বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১

ঝুট হ্যায় # শর্মিষ্ঠা ভট্ট

# চিত্রলেখা।। # অনুগল্প : ঝুট হ্যায় ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।।।।।।।।।। স্ট্যালিন ফ্রান্সিস কারখানায় কাজ করে। প্রচন্ড তাপে মাঝে মাঝেই সে অসুস্থ হয়। কিন্তু অসুস্থ হলে তো চলবে না। বিধবা মা ছাড়াও চার বোন আর এক বৈমাত্রেয় পঙ্গু ভাই আছে। কাজটা চালিয়ে যেতে হবে। প্রচুর শক্তি লাগে একাজে ভাঁটিতে কয়লা ঠেলে সে। কিন্তু আজ মালিকের শালা এ্যান্টনী অদ্ভুত জিনিস এনেছে সন্ধ্যায়। বড়ো বড়ো ব্যাগ নেমেছে ছোট টেম্পো থেকে। অজস্র নোট । একটা বান্ডিল যদি সে পেতো! হয়ত ওর প্রেমিকা লিলিকে এ খ্রিস্টমাসে লকেট দিতো। যেটা ও যেতে আসতে দোকানের কাঁচে মুখ লাগিয়ে দেখে। মাকে একটু ফল। কত দিন পুরো মুরগি কিনতে পারেনি!!বোন গুলো এক দিন মেলায় যেত শখ মেটাতো। ও জানে ওর দ্বিতীয় বোনটা রজ্জাকের দোকানে দুপুরে যায়, ভালো জামা পায় সে ওখান থেকে। প্রেম নয় এ। বোঝাতে পারে না, চায়ও না বোঝাতে আর। নিজের ক্ষমতা যখন সীমিত , হতাশ সে চোখের সামনে হতে দিয়েছে সে। ওই বোনটা বড়ো ভোগ বিলাসী। একগাদা নোট পুড়িয়ে ফেলতেই হবে। এগুলোর নাকি বাজার মূল্য আর নেই, সরকার ঘোষণা করেছে। তবু ছড়িয়ে দিতে পারতো গরীবদের মাঝে,রাতারাতি তারা কিছু কিনে খেতো।না জানিয়ে ছেলেগুলো বস্তির মুখে বসিয়ে দিলেই তো হত! কি দরকার ছিল পোড়ানোর ..... স্ট্যালিনের আফসোস হয়। পিছন থেকে হাঁক দেয় এ্যান্টনী " কিরে ঘুমিয়ে পড়লি নাকি আলসীর দল? " নোটের ওপর বসে সিগার ফুঁকছে । বলে এগুলো নাকি কেবল রদ্দি পেপার। সাগরেদ টনি একাজে পটু। উৎসাহ তার প্রবল। কাজটা ভালো ভাবে হয়ে গেলে মেয়ে আর মদ পাবে এক মাসের। পুলিশের জেরা থেকে বাঁচিয়ে এই ভাঁটিতে সেই ব্যাগ গুলো বয়ে এনেছে। ওরা মালিক পক্ষ জামা খুলতে হয়নি। স্ট্যালিনের বিষয়ে সচেতন ওরা, যদি একটা বান্ডিল পাচার হয়! জামা খুলিয়ে ছেড়েছে। রদ্দিই যখন এত পাহারা কেন ❓টাকায় ওপর ওই ছবি আর মূল্য এক গোলকধাঁধা। তাকিয়ে থাকলে সম্মোহিত হয় মানুষ। থাকলে কষ্ট না থাকলেও তাই। সব এক নেশা ইন্দ্রজাল। মরিচিকা ..... সব ঝুট হ্যায় চিৎকার করে মন।।।।

২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...