শিরোনাম - আঁধারনাশিনী
✍️ডা: অরুণিমা দাস
পুরোদমে চলছে প্রস্তুতি,আর ব্যাগ গোছানোতে ব্যস্ত শ্যামা। মহাদেব এসে বলছেন কিগো হলো? বলি আমার বাঘছালগুলো নিয়েছো তো?
- হ্যা গো নিয়েছি।
- কতগুলো এক্সট্রা নিয়ে নিও। তোমার ঐ বুকের ওপর আলতা পায়ে দাঁড়ানোর জন্য আমার পোশাকগুলো রেঙে ওঠে। বাঘছাল ছাড়া অন্য পোশাক ঠিক পোষায় না আমার।
- আমি তো ইচ্ছে করে দাঁড়াইনা বাপু। সে তো অনেক যুগ আগের গল্প,লোডশেডিং হয়ে গেছিলো তাই ভুল করে তোমার ওপরে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। আলো আসাতে লজ্জায় আমার জিভ কাটা যায় আর কি! এই গল্পই তো বহুবছর ধরে চলে আসছে।
- আমার ওপরে তোমার অধিকার,মুণ্ড থেকে মন সবখানেতে তুমি বিরাজমান শ্যামা।
গণেশের প্রবেশ,
ও মাম্মা! দেখোনা দিদিরা বলছে এবারে তোমরা দুজনে যাবে,আমায় নিয়ে যাবেনা। কেনো গো? আমিও যাবো।
-না গনু সোনা,এবারে তুমি নয়। পরের বছর আবার যেও।
-কেনো মাম্মা?
এই গনু কথা শুনতে হয় বড়োদের,মহাদেব বললেন। তুমি কদিন আগেই ঘুরে এসেছো আর নয়। এবার তোমরা চার ভাইবোন বাড়ী সামলে রাখবে। আমি আর মাম্মা ঘুরে আসবো। অনেক লাড্ডু মিষ্টি আনবো তোমার জন্য। এখন যাও,আমরা একটু প্যাকিং করে নিই।
মুখ গোমড়া করে গনু চলে গেলো দিদিদের কাছে।
-চলো গিন্নী সব গুছিয়ে নাও। তোমার জন্য একটু সাজগোজের জিনিস এনেছি।
-দূর আমি কালো,সাজ কি আমায় মানায়?
কি যে বলো? ওই কালো রূপেই মজেছি আমি। রূপ দিয়ে কি হয় বলো? গুণটাই আসল।
-তাও তো ছেলেরা ফর্সা মেয়ে খোঁজে।
-মন কালো না হলেই হবে গিন্নী।
-তবে আমায় বরং আত্মরক্ষার অস্ত্র দিয়ো কিছু। ওখানে যা অবস্থা কসমেটিকসের চেয়ে লড়াইয়ের কসরত শিখে নেওয়াটা বেটার।
-তা ঠিক গিন্নী।
-দেখো তোমার সাথে কথা বলতে বলতে আমার প্যাকিং কমপ্লিট। এরপর বেরোবার পালা।
চলো সব প্যান্ডেল সেজে উঠেছে। আলোর মেলা চারিদিকে। তোমার পুজোয় সব আঁধার কেটে আলোর দিশা দেখুক সবাই। সকল কষ্ট ঘুচুক সবার।
সকলকে জানাই শ্যামাপুজো ও দীপাবলির শুভেচ্ছা। আলোর জোয়ারে ভেসে উঠেছে শহর, আমরাও সামিল হই এই আনন্দঘন মুহূর্তে।
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
অসাধারন। বর্তমান সময়ের ছবি পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে সংলাপের মাধ্যমে।
উত্তরমুছুন