বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১

# বিষয় - বিজ্ঞান। #নাম- 'প্রকৃতির অলৌকিক পাঠ।' ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

নাম- প্রকৃতির অলৌকিক পাঠ।
  ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

      বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের তথা মহাশূন্যের দান এই পৃথিবী। মহাশূন্য পৃথিবীকে কীভাবে দান করেছিল তার কথা শত সহস্র মুখে গালগল্পের ইতিহাসের কথার কোনো শেষ নেই। তবে একটা স্থির প্রমাণে আসা গেছে যে পৃথিবী সৌর পরিবারের ন'জনের একজন। সূর্য থেকে একটা অগ্নিপিন্ড ছিটকে এসে ন'টি টুকরো হয়,নয়ে নবগ্রহ বলি যাদের। তাদের প্রত্যেকে পৃথক পৃথক নামে অভিহিত। একমাত্র পৃথিবীতেই জীব জগতের আবির্ভাব ঘটল। তাই মহশূন্যের প্রকৃতির দান। সূর্যের পরিবারে নয় সদস্যের জন্য মহাশূন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির সমাবেশ ঘটিয়েছে। এই প্রকৃতির সমাবেশ ঘটেছিল যেভাবে তাই এক অলৌকিক এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।
  বিশেষ করে পৃথিবীর জন্য আমাদের অলৌকিক অবিশ্বাস্য ব্যাপারটির আজও সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে সমাধান নেই। প্রতি পদে পদে কৌতূহল! 
মহাশূন্যে যে বস্তুর যত ভর বেশী তার আকর্ষণ বল তত বেশী। সূর্যের চেয়েও আরও ভারী ভারী নক্ষত্র আছে। তাদেরও সূর্যের  মত পরিবার থাকার কথা ভাবাই যেতে পারে,তবে সৌর পরিবারের মত সদস্যের বিভাজনের ঘটনা ঘটলে তো! সেই অলৌকিক ঘটনার খবর এখনও নেই। বিজ্ঞান মরিয়া সেই অলৌকিক ঘটনার খবর  জানতে। তবে বলা হচ্ছে মহাশূন্যের শতকরা পঁচানব্বই ভাগ অদৃশ্য,অজানা,রহস্যময় এক অন্ধকার জগৎ। মাত্র পাঁচ শতাংশ মহাশূন্যের গ্যালাক্সি অংশ। আর গ্যালাক্সির আলোর লীলার বাইরে অন্ধকার,যাকে জানার উপায় বের করতে বিজ্ঞানের এবার নতুন অধ্যায় আসতে শুরু করেছে। 
  সৌর পরিবারের সৃষ্টি অলৌকিক,এই অলৌকিকের মধ্যে অলৌকিক পৃথিবীর সূর্যের কক্ষপথে অবস্থান! একটু এবার ওধার অবস্থান হলে পৃথিবীতে প্রাণের সম্ভাবনা ছিল অসম্ভব। যেমন অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব


নিয়ে গবেষণায় বিজ্ঞানের প্রাণপণ লড়াই তো আজন্ম। প্রাণের সন্ধান পেলে পৃথিবীর ভার কিছুটা কমে।
  পৃথিবীর অক্ষাংশগত অবস্থান সত্যিই অলৌকিক! পৃথিবীকে নিয়ে জানার জগতটি সামান্য লাগে,কত অজানা তথ্যের মীমাংসা এখনো নেই বলে। যেমন নাইট্রোজেনের জন্য গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহন করে,মানুষ অক্সিজেন গ্রহণ করে ও কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে। এই যে গ্রহণ ও বর্জন মানুষ ও গাছেদের মধ্যে বোঝাপড়া কীভাবে এসেছিল ভাবলে অলৌকিক মনে কি হয় না! অবশ্যই হয়।
    পৃথিবীর আজকের রূপান্তরের ইতিহাস কোটি কোটি বছরের। যেমন,সেই সময়কার কথা বলছি যখন পৃথিবীর সমগ্র স্থলভাগ ছিল একটাই ভূখণ্ড। জার্মান অধ্যাপক আলফ্রেড ওয়েগনারের 'মহীসঞ্চরণ' মতবাদের মূল কথাই ছিল - চৌত্রিশ কোটি বছর আগে কার্বনিফেরাস যুগে পৃথিবীতে ছিল একটিই স্থলভূমি। তার নাম প্যানজিয়া। আর সমগ্র জলভাগের নাম ছিল 'প্যান্থালাসা'।
  পৃথিবী ঘুরছে বলে পৃথিবী তার উপরিভাগকে কেন্দ্রাতিগ বল প্রয়োগ করছে। তারই প্রভাবে বাইশ কোটি বছর আগে মেসোজয়িক যুগের শুরুতে প্যানজিয়া অর্থাৎ একটাই ভূখণ্ড প্রবল আলোড়নের ফলে একাধিক ভূখণ্ড তৈরি হয়। গড়ে ওঠে এক একটা মহাদেশ। সুতরাং একটা ভূখণ্ড প্রাকৃতিক কারনে সাতটি মহাদেশ হয়ে তিনভাগ জল ও এক ভাগ স্থলের কাহিনীর ঘটনা মনকে কৌতূহলে উদ্দীপিত করে। আর অলৌকিক ঘটনা মনে জুড়ে বসে। এও নিশ্চিতভাবে দেখা যাবে সাতটি মহাদেশকে টেনে এনে জুড়ে দিলে খাপে মিলে যাবে।
জীববৈচিত্র্য কোথা থেকে এলো? এককোশি প্রাণি অ্যামিবা পৃথিবী সৃষ্টির আদিতে যা ছিল তাই আছে,তাদের বংশ বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের বংশ বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য কে দান করল! আবার এক কোষ বহুকোশি হওয়া,তার সঙ্গে ভাইরাসের শত্রুতা ও ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিত্রতা কোথা থেকে এলো,কে দান করল যুতসই মীমাংসা নেই। মীমাংসা নেই সন্তান উৎপাদনের জন্য বিপরীতধর্মী দুটো কোশের আকর্ষণ বল কে দিল কেন হয়? এই কেনর উত্তর নেই। তবে কিভাবে সন্তান উৎপাদিত হয় সে উত্তর অনেক গবেষণায় বিবর্তনের ইতিহাস খুব চমকপ্রদ। সেই জ্ঞান থেকে জীবন ও জীবিকার কত বৈচিত্র্য।
    সুতরাং প্রকৃতির এই অলৌকিক রহস্য আছে বলেই জীবন ও জগতের পরিচয় অনেক।
  যখন লৌকিক হয়ে মানুষ বাঁচে মানুষ স্বার্থ,সুবিধাভোগ প্রভৃতি ক্ষুদ্রতার মধ্যে বাঁচে। আর যখন প্রকৃতির অলৌকিক ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় তখন সকল ক্ষুদ্রতা থেকে মুক্তির উল্লাস জাগে। প্রকৃতির অলৌকিক বিধানে মানুষ মুক্তি খোঁজে।
                 ******
  @ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।  

৬টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...