শিরোনাম - সহানুভূতি
✍️ডা: অরুণিমা দাস
কি এমন হয়েছিলো যে কপালে এমন ক্ষত হলো? ডা: ঘোষ ব্যান্ডেজ করতে করতে জিজ্ঞেস করলেন মনামিকে। ওই নিজেদের মধ্যে একটু কথা কাটা কাটি, মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং এসব আর কি! আপনাদের তো রিসেন্ট বিয়ে হয়েছে, এর মধ্যেই এতো আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর প্রবলেম? মনামি বললো আসলে আমার হাসব্যান্ড সুনন্দ প্রতি মাসের শেষের দিকে কোথাও একটা যায়,বেশ কিছু টাকা উড়িয়ে আসে। আমার এক বন্ধু ওকে দেখেছে খারাপ এলাকায়। আচ্ছা, তাই নাকি? আপনি কোনোদিন ওনার কাছে জানতে চান নি উনি কোথায় যান? কি করেন টাকা নিয়ে? জানতে চাইলেই বলে আমার ওপর ভরসা রাখো,আমি কোনো বাজে কাজ করছি না! গতকাল আমি জোর করে জানতে চাই ওর কাছে, কোথায় যায়? কি করে? কার সাথে সম্পর্ক ওর যে ওই এলাকায় যেতে হয়? এসব শুনেই সুনন্দ রেগে গিয়ে আমাকে ধাক্কা মারে আর টেবিলের কোণে মাথাটা লেগে কপালটা কেটে যায় আমার। অন্যের কথায় স্বামীকে ভুল বুঝলে তুমি? সুনন্দ ডা: ঘোষের চেম্বারে ঢুকতে ঢুকতে বলে। আরে আপনি? আসুন বসুন। ডা: ঘোষ বললেন সুনন্দকে। হ্যা বসছি, আপনি তাহলে পরের মাস থেকে যাচ্ছেন তো ওখানে? হ্যা নিশ্চই যাবো,এতো ভালো কাজের সুযোগ পেয়েছি, আমি অবশ্যই যাবো। মনামি হা করে সুনন্দ আর ডা: ঘোষের কথা শোনে। সুনন্দ কে ডা: ঘোষ বলেন ওনাকে আর অন্ধকারে রেখে লাভ নেই। বলে দিন সব কথা। কি কথা সুনন্দ? মনামি জানতে চায়। সুনন্দ বলতে শুরু করে - আমি একদিন অফিস থেকে ড্রাইভ করে ফিরছিলাম, এক ভদ্রমহিলা আমার গাড়ির সামনে এসে পড়েন আচমকা। আমি ব্রেক কষে গাড়ী থামিয়ে দিই, উনি একটুর জন্য রক্ষা পান। গাড়ি থেকে নেমে যখন ওনার কাছে যাই, ওনার সাজ পোশাক আমার খুব উগ্র মনে হয়েছিলো। কথাবার্তাও লো কোয়ালিটির। আমায় বলছিলো তুই আজ আমার রাতের খদ্দের। আমি চমকে উঠে বলি কি বলছেন এসব? উনি বললেন এই লাইনে অনেকদিন আছি। কারোর অতিরিক্ত লালসার স্বীকার হয়ে দুটো বাচ্চা জন্ম দিয়েছি। আজকাল শুধু বাচ্চা দুটোর জন্য নিজেকে সাজিয়ে পেশ করি খদ্দেরের কাছে। সব শুনে আমার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিলো তখন। সামলে নিয়ে বললাম উঠুন গাড়িতে, আপনার বাচ্চাদের দেখে আসি চলুন। গিয়ে দেখি ওই নোংরা পরিবেশে বাচ্চা গুলো ভালো নেই। ওনাকে বলি বাচ্চাগুলোকে অন্য জায়গায় রাখুন, ওদের পড়াশোনা থাকার খরচ আমি দেবো প্রতি মাসে। এই অন্ধকার জায়গা থেকে ওদের সরিয়ে নিয়ে যান, নয়তো ওদের জীবন শেষ হয়ে যাবে। আপনি কেনো এত করছেন বাবু ওদের জন্য? কেউ তো হয় না ওরা আপনার। মুখে বললাম সব প্রশ্নের উত্তর হয় না! মনে মনে ভাবলাম আমিও তো অনাথ আশ্রমে মানুষ হয়েছি,আমার মাও এরকম কেউ ছিলেন হয়তো! আমি বুঝি বাচ্চা গুলোর কষ্ট টা, তাই আমি চাই না ওরা এভাবে নোংরা পরিবেশে থাকুক। এতোটা বলে সুনন্দ থামলো।
মনামির চোখে জল! সুনন্দর হাত ধরে বললো খুব ভুল হয়ে গেছে আমার, আমি তোমায় ভুল বুঝেছিলাম। তুমি অনেক বড়ো মনের মানুষ। তোমাকে স্বামী হিসেবে পেয়ে আমি ধন্য। ডা: ঘোষ চেম্বার ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, সুনন্দ বললো পরের মাস থেকে আমি যেখানে যাই, ওখানকার মানুষদের চিকিৎসার জন্য আপনি যাচ্ছেন তো? ডা:ঘোষ বললেন নিশ্চয়ই যাবো, ওনারা এই সমাজের অঙ্গ, ওনাদের ভালো থাকাটা দরকার। আমি আছি আপনার পাশে। থ্যাংক ইউ ডা:ঘোষ, সুনন্দ বললো।
ওই অন্ধকারে কেউ নিজের ইচ্ছেয় নিমজ্জিত হয় না,পরিবেশ পরিস্থিতি বাধ্য করে। মনামি বললো সরি সুনন্দ ভেরি সরি! ইটস ওকে, চলো বাড়ি যাই, আমাদের সম্পর্ক টা রিনিউ করে আবার নতুন করে শুরু করি। মনামি এগিয়ে চলে সুনন্দর হাত ধরে,সব ভুল বোঝাবুঝিকে দূরে সরিয়ে রেখে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন