সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১

ক্যানভাসে। অনুগল্প। লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

ক্যানভাসে
প্রিয় তির্থদা, তোমার পলাশ গাছের প্রতি পাতায় লিখে দিলাম আমার নাম, আগামী শীতের আগেই ঝরে যাওয়া পাতা তোমায় ছুঁয়ে ঝরে পড়বে, তোমার মাথা বুক সর্বাঙ্গে থাকবে আমার পরশ। পতাঝরা দিনে মনে পড়বে হয়ত কলমটা হাতে নিয়ে, উদাস চোখে জানলা ছাড়িয়ে দূরে অনির্দিষ্ট দৃষ্টি মেলবে । মনে আসবে হয়ত এই ফাগুন আবার আসবে আবার তুমি ফিরে পেতে পারো নতুন হোলি। আবার রঙগুলো ভুলিয়ে দিতে পারে কাব্য বোঝাই পুরাতন খাতাখানা। কিংবা ধরো ওটা তুমি পলাশের শুকনো ফুলের স্তুপের মাঝে হারিয়ে ফেললে। শুকনো প্রতি পাতায় মর্মর ধ্বনি তুলে এগিয়ে যাবে। তোমার পায়ের স্পর্শে একটা একটা শুকনো পাতা ভেঙে গুড়িয়ে যাবে মাটিতে সঙ্গে আমার নাম । তখন, ঠিক তখনই তুমি গেয়ে উঠবে গান..... বেদনো ভরা এ বসন্ত কখনও আসেনি বুঝি আগে। তুমি হয়ত জানবে না তোমার চশমা কেন ঝাপসা হচ্ছে। তুমি জানবে না বুকটায় বেরঙা আবীর কে ছড়িয়ে গেল! তুমি জানবে না বিশ বছরের ছোট কেউ তোমার হৃদয়ে দোলের রঙ মাখিয়ে বিদায় নিয়েছে। অনভ্যস্ত তোমার মনে কখন প্রেম খেলে গেছে, জানবে না, জানলেও আমল দেবে না। পলাশের মালা গেঁথে পরেছি আমি, গেরুয়া হয়েছে মন। বাউলীয়া সুরে দেহ থেকে অনন্তের দিকে ভাসিয়ে দিলাম নিজেকে। তোমার রোজকার জীবনের রোজনামচা ভাঙলাম না আর। কাউকে নিয়ে আবার পলাশের রঙে হলি খেলো । আবার তোমার ছোঁয়ায় কোন ছাত্রী শিহরিত হয়ে ভাবতে শিখবে কাব্য জীবন কিংবা জীবনময় কাব্য! কি এসে যায় যদি আকন্ঠ আবীর মেখে মাথায় ঘোমটাখানা তুলে আয়নার সামনে এসে দাঁড়িয়ে স্বলজ্জ হাসিতে নিজেকে রাঙিয়ে তোলে। রাঙামাটি মনে দেহে বাহার আনার আগেই যদি তোমার নির্লিপ্ত অভিব্যক্তিতে সে বুঝতে পারে বড়ো ভুল হয়ে গেছে। পলাশ আর দোলের বাহার প্রকৃতির সাথে রসায়ন ঘটিয়ে ছলনা করে গেছে! আবার আবার আবার কত জন স্বপ্ন দেখবে মধু মাসে। জানে না শীতের আগেই পাতা ঝরে যাবে। পলাশ রঙের বিদায়, সুচরিতা।। চিঠিটা কি মনে হল ছিঁড়ে ভাসিয়ে দিল দখিনা বাতাসে। ঠিক তখন অর্কপ্রভ তুলিতে রঙ ভর ছিল দূরে আর্ট ফ্যাকাল্টির মাঠে, দূরে আবছা পাহাড়টার দিকে ফোকাস, ক্যানভাসে চোখ। গোলাপি ছেঁড়া দুটি পাতা রঙে এসে বসে গেলো। একটিতে লেখা পলাশ অন্যটি? ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।।।।।।।।

২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...