হ্লাদিনী
মধু বনে রাধিকা নাচে রে........ ছম্ ছম্ নুপুরের আওয়াজ ভেসে আসে বনের মাঝে মন্দির থেকে। এই কম্পিউটার রকেট পরমাণু বোমার অত্যাধুনিক যুগেও ওই মন্দির আর ওর আসে পাশের বনানীকে ভক্তি ভয়ে এড়িয়ে চলে মানুষ।
বৃন্দাবনের নিধি বনে এমন অদ্ভুতুড়ে রহস্যময় বাঁকেবিহারীর মন্দির ঘিরে প্রাচীন আধ্যাত্মিক উপলব্ধি মানুষের কাছে আজও অপার বিষ্ময়। সন্ধ্যার ঠিক আগেই শেষ আরতি সেরে কাপড় মিষ্টি চুড়ি নিবেদন করে মন্দিরের সকল দরজা জানালা বন্ধ করে সব ভক্তদের মন্দির অঞ্চল থেকে বের করে গেটে তালা দিয়ে চলে যায় পুরোহিতরা। কারণ সূর্য্য ঢুবলে , একটি দুটি তারা আকাশের বুকে ভেসে উঠলে, সহস্রাধিক বছরের পুরনো সত্য ....নাটকের মতো প্রতি রাতে পুনরায় ঘটতেই থাকে। বাঁকেবিহারী শ্রী কৃষ্ণের সঙ্গে গোপীদের সেই রাস লীলা। সেই কৃষ্ণের সুমধুর বাঁশি আজও বাজে নিধিবনের মন্দিরে। আর শাখাপ্রশাখা ঝুলিয়ে শান্ত গাছগুলো, যাদের দেখলে মনে হবে মাথা নীচু করে নিবেদনের ভঙ্গিতে শত সহস্র সবুজ উদ্ভিদ বসে আছে। সেই তারা ললিতা বিশাখা চদ্রাবলী রূপে সহস্র গোপিনী হয়ে মন্দির ঘিরে রাস লীলায় মেতে ওঠে। কত বার এই দৃশ্য দেখার প্রবল আগ্ৰহ কিংবা নিয়মের অবমাননা করার গোপন উত্তেজনায় অন্ধ পাগল , নয়ত মৃত্যু হয়েছে অনেকের। তবু মানুষ অনুসন্ধান চালায়। রহস্য উদঘাটনের জন্য। মেলে না দেখা মেলে না। মন্দিরের দরজায় কান পেতে বাঁশি নয়ত নুপুরের আওয়াজ শুনতে পেয়েছে কেউ কেউ, এমনই প্রবাদ ঘিরে আছে মন্দির ঘিরে। এমন কি সকালে মন্দির পরিস্কার করতে এসে পুরহিত দেখে মিষ্টি নেই। শাড়ি চুড়ি ঘেঁটে ছড়িয়ে আছে। কতটা সত্য এই আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে? মানো তো ঈশ্বর, না মানো তো এ পাথর ছাড়া কিছু নয়। আধ্যাত্মিকতা উপলব্ধির বিষয়, অনুভূতির গাঁটছড়া। মনই ধর্ম ।আর মনের ভাব আধ্যাত্ম। আত্মার অধীনে যা অনুভূত।
এই মন এই আত্মা এই চিত্ত উপলব্ধিই ঈশ্বর। কেমন করে পায় সেই ঈশ্বর, চেনা কি যায়? বৈষ্ণব দর্শনে দেখায় এই আত্মার ভেতর যে আত্মা বসে আছে, সেই পরম আত্মাই পরম আত্মীয় বলা হয়েছে। সেই ই পরম ব্রম্ম, পুরুষকার, নাম কৃষ্ণ। অনন্ত প্রেমিক তিনি। তাঁর মধ্যেই সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড মিলন প্রত্যাশি। তাই তিনি একমাত্র পুরুষ, আর ব্রহ্মান্ডের জীবিত ও জড়ো সব নারী। প্রেমিকের সাথে মিলনের বাসনা তাই অনু পরমাণুর মধ্যে পরিদর্শিত হয়। যেমন নদীর সমুদ্রকে ছুঁয়ে বিলীন হবার শিঘ্রতা। সেই মিলনের তিন পথ বৈষ্ণব দর্শনে দেখতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে সবচেয়ে শেষ এবং উচ্চতম মিলনের ইচ্ছা আনন্দ শক্তিরূপী। তখন পুরুষত্তম নিজেও মিলনের আগ্ৰহ অনুভব করে। সেই শক্তি, হ্লাদিনী শক্তি। যা আনন্দ স্বরূপা। তিনিই রাধা। রাধাই অসংখ্য বিভাজনে গোপিনীবৃন্দ। এই আধ্যাত্মিক প্রেম গাথা তর্ক বা তত্ত্বের ওপর কেবল দাঁড়িয়ে নেই। এ মানুষের বিশ্বাসের মাঝে বিরাজমান।
🌸🌸 🛐🛐🛐🛐🛐 🌸🌸
শর্মিষ্ঠা ভট্ট

বাহঃ অপূর্ব👌🏻
উত্তরমুছুনধন্যবাদ🙏💕 🌷🌷🌷
মুছুন
উত্তরমুছুনঅসাধারণ! ধন্যবাদ। 👌👌💫💫💥💥❤❤
ধন্যবাদ🙏🌷🌷
উত্তরমুছুনঅসাধারণ 👌👌
উত্তরমুছুনঅপূর্ব লেখনী।
উত্তরমুছুন