শিরোনাম - সংবেদনশীলতা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
বর্তমান যুগে প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে এমন প্রভাবিত করেছে যে আজ মানবিকতা প্রায় লুপ্ত হতে চলেছে। এখন কারোর খবর নিতে হলে মোবাইলে নম্বর ডায়াল করে অপর প্রান্তের খোঁজ নিয়ে নিচ্ছে। তার বাড়ি গিয়ে সম্মুখ সাক্ষাৎ কিংবা দু চারটে মনের কথা বিনিময় এসব লুপ্তপ্রায় আজ। রাস্তায় কারোর সাথে কোনো ঘটনা ঘটলে মানুষ সেটাকে মোবাইলে তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতে বেশি ব্যস্ত থাকে,ভুলে যায় যে রাস্তার মানুষটিকে সাহায্য করার প্রয়োজন। কাউকে কিছু দান করলে সেটাও সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখানো জরুরি তাদের জন্য। আগে একান্নবর্তী পরিবারে একসাথে বসে গল্পগুজব মনের কথা বিনিময় এসব হতো কিন্তু এখন সেসবের সময় নেই কারোর হাতে। ভিডিও কলে ভার্চুয়াল যোগাযোগ রাখতে তারা পটু কিন্তু আত্মিক সংযোগ স্থাপন করতে তারা অপারগ। দিনে দিনে কেমন যান্ত্রিক হয়ে উঠেছে সবাই। যন্ত্র দিয়েছে বেগ কিন্তু করে নিয়েছে আবেগ। স্কুলে শিক্ষকদের সম্মান করতে ভুলে যাচ্ছে ছাত্ররা। একটু বকাঝকা করলেই শিক্ষককে হুমকি দিচ্ছে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছেড়ে দেওয়ার। কোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করছে কিন্তু নিজস্ব চিন্তাধারাকে কাজে লাগাতে পারছেনা। পড়াশোনা করে মানুষ হবার জায়গায় যন্ত্রের গোলাম হয়ে উঠছে। বাচ্চারা ভিডিও গেমস,মোবাইলে আসক্ত হয়ে বিকেলে মাঠে যাওয়া ভুলে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে সহানুভূতি ও মানবিক মূল্যবোধ গড়েই উঠছেনা। আলবার্ট আইনস্টাইন একসময় বলেছিলেন "এটা ভয়ঙ্কর ভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে আমাদের প্রযুক্তি আমাদের মানবিকতাকে ছাড়িয়ে গেছে।" আজকের জীবনে এরই প্রতিফলন ঘটছে। প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত হবার দরকার অবশ্যই কিন্তু সেটা মানবিকতার ওপর যেনো প্রভাব না ফেলে সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। মানবিক সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। প্রযুক্তি উন্নত হচ্ছে সেটা কিন্তু মানুষের দ্বারাই তাই প্রকৃত মানবিক সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্ব সেটাও আমাদের সবার হওয়া উচিত। এর ফলে সচেতন ও সংবেদনশীল সমাজ গড়ে উঠবে।
"প্রযুক্তিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দিলে ক্ষয়িষ্ণু হবে মানবিকতা
উন্নত হবার সাথে গড়ে তোলা উচিত সামাজিক সংবেদনশীলতা।"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন