শিরোনাম - নাড়ু কাহিনী
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
ও দেবী! চলো তাড়াতাড়ি। পুজো শুরু হয়ে যাবে তো! পেচুটা তাগাদা দিচ্ছে লক্ষী দেবীকে।
-দাড়া আগে বাক্স প্যাটরা গুলো দেখে নিই ভালো করে। রেইনকোট নিয়েছি আবার ছাতা নিয়েছি। একদিকে বৃষ্টিতে খারাপ অবস্থা আরেকদিকে কেউ নেচে গেয়ে বেড়াচ্ছে।
-হ্যা দেবী! ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি একদম জ্বাজ্জল্য প্রমাণ দেখছি। চলো এগোই।
লক্ষীদেবীর হাত ধরে পেচু সব ঘরে ঘরে যেতে লাগলো। সব জায়গায় আয়োজন দেখে পেচুর তো জিভে জল এসে যাচ্ছে। লক্ষী দেবী বললেন আড়ম্বর দেখিসনা পেচু! দেখ যেসব জায়গায় সারল্যের ছোঁয়া সেখানে অনাড়ম্বর ভাবে আয়োজন সেখানে কি তারা মন থেকে ডাকছে না? সবাই ডাকছে, কেউ ভালোবেসে ডাকছে তো কেউ বাহ্যিক আড়ম্বর দেখাতে ব্যস্ত। বেশী খাওয়াদাওয়া করিসনা,রাত জাগতে হবে আবার!
পুজোর শেষে,
হ্যা রে পেচু নাড়ু তো অনেকগুলো ছিলো রে! কম হলো কি করে? তোকে না বলেছি বেশী মিষ্টি খাবিনা! দাঁত খারাপ হলে তোকে ডেন্টিস্টের কাছে নিয়ে যেতে পারবোনা বাপু। আমার অনেক কাজ আছে পেচু। বাড়ী ফিরলে পড়তে বসতে হবে,সরু দিদি বকবে নয়তো।
- না দেবী! আমি বেশি নাড়ু খাইনি গো। সত্যি বলছি।
- তাহলে গেলো কোথায়? কিছু নাড়ু আমি ভাই আর দিদিদের জন্য এক্সট্রা নিয়ে যেতাম।
- দেখো না থালাতে আছে আরো,নিয়ে নাও।
- দেখি তোর পেছনে! কি লুকোচ্ছিস রে?
- কই দেবী? কিছু না তো?
- কিছু না বললেই হবে? দেখি দেখা।
আরে একটা প্যাকেট! খোল দেখি।
- তেমন কিছু নয় দেবী। কয়েকটা নাড়ু নিয়েছি এক্সট্রা আর সাথে একটু মুড়কি।
- কার জন্য শুনি একটু?
- আমার পেচির জন্য নিয়েছি একটু। তবে হ্যা তোমার ভাগ থেকে নয় পুরোটা। কিছুটা আমার ভাগের আর কিছুটা তোমার ভাগের থেকে নিয়েছি।
- বুঝেছি। তোদের ভালোবাসা এরম অটুট থাকুক।
তোমাদের দেখেই তো শিখছি দেবী। লক্ষী নারায়ণ হলেন আমার আইডল।
- হয়েছে অনেক ভালো ভালো কথা বলেছো! রাত জেগেছো, গিয়ে ঘুমোতে হবে এবার। চলো আসি আমরা। তোমার পেচি অপেক্ষা করে আছে তোমার জন্য।
- হ্যা চলো। এই দিনের জন্য আবার এক বছরের অপেক্ষা করতে হবে।
কোজাগরী লক্ষী পুজোর শুভেচ্ছা জানাই সকলকে। সকলের মঙ্গল হোক,ভাবনাচিন্তা সমৃদ্ধ হোক।
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন