অহিংসা-প্রতিবাদের শক্তি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
হিংসাত্মক প্রতিবাদের চেয়ে অহিংসার পথ অনুসরণ করা অনেকাংশে শ্রেয়। অপরপক্ষে যে থাকবে তার বিবেক জাগ্রত করতে হলে হিংসার পথ নয় বরং অহিংসভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। অহিংসতার কাজের সাথে রেডিয়ামের অনেকটা সাদৃশ্য পাওয়া যায়। একটি মারাত্মক বৃদ্ধিতে মিশে থাকা কোষের ওপর রেডিয়াম ক্রমাগত নীরবে এবং অবিরামভাবে কাজ করে যতক্ষণ না এটি রোগাক্রান্ত কোষকে একটি সুস্থ কোষে রূপান্তরিত করে। একইভাবে এমনকি সামান্য পরিমাণ প্রকৃত অহিংসাও নীরব,সূক্ষ্ম ও অদৃশ্য উপায়ে কাজ করে এবং মনের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ,হিংসা আর বিদ্বেষকে সমূলে উৎপাটন করতে সাহায্য করে।
অন্যভাবে ভাবতে গেলে অহিংসাকে একটি মনস্তাত্ত্বিক বিজ্ঞানও বলা যায়। বিজ্ঞানের শব্দভাণ্ডারে 'ব্যর্থতা' শব্দটির কোনও স্থান নেই।
অহিংসার মূল তাৎপর্য হল,আমাদের মধ্যে থাকা অহিংসা আমাদের প্রতি আমাদের প্রতিপক্ষের মনোভাবকে নরম করে তুলবে,কঠোর নয়। এটা তার মনে একটি প্রতিক্রিয়াশীল সুরে আঘাত করবে। যদিও সেই আঘাতে তার শারীরিক কোনো ক্ষতি হবেনা,কিন্তু মননশীল চিন্তার উন্নতি হবে কয়েকগুণ।
গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলন আর সত্যাগ্রহ আন্দোলন অহিংসা নীতির প্রয়োগ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তিনি অত্যাচারীর তরবারির ধার ভোঁতা করতে চেয়েছেন কিন্তু সেটা কোনো অস্ত্রপ্রয়োগে নয় বরং তার মনের পরিবর্তন ঘটিয়ে অহিংসতার মাধ্যমে তার হিংস্র মনোভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে চেয়েছেন।
আরও একটি অহিংসা সর্ম্পকিত উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করে নেওয়া যাক। ১৯৬০-এর দশকে আফ্রিকান ও আমেরিকানদের সমতার জন্য লড়াই করা ছিল লুথার কিংয়ের মূল উদ্দেশ্য। ২০১৭ সালের হিসাবে কলম্বিয়া,ইয়েমেন, এল সালভাদর,পাকিস্তান এবং নাইজেরিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ।
কলম্বিয়া মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মুখোমুখি। পাকিস্তান একটি ধর্মীয় যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে যেখানে নিরীহ পথচারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। নাইজেরিয়া দুটি চরমপন্থী গোষ্ঠী বোকো হারাম এবং পশ্চিম আফ্রিকার আইসিস দ্বারা আতঙ্কিত। তবে সহিংসতা কেবল এই দেশগুলিতেই নয় বরং বিশ্বের একটি বিশাল অংশে একটি সাধারণ প্রবণতা। ক্যারিবিয়ান থেকে আফ্রিকা এমনকি এশিয়ার কিছু অংশেও সহিংসতা একটি মহামারী।
সহিংসতা একটি চলমান চক্র যা ভাঙা কঠিন,এবং লুথার কিং এর চেয়ে বেশি কেউ এটি বুঝতে পারেননি বলে মনে হয়। তিনি অহিংস কর্মকাণ্ডের শক্তি এবং সেই শক্তি সম্পর্কে প্রচার করেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং অন্যান্য অহিংস প্রতিবাদ প্রকৃত পরিবর্তন আনতে পারে।
বর্তমানে যেমন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অহিংসা নীতির প্রয়োগ হলে অনেক ক্ষেত্রে হিংসা হানাহানি বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন সহজ হবে।
"প্রতিবাদ হোক নম্র,কোনো হানাহানি আর অস্ত্র প্রয়োগ নয়
হিংস্র নয়, অহিংসতার নীতি প্রয়োগে কোমল হোক শত্রুর হৃদয়।"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন