জীবন যখন উল্টোপথে দেয় হাঁটা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
রথযাত্রার দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে দেখা গেলো ছোট্ট একটা রথ রাখা আর তাতে প্রভু জগন্নাথ বলরাম আর সুভদ্রার মূর্তি। একি? রথ কে আনলো? এখন রথ টানতে ইচ্ছে হলেও সময় তো হয়না আর ছোটটিও নেই এখনো। হঠাৎ দেখি একটি বাচ্চা মেয়ে রথের ভেতরটা সুন্দর করে গুছিয়ে দিচ্ছে। মেয়েটা সামনে ঘুরতেই দেখি এটা তো আমি! ছোটবেলা কি ফিরে এলো নাকি? এরম হয় আদৌও? দেখি মেয়েটা বাড়িময় ঘুরে বেড়াচ্ছে আর বলে বেড়াচ্ছে আজ স্কুল ছুটি,মাসী বাড়ী যাবে প্রভু জগন্নাথ ও তাঁর ভাইবোন। কে যেনো বললো তুইও যা মামাবাড়ি ঘুরে আয়। বায়না করতে থাকে মেয়েটি মামাবাড়ি যাওয়ার। এমনিতেই দাদু ঠাকুমার বাড়ীর থেকে মামাবাড়ি মেয়েটির খুব প্রিয়। সেখানে গেলেই যে দিদা দাদুর ভালোবাসা সাথে নো পড়াশোনা। চোখের সামনে সব ভেসে উঠতে লাগলো। যদি দিনগুলো সত্যি ফিরে আসতো আরেকবার ছোটবেলা উপভোগ করা যেতো। তারপর ভেসে উঠলো স্কুল জীবনের কিছু ঘটনা। ফ্যান্সি ডবল ডেকার পেন্সিলবক্সের খুব ইচ্ছে ছিল কিন্তু কেনা হয়নি কখনো। এখন ইচ্ছে করলেও মনে হয় আর কি বাচ্চা আছি! ক্লাস সিক্স অব্দি পড়াশোনাতে খুব খারাপ রেজাল্ট, স্কুলের মাঠে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা। ক্লাসে ম্যাথসে কম নাম্বার পেয়ে বাড়িতে এসে মিথ্যে বলা। তারপর রেজাল্ট বেরোতে আসল নম্বর দেখে বেদমপ্রহার জোটা। মনে হয় সত্যি কথাটা যদি বলতাম তাহলে এত মার খেতে হতো না।
সময়ের ফেরে অনেক বন্ধুদের সাথেই আর যোগাযোগ নেই কিন্তু যদি যোগাযোগ করা যায় আবার কতই না ভালো হয়। মনে হয় মাঝে মাঝেই।
আবার মাঝে মাঝে মনে হয় বাংলা যখন ভালো লাগত তাহলে কি মেডিকেল পড়ার সিদ্ধান্ত না নিয়ে সাহিত্য নিয়ে পড়লে ভালো হতো নাকি কেমিস্ট্রি নিয়ে গবেষণা করলে ভালো হতো? জানিনা কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল? সব জানেন সর্বশক্তিমান আমরা শুধু তাঁর দিকনির্দেশে চলি জীবনে চলার প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে তাঁর ওপর বিশ্বাস রেখে।
আর পরিবর্তন যদি কিছু করতে হয় তাহলে আমার ব্যবহারে কেউ যদি খারাপ ভাবে সেটা যদি সংশোধন করা যেতো ভালো হতো। হয়তো সব জায়গায় এতটা সরলতা না দেখিয়ে বুদ্ধির মারপ্যাঁচ দেখালে যে যে সময়ে বোকা হয়েছি সেটা হতে হতো না। যা হয়েছে হয়তো ভালোই হয়েছে ঠকে গিয়ে শিখেছি অনেক কিছুই। এখন সব বুঝে শুনে চলার চেষ্টা করা হয় তাই। মানুষ চিনতে এখনও ভুল করি আর মনে হয়না কোনোদিন ঠিক করে মানুষ চিনতে পারবো বলে!
অনেক কিছু সিরিয়াস কথা লেখা হলো এবার বলতে চাইছি সত্যিই প্রতিদিন একটু করে পেছনে হাঁটা দরকার। এতে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে,ওজনও ঠিক থাকে আর ক্যালোরিও ঝরে। বোন ও মাসল স্ট্রেংথ পায়। দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয় এই মানসিক ভাবে শক্তিশালী থাকা যায়।
জীবনের রথ উল্টোদিকে চললে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না এমন নয় বরং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয় নতুন দিশা দেখায় চলার পথে। ভুলগুলো শুধরে নিয়ে চললে মানসিক দৃঢ়তা বাড়ে ও উদ্যমী হয়ে এগিয়ে যাওয় যায়।
"উল্টোপথে চললে জীবন না হয়ে অবাক,সেখান থেকে নাও শিক্ষা
শুধরে নিয়ে ভুলগুলো,নব উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার পাবে দীক্ষা।"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন