বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

শিরোনাম - বন্ধ দরজার আড়ালে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - বন্ধ দরজার আড়ালে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বন্ধুদের নিয়ে ছুটিতে গ্রামে ঘুরে আসার প্রস্তাব দিলো তন্ময়। শুনে তো বাকি তিন বন্ধু রাকেশ,শুভ আর সিদ্ধার্থ একপায়ে খাড়া। চারজন ই কলেজে পড়ছে ইতিহাস নিয়ে। ওদের ইচ্ছে ভবিষ্যতে আরও পড়াশোনা করার, গবেষণা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। তো পুরোনো বাড়ী শুনে তিন বন্ধুর মনে একরাশ খুশির ছোঁয়া,যদি কিছু ইতিহাস বেরিয়ে আসে। তন্ময় বললো আমি ছোটবেলায় গরমের ছুটিতে যেতাম তখন খুব একটা কিছু বুঝতামনা। তবে জমিদার বাড়ী আমাদের, সব সময় চাকর বাকর ভর্তি থাকতো। আমি যেখানে যেতাম কেউ না কেউ সঙ্গে থাকতো। তারপর আসতে আসতে দিন বদলালো,জমিদারির সেই মেজাজ আর রইলোনা।পড়াশোনা করে চাকরি পেয়ে কাকু জেঠু সব গ্রাম ছাড়লো। এখন থাকে বলতে আমার দাদুর দূরসম্পর্কের এক ভাইপো আর রামদীন কাকা। এ চিঠি লিখে সব জানিয়ে দিয়েছি। ওরা স্টেশনে থাকবে। যথাসময়ে রওনা দিয়ে দিলো চারজন। পইপই করে তন্ময়ের বাবা বলে দিলেন ঘুরতে যাচ্ছ যাও কিন্তু বাড়ীর যেখানে সেখানে যেওনা। কাকা দের কথা শুনবে। সবাই ঘাড় নেড়ে সায় দিলো। মায়েদের ও আশ্বস্ত করলো কিছু দুঃসাহসিক করবে না ওরা। গোকুলগড় স্টেশনে গাড়ি থামলো। নেমে দেখলো কাকারা দাঁড়িয়ে আছে ওদের নিয়ে যাবে বলে। ওরা সবাই চললো গ্রামের বাড়ির পথে।  বাড়িতে পৌঁছে রামদীন কাকা ওদের সবাইকে দোতলার ঘরে নিয়ে গেলো। দুটো ঘরে ওদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। দরজা খুলে ঢুকলো সবাই। আরেক কাকা বেশী কথা বললো না ওদের সাথে।
রামদীন বললো সাধন বাবু কেমন যেনো হয়ে যাচ্ছেন দিন দিন। যাইহোক খোকা বাবুরা তোমরা এত দূর থেকে এসেছো, হাত মুখ ধুয়ে নাও। আমি দেখি তোমাদের খাবার ব্যবস্থা করি। তন্ময় বললো খাবো পরে আগে বাড়িটা ঘুরে দেখি সবাই। আচ্ছা দেখো। ওরা চারজন একটু ফ্রেশ হয়ে বাড়ী দেখতে বেরোলো। বেশ ভালো লাগছিলো ওদের। আগে তিনতলার ঘরগুলো দেখলো, ছাদ থেকে ঘুরে এলো। শুভ বললো পুরোনো বাড়ী, গুপ্তধন কিছু পাবো নাকি রে তন্ময়? সিদ্ধার্থ বললো না মনে হয় জমিদারি তো ওদের চুকে বুকে গেছে। তন্ময় বললো চল এবার নিচের ঘরগুলো