বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

থমকে দাঁড়ায় সময় যখন ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

থমকে দাঁড়ায় সময় যখন 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সক্কাল সক্কাল ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে বেরিয়ে দেখলাম চারপাশটা কেমন থম মেরে আছে। ভাবলাম কি হলো! হোস্টেলে বাকিরা কি ডিউটি চলে গেলো? এত শান্ত পরিবেশ তো সকালে থাকেনা। কেউ দৌড়চ্ছে বাথরুমে তো কেউ দৌড়চ্ছে ব্রাশ করতে। ঘড়িতে দেখলাম ৮ টা বেজে ৫২ মিনিট। যাইহোক ব্রাশ নিয়ে গেলাম বেসিনের কাছে। গিয়ে দেখি একি! একটা মেয়েও ব্রাশ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,কিন্তু স্থির। ব্রাশ করছেও না আবার ওখান থেকে সরছেওনা। দুবার ডেকে আশাহত হয়ে অন্য বেসিনে গেলাম। ভাবলাম ব্যাপারটা কি হলো? যাইহোক রুমে এসে দেখলাম সময় সেই এক। ৮:৫২ টা। একি আমি ভুল দেখছি? চোখ কচলে আবার দেখলাম কই না তো! ঠিক দেখছি। ফ্রেশ হয়ে ব্যাগ গুছিয়ে নীচে ক্যান্টিনে গেলাম খেতে। এরপর ডিউটি যেতে হবে। দেরী হলে ম্যাডাম  বকবেন। খেতে গিয়ে দেখি রান্নার দিদিরা সব এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন। সবাই কেমন স্থানু হয়ে আছেন। দুবার বললাম দিদি একটা ডিম টোস্ট। কিছু উত্তর এলো না। অগত্যা নিজেই বয়াম থেকে কেক নিয়ে হিসেবের খাতায় দাম লিখে বেরোলাম ডিউটিতে। রাস্তায় যাবার সময়ও অনেক লোককে দেখলাম দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু হাঁটাচলা করছেনা। হাতঘড়ি দেখলাম এক দেখাচ্ছে ৮:৫২ টা। কেমন যেনো থমকে গেছে সময়। ওটি তে গিয়েও এক জিনিস দেখলাম। পেশেন্ট গুলোও স্থির হয়ে আছে। কি অদ্ভুত না! আমি একাই চলমান খালি আর বাকি সবাই কেমন চুপচাপ দাঁড়িয়ে রয়েছে। আজ আর ডিউটি করতে হবে না ভেবে দৌড় দিলাম কলেজ স্ট্রীট। বাস ট্রাম কিছুই চলছে না। তাই হেঁটেই যেতে হলো। ভাবছি আজ কি হলো! আমি একাই গতিশীল আর দুনিয়ার সবকিছু স্থিতিশীল। ভাবতে ভাবতে সোজা হাজির স্টল গুলোতে। যেখানে যা ডিসকাউন্ট অফার দিচ্ছে দেখে দেখে বই নিয়ে অনলাইন পেমেন্ট করে দিলাম। কেউ কিছু না বললেও যতই সুযোগ থাক বিনামূল্যে বই নিতে কেমন যেনো বাধলো। সব দোকানের লোকেরা কেমন একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। এরপর গেলাম সরবতের দোকানে। না কিছুই নেই সেরকম। পকেটে থাকা কেক আর দোকানে দু গ্লাস জল খেয়ে হাটা দিলাম হোস্টেলের পথে। রাস্তা গুলো কেমন সব গুম মেরে আছে। কোনো গাড়ি ঘোড়ার আওয়াজ নেই,সবাই নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। কেবল আমি ছুটে চলেছি যেনো ইচ্ছে ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে। 'কোলকাতা,তুমিও হেটে দেখাও কোলকাতা' গানটা খুব গাইতে ইচ্ছে করছে। রাস্তায় দেখলাম ঘোড়ার গাড়ীগুলো দাঁড়িয়ে আছে আর ঘোড়াগুলোও চুপ হয়ে আছে। হেটে হেটে হোস্টেল ফিরলাম। সময় সেই এক। রুমে ঢুকে একটু বসলাম। কেমন যেনো হারিয়ে যাচ্ছি চিন্তার সাগরে। ফোনের আওয়াজে সম্বিত ফিরলো। জুনিয়র ফোন করেছে,দিদি আজ ডিউটি আসবে তো? তাহলে কাবাব নিয়ে যাবো। বললাম হ্যা আসবো। উঠে দেখি নটা বেজে গেছে। বইগুলো যেগুলো আনলাম গুছিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু কী হলো? বই কই? ফোনে দেখি হইচই চ্যানেল চলছে। ওয়েব সিরিজ দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বোধহয়। রুমের দরজা খুলে দেখলাম সবাই দৌড়াদৌড়ি করছে রেডি হয়ে ডিউটি যাবে বলে। কই কেউ তো চুপচাপ দাঁড়িয়ে নেই। এতক্ষণ তাহলে? স্বপ্ন দেখছিলাম বুঝি! যদি সত্যিই এরম হতো ভালোই হতো। তারপর ভাবলাম,না! বরং স্বপ্ন স্বপ্নের জায়গায় থাক। এবার বাস্তবে ফিরে আসি। কোথায় যেনো বাজছে 'যখন সময় থমকে দাঁড়ায় নিরাশার পাখি দু হাত বাড়ায় স্বপ্ন......স্বপ্ন দেখে মন'। যাই হোক স্বপ্ন দেখে আর কাজ নেই,জলদি রেডি হয়ে দৌড়তে হবে,ওটি কলিং,অল আর ওয়েটিং। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

বন্ধ ঘরের জানালা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বন্ধ ঘরের জানালা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ফাইনাল পরীক্ষার শেষে তিন্নি আর ওর ভাই টুবাই এসেছে মামাবাড়িতে। এসে দাদু দিদা মামা মামীদের আদর যত্নে ওরা বেশ আনন্দেই আছে। সাথে আছে মামাতো ভাই তমাল,ভালোই দিন কাটছে তিনজনের। এদিকে ওদের যা অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মন,তাই ওদের মা বার বার বলে দিয়েছে কোনো দুঃসাহসিক কাজ যেনো না করে ওরা। এর আগে এক রহস্য সমাধান করতে গিয়ে নিজেরা ভালোই বিপদে পড়েছিল। ওরা দু ভাই বোন প্রথম কদিন শুনেছিল মায়ের কথা। তারপর যেই করে সেই। একদিন ঘটলো এক ঘটনা। মামাতো ভাইয়ের সাথে এক ফাঁকা জায়গায় ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বেচারা তিনজন আটকে গেলো প্রবল বৃষ্টির কারণে। কোনোরকমে গাছের তলায় দাঁড়ালেও যা ঝড় আর বৃষ্টির বেগ ওরা তিনজন এক নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে লাগলো। হঠাৎ করেই খুঁজে পেলো এক বাড়ী যদিও সেটা তালাবন্ধ বাইরে থেকে, তাও বাড়ীর কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। শেডের তলায় দাঁড়িয়ে যদি একটু ঝড় বৃষ্টি থেকে বাঁচা যায়। তমাল বললো ভুল হলো রে, তোদের এদিকে না আনলেই হতো। এই বাড়িটা তো আরোই ফাঁকা, কি জানি কখন যে বৃষ্টি কমবে! আরে দাড়া না তমাল দা, বৃষ্টি কমে গেলেই তো বেরিয়ে পড়বো আমরা। এত ভয় দেখাস না, তিন্নি বললো। তিনজন প্রায় কাকভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো, টুবাই প্রায় চেঁচিয়ে বলে উঠলো ওই দেখ দিদি আলো জ্বলছে মনে হচ্ছে,এই বাড়ী থেকেই আসছে মনে হচ্ছে। তমাল বললো ভুল দেখেছিস তুই, ওদিকে আর তাকাসনা। তুমি কি ভূতের ভয় পাচ্ছো তমাল দা? বলেই তিন্নি ফিক করে হেসে ফেললো। তিনজন অনেকক্ষণ ধরেই দেখলো একটা আলো জ্বলছে, সম্ভবত বাড়ীর পেছন দিক থেকে আসছে আলোটা। বৃষ্টি একটু ধরতে ওরা এগোলো আলোর উৎস সন্ধানে। অস্ত্র বলতে দুটো ব্যাট আর একটা বল ওদের কাছে রয়েছে। বাড়ীর পেছনে গিয়ে দেখলো একটা জানলা দিয়ে আলো আসছে। জানলা টা হালকা খোলা ছিলো, তিন্নি ঠেলা মারতেই খুলে গেলো জানলাটা। যা দেখলো তিনজন চমকে উঠলো। প্রায় গোটা পাঁচ ছয়েক কম্পিউটার চলছে। এক কোণায় অনেকগুলো অস্ত্রশস্ত্র পড়ে আছে। তিন্নি তমালকে ইশারায় একটা ভিডিও করতে বললো। কিন্তু তমাল বোঝার আগেই তিন্নি আর টুবাইয়ের মুখ যেনো কেউ চেপে ধরলো। তারপর আর কিছু মনে নেই ওদের। যখন সম্বিত ফিরলো ওদের দেখলো একটা ঘরে দু ভাইবোন হাত পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তমাল দা? কোথায় তুমি? টুবাই তিন্নিকে বললো দাদা মনে হয় আমাদেরকে উদ্ধার করতে সবকথা বলতে গেছে মামাবাড়িতে। তিন্নি ঘষটে ঘষটে দরজার কাছে গিয়ে দেখলো বাইরে দুজন বন্দুকধারী পাহারা দিচ্ছে। এদিকে ওদের মামাবাড়িতে হুলস্থূল পড়ে গেছে, কোথায় গেলো তিনজন! রাতের দিকে তমাল ফিরলো বিধ্বস্ত অবস্থায়। ওকে দেখে সবাই চেঁচিয়ে উঠলো তিন্নি আর টুবাই কোথায়? তমাল কোনোরকমে সব বললো। মামা আর দাদু সব শুনে কেমন হতভম্ব হয়ে গেলো। কি করবে না করবে বুঝতে পারছিল না কেউ। মামী বললেন পুলিশে জানানো দরকার। দিদা বললেন এতে যদি ওদের ক্ষতি করে ওই দুষ্কৃতী গুলো! 
এদিকে রাত গভীর হতেই তিন্নি অনেক চেষ্টা করে ভাইয়ের বাঁধন আলগা করে দিলো। তারপর টুবাই ওকে বাঁধন মুক্ত করলো। একপাশে খাবার রাখা ছিলো। ওরা কিছু খেলো না। কি ভাবে বেরোবে এই প্ল্যান করতে লাগলো। ঘরে যে জানলা ছিলো তার শিক গুলো কিছুটা কমজোরী ছিলো। তিন্নি চেষ্টা করতে লাগলো যদি খোলা যায় একটা শিক অন্তত। কিন্তু লাভ হলোনা,আওয়াজ পেয়ে বাইরের পাহারাদার গুলো এসে ওদের বন্দুক দেখিয়ে আবার হাত পা বেঁধে ফেলে রেখে গেলো। দরজা খোলা থাকার জন্য তিন্নি শুনতে পেলো কাল কিছু অস্ত্র এরা পাচার করবে আর ওই কম্পিউটারগুলো হলো সাইবারক্রাইমের উৎস। কিন্তু কী করবে ভেবে পায়না! 
