুটবলের মতো গড়িয়ে এসে মস্তান রমেশ বাবুর পায়ের কাছে এসে পড়ে। ক্ষমা চায় ওনার পায়ে ধরে! মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট! রমেশ বাবু বলেন আর কোনোদিন এপথে এসো না! সৎ উপায়ে চলার চেষ্টা করো। মস্তান চুপ থেকে খানিক পরে দৌড় লাগায় সেখান থেকে। অদ্ভুত ভাবে তখন দশভূজার মূর্তি মিলিয়ে যায় সেখান থেকে। রমেশ বাবু তখনো ঘোরের মধ্যে ছিলেন। দিনের আলো ফুটলে,পাখির ডাকে ওনার সম্বিত ফেরে। নাকে আসে শিউলির সুবাস,মাটির দিকে তাকিয়ে দেখেন কে যেনএকগুচ্ছ শিউলি রেখে গেছে ঘরের মধ্যে। দূর থেকে কানে ভেসে আসে "আশ্বিনের শারদ প্রাতে...।" বিড়বিড় করে রমেশ বাবু বললেন দেবীপক্ষ শুরু তবে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

ধৈর্য্যের মাস্টার✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ধৈর্য্যের মাস্টার
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবনের পথে চলতে গিয়ে অনেক ঘটনার সম্মুখীন হয়ে থাকি আমরা। কোনো কোনো সময় জীবন আমাদের মাস্টার হয় তো কোনো সময় আমরা জীবনের মাস্টার হই। ধৈর্য্য আর সময় এই দুটোর থেকে বড়ো মাস্টার বোধহয় আর কেউ হয়না। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে যখন হতাশার অন্ধকারে ডুবে যাবো মনে হয় তখনই শুরু হয় ধৈর্য্যের পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় পাস করতে পারলে জীবনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। আর এরকম অনেকবার পরীক্ষা দিতে দিতে কখন যে ধৈর্য্যের মাস্টার হয়ে যাই বুঝতে পারিনা। উদাহরণ স্বরূপ প্রথম প্রথম দিন গুনতাম কবে এসব ডিউটি প্রেসার শেষ হবে,পড়াশোনা শেষ হবে! এক সময় মনে হতো আর পারবোনা চাপ নিতে। কিন্তু ওই যে ধৈর্য্য সব সময় মনে করিয়ে দিত আমি আছি, পারতে তোমাকে হবেই। থেমে গেলে চলবে না! ব্যাস ওভাবেই অনেক পরীক্ষা দিতে দিতে মাস্টার হবার সুযোগ পেলাম। এখন জুনিয়র দের পরীক্ষা নেবার পালা, ওদেরকে ধৈর্য্যবান করে তোলার চ্যালেঞ্জ এবার শুরু। এখন আর ডিউটিকে চাপ মনে হয় না, বরং বাড়ীতে বসে থাকতে বোর লাগে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি ধৈর্য্যের হাত ধরে যাতে সুপার স্পেশালিটি টা উতরে যাই, যদিও সে এক লম্বা যুদ্ধের প্রস্তুতি তবুও দেখা যাক কী হয়!

যেদিন মানুষ অভ্যাসের দাস হয়ে ওঠে সেদিন থেকে তার ধৈর্য্যচ্যুতি হবার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। মাথা উচু করে চলতে শেখে, কোনো কিছুই তাকে আর দমিয়ে রাখতে পারেনা। জীবনের চড়াই উতরাই পার হয়ে যায় নিমেষেই। অন্ধকারে চলতে চলতে অভ্যাস হয়ে যায় আর একদিন আলোর দেখা ঠিক ই মিলে। ধৈর্য্য আর সময় এই দুটো হাতিয়ারই জিতিয়ে দেয় তাকে।

"জীবনে পরীক্ষা দিতে দিতে ছাত্র থেকে যখন হবে ধৈর্য্যের মাস্টার
বুঝবে কোনো পরিস্থিতিই টলাতে পারবেনা তোমায়, পাবে না ভয় আর!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - কথোপকথন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - কথোপকথন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ধরাধামে আসার পূর্বে কথোপকথনে ব্যস্ত কর্তা গিন্নী।
কইগো রেডী হলে নাকি? হ্যা আরেকটু মেকআপ বাকি করে নিই, দাড়াও একটু। স্বামী শিবকে উত্তর দিলেন কালী মাতা।
- আরে এতো মেক আপ করে হবেটা কি শুনি?
- আমার কালো রং যে, একটু সাজগোজ না করলে চলে বলো?
- দূর ওসব বাহ্যিক গো গিন্নী। মন তো তোমার কালো নয়,ভক্তদের জন্য সর্বদা আকুল। এতেই হবে গো!
-বরং এই দুনিয়ার যত কালিমা আছে, সেসব দুর করে নিজের কালো রং আরো উজ্জ্বল করো। আমি কালো বউকে নিয়েই খুশি। 
- আহা! ঢং দেখে আর পারি না। যাও রেস্ট করে নাও একটু।
- রেস্ট করেছি, কয়েকটা ডনবৈঠক ও দিয়েছি। দুদিন এখন আমার খাটাখাটনি যাবে, ওজন তো বেশ ভালোই তোমার। 
- হ্যা জানি খুব কষ্ট হয় তোমার! কি আর করবো বলো! আমার খুব লজ্জা লাগে। 
- আহা লজ্জা কিসের গিন্নী! তুমি তো সব গৃহিণীর অনুপ্রেরণা। তোমায় দেখেই তো তারা ঘরের কর্তা দের ওপর জোরজুলুম করে। 
- তা করে। আর সে তো ভালো! স্বামীদের একটু দমিয়ে রাখা দরকার। এখন আমার কুচিটা একটু ধরে দাও দেখি। দেরী হয়ে যাবে যেতে নইলে। 
- সে ধরে দিচ্ছি। তার আগে নাও এই গয়নার সেটটা এনেছি তোমার জন্য,পরে নাও। 
- আরে এসব আবার কেনো? জানো তো আমার এসবের প্রতি মায়া নেই। 
- জানি গো! কিন্তু আমারও ইচ্ছে করে তোমায় কিছু দিতে। আবার ধনতেরাস চলছে এখন। তুমি পরে দেখো,ভালো লাগবে। 
- সে তুমি ফুলের মালা দিলেও আমার ভালো লাগবে গো। তোমার দেওয়া সামান্য জিনিসও আমার কাছে অনেক মূল্যবান। 
- নাও কুচি ধরে দিলাম, এবার চলো। 
হ্যা চলো,তোমার ডমরুটা নাও মনে করে। ভক্তরা সারাদিন না খেয়ে অপেক্ষা করছে,চলো এবার যাওয়া যাক। 
-হ্যা চলো গিন্নী। তোমার আশীষ যেনো সবাই পায়। দুনিয়ার সব কালো মুছে যাক তোমার আগমনে। আলোয় ভরে উঠুক চারিদিক। 

আলোকমালায় সেজে উঠেছে প্যান্ডেল সব। ঢাক বাজছে। শুরু হবে এক রাতের কালীপুজো। সব দুঃখ ভুলে সকলে মেতে উঠুক শ্যামা মায়ের আরাধনায়। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

ভাইফোঁটা - ভাইয়ের সুরক্ষা কবচ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ভাইফোঁটা - ভাইয়ের সুরক্ষা কবচ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

অদৃশ্য সুতোর বাঁধনে বাঁধা যে মায়ার বন্ধন
ভালোবাসার সেই সম্পর্কের নাম যে ভাই বোন।

যমের দুয়ারে পড়ুক কাটা,ভাই থাক সুখে শান্তিতে
কপালে দিয়ে চন্দনের ফোঁটা,বোন যে বলে  মনেতে।

কোনো বিপদ যেনো আমার ভাইকে না করে স্পর্শ
ভাই আমার থাক আদরে,মনে থাকুক সদা হর্ষ। 

বছর বছর আসুক ফিরে এই মধুময় শুভক্ষণ
থাকুক ভালো এই পৃথিবীর সকল ভাইবোন।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২২

ঝোড়োবার্তার সংবাদ পরিবেশন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ঝোড়োবার্তার সংবাদ পরিবেশন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


ঝোড়োবার্তা চ্যানেলের পক্ষ থেকে আমি মৌসম এসে গেছি আজকের বিশেষ বিশেষ সংবাদ গুলো নিয়ে। পেশ করছি আজকের বিশেষ আটটি গুরুত্বপূর্ণ খবর।

১. শিশুশিক্ষা বিভাগের পরিদর্শক জানিয়েছেন বাচ্চাদের রোজ স্কুলে এক ঘন্টা করে হাসির ক্লাস করাতে হবে। যে টিচার রামগরুড়ের মত না হেসে থাকবে তাদের পরেরদিন বাচ্চাদের হোমওয়ার্ক করে দিতে হবে।

২. যারা চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য স্থায়ী সমাধান দিলেন বামদেব। প্রতিদিন দুবেলা একঘন্টা করে শীর্ষাসন করতে হবে। ভূমির সঙ্গে চুলের সংস্পর্শে মস্তিষ্কের উর্বরতা বাড়বে আর চুল গুলো স্ক্যাল্পে আটকে থাকবে। 

৩. পেট্রোল মন্ত্রী জানিয়েছেন তেলের দাম যে হারে বেড়ে চলেছে তাতে কদিন পর সকলে কোমরে দড়ি বেধে গাড়ীকে টেনে নিয়ে যাওয়া আসা করবে। এতে নিয়মিত হাঁটার অভ্যেস হবে, শরীর চাঙ্গা থাকবে আর গাড়ীগুলোর ইঞ্জিনও বিশ্রাম পাবে।

৪. বিয়ে নিয়ে নতুন আইন পাস হলো। বিয়ের পর স্বামী গিয়ে থাকবে শ্বশুর বাড়ী। মেয়েরা নিজের বাড়িতেই থাকবে আর স্বামীর ওপর কোনো মানসিক চাপ সৃষ্টি করলে স্বামীদের সন্ন্যাস গ্রহণের দীক্ষা দেওয়া হবে। আর স্ত্রীদের মৌনব্রতর মন্ত্রে দীক্ষিত করা হবে।

৫. কারেন্ট বিভ্রাটে বিয়ের আসরে বৌয়ের বদলে শ্বাশুড়ীর গলায় মালা পড়ালো জামাই। জামাইকে খুশি করতে শশুর সুইজারল্যান্ডের টিকিট কেটে দিলো। শ্বাশুড়ির সাথে হানিমুন ভেবে জামাই অজ্ঞান বিয়ের আসরে। জামাইয়ের বাবা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে "শক খেলাম" ধারায় মামলা দায়ের করেছে। 

৬. রান্না ঘরে গ্যাসের কোনে রাখা ইদুর কিলার খেয়ে বিল্লুর দাঁত ভেঙে যাওয়ায় বিড়াল অ্যাসোসিয়েশন থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে 
বাড়ীর মালিককে নতুন বাধানো দাঁতের পাটি বানিয়ে দিতে হবে বিল্লুকে। 

৭.  নট আউট আর নীল হিটের ডিফারেন্ট স্মেল ভালোবাসা জাগালো মিস মশা আর মিস্টার মাছির মধ্যে। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছে তারা। বিবাহ বাসর - খাটের তলা। সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তারা। 
বি. দ্র : দয়া করিয়া কেউ ওডোমস মেখে বিয়েতে আসবেন না।

৮. আজকাল গোলপোস্টে পোস্টের বদলে একটা করে চিয়ার সাজিয়ে রাখা হচ্ছে।কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চাওয়ায় সে বলে সারাদেশে যে ভাবে 'খেলা হবে' বাণী ঘুরছে তাতে স্ট্রাইকাররা আজকাল আর গোলপোষ্ট দেখতে পায়না। তাই গোলপোস্টের বদলে চিয়ার দেখলে তবে গোল করতে পারে।

