চাই না খ্যাতি,মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
আজকেই ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা বলি, হয়তো আজকের বিষয়ের সাথে কিছুটা হলেও মিল পাওয়া যাবে।
আজকের ওটি তে ঘটা একটা ঘটনা শেয়ার করতে চলেছি। ছোট্ট ছয় বছরের বাচ্চা এসেছে যার নাকের হাড় বাঁকা, আমাদের ভাষায় ডেভিয়েটেড নাসাল সেপটাম বলে যাকে। বাচ্চাটার আস্থমার হিস্ট্রি ছিল। শ্বাসকষ্ট হতো মাঝে মধ্যে। সব জেনেও বর্তমানে অবস্থা স্থিতিশীল থাকার জন্য অজ্ঞান করে অপারেশন শুরু করা হয়। পেশেন্টকে ভেন্টিলেটরে দেওয়া হয়। বেশ কিছুক্ষন ওটি চলার পরে হঠাৎ বাচ্চাটির স্যাচুরেশন কমতে শুরু করে, আর মুখের টিউব দিয়ে গোলাপী রঙের ফেনা বেরোতে থাকে। আমরা সার্জেনদের ওটি বন্ধ করতে বলি সঙ্গে সঙ্গে। আমাদের স্যার এসে আমাকে যা নয় তাই বলে ঝাড়তে শুরু করেন। কাঁদো কাঁদো অবস্থা তখন আমার। সিনিয়ররা কেউ খুব একটা আমার সাপোর্টে কথা বলেনা প্রথমে। এরকম ঘটনা হবার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় ভেন্টিলেটর মেশিনে সমস্যা, তাই বাচ্চাটির শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে সাচুরেশন কমছিল আর তার ফলেই লাং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ইডিমা ডেভেলপ করে। স্যার পরিষ্কার বলে দিলেন নিজের রেপুটেশন খারাপ করবেন না তাই এর সমস্ত দায় পি জি টি র ঘাড় দিয়েই যাবে। খুব কষ্ট হচ্ছিল তখন শুনে। নিজে বিখ্যাত বলে আজ সব দোষ পি জি টির, যাইহোক কিছু বলার নেই এতে। পি জি টি যখন ঘেমে নেয়ে ক্লান্ত হয়ে সব ম্যানেজমেন্ট করে পেশেন্ট কে স্ট্যাবল করে দিলো তখন স্যারের মুখের কথা চেঞ্জ, কার কাছে ট্রেনিং পাচ্ছিস দেখতে হবে তো! তখনো পি জি টি চুপ, কারণ স্যারের মুখের ওপর কথা বলা স্বভাব নয় তার। স্যার পরে অনেক করে ভালো কথা বললেও পি জি টি স্যারের সাথে আর একটাও কথা বলেনি। কেস খারাপ হলে দায় স্যার নেবেন না। আর ভালো হলে ক্রেডিট স্যারের। এরম ভাবে বিখ্যাত স্যার না হয়ে সাধারণ ভাবে জীবন কাটানো পি জি টির সম্মান অনেক বেশী আমার কাছে। খ্যাতির শীর্ষে উঠবো বলে মানুষকে মানুষ জ্ঞান করবো না, এরকম অমানুষ হয়ে বিখ্যাত হবার কোনো প্রয়োজন নেই আমার। টিম ওয়ার্ক করতে গেলে কোনো ডিসাস্টার হলে দোষ পুরো টীমের, কারোর একার নয়। যাই হোক শেষ অব্দি বাচ্চাটা ভালো আছে, বিকেলে গিয়ে দেখেও আসা হয়েছে। শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।
পরম করুনাময় ঈশ্বরের কাছে অসংখ্য ধন্যবাদ বিপদে পাশে থাকার জন্য আর মুখোশের আড়ালে থাকা মানুষের আসল রূপ গুলো দেখানোর জন্য।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন