শিরোনাম - অপরাধবোধ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
পারিপার্শ্বিক অবস্থার জন্য নিজেকে দায়ী করা এক অপরাধবোধের জন্ম দেয়। আর এই অপরাধবোধ ভেতরে ভেতরে কাউকে ক্ষয় করে কারণ সেটা প্রকাশ করা যায়না। এরকম অনেক ঘটনা চোখে পড়ে। কলেজের কোনো স্টুডেন্ট তার রুমমেটটির মনের অবস্থা জেনেও যদি তাকে সাপোর্ট না দেয় আর পরে সে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলে তখন মনে হয় কেনো যে ওর কথাগুলো মন দিয়ে শুনলাম না! কেনো ওকে একটা কাউন্সেলিং করাতে বললাম না! একটা নীরব অনুতাপ কাজ করে মনে। আবার কোনো সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝিতে ইগো নিয়ে দুজনে বসে থাকলে সেই সম্পর্ক টেকেনা। হয়তো কারো একজনের মনে হয় এতটা রুক্ষ না হলেও পারতাম। এটা আরেক
ধরণের অপরাধবোধ। স্কুলে যাওয়া একটা বাচ্চা রাস্তার উপর বসে থাকা ভিখিরিকে খাবার দিতে গেলে বাড়ীর লোক বারণ করে। পরের দিন যখন ভিখিরিকে দেখতে পায়না, তাতে বাচ্চাটির থেকেও বাড়ীর লোকের বেশী অপরাধবোধ কাজ করে। ভাবে হয়তো শিশুটিকে ঠিক শিক্ষা দিতে পারেনি। অনেক সময় একটানা ডিউটি করতে করতে জুনিয়র কিছু ভুল করলে তাকে বকা দিলে পরে মনে হয় নিজেও তো এরকম বকা খেয়েছি অনেক। জানি তো কেমন মানসিক অবস্থা হয় ও আত্মবিশ্বাস কমে যায়। তাই ওকে না বকলেও হতো। একটা চাপা অনুশোচনা কাজ করে।
এরকম অনেক উদাহরণ রয়েছে। কয়েকটি তুলে ধরা হলো। আসলে কারোর এমন কোনো আচরণের জন্য অপরের কিছু ক্ষতি হলেই নিজের মধ্যে একটা অপরাধবোধ তৈরি হয় আর সেটা প্রকাশ না করতে পারার জন্য তার দায়ভার বহন করে চলতে হয়। এতে মনের ওপর চাপ পড়ে। মানসিক অবসাদের সৃষ্টি হয়। তাই এরকম কিছু হলে আত্মসমালোচনা করে বা কাউকে সরি বলে নিজের ভুল স্বীকার করা উচিত। আর জীবনে খুব বেশি প্রভাব পড়লে অবশ্যই কাউন্সেলিং করানো উচিত। নিজের কাছে সৎ থাকার মতন ভালো কিছু কোনোদিন হয় না,সেটাই সকলের কাম্য হওয়া দরকার।
"এমন কিছু কাজ না হোক,যাতে অপরাধবোধ নীরবে করে যায় ক্ষতি
আগে থেকেই সতর্ক হও,লক্ষ্য রাখো পারিপার্শ্বিক গতি প্রকৃতি।"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন