বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০

বিকালের ডাকে মাকে


 আমার মা, 


তোমায় গালভরা সম্মোধন করলাম না।পূজনীয় বা প্রিয় সব কিছুর ওপরে তুমি বন্ধু,তুমি আনন্দ।।


তুমি কেমন আছো? অনেক দিন তোমায় দেখিনি। আঁটকে গেছি অসভ্য এই সংক্রামক দিনে। তোমার বয়সের হিসাবে, তুমি যে এখানে আসবে তাও হয় না। আমির যাওয় "না"। মা নিয়ে লিখতে গেলে কি লিখি বলো তো? মা মানেই নস্টাজিয়া। মা মানেই হাসি। মা মানে বকুনি আর তারপর সেধে আদর করে ভালো ভালো খাবার খায়ানো। মা মানে অ আ ক খ। মা মানে কিশোরী বয়সে লুকোনো দিন। মা মানে বারন শাসন, আর অনেক চিন্তা নিয়ে শুধু সন্তানের জন্য ভালো চাওয়া। মনে আছে দূর্গা ষষ্ঠী করে হলুদ ফোঁটা দিতে। মনে মনে বলতে " সন্তান থাকে মোর দুধে ভাতে " । 


আচ্ছা তোমার মনে আছে? আমার প্রবল জ্বরের দিনে, আফছা আঁধারে ঘুম ভেঙে দেখেছি মাথার পাশে বসে। "মা" বললেই তোমার সেই সজাগ উত্তর "আছি মামনি এই তো আমি"। আজও সেই আওয়াজ আমি শুনি, যখন জীবনে লড়তে গিয়ে একা হয়ে জ্বর আসে আমার সারা গায়ে। নিজেকে অসুস্থ ভাবার ঠিক আগে তুমি এসে সামলে নাও। 


তুমি সাঁতার জানতে না। আমি জানতাম। পুকুর ঘাটে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে আমার পাড়ে ফেরার আসায়। আজ হয়ত এমন করে উদগ্রীব দৃষ্টি মেলে বসে আছো তোমার  সময়ের তালে সাঁতারে যাওয়া সন্তান কবে ফিরবে? কিংবা ঠিক মতো ফিরতে পারবে কি না। সন্ধ্যার শাঁখ বাজাও, মাথায় কাপড় গড় হয়ে পড়ো ভগবানের পায়ে জানি তাতে অর্ধেকের বেশি আমি জুড়ে আছি। 


মনে আছে আমবাগানে বৃষ্টি ভেজা, আরাম করে দুষ্টুমিতে অংশ নিতে আমি দেখতাম ছোট্টো আর এক আমি তোমার মাঝে। ক্যারাম ব্যাটমিন্টন আল্পনা ।উৎসাহ দিতে আঁকার তুলিতে হিজিবিজি রঙ ভরে। ইউনিভার্সিটি থেকে অত বড়ো মেয়ে ফিরতে একটু দেরি হলে গরদ ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে। উৎসাহ দিতে আজও দাও অনেক বই পড়ার। মনে আছে যৌথ পরিবারের হাজার কাজ সেরে রাতের বেলা দেয়াল গিরির আলোয় পূজা সংখ্যা শেষ করছো। শিশু মনে ওই বেজান বস্তুর প্রতি টান, এনে দিতে তুমি। কি আছে ওতে এমন ঘুম জড়ানো চোখে ক্লান্ত হয়ে কি করে মা বইগুলোর সাথে? পড়ি আমিও পড়ি। তুমি খুঁজে দিয়েছিলেন সেই বন্ধু যে আমায় আজও সাথ দেয়। তুমি কেবল আমার না, বড়ো মা হয়ে যখন কাউকে খাবার কাউকে কাপড় কাউকে আনন্দ বিলি করতে আমার মনের মুগ্ধতায় কখন যেন দেবী হয়ে উঠতে। মনে মনে মন্ত্র পড়তাম .... মাতৃবন্দন সে। 


তুমি আমায় নাচতে শেখাচ্ছিলে, আমি তাল লয় কিছু না বুঝে গোলমাল করছি, তুমি মাথায় হাত দিয়ে বললে " সবার জন্য সব না" কত বড়ো দূরদর্শী ছিলে। মা রা হয়ত তাই হয় দূর দেখে। তাই সাবধান করে, শেখায় নীতি ন্যায় অন্যায়। এখনও অন্যায় করতে মন চায় না। তুমি বিদ্রহী হতে শিখিয়েছিলে, দেখো তাই নিয়মের বাইরে একটা ছোট ঘর বেঁধেছি তাতে রাত্র দিন কেবল অদ্ভুত পথের আবিষ্কার করে চলেছি। প্রচলিত ধারায় মাথা নুইয়ে গড্ডালিকায় বয়ে যেতে পারলাম না। 

আমার প্রেমের প্রথম শ্রোতা তুমি ছিলে। বিশ্লেষক ও তুমি।তোমার স্নেহ জালে তিনি ও আবদ্ধ। মা কথাতে কেবল দীর্ঘ সুখ আছে। ধূপের মতো জ্বলে গন্ধ দিয়ে যাও। আরও কত কি লিখতে মন চায়। তুমি স্মৃতি আগলাতে শিখিয়ে ছিলে, কতকাল পূর্ব স্ট্যাম্প ছবি যখন জমা করতাম,তোমার আগ্ৰহ ছিল অনেক বেশি। উৎসবে মেতে উঠতে বলেছ তুমি,নতজানু হয়েছি সুন্দর ভালো সততার কাছে।তোমার নীরব কাজ ছুঁয়ে দিতে একটা সন্তানকে বড়ো করতে।হৃদয় বৃত্তির কাজে কখনও তুমি কিচ্ছু দূর ছাই করোনি,প্রত্যেক সম্পর্ক অমূল্য মতির মতো সামলে রাখতে।লোকে বলে বাবা হাজারে এক মা।তুমি বলতে " উনি ছাড়া আমি কে রে! কালীকে শিব ছাড়া দেখেছিস কখনও? আমার বাগানে তিনিই যে সিঞ্চিত করেছেন। তাই বাগানের এত বাহার।আমি মা শব্দে অবাক হয়ে শুধু অনুভব করি কতকিছু।।কিন্তু আর নয় বড়ো হয়ে যাবে , একটা কবিতা লিখি ✍


বিষন্ন বিকাল 

গাঙ্গচিল হয়ে মরিস

আমায় ঘিরে। 

আমার কান্না

পৌছতে পারিস  

আমার মায়ের কাছে...।।

সূর্য্য মুখে ডালপালা

নিয়ে সমুদ্রে ডোবে

গাঙ্গ চিল কাঁদিস

কেন আমায় ঘিরে ঘিরে।।. 


............. ইতি


................. শর্মিষ্ঠা ভট্ট। 🖋

৬টি মন্তব্য:

  1. খুব ভাল।সব মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. অনেক ধন্যবাদ🙏💕 সুন্দর মন্তব্য, উৎসাহিত করে।

      মুছুন
  2. অপূর্ব ভালোলাগায় মন ভরে গেলো ।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. অনেক ধন্যবাদ🙏💕 পিয়ালী। তোমার উষ্ণ ব্যবহার মনে থাকবে।

      মুছুন
  3. অসাধারণ, জীবনের অনেক মুহূর্ত (বিশেষ করে শরীর খারাপের সময়) মনে পড়ে গেল।
    সত্যিই, মায়ের তুলনা শুধু মা।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. এত মন দিয়ে পড়ে উৎসাহিত করার জন্য অনেক ধন্যবাদ🙏💕

      মুছুন

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...