বিশেষ আটটি খবর পেশ করলাম আপনাদের সামনে। নবম আশ্চর্যের জন্য চোখ রাখুন ঝোড়োবার্তা চ্যানেলে। নমস্কার। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস।

শিরোনাম - ধনতেরাস✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - ধনতেরাস
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

রেডী হলে তুমি? ঘনাদাকে বললো পপি বৌদি।
- না হচ্ছি হচ্ছি। 
- এখনো রেডী হওনি? গোল্ড কেনার শুভ সময় যে পেরিয়ে যাবে, তোমায় নিয়ে আর পারি না!
আড় চোখে বৌদিকে দেখে ঘনা দা রেডী হতে শুরু করলো! ওদিকে বৌদি ঘন ঘন ঘড়ি দেখছে। 
পাঁচ মিনিট পর ঘনাদা রেডী হয়ে এসে বললো চলো বেরোই। অনেক কিছু গোল্ড কেনার আছে। 
বাজারের ব্যাগ নিয়েছ কেনো? বৌদি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো! 
-এতেই তো সব গোল্ড নেবো। 
-মানে? 
- মানে আবার কি? আমূল গোল্ড, টাটা টি গোল্ড, মারী গোল্ড এসব কিনে আনবো। ফেরার পথে তোমায় রেস্টুরেন্টে গোল্ডেন চিকেন ফ্রাই খাওয়াবো। এতো রকম গোল্ড কিনলে আমাদের সংসারের শান্তি বজায় থাকবে আর সারা বছর গোল্ড আসবে। বৌদি বললো তুমি গোল্ড কিনবে না তাহলে? কেনো কিনবো না? গোল্ড ফ্লেক ও কিনবো একটা, ওটা খেয়েই তো বুদ্ধি খোলে আমার। 
আর ওসব সোনাদানা! ওসব মায়া। বরং ওই টাকায় একদিন চলো মন্দিরে গরীবদেরকে খাওয়াই। আশা করি এতে কুবের দেবতা আমাদের ওপর রুষ্ট হবেন না! বরং খুশি হবেন যে আমরা জীবের সেবার মধ্যে দিয়ে ঈশ্বরের সেবা করছি। বৌদি বলে তোমার সাথে কথায় আমি পারবোনা! ঘনাদা গোল্ড ফ্লেকে এক টান দিয়ে মনে মনে হেসে বলে গিন্নি কেমন জব্দ! 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২২

শিরোনাম- কার্নিভাল লাইভ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম- কার্নিভাল লাইভ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কিরে তোরা সব রেডী? উমা চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলেন। আর দুটো মিনিট ঘুমোতে দাও না মা! কার্তিক বললো। হ্যা রাত জেগে গেম খেলে উনি এখন আর উঠবেন কি করে? তোর জামা কাপড় দেখ ভক্তেরা রেখে গেছে ওখান থেকে পরে নিস পছন্দ মতো। কার্নিভাল বলে কথা,নীল পাঞ্জাবী আর সাদা পাজামা পরিস বাবা! নইলে উনি রাগ করবেন। ওকে মাম্মি,আরেকটু ঘুমিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেডী হচ্ছি। কথা না বাড়িয়ে উমা দেবী ছুটলেন বাকি তিনজনকে ডাকতে। সিংহটা আবার সকাল থেকে ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদছে,কার্নিভালে গিয়ে ছোট্ট ট্রাকে থাকতে হয় ওনাকে। তাতে আবার বাতের ব্যথা বাড়ে। অসুর তাই অনলাইনে ঝান্ডু বাম অর্ডার দিয়েছে, সে নাকি বিকেলে ডেলিভারি আসবে। কিন্তু তার আগে তো প্যান্ডেল ছাড়তে হবে। কাস্টমার কেয়ারে কল করে অসুর আর্লি ডেলিভারির জন্য রিকোয়েস্ট করছে। উমাদেবী বললেন হ্যাঁ রে মাথামোটা তুই অফলাইনে না কিনে অনলাইন কেনো অর্ডার করলি? আমি মাথা মোটা বলেই তো ত্রিশূলের খোঁচা খাই। আহা ওরম বলে না, তুই ওই খোঁচা ছাড়াও চারদিন কত ফল মিষ্টি খেতে পাস সেটা বল! নে ফোন রেখে রেডী হ! অসুর বললো হুম! 
ওদিকে লক্ষ্মী সরস্বতীর মধ্যে ঝামেলা শাড়ী নিয়ে। উমা দেবী ঢুকতে গিয়ে দেখেন ঝগড়া তুঙ্গে, তাও একটা নীল কাঞ্জিভরম নিয়ে। উনি ওদের থামাতে বললেন লক্ষ্মী তুমি তো কদিন পরে আবার অনেক গিফট পাবে,এই শাড়ী সরো কে দাও। ও আবার পরের বছর জানুয়ারিতে আসবে। আর একটা কথা,গাড়ী চলে আসবে ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে, লাগেজ গুছিয়ে রেডী হও। মাসীমনি রাগ করবে টাইমে না পৌঁছলে। 
গণশা এই গনশা! রেডী হতে শুরু কর। হ্যা মাম্মি এই পিৎজাটা এসে গেলে খেয়ে রেডী হচ্ছি। আবার পিৎজা খাবি? এই যে লাড্ডু খেলি এক প্লেট! ওতে পেট ভরেনি গো! আর র‍্যাটস ও আমার লাড্ডু তে ভাগ বসিয়েছে। ইদুরটা এগিয়ে এসে বলে পিৎজা টা কতদূর গো গণেশ দা? 
উফফ! তোদের জ্বালায় আর পারিনে। কার্নিভালে খেতে পাবি তো! আর তোদের বাবা তো নন্দী ভৃঙ্গী কে বলে খাবার সব বানিয়ে রাখছে। ও কৈলাস যেতে অনেক দেরী হবে মাম্মি। খিদে পেয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি কর তোরা রেডী হ! 
সব্বাইকে সামলে সুমলে উমা দেবী নিজে রেডী হলেন, মাস্ক নিতে বললেন সবাইকে। গাড়ী এসে গেলো, ভাইবোনেরা একটা গাড়ীতে আর অসুর, সিংহ সহ উমা দেবী একটা গাড়ীতে উঠলেন। বেশ সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, রাস্তায় আলো জ্বলছে। কার্নিভালে ঢুকছে গাড়ী, মাসীমণি মঞ্চ থেকে হাই হ্যালো করছেন। সাথে আবার চ্যালাচামুন্ডারাও আছে। কিছুক্ষন পর দেখা গেলো লক্ষ্মীর সাথে হিসেবপত্র নিয়ে আলোচনা করতে গাড়িতে উঠে গেছেন মাসীমণি আবার। লক্ষ্মী ঘাড় নেড়ে বলছে হিসেবে গরমিল আছে মাসীমণি। সরস্বতী ওকে থামিয়ে কানে কানে বলছে মাসী কোনো ভুল করতেই পারে না,চল কার্নিভালে কনসেনট্রেট কর। এখানে বেফাঁস কিছু বললে বাড়ী ফিরতে পারবিনা। মাসী হিসেবের খাতা নিয়ে ব্যস্ত,মনে মনে ভাবছেন জল মেশানো কি ধরা পড়ে গেলো! সরস্বতী বললো আপনার কাজ নিখুঁত মাসীমণি, লক্ষ্মী কদিন ঘুমোয়নি, তাই মাথা কাজ করছেনা ওর। আমি ফিরে গিয়েই হাজার খানেক ল্যাপটপ পাঠিয়ে দেবো আপনাকে,শুনছি আজকাল আপনি ছাত্র ছাত্রী দের ল্যাপটপ দিচ্ছেন। ভালো উদ্যোগ, পড়াশুনো করুক সকলে। অশিক্ষার অন্ধকার দূর হোক। আপনি গাড়ী থেকে নেমে পড়ুন মাসীমণি, লোকজন দেখছে। যান মঞ্চে যান। মাসীকে ভুলিয়ে ভালিয়ে মঞ্চে পাঠানো হলো।
আরেকটা গাড়িতে উমা দেবীর সাথে অসুর আর সিংহ যাচ্ছে। সিংহটা চশমা পরে চারপাশের আলোর মেলা আর লোকজনের ভিড় দেখছে। বাম লাগিয়ে দিয়েছে অসুর,কোমর সিধে আছে সিংহের। 
অসুরকে উমাদেবী বললেন ভালোই হচ্ছে কার্নিভাল,গাড়িতে ঘুরছিস! কাজ করতে হচ্ছে না। কাল থেকে তো আবার দৌড়বি কাজে ৩৮১ দিনের প্রকল্পে, আজ মজা করে নে! হ্যা এই কদিন ভালোই কাটলো, তোমার সাথে আমিও সেবাযত্ন পেলাম। 
কথা বলতে বলতে কার্নিভালের শেষ হয়ে এলো প্রায়। ইউনেস্কোর লোকেদের সাথে সেলফি তুলে উমা দেবী চললেন তার সাঙ্গোপাঙ্গো দের নিয়ে স্বামীর ঘরে। যাওয়ার আগে মনভরে ভক্তদের আশীর্বাদ করে গেলেন। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০২২

শিরোনাম - চোদ্দো শাকের কথকথা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - চোদ্দো শাকের কথকথা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 "ওলংকেমুকবাস্তূকং, সার্ষপং নিম্বং জয়াং।             শালিঞ্চীং হিলমোচিকাঞ্চ পটুকং শেলুকং গুড়ূচীন্তথা।ভণ্টাকীং সুনিষন্নকং শিবদিনে খাদন্তি যে মানবাঃ,প্রেতত্বং ন চ যান্তি কার্ত্তিকদিনে কৃষ্ণে চ ভূতে তিথৌ।"

অর্থাৎ চোদ্দো শাক হল ওল, কেঁউ, বেথো, কালকাসুন্দা, সরষে, নিম, জয়ন্তি, শালিঞ্চা, হিংচে,পলতা, শুলকা, গুলঞ্চ, ঘেঁটু ও শুষনি। এই সব শাক শুভদিনে যে মানুষ খায় কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথির ভূত চতুর্দশীতে তার কাছে প্রেত ঘেঁষতে পারে না। এখানে প্রেত বলতে যদি রোগজীবানুদের বোঝানো হয় তবেই তা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ ভূত আর জীবানু উভয়কেই তো চোখে দেখা যায় না! এবার আলোচনায় আসা যাক চোদ্দো শাকের কি কি ভেষজ গুণ আছে!

ওলঃ ওল গাছ প্রায় সবাই চেনে। মাটির নিচে থাকা কন্দ থেকেই পাতা জন্মায়। ওলের কন্দে ক্যালসিয়াম অক্সালেটের কেলাস বেশি থাকলে খাওয়ার সময় গলা চুলকোয়।

ভেষজ গুণাবলীঃ ওলের শুকনো কন্দের গুঁড়ো অর্শ, হাঁপানি, টিউমার, স্প্লীনের বৃদ্ধি ও রক্ত আমাশার ঔষধ হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে ভারতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। টাটকা মূল ব্যবহৃত হয় কফনাশক ও বাতের চিকিৎসায়। 

কেঁউঃ এটা হল আদার এক জাতি। রাস্তার ধারে, পতিত জমিতে বা অরণ্যের নিচু জায়গায় কেঁউ যথেষ্ট দেখা যায়। মাটির নিচে এর কন্দ জন্মায়। তবে পাখিরা এর বীজসহ ফল খেয়ে দূরে মলত্যাগ করলে মলের সাথে বেরনো বীজ থেকে চারাগাছ জন্মায়। এভাবে কেঁউ দূরে ছড়িয়ে পড়ে ও বংশ বিস্তার করে।

ভেষজ গুণাবলীঃ কেঁউ পাতার রস ভালো হজম করায়, খিদে বাড়ায়। জ্বর, আমাশা, ডায়েরিয়া, কফ, কাটা-ছেঁড়া, ক্ষত, চর্মরোগ, জন্ডিস, আরথ্রাইটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, কুষ্ঠ, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, রক্তাল্পতা, কৃমি, চুলকানি, বমিভাব ইত্যাদি রোগের ঔষধ ও সাপে কাটার প্রতিষেধক হিসেবে কেঁউ পাতার নির্যাস প্রাচীনকাল থেকে ভারতীয় সমাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বেথুয়াঃ 
গ্রাম বাংলার খুব পরিচিত শাক হল বেথুয়া বা বেথো। মাঠে-বাগানে আপনা-আপনি জন্মায় আগাছার মতো, কেউ চাষ করে না। বেথুয়া শাকে প্রচুর ভিটামিন–এ, ভিটামিন–সি, লোহা, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও জিঙ্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ ৮ টি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে।

ভেষজ গুণাবলীঃ কোষ্ঠবদ্ধতা, রক্তাল্পতা, অম্বল, কৃমি, কিডনি স্টোন, মুখে ঘা, পায়েরিয়া, চর্ম রোগ, বাত ও অর্শ প্রতিরোধে বেথুয়া শাক খুব উপকারী। গর্ভরোধক হিসেবে এর ব্যবহার রয়েছে।

কালকাসুন্দাঃ রাস্তার দুধারে, পতিত জমিতে, জঙ্গলে সব জায়গায় দেখা যায়। 

ভেষজ গুণাবলীঃ অ্যালার্জি, কোষ্ঠবদ্ধতা, হুপিং কাশি, কফ, জ্বর,  ম্যালেরিয়া, কনজাংটিভাইটিস ও ক্ষত নিরাময়ে কালকাসুন্দার পাতার রস খাওয়া হয়। মৃগি রোগীদের চিকিৎসায় গোটা উদ্ভিদের রস ব্যবহার হয়। রজঃস্রাবের সময় যন্ত্রণা হলে মূলের রস ভালো কাজ দেয়। আবার ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় কালকাসুন্দার ছাল ভেজানো জল খেলে উপকার হয়।

নিমঃ নিমের উৎপত্তি হল ভারতীয় উপমহাদেশ। এর নরম পাতা অনেকেই চিবিয়ে খায়। খুব তেতো স্বাদ।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) নিমকে ‘একুশ শতকের বৃক্ষ’ নামে অভিহিত করেছেন।

ভেষজ গুণাবলীঃ নিম পাতা বা পাতার রস কুষ্ঠ, চর্মরোগ, বহুমুত্র, জন্ডিস, একজিমার ভালো ঔষধ। ব্লাড সুগারের রোগীরা প্রতিদিন সকালে ১০-১২টা করে নিমপাতা চিবিয়ে খেলে সুগার কমে। নিম তেলের শুক্রানুনাশক ক্ষমতা থাকায় এটি জন্মনিয়ন্ত্রক হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। নিমের ছাল ভিজিয়ে জল খেলে অজীর্ণ রোগ সারে।

সরষেঃ সরষে  ফুল থেকে জন্মায় সুন্দর ছোটো ছোটো শুঁটি। শুঁটির ভেতরে থাকে হালকা হলুদ বা বাদামি রঙের বীজ। বীজ থেকে প্রাপ্ত তেল ভারতে রান্নার কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হলেও এর শাকের জনপ্রিয়তাও কম নয়। গ্রিন স্যালাড হিসেবেও সরষে শাক কাঁচা খাওয়া হয়। আর মশলা হিসেবে সরষের ব্যবহার তো সারা ভারতেই প্রচলিত।

ভেষজ গুণাবলীঃ স্কিন, লিভার ও চোখের পক্ষে সরষে শাক খুব উপকারি। ভিটামিন K, C ও E এবং ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও লোহার সমৃদ্ধ উৎস হল এই শাক। এই শাক খেলে ক্যানসার, হৃদরোগ ও অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস হবার সম্ভাবনা কমে। এছাড়া আর্থ্রাইটিস, অস্টিওপোরোসিস ও রক্তাল্পতা রোগের নিরাময়ে সরষে শাক যথেষ্ট উপকারি।

শালিঞ্চাঃ যে কোনও জলাশয়ের ধারে এই বীরুৎ জাতীয় লতানে গাছটিকে দেখা যায়।  এর আরেক নাম Joyweed। 

ভেষজ গুণাবলীঃ চোখ, চুল ও চামড়ার জন্য শালিঞ্চা শাক খুব উপকারী। ডায়েরিয়া, অজীর্ন, হাঁপানি, কফ, জ্বর, রাতকানা, খোসপাঁচড়া, একজিমা, অর্শ ও অন্ত্রে ঘায়ের চিকিৎসায় এই শাক খেলে উপকার হয়। এই শাক খেলে মায়ের স্তনদুগ্ধের পরিমাণ বাড়ে। প্রতিদিন ৭৫ গ্রাম করে শালিঞ্চা শাক খেলে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে সুগারের পরিমাণ কমে। চোখে জল পড়া, কনজাংক্টিভাইটিস, মায়োপিয়া ও ক্যাটারাক্ট চিকিৎসায় মূলের রস ব্যবহৃত হয়। 

জয়ন্তীঃ জয়ন্তী গাছ হল শিম পরিবারের শাখা-প্রশাখাযুক্ত উদ্ভিদ। 

ভেষজ গুণাবলীঃ উদরাময়, বহুমূত্র, আলবিনিসম, এপিলেপসি, মানসিক সমস্যা, জ্বর, টিউবারকুলোসিস, কিডনির সংক্রমণ, গনোরিয়া ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় ও কৃমিনাশকের কাজ করে। সদ্য প্রসূতিদের জন্য এই শাক খুব উপকারি। মেধা ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও জয়ন্তী পাতার রস খাওয়ানো হয়।

গুলঞ্চঃগুলঞ্চ বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় ও সংরক্ষিত উদ্ভিদ।

ভেষজ গুণাবলীঃ গুলঞ্চকে স্বর্গীয় উদ্ভিদ বলে গণ্য করা হয় এর ভেষজ গুণের জন্য। ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, লিম্ফোমা সহ অন্যান্য ক্যানসার, কুষ্ঠ, যক্ষ্মা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বাত, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হেপাটাইটিস, পেপটিক আলসার, গনোরিয়া, সিফিলিস, জ্বর ইত্যদি নানা রোগের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় গুলঞ্চ ব্যবহৃত হয়। গুলঞ্চ শাক খেলে ইমিউনিটি বাড়ে। গুলঞ্চের রস নিয়মিত খেলে রক্তে ইউরিয়ার মাত্রা সঠিক থাকে।

পলতা বা পটল পাতাঃ  ভারতে পুরো গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শরৎকাল জুড়ে পটলই অন্যতম প্রধান সবজি।

ভেষজ গুণাবলীঃ শ্বাসতন্ত্রঘটিত যে কোনও রোগ সারাতে পটল পাতা উপকারি। রক্তবর্ধক ও রক্তশোধক হিসেবে এবং লিভার ও চর্ম রোগ সারাতে পটল পাতা খুব কার্যকর। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে এবং রক্তে ব্যাড কোলেস্টেরল কমাতে পটল পাতার কার্যকরী ভূমিকা বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন। পটল পাতা নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও মানসিক অস্থিরতা দূর হয়। পটল পাতা ক্ষিদে ও হজমশক্তি বাড়ায়। জন্ডিস, কফ, জ্বর, পিত্তজ্বর, টাইফয়েড, অর্শ, কৃমি, ডায়েরিয়া ইত্যাদি রোগে পটল পাতা খেলে কাজ দেয়।

ভাঁট বা ঘেঁটুঃ ঘেঁটু হল অসাধারণ ভেষজগুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। 

ভেষজ গুণাবলীঃ ঘেঁটুতে প্রচুর ফ্ল্যাভোনয়েড (ভিটামিন বি ২)  থাকায় এটি ক্যানসার প্রতিরোধে সক্ষম। এছাড়া চুলপড়া, হাঁপানি, কফ, বাত, জ্বর, চর্মরোগ, লিভারের রোগ, মাথার যন্ত্রণা, কৃমি, কোলেস্টেরল, ব্লাড সুগার ইত্যদি রোগ প্রতিরোধে ঘেঁটু পাতা খুব কার্যকর। 

হেলেঞ্চা বা হিংচেঃ হেলেঞ্চা বা হিংচে হল জলজ লতানে গাছ। 

ভেষজ গুণাবলীঃ আয়ুর্বেদে হেলেঞ্চাকে রক্তশোধক, পিত্তনাশক, ক্ষুধাবর্ধক, ব্যথানাশক, জীবানুনাশক ও জ্বরনাশক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই শাক নিয়মিত খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ে। কোষ্ঠকাঠিন্য, হাঁপানি, ডায়েরিয়া ও স্নায়ুরোগের ভেষজ চিকিৎসায় হেলেঞ্চা ব্যবহৃত হয়। হেলেঞ্চা শাকে যথেষ্ট অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকায় এর ক্যানসার প্রতিরোধী ভূমিকা রয়েছে। মাথার যন্ত্রণায় মাথায় এই শাক বেটে লাগালে যন্ত্রণা কমে। হেলেঞ্চা শাক নিয়মিত খেলে ব্লাড সুগার কমে।

শুষনিঃ নরম কান্ডের এই লতানে উদ্ভিদটি জলাশয়ের পাড়ে বা ভেজা জায়গায় জন্মায়। 

ভেষজ গুণাবলীঃ জনশ্রুতি রয়েছে যে শুষনি শাক খেলে ঘুম পায়। তাই ইনসোমনিয়াতে যাঁরা ভোগেন তাঁদের নিয়মিত শুষনি শাক খেলে কাজ দেয়। এ ছাড়া নিয়মিত শুষনি শাক খেলে মাথার যন্ত্রণা, তীব্র মানসিক চাপ, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, গায়ে ব্যথা,পায়ের পেশির অনিয়ন্ত্রিত সংকোচন, বাত, জিভে ও মুখে ক্ষত, চর্মরোগ ইত্যদি দূর হয়। শুষনির কাশি ও কফ নিরাময়কারী ভূমিকা বিজ্ঞানীদের দ্বারা প্রমাণিত। চোখের রোগ, ডায়াবেটিস ও ডায়েরিয়া নিরাময়ে শুষনি পাতার রস কার্যকর। সন্তান প্রসবের পর মায়েরা শুষনি শাক খেলে দুগ্ধক্ষরণ বাড়ে। সাপের কামড়ে শুষনি পাতার রস দিয়ে চিকিৎসা করার প্রচলিত রীতি রয়েছে।

শেলুকা বা শুলফাঃ মশলা উৎপাদক উদ্ভিদ হিসেবে শুলফা পরিচিত। 

ভেষজ গুণাবলীঃ মাতৃদুগ্ধের পরিমাণ বাড়াতে ও বাচ্চাদের পেটের রোগ সারাতে শুলফা শাক খুব উপকারী। বাচ্চাদের গ্রাইপ ওয়াটারের একটা উপাদান এই শুলফা শাক থেকে আসে। চোখের রোগ, চোখে ঘা, পুরানো ক্ষত, জ্বর, স্নায়ু রোগ, জরায়ুর ফাইব্রয়েড ইত্যদি রোগের নিরাময়ে শুলফা খুবই কার্যকর। বাচ্চাদের পেট ফাঁপায় শুলফা বীজ জলে ভিজিয়ে সেই জল খেলে দারুণ কাজ দেয়। শুলফা বীজ থেকে প্রাপ্ত তেল সায়াটিকা বাত, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, স্পন্ডাইলোসিস, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, কফ ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

এই চোদ্দো শাকের সবগুলো আজকাল সব জায়গায় পাওয়া যায় না। তাই বাঙালি ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দো শাক খাওয়ার রীতি বজায় রাখতে গিয়ে শাকের তালিকাকে অনেকটা পরিবর্তন করে ফেলেছে। এখন শহুরে এলাকায় যে চোদ্দো শাক বেশি প্রচলিত সেগুলো এই সব শাকের মধ্যে থেকেই নির্বাচিত – পালং, মুলো, লাল শাক, কলমি, শুষনি, সরষে, পাট, নটে, ধনে, মেথি, পুঁই, লাউ, কুমড়ো, হিংচে ও গিমে। অবশ্য গ্রামের দিকে চোদ্দো শাকের তালিকায় পুনর্ণবা, কুলেখাড়া, বন নটে, কাঁটা নটে, তেলাকুচো, চিকনি, থানকুনি, শতমূলি, আমরুল, নুনিয়া ইত্যদিও যোগ হয়েছে। বলাবাহুল্য এইসব শাকের ভেষজ ও পুষ্টিগত গুণও অসাধারণ।
স্থানভেদে ও শাকভেদে নানা শাকের রেসিপি নানারকম। তবে বেশিরভাগ বাঙালি এই সব শাকের ভাজা বা চচ্চড়ি খেতে পছন্দ করে। শাকের তালিকা লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে পুরোনো তালিকার বেশিরভাগ শাকই ছিল প্রকৃতির স্বাভাবিক শাক। নয়া তালিকার অনেক শাকও স্বাভাবিক শাক। এদের আমরা চাষ করি না। এগুলো মাঠে-ঘাটে আপনিই জন্মায়। এই শাকে না আছে কোনও কীটনাশক, না আছে কোনও রাসায়নিক সার। ফলে এই সব শাকের পুষ্টিগুণ অসাধারণ। পালং, নটে, মুলো, পুঁই ইত্যদি শাক চাষে ব্যাপক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়। তাই আমরা যদি মাঠে-ঘাটে জন্মানো শাকগুলি বেশি বেশি খেতে পারি তবে আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষা করা অনেক সহজ হবে। এ জন্য এইসব দেশীয় শাককে চিনতে হবে। মোবাইল আর ল্যাপটপের দুনিয়ায় সারাদিন ঘোরাঘুরি করলে তো আর এই সব শাক চেনা সম্ভব নয়। পাশাপাশি জানতে হবে এই সব শাক রান্নার পদ্ধতিও। যাঁরা রেসিপি জানতেন, সেই সব মানুষ বর্তমানে নেইও। বর্তমান প্রজন্ম ফাস্ট ফুডের চক্করে পড়ে এসব শাকের থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়েছে নিজেদের। কিন্তু ফাস্ট লাইফে ফাস্ট ছুটতে হলে এসব শাকের ভূমিকা যথেষ্ট রয়েছে আর শুধু কালীপুজোর আগের দিনই নয়,বছরে মাঝে মধ্যে এইসব শাক খেয়ে মুখের স্বাদ বদল করা উচিত। 

"যতই খাও বার্গার,পিৎজা প্যাটিস আর মোমো চাইনিজ
শাক ও খেয়ো মাঝে মাঝে,তবেই প্রিভেন্ট হবে  ডিজিস"।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২

পুজোর স্মৃতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বিষয় - অণুগল্প
পুজোর স্মৃতি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পুজো মানেই কাশফুল, শিউলি আর শরতের
আকাশে মেঘের আনাগোনা। ছোটবেলায় স্কুলে পুজোর ছুটি পড়ার আগে তিন দিন ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। তখন বোধহয় ক্লাস নাইনে পড়ি, নাটকের মহড়া চলছে একদিন, সবাই যে যার পাঠ মুখস্থ করতে ব্যস্ত। কিন্তু আমার এক বন্ধু পিউ ওর কিছুতেই পাঠ আর মনে থাকছে না। নাটকের নাম ছিলো 'চোখে আঙুল দাদা' আর ওর চরিত্র ছিলো চোখে আঙুল দাদার অভিনয়। খুব চিন্তায় পড়ে গেছে সবাই এমন সময় আমাদের ক্লাসের মাতব্বর থুড়ি মনিটর ডোনা বললো চাপ নিস না,আমি স্টেজের পিছন থেকে প্রম্পট করবো তুই খালি স্মার্টলি পাঠ গুলো বলে যাবি। পিউ এসব শুনে শান্ত হলো কিছুক্ষন। তারপর হঠাৎ করে বললো যদি টেনশনে শুনতে না পাই! উফফ থাম তো! সব পাবি, ডোনা বললো। 
এরপর নির্ধারিত দিনে স্টেজে নাটকের জন্য সবাই রেডী, ড্রেস পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এদিক ওদিক। নাচ গান কবিতা এসব হবার পর ম্যাম নাটকের জন্য ঘোষণা করলেন। সবাই স্টেজের দিকে তাকিয়ে। পিউ কে আমরা ভরসা দিলাম সকলে, ডোনা এসে পিঠ চাপড়ে বললো যা চিন্তা করিস না, ম্যায় হুঁনা! পিউ মানে চোখে আঙুল দাদা স্টেজে উঠলো, প্রধান চরিত্র ওর। প্রথম কিছুক্ষন ভালোই চলছিল, ডোনা মাঝে প্রম্পট করতে গিয়ে চোখে আঙুল দাদার জায়গায় ওর তৈরী দানবের যে ডায়ালগ সেটা বলতে লাগলো। পিউ ও সেগুলো বলতে থাকলো, স্টেজের বাইরে চাপা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, ম্যাম বলছেন কি সব বলছো পিউ? এটা তো দানবের ডায়ালগ! পিউ ভয়ে কেঁদে ফেললো। আর দানব টা মাটি থেকে উঠে ওর গলা টিপে বললো এই আমার ডায়ালগ বলছিস কেন তুই? তুই তো চোখে আঙুল দাদার পাঠ করছিস! পিউ বললো সুমনা (দানবের ভূমিকায় ছিলো) তুই এরকম করছিস কেনো? ভুলে গেছি আমি সব পাঠ, আর ডোনা পর্দার আড়াল থেকে আমাকে এটাই বলছিলো। যাইহোক পরিস্থিতি সামাল দিতে ম্যাম স্টেজে উঠে ওদের দুজন কে শান্ত করলেন। ডোনা কে ডেকে খুব বকলেন, বললেন তোমাদের এসব অসুবিধে আমায় বললে আরো বেশি করে রিহার্সাল করাতাম তোমাদের। বড়ো হয়ে গেছো বলে ছেড়ে দিয়েছিলাম তোমাদের নিজের মতো করে। আমার ভরসাটা তোমরা রাখলে না। এরপর নাটকটা আর হয়নি, নাটকের সবাই নিজের মতন করে নাচ গান করেছিল যে যেটা পারে। এসব ঘটনা গুলো মনে পড়লে আজও হাসি পায়। ম্যাডামের সাথে দেখা হলে উনিও হাসেন এসব মনে করে। বলেন এগুলোও তো স্কুলের স্মৃতি রে! এগুলো আকড়ে বেঁচে থাকার দিন এখন। সত্যিই দিনগুলো খুব ভালো ছিল, পুজোর আগে এসব অনুষ্ঠান এখন আর হয়না, তাই স্মৃতি হাতড়ে এই লেখাটা লিখে ফেললাম।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

দশভূজা কেবল নারী নয়,পুরুষও ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

দশভূজা কেবল নারী নয়,পুরুষও
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আজকাল কার দিনে সবকিছুতেই নারী পুরুষের সমান অধিকার বলে দাবী জানানো হয়। তাই দশভুজা তকমা টা শুধু নারীর কেনো! পুরুষেরও দশভূজ তকমা জোটা উচিত। নারী যেমন ঘর আর বাইর সমান দক্ষতায় সামলাচ্ছে পুরুষেরাও তেমনি অফিস আর বাড়ি সমান ভাবে সামলাতে সক্ষম। একজন বাচ্চার জীবনে মা বাবা দুজনের ভূমিকাই উল্লেখ্যযোগ্য, সেই হিসেবে দেখতে গেলে সকালে যেমন মা রেডী করিয়ে স্কুলে পাঠাচ্ছেন তেমনি সন্ধ্যে টিউশন পড়ে ফেরার পর বাবা মুখের সামনে সান্ধ্য জলখাবার তুলে ধরছেন। জীবনে আজ সবাই যেভাবে যান্ত্রিক হয়ে উঠেছে সেক্ষেত্রে পুরুষকে দশভূজ হয়ে উঠতেই হবে। নারী যেমন রান্নাঘর সামলে অফিসে পেন ধরতে বা গাড়ির স্টিয়ারিং ধরতে পিছপা হচ্ছে না,পুরুষেরাও অফিসের মিটিং সেরে রান্নাঘরের কোন তাকে চিনি আর কফি আছে খুঁজে বের করতে পারছে খুব সহজেই। সংসারে শান্তি বজায় রাখতে দুজনকেই দশহাত দিয়ে দশ দিক সামলাতে হচ্ছে। তবেই না বলতে পারবে -

"দশহাত দিয়ে,কাধে কাধ মিলিয়ে যাই করিনা কেনো
জীবন যুদ্ধে তুফান এলেও পিছপা হই না কখনো।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - পরিপক্কতা ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - পরিপক্কতা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পরিপক্কতা বলতে আমরা যেটাকে ম্যাচুরিটি বলি আর কি! সেটা শুধু শারীরিক হয় না, মানসিক হয়। আর মানসিক পরিপক্কতা শারীরিক পরিপক্কতার চেয়ে অনেক বেশী সংবেদনশীল। একজন ছেলে বা মেয়ে যখন বয়: সন্ধিকালে প্রবেশ করে তখন হরমোনের জন্য শারীরিক যেসব পরিবর্তন হয়, তেমনি মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন ঘটে। একটা উৎফুল্লতা বা ইউফোরিক স্টেজে তারা থাকে, আর অনেক বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে থাকে। এইসময় ইমোশনাল ডিসব্যালান্স কে ওভার কাম করে তাদের সঠিক দিশা দেখানোর জন্য তাদের সঙ্গে সব সময় বন্ধুর মতো মেশা উচিত। কোনো কিছুই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় একদম। সব কিছুর ঘেরাটোপে তাদের জীবন বন্দী করে রাখাও যেমন ঠিক নয় তেমনি অতিরিক্ত স্বাধীনতাও দেওয়া ঠিক নয়। বন্ধু সুলভ আচরণ করে মনের গভীরে গিয়ে মানসিক দোলাচলের কারণ জানা দরকার, কোনো সাহায্যের জন্য হাত সব সময় বাড়িয়ে দেওয়া খুব প্রয়োজন। যাতে এই সময় থেকে তারা ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পথ অনুসরণ করতে পারে, সেই দিশা তাদের দেখানো উচিত। প্রয়োজন পড়লে দু চারটে অ্যাডোলেসেনট কাউন্সিল এর সিটিং ও নেওয়া যেতে পারে। জীবনের সব মুহূর্তের মত এই পরিপক্ব হবার মুহূর্ত টাও তারা যাতে সুন্দর ভাবে উপভোগ করতে পারে স্ট্রেস ফ্রী হয়ে সেই চেষ্টাই সর্বদা করা উচিত। 

"বয়: সন্ধিকালে চলে যে নানা হরমোনের খেলা
গুরুত্ব দিও সকলকে,কোরোনা কোনো অবহেলা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...