শনিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২২

আগামীকালের বিজ্ঞান আলোচনার বিষয় বিজ্ঞানীদের কেন সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয় পড়া উচিৎ! সৌজন্যে রজত ও জিৎ

বিজ্ঞান ও সাহিত্যের মেলবন্ধন

 ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বিজ্ঞান কথার অর্থ বিশেষ ভাবে জ্ঞান অর্জন করা। তো এই জ্ঞান অর্জনের সাথে হাতে হাত ধরে যদি সাহিত্যচর্চাকে সঙ্গী করা হয় সেই মেলবন্ধন অন্য মাত্রা পায়। আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রেই দশম শ্রেণীর পর একাদশ শ্রেণী থেকে বিজ্ঞান বিভাগ আর কলা বিভাগ এই দুটো বিভাগ আলাদা করে দেওয়া হয়। কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে যারা পড়ে তারা কিন্তু সাহিত্যের ইতিহাসও পড়ে। বিজ্ঞানের কিছু কঠিন তথ্য যদি সুন্দর ও সহজ বাংলা ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া যায় তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞান বিষয়টা সহজ আর বোধগম্য হয়ে থাকে। এই জন্য বিজ্ঞান জানার সাথে সাথে সাহিত্যও জানার প্রয়োজন পড়ে। আর বিজ্ঞান কিছুটা হলেও ইতিহাস ভিত্তিক। পুরনোকে না জানলে নতুন কিছু আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। তাই বিজ্ঞান জানার সাথে সাথে সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্বন্ধেও জ্ঞান থাকা আবশ্যিক। সাহিত্যের জগতে লেখক ও সাহিত্যিক রাজশেখর বসু যিনি পরশুরাম নামে আমাদের কাছে পরিচিত তিনি কিন্তু আসলে কেমিস্ট্রির স্টুডেন্ট ছিলেন। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল কেমিক্যালে উচ্চপদেই তিনি কাজ করে গেছেন চিরকাল। তিনি শুধু বিজ্ঞান চর্চাতেই নিজের জ্ঞান কে সীমাবদ্ধ রাখেন নি, পাশাপাশি সাহিত্য চর্চা করে সেই জগতেও নিজের অনন্য সৃষ্টির নিদর্শন রেখেছেন। ইংরেজদের রাজত্বে যেটুকু বিজ্ঞান চর্চা হতো তা কেবল ইংরেজি আর জার্মান ভাষায়। তার ফলে বাঙালিদের পক্ষে বিজ্ঞান বোঝা বেশ দুরূহ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই দুর্গমতাকে অতিক্রম করে বাঙালির কাছে বিজ্ঞানকে সহজ ভাবে তুলে ধরেছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, পরশুরাম প্রমুখ বিজ্ঞানীরা। তাদের উদ্যোগেই বিজ্ঞান চর্চা বাংলা ভাষায় চালু হয়। বাঙালিদের কাছে বোধগম্য হয়ে ওঠে বিজ্ঞান। এ তো গেল কিছু্জনের উদাহরণ আরও এরকম অনেকেই আছেন যারা সমান দক্ষতায় বিজ্ঞান ও সাহিত্যচর্চায় তাঁদের অসামান্য অবদান রেখেছেন।
ফিজিক্স এর কঠিন হিসেব,কেমিস্ট্রির বিক্রিয়া আর ম্যাথস,বায়োলজির দুর্দান্ত কঠিন কম্বিনেশনে মাঝে মাঝে সকলেরই সাহিত্যচর্চা করা দরকার। সাহিত্যের রস আস্বাদন করতে করতে বিজ্ঞানকে গ্রহণ করা উচিত বলে আমার মনে হয়। একটা সেতু গড়ে তোলা উচিত বিজ্ঞান আর সাহিত্যের মাঝে।

"শুধু বিজ্ঞানে জ্ঞানার্জন কেনো,সাথে চর্চা হোক সাহিত্যের 
সমৃদ্ধ হোক সকলেই এই দুই বিষয়ে সমন্বয়ের।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০২২

শিরোনাম- গিভিং স্ট্রেস অন স্ট্রেস হরমোন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শব্দালোচনা
 শিরোনাম- গিভিং স্ট্রেস অন স্ট্রেস হরমোন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অন্ত:ক্ষরণ শব্দটির মানে হয়তো অন্তরের ক্ষরণ। এই শব্দটির সঙ্গে মিল রেখেই হয়তো অন্ত:ক্ষরা গ্রন্থির নাম এসেছে। আর এই গ্রন্থি হলো আমাদের শরীরে হরমোনের উৎসস্থল। আজ শব্দালোচনার দিনে একটু না হয় এন্ডোক্রিন গ্ল্যান্ড বা অন্ত:ক্ষরা গ্রন্থির কাজ কর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। স্ট্রেস মানুষের জীবনে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে, তাই আজ স্ট্রেস হরমোন নিয়ে দু চার কথা বলা যাক।

হরমোন  হচ্ছে এক প্রকার রাসায়নিক তরল যা শরীরের কোনো কোষ বা গ্রন্থি বিশেষতঃ অন্ত: ক্ষরা গ্রন্থি থেকে শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশে নিঃসৃত হয়। হরমোনের মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অংশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পরিবর্তনের সংকেত পাঠানো হয়। যেমন বিপাকক্রিয়ার পরিবর্তনের জন্য অল্প একটু হরমোনই যথেষ্ট। এটি একটি রাসায়নিক বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে যা এক কোষ থেকে অপর কোষে বার্তা বহন করে। প্রায় সকল বহুকোষীয় জীবই হরমোন নিঃসরণ করে। গাছের হরমোনকে ফাইটোহরমোন বলে। প্রাণীর ক্ষেত্রে বেশির ভাগ হরমোনই রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। কোষ হরমোনের সংস্পর্শে প্রতিক্রিয়া করে যখন সেগুলোর ঐ হরমোনের জন্য স্পেসিফিক রিসেপ্টর রয়েছে । হরমোন হচ্ছে একধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা এন্ডোক্রাইন গ্ল্যান্ড হতে নিঃসৃত হয়ে বিভিন্ন শারীরিক ক্রিয়া,বৃদ্ধি, রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রন, ব্রেস্ট মিল্ক তৈরী, পিউবার্টি  ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে৷ সাধারণ ভাষায় হরমোন বলতে আমরা বুঝি মানুষ বা অন্য যে কোনো বহুকোষী প্রাণীর কোষগুলোর মধ্যে একটা ব্যালান্স তৈরি করা,কর্মকাণ্ডের একটা ক্রোনোলজি পূরণ করার একটা কন্ট্রোলিং সিস্টেম। হরমোন সমুহ নিঃসরণ হয় যে সব গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড থেকে সেগুলো নিয়ে একটু জেনে নেওয়া যাক। অন্ত: মানে অভ্যন্তরীণ আর ক্ষরন মানে হচ্ছে নিসঃরন করা। আমাদের শরীরে অনেক প্রকারের গ্রন্থি রয়েছে, সে জন্য ক্ষরন এর উপর ভিত্তি করে গ্রন্থি দু প্রকার। এক্সোক্রাইন বা বহিঃক্ষরা গন্থি ও এন্ডোক্রাইন বা অন্ত ক্ষরা গ্রন্থি।অন্ত:ক্ষরা মানে যেসব গ্রন্থি নালি বিহিন এবং নিঃসৃত রস রক্তে ক্ষরিত হয়ে কাজের জায়গায় পৌছায় এবং রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে তার নির্দিষ্ট কাজ করে – যেমন পিটুইটারি, থাইরয়েড এবং অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি – এরাই হরমোন নি:সরন করে। বহি:ক্ষরা গ্রন্থি – এই গ্রন্থি নালি যুক্ত এবং নালির মাধ্যমে তার উৎপাদিত রস নিকটের কোন ক্রিয়া স্থলে যায় – যেমন লালা , যকৃৎ এবং ঘাম গন্থি এবং এরা মুলত এনজাইম নি:সরনের কাজ করে । (যকৃৎ থেকে পিত্ত রস, লালা গ্রন্থি থেকে লালা রস নামে অভিহিত )আবার কিছু গ্রন্থি আছে এনজাইম ও হরমোন দুটি এক সাথে নি:সরন করে এদেরকে মিক্সড বা মিশ্রগ্রন্থি বলে যেমন- অগ্নাশয়(প্যানক্রিয়াস), ডিম্বাশয় (ওভারি) এবং শুক্রাশয়(টেস্টিস)। অন্যদিকে যে গ্রন্থি থেকে হরমোনগুলো তৈরী হয় সেই গ্রন্থির নামানুসারে হরমোনগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে। যেমন থায়রয়েড গ্রন্থির নাম অনুসারে থাইরয়েড হরমোন , অ্যাড্রিনাল হরমোন, পিটুইটারি হরমোন ইত্যাদি। তেমনি হরমোনকে তার কাজের ভিত্তিতে চার ভাগে বিভক্ত করা যায় – যেমন দেহ বৃদ্ধি করতে সহায়ক হরমোনকে গ্রোথ এবং ডেভলপমেন্ট হরমোন, সেই ভাবে দেহের সামগ্রিক শক্তি উৎপাদন বা শক্তির ব্যবহারে সাহায্যকারী হরমোন,শরীরের ভেতরে যে জল আছে, ইলেকট্রোলাইট মেনটেন করার হরমোন এবং রিপ্রোডাকশন বা সেক্স হরমোন। বিশেষ করে রিপ্রোডাকশন হরমোন নিয়ে ভাল ভাবে জানলে একেবারে নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি,দাম্পত্য জীবন বা অন্যান্য কুসংস্কার জাতীয় কিছু ভুল শিক্ষা আছে তা থেকে দূরে থাকতে পারা যাবে, অনেক অজানাকে জানা হবে আর সেই সাথে সদ্য আবিষ্কৃত নতুন নতুন কিছু হরমোনের তথ্যও জানা যাবে। এবারে জেনে নেওয়া যাক মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু গ্রন্থি ও তার নিঃসরণ সম্পর্কে।
পিটুইটারি গ্ল্যান্ড:  পিটুইটারি গ্রন্থিই যেহেতু হরমোন নিঃসরণ সব চেয়ে বেশী করে তাই এ বিষয়ে জানলেই মনে হয়  অনেক কিছু বোঝা সহজ হবে, সে জন্য একটু বিস্তারিত আলোচনার দরকার । হরমোন নিঃসরনের প্রধান গ্রন্থি হলো পিটুইটারী যা মানুষের মস্তিষ্কের নীচের দিকে হাইপোথ্যালামাস নামক জায়গা হতে ঝুলে থাকে৷ হাইপোথ্যালামাসে যে হরমোন প্রস্তুত হয় তা পিটুইটারী গ্রন্থিকে সংকেত দেয় হরমোন নিঃসরন করার জন্য এবং শারীরিক বিভিন্ন কাজে পিটুইটারী গ্রন্থি হরমোন নিঃসৃত করে৷ সেজন্য পিটুইটারী গ্রন্থিকে মাস্টার গ্ল্যান্ড বা প্রভু গ্রন্থিও বলা হয়৷ ওজন মাত্র পাঁচশো মিলিগ্রাম। পিটুইটারী গ্রন্থি দুই ভাগে বিভক্ত, সামনের দিকে পিটুইটারী গ্রন্থি (অ্যান্টেরিওর) এবং এবং পিছনের দিকে পিটুইটারী গ্রন্থি (পস্টেরিওর)। সম্মুখভাগের পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনগুলি হল  অ্যাড্রেনোকর্টিকো ট্রপিক হরমোন, গ্রোথ হরমোন, থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন -থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রক, গোনাডোট্রোপিক হরমোন - জনন গ্রন্থির (শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়) বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রক। অ্যাডরিনো কর্টিকোট্রফিক হরমোন :- এই হরমোন পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। এই হরমোন ঘাটতির কারনে সাধারন ভাবে যে সব সমস্যা দেখা দিতে পারে সেগুলি হলো পেশী দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ওজন কমে যাওয়া, পেটের বিভিন্ন ধরণের ব্যথা, নিম্ন রক্তচাপ ও নিম্ন লেভেলের সেরাম সোডিয়াম অথবা মারাত্মক ইনফেকশন বা সার্জারির কারনেও দেখা দিতে পারে,শেষ পর্যন্ত কোমাও হতে দেখা যায়। গঠনগত দিক দিয়ে,অ্যাডরিনাল গ্রন্থির কর্টেক্স অঞ্চলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে । অ্যাডরিনাল গ্রন্থির কর্টেক্স অঞ্চলকে উদ্দীপিত করে তার ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু যদি অ্যাডরিনাল কর্টেক্সের ক্ষরণ বেড়ে যায় তা হলে কুশিং সিনড্রোম হতে পারে। কুশিং সিন্ড্রোম - রক্তে কর্টিসলের মাত্রার এই অস্বাভাবিকতা আবিষ্কার হয় ১৯৩২ সালে। হার্ভে কুশিং এই অস্বাভাবিকতা আবিষ্কার করেন বলে তার নাম অনুযায়ী একে কুশিং সিনড্রোম বলে। এটি কেবল যে মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তা নয়, এই রোগ ঘোড়া, গৃহপালিত কুকুর, বিড়ালের মধ্যেও দেখা যায়। কর্টিসল হরমোনের নিয়ন্ত্রণহীন বৃদ্ধির ফলে সকল সমস্যা দেখা দেয়। উচ্চমাত্রায় গ্লুকোকর্টিকয়েড ড্রাগ গ্রহণ কিংবা অতিরিক্ত কর্টিসল, অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোনের কারণেও হতে পারে। পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার হলে অতিরিক্ত ACTH ক্ষরণ হয় যা অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিকে কর্টিসল তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করে। কর্টিসল হল একটি হরমোন যাকে অনেকে স্ট্রেস হরমোন বলে থাকেন। গ্লুকোকর্টিকয়েড হরমোন- এর কাজ হল দেহের শর্করা, ফ্যাট জাতীয় খাদ্যের বিপাক ঘটানো। রক্তে কর্টিসল বেশি থাকলে - হাত পায়ের মানশ পেশীতে টান ধরা, মুখের মধ্যে চাপ চাপ ভাব বা দেখতে বৃত্তাকার মনে হওয়া(মুন ফেস), বাতের ব্যাথার মত ব্যাথা হওয়া,ত্বকে পিম্পল, রক্তবর্ণ লম্বা দাগ দেখা দেওয়া, পেশী দুর্বলতা – দুশ্চিন্তা,বিষণ্নতা বা বিরক্ত হিসাবে দেখতে লাগা। জলতেষ্টা বৃদ্ধি এবং ইউরিন ফ্রিকোয়েন্সি বেশি হওয়া। দীর্ঘ দিন কর্টিসল হরমোন বেশি নিঃসরণ হলে যৌনক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, মহিলাদের বিভিন্ন শারীরিক অসুবিধা বা ইত্যাদি সহ পুরুষ মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রে সাময়িক বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে । সেই সাথে হতে পারে উচ্চরক্তচাপ,ডায়াবেটিস,মাইগ্রেনের মত মাথা ব্যাথা ইত্যাদি আরও অনেক জঠিল সমস্যা। সবসময় ক্লান্ত, অবসন্ন,নিদ্রাহীনতা ইত্যাদি হতে দেখা যায় । এই জন্য বিজ্ঞানিরা দেখিয়েছেন  , মানুষ যে মুহূর্তে খুব খুশি থাকে এবং মানসিক ভাবে সুন্দর অনুভূতিগুলো জাগ্রত হয় তখন কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন কম নিঃসৃত হয়। আর এই হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে দীর্ঘায়ু লাভ করা যায়। শুধু মানসিক সুখই নয়, যাদের কর্টিসেল হরমোনের প্রভাব কম থাকবে তাদের রোগ সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বেশি থাকে বা স্বাভাবিক কোন ধরনের সমস্যায় তেমন ভয় হয় না বা চিন্তামুক্ত মানুষ বলা হয়। এমনিতেই যে যত বেশি মানসিক দুশ্চিন্তা করবে তার কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। তাই কর্টিসল হরমোন থেকে মুক্ত থাকতে হলে যতটা সম্ভব চিন্তামুক্ত বা যে কোন মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে হবে । সে জন্য হাই প্রেসার, ডায়াবেটিস ইত্যাদি যেকোন রোগীকে মানসিক চিন্তা মুক্ত থাকতে বলা হয়। রক্তে স্বাভাবিক মাত্রা ৬- ২৩ মাইকোগ্রাম/ডেসিলিটার হচ্ছে নর্মাল ভ্যালু । স্ট্রেস হরমোন হলো তিনটি। কর্টিসোল (একে স্ট্রেস হরমোনও বলে), এপিনেফ্রিন (অ্যাড্রিনালিন নামেও পরিচিত) এবং ডোপাক, একটি ডোপামিন ক্যাটবলাইট (মস্তিষ্কের এই রাসায়নিক এপিনেফ্রিন তৈরিতে সহায়ক) । প্রমান স্বরূপ দেখানো হয়েছে মানুষের এই হরমোন সমুহ হ্রাস করে ৩৯ -৭০% দুশ্চিন্তা মুক্ত করে রাখা সম্ভব। প্রতিরোধ হিসাবে হাসি মজায় থাকলে এই তিনটি স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে আসে ৩০-৪০%।  (মেডিক্যাল ইনফো টেক এন্ড স্ট্রেস রিলিভ মেথড) তাই যাদের রক্তের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে তাদের কুশিং সিনড্রোম হয় । যদিও অনেক সময় পিটুইটারী গ্ল্যান্ডের টিউমারের কারণেও বাড়তে দেখা যায় অর্থাৎ যেকোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায় এবং ক্রমে তা কুশিং সিনড্রোম অসুখে পরিণত হয়। (করটিসল গ্রন্থি রস স্থায়ীভাবে নিঃসরণে অভ্যাস হয়ে গেলে বা স্ট্রেস স্থায়ী ভাবে হয়ে গেলে ২০- ৫০ বয়সের যে কোনো মানুষের মধ্যে ক্রনিক স্ট্রেস দেখা দেয়। রক্ত পরীক্ষায় যদি প্রতি লিটারে পঞ্চাশ ন্যানো মোল -এর চেয়ে এর মাত্রা কম কম থাকে তা হলে মনে করা হয় তা কুশিং সিনড্রোম নয় বা বা ইউরিন পরীক্ষায় যদি চব্বিশ ঘণ্টার ইউরিন নমুনায় কর্টিসোলের মাত্রা ২৫০ হয় তাহলে কুশিং সিনড্রোম নয়। সাধারণত এক মিলিগ্রাম ডেক্সামিথাসোন ট্যাবলেট মুখে খাইয়ে দিয়ে আবার কর্টিসোলের রক্ত-মান নিরূপন করার কথা বলা হয়ে থাকে বা ৪৮ ঘণ্টার ডেক্সামিথাসোন সাপ্রেশান টেস্ট এবং কর্টিসোল নিঃসরণের সারকাডিয়ান ছন্দ অনুমান করে কুশিং সিনড্রোম শনাক্ত করণ করা হয়ে থাকে । তবে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির টিউমারের বেলায় (এন্ডোজেনাস কুশিং সিনড্রোম) প্রয়োজনে সার্জারির প্রয়োজন হয় অনেকের।  যারা অনেক দিন এই জাতীয় অসুখে আক্রান্ত তারা চিকিৎসা বা মন মেজাজের পরিবর্তন না ঘটালে হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার মত অসুখ (অস্টিওপোরোসিস ) উচ্চ রক্ত চাপ, ডায়াবেটিস, ঘন ঘন বা অস্বাভাবিক সংক্রমণ – পেশী পাতলা বা শক্তি ক্ষয় ও যৌন ক্ষমতা স্থায়ী ভাবে হ্রাস সহ যে কোন মারাত্মক অসুখে ভুগতে পারেন
প্রিভেনশন - মোটা হওয়ার জন্য অনেকেই স্টেরয়েড খেতে চান – এটা খুব মারাত্মক কারণ দীর্ঘদিন স্টেরয়েড খাওয়ার ফলে মারাত্মক কুশিং সিনড্রোমে আক্রান্ত হতে হয়। যারা অ্যাস্থমা বা অন্যান্য অসুখের কারনে স্টেরয়েড খেয়ে থাকেন তাদের  চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একটা ট্যাবলেটও না খাওয়া ভালো। 

 "সুখী থাকুন আর জীবন উপভোগ করুন
 খেয়াল রাখুন যাতে দূর হটে স্ট্রেস হরমোন।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০২২

শিরোনাম - সহানুভূতি ✍️ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সহানুভূতি
✍️ডা: অরুণিমা দাস

কি এমন হয়েছিলো যে কপালে এমন ক্ষত হলো? ডা: ঘোষ ব্যান্ডেজ করতে করতে জিজ্ঞেস করলেন মনামিকে। ওই নিজেদের মধ্যে একটু কথা কাটা কাটি, মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং এসব আর কি! আপনাদের তো রিসেন্ট বিয়ে হয়েছে, এর মধ্যেই এতো আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর প্রবলেম? মনামি বললো আসলে আমার হাসব্যান্ড সুনন্দ প্রতি মাসের শেষের দিকে কোথাও একটা যায়,বেশ কিছু টাকা উড়িয়ে আসে। আমার এক বন্ধু ওকে দেখেছে খারাপ এলাকায়। আচ্ছা, তাই নাকি? আপনি কোনোদিন ওনার কাছে জানতে চান নি উনি কোথায় যান? কি করেন টাকা নিয়ে? জানতে চাইলেই বলে আমার ওপর ভরসা রাখো,আমি কোনো বাজে কাজ করছি না! গতকাল আমি জোর করে জানতে চাই ওর কাছে, কোথায় যায়? কি করে? কার সাথে সম্পর্ক ওর যে ওই এলাকায় যেতে হয়? এসব শুনেই সুনন্দ রেগে গিয়ে আমাকে ধাক্কা মারে আর টেবিলের কোণে মাথাটা লেগে কপালটা কেটে যায় আমার। অন্যের কথায় স্বামীকে ভুল বুঝলে তুমি? সুনন্দ ডা: ঘোষের চেম্বারে ঢুকতে ঢুকতে বলে। আরে আপনি? আসুন বসুন। ডা: ঘোষ বললেন সুনন্দকে। হ্যা বসছি, আপনি তাহলে পরের মাস থেকে যাচ্ছেন তো ওখানে? হ্যা নিশ্চই যাবো,এতো ভালো কাজের সুযোগ পেয়েছি, আমি অবশ্যই যাবো। মনামি হা করে সুনন্দ আর ডা: ঘোষের কথা শোনে। সুনন্দ কে ডা: ঘোষ বলেন ওনাকে আর অন্ধকারে রেখে লাভ নেই। বলে দিন সব কথা। কি কথা সুনন্দ? মনামি জানতে চায়। সুনন্দ বলতে শুরু করে - আমি একদিন অফিস থেকে ড্রাইভ করে ফিরছিলাম, এক ভদ্রমহিলা আমার গাড়ির সামনে এসে পড়েন আচমকা। আমি ব্রেক কষে গাড়ী থামিয়ে দিই, উনি একটুর জন্য রক্ষা পান। গাড়ি থেকে নেমে যখন ওনার কাছে যাই, ওনার সাজ পোশাক আমার খুব উগ্র মনে হয়েছিলো। কথাবার্তাও লো কোয়ালিটির। আমায় বলছিলো তুই আজ আমার রাতের খদ্দের। আমি চমকে উঠে বলি কি বলছেন এসব? উনি বললেন এই লাইনে অনেকদিন আছি। কারোর অতিরিক্ত লালসার স্বীকার হয়ে দুটো বাচ্চা জন্ম দিয়েছি। আজকাল শুধু বাচ্চা দুটোর জন্য নিজেকে সাজিয়ে পেশ করি খদ্দেরের কাছে। সব শুনে আমার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিলো তখন। সামলে নিয়ে বললাম উঠুন গাড়িতে, আপনার বাচ্চাদের দেখে আসি চলুন। গিয়ে দেখি ওই নোংরা পরিবেশে বাচ্চা গুলো ভালো নেই। ওনাকে বলি বাচ্চাগুলোকে অন্য জায়গায় রাখুন, ওদের পড়াশোনা থাকার খরচ আমি দেবো প্রতি মাসে। এই অন্ধকার জায়গা থেকে ওদের সরিয়ে নিয়ে যান, নয়তো ওদের জীবন শেষ হয়ে যাবে। আপনি কেনো এত করছেন বাবু ওদের জন্য? কেউ তো হয় না ওরা আপনার। মুখে বললাম সব প্রশ্নের উত্তর হয় না! মনে মনে ভাবলাম আমিও তো অনাথ আশ্রমে মানুষ হয়েছি,আমার মাও এরকম কেউ ছিলেন হয়তো! আমি বুঝি বাচ্চা গুলোর কষ্ট টা, তাই আমি চাই না ওরা এভাবে নোংরা পরিবেশে থাকুক। এতোটা বলে সুনন্দ থামলো। 
মনামির চোখে জল! সুনন্দর হাত ধরে বললো খুব ভুল হয়ে গেছে আমার, আমি তোমায় ভুল বুঝেছিলাম। তুমি অনেক বড়ো মনের মানুষ। তোমাকে স্বামী হিসেবে পেয়ে আমি ধন্য। ডা: ঘোষ চেম্বার ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, সুনন্দ বললো পরের মাস থেকে আমি যেখানে যাই, ওখানকার মানুষদের চিকিৎসার জন্য আপনি যাচ্ছেন তো? ডা:ঘোষ বললেন নিশ্চয়ই যাবো, ওনারা এই সমাজের অঙ্গ, ওনাদের ভালো থাকাটা দরকার। আমি আছি আপনার পাশে। থ্যাংক ইউ ডা:ঘোষ, সুনন্দ বললো। 
ওই অন্ধকারে কেউ নিজের ইচ্ছেয় নিমজ্জিত হয় না,পরিবেশ পরিস্থিতি বাধ্য করে। মনামি বললো সরি সুনন্দ ভেরি সরি! ইটস ওকে, চলো বাড়ি যাই, আমাদের সম্পর্ক টা রিনিউ করে আবার নতুন করে শুরু করি। মনামি এগিয়ে চলে সুনন্দর হাত ধরে,সব ভুল বোঝাবুঝিকে দূরে সরিয়ে রেখে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২

হাসির আড়ালে শিরোনাম_ জীবন সংগ্রাম. ✍️ ডা: অরুণিমা দাস


হাসির আড়ালে
শিরোনাম_ জীবন সংগ্রাম
✍️ডা: অরুণিমা দাস

সার্জারীতে ইন্টার্নশিপ চলছে তখন। প্রথম দিনই নাইট ডিউটি পড়েছে। সিনিয়র দের কাছে শুনেছি রাতে বেশির ভাগ খারাপ পেশেন্ট আসে। মাতাল থেকে শুরু করে সব রকমের পেশেন্ট, কারোর মাথা ফাটা তো কারোর হাতে পায়ে স্টিচ লাগবে। আর বেশির ভাগ লোকের হুশ থাকে না, অভব্য ব্যবহার ও করে অনেক লোক। প্রথম দিন, বলা ভালো প্রথম রাতে ডিউটি তে গেছি বেশ ভয় নিয়েই, কো ইন্টার্ন বললো শোন আমার রাতে তিন ঘণ্টা অফ লাগবে। কি রাজকার্য করবি শুনি? বললো আমার নামাজ পড়তে যেতে হবে। মনে মনে বললাম হতচ্ছাড়া। মুখে বললাম যাস,কিন্তু খারাপ পেশেন্ট এলে কী করবো? বললো স্বপন দাকে ডেকে নিস এসে হাসি মুখে সব সামলে দেবে। স্বপন দা কে রে? গ্রুপ ডি দাদা আমাদের ওয়ার্ডের, ভালো মানুষ খুব। কথা বলতে বলতেই ডিউটি রুমের দরজায় কড়া নাড়ল কেউ। খুলে দেখি একজন রোগা মত লোক দাঁড়িয়ে আছে এক মুখ হাসি নিয়ে। বুঝলাম ইনি স্বপনদা। ঢুকে বললো ম্যাডাম স্যার নতুন পেশেন্ট এসেছে। গেলাম ওয়ার্ডে, একটা ছেলে হাত কেটে ফেলেছে কাজ করতে গিয়ে,তাই স্টিচ করাতে এসেছে। স্টিচ করে ড্রেসিং করে ছেড়ে দিলাম ওকে। তারপর ওয়ার্ডে পেন্ডিং কাজ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। সিস্টার দিদিরা নিজেদের মধ্যে গল্প হাসি ঠাট্টা করছিল। কথায় কথায় স্বপনদার প্রসঙ্গ আসাতে একজন সিস্টার বলে উঠলো মানুষটা এত হাসি খুশি থাকে,সবাইকে ভালো রাখতে চেষ্টা করে, রোগীদেরকে ভালোবাসে কিন্তু একবুক কষ্ট ওনার জমে আছে যা কমার নয় কোনোদিন। জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছিল দিদি? বললেন স্বপনদার ছেলে দুটো যখন বেশ ছোটো, তখন ওনার স্ত্রীর ক্যান্সার ধরা পড়ে। অ্যাডভান্সড স্টেজ ছিল, মাস ছয়েক উনি বেঁচে ছিলেন। তারপর ছেলে দুটোকে নিয়ে একার লড়াই শুরু হয় ওনার। শতকষ্টের মধ্যে দিয়ে গেলেও কোনোদিন দ্বিতীয় বিয়ের কথা ভাবেননি যদি নতুন কেউ এসে সংসারে ভাঙন ধরিয়ে দেয়। হাসি মুখে ঘরে বাইরে লড়ে গেছেন। এখন ছেলে গুলো বেশ বড়ো হয়েছে, একজনকে ওষুধের দোকান করে দিয়েছেন আর একজন কলেজে পড়ে। শুনে বেশ খারাপ লাগছিলো, জীবন যে কখন কাকে কোথায় নিয়ে যাবে কেউ জানেনা। এসব গল্প গুজব করতে করতে নেক্সট পেশেন্ট এসে হাজির। সাথে সাথে স্বপনদাও হাজির হাসি মুখে। পেশেন্ট ছিলো মাতাল, বাইক থেকে পড়ে গিয়ে হাত পা কেটেছে, ভুলভাল বকছেও। উঠে গিয়ে আগে পেশেন্টের মাথায় চোট আছে কিনা দেখলাম। সাথে আসা লোক দুটো বলে উঠলো আগে হাত পা দেখ, পরে মাথা দেখিস। আমি কিছু বলার আগেই স্বপন দা বলে উঠলো আগে ঠিক করে কথা বলুন নয়তো আপনার রোগী কে দেখা হবে না। তখন চুপ করলো তারা। একটা সি টি স্ক্যান এডভাইস দিয়ে আর ড্রেসিং করে ডিউটি রুমে এলাম। কো ইন্টার্ন তখন নামাজ পড়ে ফিরে এসেছে। বললাম স্বপন দা মানুষটা বেশ ভালো। মিষ্টি করে হাসে আর সেই হাসির আড়ালে জমে থাকে অনেক না বলা কথা। শুনে ঘাড় নাড়লো কো ইন্টার্ন। দুমাস সার্জারি পোস্টিং বেশ ভালোই কেটেছিল। ভালো খারাপ যেমন পেশেন্টই আসুক না কেনো হাসি মুখে স্বপনদা হাজির হতো। অনেকদিন হয়ে গেছে আর পুরনো কলেজে যাওয়া হয় না, আশা করি ভালোই আছেন স্বপনদা। এসব মানুষের জন্য হেকটিক ইন্টার্নশিপ অনেকটা হালকা হয়ে যেতো। 