দেখবো। দোতলায় নেমে বারান্দা ধরে ঘুরতে লাগলো ওরা। একদম কোণার দিকে একটা ঘর দেখলো যার দরজা দুটো তালা দিয়ে বন্ধ। ঘরের দিকে তাকালে এক অমোঘ আকর্ষণে ওদের মনে হলো দরজা খুলে যেনো কিছু পাওয়া যাবে। রামদীন কাকার ডাকে ওদের চিন্তায় ছেদ পড়লো। কাকা বললো চলো খাবার ঘরে চলো। তন্ময় বললো আচ্ছা কাকা এই দরজাটা বন্ধ কেনো? কি আছে দরজার আড়ালে? 
- দেখো খোকা বাবু তোমরা ঘুরতে এসেছো, ঘোরো খাওয়া দাওয়া করো মজা করো চলে যাও। এসব দরজা নিয়ে আলোচনা ঠিক নয়। এই ঘরে কেউ ঢোকা বারণ। পূজা করে এই দরজায় তালা দেওয়া হয়েছিলো। তখন আমি তোমাদের মতন। এর বেশি কিছু জানি না। 
- আচ্ছা কাকা আমরা কেউ যাবো না। চিন্তা কোরো না তুমি। 
মুখে বললেও ওদের মনে একটা কৌতূহল তৈরি হচ্ছিলো। প্রথম কয়েকদিন ঠিক ছিলো সব,ওরা বাড়িতেও জানালো যে ভালো লাগছে ওদের। ঘুরছে, খাওয়া দাওয়া সব ভালো। 
কিন্তু দিন কয়েক পরে সিদ্ধার্থ বললো একদিন চল রাতে আমরা দরজা খুলে দেখবো কি আছে! বাকিরা খুব একটা সায় দিলোনা তাতে। একটু দমে গেলো সিদ্ধার্থ। 
একদিন রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, সিদ্ধার্থর মনে হলো কেউ যেনো ওকে ইশারা করে ডাকছে। 
বিছানা থেকে উঠে এগিয়ে যেতে লাগলো ও। মনে হলো ওকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে যেনো। সোজা এগিয়ে যেতে লাগলো সেই বন্ধ দরজার দিকে। দরজার সামনে গিয়ে দেখলো দরজাটা খোলা। কে খুললো তবে? দরজা দিয়ে ঢুকে ও দেখলো ঘরের ভেতর একটা কেমন গন্ধ, দেওয়াকে অনেক পশু পাখির মাথা ঝোলানো। গা টা কেমন গুলিয়ে উঠলো। হাত ধরে এক ঝটকায় কে যেনো ওকে ভেতরের দিকে নিয়ে যেতে লাগলো। সেখানে গিয়ে ওর চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগলো এক অত্যাচারের দৃশ্য। কিছু মানুষ কারোর পায়ে পড়ে বলছে এবারের মতন মাপ করে দিন বাবু,পরের বার ঠিক সময়ে সব পাওনা মিটিয়ে দেবো। তারপরও অত্যাচার কমলো না, আরও বেড়ে গেলো। লুটিয়ে পড়লো এক সময় মানুষগুলো। আর সহ্য করতে না পেরে সিদ্ধার্থ বসে পড়লো। একি দেখলো ও?  কারা যেনো ওর কানের কাছে ফিসফিস করে বলছে দরজা খুলে গেছে এবার আমরা আর বন্দি থাকবো না। জমিদারকে শেষ করবো। ভয়ে সিদ্ধার্থ কেঁদে ফেললো। বার বার বোঝাতে লাগলো সে জমিদার নয়। একসময় জ্ঞান হারিয়ে ফেললো সিদ্ধার্থ। যখন জ্ঞান ফিরলো দেখলো বিছানায় শুয়ে আছে। বাকি তিন বন্ধু উদ্বিগ্ন মুখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। রামদীন কাকা দুধ নিয়ে এসে বললো খেয়ে নাও। বারণ করলেম ওই দিকে যেও না,সেই গেলে। কথা শুনলে না আমার। আজ পুরোহিত মশাইকে ডেকেছি। ওই ঘর আবার বন্ধ করতে হবে। কিন্তু কী আছে ওই ঘরে কাকা? দেখো বেশী কিছু জানিনা আমি তবে যেটুকু শুনেছি আমাদের তন্ময় বাবুর পূর্বপুরুষরা খুব অত্যাচারী ছিলেন,প্রজারা পাওনা দিতে না পারলে এই ঘরে এনে বন্দি রাখতেন আর অমানুষিক অত্যাচার করতেন। কেউ ফিরে যায়নি এই ঘর থেকে। তবে ওনার দাদু জমিদারি পাওয়ার পর থেকে প্রজারা শান্তিতে থাকতো। খুব ভালো মানুষ ছিলেন উনি। উনিই এই ঘরে তালা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু হয়তো ভুলে গেছিলেন দরজার পেছনে যারা রয়ে গেলো তারা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তারপর থেকে এই দরজা খোলা হয়নি কোনোদিন। কাল এই দাদাবাবু না গেলে হয়তো দরজা খোলা হতনা কোনোদিন। তোমরা তৈরি হয়ে নাও। পুরোহিত মশাই চলে আসবেন। ওরা চারজন তৈরি হয়ে নীচে গেলো। পুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরোহিত মশাই পুজোর শেষে দোতলার দরজায় তালা দিতে এসে কি মনে হলো,বললেন আর তালা দিতে লাগবেনা। যারা ছিলো তারা বেরিয়ে গিয়েছে। সিদ্ধার্থ হঠাৎ দেখলো কিছু ছায়ামূর্তি ওকে নমস্কার করে যেনো বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে। যেনো বলছে ধন্যবাদ জানাই আমাদের মুক্ত করে দেওয়ার জন্য। হাসিমুখে ওদের দিকে তাকিয়ে রইলো সিদ্ধার্থ। কাকে যে কোন কাজে লাগাবেন ঈশ্বর তিনিই জানেন। এরপর আর কয়েকদিন থেকে ওরা ফিরে এসেছিল শহরে। কলেজ জয়েন করে সিদ্ধার্থ জানতে পারে ওর লেখা এক ঐতিহাসিক প্রবন্ধ সিলেক্ট হয়েছে ভবিষ্যতে এই নিয়ে গবেষণাও করতে পারবে। ওর কেরিয়ারয়ের আরেক দরজা যেনো খুলে গেলো। ঠিক করলো ওই গ্রামে যাবে ও আরেকবার। ওখানকার জমিদারি প্রথার ইতিহাস নিয়েও কিছু লিখবে ও। ওর মনে হতে লাগলো ওখানে গিয়ে একটা দরজা খুলেছিল বলে মহাবিশ্ব ওর জন্য আরও অনেকগুলো দরজা খুলে দিতে শুরু করেছে। তন্ময়রা সবাই ওর সাফল্যে খুব গর্বিত। সিদ্ধার্থও মন দিয়ে কাজ চালিয়ে যায় ওকেও যে বড় হতে হবে। ও যে কোনো এক গ্রামের গরীব প্রজার উত্তরপুরুষ সেটা কেউ না জানলেও ও তো জানে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

