রবিবার, ৩০ মে, ২০২১
"ছোটগল্প"–"অবসরের সঙ্গী"…
# নাম- বিশ্বাস ও তর্ক। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১
# নাম- গৃহীজীবনের বুদ্ধত্ব। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
রবিবার, ২৩ মে, ২০২১
# নাম- ইতি কুরুক্ষেত্র। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বৃহস্পতিবার, ২০ মে, ২০২১
# নাম- ক্রোধ ও অসহিষ্ণুতা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বুধবার, ১৯ মে, ২০২১
# নাম- -'নৌকা'। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
সোমবার, ১৭ মে, ২০২১
চাওয়া-পাওয়া অনিশা
চাওয়া-পাওয়া
অনিশা
অপ্রতিরোধ্য শক্তির কাছে হেরে গিয়ে সায়নী যখন তার ঠোঁটে মুখে, হারিয়ে যাওয়া প্রিয়তম মানুষটির স্বাদ পেল তখন সে বুঝতে পারল সে বুঝি এই শক্তির কাছে হেরে যেতেই চেয়েছিল। বহু বছর পর ডাকাতিয়া বাঁশির মতো বিয়ে বাড়ীতে নীলের গলার গলার আওয়াজ পায় তখন এই পড়ন্ত যৌবনে ও সায়নীর মন উচাটন হয়ে ওঠে। বিয়ে বাড়িতে সবাই তখন বিয়ে দেখতে ব্যস্ত, শুধু সায়নী মেয়ের মা বলে বিয়ে দেখতে নেই। সে একটু বুকে ব্যথা নিয়ে ঘরের এককোনে বসে ছিল। কেমন অজানা আশঙ্কায় মন দুরুদুরু। সেই আশঙ্কাকে সত্যি করে দিয়ে নীলের আগমন। নীলের বুকে নিষ্পেষিত হয়ে যেতে যেতে সায়নী ফিরে গেল বহুবছর আগে এমনি এক সন্ধ্যায়।
অভিষেকের সঙ্গে সায়নীর বিয়ে আর কয়েকটা দিন পরেই। অভিষেকদের অনেক বড় বাড়ি। কাকা জ্যাঠা সব মিলিয়ে অনেক ভাই-বোন। অভিষেকের খুব ফর্সা গায়ের রঙ দেখে সবাই তাকে রাঙা বলে ডাকত। অভিষেকের ঠাকুরমা বলতেন, "বড়, মেজ, সেজ, ন, ফুল, ফল। তারপর তো নতুন কিন্তু আবার রাঙাবাবু আমার কোথা থেকে এলেন?" অভিষেকে দাদাদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। বৌদিরা আদর করে রাঙা বাবু বলেই ডাকে। অভিষেকের বড় দাদা, বড় দিদিরা বয়সে অনেক বড়। বড়দির ছেলে নীল। সম্পর্কে অভিষেকের ভাগ্না। নীল মাঝেমাঝে মামার বাড়ি আসে। এখানে এলে সারাবাড়ি মাতিয়ে তোলে। নীলের গায়ের রং মাঝারি মাপের হলেও তার তার ঠোটের ও চোখের দুষ্টুমি ভরা হাসিতে সবাই কুপোকাত। বৌদিরা তো নীল বলতে অজ্ঞান। খুব মজা করে, আমুদে ছেলে। অভিষেকের সঙ্গে সায়নীর বয়সের অনেকটাই তফাৎ। প্রায় তার ভাগ্না নীলের বয়সী। সায়নীর মায়ের মৃদু আপত্তি থাকা সত্বেও সুপুরুষ ইঞ্জিনিয়ার পাত্রকে সায়নীর বাবা হাতছাড়া করতে চাননি। পাকা দেখার দিন বড়দি এসেছিল, নীলকে সঙ্গে নিয়ে। বড়দির তো খুব পছন্দ সায়নী কে। বাড়ি এসে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। নীল তো ওখানে থেকেই গেল। বলেছে রাতে খাওয়া-দাওয়া করে যাবে। আর ওদের বাড়ির লোকেদেরও খুব ভালো লেগেছে। অভিষেকের কেমন যেন ব্যাপারটা ভাল লাগেনি অথচ মুখে কিছু বলতে ও পারছে না।
দেখতে দেখতে বিয়ের দিন এসে গেল। বিয়ের কাজকর্ম দেখাশোনা করার জন্য বড়দি কে দুদিন আগেই আসতে বলা হয়েছিল। সেইমতো বড়দি দুদিন আগেই এসেছে। নীল আসার পর থেকেই বলছে, "একবার নতুন মামীমার সঙ্গে দেখা করে আসবো।" অভিষেকের বড় বৌদিরা এই নিয়ে খুব হাসি ঠাট্টা করছে। "বড় মামীদের আর মনে ধরছেনা বুঝি? আমাদের কেষ্ট ঠাকুর বুঝি রাধার প্রেমে মগ্ন।" এই নিয়ে হাসি-ঠাট্টা যতই বেড়ে উঠছে অভিষেকের মনের মধ্যে একটা অস্বস্তি দানা বেঁধে উঠেছে। ঠাকুরমা হয়তো কিছু একটা আন্দাজ করে মজা করে অভিষেককে বলেন, "ওরে ভাই, জানিস তো শ্রীকৃষ্ণ আসলে আয়ান ঘোষের ভাগ্না। রাধা হল কৃষ্ণের মামী। তাই তোর বৌদিরা একটু মজা করছে।" অভিষেক একটা কাজের বাহানা দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
সন্ধ্যায় নীল সায়নীর এর কাছে যায়। সায়নী প্রথম দিনেই নীলকে দেখে তার জীবনের প্রথম ভালোলাগা অনুভব করতে পারে। নীল ও সায়নীকে ছেড়ে বাঁচতে পারবে না জানায়। এই কথা জানানোর জন্যই সেদিন থেকে গিয়েছিল ওদের বাড়ি। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিয়ের সব বন্দোবস্ত পাকা হয়ে গেছে। সায়নী বাবা মাকে এখন আর জানাতে পারবে না। আর এতে দুই পরিবারের অসম্মান। সায়নীকে কোনভাবেই রাজী করাতে পারেনি নীল। একবার শেষ বারের মতো দেখে আসবে সায়নী কে।
নীল যেতেই ওদের বাড়ির লোকজন সাদর অভ্যর্থনা জানান। সামান্য সৌজন্য দেখিয়ে নীল সায়নীর ঘরে যায়। ধীরে ধীরে ওদের কথাবার্তা শুরু হয়। নীল হঠাৎ গভীর আবেশে সায়নীকে জড়িয়ে ধরে। সেদিন ও এই অপ্রতিরোধ্য শক্তির কাছে হেরে গিয়ে পরম সুখে সুখী হয়েছিল সে। যেন এই হেরে যাওয়াতেই সুখ। জীবনের চরম পাওয়ার মুহুর্তে তার দুফোঁটা চোখের জল জল গড়িয়ে পড়ে। তা দেখে নীলের মনে অপরাধ বোধ জেগে ওঠে। কিন্তু নীলকে ভুল প্রমাণ করে সায়নী নিজেই আবার নীলকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানায়।
আজ এত বছর পর সেই স্বাদ পাওয়ার জন্য তার মনটা যে উপোসী হয়েছিল, সায়নী নিজেও তা জানত না। শুধু একটি কথাই সে জানত, যা সারা পৃথিবীর কেউ জানে না এমনকি নীল ও জানে না, তা হলো তাদের সেই ভালোবাসার সন্তানকেই এত বছর বুকে আগলে বড় করেছে আজ তার বিয়ে। আর বাবা হিসেবে কন্যা সম্প্রদান করছে অভিষেক।
পৃথিবীতে সব চাওয়া যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি সব চাওয়া চাইতেও নেই। এই অপ্রাপ্তিটুকু নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকতে হয়, কর্তব্য পালন করতে হয়। আজও সেদিনের মতো চোখের জলে শেষ আলিঙ্গন দিয়ে বিদায় জানাল সায়নী তার প্রিয় পুরুষকে।
