বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

কথা বনাম কাজ✍️ডা: অরুণিমা দাস

 কথা বনাম কাজ
✍️ডা: অরুণিমা দাস

ছোটবেলায় একটা কথা খুব শুনতাম,কথা কম কাজ বেশী। তখন অত আমল দিতাম না। এখন বড়ো হয়ে বুঝেছি বাচালতা করে খুব বেশী জ্ঞানের পরিচয় দেওয়া যায় না। ভেতর ফাঁপা আর বাইরে কথার চাকচিক্যে আর যায় হোক জ্ঞানী হিসেবে নিজেকে জাহির করা যায় না। আসল কথা হলো ভেতরটা কতটা সাজানো গোছানো! ভেতর মানে অন্তর গোছানো হলে বেশি কথার প্রয়োজন হয় না। এক দুটো কথাতেই নিজের জ্ঞানের পরিচয় দেওয়া যায়। যে যত বেশি সৃজনশীল,সহনশীল হবে সেটাই তাকে নির্ভীক করে তুলবে কারণ তার সহনশীলতা তাকে শেখাবে হারানোর কিছু নেই,আর হারালেও তার মধ্যে দিয়ে সে জ্ঞান অর্জন করবে। দ্বিতীয়বার সেই ভুল সে করবে না। তাই নিজেকে একটু রিজার্ভ রেখে নিজের কর্মদক্ষতাকে কাজের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তোলার মধ্যেই রয়েছে জ্ঞানীর আসল পরিচয়,বাকপটুতায় নয়। 

"কাজ বেশি কথা কম,জীবনের মূলমন্ত্র হোক সবার
জ্ঞানীর লক্ষণ থাকুক কাজে, কথা বেশী নয় আর।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বংশীধারী ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বংশীধারী 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

রাধার কথা ভেবে যে শ্যামের মন উচাটন
নদীর পাড়ে বাজিয়ে বাঁশি, তারে করে স্মরণ।

অবচেতন মনের কোণে বসে যে রাধা দেবী
জলের ওপর তাই তো ভেসে ওঠে তাঁর প্রতিচ্ছবি।

বংশীধারীর বাঁশির সুরে আকাশ বাতাস হয় মুখরিত
কৃষ্ণের মনে রাধাপ্রেম যে সর্বজন বিদিত। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

পরিবর্তন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পরিবর্তন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পরিবর্তন ই জগৎ সংসারের নিয়ম। পরিবর্তন ছাড়া এই ধরা অচল। সময়ের চাকা ঘুরছে অনবরত। আজ যে রাজা কাল সে ফকির। কালের নিয়মে বর্তমান একদিন কালের গর্ভে বিলীন হবে। সুখ দুঃখ, হাসি কান্না, ভালো মন্দ সব মিলিয়ে জীবন। আর এগুলো কোনোটাই চিরস্থায়ী নয়। একের পর এক চক্রাকারে ঘুরছে। এগুলো মেনে নিতে না পারলে জীবন চালানো খুব মুশকিল। সময়ের সাথে সাথে মনের পরিবর্তন হয়, চিন্তাধারার পরিবর্তন হয়। আর পরিবর্তন আছে বলেই হয়তো আমরা আছি, আর থাকবো। কিন্তু খেয়াল রাখা উচিত পরিবর্তন যেনো কারোর ক্ষতির কারণ না হয়ে ওঠে। বাস্তববাদী হয়ে পজিটিভ ভাবে সব কিছুই সাদরে গ্রহণ করলে জীবনের পথ অনেকাংশে সুগম হয়ে উঠবে।

"হাসি কান্না, সুখ দুখ,ভালো মন্দ করুক জীবনের অধ্যায়কে সেরা
পরিবর্তন জগতের নিয়ম,বিকশিত হোক সুচিন্তার ধারা!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 

সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

মুক্তি বনাম বন্দীত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

মুক্তি বনাম বন্দীত্ব
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে এসে করলাম কি অবিচার!
গাছের ডালে ভাবছে বসে খেচর।

বন্দীত্ব ছেড়ে মুক্তির স্বাদ তো পেতেই চায় পক্ষীমন
আর মানুষকে মুক্তি দেয় মোবাইল,হেডফোন।

মোবাইল স্ক্রীনে আটকে গিয়ে চোখ,মানব জীবন হচ্ছে স্ক্রল
মুক্ত হয়ে সুখে আছে পাখি,
মানুষ হয়েছে গ্যাজেটের হাতের পুতুল।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 

বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৪

স্বামী বিবেকানন্দ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

স্বামী বিবেকানন্দ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

হে মহামানব আজি তোমার জন্মদিনে
প্রণাম জানাই তোমার চরণে।
তোমারি আদর্শে যেন সদা চলতে পারি
ঈশ্বরকে সেবি,জীবে প্রেম করি।
ভুলে সব ভেদাভেদ,উঁচু নীচু জাতপাত
সবার তরে বাড়িয়ে দিই সাহায্যের হাত।
হিন্দু ধর্ম পেয়েছিল মর্যাদা তোমারই চেষ্টায়
তোমার কর্মকাণ্ড রয়েছে সব মনের খাতায়।
ধন্য হয়েছে এই ভুবন মহামানবকে পেয়ে
থাকবে তুমি বেঁচে চিরদিন মানবহৃদয়ে।

©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


বন্ধুত্বের সম্পর্ক✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বন্ধুত্বের সম্পর্ক
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বন্ধু মানে যে খুব আপন, যাকে মন খুলে সব কথা বলা যায়। যে অপরজনের নীরবতা দেখে বুঝে যায় কিছু তো একটা ব্যাপার হয়েছে সেই বন্ধু। যতই ঝগড়া হোক দিন শেষে সব কিছু মিটমাট করে নিয়ে গলা জড়িয়ে খাবার খেতে বসা,এগুলোই বন্ধুত্বের দাবীদার। সব রাগ অভিমান জেদ ভুলে গিয়ে কঠিন সময়েও হাতে হাত ধরে চলাটা বন্ধুত্ব। যে সম্পর্ক হয় লৌহ কঠিন,মজবুত যাকে ভাঙ্গার সাধ্য নেই কারোর সেটাই বন্ধুত্বের দৃঢ় বন্ধন। আর যার কাছে এরম বন্ধু আছে সে দুনিয়ার সবচেয়ে সৌভাগ্যশালী মানুষ। এরকম ভাগ্য খুব কমজনের ই হয়।
আজকাল এই বন্ধন খুব কম দেখা যায়। যত বড় হচ্ছি বন্ধুত্ব কম হচ্ছে,কলিগ হচ্ছে বেশী। স্বার্থের তাগিদে কথা বলতে আসছে,স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে চলে যাচ্ছে। তার মাঝেও দু একজন ভালো বন্ধু পেলে মনে হয় বড়ো গিফট। দিনশেষে নিজেকেই নিজের বড়ো বন্ধু হতে হয়, সব জমে থাকা কথা জমা হয় ডায়েরির পাতায়।

বন্ধুত্বের সম্পর্ক হোক মজবুত,না ধরে যেনো ভাঙন
ভুল বোঝাবুঝি হলে মিটিয়ে ফেলো,দিনের শেষে তুমিই তোমার আপন।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৪

ব্যবহার দিয়ে যায় চেনা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ব্যবহার দিয়ে যায় চেনা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কথায় আছে ব্যবহারই মানুষের পরিচয়। ভালো ব্যবহারের প্রত্যুত্তরে ভালো ব্যবহার করা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্তু কেউ যদি খারাপ ব্যবহার করে তার উত্তরে ভালো ব্যবহার করাটাই আসল শিক্ষার পরিচয়। আজকাল কারোর কাছে ভালো ব্যবহার পাওয়াটা প্রত্যাশার চেয়ে অনেকটা বেশী। মানুষের ধৈর্য্য অনেক কমে যাওয়ায় অপর প্রান্তের ভালো ব্যবহার করা মানুষের ওপর তার মন্দ ব্যবহারের কি প্রতিক্রিয়া হয় সেটা ভাবার সময় টুকুও নেই। অপর প্রান্তের মানুষের সাথে দুটো হেসে কথা বলার মানসিকতাও নেই আজ সকলের। যান্ত্রিকতার যুগে মানুষের মনও সংবেদনশীলতা হারিয়ে কঠোর হয়ে উঠেছে,তাই খারাপ ব্যবহার করার আগে দুবার ভাবেওনা। নিজের সহনশীলতা বজায় রেখে অপর প্রান্তের মানুষের সাথে সুব্যবহার করাটাই আসল শিক্ষার পরিচয়,এতেই মানুষের গুণগত মানের সঠিক প্রকাশ হয়।

"ব্যবহার হোক ভালো সর্বদা,মন্দ বা ভালো কথার প্রত্যুত্তরে
ধৈর্য্যচ্যুতি না ঘটিয়ে সংবেদনশীলতা বাঁচিয়ে রেখো অন্তরে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

জয়✍️ ডা:অরুণিমা দাস

জয়
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কোনো কাজে সফল হতে গেলে প্রতিভা ও ক্ষুরধার বুদ্ধি ছাড়াও বেশি দরকার ইচ্ছাশক্তি ও একাগ্রতার। অধ্যবসায় না থাকলে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়না অনেক সময়ই। ইচ্ছেশক্তির ডানায় ভর দিয়ে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, সাথে যদি অদম্য জেদ আর একাগ্রতা সঙ্গী হয়। কোনো কাজে সফল হতে গেলে ৯৯ শতাংশ ইচ্ছেশক্তি আর ১ শতাংশ ভাগ্যের সাথ প্রয়োজন। তাই দিনের শেষে জয় হয় ইচ্ছেশক্তির। প্রতিভা যদি বিজয় পথে চলার গাড়ি হয় ইচ্ছেশক্তি হচ্ছে সেই গাড়ির জ্বালানী। জ্বালানী ছাড়া যেমন গাড়ী এগোতে পারে না তেমনি ইচ্ছেশক্তি ছাড়া জয়ের মুখ দেখা যায় না।

প্রতিভা থাক যতই সাথে, ইচ্ছেশক্তি চাই লড়তে হলে
জীবন পথে জয়ী হবে একাগ্রতা,জেদ আর ইচ্ছের মিলে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

শিরোনাম - সংগ্রাম✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - সংগ্রাম
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বিশাল এক ঝড় উঠেছে, আকাশখানি কালো 
উত্তাল সমুদ্রে জাহাজখানি করছে টলোমলো।

পাড়ে যে ভিড়তে হবে তাকে, বাঁচবে তবে যাত্রী সকল
সমুদ্রের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে এগোতে চাই যে বল।

জাহাজ সমুদ্র নিমিত্তমাত্র, আছে লুকিয়ে এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সময় যখন খারাপ চলে,হাল না ছেড়ে এগিয়ে চলাই যে জয়ের মূল পথ্য। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

ভুল ঠিক ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ভুল ঠিক
✍️ডা:অরুণিমা দাস

অন্যের ভুল ঠিক বিচার করার কাজে মানুষ পারদর্শী হলেও সে কিন্তু তখন প্রকৃত অর্থে মানুষ নয়, সে তখন বিচারক হিসেবে নিজেকে জাহির করতে বেশি ভালোবাসে। এই বিচারভারের দায়িত্ব না হয় সর্বশক্তিমানের হাতে দিয়ে নিজের কাজের ভুল ঠিক বিচার করার জন্য তৎপর হলে বোধহয় উন্নতিটা বেশী তাড়াতাড়ি সম্ভব। ক্ষমতার পিয়াসী মানুষ নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে গিয়ে অন্যের ভুল ধরে তাকে টেনে নিচে নামানোর চেষ্টাকেই মহৎ কাজ বলে মনে করে। এতে যেমন তার নিজের নীচ মানসিকতার পরিচয় দেয় তেমনি ক্ষতবিক্ষত করে তার মনুষ্যত্বকে। নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার প্রচেষ্টা সর্বদা রাখা উচিত কিন্তু সেটা নিজের ভুল গুলো শুধরে ফেলে,অন্য কারোর ভুল ধরে নয়। প্রতিযোগিতা সবসময় নিজের সাথে হওয়া উচিত, আমি আগের থেকে কতটা উন্নতি করলাম কতটা এগোতে পারলাম সেটাই জানার দরকার। এতে নিজের কাছে যেমন স্বচ্ছ থাকা যাবে তেমন কাউকে ছোট করাও হবেনা।

"ভুল যা আছে খোঁজো নিজের মধ্যে,শুধরে নেয়ার সময় রেখো
অন্যের দোষ খুঁজে কি লাভ! প্রকৃত মানুষ হতে আপনারে নিখুঁত রাখতে শেখো।"

©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩

শিরোনাম - মেডিটেশন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - মেডিটেশন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চোখ বন্ধ করে মাঝে মাঝে চলুক মেডিটেশন
বাড়বে যে এতে তোমার কনসেন্ট্রেশন।

জ্ঞানস্পৃহা জাগবে,বাড়বে বুদ্ধির প্রখরতা
সেরিব্রাম থেকে সেরেবেলাম, আসবে উন্নত চিন্তা।

কাজের চাপে পড়ে যখন, জীবন হচ্ছে জেরবার
তখনই প্রাণায়াম শক্তি দেবে লড়বার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

শিরোনাম - ব্যালেন্স✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ব্যালেন্স
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চলছি সবাই জীবন পথে, খেলছি ব্যালেন্সিং গেম
কাজ আর জীবনের ভারসাম্য  থাকলে বজায় তবেই তুমি জেম। 

কর্মই যে জীবন এসব কথা মানায় বইয়ের পাতায় 
জীবনের চ্যালেঞ্জ গুলো নিজেদের চিনতে শেখায়।

তুলাদন্ডের সূক্ষ্য কাঁটা যেনো না নড়ে ডাইনে বা বাম দিকে
মধ্যিখানে রেখে কাঁটা চালাক ব্যালেন্স কর্ম আর জীবনকে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

ক্যান্টিনের অন্দরে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 ক্যান্টিনের অন্দরে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কলেজে ভর্তি হবার পর নতুন নতুন বন্ধুদের সাথে গল্প আড্ডা মারার জন্য একদম উপযোগী জায়গা ছিলো ক্যান্টিন। কলেজে উঠে একটু বড়ো বড়ো ভাব এসেছে তখন। ছেলেদের জন্য লুকিয়ে তামাক সেবন করার উত্তম জায়গা ছিলো ক্যান্টিন। অনেক টুকরো টুকরো ঘটনা মনে আসছে। একদিন আমাদের এক বন্ধু শ্রেয়ান সিগারেটটা ধরিয়ে টান দেবে এমন সময় মাথায় এক গাট্টা আর কানমলা খেলো। এসবের চোটে বিষম খেয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে দাদা দাড়িয়ে আছে। আমরা উল্টো দিক থেকে ওর দাদা কে আসতে দেখেছিলাম কিন্তু দাদা আমাদের হাত দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেছিল। সেদিনের পর থেকে শ্রেয়ান ক্যান্টিনকে সেফ মনে করতো না, কলেজের বাথরুমটা ওর জন্য সেফ ছিলো। 
আর আহমেদ কলেজের ক্যান্টিনে আমরা বন্ধুরা মিলে খেতে গেছি, ছটা মতন ফিশ ফ্রাই অর্ডার করেছি আর সাথে চা। আমি চা খাই না বলে বন্ধুরা পেছনে লাগছে কমপ্ল্যান খাবি বোর্নভিটা খাবি এসব বলছে। আমি নিরুত্তর হয়ে ফিশ ফ্রাই খাচ্ছি। সকলের খাওয়া হলে বিল এলো। বিল দেখে একটু অবাক লাগলো, বেশ কম। বিল মিটিয়ে সবাই মেনু দেখি ফিশ ফ্রাই এর জায়গায় ফিশ ফিঙ্গারের দাম ধরেছে। আমরা তাড়াতাড়ি করে ব্যাগ পত্র গুটিয়ে পালাচ্ছি, ওরা বোধয় বুঝতে পেরেছিল। অনেকবার ডেকেছিল কিন্তু আমরা তখন হাওয়া। পরে যদিও ওই ক্যান্টিনের সকলকে কফি আর রোল খাইয়েছিলাম আমরা সবাই। তবে আমার জন্য চায়ে পে চর্চা টা কফি পে চর্চা তে বদলে গেছিলো।
এরপর এম বি বি এস পড়তে ঢুকে মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনে প্রচুর গল্প জমে আছে পাঁচ বছরের। একদিন বন্ধুরা সকলে মিলে খেতে বসেছি চিকেনে দেখি বেশ কয়েকটা আরশোলা। আমরা চেঁচামেচি শুরু করেছি ক্যান্টিনের দাদা শান্ত স্বরে বললো আরে চাইনিজ ফুড তো মাঞ্চুরিয়ান, দু একটা আরশোলা থাকলে কি ক্ষতি? আমরা রেগে গিয়ে বেশ ঝাড়লাম দাদাকে। পরে অবশ্য ভালো চিকেন পাকোড়া খাইয়েছিল আমাদের ক্যান্টিনের দাদা। বেশ ভালো সম্পর্ক হয়ে গেছিলো পাঁচ বছরে। তবে দাদা বলতো তোরা সব মা বাবার স্বপ্ন, পড়াশোনা ভালো করে করিস। কলেজে উঠেছিস বলে নিজেদের বখিয়ে দিসনা। দাদার কথা গুলো তখন বুঝতে না পারলেও এখন উপলব্ধি করতে পারি একটু একটু।
তারপর পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে পড়তে ঢুকে প্রথম ছমাস কোভিডের জন্য ক্যান্টিনে সেরকম যাওয়া হতো না। আর আন্ডার গ্র্যাজুয়েট জীবনের থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট জীবন টা অন্য রকম ছিলো। এখানে সবাই কলিগ বন্ধু কেউ নয় বুঝলাম। তাও ডিউটির চাপে যখন ফাঁকা পেতাম কাকিমার ক্যান্টিনে চলে যেতাম আড্ডা দিতে। কাকিমা খুব আন্তরিক ভাবে আমাদের আপ্যায়ন করতেন। আড্ডা দিতে বসে কার ওটি তে কোন কেস ঘেটেছে আর কিভাবে ম্যানেজ করেছে সেসব গল্প হতো। স্যার ম্যাডামদের নতুন নতুন নাম দেওয়া হতো, সেসব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলত কার জন্য কোন নামটা মানাবে। এই ভাবেই তিনটে বছর কেটে গেলো। তবে ওটিতে ব্যস্ত থাকলে কাকিমাকে একটা ফোন করে দিলেই খাবার এসে যেতো। 
আর এখন সময়ের অভাবে খুব একটা ক্যান্টিনে যাওয়া হয়ে ওঠেনা। ক্যান্টিনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পুরনো কথাগুলো মনে পড়লে বেশ আনন্দে ভরে ওঠে মনটা।

©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৩

লক্ষ্যভেদ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

লক্ষ্যভেদ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চলার পথ সুগম হবে,এটা আশা করা উচিত নয় বরং কোনো আশা না রাখাই শ্রেয়। শত বাধা বিপত্তি আসবে,সেগুলো উপেক্ষা করে এগিয়ে চলার মাঝেই রয়েছে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছনোর আনন্দ। গরম চা খেতে গিয়ে জিভ যখন পুড়ে যায়, বাকি স্বাদকোরক গুলো বরং আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে, চায় তারা বাকি চা টুকুর উষ্ণ পরশ নিতে, তখন খাওয়া কিন্তু থামিয়ে রাখা যায় না। চলার সময় পথে বাঁধা বিপত্তির সম্মুখীন হলে থেমে যাওয়া যায় না। এগিয়ে যেতে হয় সেই কাটার পথ ধরে, পায়ের দগদগে ক্ষতগুলোই মনে করিয়ে দেয় লড়াই করে যেতে হবে, লক্ষ্যভেদ করতে হবে। তাই তো জীবনের মূলমন্ত্র হলো চরৈবতি। কোনোভাবেই ছাড়া যাবে না হাল,বেয়ে যেতে হবে জীবনতরী  তবেই পাওয়া যাবে পাড়ে পৌঁছানোর আনন্দস্বাদ।

"দুর্গম পথ যতই ধরাক পায়ে জ্বালা,থেমে যাওয়া তো যাবেনা
লক্ষ্যে থেকে অবিচল,আস্থা রেখে নিজের ওপর জীবন করো চালনা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৩

সম্পূর্না✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 সম্পূর্না
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

মেয়েদের নিজের বাড়ি বলে কি সত্যিই কিছু হয়না? এই প্রশ্ন সকলের। অনেকে নানা মত ব্যক্ত করেন। ছোটবেলায় বাবার বাড়ি, বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি, তারপর ছেলের বাড়ি এভাবেই বাড়ী বদল হয়তো হতে থাকে একটি মেয়ের জীবনে। কিন্তু কোনো বাড়ীতেই মেয়ে না থাকলে সেই বাড়ী,বাড়ী হয়ে ওঠেনা। নারী মানেই হলো শক্তির আরেক রূপ। সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে। নারী ছাড়া কি করে আর সংসার হয়? আজকাল সব মেয়ের জীবন শুধু সংসারের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ নয়,কেউ কেউ পা রেখেছে বাইরের দুনিয়ায়,কর্মক্ষেত্রে আর বাড়ীতে দুজায়গাতেই সমান ভাবে সাবলীল ভাবে কাজ করে। তাই নারী তোর বাড়ি কোথায়? এই প্রশ্নে কাউকে বিব্রত না করে বলা উচিত নারী তুমি ছাড়া বাড়ি বলো,সংসার বলো সব অসম্পূর্ণ। আজকাল পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেও নারী ছাড়া বাড়ীতে কোথাও একটা শুন্যতা থেকেই যায়। তাই নারীর কোনো বাড়ী লাগে না,বাড়ীর বরং নারীকে দরকার বাড়ীকে সম্পূর্ণ করার জন্য। 

"কোনটা তোর বাড়ী,জিজ্ঞেস করে নারীকে কষ্ট দিও না।
নারী ছাড়া শূন্য যে বাড়ী, তাই যে সে অদ্বিতীয়া ও সম্পূর্ণা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৩

শিরোনাম - জীবনের পথ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - জীবনের পথ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চলার পথে আসবে বাঁধা,
করতে হবে অতিক্রম
বাঁধাহীন পথে চলা সহজ, এসব শুধুই মনের ভ্রম।

আঁকাবাঁকা যে জীবনের পথ, নয় যে তা সোজা
প্রতি বাঁকে আছে চ্যালেঞ্জ, লড়তে পারলেই আসল মজা।

বুক চিতিয়ে বলো প্রতিবন্ধকতাকে ডরাই নাকো আর
লক্ষ্যে অবিচল থেকে পথের শেষ বিন্দুতে পৌঁছতে বদ্ধ পরিকর। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম-বৌ হরণ✍️ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম-বৌ হরণ
✍️ডা: অরুণিমা দাস


আজ সেনগুপ্ত বাড়িতে মহা সমারোহ। এবাড়ির ছোট ছেলে বিজয়কৃষ্ণের আজ বিয়ে। পাশের পাড়ার শ‍্যামলীর সাথে। বাড়িতে খুব হৈচৈ। পুরনোদিনের বাড়ি। বাবা, কাকা, জেঠ‍্যা কাজের লোক সবাই মিলে প্রায় কুড়িজন মতো লোকজন এবাড়িতে বসবাস করে।ওরা নিজেরাও তো ভাইবোন অনেক। বিজয়কৃষ্ণ কলকাতায় থেকে পড়াশোনা করে । গরমের ছুটিতে বাড়িতে এসেছে। মা আগেই মেয়ে দেখে রেখে দিয়েছিল। তাই ছুটিতে আসার সাথে সাথেই বিয়ে। মেয়েকে একবার দেখেনি পর্যন্ত। তখন অবশ্য এমনই হতো।


যাইহোক বিয়ে তো মিটে গেল বেশ ভালোভাবেই।  কিন্তু দুজনেই বেশ ছোট। তাই বিয়ের পরেই পাঠিয়ে দেওয়া হলো মেয়েকে বাপের বাড়িতে। বড় হবে , আর এদিকে বিজয়ের লেখাপড়া শেষ হবে , তখন মেয়ে আবার শশুর বাড়িতে আসবে। তখনকার দিনে এমন হতো। বিজয়ের ও তাই হলো ।


কিন্তু নিজের বিয়ে করা বৌকে একবার চোখের দেখাও দেখতে পেলো না কলকাতায় চলে যাওয়ার সময়। বড়দের সামনে দেখা করা  যেতনা তখন।বড় লজ্জার ব‍্যাপার ছিল। এদিকে নতুন বৌ রেখে যেতেও ইচ্ছা করছে না।  কিন্তু কি আর করা । বাধ‍্য হয়ে চলে যেতে হলো। কিন্তু মন তো বসছে না কিছুতেই কলকাতায়। তাই সে প্লান করলো বৌ চুরি করবে।


কিন্তু প্ল্যান তো একা করা যায় না। বিজয় বন্ধুদের জানালো ব্যাপারটা। বন্ধুরা সবাই মিলে উপায় ভাবতে লাগলো। কেউ বললো চল কালকের ট্রেনে তোর শ্বশুর বাড়ী। গিয়ে নিয়ে আসবি বউ কে। বিজয় বললো না এরকম হয় না, চুরি মানে চুরি ই করবো। ভাবতে দে একটু। সারারাত ধরে ভেবে বিজয় প্ল্যান করলো ছদ্মবেশে যাবে শ্যামলী দের বাড়ীতে। পরদিন বিজয় ফকির সেজে আর এক বন্ধুকে মেয়ে সাজিয়ে চললো শ্বশুর বাড়ী। বিজয় শুনেছিল শ্বশুরের দয়ার শরীর, কাউকে কখনো ফেরান না। পরদিন দুপুরে হাজির হলো শ্বশুর বাড়ী। দরজা খুললো শ্যামলী নিজেই। ফকির বাবা কে দেখে প্রণাম করে বললো আসুন বাবা ভিতরে আসুন। ফকির বলে উঠলো কিরে বেটি তোর মুখ এত শুকনো কেনো? কিছু হয়েছে নাকি? শ্যামলী কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো হ্যা বাবা,আমার মনের মানুষ চলে গেছে অনেক দূরে। মন বড্ড খারাপ তার জন্য। কিন্তু আপনি কি করে জানলেন?


