রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১

বিষয় : আধ্যাত্মিক# লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।


বিষয় : আধ্যাত্মিক ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।। 
 একদিন চেতবনে বর্ষাকালের বিশ্রাম রত বুদ্ধের কাছে শোকার্ত এক মহিলা তার সদ্য হারানো সন্তানের শোক নিয়ে হতাশা ভরে এসে বলল " তুমি তো দেবতা, পারো আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে? " " তুমি একটি ঘর থেকে এক মুঠো সর্ষের দানা আনো, যার ঘরে কেউ কখনও মৃত্যুর কোলে আশ্রয় নেয়নি।" শান্ত উত্তর ছিল বুদ্ধের। মহিলা অনেক খুঁজেও এমন ঘর একটিও পেলো না, তাদের দুঃখ কথা শুনতে শুনতে এক সময় পথ শ্রম ও হতাশায় সে ফিরে এল। বুদ্ধ বোঝালেন, নিজের দুঃখ বড়ো করে দেখলে, সঙ্কুচিত জগতে দুঃখ বড়ো হয়ে ওঠে যা ভেতর খোকলা করে নিঃস্ব করে দেয় যা মৃত্যু সম। বিশ্বের বিশাল ভান্ডারে দেখলে বোঝা যাবে কোন মূল্য নেই অহেতুক নিজস্ব দুঃখের সময় সীমা টেনে বাড়ানো। অনেকে ভাববে মুখে বলা যায়, নিজের হলে বড়ো কথা আর মুখ দিয়ে বের হত না। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ, শিশু থেকে যে নিজের আপন জনের মৃত্যু কাছ থেকে দেখেছেন, তিনি ও অনুভব করেছেন বুদ্ধের মতো। সংকোচন নয় বিশালের মাঝে মেলে ধরলে দৈহিক মানসিক শান্তি ও আত্ম তৃপ্তি আসে। রবীন্দ্রনাথের কথায় "ব্যক্তি হিসেবে দেখতে গেলে মৃত্যু জীবনে কত উৎকট, তার মধ্যে কোন শান্তনা নেই কিন্তু বিশ্বজগতের হিসেবে দেখতে গেলে মৃত্যুটা কত সুন্দর ও মানবাত্মার শান্তনা স্থল। " মন যদি আমিত্বে হারিয়ে যায়, তবে সঙ্কুচিত হতে থাকে অন্তরে বাহিরে। ধরা হল ঘোমটা বা বোর্খা ঢেকে দেওয়া সামাজিক এই প্রবণতা কেবল পিছনে টানে। সমাজ ও ব্যক্তি এতে এক গন্ডির মাঝে আঁটকে পড়ে, জীবনকে সেখানে বাঁধা হয়। সেখানে থাকে এক ধরনের শাসন। নারী সমাজকে মাটিতে ফেলে মাড়িয়ে যাবার এক প্রবনতা কাজ করে। কিন্তু যদি এই রীতিকে বিশালের আবহাওয়া দেওয়া হয়, স্বাধীন মুক্ত আকাশ! এ কেবল লজ্জা বস্ত্র, কোন শাসন নেই কোন বন্ধন, হয়ত মুক্তি র চেষ্টা না করে নিজেরা স্ব ইচ্ছায় তুলে নেবে, বিশাল বিচার শক্তি নিয়মের বেড়া জালে না বেঁধে মুক্তি দেয়, আর তাই হয়ে ওঠে প্রানের ডাক। আপনিই মন করে পথ চলতে। ঠিক তেমনই শত যাগযজ্ঞ নিয়ম কানুন দিয়ে বাঁধা ঈশ্বর চিন্তার পথ সঙ্কোচন বা শূন্য বা মৃত্যু আনে পদ্ধতিতে সমাজে ব্যক্তিতে। খোলা মনে বিশাল ব্যাপক অর্থে যখন সে চিন্তা করা যায়, তখন মনের মাঝে বিশালতা প্রাপ্ত হয়। আলোয় ভরে মন। আলোকিত মন মুক্তির দিশারী। বিশাল মন ক্ষয়হীন অমরত্ব লাভ করে। ধন্যবাদ বন্ধুরা।।।

৩টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...