শিরোনাম - মাঝরাতের অচেনা ফোন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
বছর দুয়েক আগের ঘটনা,তখন আন্দোলন চলছে তিলোত্তমাকে নিয়ে। মাঝে মাঝেই মঞ্চ থেকে ঘুরে আসতাম সবাই মিলে। পরিস্থিতি খুব সুবিধের ছিলোনা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার চেষ্টা চলছে। যে দিনের কথা বলছি,বলা ভালো যে রাতের কথা বলছি সেটি ছিলো স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন,সেদিন সারাদিন ডিউটি করে এসে ফ্রেশ হয়ে ডিনার করে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম হোস্টেলে। মাঝরাতে হঠাৎ শোরগোল শুনে ঘুম ভেঙে গেলো। ফোনে দেখলাম একগাদা মেসেজ, তিলোত্তমার কলেজে নাকি ভাঙচুর হয়েছে। কেমন যেনো ভয় ভয় হতে লাগলো। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে রইলাম। একটা ফোন এলো সেই সময়ে, ফোনের স্ক্রিনে দেখলাম কোনো নম্বর নেই। ফোন তুললাম, ওপারে ভেসে এলো একটা ভারী গলা,ম্যাডাম একদম দরজা খুলে বেরোবেননা। কোনোরকম শব্দ হলেও না। খুব সম্ভবত পরের হামলা কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার হাসপাতালে হতে পারে। ভুয়ো হুমকি মনে হলোনা কেনো যেনো! কি ভাবলাম রুমে লাইট জ্বেলে সারারাত থাকলাম। পরদিন সকালে উঠে দরজা খুলে বেরিয়ে দেখলাম থমথমে পরিবেশ। ব্রাশ করতে যাচ্ছি এমন সময়ে একজন মেয়ে দেখলাম ওয়াশরুমের দিক থেকে আসছে। আমাকে দেখে বললো কাল রাতে কি হয়েছিলো জানো? বললাম কি হয়েছিলো গো?!বললো কারা যেনো দলবল নিয়ে পাঁচিল টপকে এসেছিল আর আমাদের মেইন গেটে প্রায় জনা পঞ্চাশেক পুলিশ পাহারা ছিলো। মাঠের পাশে পুরো ধোঁয়ায় ভরেছিল। কারা করেছিলো এসব বোঝা যায়নি। তোমাকে সাবধান করতে দরজা ধাক্কা দিয়েছিলাম দু তিন বার। কিন্তু তুমি দরজা খোলোনি। ভেবেছিলাম ঘুমিয়ে পড়েছো হয়তো। আমরা সবাই মেইন দরজা যেটা দিয়ে অন্য ফ্লোরে যাওয়া যায় সেই দরজা ভালো করে দড়ি বেঁধে বন্ধ করেছিলাম। ছিটকিনি কাজ করছিলো না। সব শুনলাম কিন্তু ওই ফোনের কথা কাউকে বলতে পারিনি। জানি না কে ছিলো ফোনের ওপারে কিন্তু আমায় সেদিন রক্ষা করেছিলো সেই একটা ফোন। তারপর বেশ কয়েক সপ্তাহ হোস্টেলে থাকিনি। বাড়ী থেকে ডিউটি করেছি। কিন্তু সেই রাতের কথা আজও মনে পড়লে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন