শিরোনাম - সিদ্ধান্তের দায়
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
সিদ্ধান্ত খুব ছোট্ট একটি শব্দ কিন্তু গভীরতা অনেক বেশী। সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ভাবতে হয় অনেক কিছু, হয়তো কোনোকিছু বা সবার বিপক্ষে গিয়ে নিতে হয় কিংবা নিজের ভালো করতে নিতে হয়। সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখতে গিয়ে কিছু টুকরো টুকরো ঘটনা মনে পড়ছে। সেগুলোকেই গুছিয়ে বলার চেষ্টা করছি। স্কুলজীবনে ব্যাকবেঞ্চার ছিলাম ফাইভ সিক্স অবদি। প্রথম দশে থাকা বন্ধুরা পাত্তাই দিতো না,কথা বলতে গেলে একটা অহংভাব বোঝা যেতো ওদের মধ্যে। নোটস চাইলে কিছু বাহানা দিয়ে এড়িয়ে যেতো। তাই আমরা কয়েকজন ব্যাক বেঞ্চাররা ঠিক করলাম নিজেরাই যা পারবো নোটস নেবো,কারোর কাছে চাইবোনা। সেই বন্ধুদের কিছুজন যারা আমরা শেষ দশে পাকাপাকি ভাবে থাকতাম তারা কিছুটা এগিয়ে এলাম। মিডল বেঞ্চার হলাম আমরা কিছুজন। সেই বন্ধুদের একজন আজ বেশ বড়ো মাপের গায়িকা, গান শুনে মনে একটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রথম দশে থাকা বন্ধুরা এখন মাঝে মাঝে দেখা হলে নিজেরাই কথা বলে। সবার সাথে ভালোভাবেই কথা বলা হয়। যে যেমন ভাবে ভেবেছে সেরকম হয়েছে হয়তো।
কলেজ জীবনে প্রবেশ করে সেকেন্ড ইয়ারে দুজন ভালো বন্ধু পেয়েছিলাম। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এমবিবিএস এর ফাইনাল পরীক্ষার বৈতরণী গুলো উতরে যাওয়া যেতো। এরপর ইন্টার্নশিপে সবার পোস্টিং আলাদা ওয়ার্ডে হলো। তাও দিনের শেষে পাঁচ দশ মিনিট হলেও কথা বলার চেষ্টা চলতো। একজন বন্ধু ইন্টার্নশিপ শেষ করে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে জয়েন করলো,এখন কথা হলে যেমন ও বলে তখন তোদের সাথে একসাথে পড়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনটা করে নিলেই হতো। ওকে বোঝানো হয় তখনকার সিদ্ধান্ত তোর যেটা ভালো মনে হয়েছিলো নিয়েছিলি,এখন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কর। ও বলতো এই বয়সে আবার পড়াশোনা! এম সি কিউ করা কি পোষাবে! যাইহোক ও সিদ্ধান্ত নিলো আবার পড়া শুরু করবে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এন্ট্রান্স এক্সামও দিয়েছে সদ্য। দেখা যাক কি হয়! সিদ্ধান্ত কোন দিকে নিয়ে যায় ওকে। আশা করি ভালোই হবে। সুমন ছিলো আরেকজন খুব ভালো বন্ধু,ইন্টার্নশিপের পর যখন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন এর পরীক্ষা দিচ্ছি আমরা সবাই,ও পেলো পাবলিক হেলথ নিয়ে এম ডি করার সুযোগ। সবাই বললো এই সাবজেক্ট না নিয়ে ক্লিনিক্যাল কিছু নে। সুমন বললো না আবার ওই চব্বিশ সাবজেক্ট পড়ে পরীক্ষা দেওয়া অসম্ভব। পাবলিক হেলথ নিয়ে পড়লো সুমন। এখন বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের সাথে প্রজেক্ট এ লিড করে সুমন আর দু বছরে একবার বিদেশ সফর করতেই হয়,
অর্গানাইজেশনের কাজে। কাজও হয় বিদেশ ঘোরাও হয়ে যায়। ও যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তার দায় ওর। যারা বড় বড় কথা বলেছিল তাদের দায়ও তাদের নিজস্ব। সুমন যে বছর চান্স পেয়েছিল সেই বছর আমি কোনো সাবজেক্ট নিতে পারিনি। আবার পরীক্ষা দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তার দায় ও আমার,আজ তা বুঝতে পারি। তারপর এম ডি করতে ঢুকে বন্ধুদের স্বরূপ চিনে তাদের থেকে দূরে সরে এসে কলম তুলে নিয়েছিলাম,আমার সেই সিদ্ধান্তের দায়ও আজ আমার। আর কলম তুলে নিয়েছিলাম বলেই আজ সবার কথাগুলো একজায়গায় লেখার চেষ্টা করছি। কলমকে বন্ধু করেছিলাম বলে লেখক ও লেখনী গ্রুপে যুক্ত হতে পেরেছি। চেষ্টা করি নিয়মিত লেখারও। সব রকম সিদ্ধান্ত, ভুল ঠিক যাই হোক দায়ভার সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকেই নিতে হয়,আর সাথে নিতে হয় নিজেকে ভালো রাখার দায়িত্ব।
"ছোট্ট একটি শব্দ, কিন্তু বেশ কয়েক গুণ বেশি তার গভীরতা
পরিণত হোক চিন্তাধারা,গ্রাস না করুক সিদ্ধান্তহীনতা।"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন