রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১

# নাম- জীবন দর্শন। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

 
 # বিষয় - আধ্যাত্মিক। 
  # নাম- জীবন দর্শন। 
  ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

   জীবন ব্যবহারিক ও জীবন আধ্যাত্মিক। ব্যবহারিক জীবন জানে ব্যবহারিক সুখ কি,আর ব্যবহারিক দুঃখ কি! এই সুখ ও দুঃখের কারণও জানা যায়। কেউ অবিরাম দুঃখের জন্য আসেনি। দুঃখের পর সুখ যে আসবে অনিবার্য কারণে - *চক্রবৎ পরিবর্তন্তে সুখানি চ দুখানি চ।*- এ গেল সাংসারিক ও ব্যবহারিক জীবনের কাছে সুখ ও দুঃখের একটা সহজ সমীকরণ। ব্যক্তি জীবনের কাছে সকল দুঃখ ও আনন্দের কারণ তার জীবনের শৈলিতে অহরহ অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে। এর দুঃখ ও সুখ আত্মার আমিত্ব থেকে আসে।
 আর আমিত্বের মোহ থেকে মুক্তির পথ দেখায় আধ্যাত্মিকচেতনা। 
   স্বামীজী জগতকে সেবার দীক্ষায় দীক্ষিত করলেন। তিনি তো নিজের মুক্তির জন্য সাংসারিক জীবন থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন। ঠাকুর শ্রাশ্রীরামকৃষ্ণ রাজি হননি। জগতে নিক্ষেপ করলেন- আর্ত,পীড়িত,দরিদ্র, অসহায় মানুষের সেবার জন্য। তাঁর সঙ্গে সেবা আছে, আর আছেন গুরু। জগতে সেবার জন্য সকলের জন্ম। সেবার পথেই আছে আনন্দ। সেবা একটি গুণ। ঈশ্বর সবাইকে দিয়ে সেবা করিয়ে নেন। সেবা গুণ দিয়ে পাঠান। যে যত বেশী সেবার কাছাকাছি হবে ততই তার আনন্দ,ততই তার জীবন প্রসারিত। সেবাই গড়ে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ। আর সেবার পথে না থাকলে হৃদয়কে চেনা যায়না। সেবার পথে না থাকলে হৃদয় হয় স্বার্থপর। স্বার্থপর জীবন মানেই সীমাবদ্ধ জীবন। উপনিষদ বলেছে আত্মা কখনও একা থাকে না। যে আত্মা একা থাকে মৃত্যুতে শান্তি পায় না। তার জন্য কেউ অনুশোচনা করে না। মহৎ আত্মা হয় বহুগামী,সেবা পরায়ণ। আর তিনিই তো মৃত্যুঞ্জয়ী। 
  সুতরাং সেবাপরায়ণ আত্মাই তো জীবনকে সম্প্রসারিত করে,আর স্বার্থপর জীবন সবার মধ্যে বাঁচতে শেখে না বলে সে নিজেকে রাখে সঙ্কুচিত করে। এহেন জীবন মোহে আবদ্ধ হলে, বুদ্ধ যাকে বলেছিলেন *তহ্না* (তৃষ্ণা) তার জন্য জীবন পৃথিবীতে বারে বারে ফিরে আসে। 
 স্বামীজী সেবার স্বরূপ বোঝাতে গিয়ে জীবনকে প্রসারিত করার উপায় বলেছেন। জীবন সঙ্কুচিত হয় কীভাবে তা থেকে মুক্তির উপায় যে সেবা তাই বলেছেন। এ তাঁর জীবনের পরীক্ষিত ফল। আর তাই  হয়েছে বাণী।
  বদ্ধ বা সঙ্কুচিত আত্মা যাই বলেন তাই হল কথা,আর মহৎ আত্মা যাই বলেন তাই হল বাণী। কারণ মহৎ আত্মা জীবন দিয়ে উপলব্ধি করে বলেন বলে তাঁর কথা বাণীরূপে মর্যাদায় ভূষিত হয়। আর সঙ্কুচিত আত্মার বা ব্যবহারিক জীবনের কথার সঙ্গে কাজের গরমিল থাকে বলে তাঁর কথা শুধু কথার কথা। 
 একটা গল্প দিয়ে শেষ করব। গাঁধীর জীবনের গল্প। কেন গাঁধী মহৎ আত্মা তথা সম্প্রসারিত জীবন সেই গল্প! গল্প হলেও সত্যি।
 এক মা তার সন্তানকে নিয়ে একদিন হাজির সবরমতি আশ্রমে। কারণ ছেলেটি এতো চিনি খাওয়া শুরু করেছে যে যদি সুগারের রোগী হয়ে যায় সেই ভয়ে তাকে বাপুজির কাছে এনেছেন। ছেলেটি বাপুজিকে ভয় করে যেমন, মানেও তেমনি। বাপুজি যদি বলে দেন তাহলে ছেলেটি শুনবে,আর চিনি ছোঁবে না।
 তাই শুনে বাপুজি বললেন "ঠিক পনর দিন পরে এসো।"
 পনের দিন পরে ছেলেকে নিয়ে মা আবার এলেন। বাপুজি ছেলেটিকে বললেন- "তুই আর চিনি খাবি না।" ছেলেটি তাই শুনে সুবোধ বালকের মতো ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাল। চলে যাওয়ার সময় ছেলেটির মা বললেন- "পনর দিন এই সামান্য কথাটা বলে দিলেই হতো। জানেন এই পনর দিনে অবাধ্য থেকে আরো কত চিনি খেয়ে শরীরের ক্ষতি করেছে।"
 বাপুজি তখন বললেন- "বলি কি করে,তখন আমিও যে রীতিমত চিনি খাওয়ার মধ্যে ছিলাম। আমি আর চিনি খাইনা বলেই তো ওকে আদেশ দেওয়ার অধিকার লাভ করলাম।"
  এই হল সঙ্কুচিত জীবন ও সম্প্রসারিত জীবনের অনুষ্ঠান। সঙ্কুচিত জীবন বদ্ধ। মৃতবৎ। আর সম্প্রসারিত জীবনে সদাই মুক্ত জীবনের উল্লাস।
  ধন্যবাদ।  শুভেচ্ছা।❤❤🙏🙏

১৭টি মন্তব্য:

  1. খুব সুন্দর করে বোঝালেন দাদা 👌👌👌👌💐💐💐

    উত্তরমুছুন
  2. অসাধারণ লেখনী।সম্প্রসারণই জীবন,সঙ্কোচন মানেই মৃত্যু।

    উত্তরমুছুন
  3. খুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।

    উত্তরমুছুন
  4. ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤💥💥💫💫

    উত্তরমুছুন
  5. দাদার লেখা সে তো বলার নয়..👏👏👏

    উত্তরমুছুন
  6. ভীষন ভীষন ভালো লাগলো ।💐💐

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...