বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৪

ফোবিয়া✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 ফোবিয়া
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ভয়! সে তো অনেক রকমের হয়। ভূতের ভয়, বহুরূপী মানুষ থেকে ভয়, আত্মীয় স্বজনের কটূক্তির ভয়, আপনজন পর হয়ে যাওয়ার ভয়, শৈশবকে হারানোর ভয়, পরীক্ষায় পাশ না করতে পারার ভয়, বন্ধু হারানোর ভয়, উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়ার ভয়,বন্ধ ঘরে আটকে পড়ার ভয়, আর আমার জন্য রোগীর বাড়ীর লোকের কাছে মার খাওয়ার ভয়! এই সব ভয়ের কবলে পড়ে মানুষের মধ্যে অনেক কিছু পরিবর্তন আসে। হিংসা আর সাম্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার অভাব দেখা যায়। কখনো ফুটে ওঠে নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় মনের হিংস্র ভাব। স্বার্থপরতার প্রকাশ ও পায় কিছু কিছু সময়। এরপর না হয় রিপু দের দূরে সরিয়ে আমাদের শরীর কিভাবে ভয়ে সাড়া দেয় সেই নিয়ে একটু বিশ্লেষণ করা যাক।
ভয় পেলে শরীরে অ্যাড্রেনালিন এবং কর্টিসল নামে দুটি হরমোন উৎপন্ন হয়। এই হরমোনদ্বয় অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়,যা কিডনির উপরে অবস্থিত একটি ছোট্ট অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি। এই হরমোনগুলি শরীরের সব অংশে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 
ভয়ের কারণে শরীরকে বিপদের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত করা হয়। ভয়ের অনুভূতির কারণে মানুষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটে,যা আচরণগত প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। তার জন্য আক্রমণাত্মক আচরণ করে মানুষ। ভয়ের মানসিক ও শারীরিক অনুভূতি কমাতে নিচের কৌশলগুলি অনুসরণ করা যেতে পারে। নিজেকে স্ট্রেস ফ্রী রাখতে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া, নিজের প্রিয় খাবার খাওয়া,ডার্ক চকলেট খাওয়া,ভয়ের উদ্রেক করে এরকম কোনো সিনেমা না দেখা,কোথাও ঘুরতে যাওয়া, প্রিয় গল্পের বই পড়া। হয়তো এর মধ্যেই কোথাও লুকিয়ে রয়েছে ভয়কে জয় করার উপায়। 

"ভয় পেয়েছো! সংকেত পেয়ে শুরু হয়ে গেছে হরমোনদের খেলা
স্ট্রেস ফ্রী রেখো নিজেকে, অ্যাড্রেনোকর্টিসলকে বুঝিয়ে দাও ঠ্যালা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...