ফকির বললেন আমি সব জানি বেটি। বল কোথায় আছে তোর মনের মানুষ?


- সে তো শহরে আছে বাবা। অনেক দূরের পথ। আমি জানিও না কি ভাবে যাবো।


- আচ্ছা আমি আর আমার মেয়ে বেরিয়েছি তীর্থে যাবো বলে। আজ তো অনেক বেলা হলো। একটু জিরিয়ে নিয়ে কাল আবার বেরোব। তোর বাসায় একটু থাকতে দিবি?


ওদের কথার মাঝে শ্যামলীর বাবা এসে হাজির। ফকির কে দেখে প্রণাম করে বললেন কি চাই বাবা? শ্যামলী বললো ফকির বাবা আর ওনার মেয়ে আশ্রয় চান আজকের রাতটা। ওনারা তীর্থে যাবেন। শ্যামলীর বাবা বললেন হ্যাঁ কোনো অসুবিধে নেই। তুই যা তোর মাকে গিয়ে বল এনাদের খাবার ব্যবস্থা করতে। আমি সেরেস্তায় গেলাম। শ্যামলী ঘাড় নাড়লো। মাকে ডাক দিল। কাজের লোক নিয়ে এসে তাদের খাবার খেতে দিল শ্যামলীর মা। খাওয়া শেষে ফকির একটা কাগজ গুঁজে দিলো শ্যামলীর হাতে। শ্যামলী আড়ালে গিয়ে খুলে দেখলো লেখা আছে রাতে দরজা খুলে রেখো, আসবে তোমার মনের মানুষ। রাতের বেলা সকলে খাওয়া দাওয়া সেরে ফকির বাবা আর তার মেয়েকে অতিথি সদনে পাঠিয়ে ঘুমোতে গেলো। ঠিক রাত বারোটার সময় শ্যামলীর দরজায় টোকা পড়লো। দরজা ভেজানো ছিলো। দরজা খুলে দেখে ফকির বাবার মেয়ে দাড়িয়ে আছে। চট করে মেয়েটা ঘরে ঢুকে শ্যামলীকে একটা বোরখা দিলো।বললো এটা পরে নাও। নিচে বাগানে ফকির বাবা অপেক্ষা করছেন, যাও তার কাছে। শ্যামলী বললো কেনো? বেশি কথা বলো না, পরো বোরখাটা আর বেরিয়ে পড়ো। সকলের কাগজের লেখাটা মনে রেখো। আমায় বিশ্বাস করতে পারো। নিচের দারোয়ানদের ঘুম পাড়িয়ে রাখা আছে। তারা জেগে ওঠার আগে বেরোতে হবে তোমাদের। শ্যামলী বোরখা পরে বাগানে হাজির হয়। ফকির বাবা পেছন করে দাঁড়িয়ে ছিলো। শ্যামলী বললো বাবা আমায় ডেকেছেন? ফকির মুখ ঘুরিয়ে তাকালো। শ্যামলী অবাক! কোথায় ফকিরের গোঁফ দাড়ি? এযে তার মনের মানুষ। কিছু বলতে যাবে, ফকির তার মুখ চেপে বললো চলো শেষ ট্রেন টা ধরতে পারলে আমাদের আর কেউ ধরতে পারবে না। বিয়ের পর বৌ ছেড়ে থাকার থেকে বউ চুরি ঢের ভালো আর চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা যদি না পড়ে ধরা। শ্যামলী আর ফকির বাবা রাতের অন্ধকারে স্টেশনের দিকে রওনা হলো, বিজয়ের মুখে হাসির রেখা, শেষ অব্দি বউ চুরিতে সাকসেসফুল হলো সে।


©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৩

লড়াকু✍️ ডা:অরুণিমা দাস

লড়াকু
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

স্বপ্ন থাকে প্রতিটা মানুষের চোখে। স্বপ্নের মায়াজাল বুনতে বুনতে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সকলে চায়। সফল হতে চায়,শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে। কিন্তু সেই পথ কখনো মসৃন হয় না পুরোপুরি। কখনো দুর্গম কখনো সুগম। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলে মনে মনে সংকল্প থাকে সেটা পূরণ করার। সমস্ত প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ়চেতা হয় মানুষ। যে কোনো উপায়ে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর নিজের জেদ অধ্যবসায় এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদে সে একদিন ঠিক নিজের জায়গা করে নিতে পারে, পূরণ করতে পারে নিজের স্বপ্ন। দরকার শুধু হাল না ছাড়ার মানসিকতা। 

প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থেকে নিজের জ্ঞানচক্ষুর হোক উন্মীলন 
অদম্য জেদ আর লক্ষ্যে অবিচল থেকে করো স্বপ্ন পূরণ।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৩

আরাধনা রাইট ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আরাধনা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কোজাগরী পূর্ণিমা, চাঁদের আলোয় আলোকিত গগন
আলপনা দিয়ে লক্ষ্মীর পদচিহ্ন,হোক দেবীর আগমন।

দেবী বিরাজ করুন ঘরে ঘরে,সব দুঃখ ঘুচুক
মঙ্গল কামনা করে জনে জনে পুজোয় মাতুক।

মিষ্টান্ন ফলমূল সাজিয়ে প্রসাদের থালা করুক নিবেদন
সম্মুখে বসি পড়ে পাঁচালী,শুনেন যে লক্ষী নারায়ণ।

আশীষ দিও সবারে, গৃহ হোক ধনধান্যে পরিপূর্ণ
মনস্কামনা পূরণ কোরো সকলের,অভাব যেনো হয় নগণ্য।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৩

শুভ বিজয়া✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শুভ বিজয়া
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

প্রথমা থেকে নবমী, আকাশে বাতাসে পুজোর রেশ
দশমীর আগমন জানান দিলো পুজো এবার হবে শেষ।

চলছে দশমী পুজো, মেঘে মেঘে কাটছে যে বেলা
যাবার সময় এবার উমার,সাজছে যে বরণডালা।

নীলকন্ঠ পাখি উড়ে চলে কৈলাসে, উমা আসার খবর দিতে
মহাদেব ভীষণ খুশী,চারদিন শেষে গিন্নি আসছে তার মর্ত্য হতে। 

মনভরা বিষাদে সকলে জানাচ্ছে বিদায়,বিজয়ার শুভেচ্ছা রইল 
আগামী বছরের অপেক্ষা শুরু,উমাদেবী কৈলাসে ফিরলো।

©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৩

মর্ত্যে আগমন লাইভ

মর্ত্যে আগমন লাইভ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কিরে তোরা সকলে তৈরী হলি? উমা দেবী শাড়ির আঁচল ঠিক করতে করতে বলেন। মা আমার বাটার ফ্লাই ক্লিপ টা খুঁজে পাচ্ছি না! কোথায় রেখেছো গো? লক্ষ্মীর কথায় উমাদেবী ভ্রু কুঁচকে বললেন দেখো গে যাও তোমায় ভাইবোনদের ঘরে। আমি কি সব কিছুর ঠেকা নিয়ে বসে আছি? লক্ষ্মী চুপ করে সরে গেলো। কার্তিক চন্দ্র এসে বললো হাই মাম্মা! হেয়ার ট্রিটমেন্ট করিয়েছি দেখো তো কেমন হয়েছে? উমা দেবী একবার তাকিয়ে চমকে উঠে বললেন ওগো শুনছো দেখে যাও তোমার ছেলের কাণ্ড! ওদিকে উনি তো ছয় দিনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, গঞ্জিকা সেবনের সব জিনিস পত্র সংগ্রহ করছে নন্দী ভৃঙ্গী। গিন্নীর ডাক শুনে জটা জুটো সামলে দৌড়ে এসে বললেন কি হয়েছে উমা? 
কি হয়েছে মানে? দেখো কাতু কি করেছে? চুলটাকে রংচং দিয়ে নষ্ট করেছে। এসব ওই মর্ত্যের ছোড়া গুলোকে দেখে শিখে এসেছে নিশ্চয়ই। না না মাম্মা, কার্তিক বললো। এই ট্রিটমেন্টটা আমায় বিশু মামা বলেছেন। এতে নাকি চুল ভালো থাকে। তোমার বিশু মামা কে দেখছি, ফিরে আসি মর্ত্য থেকে। বাবা খুব বাজে লাগছে কি? না রে, মডার্ন হবি, কিন্তু মন যেনো নিষ্পাপ থাকে। খালি একটু সজারুর কাটার মত লাগছে তোর মাথাটা। ওহ বাবা, ওটাকে স্পাইক বলে। যাক গে আমি তো ছাই মেখে থাকা মানুষ,অত বুঝিনা বাপু। তোদের সাজতে দেখলে আমার খুব ভালো লাগে রে! কোথায় একটু শাসন করবে তা নয়! উনি আরো তোল্লাই দিচ্ছেন ছেলে কে! আরে গিন্নি চটছো কেনো? আমাদের ছেলে মেয়ে গুলো তো আর অবাধ্য নয়। কদিন একটু মামাবাড়ি গিয়ে আনন্দ করে আসুক না। দাড়াও তোমার আর দুজন বাচ্চার খোজ নিই। তারা কে কি করছে! গনু বাবা কোথায় তুই? এই তো আমি প্রায় তৈরী মা! তোর চোখে এটা কি বাবা? কেনো মা সানগেলাস! ইদুর টা ফিচ ফিচ করে বলে। সেটা কি রে গনু? আরে মাম্মা এটা টাইটান থেকে করানো স্পেশাল সানগ্লাস। ওই মর্ত্যে গিয়ে রোদে রোদে ঘুরে যাতে চোখের ক্ষতি না হয় কিনেছি অনলাইন অর্ডার দিয়ে। তোদের পাশে আমিই বোধয় বড্ড সেকেলে লাগবো। না মা একদম না! তুমি যাই পরো না কেনো ইউনিক লাগে সব সময়, সরু এসে বললো। দেখো তো মা এই হেড ফোন টা কেমন হয়েছে? উমা দেবী বললেন এসব কেনো সরু? আরে মা মর্ত্যে ওই তোমার ভক্তদের ওসব হিন্দি গানের মাইকের শব্দে আমার মাথা ধরে যায়। তাই এই হেড ফোন কানে দিয়ে একটু ইনোভেটিভ কিছু শুনবো মোবাইলে। আচ্ছা আচ্ছা বুঝেছি। তোরা সব ব্যাগপত্র গুছিয়ে নে। অসুর টা ক্যাব বুক করছে। এসে গেলে আমরা রওনা দেব। বলতে বলতে অসুর এসে বললো মা জননী ক্যাব আসতে আধ ঘণ্টা মতো লাগবে। সিংহ কে দেখেই লক্ষ্মী ছুটে এসে বললো এই তুমি আমার ক্লিপ টা মাথায় নিয়েছো কেনো? বা রে! গরমে আমার কেশর গুলো এদিক ওদিক ছড়িয়ে থাকে,কষ্ট হয় না! তাই এটা দিয়ে সেট করলাম কেশর গুলোকে। এখন বেশ আরাম লাগছে। দেখো না মা! এই বনু চল আমার থেকে ক্লিপ নিবি। সরু বললো। সবার কথার শেষে শিবজী বললেন যাও সবাই সব কিছু দেখে নাও। বাবার কথায় সবাই যে যার ঘরে গেলো। উমা দেবী কে বললেন সাবধানে যেও, তোমায় ছাড়া ঘর টা ফাঁকা ফাঁকা লাগবে। ঢং যত, আমি বেরোলেই তো নন্দী ভৃঙ্গিকে নিয়ে গাঁজা সেবন করতে বসবে। আমার কথা কি ভাবো! ভাবলে এসব করতে না! আচ্ছা কম খাবো না হয়, ছাড়তে তো পারবোনা। যাও তোমার ভক্তরা সব অপেক্ষা করছে, সবাইকে এই কটাদিন হাসিখুশীতে মাতিয়ে রেখে আবার ফিরে এসো কৈলাসে। এই বুড়ো অপেক্ষা করবে তোমার জন্য,ছেলে মেয়েদের জন্য। ওই দেখো হর্নের আওয়াজ, ক্যাব বোধয় এসে গেলো। যাও যাও গিন্নী। হ্যা আসি,তুমিও নিজের খেয়াল রেখো। চার ছেলে মেয়ে অসুরদের নিয়ে উমা দেবী উঠলেন গাড়ীতে। শিবজি সকলকে হাসিমুখে সি অফ করলেন। গাড়ী এগিয়ে চললো কৈলাশ থেকে মর্ত্যের পথে।

মা দুর্গা আসছেন বাপের বাড়ী, সকলে তৈরী হয় ওনাকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য। শুভ হোক শারদীয়া। খুব ভালো কাটুক পুজো সকলের। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৩

মনে ভক্তি রবে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 মনে ভক্তি রবে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


ভক্তি যেমন মানুষকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যায়, তেমন অহংকার মানুষকে এক লহমায় পতনের দিকে ঠেলে দেয়। ভক্তি দ্বারা সব কিছু করা যায়, মনে ভক্তি থাকলে যে কোনো কাজ সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন হয়। আর অহংকার বাসা বাঁধলে কাজের থেকে অকাজ হয় বেশি। সামান্য একটা পাতা যেমন ঈশ্বরের অঙ্গুলিহেলন ছাড়া স্থানান্তরিত হতে পারেনা তেমনি মানুষকেও ঈশ্বরই চালনা করেন। ভক্তি আর অহংকার দুটোই মানুষের নিজস্ব, এবার কোনটা প্রয়োগে নিজের ভালো হবে সেটা নিজেকেই বুঝে নিতে হবে। মনে অহংকার বাসা বাঁধলে তখন মানুষ আর মানুষ থাকে না। নিজেকে পীর ভাবতে শুরু করে,আত্মবিশ্বাসী হবার চেয়ে ওভার কনফিডেন্ট হয়ে পড়ে আর ঠিক তখনি ভুল হয় কাজে। বুঝতে পারে না যে সব কিছুর নিয়ন্ত্রক হলো মন,সেই মনের শুদ্ধতা না থাকলে ভক্তি ভাব না থাকলে প্রতিপদে হেরে যেতে হবে। তাই ভক্তি আর নিষ্ঠা সহকারে সব কাজ করা উচিত, অহংকার ত্যাগ করা উচিত। 

"হৃদ মাঝারে থাকুক ভক্তি সদা,দূর হোক অহংকার
সফলতা ধরা দেবে,বাজবে মনে খুশির ঝঙ্কার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩

মোকাবিলা

শিরোনাম-মোকাবিলা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বিপদ যখন আসার সংকেত দেয় মানুষের তখনি সতর্ক হওয়া উচিত। মনে মনে তৈরী হতে হবে যাতে বিপদকে দূর হটানো যায়। বিপদ যখন আসে শক্তি যেনো থাকে সাথে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার। জীবনের পথ পুরো সুগম কোনোদিন নয় কিন্তু পুরোটাই কণ্টকাকীর্ণ এমনটাও নয়। বিপদের আঁধারে ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসা কোনোদিনই উচিত নয়। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর শক্তি দিন যাতে দৃঢ়চেতা হয়ে সেই বিপদের মোকাবিলা করে বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারে সকল মানুষ। বাঁধভাঙা দুঃখের দিনে আশার প্রদীপ নিভে যেনো না যায়। বুক চিতিয়ে লড়াই করার শক্তি যেনো সকলের থাকে। চক্রাকারে আবর্তিত সময় ঠিক বিপদ কাটিয়ে ভালো দিন নিয়ে আসবে। ভরসা রাখতে হবে শুধু সময়ের ওপর। সময়ের চেয়ে বলবান কেউ নয় কোনোদিন, বিপদও নয়।

"বিপদ যতই আসুক জীবনে,লড়তে হবে সাহস নিয়ে
মোকাবিলা করতে ডর পিছে ফেলে,যাও এগিয়ে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...