পরের দিন সকালে, 
তিন্নি আর টুবাই শুনতে পেলো একটা হেলিকপ্টারের শব্দ, বাড়িটার ওপর যেনো চক্কর দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর পুলিশের আনাউন্সমেন্ট, পুরো বাড়ী ঘিরে ফেলা হয়েছে। কেউ কোথাও পালানোর চেষ্টা করবেন না। ওদের ঘরের জানালার শিক ভেঙে তমালদা ঢুকে এলো। ওদের বাঁধন মুক্ত করলো। বললো তিন্নি তোর ক্লিপ বাইরে পড়ে থাকতে দেখে বুঝেছি তোরা এখানেই আছিস। কিন্তু তমাল দা তুই কি করে কাল পালাতে পারলি? যখন দেখলাম তোদের ওরা মুখ চেপে ধরেছে আমি একটু দূরে গাছের আড়ালে চলে যাই। অন্ধকার হওয়ায় ওরা দেখতে পায়নি আমায়। কিন্তু মেন গেট দিয়ে বেরোতে গিয়ে ওদের একজন আটকাতে আসে আমায়। তাকে ব্যাট দিয়ে দু তিনবার মারতেই সে নিজেকে সামলাতে আমাকে ছেড়ে দেয়। তারপর কোনোরকমে পালাতে পারি আমি। বাড়ী গিয়ে সব বলতেই দাদু আর বাবা পুলিশে খবর দেয়। এত তাড়াতাড়ি সব হয়েছে যে দুষ্কৃতী গুলো পালাতে পারেনি। আজ ওরা পালানোর প্ল্যান করছিল কিন্তু তার আগেই পুলিশ নিয়ে আমরা চলে এসেছি। চল চল দেখ গুলি গালার আওয়াজ পাচ্ছিস! সবকটা ধরা পড়লো বোধহয়। ওরা তিনজন বাইরে বেরোলো। দাদু ওদের দেখে জড়িয়ে ধরলো। পুলিশ অফিসার এসে বললেন আজ এই তিনজন বাচ্চার জন্য আমরা একটা বড় গ্যাংকে ধরতে পারলাম। আমরা বাচ্চা নই,টুবাই বললো। হেসে উঠলো সবাই। পুলিশ অফিসার বললেন সরি তোমরা বাচ্চা নও,তোমরা সব সাহসী যোদ্ধা। আমাদের আগামী অনুষ্ঠানে তোমাদের পুরস্কৃত করা হবে। এত বড় একটা গ্যাং তোমরা ধরিয়ে দিয়ে দেশকে রক্ষা করলে। ওদের মামা বললো চল বাড়ী,দেখ ওখানে কি পুরস্কার অপেক্ষা করছে তোদের জন্য? পুলিশের জিপ ওদের সবাইকে নামিয়ে দিয়ে গেলো। মামাবাড়ি পৌঁছে দেখে গ্রামের সবাই দাঁড়িয়ে আছে ওদের মিষ্টিমুখ করাবে বলে,সাথে নিউজ চ্যানেলের রিপোর্টার রাও। আর পাশে মামী,দিদা আর তিন্নি 
টুবাইয়ের মা বাবাও। মাকে দেখে তিন্নি একটু ভয় পেলেও দাদু বললো চল আমি আছি। যেখানেই তোদের পাঠাই রহস্য তোদের পেছন ছাড়েনা, তিন্নির মা বললেন। এবারে কিন্তু তমাল দা আমাদের নিয়ে গেছিলো খেলতে ওখানে, আমাদের কোনো দোষ নেই,বললো টুবাই। ওর কথা শুনে সকলে হেসে উঠলো। আমি কিছু করিনি পিসি, সব দোষ বৃষ্টির কিন্তু। চল চল মিষ্টি খাবি, তিন্নির বাবা বলে উঠলেন। ওদের সকলকে নিয়ে বাড়ী ঢুকলেন দাদু আর মামা। দাদু বললেন এরম দুঃসাহস ওরা দেখাবেনা তো কারা দেখাবে? ওদের কেউ বকবেনা। থ্যাঙ্ক ইউ দাদু! তিন্নি টুবাই আর তমাল একসাথে বলে উঠলো। দাদু ওদের কানে কানে বললেন নেক্সট টাইম ওয়েটিং ফর এনাদার অ্যাডভেঞ্চার। সিওর! তিন্নি বললো। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

