শনিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২২

আগামীকালের বিজ্ঞান আলোচনার বিষয় বিজ্ঞানীদের কেন সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয় পড়া উচিৎ! সৌজন্যে রজত ও জিৎ

বিজ্ঞান ও সাহিত্যের মেলবন্ধন

 ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বিজ্ঞান কথার অর্থ বিশেষ ভাবে জ্ঞান অর্জন করা। তো এই জ্ঞান অর্জনের সাথে হাতে হাত ধরে যদি সাহিত্যচর্চাকে সঙ্গী করা হয় সেই মেলবন্ধন অন্য মাত্রা পায়। আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রেই দশম শ্রেণীর পর একাদশ শ্রেণী থেকে বিজ্ঞান বিভাগ আর কলা বিভাগ এই দুটো বিভাগ আলাদা করে দেওয়া হয়। কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে যারা পড়ে তারা কিন্তু সাহিত্যের ইতিহাসও পড়ে। বিজ্ঞানের কিছু কঠিন তথ্য যদি সুন্দর ও সহজ বাংলা ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া যায় তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞান বিষয়টা সহজ আর বোধগম্য হয়ে থাকে। এই জন্য বিজ্ঞান জানার সাথে সাথে সাহিত্যও জানার প্রয়োজন পড়ে। আর বিজ্ঞান কিছুটা হলেও ইতিহাস ভিত্তিক। পুরনোকে না জানলে নতুন কিছু আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। তাই বিজ্ঞান জানার সাথে সাথে সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্বন্ধেও জ্ঞান থাকা আবশ্যিক। সাহিত্যের জগতে লেখক ও সাহিত্যিক রাজশেখর বসু যিনি পরশুরাম নামে আমাদের কাছে পরিচিত তিনি কিন্তু আসলে কেমিস্ট্রির স্টুডেন্ট ছিলেন। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল কেমিক্যালে উচ্চপদেই তিনি কাজ করে গেছেন চিরকাল। তিনি শুধু বিজ্ঞান চর্চাতেই নিজের জ্ঞান কে সীমাবদ্ধ রাখেন নি, পাশাপাশি সাহিত্য চর্চা করে সেই জগতেও নিজের অনন্য সৃষ্টির নিদর্শন রেখেছেন। ইংরেজদের রাজত্বে যেটুকু বিজ্ঞান চর্চা হতো তা কেবল ইংরেজি আর জার্মান ভাষায়। তার ফলে বাঙালিদের পক্ষে বিজ্ঞান বোঝা বেশ দুরূহ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই দুর্গমতাকে অতিক্রম করে বাঙালির কাছে বিজ্ঞানকে সহজ ভাবে তুলে ধরেছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, পরশুরাম প্রমুখ বিজ্ঞানীরা। তাদের উদ্যোগেই বিজ্ঞান চর্চা বাংলা ভাষায় চালু হয়। বাঙালিদের কাছে বোধগম্য হয়ে ওঠে বিজ্ঞান। এ তো গেল কিছু্জনের উদাহরণ আরও এরকম অনেকেই আছেন যারা সমান দক্ষতায় বিজ্ঞান ও সাহিত্যচর্চায় তাঁদের অসামান্য অবদান রেখেছেন।
ফিজিক্স এর কঠিন হিসেব,কেমিস্ট্রির বিক্রিয়া আর ম্যাথস,বায়োলজির দুর্দান্ত কঠিন কম্বিনেশনে মাঝে মাঝে সকলেরই সাহিত্যচর্চা করা দরকার। সাহিত্যের রস আস্বাদন করতে করতে বিজ্ঞানকে গ্রহণ করা উচিত বলে আমার মনে হয়। একটা সেতু গড়ে তোলা উচিত বিজ্ঞান আর সাহিত্যের মাঝে।

"শুধু বিজ্ঞানে জ্ঞানার্জন কেনো,সাথে চর্চা হোক সাহিত্যের 
সমৃদ্ধ হোক সকলেই এই দুই বিষয়ে সমন্বয়ের।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...