বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

যেদিন পাহাড় কথা বলেছিলো✍️ ডা:অরুণিমা দাস

যেদিন পাহাড় কথা বলেছিলো
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

প্রকৃতি চলে নিজের নিয়মে। সেই নিয়ম মেনে হয়তো আমরা চলতে পারিনা। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রকৃতির সৃষ্টিতে হাত বাড়িয়ে ফেলি। অজান্তে ডেকে আনি বিপদের বার্তা। ভাবি প্রকৃতি কি বা করতে পারে? কিন্তু প্রকৃতি কি করতে পারে তার প্রমাণ হিসেবে ভূমিকম্প,সুনামি,এল নিনো এক অন্যরকম ভাবনা নিয়ে আসে। পাহাড় চলে তার কায়দায়,কিন্তু তার বুক চিরে রাস্তা বানাই আমরা,নদীর গতিপথ পাল্টে দিতেও আমরা পিছপা হইনা। পাহাড়ের বুকফাটা আর্তনাদ শুনতে পেয়েও এড়িয়ে যাই আমরা। আর সেই আর্তনাদ যখন অশ্রুবিন্দুতে পরিণত হয় সেই জলের ধারায় ভেসে যায় অসহায় মানুষজন। ধস আর হড়পা বানের অতর্কিত আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা নেই আমাদের। শুধু অসহায় ভাবে ক্ষতির পরিমাণ দেখতে দেখতে চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে সবার। আসলে পাহাড় বলতে চেয়েছিলো আমার বুক এভাবে ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়োনা,কেড়ে নিয়োনা আমার বুকে জড়িয়ে থাকা অনুভূতিগুলো। শুনতে চাইনি আমরা,আধুনিক হবার নেশায় ক্ষতি করে গেছি শুধু প্রকৃতির। বদলা তাই সেও নিতে শিখেছে। হিমবাহ গলেছে,নদীর নাব্যতা কমেছে, জলস্তর বেড়েছে,পাহাড় কথা বলতে শিখেছে। সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গেলে পাহাড় বলেছে এবার রেহাই দাও আমায় নয়তো ফল হবে মারাত্মক। সেই ফল ভুগছি আমরা সবাই। আর যাতে কোথাও নেপালের মতো অবস্থা না হয় সেই চেষ্টা করা উচিত সবার। প্রকৃতিকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের,তাহলে আমরাও রক্ষা পাবো। পাহাড়ের কথা যেনো আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে,কোনো আক্রমণবার্তা যেনো না নিয়ে আসে। 

"পাহাড় কথা বলেছিলো যেদিন,বড্ড অবুঝ ছিলাম আমরা
আজ ক্ষতির মুখে পড়ে বুঝতে পারি,সেদিন বুঝতে হতো পাহাড়ের ইশারা!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

জীবনে সবকিছু পাওয়া কি ভালো?✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবনে সবকিছু পাওয়া কি ভালো?
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবনে সব কিছু পেয়ে গেলে কি না পাওয়ার আফসোস বোঝা যায়? হয় কি কোনো অনুশোচনা? কিছু জিনিস না পাওয়াই বোধহয় ভালো মনে হয়। তবে না পাওয়ার জন্য ভাবার সুযোগ পাওয়া যায়। "যেটা ছিলোনা,সেটা না পাওয়াই থাক। সব পেলে নষ্ট জীবন।" ছোটবেলায় একটা ডাবল সাইড পেনসিল বক্সের জন্য খুব বায়না করতাম। কিন্তু পাইনি কোনোদিন। বড় হয়ে এখন যখন দোকানে ওরম বক্স দেখি মনে হয় সেদিন পাইনি বলেই আজ এরকম বক্স দেখলেই মনটা অন্যরকম হয়ে যায়, অনেক পুরোনো কথা এসে ভিড় করে। কিছু জিনিস না পাওয়ার অনুভূতি অন্যরকম হয়। অন্য কেউ যাতে সেই পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয় সেইজন্য সদা সচেষ্ট থেকে তার পাশে থাকা যায়। তাই সব কিছু না পেলেও আফসোস করতে নেই, অন্যভাবে সেটা পুষিয়ে যায় ঠিক। না পাওয়ার জন্য যে অনুশোচনা তা পেয়ে হারানোর কষ্টের চেয়ে ঢের ভালো।

"সবকিছু যে পেতেই হবে এমন কোনো কথা নেই
কিছু না পাওয়া থাকলে তার মূল্য দিতে শিখবেই!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

শিরোনাম - একটা ছোট্ট ভালো লাগা ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - একটা ছোট্ট ভালো লাগা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কলেজ জীবনের প্রিয় এক বন্ধু যার সাথে প্রায় চার বছর দেখা হয়নি আর ফোনেও খুব একটা কথা হতোনা দুজনের ব্যস্ততার কারণে। এই বছরের প্রথম থেকে দেখা হবার প্ল্যান করেও সম্ভব হয়নি দুজনের ব্যস্ততার কারণে আর অবশ্যই ডিউটিতে চাপের জন্য। আমার যেদিন ডিউটি থাকতো না সেদিন ওর থাকতো আর ওর যেদিন ডিউটি থাকতো না সেদিন আমার থাকতো। ব্যাটে বলে কিছুতেই মিলছিলোনা। একদিন হঠাৎই বন্ধু ফোন করে বললো চলো একদিন দেখা করবো। একটা দিন ম্যানেজ করে নিয়েছি,তাও ডিপার্টমেন্ট অনেক কথা শুনিয়ে দিয়েছে। শুনে বললাম ছাড়ো তো, দুটো কান সরলরেখায় আছে,এক কান দিয়ে শুনে নেবে আর আরেক কান দিয়ে বের করে দেবে কথা গুলো। তো চলো দেখা করা যাক। একটা গ্রামের মতো জায়গা থেকে ডিউটি করে সেখানে এত স্ট্রেস সামলে সে যে একটা দিন বের করতে পেরেছে এটাই আমার জন্য অনেক বড়ো ব্যাপার। সম্প্রতি তার সাথে দেখা করে খাওয়াদাওয়া গল্প আড্ডা দিয়ে মনটা ভালো হলো। আর তার ডিউটিতে বেশ কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা শুনে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিলো। যাই হোক একটা কাজের জায়গায় ভালো মন্দ দুই ই থাকবে এবং সেটা মেনে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর চাপের মাঝে আড্ডা গল্প এগুলো নিজেকে ভালো রাখার রসদ। অনেক কথা হলো,কাজের জায়গা নিয়ে কথা ছাড়াও একটু বুকশপে ঘোরা,এককোণে বসে বইয়ের কিছুটা পড়ে বিষয়বস্তু বুঝে নেওয়া,কফি খেয়ে ক্লান্তি দূর সরিয়ে নিজেদের সতেজ রাখা। নিজেকে ভালো রাখতে এই জিনিসগুলো খুব দরকার। এই মিটিংগুলো স্ট্রেস বাস্টারের কাজ করে আবার পুরোনো কিছু মনে রাখার মতো দিনের কথাও জানান দিয়ে যায়। এই ছোট ছোট ভালোলাগা গুলো যেমন আত্মতৃপ্তি দেয় আবার নতুন উদ্যমে কর্মজীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

শিরোনাম - যদি স্মৃতি বিক্রি হতো✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - যদি স্মৃতি বিক্রি হতো
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অহিংসা পরম ধর্ম হওয়া উচিত। কিন্তু মেনে কি চলা যায় সেকথা? হিরোশিমা দিবসে মনে হয় স্মৃতি বিস্মিত হলে ভালো হতো। তাহলে ৮১ বছরের আগের সেই মর্মান্তিক ঘটনা দাগ কেটে যেতো না মনে। সেই ঘটনার দায় আজও বয়ে বেড়াচ্ছে সেখানকার মানুষজন। যে ক্ষতি তাদের হয়েছে তা অপূরণীয়। কোনোকিছুর বিনিময়ে সেটা ভোলা যাবেনা। ইতিহাসের পাতায় লেখা ঘটনাগুলো মনে হয় চোখের সামনে ভাসছে। অনেক কষ্ট করে ভুলতে হবে সেসব। 
আবার যাদের অ্যালজাইমার্স আছে তারা চেষ্টা করেও স্মৃতিকে ধরে রাখতে পারে না। হয়তো তারাই সুখী একসময়ে মনে হয় কিন্তু এমন কিছু ঘটনা তাদের জীবনেও ঘটে যেগুলো মনে রাখতে না পারার কষ্টও তাদেরকে যন্ত্রণা দেয় হয়তো। পরিবার পরিজন যখন তাদের ত্যাগ করে সেই সময়ে তারাও বোধহয় তাদের স্মৃতি বিক্রি করে দেয় মনে হয়। 
শৈশব ও স্কুলজীবনের স্মৃতি কি বিক্রি করতে মন চায় সবার? বড় হবার ইঁদুর দৌড়ে সেগুলো একসময় চাপ কাটানোর স্নিগ্ধ পরশ হয়ে ওঠে। জীবনের কিছু ঘটনা ভুলতে মন চায় কিন্তু চেষ্টা করেও মোছা যায় না,দগদগে ঘায়ের মতো যন্ত্রণা দেয়। 
সত্যিই কি বিক্রি করা যায় স্মৃতি! নাকি মনকে নাড়া দিয়ে যায় মাঝে মাঝে স্মৃতির পিগি ব্যাংক বা  জমানো স্মৃতির ভাঁড় থেকে বেরিয়ে? উত্তর খুঁজে পেতে আমরা সকলে সচেষ্ট, জানিনা উত্তর পাওয়া যাবে কিনা! 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

ওয়েলকাম✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ওয়েলকাম ✍️ ডা: অরুণিমা দাস সাজগোজ করে সেলফি মোড অন করেছে এমন সময়ে কানে এলো,কিরে গজু! এখনও রেডি হতে পারলিনা? এই তো বিশু স্যার রেডি আমি। আ...