বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১

শ্রম(সুদেষ্ণা দত্ত)


 শ্রম

সুদেষ্ণা দত্ত

 

       শহরের হলুদ নিয়ন আলোর রাতবাতিরা সারারাত অতন্দ্র প্রহরী হয়ে নিরাপত্তা দেয় তার বুকে জেগে থাকা ,ঘুমিয়ে থাকা গল্পকারদের।রাতের শহর গল্প লেখে রূপকথার,রাতের শহর গল্প লেখে বিসর্জনের।

           কোথাও প্রাচুর্যের ফোয়ারার উদযাপিত হয় সাফল্যের রাত উৎসব।আবার কোথাও রাতবাতির নীচের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে ব্যর্থতার কাহিনী।

             অবসরপ্রাপ্ত বাবার বেকার ছেলে জয়।বাড়ীতে অবিবাহিতা বোন।নিত্য গঞ্জনা জোটে জয়ের কপালে।শুধু দিনের চাকা ঘোরে টিউশনির টাকায়।বছর তিরিশের জয় আজও চাকরী জোটাতে বিজিত।দিনের পর দিন ইন্টারভিউ দিয়ে যাচ্ছে।কিন্তু তার শ্রমের স্বীকৃতি আজও তার দুয়ারে অতিথি হয়ে কড়া নাড়েনি।

             আজও একটা ইন্টারভিউ দিয়ে ব্যর্থতার মুকুট পরে ফিরছিল জয়।পায়ে হেঁটে ফিরতে ফিরতে অর্থ ও যানবাহনের অভাবে সন্ধ্যা কখন রাতের চরণ চুম্বন করেছে।

           হঠাৎ রাতবাতির নীচে একটি মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জয়।মেয়েটির রাত পোশাক,সাজগোজ জানিয়ে দেয় তার পেশা।পকেটে পড়ে একশ টাকা।মাস শেষ হতে বাকি এখনও দিন পাঁচেক।কিন্তু ভিতরের হতাশা পাশবিক হয়ে ঠেলে উঠতে চায়।সে মেয়েটিকে তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য জোর করে।কিন্তু মেয়েটি জয়ের পোশাক-আশাক দেখে বুঝতে পারে সে ভদ্রবাড়ীর ছেলে,তবে জীবন যুদ্ধের যোদ্ধা ।আজ কোন কারণে এই নেশা বঞ্চিত সে এই নেশা চেখে দেখতে চায়।মেয়েটি তার সঙ্গে যেতে অস্বীকার করে।জয় তখন বলে তুমি তো দেহ বিক্রিই কর।মেয়েটি উত্তর দেয়, “না দাদাবাবু আমি শ্রম বিক্রি করি, তাই জানি শ্রমের মূল্য,শ্রমিকের শ্রমের মূল্য আমি দিতে জানি দাদাবাবু”।


©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

৮টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...