শুক্রবার, ১৯ মার্চ, ২০২১
#পিপাসা#শর্মিষ্ঠা ভট্ট
#বিষয় - গল্প
# নাম - পিপাসা
# লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট
চেয়ে ছিলাম ও না আসে। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে এই শীতের ঠান্ডা আরও জমিয়ে দিয়ে। চারিদিকে নিঃশব্দ কুয়াশার মতো হালকা চাদরে মুড়ে দিয়েছে। চাই না কেউ আমার একাকিত্বের রসে ভাঙ ঢালে। বেশ আছি। একা আছি। মানুষের নৈকট্য থেকে দূরে অনেক দূরে পাহাড়ি পঞ্চভরিতে। নৈনিতাল থেকে বেশি দূর না, যাতে স্কুল যেতে সুবিধা না হয়। তাই এখানে থাকা। আমি কেমিস্ট্রি পড়াই। চলে এসেছিলাম সব ছেড়ে। কলকাত্তাই চকাচক কেমন যেন মেকি হয়ে যাচ্ছিল। অলস এক জীবন কাটাই আমি।
ওকে আসতে বারন করেছিলাম, তবু আসছে। কি করে আসবে কে জানে। পাহাড়ি পথে গাড়ি চালায় এত জোর, বুক কাঁপে বারন করলে থড়ি শুনবে? তেজি একটা গোঁ ওর আছে। আমায় ভাবনায় ফেলা ওর কাজ। এসেই জানি ওভার কোট টুপি রেখে ওই ফায়ার প্লেসের সামনে বসবে। ওর দিকে মুগ্ধ তাকাবো উষ্ণ কোন পানীয় এগিয়ে দিয়ে। জানি ও স্যাটেরিয়াসিস। তবু ........
দরজায় কড়া নড়ছে। কারেন্ট গেলো। বেল বাজছে না। যা ভেবেছি তাই এসে গেছে সে। এখন কেবল আমরা। এই নিঝুম পুরীতে কেবল আর কেবল আমি আর আমার হাবি ঋত্বিক, এয়ার ফোর্স অফিসার। যেকোন বাঁধা অতিক্রম করে সে আমার কাছে আসবেই। এসেছে ও । লাল ফুল কলার টাইট সোয়েটার আর ব্ল্যাক জিনস পরে আগুনের দিকে তাকিয়ে বসে। ওর শরীর থেকে বীরত্ব ঠিকরে বের হচ্ছে। কতদিন পর এলো। আমাদের জীবনের এমন ছন্নছাড়া ভাব, কি আর বলি। ওর কাছে যেতে আমার লজ্জা করছে কত দিন দেখিনি। তবু ট্রে সাজিয়ে এগিয়ে গেলাম। ওর মুখে চুরুট আল্তো লেগে। কাছে আরও কাছে যাচ্ছি, আকর্ষণ। মায়াবী ছোঁয়া পাবার ইচ্ছা মনে প্রবল হচ্ছে। ওর খাবারে মন নেই আমায় সে চিকেন তন্দুরি ভাবে। ভাবুক। আমার হাবি, এত দিন পরে। যত দিন যাচ্ছে ও আরও উগ্ৰ ও ভয়ঙ্কর হয়ে যাচ্ছে। কাউকে বলি না। ও আসলেই আমার স্কুলের কলিগরা জানতে পারে। আমার ফোলা ঠোঁট কপালে দাগ। তবু এই খেলায় আমিই সঙ্গী। ওর পৌরুষ.......... উফ্ চুল ধরে সজোরে ঠুকে দিলো দেওয়ালে। ঠুকেই চলেছে যতক্ষণ রক্ত না বের হয়। পালাতে চাই না। পালাতে নেই। এই নিঃশব্দ প্রকৃতি ও আর আমি একে অন্যের পরিপূরক। বৃষ্টি থেমেছে। আজ ডিনারে খাবার অপূর্ব করেছি। তবু ও আমার আঙুল কেটে দিল নুন বেশির অপরাধে। ওর দুঃখ দেওয়া মেনে নিয়েছি.... ওকে কোথায় ছেড়ে দেবো! ওর যে কেউ নেই। যেমন হোক ও কিন্তু আমার কথা শোনে। আহ্..... চাবুক!!! আর মেরো না। গুটিয়ে গেছি। সোফার তোশাকের তুলো ঘরময় উড়ছে। ওর শক্তির কাছে আমি পরাজিত। ঘুম চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে, আমি ক্লান্ত। হয়ত আবার মাঝ রাতে তুলবে। শুনেছি ডাক্তার দেখালে এ সব উৎপাত কমে যায়, কিন্তু ওর এই ধরন আমার পছন্দ। সকালের আলো ফুটলে ও পোশা বিল্লি হয়ে যাবে।
একি ছুরি!! .......... দৌড়োচ্ছি দৌড়োচ্ছি। রাত্রিবাস লুটছে। আমি আপ্রাণ দৌড়োচ্ছি ওর হাত থেকে বাঁচবো বলে।
এতটুকুই বলে ....গোঁ গোঁ করতে লাগলো অহনা। কাল রাতে ও স্কুলের বাংলোয় সুইসাইড করতে যাচ্ছিল, কেয়ার টেকার আর ওর বৌ কোন ক্রমে বাগে এনে ডাক্তারের কাছে এনেছে। অবশ্য সবাই ওর হাবভাব দেখে ভূতে ধরেছে, ওঝা ডাকতে বলেছিল। অবিবাহিত এই স্কুল টিচার বড়ো শান্ত মেয়ে। তবু তিন মাসে সে আরও দুবার এমন করে খাদে ঝাঁপ দিতে গিয়েছিল । ওর বাবা মা আজ এসে যাবে। ওদের হাতে দিয়ে তবেই শান্তি।।
©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস
শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...
-
ঘোষ বুড়ী ©সুদেষ্ণা দত্ত গ্রামের নাম সুন্দরগ্রাম--বাংলা মায়ের কোল ঘেঁষা সুজলা,সুফলা,শান্তির নীড় ঘেরা এক গ্রাম।গ্রামের অধিকাংশ লোকই কৃষি...
-
আমার অকাজের লিস্টি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস ২০২৫ এ পড়ে ফেলা বইগুলোর তালিকা তৈরী করেই ফেললাম। ভিন্ন স্বাদের সব বইগুলো। মন ভালো করে দেয়। তালিকা...
-
অণু গল্প ----সাথী হারা। কলমে-- পারমিতা মন্ডল। দীঘার সমুদ্রে একা একা হেঁটে চলেছে সৈকত । এই বালুকাবেলায় , রামধনু রং আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা বড়...

খুব সুন্দর ।💐💐
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ🙏💕🙏💕🙏💕🙏💕
উত্তরমুছুনবাহ্! দারুণ লাগল। ধন্যবাদ। 👍👍👌👌❤❤
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ🙏💕🙏💕
উত্তরমুছুন