শিরোনাম - মাঝরাতের অচেনা ফোন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - মাঝরাতের অচেনা ফোন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বছর দুয়েক আগের ঘটনা,তখন আন্দোলন চলছে তিলোত্তমাকে নিয়ে। মাঝে মাঝেই মঞ্চ থেকে ঘুরে আসতাম সবাই মিলে। পরিস্থিতি খুব সুবিধের ছিলোনা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার চেষ্টা চলছে। যে দিনের কথা বলছি,বলা ভালো যে রাতের কথা বলছি সেটি ছিলো স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন,সেদিন সারাদিন ডিউটি করে এসে ফ্রেশ হয়ে ডিনার করে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম হোস্টেলে। মাঝরাতে হঠাৎ শোরগোল শুনে ঘুম ভেঙে গেলো। ফোনে দেখলাম একগাদা মেসেজ, তিলোত্তমার কলেজে নাকি ভাঙচুর হয়েছে। কেমন যেনো ভয় ভয় হতে লাগলো। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে রইলাম। একটা ফোন এলো সেই সময়ে, ফোনের স্ক্রিনে দেখলাম কোনো নম্বর নেই। ফোন তুললাম, ওপারে ভেসে এলো একটা ভারী গলা,ম্যাডাম একদম দরজা খুলে বেরোবেননা। কোনোরকম শব্দ হলেও না। খুব সম্ভবত পরের হামলা কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার হাসপাতালে হতে পারে। ভুয়ো হুমকি মনে হলোনা কেনো যেনো! কি ভাবলাম রুমে লাইট জ্বেলে সারারাত থাকলাম। পরদিন সকালে উঠে দরজা খুলে বেরিয়ে দেখলাম থমথমে পরিবেশ। ব্রাশ করতে যাচ্ছি এমন সময়ে একজন মেয়ে দেখলাম ওয়াশরুমের দিক থেকে আসছে। আমাকে দেখে বললো কাল রাতে কি হয়েছিলো জানো? বললাম কি হয়েছিলো গো?!বললো কারা যেনো দলবল নিয়ে পাঁচিল টপকে এসেছিল আর আমাদের মেইন গেটে প্রায় জনা পঞ্চাশেক পুলিশ পাহারা ছিলো। মাঠের পাশে পুরো ধোঁয়ায় ভরেছিল। কারা করেছিলো এসব বোঝা যায়নি। তোমাকে সাবধান করতে দরজা ধাক্কা দিয়েছিলাম দু তিন বার। কিন্তু তুমি দরজা খোলোনি। ভেবেছিলাম ঘুমিয়ে পড়েছো হয়তো। আমরা সবাই মেইন দরজা যেটা দিয়ে অন্য ফ্লোরে যাওয়া যায় সেই দরজা ভালো করে দড়ি বেঁধে বন্ধ করেছিলাম। ছিটকিনি কাজ করছিলো না।  সব শুনলাম কিন্তু ওই ফোনের কথা কাউকে বলতে পারিনি। জানি না কে ছিলো ফোনের ওপারে কিন্তু আমায় সেদিন রক্ষা করেছিলো সেই একটা ফোন। তারপর বেশ কয়েক সপ্তাহ হোস্টেলে থাকিনি। বাড়ী থেকে ডিউটি করেছি। কিন্তু সেই রাতের কথা আজও মনে পড়লে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

