বিষয় # আধ্যাত্মিকতা (রবীন্দ্র চেতনায় আধ্যাত্মিকতা)
লেখায় # শর্মিষ্ঠা ভট্ট
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যে তাঁর চেতনার রঙ পান্না হয়ে উৎভাসিত হয়েছে। সে পান্নার দ্যুতি সুন্দর থেকে সুন্দরতমের দিকে ধাবিত। সৌন্দর্য ও প্রকৃতি প্রেম তাঁর আধ্যাত্মিক বোধের নিরন্তর অভিযাত্রা। তাইই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর কাব্য সাহিত্যে। মানবতার উদার দৃষ্টি মেলে তাই বলেছেন " যদি প্রেম দিল না প্রানে, কেন ভোরের আকাশ ভরে দিলে এমন গানে গানে। "
তাই আধ্যাত্মিক বোধের সাথে মানবতা প্রকৃতি সৌন্দর্য প্রেম ও ভারতীয় সংকৃতিবোধ একেকার হয়ে গেছে। আধ্যাত্মিক বলতে তিনি নির্গুণ আনন্দ এক সত্ত্বাকে সর্বদা খুঁজে ফিরেছেন, সেই সত্ত্বা যা তাঁকে চালনা করায়। যে সত্ত্বা তাঁকে অসীম অনন্তের দিকে নিয়ে যায়। বিশ্বায়নের পথের পথিক তিনি। রবীন্দ্র সাহিত্যে এই সত্ত্বা "জীবনদেবতা "হয়ে তাঁর সকল চিন্তাকে বয়ে নিয়ে গেছে রূপ থেকে অরূপের পথে।
ব্রাম্ভ চিন্তাধারায় পালিত রবীন্দ্র মনন আকারহীন নিরাকারে ধাবিত হয়েছে। বৈষ্ণব চিন্তনের প্রভাব তাঁর প্রেম পর্বের কবিতা , বলতে গেলে সারা সাহিত্যে এক এবং অদ্বিতীয় এক পুরুষোত্তমের দিকে ধাবিত। বৌদ্ধ আধ্যাত্মিক ভাবনার ধ্যান ও কল্যাণকামী মানবতা বৈষম্যহীন উদারতা তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। শান্তিনিকেতনে তাঁর শিক্ষা দর্শনে সেই আশ্রম ধ্যান ও বিশ্বচেতনার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। রবীন্দ্র দর্শনে তাই
এক কল্যাণময় স্নিগ্ধ চেতনা উন্নতর কোন এক অচীন পথে এগিয়ে নিয়ে চলে। দুঃখের থেকে পলায়ন নয়, দুঃখ থেকে দুঃখে কর্ম এবং জীবনের স্তরে স্তরে উৎসারিত আলোর পথে তাঁর যাত্রা। দেহকে তিনি মন্দির করে সেখানে খুঁজেছেন দেবতা, তাঁর মনে , " আমার মাঝে তোমার লীলা হবে, তাই তো আমি এসেছি এই ভবে। "
অনেক বড়ো হয়ে যাচ্ছে। এখানেই শেষ করি। উপনিষদের মন্ত্রে জাগ্ৰত সেই ঋষি ধীমানের আধ্যাত্মিক চেতনা শান্ত এক যাত্রা। যেখানে সৃষ্টির মাঝে ছুঁতে চেয়েছেন অসীমকে "দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে/আমার সুর গুলি পায় চরন, আমি পাইনে তোমারে। " তাই চলতে হবে। তিনি চরৈবতী মন্ত্র দিয়ে গেছেন।
ধন্যবাদ🙏
©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

বাহ্! দারুণ একটা উপহার। অসাধারণ। 👍👍👌❤❤
উত্তরমুছুনঅজস্র ধন্যবাদ আপনাকে 💐💐💐💐💐💐🙏
উত্তরমুছুন