# নাম- প্রতারণা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বুধবার, ১২ মে, ২০২১
# নাম- আমাদের পরিবার। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
রবিবার, ৯ মে, ২০২১
পাওনার পাকে(সুদেষ্ণা দত্ত)
পাওনার পাকে
সুদেষ্ণা দত্ত
অভিরাম বাবুর বাড়ীতে কান্নার রোল উঠেছে।পাড়াপ্রতিবেশীরাও সন্ধ্যা বেলা সেই শুনে ওনার বাড়িতে উপস্থিত।কিছুক্ষন আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত হয়েছেন ব্যবসায়ী অভিরামবাবু।এদিকে অভিরামবাবু দেখছেন দুজন সিং ওয়ালা ষন্ডামার্কা কালো,মোটা লোক তাঁকে কোথাও নিয়ে চলেছে।তিনি বেশ হাল্কা বোধ করছেন,যেন হাওয়ায় ভেসে চলেছেন।চুলগুলো উড়ে এসে মুখে লেগে সুড় সুড়ি দেওয়ায় এমন জোরে হেঁচে উঠেছেন যে লোক দুটো তাকে এক ধমক দিল যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে।একজন তো বিরক্তিতে বলে উঠল লোকটা কি খেত বলত—সিমেন্ট,না পাথর,নাকি তুলোর বস্তায় জল পড়েছে!এমনিতে বিশাল বপু অভিরামবাবু গজগমনই করেন।লোক দুটো আর এক কালো মোষের মত লোকের সামনে নিয়ে গিয়ে বলল ৪২ নম্বর দ্বারকা নাথ লেনের অভিরাম বাবুকে তারা নিয়ে এসেছে।অভিরামবাবু এতক্ষনে অনুধাবন করলেন তিনি মারা গিয়েছেন এবং যমরাজের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।এদিকে চিত্রগুপ্তেরও ডাক পড়েছে।কিন্তু পক্ককেশ পাকা দাড়ি চিত্রগুপ্ত তাঁর জাবদা খাতা দেখে জানান এ লোক সে লোক নন।তবে ভুল কোথায়! সবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।চিত্রগুপ্ত যম দূতদের বলেন তৎক্ষণাৎ অভিরামবাবুকে মর্ত্যে ফিরিয়ে দিতে হবে।ভুল ধরা পড়ল যখন জানা গেল,মর্ত্যের মত সব জায়গায় অনভিজ্ঞ চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী রাখা হচ্ছে।সেই ব্যক্তি স্বল্প শিক্ষিত।তিনি সবটা খেয়াল না করে চিরকুটে লিখে দিয়েছিলেন ৪২,ওটা হবে ৮২।চিত্রগুপ্ত অভিরামবাবুকে জানান মর্ত্যে তাঁর ১১.৫০ টাকা পাওনা আছে।যতদিন না তিনি সে টাকা ফেরত পাচ্ছেন ততদিন তিনি মরতে পারবেন না।অভিরাম বাবু স্বর্গপুরীর অনেক গল্প শুনেছেন।তিনি আর রোজকার তেল,নুনের হিসেব আর গিন্নীর খিটখিটের মাঝে মর্ত্যে ফিরতে চান না।কিন্তু তা বললে শুনছে কে!যমালয়েরও কিছু আইন-কানুন আছে। এদিকে অভিরামবাবু আবার দেহ ধারণ করেছেন।সমবেত লোকজন তা দেখে স্বাভাবিকভাবেই পগার পার।অভিরাম বাবু মাথা চুলকেও মনে করতে পারছেন না কার কাছে তাঁর ১১.৫০ টাকা পাওনা আছে।মোবাইলের দোকানে গিয়ে খোকনকে জিজ্ঞেস করতেই সে কোনো মতে পাওনা নেই বলেই ভয়ে ঝাঁপ নামিয়ে দেয়।ওষুধের দোকানদারও একই ভূমিকা নেন।মুদিখানার দোকানদার রতুকে অনেক কষ্টে বোঝাতে সক্ষম হন তিনি ভূত নন, তিনি জীবিত।কিন্তু ততক্ষণে রতুর দাঁত-কপাটি লেগে গিয়েছে। বাড়ীতে ফিরেও এক অবস্থা।কেউ দরজা খোলে না।শেষে গিন্নীকে একটা দামি শাড়ির টোপ দেওয়াতে দরজা খুললে, তিনি বোঝাতে পারেন তিনি মারা যাননি।এদিকে দিন চলে যায়।তিনি কিছুতেই জানতে পারেন না,কোথায় তাঁর পাওনা আছে।মনে অস্বস্তি চলতে থাকে।প্রত্যহ নানা জায়গায় খোঁজ নেন।গিন্নীও স্বামীর নব জন্ম হওয়ায় তাঁকে আর খিটখিট করেন না।এদিকে গিন্নী যম পুরীর কোন ঘটনাই জানেন না।একদিন তিনি দিবা নিদ্রা দিচ্ছেন মনে করে গিন্নী পাশের বাড়ীর রমলা বৌদিকে একটা শাড়ী দেখিয়ে গল্প করছেন যে,ভাই চারদিকের যা পরিস্থিতি দোকান বাজার যাওয়া তো বন্ধই হয়ে গিয়েছে।তাই অনলাইনে এই শাড়ীটা কিনেছি।ডেলিভারি চার্জ নিল ১১১.৫০টাকা।কর্তাকে না বলে কোনদিন একটা টাকাও এধার ওধার করিনি।কিন্তু এই মাগ্গি গণ্ডার বাজারে চাইতে কেমন লজ্জা করল।তাই ১১.৫০ টাকা ওনার পকেট থেকেই দিলাম।আঁতকে উঠলেন অভিরামবাবু।ভাবলেন যমরাজ শুনতে পেলেন না তো!পরক্ষণেই ভাবলেন এই টাকা তো পাওনা নয়,এই টাকার উপর স্ত্রীর অধিকার আছে।তিনি জানেন যে এই টাকা তিনি কোন দিনই ফেরত পাবেন না।একেই যদি চিত্রগুপ্ত পাওনা বলেন,তবে এজন্মে আর তাঁর মৃত্যু হল না।মনের ভার লাঘব হয়েছে এতদিনে।জোরে জোরে নাক ডাকতে লাগলেন অভিরাম বাবু।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।
ছবি সৌজন্য--গুগুল
রবিবার, ২ মে, ২০২১
# বিষয় - আধ্যাত্মিক। # নাম- সীতার সহিষ্ণুতা। ✍ মৃদুল কুমার দাস।
শনিবার, ১ মে, ২০২১
# নাম- জৈব অস্ত্র ও করোনা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১
# একরুম ফ্ল্যাট # শর্মিষ্ঠা ভট্ট
সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১
#নাম-নষ্ট মেয়ের গদ্য কথা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১
# অনুগল্প : টুসি।। # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।।।।
বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১
শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১
তাজমহল--অন্য চোখে(সুদেষ্ণা দত্ত)
তাজমহল--অন্য চোখে
সুদেষ্ণা দত্ত
ভালবাসা কোন বাদশাহী ফরমান নয়—সে নিষেধ জানে না মানার।সাধারণ মানুষের মত বাদশা-বেগমদের জীবনেও কখনও তাজমহলের শ্বেত শুভ্র মর্মরের মত আসে পবিত্র প্রেম।কখনও যমুনার দূষণের মতই প্রেম হয় কলুষিত।তাজমহল—একদিকে যার স্থাপত্য শৈলী ভারতবর্ষের ইতিহাসকে অতিক্রম করে বিশ্বইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।আবার অন্যদিকে যার গম্বুজ,মিনার হাহাকার করে শোনায় অমানবিক যন্ত্রণার গাথা,ধ্বনিত হয় নারকীয় ইতিহাস। জীবদ্দশায় মমতাজ মহলের অধিকাংশ বসন্ত কেটে গিয়েছে কচি পাতার জন্মে প্রসব বেদনায়—আঁতুর ঘরে,আবার স্বামীর প্রতি নিবেদিত যৌবনার জীবনের পাতাও ঝরে গিয়েছে বসন্তের মত ।প্রেমের সময় কেটেছে গ্রীষ্মের ফুটিফাটা জমিকে বৃষ্টির ঊষরতায় ভরিয়ে দিতে।আর মৃত্যুর পর পুজো কেন কর,যদি বেঁচে থাকায় মর্যাদা দিতে না পার!মমতাজমহল কি দেখে গিয়েছিলেন তাঁর প্রেমের সৌধ!তবে কিসের এত আড়ম্বর!প্রায় আঠাশ ধরনের মহামূল্যবান পাথর ও সাদা মার্বেল পাথরে তৈরী হয়েছে তাজ।এর সঙ্গে আছে খোদাই করা রঙিন মূল্যবান পাথর।সম্রাট শাহজাহান যা পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।স্থাপত্যের নক্সা ও কৌশলে অনুসৃত হয়েছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রক্রিয়া।সকাল—সন্ধ্যা—পূর্ণিমায় রাজপ্রেমিকের মতই বদলে যায় তাজমহলের রূপ। কাটা পড়ছে শিল্পীর আঙ্গুল।ইটের পাঁজরে কাঁদছে ইতিহাস।জীবনের গোধূলিবেলায় বন্দী প্রেমিক নির্নিমেষ তাকিয়ে আছেন প্রেয়সীর সমাধি ক্ষেত্রের পানে।আকাশের নীল,যমুনার নীল তাজমহলের শিরায়—ধমনীতে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিরহ বিষাদের,প্রেম—অপ্রেমের নীল গরল।বর্ষা—বসন্তেও এক অনন্য সাধারণ দৃশ্যপট আকাশ ও জলের বুকে রচনা করে তুলে ধরে প্রেমিকের বুকের বিরহের আকুতি।প্রেম মানে তো বিচ্ছেদ—বিরহও।তাই এই তাজমহল কোথাও স্থাপত্যের প্রাচুর্যের আশীর্বাদ।কোথাও শিল্পীর,প্রেমিকার জীবনের অভিশাপ।কিন্তু তবু প্রেমিকের মুখে বুঝি ধ্বনিত হয়— “স্মৃতিভারে আমি পড়ে আছি,ভারমুক্ত সে এখানে নাই।” এখানেই বুঝি শিল্পের জয়,প্রেমিকার জয়।এ সৌধ বুঝি বাদশার দম্ভেরও।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত
ছবি সৌজন্য--গুগুল।
মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১
# নাম- 'মহাকাশ'। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
পঞ্চভূতের( ক্ষিতি,অপ,তেজ,মরুৎ ও ব্যোম) ব্যোম বা আকাশ একটি অন্যতম সদস্য। আকাশের রঙ লীল। আসলে ইথারকণার সমুদ্র। বায়ুমন্ডলের পর পর ক'য়েকটি স্তর আছে। যেমন- গ্যাসীয় উপাদানের উপর ভিত্তি করে বায়ু স্তর দুটি - হোমোস্ফিয়ার ( এখানে গ্যাসীয় উপাদানের নির্দিষ্ট একটির ঘনত্ব বেশী,যেমন অক্সিজেন,কার্বনডাই অক্সাইড) ভূপৃষ্ঠের থেকে শুরু। অন্যটি স্ট্রেটোস্ফিয়ার - এখানে বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান থাকে।
গ্যাসীয় উপাদানের এই দুটি স্তর আবার তাপমাত্রা অনুযায়ী ছ'টি স্তর। যথা পর পর উর্ধগামী স্তরের শেষ স্তর স্ট্রেটোস্ফিয়ার,যাকে বলে তড়িৎচুম্বকীয় স্তর। আর এর পরের আকাশ সীমাহীন অনন্ত। অনন্তের লীলা। মহাবিশ্বের লীলা। আদি অন্তহীন। তাই বিগ ব্যাং। অনন্ত অন্ধকার। এই অন্ধকারের মাঝে গ্যালাক্সি ( গ্রহ, উপগ্রহ,নক্ষত্র) তে এক এক গ্রহ নক্ষত্রের ভর থেকে কত ধরনের শক্তি তৈরি হচ্ছে,বিশেষ করে যার ভর বেশী তার শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বেশী, আকর্ষণ বলও তেমনি হয়। তবে শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়ে গেলে কেবল বিপুল ভর নিয়ে অবস্থান করে,তাই ব্ল্যাক হোল। কোনো নক্ষত্র মহাকাশে ব্ল্যাক হোল হওয়া মানে তার আকর্ষণ বলের আয়ত্বে এলে সে মুহূর্তে তাকে গিলে ফেলে। কারো রেহাই নেই। এমনকি দুটি ব্ল্যাক হোল যদি সংঘর্ষ ঘটে তখন কি হবে? মহাকাশের গ্যালাক্সিতে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৩০কোটি আলোকবর্ষ দূরে, ১৩০ কোটি বছর আগে। অঙ্ক কষে তাই নিখুঁত হিসেব বেরিয়েছে। কী ঘটেছিল তখন?
একটি ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের ভর সূর্যের ২৬ গুণ বেশী,ব্যাস ১৫৬ কিলোমিটার। আরেকটি সূর্যের ৩৯ গুণ বেশী,তারও ব্যাস ২৩৪ কিলোমিটার। দু'জনের সংঘর্ষ ঘটেছিল এক সেকেন্ডের এক পঞ্চমাংশ সময়ে। এর ফলে ভর দাঁড়িয়েছিল সূর্যের ভরের ৬১ গুণ বেশী,আর ব্যাস ৪০০কিলোমিটার। হিসেব বলছে সূর্যের ভরের ৬৫ গুণ বেশী শক্তির ৪গুণ বেশী শক্তি গেল কোথায়? সেই শক্তি মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই যে দুই কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ ও এক হওয়ার দৃশ্য কেমন ছিল আমাদের অনুমানেও কুলোয় না।
এমনকি আস্ত সূর্যও ব্ল্যাক হোল-এর পেটে চলে যেতে পারে। আবার সূর্যও সব শক্তি হারিয়ে ব্ল্যাক হোল এ পরিণত হতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে সূর্যের আগের থেকে শক্তি অনেক হ্রাস হয়েছে। সূর্যের জ্বালানি হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম ও হিলিয়াম থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদনের মাধ্যমে যে শক্তি মহাকাশে ছড়ায় সৌর পরিবারের সদস্যরা যে যার দূরত্ব অনুযায়ী ভাগীদার হয়। এই শক্তি মহাকাশে মহাকর্ষ তরঙ্গের মাধ্যমে সূর্য তার পরিবারকে শক্তি যোগান দেয়। এতো শুধু সূর্যের কর্মের কথা বললাম। অগণিত নক্ষত্রের কত লীলাই না হচ্ছে অনন্তে,আকাশ পেরিয়ে। অনন্ত বা বিগ ব্যাং নিয়ে ধারনা করতেই মাথা বেবাগ হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক গবেষণায় ধরা পড়েছে বিগ ব্যাং-এর যে গ্যালাক্সি অংশ থেকে যে নানা শক্তি উৎপাদিত হচ্ছে তার পরিমাণ মহাবিশ্বের কাছে মাত্র পাঁচ শতাংশ। অর্থাৎ বিগ ব্যাং-এর দৃশ্যমান গ্যালাক্সি মাত্র পাঁচ শতাংশ,বাকি পড়ঁচানব্বই শতাংশ অন্ধকার। তাহলে সহজেই অনুমেয় এই বিগ ব্যাং হল মহাবিস্ময়াতীত।
*********
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১
# বিষয় - পত্র। # নাম- স্বপ্ন। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
প্রিয়,
শূদ্রক,আশা করি ভাল আছিস। এই তো গত দু'দিন আগে তোকে পত্র লিখলাম। তুইও উত্তর দিলি। এখন সোস্যাল মিডিয়ায় পত্র লেখা খুব সুবিধা হয়েছে। যোগাযোগ নিমেষে হচ্ছে। তোকে বলেছিলাম না,ইদানিং আমার স্বপ্ন দেখার একটা কেমন একটা যেন অভ্যাস হয়ে গেছে। স্বপ্নে মন নাকি ভিন্ন হয় বলে শুনেছি। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উল্টো। যতসব উদ্ভট স্বপ্ন। মন ভাল করবে কি উল্টে খারাপ হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে স্বপ্নের মধ্যে শরীর শূন্য লাগে। ভূত,রাক্ষস-খোক্কস,জন্তু-জানোয়ার - সবাই যেন আমাকে গ্রাস করতে তেড় আসে। স্বপ্ন মনকে ফুরফুরে করবে কি এত দেখছি রীতিমত মনের উপর চাপ! স্বপ্নের জন্য জীবনকে বোঝা লাগছে। কোথায় ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখটাকার স্বপ্ন দেখব,হাওয়ায় খপাখপ টাকা ধরব,হাওয়ায় টাকা বানাব,জাদুগরের মত। এই ভাবতে ভাবতে একদিন তো স্বপ্নে এসেই গেল,তোকে বলা হয়নি,ভুলে গেছি বলতে,সে এক মাতালের পাল্লায় পড়েছি। বলে কিনা - " মদ খাব,পয়সা নেই। হাওয়া থেকে পয়সা ধরে দাও। তুমি তো জাদুগর। সেদিন তো হাওয়াতে টাকা তৈরী করে খপাখপ ধরছিলে। আজ মদ খাব টাকা দাও। পড়লাম মহাফাঁপরে। আর সরে পড়তে গেলে বেদম মার খাওয়াও ছিল। ঐ একদিন। কবে সে আর মনে নেই। তবে আজও ঐ অপ্রস্তুত অবস্থার ধরন মনে করলে হেসে মরি। বাদ দে সেসব। এখন যে সমস্যার জন্য লেখা,গতকাল স্বপ্ন হলেও বাস্তব সত্য ও তা থেকে নিরুপায় লাগছে বড্ড! স্বপ্নে দেখা দেশে হাজির। স্বপ্ন হলেও সত্যি। কোনো অভাব নেই,কিন্তু এই একটাই অভাব সবচে ছাপিয়ে আমাকে খুব চিন্তায় ফেলেছে। সব পেয়েছির দেশ,এমন স্বপ্নের দেশ। কিন্তু আমি অস্থির চিন্তায়। এখানকার ভাষা একটুও বুঝতে পারছি না। কি করা যায় বলতো। এখুনি বল। আমার বোন পিউয়ের পরামর্শ নিতে বলল "দাদা,দেশটার নাম কী? বলুন। তাহলে ভেবে দেখব।" "বলতে বলতে নেট গেল কেটে। আই এস ডি কলের ক্যাপাসিটি শেষ। তোকেও ফোন করব সে উপায় নেই। কি কিম্ভূত কিমাকার এদের ভাষা। স্বপ্নও যে এমন নিষ্ঠুর হয় এই মুখোমুখি হলাম প্রথম। তা বলে ফেললি তো ফেল এক বিদঘুটে দেশে। কি সব বিচিত্র নিয়ম এখানকার। কার কাছে যে উপায় হয়। ইংরেজি ভাষা এখানে বললে শূলে চড়িয়ে দেবে। ভোলাপুক বা এসপারেন্ত ভাষার এরা নামও শোনেনি। কি তাজ্জব জায়গা রে বাবা!তো পরামর্শের অপেক্ষায় থাকলাম।