জীবন যখন উল্টোপথে দেয় হাঁটা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবন যখন উল্টোপথে দেয় হাঁটা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

রথযাত্রার দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে দেখা গেলো ছোট্ট একটা রথ রাখা আর তাতে প্রভু জগন্নাথ বলরাম আর সুভদ্রার মূর্তি। একি? রথ কে আনলো? এখন রথ টানতে ইচ্ছে হলেও সময় তো হয়না আর ছোটটিও নেই এখনো। হঠাৎ দেখি একটি বাচ্চা মেয়ে রথের ভেতরটা সুন্দর করে গুছিয়ে দিচ্ছে। মেয়েটা সামনে ঘুরতেই দেখি এটা তো আমি! ছোটবেলা কি ফিরে এলো নাকি? এরম হয় আদৌও? দেখি মেয়েটা বাড়িময় ঘুরে বেড়াচ্ছে আর বলে বেড়াচ্ছে আজ স্কুল ছুটি,মাসী বাড়ী যাবে প্রভু জগন্নাথ ও তাঁর ভাইবোন। কে যেনো বললো তুইও যা মামাবাড়ি ঘুরে আয়। বায়না করতে থাকে মেয়েটি মামাবাড়ি যাওয়ার। এমনিতেই দাদু ঠাকুমার বাড়ীর থেকে মামাবাড়ি মেয়েটির খুব প্রিয়। সেখানে গেলেই যে দিদা দাদুর ভালোবাসা সাথে নো পড়াশোনা। চোখের সামনে সব ভেসে উঠতে লাগলো। যদি দিনগুলো সত্যি ফিরে আসতো আরেকবার ছোটবেলা উপভোগ করা যেতো। তারপর ভেসে উঠলো স্কুল জীবনের কিছু ঘটনা। ফ্যান্সি ডবল ডেকার পেন্সিলবক্সের খুব ইচ্ছে ছিল কিন্তু কেনা হয়নি কখনো। এখন ইচ্ছে করলেও মনে হয় আর কি বাচ্চা আছি! ক্লাস সিক্স অব্দি পড়াশোনাতে খুব খারাপ রেজাল্ট, স্কুলের মাঠে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা। ক্লাসে ম্যাথসে কম নাম্বার পেয়ে বাড়িতে এসে মিথ্যে বলা। তারপর রেজাল্ট বেরোতে আসল নম্বর দেখে বেদমপ্রহার জোটা। মনে হয় সত্যি কথাটা যদি বলতাম তাহলে এত মার খেতে হতো না। 
সময়ের ফেরে অনেক বন্ধুদের সাথেই আর যোগাযোগ নেই কিন্তু যদি যোগাযোগ করা যায় আবার কতই না ভালো হয়। মনে হয় মাঝে মাঝেই। 
আবার মাঝে মাঝে মনে হয় বাংলা যখন ভালো লাগত তাহলে কি মেডিকেল পড়ার সিদ্ধান্ত না নিয়ে সাহিত্য নিয়ে পড়লে ভালো হতো নাকি কেমিস্ট্রি নিয়ে গবেষণা করলে ভালো হতো? জানিনা কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল? সব জানেন সর্বশক্তিমান আমরা শুধু তাঁর দিকনির্দেশে চলি জীবনে চলার প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে তাঁর ওপর বিশ্বাস রেখে। 
আর পরিবর্তন যদি কিছু করতে হয় তাহলে আমার ব্যবহারে কেউ যদি খারাপ ভাবে সেটা যদি সংশোধন করা যেতো ভালো হতো। হয়তো সব জায়গায় এতটা সরলতা না দেখিয়ে বুদ্ধির মারপ্যাঁচ দেখালে যে যে সময়ে বোকা হয়েছি সেটা হতে হতো না। যা হয়েছে হয়তো ভালোই হয়েছে ঠকে গিয়ে শিখেছি অনেক কিছুই। এখন সব বুঝে শুনে চলার চেষ্টা করা হয় তাই। মানুষ চিনতে এখনও ভুল করি আর মনে হয়না কোনোদিন ঠিক করে মানুষ চিনতে পারবো বলে! 
অনেক কিছু সিরিয়াস কথা লেখা হলো এবার বলতে চাইছি সত্যিই প্রতিদিন একটু করে পেছনে হাঁটা দরকার। এতে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে,ওজনও ঠিক থাকে আর ক্যালোরিও ঝরে। বোন ও মাসল স্ট্রেংথ পায়। দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয় এই মানসিক ভাবে শক্তিশালী থাকা যায়। 
জীবনের রথ উল্টোদিকে চললে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না এমন নয় বরং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয় নতুন দিশা দেখায় চলার পথে। ভুলগুলো শুধরে নিয়ে চললে মানসিক দৃঢ়তা বাড়ে ও উদ্যমী হয়ে এগিয়ে যাওয় যায়। 

"উল্টোপথে চললে জীবন না হয়ে অবাক,সেখান থেকে নাও শিক্ষা
শুধরে নিয়ে ভুলগুলো,নব উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার পাবে দীক্ষা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