যে চিঠি কখনো হয়নি পাঠানো✍️ ডা: অরুণিমা দাস

যে চিঠি কখনো হয়নি পাঠানো
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সারাদিনের কাজের পরে একটু লেখালিখি করা অভ্যেস অরিনের। মাঝে মাঝে বস যা কাজের টার্গেট দেয় নিজেকে পাগল পাগল লাগে অরিনের।ক্লায়েন্ট কল অফিস যাওয়া খাওয়া দাওয়া সব সামলে রাতে ঘুমোনোর আগে একটু লেখালিখি না করলে মনে হয় যে কিছু একটা হলো না যেনো। আজ মনে হলো একটু অন্য কিছু লিখবে। বইয়ের তাক থেকে ডায়েরীটা বের করলো। হঠাৎ কী মনে হলো বইগুলো খুলে দেখতে লাগলো অরিন। কত গল্পবই পড়েছে একসময় আর এখন স্ক্রিন টাইম এত বেশী হয়ে গেছে যে বই পড়ার ইচ্ছে থাকলেও হয়ে ওঠেনা। নিজের সংগ্রহের বইগুলো খুলে দেখতে লাগলো। দেখতে দেখতে একটা বই হাতে তুলে নিলো,পথের দাবী। বইটা খুলে কয়েক পাতা উল্টিয়ে দেখতে দেখতে হাতে এলো একটা চিঠি। চিঠি খুললো অরিন,পড়ে হারিয়ে যেতে লাগলো ছোটবেলার সেই দিনগুলোতে। স্কুল জীবনে খুব লেখালিখি করত, হয়তো ভালোই লিখত। বন্ধুরা সেই নিয়ে খুব হাসাহাসি করত তাই নিজেকে অতটা মেলে ধরতে পারতোনা। এই চিরকুটে একটা কবিতা লেখা আছে আর সেটা লেখা হয়েছিলো প্রকাশককে পাঠানোর উদ্দেশ্যে। কিন্তু চিঠি পৌঁছোয়নি তার গন্তব্যে। তখন ক্লাস নাইন,পড়াশোনাতে মনোযোগ দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো দিকে নজর দেওয়া বারণ ছিলো অরিনের বাড়ী থেকে। অরিন ভাবে এই চিঠি যদি প্রকাশকের দপ্তরে পাঠানো হতো কি হতে পারতো! হয়তো ছাপা হতো বা ছিড়ে ফেলে দেওয়া হতো। দুটোর কোনো একটা হতো। হলদেটে হয়ে যাওয়া চিঠি টা অরিনকে বড় আবেগপ্রবণ করে তুললো। 
- কি ভাবছো? হুম! স্ত্রী জয়িতা কখন এসে দাঁড়িয়েছে খেয়াল করেনি অরিন। 
- আবার কি পাঠাবে নাকি চিঠিটা? 
- না না, প্রকাশক এখনো এই পত্রিকা চালান কিনা জানিনা। তবে অনেক পুরোনো কথা মনে পড়ে গেলো,বুঝলে?
- হ্যা বুঝলাম। তোমাকে তো অনেকবার বলেছি লেখালিখি করো যখন দু একটা জায়গায় পাঠিয়ে দেখো। তুমি তো শুনতে চাওনা। 
- না থাক। একসময় যখন পাঠাতে চেয়েছিলাম অনেক আপত্তি এসেছিল। শুধু পড়াশোনা করেই বড় হওয়া যায় এটাই বলা হয়েছিলো। তার চেয়ে বরং লেখাগুলো ডায়েরিতে থাক। আর নিয়মিত পাঠিকা তো আছেই আমার। তোমার জন্যই তো রোজ লেখালিখিটা করতে পারি। অপেক্ষায় থাকি তোমার কেমন লাগলো লেখা সেটা জানার। 
- আমি একাই কেনো পাঠক হবো? আরও অন্যদেরও সুযোগ করে দাও তোমার লেখা পড়ার। 
- সে পরে দেখা যাবে।
- এই চিঠিটা গুছিয়ে রেখে দিও। এগুলোই তোমার জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ। 
- হ্যা। তুমি যে এত ভালো বোঝো আমায় এটাই আমার জীবনের পাওনা।
- আর আমার আক্ষেপ একটাও প্রেমপত্র না পাওয়া তোমার থেকে,যে কিনা এত সুন্দর লেখে। 
- কি যে বলো! অরিন হেসে ফেললো। 
আসলে সব কথা তুমি বুঝেই যাও তাই আর আলাদা করে পত্র দিতে হয়না। 
- অনেক হয়েছে। এবার বইগুলো গুছিয়ে রেখে দাও। 
আবার কাল তো অফিস। পরে না হয় কোনোদিন দেখো আবার কোনো চিঠি খুঁজে পাও কিনা! এরম চিঠি কখনো পেলে আর নিজে নয় সবার আগে তোমাকেই পড়তে দেবো জয়িতা। তোমার তাহলে প্রেমপত্রের জন্য আক্ষেপটা থাকবেনা। হেসে ফেললো জয়িতা আর হয়তো হেসে উঠলো বইয়ের ভাঁজে থাকা চিঠিটা যে এতদিনের অপেক্ষায় ছিলো কেউ তো তাকে পড়বে,ফিরে যাবে পুরোনো দিনগুলোতে আর তাতেই চিঠিটা লেখা সার্থক হবে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

যে চিঠি কখনো হয়নি পাঠানো✍️ ডা: অরুণিমা দাস

যে চিঠি কখনো হয়নি পাঠানো
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সারাদিনের কাজের পরে একটু লেখালিখি করা অভ্যেস অরিনের। মাঝে মাঝে বস যা কাজের টার্গেট দেয় নিজেকে পাগল পাগল লাগে অরিনের।ক্লায়েন্ট কল অফিস যাওয়া খাওয়া দাওয়া সব সামলে রাতে ঘুমোনোর আগে একটু লেখালিখি না করলে মনে হয় যে কিছু একটা হলো না যেনো। আজ মনে হলো একটু অন্য কিছু লিখবে। বইয়ের তাক থেকে ডায়েরীটা বের করলো। হঠাৎ কী মনে হলো বইগুলো খুলে দেখতে লাগলো অরিন। কত গল্পবই পড়েছে একসময় আর এখন স্ক্রিন টাইম এত বেশী হয়ে গেছে যে বই পড়ার ইচ্ছে থাকলেও হয়ে ওঠেনা। নিজের সংগ্রহের বইগুলো খুলে দেখতে লাগলো। দেখতে দেখতে একটা বই হাতে তুলে নিলো,পথের দাবী। বইটা খুলে কয়েক পাতা উল্টিয়ে দেখতে দেখতে হাতে এলো একটা চিঠি। চিঠি খুললো অরিন,পড়ে হারিয়ে যেতে লাগলো ছোটবেলার সেই দিনগুলোতে। স্কুল জীবনে খুব লেখালিখি করত, হয়তো ভালোই লিখত। বন্ধুরা সেই নিয়ে খুব হাসাহাসি করত তাই নিজেকে অতটা মেলে ধরতে পারতোনা। এই চিরকুটে একটা কবিতা লেখা আছে আর সেটা লেখা হয়েছিলো প্রকাশককে পাঠানোর উদ্দেশ্যে। কিন্তু চিঠি পৌঁছোয়নি তার গন্তব্যে। তখন ক্লাস নাইন,পড়াশোনাতে মনোযোগ দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো দিকে নজর দেওয়া বারণ ছিলো অরিনের বাড়ী থেকে। অরিন ভাবে এই চিঠি যদি প্রকাশকের দপ্তরে পাঠানো হতো কি হতে পারতো! হয়তো ছাপা হতো বা ছিড়ে ফেলে দেওয়া হতো। দুটোর কোনো একটা হতো। হলদেটে হয়ে যাওয়া চিঠি টা অরিনকে বড় আবেগপ্রবণ করে তুললো। 
- কি ভাবছো? হুম! স্ত্রী জয়িতা কখন এসে দাঁড়িয়েছে খেয়াল করেনি অরিন। 
- আবার কি পাঠাবে নাকি চিঠিটা? 
- না না, প্রকাশক এখনো এই পত্রিকা চালান কিনা জানিনা। তবে অনেক পুরোনো কথা মনে পড়ে গেলো,বুঝলে?
- হ্যা বুঝলাম। তোমাকে তো অনেকবার বলেছি লেখালিখি করো যখন দু একটা জায়গায় পাঠিয়ে দেখো। তুমি তো শুনতে চাওনা। 
- না থাক। একসময় যখন পাঠাতে চেয়েছিলাম অনেক আপত্তি এসেছিল। শুধু পড়াশোনা করেই বড় হওয়া যায় এটাই বলা হয়েছিলো। তার চেয়ে বরং লেখাগুলো ডায়েরিতে থাক। আর নিয়মিত পাঠিকা তো আছেই আমার। তোমার জন্যই তো রোজ লেখালিখিটা করতে পারি। অপেক্ষায় থাকি তোমার কেমন লাগলো লেখা সেটা জানার। 
- আমি একাই কেনো পাঠক হবো? আরও অন্যদেরও সুযোগ করে দাও তোমার লেখা পড়ার। 
- সে পরে দেখা যাবে।
- এই চিঠিটা গুছিয়ে রেখে দিও। এগুলোই তোমার জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ। 
- হ্যা। তুমি যে এত ভালো বোঝো আমায় এটাই আমার জীবনের পাওনা।
- আর আমার আক্ষেপ একটাও প্রেমপত্র না পাওয়া তোমার থেকে,যে কিনা এত সুন্দর লেখে। 
- কি যে বলো! অরিন হেসে ফেললো। 
আসলে সব কথা তুমি বুঝেই যাও তাই আর আলাদা করে পত্র দিতে হয়না। 
- অনেক হয়েছে। এবার বইগুলো গুছিয়ে রেখে দাও। 
আবার কাল তো অফিস। পরে না হয় কোনোদিন দেখো আবার কোনো চিঠি খুঁজে পাও কিনা! এরম চিঠি কখনো পেলে আর নিজে নয় সবার আগে তোমাকেই পড়তে দেবো জয়িতা। তোমার তাহলে প্রেমপত্রের জন্য আক্ষেপটা থাকবেনা। হেসে ফেললো জয়িতা আর হয়তো হেসে উঠলো বইয়ের ভাঁজে থাকা চিঠিটা যে এতদিনের অপেক্ষায় ছিলো কেউ তো তাকে পড়বে,ফিরে যাবে পুরোনো দিনগুলোতে আর তাতেই চিঠিটা লেখা সার্থক হবে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

শিরোনাম - সফলতা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - সফলতা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সফলতা মানে নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়াকেই বুঝি আমরা। সবার কাছে হয়তো সফলতার সংজ্ঞা এক নয়। সমাজের চোখে সফলতা মানে সুপ্রতিষ্ঠিত সাথে বাড়ী গাড়ি। সেই সফলতায় সুখ আছে কিনা সেটা সমাজ জানেনা। বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলে নিজেকে প্রতি বছর ছাপিয়ে যাওয়া সেটা কোনো ছাত্র ছাত্রীর কাছে সফলতা। আবার নিজের রোজগারে বাবা মাকে স্বাচ্ছন্দ্যে রাখা সেটাও কারো কাছে সফলতা। বসের দেওয়া পাহাড়প্রমাণ কাজের টার্গেট পূরণ করে প্রমোশন পাওয়া সেটাও কারো কাছে সফলতা। আসলে সফলতা মানে ঠিক গন্তব্য নয়, এটা একটা পথ আসলে। সেই পথে চলতে চলতে অনেক বাধা আসবে। বাধা কাটিয়ে এগোতে পারলেই সফলতা অর্জন করা যায়। আবার সেই পথে চলে যে সফল হবেই এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। ব্যর্থতা আসতেই পারে আর আসাটাই স্বাভাবিক। আর ব্যর্থ হলে সফল হবার এক জেদ কাজ করে মনের কথা। রবার্ট ব্রুসের গল্প পড়ে আমরা সেই শিক্ষাই পাই। বারবার ব্যর্থ হয়েও যে হাল না ছেড়ে সফল হওয়া যায় সেটাই বোঝা দরকার সকলের। ব্যর্থতাকে সফলতার স্তম্ভ না বলে সফলতার অংশ বললে বোধহয় সেটা বেশী উপযুক্ত বলা হয়। তবে গন্তব্যে পৌঁছে গেলে আর কোথাও এগোবার থাকে না। তাই আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো রোজকার ছোটো ছোটো প্রচেষ্টার মাধ্যমে সাফল্যের পথে এক ধাপ এক ধাপ করে এগিয়ে যাওয়া আর সিড়িভাঙ্গা অঙ্ক সমাধানের মতন সাফল্য অর্জন করা সেটাই সফলতা আর সেটার আনন্দ অনেকগুণ বেশী। তাই রোজ একটি একটু করে এগিয়ে যাওয়াই সফল হবার অনেকখানি জায়গা করে দেয়। 

"হাল না ছেড়ে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই রয়েছে লুকিয়ে সফল হবার মূলমন্ত্র
ব্যর্থতা এলে বুঝিয়ে দাও সে যে সফলতার অংশ,নেই এতে কোনো ষড়যন্ত্র।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

জীবন যখন উল্টোপথে দেয় হাঁটা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবন যখন উল্টোপথে দেয় হাঁটা ✍️ ডা: অরুণিমা দাস রথযাত্রার দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে দেখা গেলো ছোট্ট একটা রথ রাখা আর তাতে প্রভু জগন্নাথ বলরা...