সত্য ঘটনা অবলম্বনে

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০২২

রক্তের টান✍️ডা: অরুণিমা দাস

রক্তের টান
✍️ডা: অরুণিমা দাস

সন্ধ্যে ছটা বাজে প্রায়। গাইনি ওটির বাইরে অস্থির ভাবে পায়চারী করছে অনিল আর ওর মা বাবা। ওটির মধ্যে অনিলের স্ত্রী রিক্তার সিজার চলছে। সবার মুখে চিন্তার ছাপ। প্রায় আধঘন্টা পরে সিস্টার তোয়ালে মোড়া জ্যান্ত পুতুল এনে তুলে দিল অনিলের হাতে। ওর মা বাবা ছুটে এলেন, বললেন কী হয়েছে সিস্টার! ছেলে না মেয়ে? সিস্টার কিছুক্ষন চুপ করে রইলো, তারপর বললো স্যার এসে আপনাদের জানাবেন সবটা। অনিলের মা বললো ছেলে না মেয়ে সেটা স্যার জানাবেন? কেনো আপনি বলতে পারছেন না? সিস্টার চুপ করে বাচ্চাটাকে অনিলের হাত থেকে নিয়ে চলে গেলো। কিছুসময় পরে ডা: ঘোষ ওটি থেকে বেরিয়ে এসে বললেন আপনারা আমার চেম্বারে আসুন,কিছু কথা আছে। অনিল আর ওর মা বাবা গেলো ডা ঘোষের চেম্বারে। ডা: ঘোষ জানালেন যে বাচ্চা জন্মেছে, অ্যাম্বিগুয়াস জেনিটালিয়া নিয়ে মানে ছেলের মত দেখতে হলেও ভেতরকার অঙ্গ গুলো মেয়ের মতো। একটা সেক্স চেঞ্জ অপারেশন করে হয়তো জিনিসটা ঠিক করা যাবে। অনিলের মা হঠাৎ করে বলে উঠলেন আচ্ছা বুঝেছি, তৃতীয় লিঙ্গের জন্ম দিয়েছে রিক্তা। আমি মেনে নেবো না এই সন্তানকে, সাফ জানিয়ে দিলাম তোমাদের। অনিল কিছু বলতে যাচ্ছিলো! ওর মা বললো নয় ওই বাড়িতে আমি থাকবো নাহলে ওই পাপ থাকবে। এবার তুই ঠিক কর কি করবি খোকা? অনিল বুকের ওপর পাথর চাপা দিয়ে মায়ের আদেশ মেনে নিল। নিজের মাকেই আজ তার কেমন যেন অচেনা লাগছে। কি করে এরকম করতে পারে ওর মা? নিজের ছেলের অংশকে এভাবে অস্বীকার করতে পারছে মা? যেটা কোনোদিন মায়ের কাছে আশা করেনি কোনোদিন সে। কিন্তু মায়ের কাছে তখন মনুষ্যত্বের চেয়ে বংশ মর্যাদা বেশী বড়ো হয়ে উঠেছিল। রিক্তাকে জ্ঞান ফেরার পর জানানো হলো সব। শ্বাশুড়ী মায়ের পায়ে ধরেও নিজের সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে পারেনি সে। 
এরপর মাঝে বছর পনেরো কেটে গেছে। অনিল আর রিক্তার কোল আলো করে ছেলে এসেছে। অনিলের মায়েরও বেশ বয়স হয়েছে। একদিন রাস্তা পার হবার সময় পাথরে হোচট খেয়ে পড়ে যান উনি। একটা গাড়ী এসে আচমকা ধাক্কা মারে। মাথা ফেটে বেশ রক্ত ক্ষরণ হয়। রাস্তার লোকেরা জড়ো হয় কিন্তু কেউ ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় না পুলিশ কেস হবে এই ভয়ে। ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসে এক মহানুভব, বলে আপনারা সরুন এখান থেকে আমি ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবো। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে জানতে পারে বেশ গুরুতর চোট ওনার মাথায়, স্টিচ দিতে হবে আর এক ইউনিট রক্তও দিতে লাগবে। অনিল বাবু রিক্তা তখন এসে হাজির কিন্তু রক্তের গ্রুপ মেলে না। সেই মহানুভব এগিয়ে এসে বলে আমার গ্রুপের সাথে মিলে গেলে আমি রক্ত দিয়ে দেবো। অনিল বাবু বললেন আপনার নাম? বললো নীলাভ, আমি কিন্তু স্বাভাবিক মানুষ নই, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। অনিল বাবু এক মুহূর্ত না ভেবেই নীলাভ র রক্ত মাকে দেওয়ার জন্য রাজী হলো। পরে যখন জ্ঞান ফিরলো অনিল বাবুর মায়ের,তখন জানতে পারলেন এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি তাকে রক্ত দিয়েছে! শুনে দু চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল আর হয়তো বছর পনেরোর আগের দিনটি মনে পড়ছিল যেদিন তিনি অস্বীকার করেছিলেন তার বংশপ্রদীপকে। আর ঈশ্বর ছাড়া কেউ জানলো না যে এই নীলাভই সেই সন্তান। কিছু কিছু সম্পর্কের সমীকরণ ওলট পালট হয়ে গিয়েও শেষ অব্দি সিড়িভাঙা অঙ্কের মত মিলে যায়,হয়তো আমাদের অজান্তেই। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

জীবন শুধুই গতিময় ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবন শুধুই গতিময় 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

এই জগৎ স্থিতিশীল নয়। অনন্তকাল ধরে এটি চলবে মহাকালের গতি যেদিন থেমে যাবে সেদিন ঘটবে মহাপ্রলয়। এই যাত্রা পথে আমাদের জীবনও তাই এবং ভবিষ্যতেও গতিশীল। গতিশীলতার মধ্যেই ফুটে ওঠে জীবনের লক্ষণ। সংগ্রাম পূর্ণ আমাদের জীবন। জীবনে বেঁচে থাকতে হলে কাজের প্রয়োজন। কর্মই মানুষকে গতিশীল রাখে। অলস মানুষেরা সমাজে জীবন্মৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। স্রোতস্বিনী নদীর জলের বয়ে চলার জন্য সেখানে শেওলা জমাতে পারে না। কিন্তু স্রোতহীন নদী শেওলায় ভরে যায় এবং এতে জল নষ্ট হয়ে ব্যহারের অযোগ্য হয়। তেমনি কর্মময় জীবনই হচ্ছে জীবন। কর্মহীন জীবন মৃত্যুর নামান্তর। এ পৃথিবী হচ্ছে এক বিরাট রণক্ষেত্র। সংগ্রাম করে,যুদ্ধ করে এখানে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়। ডারউইন বলেছেন, "প্রকৃতির জগতে যে অধিকতর যোগ্য সেই টিকে থাকবে।" অথাৎ পৃথিবীতে বাঁচতে হলে, টিকে থাকতে হলে সংগ্রাম করেই টিকে থাকতে হবে। দৃষ্টি রাখতে হবে সামনের দিকে, পেছনের দিকে নয়। চিন্তা,চেতনায় যারা অগ্রসর তারাই এগিয়ে যায় প্রগতির পথে আর তারাই আনে বিবর্তন, সৃষ্টি করে নতুন সভ্যতা। মানুষের কল্যাণের জন্য তারাই আবিষ্কার করে নতুন নতুন উপাদন। আর যারা কর্মহীন তারা জড় পদার্থের মত অচল। এরা কোন উপকারেই তো আসেই না বরং অপরের চলার গতিকে ব্যাহত করে। তাই এরা যেমন উপেক্ষিত তেমনি অবাঞ্চিত।
কর্মহীন জীবন কোন মানুষেরই কাম্য হতে পারে না। এতে করে মানুষ অচল ও অসাড় হয়ে পড়ে। কাজই মানুষের জীবনে আনবে গতি। যে গতিতে মানুষ জীবনের অর্থ খুঁজে পাবে। এগিয়ে চলাই জীবন, থেমে যাওয়া যে মরণ। 
ছোট্ট একটা গল্প দিয়ে শেষ করবো। এক মেয়ের গল্প যে ফার্স্ট ইয়ার এমবিবিএস এ এনাটমি বায়োকেমিস্ট্রি আর ফিজিওলজি দেখে ঘাবড়ে গেছিলো, ভেবেছিল মেডিক্যাল পড়া ছেড়েই দেবে। ভয়ে কোনো ক্লাসে যেত না। ফল স্বরূপ ফাইনাল এক্সাম এনাটমি, বায়োকেমিস্ট্রিতে সাপ্লি পেলো। বন্ধুরা দূরে সরে গেলো। ম্যাডাম দেখা হলে বলতো এই যে দুটো সাবজেক্টে ফেল করলি পোস্ট গ্রাজুয়েট এন্ট্রান্স এক্সাম দিতে অসুবিধে হবে। ফাইনাল ইয়ারে চারটে সাবজেক্ট। কি করে পাস করবি? মুখে ক্রুর হাসি। চুপ করে সব কথা হজম করেছিল মেয়েটি সেদিন। বন্ধুরা সব সেকেন্ড ইয়ারে উঠে গেছে। প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফার্মাকোলজি পড়া শুরু করেছে আর সে! তখনি এনাটমি আর বায়োকেমিস্ট্রির মাঝে স্যান্ডউইচ হচ্ছে প্রতিদিন। তিনমাস পর সাপ্লি এক্সামের ডেট এলো। পরীক্ষা দিয়ে এলো কোনো রকমে। দুটো সাবজেক্টের ম্যাডাম গম্ভীর ভাবে পরীক্ষা নিলো। পাস না ফেল কিছু বোঝা গেলো না। যাইহোক কোনো রকমে পাস হলো সে সাপ্লি এক্সামে। এদিকে সেকেন্ড ইয়ারে তিনমাসে তখন ক্লাস অনেক এগিয়ে গেছে। কেউ কেউ কোলকাতা গিয়ে কোচিং নিচ্ছে। মেয়েটি কলেজেরই এক স্যারের কাছে প্যাথলজি কোচিং নিতে ভর্তি হলো। বাকি সাবজেক্ট নিজেই পড়তো। হাল ছেড়ে দেয়নি কোনোদিন সে। মোটামুটি যখন প্যাথলজিটা আয়ত্ত করেছে স্যার বললেন এক্সট্রা নোটস দেবো, পড়তে পারবি? কোনোকিছু না ভেবেই হ্যা বলে দিলো মেয়েটি। প্যাথলজি প্রাকটিক্যাল খাতায় যে স্লাইড গুলো  আঁকতো মেয়েটি স্যাররা ভেরি গুড বলতেন। সাইন করে গুড লিখেও দিতেন। দিন এমন এলো যে একটা সাপ্লি পাওয়া মেয়ের কাছে বেশি মার্কস নিয়ে পাস করা বন্ধুরা আসতো স্লাইডের ছবি কারেক্ট করাতে। সেকেন্ড ইয়ারে ওই ল্যাগ যাওয়া তিনমাসের পড়া পড়ে পাস করতে কোনো কষ্ট হয়নি সেরকম। কারণ মেয়েটি কোনোদিন থেমে থাকেনি। বায়োকেমিস্ট্রি ম্যাম আবার খোজ নিয়েছিলেন মেয়েটি ফার্মাকোলজিতে পাস করেছে কিনা! কারণ ওনার ধারণা ছিল বায়োকেমিস্ট্রি তে ফেল করলে ফার্মাকোলজি তে ফেল অবধারিত। এরকম সব টিচার হলে কী আর বলা যায়!
যাইহোক এরপর আর কোনো সাপ্লি জোটেনি মেয়েটির ভাগ্যে। প্রতি ইয়ারে ফাইনাল এক্সামে স্যার ম্যাম সবাই জিজ্ঞেস করতেন মেয়েটিকে, "তোকে সাপ্লি কে দিয়েছিলো রে?" মেয়েটি হাসি মুখে এড়িয়ে যেতো সেই প্রশ্ন। ফাইনাল ইয়ার পাস করে ইন্টার্নশিপ শেষে যখন গাইনি তে হাউসস্টাফশিপ করতে ঢুকলো মেয়েটি,গাইনির স্যার বলেছিলেন একি কাজ পারবে? মনে হয় না খুব ভালো কাজ পারবে! এরপর একবছর হাউস স্টাফ শিপ শেষে সেই স্যারই বলেছিলেন আরো তিনটে মাস রিনিউ করে এই ইউনিটে থেকে যা না! মেয়েটি নাকচ করেছিল পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন এক্সামের প্রিপারেশন নেবে বলে! তারপর লড়াই করে পোস্ট গ্রাজুয়েশন এন্ট্রান্স এক্সাম ক্লিয়ার করার পর একদিন কলেজে আন্ডার গ্রাজুয়েট ডিগ্রী সার্টিফিকেট আনতে গিয়ে সেই বায়োকেমিস্ট্রি ম্যামের সাথে দেখা। ম্যাম রেজাল্ট জেনেছিলেন কোথাও থেকে। চলে যাচ্ছিলেন মুখ লুকিয়ে। মেয়েটি গিয়ে প্রণাম করে বলেছিল "ভালো আছেন ম্যাম?" ম্যাম বললো হ্যা রে! তোর এমডি ক্লাস কবে থেকে শুরু হবে? কোন কলেজ হলো জানাস। সেদিন আর ক্রুর হাসি নেই ম্যামের মুখে। অনুতাপের ছোঁয়া লেগেছিল মুখে। সেদিন ম্যামকে ক্যান্টিনে নিয়ে গিয়ে মিষ্টি খাইয়েছিল মেয়েটি। আজও ম্যাম ফোন করলে হাসি মুখে কথা বলে মেয়েটি,এটাই যে ভদ্রতা। যে ম্যাম একদিন সাপ্লি নিয়ে হেসেছিল সে আজ বলেন বাবু এরপর সুপার স্পেশালিটিটা করতে হবে! তুই পারবি। লড়াই চালিয়ে যাবি, হাল ছেড়ে দিবি না কিন্তু। মেয়েটি বলে চেষ্টা করবো ম্যাম,জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে যাবো,বিশ্রাম নেবার জন্য স্থির সময় তো ভগবান ঠিক করে রেখেছেনই! ম্যাম চুপ করে শোনেন সে কথা। 
"চলুক লড়াই জীবনে প্রতিপদে এগিয়ে যাওয়ার
বিশ্রামের জন্য মাটির নিচে জায়গা করা আছে সবার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বিষয় - চিত্রালোচনা



 চিত্র ১

দুই পাখির (ডোডো আর জুডো) কথোপকথন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ডোডো: বেশ তো বসেছিস ফুলের কোলে, মধু সব নিলি নাকি
জুডো: এরকম ভাবলি কি করে, তোকে কি কোনোদিন দিয়েছি ফাঁকি!

ডোডো : ভুলেই গেছিলাম আমরা যে পাখি, নই রং বদলানো স্বার্থপর মানুষ
জুডো : মানুষ হতে চাই না মোরা,পাখি হয়েই আমাদের দিল খুশ। 

ডোডো : নেই কোনো মারামারি,হিংসা আর হানাহানি
জুডো: আছে এক বড়ো মন আমাদের,তাতেই মোরা খুশি জানি।


 চিত্র ২

 সমুদ্র ও চাঁদের কথোপকথন
✍️ডা: অরুণিমা দাস


সমুদ্র : কি মনে করে চন্দ্রা দেবী আজ এলে মোর তটে নামি
চাঁদ : লাগেনা ভালো আকাশের বুকে থাকতে,মন চায় ছুঁতে ধরা ভূমি!

সমুদ্র: হোক তবে আজ ছোঁয়া ছুয়ির খেলা, আসো আলিঙ্গন করি পরস্পরকে
চাঁদ: তাই করি চলো, তোমার স্পর্শ মুছুক মোর কলঙ্ককে।

সমুদ্র: জোৎস্না রাতে চায় সকলে তোমার আলোয় স্নাত হতে কলঙ্ক সব ভুলে,এ যে  বড়ো পাওনা তোমার
চাঁদ: ভাবিনি তো কখনো এভাবে,তোমার কথা জাগালো আশা,খোঁজ পেলাম নতুন দিশার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২

চাই না খ্যাতি,মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চাই না খ্যাতি,মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আজকেই ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা বলি, হয়তো আজকের বিষয়ের সাথে কিছুটা হলেও মিল পাওয়া যাবে। 
আজকের ওটি তে ঘটা একটা ঘটনা শেয়ার করতে চলেছি। ছোট্ট ছয় বছরের বাচ্চা এসেছে যার নাকের হাড় বাঁকা, আমাদের ভাষায় ডেভিয়েটেড নাসাল সেপটাম বলে যাকে। বাচ্চাটার আস্থমার হিস্ট্রি ছিল। শ্বাসকষ্ট হতো মাঝে মধ্যে। সব জেনেও বর্তমানে অবস্থা স্থিতিশীল থাকার জন্য অজ্ঞান করে অপারেশন শুরু করা হয়। পেশেন্টকে ভেন্টিলেটরে দেওয়া হয়। বেশ কিছুক্ষন ওটি চলার পরে হঠাৎ বাচ্চাটির স্যাচুরেশন কমতে শুরু করে, আর মুখের টিউব দিয়ে গোলাপী রঙের ফেনা বেরোতে থাকে। আমরা সার্জেনদের ওটি বন্ধ করতে বলি সঙ্গে সঙ্গে। আমাদের স্যার এসে আমাকে যা নয় তাই বলে ঝাড়তে শুরু করেন। কাঁদো কাঁদো অবস্থা তখন আমার। সিনিয়ররা কেউ খুব একটা আমার সাপোর্টে কথা বলেনা প্রথমে। এরকম ঘটনা হবার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় ভেন্টিলেটর মেশিনে সমস্যা, তাই বাচ্চাটির শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে সাচুরেশন কমছিল আর তার ফলেই লাং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ইডিমা ডেভেলপ করে। স্যার পরিষ্কার বলে দিলেন নিজের রেপুটেশন খারাপ করবেন না তাই এর সমস্ত দায় পি জি টি র ঘাড় দিয়েই যাবে। খুব কষ্ট হচ্ছিল তখন শুনে। নিজে বিখ্যাত বলে আজ সব দোষ পি জি টির, যাইহোক কিছু বলার নেই এতে। পি জি টি যখন ঘেমে নেয়ে ক্লান্ত হয়ে সব ম্যানেজমেন্ট করে পেশেন্ট কে স্ট্যাবল করে দিলো তখন স্যারের মুখের কথা চেঞ্জ, কার কাছে ট্রেনিং পাচ্ছিস দেখতে হবে তো! তখনো পি জি টি চুপ, কারণ স্যারের মুখের ওপর কথা বলা স্বভাব নয় তার। স্যার পরে অনেক করে ভালো কথা বললেও পি জি টি স্যারের সাথে আর একটাও কথা বলেনি। কেস খারাপ হলে দায় স্যার নেবেন না। আর ভালো হলে ক্রেডিট স্যারের। এরম ভাবে বিখ্যাত স্যার না হয়ে সাধারণ ভাবে জীবন কাটানো পি জি টির সম্মান অনেক বেশী আমার কাছে। খ্যাতির শীর্ষে উঠবো বলে মানুষকে মানুষ জ্ঞান করবো না, এরকম অমানুষ হয়ে বিখ্যাত হবার কোনো প্রয়োজন নেই আমার। টিম ওয়ার্ক করতে গেলে কোনো ডিসাস্টার হলে দোষ পুরো টীমের, কারোর একার নয়। যাই হোক শেষ অব্দি বাচ্চাটা ভালো আছে, বিকেলে গিয়ে দেখেও আসা হয়েছে। শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। 
পরম করুনাময় ঈশ্বরের কাছে অসংখ্য ধন্যবাদ বিপদে পাশে থাকার জন্য আর মুখোশের আড়ালে থাকা মানুষের আসল রূপ গুলো দেখানোর জন্য।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...