সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১

মধুমিতা(অণুগল্প) ✍️নন্দিনী তিথি


রমেশ সাহার একমাত্র মেয়ে BUP তে BBA পড়ছে এই তিন বছর হলো।সামনেই ফাইনাল তাই পড়াশুনার খুব চাপ।প্রতিদিন ভোর হতেই ভার্সিটিতে যাওয়া, জার্নি করে বাসায় ফিরে কোনমতে কিছু খেয়ে সাত মিনিট  রেস্ট নিয়েই আবার পড়তে বসে যায় মেয়েটা। ও খুব মেধাবী। কিন্তু 

 ক্লাসে যে ওর থেকেও একজন ভয়ংকর মেধাবী আছে। 

যে কিনা হলো অত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের একটা ছেলে রূপক।ক্লাসের টপার এবং সকলের অধিনায়ক। মধুমিতা কখনও ক্লাসে বেস্ট হতে পারেনি। এই বলে, 

রূপকের উপর কোনো রাগ ছিল না।ভার্সিটির সেই প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত রূপক শুধু তিনটে জামা পড়েই আসছে।আর হাতে করে একটা বাটন ফোন।অবশ্য এ বছরে ওর হাতে একটা স্মার্ট ফোন দেখেলো মধুমিতা।তিন বছরে রূপকের সাথে মধুমিতার তেমন কোনো কথা হয়নি।বড়জোর কোনো সমস্যা নিয়েই কথা হতো মাঝেমাঝে।

আজ ভার্সিটি থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়েই বিছানায় মাথা দিল।কিছুক্ষণ পরে পাশের রুম থেকে -

এই মিতা খেয়েছিস? আমি তোর জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।আর তুইও এসে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লি মা!!

সরি, বাবা!আমার আজ কেন জানি খিদে নেই।আর হ্যাঁ তুমি আমার জন্য আর বসে থাকবে না। এমনিতেই অসুস্থ। কতদিন বলেছি বাবা তুমি ঠিক সময়ে খেয়ে নিবে।না খেয়ে আমার জন্য বসে থাকো এরপর আরোও অসুস্থ হয়ে পড়ো আমার ভার্সিটি যাওয়া বন্ধ হোক তারপর! একটু রাগী সুরে বললো।

-মিতা রাগ করিস না মা দেখ।

উঠে বাবাকে জড়িয়ে ধরে-

বাবা আমরা ব্রেকফাস্ট, রাতের ডিনার তো একসাথেই খাই বলো।

প্লিজ বাবা তুমি দুপুরের খাবারটা ঠিক সময় করে খেয়ে নিবে আমায় কথা দাও।

কিন্তু!

না,কোনো কিন্তু নয় বাবা তুমি ঠিক সময় করে খাবে এটাই আমার শেষ কথা।

আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে কথা দিলাম ঠিক সময়ে খাবো।

হুম,এইতো আবার ভালো বাবা।চলো এখন খেতে।

খেয়ে উঠে পাঁচ মিনিট আড্ডা  বাবার সাথে। এরপর পড়ার রুমে গেল।কিন্তু পড়তে বসে আজ আর পড়া হলো না।ক্লাসের সবার কথা মনে করতে করতে হঠাৎ রূপকের কথা মনে পড়লো। ওর পড়াশুনার খরচ চালাতে ওর মা বাবার অনেক কষ্ট হয়।কোনোভাবে কি আমি ওর উপকারে আসতে পারিনা!এইসব ভাবতে ভাবতে আর মধুমিতার পড়া হলো না।বই বন্ধ করে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো।কেন আমার এসব কথা আগে মাথায় আসলো না।তিন বছর পরে কেন মনে পড়লো ওর উপকারে আসার কথা এসব বিড়বিড় করে বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়লো।ভোরে উঠলো, ফ্রেশ হয়ে বাবার কাছে গেল দু-কাপ কফি বানিয়ে।দেখলো বাবা খবরের কাগজ পড়ছে।

-নেও, কফি টা খেয়ে নাও।

কফি খেতে খেতে - বাবা একটা কথা বলবো তোমায়।

-হ্যাঁ,বল মা।

বাবা আমি কারো উপকারে আসতে চাই,পাশে দাঁড়াতে চাই।

-কাদের মিতা?

-বাবা কাদের নয়। একটা ছেলের উপকারে আসতে চাই।রূপক, আামাদের ক্লাসের বেস্ট স্টুডেন্ট। ও অত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল থেকে এসেছে শহরে।আর্থিক দিক থেকে ওরা অনেক পিছিয়ে।ওর বাবার সামান্য ইনকামে ওদের সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়।ভার্সিটি থেকে সাহায্য পেলেও ওর উপকারে আসাটা আমার খুব জরুরি মনে হচ্ছে বাবা।

আচ্ছা, তুই আজ ভার্সিটিতে যা গিয়ে ওর নম্বর,আর ওর বাড়ির ঠিকানা নিয়ে আয়।

মধুমিতা আনন্দের টলমল চোখে বললো বাবা!!

Copyright ©All Rights Reserved Nandini tithi.

৪টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...