মধ্যরাতের ট্রেন-এক রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

মধ্যরাতের ট্রেন-এক রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

স্টেশনে বসে অনেকক্ষণ ধরে ট্রেনের অপেক্ষা করছে বিকাশ আর ওর তিনজন বন্ধু পায়েল, শিল্পী ও তরুণ। আসানসোলে এক বন্ধুর বিয়ে ছিলো, সেখান থেকেই ফিরছে ওরা সবাই। গিয়ে আবার কাল দুপুরে কলেজে ক্লাসে যোগ দিতে হবে। রাত প্রায় দেড়টা। ট্রেন আসার কথা ছিলো ১:১৫ টা নাগাদ কিন্তু এখনো অবদি এসে পৌঁছয়নি। একটু চিন্তায় আছে ওরা চারজন। শিল্পী বললো সকালে ট্রেন ধরলেই হতো। কি দরকার ছিল এত রাতের ট্রেন বুক করার? ভয় পাচ্ছিস নাকি? বিকাশ আড়চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো। ভয় ঠিক নয় কিন্তু মশার কামড় আর চোরদের চক্করে পড়লে কি হবে সেটাই ভাবছি। দেখনা মোবাইলে টাওয়ার আসছেনা ভালো,ট্রেন কতদূর এলো বোঝা যাচ্ছেনা, বললো তরুণ। আসবে ট্রেন আসবে, বিকাশ সবাইকে সাহস জোগাতে লাগলো। আরও মিনিট পনেরো অপেক্ষার পর ট্রেন ঢুকলো স্টেশনে। ওরা চারজন ট্রেনে উঠলো। উঠে যে যার মতো সিট নিয়ে বসে পড়লো। বেশি লোকজন নেই রাতের ট্রেন বলে কথা। ট্রেন স্টার্ট করলো সবাই ওরা একে অপরকে আশ্বাস দিলো যে এবার পৌঁছে ক্লাস করতে পারবে। বিকাশ উঠলো টয়লেট যাবে বলে। যাওয়ার সময় পাশের কুপে হাসাহাসি শুনতে পেলো। ভাবলো ওর মতন কেউ হয়তো গ্রুপে এসেছে তাই হাসিমজা চলছে। সোজা চলে গেলো টয়লেটের দিকে মাথা না ঘামিয়ে। ফিরে এসে দেখলো ওদের কুপে একজন অচেনা লোক সাথে আবার সেলফি স্টিক নিয়ে বসে আছে। বিকাশকে ঢুকতে দেখে তরুণ আলাপ করিয়ে দিলো দেখে বিকাশ ইনি হলেন প্রকাশ যিনি বিভিন্ন অফবিট জায়গা এক্সপ্লোর করেন আর সেগুলোকে প্রমোট করেন,যেমন পরিত্যক্ত ট্রেনের কামরায় কীভাবে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া যায়! জল খাবার ছাড়া কিভাবে আছি এসব দেখিয়ে পাবলিকের মন জয় করা যায়। বেশ ভালো প্রমোট হয়। দার্জিলিং সাইডে গেছি। 
ওহ আচ্ছা। 
এখন একটু ঘুমিয়ে পড়ি আমরা? প্রকাশ আপনিও যান ঘুমিয়ে পড়ুন। প্রকাশ বিড়বিড় করলো এরপর যা হবে ঘুম উড়ে যাবে আপনাদের। কিছু বললেন? বিকাশ জিজ্ঞেস করলো। না না! কিছুনা। প্রকাশ উঠে চলে গেলো নিজের সিটে। বিকাশ বাকি তিনজনকে ধমক দিল অচেনা লোককে কেনো এতো কথা বলছিস? পায়েল বললো উনি তো নিজেই এসে হাজির হলেন। আচ্ছা ছাড় এসব চল ঘুমিয়ে পড়ি। সবাই কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লো। বেশ কিছুক্ষণ ঘুমিয়েছে,কেমন একটা ভ্যাপসা গন্ধ নাকে আসছে আর ট্রেন মনে হলো দাঁড়িয়ে গেছে,আর এগোচ্ছেনা। তরুণ উঠে বসলো বাকিরাও জেগে গেছে। হঠাৎ করেই প্রকাশ ঢুকলো ওদের কুপে। বললো ট্রেন আর এগোবেনা। দেখুন বাইরে কি ভীষণ ঝড় আর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। গাছের ডাল ভেঙে পরে ট্রেন আটকে গেছে। তরুণ রা সকলে জানলা দিয়ে উঁকি মারলো দেখলো বিশাল ঝড় উঠেছে। কি হবে এবার? পায়েল এর শিল্পী ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো? বিকাশ কিছু বলার আগেই প্রকাশ বললো আমার সাথে আসুন আমি অনেক জায়গা ঘুরি তো,একটা ভালো আস্তানাতে নিয়ে যাবো আপনাদের। বিকাশদের মনে হলো ওরা যেনো নিজেরা কিছু ভাবতে পারছেনা। প্রকাশকে ফলো করতে লাগলো। ট্রেন থেকে নেমে ঝড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে এগিয়ে যেতে লাগলো। প্রকাশের খুব একটা অসুবিধে হচ্ছিলো না ঝড়ে। খানিক দূর যাওয়ার পর প্রকাশ ওদের এনে তুললো একটা ভাঙ্গা পরিত্যক্ত ট্রেনের কামরায়, আগাছাতে ভর্তি। ওরা চারজন একে অপরের হাত ধরে দাঁড়িয়ে রইলো। নড়ার শক্তি টুকু নেই যেনো। আজ তোমরা আমার অতিথি। শুনবে আমার গল্প? এবার একটু বেশী ভয় পেতে লাগলো ওদের চারজনের। প্রকাশ বললো এই পরিত্যক্ত জায়গাগুলোতে আমি ঘুরে ঘুরে নিজেকে প্রমোট করি আর জায়গাগুলোকেও। আমরাও চারজনের একটা গ্রুপ ছিলাম। একদিন এরম কাজ করতে করতে সেলফি নিতে যাই আর ঠিক সেই সময়ে একটা ট্রেন এসে পড়ে। বাকি তিনজন সরে গেলেও আমি ট্রেনের তলায় চলে যাই আর ওরা কেউ আমার রক্ষা করতেও আসেনি। যে যার মতো পালিয়ে যায়। এই নাকি বন্ধুত্ব! 
তারপর? আপনি কি তাহলে? কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করেন শিল্পী।
হ্যা আমি সেদিন কাটা পড়ি। তারপর থেকে ঘুরে বেড়াই আর চারজনের কোনো গ্রুপ দেখলে খুব রাগ হয় জানো! আপনি কি আমাদেরকেও তাহলে? না না ভয় পেয়োনা। তোমাদের কিছু করবোনা। একটাই অনুরোধ তোমাদের,খালি একটু আমার বাড়ীতে জানিয়ে দিয়ো। সেই বন্ধুরা তো কিছু জানায়নি। এখনো বেওয়ারিশ হয়ে পড়ে আছি। আজও আমার জন্য পথ চেয়ে বসে আছে বোন,মা,বাবা। ওদের একটু বলে দিও আর আমায় ক্ষমা করতে বলো। হয়তো এসব প্রমোট করার খেয়াল মাথায় না চাপলে পড়াশোনা করে বড় হতে পারতাম। গলাটা ধরে এলো প্রকাশের। 
আপনার ঠিকানা দিন আমরা চেষ্টা করবো আপনার খবর পৌঁছে দেওয়ার। 
এই নাও আমার ঠিকানা। অনেক ধন্যবাদ গো তোমাদের। ওই দিকে তাকিয়ে দেখো তোমাদের ট্রেন ঠিক হয়ে গেছে,ঝড় থেমে গেছে। তোমরা সাবধানে যাও। আর হ্যা বন্ধুত্ব ঠিক একরকম অটুট থাক তোমাদের। ওরা চারজন এগিয়ে গেলো, পেছনে তাকিয়ে দেখলো প্রকাশ ওদের হাত নাড়ছে আর একটু একটু করে মিলিয়ে যাচ্ছে। ওরা চারজন কথা রেখেছিল,প্রকাশের বাড়ীতে সব জানিয়েছিল। প্রকাশের বাড়ীর সবাই ভেঙে পড়লেও সময়ের সাথে মানিয়ে নিয়েছিলো। তারপর থেকে প্রকাশের বাড়ীতে মাঝে মাঝেই যাতায়াত চলে ওদের। প্রকাশের কৃতজ্ঞতা আর উপস্থিতি ওরা মাঝে মাঝেই বুঝতে পারে কিন্তু তাতে ওদের আর ভয় করেনা কারণ জানে ওদের কোনো ক্ষতি প্রকাশ হতে দেবেনা। এখন প্রকাশের বাবা মা বোনের জন্য ওরা চারজন এক নিশ্চিন্ত আশ্রয়। বিকাশ আজও বন্ধুদের বলে যতই ট্রেনে যেখানে যাই ওই রাতের জার্নি আজও এক রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

