রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১

এক কাপ চা।

কলমে -সোমা দে। 

মানিকবাবু একসময় বেসরকারী অফিসে কাজ করতেন। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। দুই ছেলেই মস্ত বড় অফিসে কাজ করেন। তাই তারা অফিস থেকে যে ফ্ল্যাট পেয়েছে সেখানেই থাকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে। আর মেয়ে তারও বিয়ে হয়েছে ভালো ঘরেই। মেয়ে নিজেও একজন স্কুল শিক্ষিকা। বর্তমানে মানিকবাবু রিটায়ার্ড করেছেন। 

অফিস থেকে রিটায়ার্ড করার সময় মানিকবাবু যা সামান্য টাকা পেয়েছেন তা খরচ হয়ে গেছে স্ত্রীয়ের জন্য। কারণ তাঁর স্ত্রী যে খুব অসুস্থ। আর জমানো যা কিছু ছিল সবই  ছেলে মেয়েদের জন্য খরচ হয়ে গেছে। এখন মানিকবাবুর কাছে আর কিছুই নেই। ছেলে মেয়েরাও বাবা মায়ের সঙ্গে এখন আর কোন যোগাযোগই রাখেনা। সংসার চালাতে হবে। এইবয়সে সে কিভাবে রোজগার করবে? কেউ তো তাকে কোনো কাজেই রাখবেনা। কি করবে কিছুই মাথায় আসছিলনা মানিকবাবুর। 

একদিন পাড়ার চায়ের দোকানে বসে মানিকবাবু এক কাপ চা খাচ্ছিলেন ।হঠাৎ তাঁর মনে হল, তিনিও এই চা বানিয়ে সকলকে যদি এক কাপ খাাওয়াতে পারেন তাহলে সংসারে কিছু টাকা তো আসবে। কিন্তু চায়ের দোকান করার জন্য যে টাকার দরকার সেটাও তো তাঁর কাছে নেই। তাই সে ঠিক করলেন তাঁর বাড়ির সামনে যে কলেজটি আছে সেখানে বাড়ি থেকে চা বানিয়ে নিয়ে গিয়ে কলেজের সকলকে খাইয়ে কিছু আয় করবেন। 

মানিকবাবু প্রত্যেকদিন চা বানিয়ে নিয়ে গিয়ে কলেজের সামনেই দাড়িয়ে থাকতেন। প্রথম কিছু তাঁর বানানো চা কেউই খেতনা। কিন্তু পরে দিয়ে কলেজ স্টুডেন্টদের মানিকবাবুকে দেখে বড্ড মায়া হল। তখন তারা মানিকবাবুর হাতে বানানো এক কাপ চা খাওয়া শুরু করলো। এখনও মানিকবাবু কলেজের সামনে দাড়িয়ে তাঁর হাতে বানানো চা বিক্রি করে যা আয় করেন তাতে তাঁদের দুজনের সংসার চালানো কষ্টদায়ক কিন্তু কিছুই করার নেই এই ভাবেই তাঁদের দিন কোনরকম চলে যাচ্ছে।   

৪টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...