এমন অবস্থায় তুই পড়েছিলি বলে একদিন অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলি। কিন্তু তারা তো ইংরেজি বিকল্প হিসেবে চল ছিল। কিন্তু এখানে তা নেই। তাই মহাফাপর। অঙ্গভঙ্গি করেও যে বোঝার সে উপায়ও নেই। ভয় হয়। কোন অঙ্গভঙ্গির কী মানে করে। শেষে না উগ্রপন্থী ভেবে না লাশ করে দেয়। এমন উদ্ভট দেশ স্বপ্নে দেখেছিলাম,স্বপ্নই সেই সাধ পূরণ করল,তবে চাওয়ার সম্পূর্ণ বিপরীতে,যা আমার জীবনের জেরবার অবস্থা। মোটামুটি টিকে থাকার অবস্থা।"
******
এক সপ্তাহ পরে শূদ্রকের পরামর্শ পৌঁছল। তার পরামর্শ ছিল "তোর কাছে যাচ্ছি। ঐ দেশের ভাষা আমার জানা। ততক্ষণ তুই কোথাও বেরোস না। কেউ কিছু বললে,ইঙ্গিতে ভি আকারে দুটো আঙুল দেখা। ওরা ওটা খুব বোঝে। ওটার মানে আমি ভিন দেশী। তোমাদের অতিথি। তখন ওরা তোর প্রতি খুব দরদী হবে। আপ্যায়ন করবে।"
যেমন বলা তাই করা। আর অমনি সব ঠিকঠাক হয়ে গেল। যেন শূদ্রক আলিবাবা,আমার অবস্থা কাশিমবাবার মত।
ব্যাস স্বপ্ন শেষ। ঘুম ভেঙে বিছানায় চিৎ, পাখা বনবন ঘুরছে। আর বউ উঠে যেতে যেতে বলছে দুধের সঙ্গে একটা চারশ' ওজনের টক দইয়ের প্যাকেট নিও। বিরিয়ানি হবে। নীচে পেপারওয়ালা হাঁক - বর্তমান...
কোথায় স্বপ্ন, আর কোথায় আমি পদ্মপুকুর এলাকার স্বপ্নবিলাস সাধুখাঁ। এই গত রাতের স্বপ্নের অভিজ্ঞতার কথা তোকে জানালাম। উত্তর দিস।
ইতি
তোর স্বপ্নবিলাস।
***********
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল দাস।
বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১
# ওয়ান ড্রপ ওনলি # শর্মিষ্ঠা ভট্ট
মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১
# নাম- মানুষ ও ধর্ম। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০২১
# নাম- বৈষম্য। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ, ২০২১
বুড়ির বাড়ী # শর্মিষ্ঠা ভট্ট
বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১
ব্যাকট্রিয়া # শর্মিষ্ঠা ভট্ট
শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস
শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...
-
ঘোষ বুড়ী ©সুদেষ্ণা দত্ত গ্রামের নাম সুন্দরগ্রাম--বাংলা মায়ের কোল ঘেঁষা সুজলা,সুফলা,শান্তির নীড় ঘেরা এক গ্রাম।গ্রামের অধিকাংশ লোকই কৃষি...
-
আমার অকাজের লিস্টি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস ২০২৫ এ পড়ে ফেলা বইগুলোর তালিকা তৈরী করেই ফেললাম। ভিন্ন স্বাদের সব বইগুলো। মন ভালো করে দেয়। তালিকা...
-
অণু গল্প ----সাথী হারা। কলমে-- পারমিতা মন্ডল। দীঘার সমুদ্রে একা একা হেঁটে চলেছে সৈকত । এই বালুকাবেলায় , রামধনু রং আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা বড়...