শিরোনাম - বাংলার রূপকার বিধানচন্দ্র রায়✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - বাংলার রূপকার বিধানচন্দ্র রায়
✍️ ডা: অরুণিমা দাস 

সুদূর পাটনার বাকিপুর থেকে মহানগর কোলকাতা
হেঁটে পাড়ি দিলেন তিনি,ভরসা শুধু পায়ের পাতা।

সম্বল বলতে শুধু তখন পাঁচ টাকা পঁচিশ পয়সা
খাবার আর বাসস্থান জোগাতে সেটাই শুধু ভরসা।

মাতৃহারা ছিলেন তিনি,পিতাই ছিলেন সব
খুবই কষ্টের মধ্যে কেটেছিল তাঁর শৈশব।

কলকাতায় এসে করেন ডাক্তারিতে ভর্তির আবেদন 
থাকতেন কলেজ স্ট্রীটে,পয়সার টানাটানি ভীষণ।

পড়াশোনা শেষে শুরু করলেন তিনি প্র্যাকটিস
রোজগার হতোনা মন্দ,কেবল খালি উনিশ বিশ।

বারোশো টাকা করে সম্বল,গেলেন তিনি বিদেশ
চূড়ান্ত সম্মান অর্জনে করলেন মনোনিবেশ।

ভারতীয় বলে জুটেছিল শুধুই প্রত্যাখ্যান
কিছুতেই হাল ছাড়ার পাত্র ছিলেননা ডা: বিধান।

প্রায় বার তিরিশেক করে গেছিলেন টানা আবেদন
অবশেষে মেডিসিন,সার্জারির চূড়ান্ত ডিগ্রী করলেন অর্জন।

ফিরে এলেন দেশে তিনি,শুরু করলেন ডাক্তারি
মনে এলো প্রেমের জোয়ার,হলেন প্রেম পূজারী।

প্রেম যে তাঁর,মানল হার অর্থদণ্ডের বিচারে
প্রত্যাখিত হয়ে এলেন ফিরে,মন দিলে রোজগারে।

সাল যখন উনিশশো আটচল্লিশ,ছেড়ে দিয়ে ডাক্তারি
গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রিত্ব,গড়লেন কল্যাণী সহ আরো উপনগরী।

দায়িত্বে ছিলেন যতদিন,করে গেছেন শুধু বাংলার উন্নয়ন
তাঁর কাছে থাকবে চিরঋণী বাংলার আপামর জনগন।

তিরোধানের পরে ঘরে মেলে এগারো টাকা পঁচিশ পয়সা
জীবনের সঞ্চয় শুধু ছয় টাকা আর মানুষের ভালোবাসা।

আজ তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিনে জানাই তাঁকে নমস্কার মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকুন বাংলার রূপকার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



শিরোনাম - একটা ছোট্ট ভালো লাগা ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

  শিরোনাম - একটা ছোট্ট ভালো লাগা ✍️ ডা:অরুণিমা দাস কলেজ জীবনের প্রিয় এক বন্ধু যার সাথে প্রায় চার বছর দেখা হয়নি আর ফোনেও খুব একটা কথা হত...