শনিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২২

মন ছুঁয়ে যাওয়া কিছু গল্প

 ব্রিচ ডেলিভারি
✍️ডা: অরুণিমা দাস


আজ থেকে বছর তিনেক আগেকার ঘটনা, তখন গাইনি তে হাউস স্টাফ শিপ করছি। লেবার রুম সরগরম থাকে সবসময়,তারপর টার্শিয়ারি সেন্টার বলে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নরমাল ডেলিভারির কেস অবদি রেফার হয়ে আসতো। একদিন ডিউটি করছি, হঠাৎ এক আশা কর্মী রুদ্ধশ্বাসে দৌড়তে দৌড়তে হাজির আমার কাছে। এসে কোনো রকমে একটু স্থির হয়ে বললো ম্যাডাম একজন প্রসূতি মাকে নিয়ে এসেছি, বাচ্চা উল্টো হয়ে আছে। হেলথ সেন্টারের লোকেরা বুঝতে পারেনি, তাই রেফার ও করেনি। আজ সকালে ইউ এস জি করার পর বোঝা গেলো বাচ্চা উল্টো আছে আর সকাল থেকে বাচ্চা নড়ছেনা বেশি। খুব ভয়ে আছে বাড়ীর লোকেরা। শুনে বুঝলাম ব্রিচ বেবী আছে। একটুও দেরী না করে বললাম নিয়ে এসো প্রসূতি কে। 
নিয়ে এসে ভর্তি করা হলো প্রসূতি মা কে। তারপর পরীক্ষা করে দেখা গেলো সত্যই বাচ্চার পা নিচের দিকে আছে। জন্মদ্বার খুলে গেছে, আর বাচ্চা কিছুটা নেমেও এসেছে। সেই মুহূর্তে সিজার করা অসম্ভব ব্যাপার। সিনিয়র কে ফোন করায় বললো ফাইনাল ইয়ারে ব্রিচ ডেলিভারি পড়েছিলে তো? আমি বললাম হ্যাঁ, কিন্তু সেটা তো থিওরী, আর আজ তো প্রাকটিক্যাল। সিনিয়র বললো আমার আসতে এক দেড় ঘণ্টা লাগবে। তুই ব্রিচ ডেলিভারি কর। আমার তো ভয় লাগছে ভালোই, প্রকাশ তো করা যাবে না পেশেন্ট পার্টির কাছে। 
প্রসূতি কে স্যালাইন আর প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে ফিল্ডে নেমে পড়লাম। সাথে সহকারী হিসেবে সিস্টার দিদিকে রাখলাম। একে একটা নতুন কাজ তার ওপর মাথার ওপরে কেউ নেই। প্রসূতি মা কে বললাম যখন বলবো নিচের দিকে চাপ দিতে,দেবে তখন। সে তো তখন যন্ত্রণায় কাহিল আর প্রচন্ড ঘামছে। আমিও ঘামছি,কিন্তু সেটা ভয়ে। যাইহোক পরের একঘন্টার চেষ্টায় সফল হয়ে ব্রিচ ডেলিভারি করলাম আর মেয়ে হয়েছিল,যায় ওজন ২.১ কেজি ছিল। আর মেয়ের মা আমার হাত ধরে বলেছিল আমাকে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিলেন, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে দিদিমণি। আগে যেখানে ছিলাম,সেখানে কেউ দেখছিল না আমায়। আমি যন্ত্রণায় ছটফট করছিলাম। একটা সময় মনে হয়েছিল আর বোধহয় পারবোনা জীবিত বাচ্চা জন্ম দিতে। কিন্তু ভগবান আছেন দিদিমনি। উনার ইচ্ছায় আর আপনাদের চেষ্টায় আমার মেয়ে পৃথিবীর আলো দেখতে পেলো। আপনাদের সবার ভালো হোক। আমি তখন কপাল বেয়ে নেমে আসা ঘাম মুছতে মুছতে বললাম তোমাকেও অনেক শুভেচ্ছা, তোমার জন্য আমি আনকোরা একটা প্রসিডিওর করে ফেললাম তাও সিনিয়র ছাড়া। 
ভালো থেকো, মেয়েকে ভালো করে মানুষ করো। আর গম্ভীর গলায় বললাম মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ো অনেকদূর, তোমার মত কম বয়সে বিয়ে দিয়ে দিও না। সলজ্জ হেসে মেয়ের মা বললো হ্যাঁ দিদিমণি, মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করার চেষ্টা করবো। পরে ওর বাড়ির লোক আমাদের সবাই কে মিষ্টি আর সিঙ্গারা খাইয়েছিল। বেশ ভালো লেগেছিলো আমাদের সকলের, আর সিনিয়র ও সেই খাবারে ভাগ বসিয়েছিল যদিও সে সশরীরে উপস্থিত ছিলো না ডেলিভারির সময়ে,কিন্তু মানসিক কাঠিন্য বজায় রাখতে যথাযথ সাহায্য করেছিল।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে😊

বিষয় - চিত্রালোচনা


 নাম -আনন্দাশ্রু
✍️ডা: অরুণিমা দাস

 
হোয়াট ইস দিজ?রিমো কে বললো মা!! এই রেজাল্টের ছিরি তোমার?? কোনো সাবজেক্টে সিক্সটি পার্সেন্ট অবদি পাওনি। ক্লাস ফোরে এরকম রেজাল্ট নিয়ে কোন স্কুল তোমায় ক্লাস ফাইভে চান্স দেবে শুনি?? কিছু হবে না তোমার দ্বারা। না ম্যাথস ভালো পারো, না তো হিস্ট্রি, জিওগ্রাফি। তোমার ফিউচার যে কতটা নড়বড়ে সেটা এখন থেকেই বুঝতে পারছি আমি। মাথা নীচু করে কথা গুলো শুনছিল রিমো। পড়াশুনো পারুক না পারুক, একটাই ভালোগুন ওর, কোনোদিন বড়োদের মুখের ওপর কথা বলেনি।।
      এত বকাবকি শুনে পাশের ঘর থেকে ঠাকুমা এসে বললো আহ বৌমা,এটা তো ওর হাসি খেলার বয়েস, সব সময় পড়াশুনো, রেজাল্ট নিয়ে ওকে বকাবকি করো না। বাধ্য মেয়ে ও,একদিন নিশ্চই ভালো রেজাল্ট করবে। রিমোর মা বলেন আপনার আদর পেয়েই মাথায় উঠছে ও। ঠাকুমা বললেন সে যাই বলো তুমি, ছোটবেলার এই রেজাল্ট নিয়ে ওর ভবিষ্যত নিয়ে তুমি মন্তব্য করতে পারো না এভাবে। 
রিমো নিজের ঘরে গিয়ে বই খাতা গুলো খুলে বসে। 
রেজাল্ট খুবই খারাপ হয়েছে, মন টা তারও বেশ খারাপ। যাইহোক এই রেজাল্ট নিয়েই যে স্কুলের প্রাইমারী তে পড়েছে, ওই স্কুলের ই হায়ার সেকেন্ডারি তে ভর্তি হলো কোনো রকমে। 
     হেড মিস্ট্রেস ডেকে বললেন এরকম পুওর পারফরম্যান্স হলে কিন্তু তোমায় প্রত্যেক ক্লাসে এক বছর করে থাকতে হবে। রিমো তখনও চুপ, বড়োদের মুখের ওপর কথা বলতে নেই, ঠাকুমা এই শিক্ষাই দিয়েছেন তাকে। বাড়িতে বাবা মা ব্যস্ততার জন্য বেশি সময় দিতে পারেন না। পড়াশোনার বাইরে ঠাকুমা আর ভাইয়ের সাথেই সময় কাটে ওর।  ক্লাস ফাইভের অ্যানুয়াল পরীক্ষায় মোটামুটি পাস করলো, ফোরের চেয়ে একটু ভালো রেজাল্ট হলো। ক্লাস সিক্সের হাফ ইয়ারলি এক্সামে আবার শেষের দিকে রাঙ্ক। বাড়ীতে যথারীতি আবার একপ্রস্থ বকুনি। বাবা মা হাল ছেড়েই দিয়েছিলেন। শুধু ঠাকুমা আর রিমো হাল টা ছাড়েনি বোধহয়।
ক্লাস সেভেনে যখন উঠলো, একটু একটু বুঝতে শিখল রিমো। বুঝে পড়তে হবে, শুধু মুখস্থ করলে হবে না। একটু একটু করে পড়া গুলো আয়ত্ত করতে শুরু করলো। নিজেই পড়ে, কোন টিচার নেই। স্কুলের পড়াগুলো মন দিয়ে শুনতে লাগলো, বোঝার চেষ্টা করতে লাগলো। বুঝতে না পারলে ক্লাসের শেষে টিচারকে জিজ্ঞাসা করতো। এভাবে চলতে চলতে ক্লাস সেভেন থেকে এইট, এইট থেকে নাইনে উঠলো রিমো। একটু বেটার রেজাল্ট হলো অ্যানুয়াল পরীক্ষায়।
             ক্লাস নাইন, বাড়িতে বললো সবাই যে নাইনের রেজাল্ট ভালো না হলে ক্লাস টেনের টেস্ট এক্সামে বসতে দেবে না। নাইন দুজন শিক্ষক রাখা হলো। চারপাশের বন্ধুদের দেখে রিমো বুঝতে পেরেছে ততদিনে যে পড়াশোনা টা আয়ত্তে আনা খুব কঠিন নয়। স্কুলে ও বাড়িতে শিক্ষকদের সাহায্যে বেশ ভালো উন্নতি হতে লাগলো পড়াশোনায়। হাল কিন্তু ছেড়ে দেয়নি কখনো সে। ক্লাস টেন পাস হয়ে গেলো ৮৭ শতাংশ মার্কস নিয়ে।
               ক্লাস ইলেভেনে উঠলো, সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হলো। মা তো কোনোদিন ভাবেননি যে তার মেয়ে সায়েন্স নিয়ে পড়তে পারবে। যাইহোক পড়াশোনা চলতে লাগলো। সাথে আবার জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামের প্রস্তুতি। ক্লাস টুয়েলভ এও উঠে গেলো রিমো। না এবারে আর টেনে টুনে নয়, সেকেন্ড র‍্যাঙ্ক করে। মায়ের চোখের কোনায় জল দেখেছিল সেদিন,আনন্দের না অনুতাপের সেটা বোঝেনি রিমো। তারপর এলো সেই দিন যেদিন বহুদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আর বহু প্রতীক্ষিত জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামের ফল ঘোষণা হলো। রেজাল্ট দেখতে মা নিজে গেছে ক্যাফে তে। রোল নম্বরটা পুট করলো ক্যাফের লোকটি। র‍্যাঙ্ক শো করলো মেডিক্যাল -৩৪৫ ইঞ্জিনিয়ারিং - ৬৪৮।সেদিন আর মায়ের চোখের জল বাঁধ মানেনি, শুষ্ক মরুভূমিতে বৃষ্টির ধারার মত বেয়ে পড়েছিল। ঠাকুমা সেদিন খুব খুশি ছিলেন, মা কে বলেছিলেন তোমাদের মত পড়াশুনো জানিনা বাবা, কিন্তু এটুকু বুঝি যে বাচ্চাকে নিজের মতো করে বড়ো হতে দেওয়া উচিত, সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক গুছিয়ে নেবে সে। মা সেদিন চুপ করে শুনেছিল। তারপর থেকে মা কোনোদিন পড়াশুনো নিয়ে রিমোকে বকাবকি আর করেননি, হয়তো আর বকার প্রয়োজন পড়েনি। সেদিনের ঘটনা মনে পড়লে আজও রিমোর চোখ ভিজে ওঠে। সম্ভবত সেটা আনন্দেরই অশ্রু।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে।
--- ©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২

প্রজাতন্ত্র দিবস

  প্রজাতন্ত্র দিবস
✍️ডা: অরুণিমা দাস


আজ যে প্রজাতন্ত্র দিবস,২৬ শে জানুয়ারির শুভেচ্ছা জানাই
উঠেছে সেজে যে চারিদিক তিন রঙ্গা পতাকায়।

আকাশ বাতাস মুখরিত হচ্ছে বন্দেমাতরম ধ্বনিতে
পথ ঘাট যে সরগরম,সকলে চলেছে প্রভাতফেরিতে।

দিল্লীর সুশোভিত ইন্ডিয়া গেট, কুচকাওয়াজে ব্যস্ত সেনাবাহিনী
প্রশস্ত রাজপথ সুসজ্জিত হয়েছে,সাথে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার প্রদর্শনী।

রাষ্ট্রের মহিমা প্রচারে সচেষ্ট সবাই,এগিয়ে চলে সাঁজোয়া গাড়ী
সংস্কৃতিমান ভারতের আরও উন্নতি হোক,এই কামনা সবারি।

প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভ সকালে আমরা ভারতে সুনাগরিকরা
সুচারু, সুনিপুণ ভাবে হয়ে যাই বাধ্য প্রজারা।

--- ©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২

# বিষয় - অনুগল্প সঙ্কলন। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।


 #বিষয় - অনুগল্প।
   #নাম - ফেরিঘাট।
              ( ১)

      ভুতুনাথ বর। ঘাটের মাঝি। তার নৌকোয় উঠে একদিন জানতে চেয়েছিলাম এই ফেরিঘাটের মাঝিগিরি তাদের কত বছরের। আমি এক অচেনা যাত্রী বলে কিছুতেই বলতে চায়নি। আমি একজন লেখক জেনে এই ব্যাপারে কিছু তথ্য জানতে চাই বলায় সে যা বলল অবিশ্বাস্য।
 এই নৌকা নিয়ে পেশা কত পুরুষ সেই প্রশ্নের জবাবে ভুতুনাথ বলতে পারবে না,কারণ তার বাবা বলতে পারেনি, বলে যাননি,তার বাবাকে তার বাবা বলে যায়নি। জিজ্ঞেস করার উত্তরে ভুতুনাথ বলে- "একবার বন্যায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যায় ঘর সংসার পরিবার। সে এক অন্য মুলুকে। তাদের এক পুরুষ ভাসতে ভাসতে এই নদীর পাড়ে এসে ঠেকছিলেন। ঘাটের এই বটতলায় এক কাপালিকের শুশ্রুষায় ত়াঁর জ্ঞাণ ফেরে। কাপালিকের সে কি ভয়ঙ্কর রূপ!  মায়ের নামে নরবলী দিতেন একসময়। বয়সকালে সেই স্বভাব ছেড়ে সাধন ভজনে বশ হন। ধীরে ধীরে কাপালিক রূপ ছেড়ে সাধু হয়ে ওঠেন। মৃত্যুকালে তিনি বর দান করে যান বেটা এই ফেরি ঘাটে তোরাই বংশ পরম্পরায় নৌকা ফেরি করে মানুষ এপার ওপার করবি। কেউ তোদের পেশায় হস্তক্ষেপ করলে বা তোদের হটিয়ে ফেরিঘাট দখল করতে এলে তারা নদীর স্রোতের ঘোলে পড়ে সমূলে ধ্বংস হবে। আর এই স্থানে দু'পারের যোগাযোগের জন্য সেতু গড়তে চাইলে তা কোনোদিন হবে না। বহু প্রাণ যাবে। হয়েছেও তাই। এখনো সেই সাধুবাবা ঐ স্রোতেই লুকিয়ে আছেন। বাইরের কোনো নৌকো অজান্তে স্রোতের ঘোলে পড়লে বদর বদর আর সাধুবাবার নাম নিয়ে উদ্ধার পায়। উদ্ধার পেয়ে মায়ের নামে ও বাবার নামে পূজো দিয়ে যায়। বিপদে না পড়লেও সকলে নদীপথে যাওয়ার সময় বাবার ও মায়ের নামে পূজো দিয়ে যাবে। অনেকের তাড়া থাকলে আমাকে পয়সা গোত্র একটা কাগজে লিখে দিয়ে যায়। পুরুত ঠাকুরকে দিয়ে দিই। তিনি পূজো দিয়ে দেন। তবে হ্যাঁ মন্দিরের পুরোহিত, আর ফেরিঘাটের মাঝি হিসেবে কেউ আমাদের হটাতে পারেনি। একবার হটাতে গিয়ে হাড়ে হাড়ে টেরও পেয়েছে। প্রমাণ এই নদীর উপর দিয়ে সেতু তৈরী করতে গিয়ে সফল না হওয়ার ধ্বংস স্তূপ দেখছেন! যারা করার দায়িত্ব নিয়েছিল তাদের বেশ ক'টা শ্রমিক অকালে মরেছে। আবার কারো কারো ঘর পর্যন্ত বিপদ ধাওয়া করে গেছে। তবে যা অনাচার হচ্ছে ভক্তির নামে বাবা সব দেখছেন। এর ফল একদিন ভুগতে হবে।"
    কথা শেষ হতে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠি। মন্দিরে পূজো দিয়ে স্থান ছাড়ি। 
            ******
 
# বিষয় - অনুগল্প।
 #নাম - হৃদয়বতী
                 (২)

    "ও রঞ্জনা তুই দেখনা এই ম্যাঁও বাচ্চা চারটা নিয়ে কি মুশকিলে পড়লাম। মা'এর কোলে শিশু সুন্দর,ছিল এরা বেশ দিব্যি,মা গেল চলে। এদের কষ্ট সামলাই কি করে। একটু হাতে হাত লাগা না।" বাচ্চাগুলো তখন পায়ে পায়ে জড়াচ্ছে।
  "ও রাধু দিদা কি করে এমন হল?" তুলতুলে বাচ্চাদের রঞ্জনার নরম হাতে আদর করতে করতে জিজ্ঞেস করে। বাচ্চারা তখন রঞ্জনার আদরে বিরক্ত হয়ে রাধু বুড়িকে জড়াতে চায়।। রাধিকা বোষ্টমীর কাছে যেতে চায়।
"কি করে বড় রাস্তা পেরতে গিয়ে টোটোর তলায় যাওয়ার পর প্রাণ ধুকপুকানি নিয়ে মা'টা এ পোড়া ভাগ্য বুড়ির কোলে এসে পড়ল। সে কি আকূতিটাই না নিয়ে চোখ চোখ রেখে ইঙ্গিতে বলেছিল বাচ্চারা রইল। ওদের দেখো।" চোখ ছলছল অবস্থা আঁচলের খুঁট তুলে চোখের কোনা শুকনো করেন রাধিকাসুন্দরী ভূঁই। লম্বা চন্দনের তিলক নাকের ডগা থেকে সিঁথি পর্যন্ত। রোগা পাতলা মধ্য চেহারা। ধবধবে ফর্সা। 
  "কৃষ্ণের জীব। হরেকৃষ্ণ। জীব যে ভগবানের অংশ রে রনু। কোলে শেষ জলটুকু এই বুড়ির হাতে নিয়ে গেল। সান্ত্বনাটুকু পেলাম বটে। চোখে জল এসেছিল এই ভেবে এই তো দুপুরে মাছ-ভাত মেখে খাওয়ালাম। বাচ্চাদের দুধ দিচ্ছে দুপুরের রোদ পিঠে মেখে। বাচ্চাদের এ ওর ওপর চাপাচাপি দেখে কি আনন্দ হচ্ছিল। তারই মাঝে ফট করে বাচ্চাদের ছেড়ে গলি পেরিয়ে বড় রাস্তা ডিঙোতে গিয়ে..! যাওয়ার সময় দায়িত্ব সামলানোর মায়ায় জড়িয়ে পড়লাম রে। দেখ রুনু ওদের মায়ের আত্মার স্পর্শ পেলুম বলে আরো কষ্ট হচ্ছে।" চোখে জল চেপে আরো কিছু আপন মনে আনমনা হয়ে সেই বড়   রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকলেন বুড়ি। সেই অবসরে রঞ্জনা ছুট্টে গিয়ে ঘর থেকে লক্ষ্মীভাঁড়টা এনে রাধু বোষ্টমীর হাতে দিয়ে বলল- "এই নাও। কটা দিন কাটাও। আমাদের বন্ধুদের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে তোমাকে সাহায্য করার যতটা পারি করব।" বলে বুড়ির কোমর উঁচু রনো তার রাধু দিদুর চোখের দিকে অম্লান বদনে উপরের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে। বাচ্চাগুলো কি মায়ায় কাঁই কুঁই শব্দে পাক খাচ্ছে। ওদের মা ছেড়ে চলে গেছে, সেই নীরব মায়া রাধু বুড়ির চারধারে ঘুরে। আর রঞ্জনা শুধু আঁকড়ে থাকে রাধু দিদা হৃদয়বতীকে। আর পায়ের নীচে চারটা বাচ্চা পা জড়িয়ে। মায়ায় বশে হৃদয়বতী রাধিকা গুঁই বোষ্টমী এখন সেবায়েত। মায়ার হৃদয়বতী।
        ******

 # বিষয় - অনুগল্প।
  # নাম - অঙ্গীকার।
                 (৩)

       "অঙ্গীরা তুই চোখ মেলে দেখ দুনিয়ার সঙ্। সঙের জোয়াচ্চুরিতে তোরা এক এক ভাবে শিকার। পরুষ একভাবে।" কথাগুলো বলে ওঠে অমর খুব দৃঢ়তার সঙ্গে। অঙ্গীরা হর ফ্যালফেলিয়ে তাকিয়ে থাকে। অম্বরীশ সংক্ষেপে অমর পালই বলে - "অঙ্গী বুঝলি না তো? তাহলে বলি।" 
 অঙ্গীরা বলে - "একটু সহজ করে বললে বুঝতে পারব।" 
 অমর অভিমান করে বলে - "তাহলে বলব না।"
  "না,না বল। এত রেগে যাচ্ছিস কেন? এমনি এমনি বললাম। তবে তোর ঐ অঙ্গীকার সম্পর্কিত রিসেন্ট যে কথাগুলো বলেছিস কিছু কিছু মাথার উপর দিয়ে বেরিয়ে গেছে।" হেসে হেসে বলে। অঙ্গীরা হাসে যেমন তেমনি অমর হাসে। ছদ্ম অভিমান ছেড়ে সাথে সাথে বলে -" বন্ধুত্বের সম্পর্ক এও একধ‍রনর অঙ্গীকার। সেই কবে থেকে মেনে আসছি দু'জনে বলত। সময়ের স্রোতে আরো নিবিড় হয়েছি। এর মূলে অঙ্গীকার ভিত্তি। এই অঙ্গীকারের আর কি বাকি আছে,বাকী থাকবেই তো,নাহলে চলমান জীবনের নিয়ম পরিবর্তনশীল গতিশীলতায় অপেক্ষা করছে নতুন কোনো অঙ্গীকার, নাহলে সম্পর্কের মূল্যবোধ টিকবে না তো!"
   "বল,বল। আমার ধৈর্য্য ধরছে না।" অঙ্গীরা আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকে শোনার জন্য। 
 অমর বলে - "আর এক কাপ চা বল ভোলাদা'কে"
 "ভোলাদা দু'কাপ কফি।" 
 অমর শুরু করে - "কুসংস্কার থেকে বাঁচতে বিজ্ঞান হাত ধরার অঙ্গীকার করতে হয়। তেমনি তোদের জীবনে অঙ্গীকার নিয়ে পদে পদে বাঁচতে হয় - সব যুক্তিতে যেন পুরুষের অধিকার। বিপরীতে তোদের ভাবালুতা নিয়ে চলাটাকে পুরুষের পৌরুষত্ব ভাব জাগায়। এটা একটা সিস্টেমের অঙ্গ। একে ভাঙতে অঙ্গীকার করতে পারলে তবেই ব্যক্তত্বময়ী লাগে তোদের।" এই বলে কফিতে চুমুক দেয় অমর। কাপটা নামিয়ে বড়ই তৃপ্তির ঢঙে বলতে যাবে এমন সময় সৃজনী ও সৌর্য এসে হাজির। সৌর্য বলে - " ভোলাদা আর দুটো কফি। তা তোদের কি নিয়ে এতো গম্ভীর আলোচনা হচ্ছে?" 
অঙ্গীরা বলে - "এই অঙ্গীকার নিয়ে।" 
 সঙ্গে সঙ্গে সৃজনী বলে - "ও তো সুকান্তের অঙ্গীকার! পৃথিবীকে শিশুদের বাসযোগ্য করার দৃঢ় অঙ্গীকারের চেয়ে অত বড় অঙ্গীকার কেউ করতে পারেনি।" 
  অঙ্গীরা বলে - "আমাদের অমর ও সব অঙ্গীকারের ধার ধারে না। নারীবাদী অঙ্গীকার নিয়ে পড়েছে।  নারীর ব্যক্তিত্ব,অধিকার অর্জনের কি তাত্ত্বিক অঙ্গীকারের ঝাঁপি খুলেছে তোরা এলি,এবার শোন।" এই শুনে সকলে হো হো করে হাসতে লাগল।
  অমরকে সাপোর্ট করে সৌর্য বলে - "ঠিকই তো অমর যা বলেছে। আচ্ছা ইন্দিরা গ়াধী অঙ্গীকারে না আবদ্ধ হলে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে পারতেন। অঙ্গীকার সকল বিষয়ের সর্বঘটের কাঠালি কলার মত। রাজনীতিতে মেনিফেস্টো অঙ্গীকার কি নয়। বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক অঙ্গীকার নয়? অঙ্গীকার সকল আশা আকাঙ্ক্ষার আতুড়ঘর। অঙ্গীকার  আমাদের সকলের আইডেন্টিটি।" 
                 *****
 # বিষয় - অনুগল্প।
 #নাম - বিস্ময়াপন্ন।
               (৪)

    "ও বিভূতি যা না বাবা হালদার বাড়ির পূজোটা সেরে আয়।" পুন্নিবালা ভট্টাচার্য্য ছেলেকে কাকুতি মিনতি করে বলেন। "পূজো আমার দ্বারা হবে না।" এতদিন বাবার সঙ্গে যে গেলি কি শিখলি। রামকানাই ওরফে রামু চুপ করে থাকে। "কী রে উত্তর দে।" রামু এড়িয়ে গিয়ে বলে- "বললাম তো আমার দ্বারা হবে না।"  রামকানাই যাবে না বলে মায়ের মুখের উপর বলে দেয়।
  পুন্নিবালা দেবীর স্বামী বিরজা শঙ্কর ভট্টাচার্য রাতে খেয়ে শুয়েছিলেন। আর সকালে লাশ হয়ে ঘর থেকে যখন বেরলেন পুন্নিবালা দেবীর নয়নের জলে ভাসতে ভাসতে বিদায় দিয়ে,শূন্য ঘরে হাহাকার ভর্তি নিয়ে শুরু কপাল চাপড়ায়। রামুকে নিয়ে ভেবে অস্থির হয়। ঐটুকু ছেলে। জীবিকার কি বোঝে। বংশের পেশার কি হবে! আটবছরের ছোট্ট রামুকে নিয়ে কি করে বাঁচবে কূলকিনারা না পেয়ে শুধু হতাশ হয়ে কাঁদে আর কাঁদে। ঘরে দুটো দুধেল গরু। ঝাঁপড়ি আর পাঁপড়ি। মুক পশুও শোকে যেন নিথর। দুটো প্রাণীর পাশে দাঁড়িয়ে দুধটুকু সম্বল দিয়ে সংসার না হয় দেখা গেল। কিন্তু যজমান বাড়ি এতোগুলো কে সামলাবে। 
  "রামু যা বাবা। তোর বাবা যে বই পড়ে পড়ে মন্ত্র শিখিয়ে ছিলেন সেই বই নিয়ে দেখে দেখে মন্ত্র পড়ে পূজোটা সেরে আয়।" 
  "কিন্তু আমার পৈতে হয়নি। রামেশ্বর হালদার জ্যাঠু কি এ পূজো মানবেন মা?" রামু রাজি হয় না।
 "ওরে মানবে মানবে। যা না। গিয়ে দেখ। হালদার দা নিজে এসেছিলেন। বলে গেছেন তোকে যেতে।"
  "না,আমি যাব না। রামু সেই এক গোঁ ধরে বসে। আর পেটে খিদে ডন মারছে। না খেলে এখনি প্রাণ যায় অবস্থার কথা বলে রামু। উঠোনের দাওয়ায় হরিমন্দিরের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আর ভাবে স্কুলে যাওয়ার কী হবে? স্কুল না যজমানী কোনটা সত্য!
 "ঠিক আছে  ঝা়পড়ি দেওয়া এক গ্লাস দুধ খেয়ে নিয়ে যা।" রামু দেখল এতেও হল না এড়ানো গেল না। চুপ করে বসে। এমন সময় হালদার বাবু পাঁচ বছরের মেয়ে শ্রীপর্ণাকে নিয়ে ভটচায্যি বাড়িতে এসে তাগাদা দিলেন। মা মরা মেয়ে। বড্ড মায়াভরা দুটো চোখ। বাপের সঙ্গে রামু কতবার হালদার বাড়িতে গেছে পূজো রীতিরেওয়াজ শিখতে। শ্রীপর্ণা রামু খেলা নিয়ে মেতে। পূজো চলছে,রামু আর নেই। শ্রীপর্ণার সঙ্গে খেলছে। মা মরা মেয়ে। রামুও বেশ মজা পায়।
  "রামু! ও রামু এদিকে আয়।" বলে তারস্বরে ডাকেন পূজারী শঙ্কর ভটচায্যি। হালদার বাবু বলেন - "ও দু'টো খেলছে খেলুক না। কি করতে হবে বলুন।" 
 ভটচায্যি বলেন - "সে কি আর পারবেন। মা ঠাকরুণ কি সুন্দর হাতের কাছে সব সাজিয়ে দিতেন।" বলে চোখ মোছেন। 
  "না, না আমি পারব। কি করতে হবে বলুন।" সহযোগিতার হাত বাড়ায়। পূজো শেষ হলে দু'জনে দেখেন রামু ও শ্রীপর্ণা তখনো খেলে যাচ্ছে আপন মনে। ভটচায্যি ম'শায়ের যাওয়ার সময় হল। রামুকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন। কিন্তু শ্রীপর্ণা বাবাকে বলে - "ও আরেকটু থাকুক না। কাকু বরং চলে যাক। বাবা তুমি ওকে দিয়ে আসবে।" বাবার হাত ধরে অনুরোধ করে শ্রীপর্ণা। 
 হালদার বাবু ও ভটচায্যি ম'শায় অগত্যা রাজী হন,নিরুপায় ভাব করে।
 এই অকালে ভটচায্যি ম'শায় চলে যাওয়ায় দুটি পরিবার আজ কোন দিশা দেখতে চাইছে। শ্রীপর্ণা ও রামু কি শাস্ত্র-সংস্কার না জীবনের দাবি - কি মীমাংসার পথ ধরে যাবে! শ্রীপর্ণাই বা কেন বাপের হাত ধরে রামুর কাছে এলো! রামু কি করবে এবার! হালদার বাবুও তো এতো দুর্বল মন নিয়ে পুন্নিবালা দেবীকে কি বোঝাতে এলেন!  মহম্মদ পর্বতের কাছে এলে পর্বত কি করবে!
                ****
# বিষয় - অনুগল্প।
  #নাম - বিবর্ণ।
               (৫)

       জীবনের পাতা বেশ গাঢ় নীল-লাল-কালো-হলুদে এক বর্ণময় ইতিবৃত্ত নীলেন্দু সরকার ওরফে নীলুদা লিখে যান। যত সময় এগোয়, তত সে সব পাতাও একদিন ধূসর বিবর্ণ লাগে। স্ত্রী শিউলীদেবী নীলুকে তখন বললেন - "বয়স বাড়লে দৃষ্টি ধূসর হয়। বিবর্ণ লাগে। জীবনের পাতাকে বিবর্ণ মনে হয়। তখন ইতিহাস তার পাতা একে একে উল্টে সকল বিরহের বিবর্ণতাকে মুছে দিয়ে সোনা ঝকঝকে লিমার স্বপ্ন তুলে আনে। তাই জীবনের বিবর্ণতার গল্পে বর্ণময়তা আছে,নাহলে এ জীবন তোমার আমার বৃথা।" শিউলীর কথাতেই নীলু যেন ছোট্টবেলার সেই ব্ল্যাকবোর্ডে সাদা চকে কষা অংকে প্রমাণ খোঁজে এক্স ইজ ইকুয়াল টু শূন্য- উত্তরমালায় সেই উত্তরটা অপেক্ষায় থাকে। 
               ****
   #বিষয় - অনুগল্প।
  #নাম - *ফিরে দেখা।*
               (৬)

        বিদেশ বসু নামে যেমন কাজেও তেমন। বাবা মায়ের গর্বের ধন। আমেরিকায় বহুজাতিক কোম্পানীর মোটা মাইনের বেতনে কর্মরত। সে দেড় কোটি টাকা পার অ্যানাম। হাতের কাছে টাকার জোরে কোনো সুখের অভাব নেই। থুড়ি অভাব নেই বললে ভুল বলা হবে। ভগবান কোনো না কোনো একটা অভাব রাখবেন। কেননা জীবন মানেই চরৈবেতি। ছোট্টবেলা পেরিয়ে গেলে আর পাওয়া যায় না। ছোট্টবেলার অভাব পূরণ করতে ফিরে দেখতে হয়। বিদেশ বসু বিয়ে করেছেন এদেশীয় মেয়েকে। নাম বিউটি সান্যাল। ওদের ছেলে বিভান আমেরিকার জল হাওয়ায় মানুষ।
  বিদেশ প্রায়ই বলে - "বাবা আর ভাল লাগে না। এই আমেরিকার সম্পদ দিয়েছে যত কেড়ে নিয়েছে অনেক।" বিদেশ বসুর বাবা বলেন - "আয় এদেশে ফিরে। ফিরে আয় ফিরে পাবি তোর সেই মানুষ হওয়ার দিনগুলোকে। টাকার পেছনে ছুটতে ওখানে গেছিস। এবার পাঠ চুকিয়ে চলে আয়। তোদের নিয়ে আবার সে অতীতের দিনগুলোতে ফিরে যেতে চাই।" খুব আন্তরিক হয়ে মায়াময় মন দিয়ে ছেলেকে টানতে চান বাবা রঞ্জন বসু। আরো বলেন - "বিভানের মধ্যে তোর এখানের সেই ছোট্টবেলার মানুষ হওয়ার দিনগুলো দিতে ফিরে আয়।"
    ছেলে বিদেশ তখন বলে - "আমি সেই দিনগুলো,তোমার শাসন,মায়ের স্নেহ,মায়ের পরিপাটি রান্না,সেই খেলার মাঠ,বন্ধুকৃত্য ...সব হারিয়ে গেছে।  এখন আমি ফিরে দেখি আমার মত করে।এখানের মেটিরিয়াস্টিক ইমেজ বিভানের জীবন সম্পূর্ণ ওর। ও যখন নিজেকে ফিরে দেখবে তা হবে ওর নিজের, যা আজ ওর বাবা ফিরে দেখছে তার নিজের জগতকে। শুধু দেশ,কাল, পাত্র সব বদলে দিয়েছে। ফিরে যাওয়ার উপায় নেই, জীবন যে বড্ড অর্থনৈতিক নির্ভর। শুধু ফিরে দেখার মধ্যে সে তুমি আমি আছি। বিভানের মধ্যে তুমি নেই। আমি তোমাকে দিয়ে কিছুই দিতে পারিনি। যা দিয়েছি এখানের জীবন। ও যখন নিজেকে ফিরে দেখবে তখন ও আর ওর বাবা,তোমাকে পাবে না।"
                   ******

 # বিষয়।- অনুগল্প।
  #নাম - খেলা।
             (৭)

      ঘটনায় কলিজা হিম শীতল হয়ে যাচ্ছে যেন। বিতংসী বুঝতে পারে না কি করে নীলিমা এটা করল! কেন ও কিভাবে?  - দুটো কথাই বিতংসির মধ্যে নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে। রমাপ্রসাদ বলেছিল - "দ্যাখ বিতংসি এভাবে ভেঙে পড়িস না। বরং ভোলার চা দোকানে চল। চা নিলে দেখবি মনের অশান্তি পড়বে।" যেতে যেতে দেবাংসি বলে - "আমি তো কারো ক্ষতি করিনে। তাহলে আমার ক্ষতি করতে সুযোগ গ্রহণ করে কেন?" বলেই থমকে দাঁড়ায়। রমাপ্রসাদ বলে - "কি রে থামলি কেন?" রমাপ্রসাদ দেখে বিতংসি তার ব্যাগের চেন টেনে কি যেন খুঁজছে। আতিপাতি করে খুঁজেই চলেছে। হঠাৎ বিতংসি বলে - " আমি চললাম। তুই যা। আমি আসছি।" বলে হন্তদন্ত হয়ে চলে যায়। রমাপ্রসাদ ভ্যাবাচ্যাকা হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবে - যাহ্! বাবা এই হল মেয়ে মানুষ! এদের মনের গতি পাওয়া মুশকিল। এই আছে তো এই নেই! খুঁজলই বা কি! পেলই বা কি! বাড়ীমুখো ছুটল আপন মনে! হাতের নাগালে অবশ্য একটা কি দুর্লভ বস্তু পেয়ে শুধু এক ঝলক আত্মতৃপ্তির ভাব দেখিয়েছিল। বাড়ির চাবি পেলে এমন হয়। বাবা মা এখনো ফেরার সময় হয়নি। বলল বাড়ী যাবে। ভাল লাগছে না। হন হন করে চলেও গেল। তার কাছে ভোলার চা ফালতু হয়ে গেল!
 বিতংসি অল্পেই টেনশন করে। কেউ ঠকালে তাকে চিরতরে প্রত্যাখ্যান করে। কলেজ ইলেকশনে নীলিমা তাকে জোর করে দাঁড় করিয়েছিল,নীলিমাকে খুব বিশ্বাস করত। অনেক পয়সা খরচ করিয়ে, ইলেকশনের সময় বিতংসির পয়সায় খেয়ে দেয়ে প্রতিপক্ষের হয়ে ভোট দিয়েছে। এ খবর বিশ্বস্ত সূত্রে আসে - ও প্রতিপক্ষের হাতে হাত মিলিয়েছিল গোপনে।
   বিতংসির শেষ কথাগুলো চায়ে চুমুক দিতে দিতে মনে করে রমাপ্রসাদ -  "নীলিমার দাঁড়ানোর ইচ্ছে ছিল। বিতংসির গ্রহণযোগ্যতার কাছে হার সে মেনে নিতে না পেরে তলে তলে রাজনীতির এই খেলা  খেলে গেল!ও বলতে পারত। ওই দাঁড়াত। তাবলে এক ভোটে হার! ওই ভোটটাই দেয়নি। রেজাল্ট বেরনোর সময় রমা ওর ভেতরের কুচক্রীর হাসি আমি দেখেছিলাম। তলে তলে এতো...!"  
                ******

    #বিষয় - অনুগল্প।
  #নায - রকবাজ।
                (৮)

       সময়টা কে কীভাবে ব্যবহার করবে তার উপর দেখে মানুষ চেনা যায়। রকবাজের সময় ব্যবহার এক তো শিক্ষাদীক্ষায় সময় থেকে জীবন আরেক। দীনেন্দ্র বাউরি ওরফে দিনু মধ্যবয়সে মধ্যবর্তী অবস্থানে ঝুলে - 'ন যযৌ ন তস্তৌ' কথাটা তাকে খুব ভাবায়, আর তার বাবা নলিনী কান্ত বাউরির কথা ভেবে ভেবে সারাটা জীবন কাটায়। তার বাবা বলতেন - "হয় তুই মুর্খ থাক,তাহলে দিন মজুর হয়ে দিন আনা দিন খাওয়া করে দিনযাপনে নিজের কাছে দায়বদ্ধ থাকবি,কাউকে দোষ দিয়ে গায়ের জ্বালা মেটাতে হবে না,নিজের দোষ কবুল করে মানিয়ে চলবি। আর মোটামুটি পড়াশোনা করবি তো মজুর হতে পারবিনা, আবার বড়সড় চাকুরে বাবুও হতে পারবি না। জীবনকে হয় এসপার না হয় ওসপার করে ছাড়।" দীনুকে তার বাবার চেয়ে বেশী কেউ জানত না। তাই কথাগুলো কানে গরম তেলের মত করে ঢালতে চাইলে কি হবে সব বৃথা হত। দীনুর মনে হত এ সব জ্ঞান। জ্ঞানকে গ্রাহ্য করা অনেকের স্বভাবের মত দীনুও সেই স্বভাব পেয়েছিল। মন তখন অন্য জগতের হাতছানিতে মজা পেয়ে গেছে,সে রকবাজির মধ্যে বেশ মজা আছে - অনেক বয়স্য জোটে। তাসের আড্ডা থেকে নেশা সব চলে। পাড়ার পূজোর জন্য চাঁদা তুলে পূজো করে। ভাড়াটিয়া আসা,কারো টিউশনি জোগাড় করে দেওয়া এ থেকে বখরা নিয়ে নিজেদের রকবাজ ক্লাবের খরচপাতি চালায়। আবার কারো মেয়েকে ঠকিয়েছে শুনলে তাকে হাড়ে হাড়ে টের পাইয়ে বশে আনা, তারাই আবার মেয়েদের গালি ও নিজের মুখের গালিকে বেশ আমেজে ভরপুর পায়। রকবাজি মানে জগাখিচুড়ি - হরেক রকম থাকবে। মানুষ ভয় ও সমীহ দুই করবে তবে।
    রাম শ্যাম ভোলা প্যালা নিয়ে দশ জনের দল দেখতে দেখতে বিশ পঁচিশ সংখ্যা হয়,আবার কখনো কখনো আপডাউন করে,নীতির প্রশ্নে তাদের সঙ্গ কেউ ছাড়ে তো কেউ এসে যোগ দেয়। দীনু জ্ঞান দাতা হয়ে সবাইকে বলে - "শুধু রকবাজি করলে হবে না,ভাল কাজ কিছু করে সবার সাপোর্ট নিতে হবে। রাজনীতির দাদারা পাশে ভিড়লে লাভ যেমন আছে,ক্ষতির দিকটায় ভেবে পা ফেলতে হবে। রক্তদান, মুমূর্ষু রোগীর পাশে দাঁড়ানো এসব করতে হবে। এর থেকে আমাদের ক্লাবের জন্য সরকারি ডোনেশন নিয়ে আসতে হবে। এই সব বলে দীনু দিনে দিনে পালের গোদা হয়ে ওঠে।
   এদিকে দীনুর বাবা হঠাৎ স্বর্গত হলেন। রকবাজি ক্লাবেও অনেকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী। অর্থ যত অনর্থের মূল। দীনুর সেই সোনালী দিন নেই। তার কথা না মানার অনেক আমদানি হয়ে গেছে।
  বাবার অকাল বিয়োগ মায়ের হাপুস নয়ন দেখে দীনুর আর সহ্য হয় না। মন্দের মধ্যে ভাল যা বাবা বেঁচে থাকতে থাকতে কিছু জমি বেচে বোনের বিয়ে দিয়ে গেছেন। বাবার অবর্তমানে মা বীণাপানির করুণ ডাকে দীনুর কাঁধে এল সংসারের জোয়াল। রকবাজ থেকে বিমুখ হয় দীনু,নানা ঘটনার ঘাত প্রতিঘাতে। সংসারের কিই বা জানে সে। অথৈ সাগর লাগে। হঠাৎ বাবা চলে যাবেন, কে ভেবেছে! দীনু দেখে চোখে সরষে ফুল। সময়ের ব্যবহার নিয়ে বাপের কথা শুধু সম্বল মনে হয়। দীনু ভেবে পায় না কোন পথে যাবে। এতদিন যা করেছে তা তো ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানো হয়েছে। এবার! সেই ভাগ্যের দোহাই। তোষমোদী,দালালী বড্ড অসম্মানের! রকবাজি করে ভবিষ্যৎ গড়া যায় না। সময়ের ব্যবহার না জানলে কেউ হয় প্রান্তিক কেউ বা ভাগ্যের অট্টালিকার চূড়ায়। দীনু জীবনের মধ্যবর্তী অবস্থায় মানসিকতায় মধ্যবিত্ত, দীনু অকুল পাথারে।
                  ******
    # বিষয় - অনুগল্প।
  # নাম - সময়।
             (৯)

   "নাঃ! সময়টা কি কোনোদিন ভাল যাবে না! যাতেই হাত লাগাই লোহা হয়ে যায়।" সুতনু কথাগুলোকে নিজের সময়ের কাছে বাসি ফুলের মত ছুড়ে দেয়। বিরক্তি জন্মে। কপালের দোষ ভাবে। এমনকি সময় ফেরাতে আংটি তাগা তাবিজ ধারন করেও নিস্তার হয় না। সব মিথ্যা, বুজরুকি মনে হয়। তোমার জন্য যৌবনের প্রেমও হয়ে গেল অধরা। একটু আগে চাকরি হলে হয়তো নীলিমাকে পেতাম। যখন দুঃখ আসে আকাশের কালো মেঘের মত অন্ধকার ছেয়ে যায়। বড্ড দুর্বল লাগে। এতো দুঃখ ভগবান কি তার ভাগেই রেখেছে!" এর উত্তর জানতে নিলীমার কাছে বলেও ছিল। নীলিমা চিনে নিল অতনুর সঙ্গে ঘর বাঁধা মানে চিরকাল দুঃখের সময়ের সাথে ঘর করা। বরং একটা যুতসই জবাব দিয়ে এড়িয়ে গেল এই বলে - "প্রেম করো যেথা সেথা বিয়ে করো বাপের কথায়।" সুতনু ভাবে হায়রে কপাল। সময়ের সৌজন্যে নীলিমাকে ভুলেও গেল। রমা ভুলিয়ে দিল। সময় এল বৃহস্পতি সাজে। একদিন হঠাৎ নীলিমার সঙ্গে রেজিস্ট্রি অফিসে দেখা। চোখাচোখি ভালমন্দ খবরাখবর তারপর নীলিমা স্বপ্নের মত চলে গেল। কিন্তু আসল কথাই জানা হল না। সুতনু নিজেকে সেই বোকা ভাবে,নীলিমা কাছে এলেই যেন বোকা বোকা ভাব সেই যেই কে সেই। কটা বছরেও সে দিব্বি তাই হয়ে আছে। চেপে বসে। ধিক্কার জানায়। এতদিন পর দেখা শ্বশুর স্বামী সন্তান কিছুই জানা হল না। সময় কেমন ঝপাস করে নীলিমাকে ভাসিয়ে নিয়ে চলে গেল! নীলিমাও কেমন এড়ানোর ভাব করছিল। নীলিমার জন্য নিজের জীবনের সময় যেন সেই আগের মত একটা অদৃশ্য দুর্ভাগ্য।  পিয়ন রমেশ বলল - "ঐ মহিলাকে চেনেন নাকি!" সুতনু ধরা পড়ার ভয়ে গম্ভীর ভাব করে। রমেশ বলে যায় - " ওর নাম নীলিমা সমাদ্দার। বাপের টাইটেল সামন্ত। ও ফিরে এসেছে বাপের কাছেই। পন নিয়ে ঝামেলা। বধূ নির্যাতনের মামলা চলছে।" বলে রমেশ চলে যায় ফাইল নিয়ে বড় বাবুর ঘরে। সুতনু জানালার ওপারে কালো মেঘ ঘনাতে দেখে,এই বৃষ্টি এলো বলে।  আর ভাবের অন্ধকারে হাতড়ায় সময়ের জন্য মানুষ, না মানুষের জন্য মানুষ! সময় তুমি কার? এই সতনু কি ও কে? নীলিমাই বা কে? রমা কে? সবই ও সবাই কি তোমার সৌজন্যে সবাই আলাদা?
         ********

রবিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২২

#নাম - 'নেতাজী ও নারীমুক্তি - রাণী ঝাঁসি বাহিনী' ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ পরাক্রম দিবস - নেতাজী।
   #নাম - 'নারীমুক্তি ও নেতাজী - রাণী ঝাঁসি বাহিনী।'
   ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

        "নশ্বর এই দুনিয়ার সবই নষ্ট হয়,সবই বিনষ্ট হবে। শুধু অবিনশ্বর থাকে ভাবনা,আদর্শ, স্বপ্ন - যে আদর্শের জন্য একজন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করতে প্রস্তুত থাকে,সহস্র জীবনের মধ্য দিয়ে সেই আদর্শের বারংবার পুনর্জন্ম হবে।" - নেতিজী ২৬ নভেম্বর, ১৯৪০ প্রেসিডেন্সি জেলে অনশনরত অবস্থায় দেশবাসীকে ত়ার এক বলিষ্ঠ আত্মানুসন্ধানের ইচ্ছাপত্রতে এই কথাগুলি লিখেছিলেন। আর স্বাধীনতার তাৎপর্য বোঝাতে বলেছিলেন - স্বাধীনতা মানে শুধু বন্ধনমুক্তি নয়,স্বাধীনতা মানে অর্থের সমান অধিকার, জাতিভেদ ও সামাজিক অবিচার নিবারণ, সাম্প্রদায়িক সঙ্কীর্ণতা ও গোঁড়ামির বর্জন - সর্বোপরি স্বাধীনতা মানে সমাজ ও ব্যক্তি, নর ও নারী,ধনী ও দরিদ্রের জন্য কোনো পৃথক পৃথক  অস্তিত্ব নিয়ে বিরাজ নয়। এ থেকেই নেতাজী নারীশক্তিকে নিয়ে যে ভাবনায় সমগ্ৰ জাতিকে সামিল করেছিলেন তাই তো ইচ্ছাপত্রের যথার্থ সঙ্গতি। নেতাজীর ১২৫ তম জন্মদিনে নিজেদের ফিরে ফিরে দেখার সেই তো অনুপ্রেরণা ও সার্থকতা।
   স্বামী বিবেকানন্দের নেতাজী ছিলেন বলিষ্ঠ উত্তরসুরী। স্বামীজী বলতেন মেয়েরা না এগোলো দেশ এগোবে না। ভগিনী নিবেদিতাকে সেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আর সুভাষচন্দ্র তাঁরই যোগ্য উত্তরসুরী হয়ে নারীকে নিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে যা ভাবতেন তাই বাস্তবে রূপদান করার জন্য একপ্রকার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। এব্যাপারে তাঁর সহজ উপলব্ধি ছিল - ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ চেয়েছিল তাদের শাসন ন্যূনতম হাজার বছর হোক, বৈষম্যের মরুভূমিতে প্রশাসন হবে ওয়েসিস,আর এদেশে যেহেতু নারীসমাজের উন্নয়নের অভিধান নেই বলতে গেলে,তাই উপনিবেশিক শাসনের এই তো মরুদ্যান। আর যাই হোক নারী জাগরণের আইরিশ-সচেতনতা নেই বলে তাই এই দেশকে শাসন করার কোনো বিড়ম্বনা নেই। এখানেই সুভাষচন্দ্র ধরে ফেললেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের চালাকী। সহজেই ধরতে পেরেছিলেন কেননা তিনি যে আই এ এস - প্রশাসনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। তাই তাদের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী যখন তিনি,তাই তাঁদের তাঁবেদারী করা তাঁর ধাতে সইবে না যে তা অচিরেই বুঝেছিলেন। তাই নিজেকে সরিয়ে রেখে এদেশের গণবিপ্লব ও গণজাগরণের পথ বেছে নিলেন। ব্রিটিশ সরকার দুই ভারতীয় ব্যক্তিকে ভয় পেত। একজন অসমাপ্ত আই এ এস অরবিন্দ ঘোষকে যাঁকে পন্ডিচেরীতে পর্যন্ত নজরদারী রাখতে ছুটে গেছে। আর দ্বিতীয় সুভাষচন্দ্র -আই এ এস, নজরদারিতে রেখেও ব্যর্থ হয় বলে,ভারতীয় উপনিবেশিক শাসনের দীর্ঘ ব্যবস্থার স্বপ্ন একাই ভেঙে দিতে যে পারবে তা ব্রিটিশশক্তি অচিরে বুঝতে পেরেছিল। 
   বহু কর্মকান্ডের কান্ডারী নেতাজীর সেই সব কর্মকান্ডের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা ছিল নারীশক্তির জাগরণ। তারই প্রমাণ এই কথায় - "আমাদের মাতৃজাতিকে আমরা যদি শক্তিরূপিনী করিতে চাই  তাহা হইলে বাল্যবিবাহ প্রথা উচ্ছেদ করিতে হইবে; স্ত্রীজাতিকে আজীবন ব্রহ্মচর্য পালনের অধিকার দিতে হইবে: উপযুক্ত স্ত্রীশিক্ষার আয়োজন করিতে হইবে;অবরোধ প্রথা দূর করিতে হইবে; বালিকা ও তরুণীদের ব্যায়াম শিক্ষাও দিতে হইবে এবং বিধবাদের পুনঃর্বিবাহের অনুমতি দিতে হইবে।" কথাগুলি বলেছিলেন শ্রীহট্টের সুর্মা উপত্যকায় এক ছাত্র সম্মিলনীতে 'নূতনের সন্ধানে' (পৃ.- ৫) নামক লিখিত অভিভাষনে। সাল ১৯২৯।  ব্যক্তিগত জীবনে তিন নারী - মা প্রভাবতী বসু, দেশবন্ধুর স্ত্রী বাসন্তীদেবী ও দাদা শরৎ বসুর স্ত্রী বিভাবতী বসু - এঁদের ব্যক্তিত্বের প্রভাব  ছিল তাঁর অনুপ্রেরণা। ১৯২৪ এর সুভাষচন্দ্র 'আত্মশক্তি' পত্রিকার সম্পাদকীয়তে 'আমরা কি চাই?' শীর্ষক লেখায় বলেছিলেন - "আমাদের সমাজে নারীর পরিপূর্ণ স্বাধীনতা চাই।" উক্ত লেখায় আরো বলেছিলেন - "...এককথায় পরুষ যে স্বাতন্ত্র ও স্বাধীনতা ভোগ করচে নারীকেও আমরা সেই সেই স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাতন্ত্র্যের অধিকারী দেখতে চাই। পুরুষেরা কোনোদিন তা নারীকে দেবে এবং দিলেও নারীরা তা সত্যি পাবে,এ বিশ্বাস আমাদের নেই। নারীকেই বিদ্রোহ করে স্বাধিকার অর্জন করতে হবে,তাছাড়া আর কোনো পথ নেই।" 
  আর এই মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে তিনি রাজনৈতিক জাগরণের অস্ত্রে শান দিলেন। সাথে স্বামীজীর প্রেরণাকে সম্বল করে নারীর সামরিক জাগরণের ডাক দিলেন  - "আপনার মান রাখিতে জননী,/ আপনি কৃপাণ ধর।" 
  ১৯২৮ এ সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগঠিত করতে গড়ে তোলেন 'মহিলা রাষ্ট্রীয় সংঘ', এই সংঘে তিনশ' মহিলা স্বেচ্ছাসেবিকা শুরুতেই যোগদান করে। নেতৃত্বে লতিকা ঘোষ।
  এই নারীবাহিনীই নেতাজীর আরো বৃহত্তর উদ্দেশ্য রূপায়ণের যেন ভিত্তি। তাই নারীকে নিয়ে সামরিক বাহিনীর পথ প্রশস্ত করে। নাম হবে রাণীবাহিনী। হবে প্রশিক্ষিত পেশাদার পদাতিক নারীবাহিনী। ভাবা যায় এমন প্রগতিশীল চিন্তা! ঘরকন্নার নারী হবে যোদ্ধা! কেন হবে না - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যদি অগনিত ব্রিটিশ, আমেরিকা, জার্মান, সোভিয়েত নারী এয়ারফোর্সে পাইলট হতে পারে,অবশ্য নারীবাহিনীর স্বতন্ত্র রেজিমেন্ট তখনো হয়নি তো কি হয়েছে তিনিই প্রথম রেজিমেন্ট নারীবাহিনী তৈরী করে দেখাবেন।  এর পেছনে অনুপ্রেরণা বলতে ১৮৫৭ এর সিপাহী বিদ্রোহের পরাক্রমী শৌর্যের প্রতিমূর্তি ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাঈ। তাঁর নামেই হবে ঝাঁসি বাহিনী - 'রাণী ঝাঁসি রেজিমেন্ট'। যার সর্বাধিনায়িকা হবে লক্ষ্মী স্বামীনাথন। বাহিনীর প্রাথমিক সদস্যা মাত্র কুড়ি জনকে নিয়ে শুরু। ১৯৪৩ এর ১২ জুলাই সিঙ্গাপুরে সেদিন প্রবাসী ভারতীয়রা দেখেছিল এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য - সাদা শাড়ি পরিহিত কুড়িজন মহিলা প্যারেড করতে করতে নেতাজীকে 'গার্ড অফ অনার' দিচ্ছেন,আর নেতাজী তাঁদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন। আর তেজোদীপ্ত ভঙ্গিতে নারীবাহিনীর প্যারেড-নৈপুণ্য দেখে স্বয়ং নেতাজী পর্যন্ত হতবাক হয়েছিলেন। এই বাহিনী ১৯৪৩ এর ২২ অক্টোবর রাণী লক্ষ্মীবাঈয়ের জন্মদিনে প্রথম প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়। সদস্যা ১৬৫। সেখানেই নেতাজীর ঘোষণা ছিল- "বাহিনীতে দ্রুত এক হাজার সদস্যা হবে। রেঙ্গুনে, থাইল্যান্ডে আরো দুই সামরিক প্রশিক্ষণ শিবির শুরু হবে, পরাধীন ভারতবাসীর মুক্তির জন্য অগণিত ঝাঁসির রাণীর আত্মোৎসর্গ প্রয়োজন।"   
  প্রথম প্রথম বাহিনী নিয়ে অবিশ্বাস থেকে হতাশার অনেক কারণ সামনে এসেছিল। জাপানিরা যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র তো দূর প্রশিক্ষণের জায়গা পর্যন্ত দিচ্ছিল না। এমনকি নেতাজীকে নিরস্ত পর্যন্ত করতে দ্বিধা করেনি। আই. এন.এ. সেনাপ্রধানরাও নারীবাহিনীর পরিকল্পনায় সহমত হতে পারছিলেন না। কিন্তু এদিকে নেতাজীর ব্যক্তিত্বে আকৃষ্ট হয়ে অগণিত নারী ঝাঁসি বাহিনীতে যোগ দিতে শুরু করতে থাকে। বাহিনীর অস্তিত্ব রক্ষায় মেয়েরাই যে যার গহনাপত্র সম্বল নিয়ে বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে পড়ে। সম্পন্ন ও শিক্ষিত ঘরের মেয়েরা সংখ্যায় অল্পস্বল্প হলেও বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যারা ছিলেন মালয়ের রাবার-বাগিচায় খেটে খাওয়া মেয়েরা। কারণ বাগিচায় তাঁরা বৈষম্যের শিকার হত,স্বামীর অত্যাচার হামেশাই লেগে থাকত। বরং বাহিনীতে অনেক নিরাপদ - আহার ও পুরুষদের সমান বেতন মিলত। আর প্রশিক্ষিত হতে বেশ ভালই লাগত।
  শয্যা কাঠের তক্তার উপর বিছানা ও একটি বালিশ। খাওয়ার জন্য টিনের থালা। মঙ্গলসূত্র ছাড়া কোনো গহনা নিষিদ্ধ ছিল। 
    ভোর ছ'টায় প্রশিক্ষণ শুরু আজাদ হিন্দ্ পতাকা তুলে,রণসঙ্গীত ও বন্দেমাতরম গান গেয়ে। এরপর ৪৫ মিনিট শারীরিক কসরত। সাড়ে সাতটায় প্রাতঃরাশ - রুটি ও চা। পরবর্তী দু'ঘন্টা প্যারেড ও আগ্নেয়াস্ত্র চালনা শিক্ষা। তারপর দু'ঘন্টা সময় ধার্য ছিল - শৌচালয় পরিস্কার, পোশাক পরিচ্ছদ,স্নান খাওয়া। দুপুরের খাওয়া হিসেবে থাকত ভাত, রুটি, সবজি, মুসুরের ডাল। মাঝে মধ্যে ডিম। এরপর একঘন্টা বিশ্রাম। পরের দু'ঘন্টার ক্লাসে হিন্দুস্থানী,আজাদ হিন্দ সরকারের জাতীয় ভাষা শিক্ষা ছাড়াও ভারতের ইতিহাস শিক্ষা, মানচিত্র শিক্ষা চলত। ইতিহাস শিক্ষায় থাকত রাজিয়া সুলতানা, চাঁদবিবি,ঝাঁসির রাণী,রাণী ভবানীর কাহিনী। তারপর দু'ঘন্টা শারীরিক কসরত। তারপর পতাকা নামিয়ে বন্দেমাতরম গান গেয়ে সেদিনের মত কর্মসূচির ইতি। রাতে সাতটায় খাবার। তারপর বিনোদনে নাচ গান কখনো নাটক অভিনয়ের ব্যবস্থা থাকত। সাড়ে ন'টায় সবাইকে ঘুমাতে যেতে হত। সেই সাথে তৈরি হল সেবিকা বাহিনী। সেবিকা বাহিনীর নাম ছিল - 'চাঁদবিবি নার্সিং কর্পস।' এখানে গৌরী ভট্টাচার্য, লাবণ্য গাঙ্গুলি, জিয়ান কাউর প্রমুখ প্রায় ২০০ সেবিকা আই.এন.এ. এর হাসপাতালগুলিতে সেবিকা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। মেয়েদের প্রশিক্ষণে দ্রুত উন্নতি দেখে সুভাষচন্দ্র অত্যন্ত খুশী হয়েছিলেন। 
  প্রশিক্ষণের শেষে আশি জনকে বেছে নেওয়া হয় সম্মুখসমরে প্রাণ  দিতে বিন্দুমাত্র ভাববে না। বার্মাতে ত্রিশ জন মহিলাকে নিয়ে তৈরী হয় সিক্রেট সার্ভিস ইউনিট। এরা হলেন - শান্তি ভৌমিক, প্রতিমা সেন,মায়া গাঙ্গুলি, রাণী মোম্মাতা প্রমুখ ছিলেন অন্যতম। এঁরা আঙুল কেটে নেতাজীর কপালে রক্ততিলক কেটে শপথ নিয়েছিলেন মাতৃভূমিকে মুক্তির জন্য শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত উৎসর্গ করবেন।
  নেতাজী রেজিমেন্ট বাহিনীর মেয়েদের মাতৃজ্ঞাণে সম্মান ও কোনো আজাদি সেনা নারীঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত হলে তাকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নারীবাহিনীতে কোনো পক্ষপাতিত্বের ঘটনা না ঘটে সেদিকে কড়া নজর রাখতেন। বাহিনীর অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সবার পরিবারের খোঁজ খবর রাখতেন। কারো প্রিয়জন বিয়োগের খবর এলে তার পাশে দাঁড়াতেন। 
  সংগ্রামে বাহিনীর মেয়েরা যতই আত্মোৎসর্গের গুপ্তিমন্ত্র পাঠ করুক না কেন তাদের সুরক্ষায় তিনি খুব সজাগ থাকতেন। একবার হয়েছে কি ১৯৪৪ এর ১৮ এপ্রিলে রেঙ্গুনের মিংগালাডানে নেতাজীর সামনে বাহিনী প্যারেড করছে যখন হঠাৎ মিত্রশক্তির বিমান হানাতে এক সেনার প্রাণ  যায়। শেষ পর্যন্ত বাহিনী লড়াই করে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি গাছের গোড়ায় বসে থাকলেন। কেউ তাঁকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। ১৯৪৫ এ বার্মায় আজাদ বাহিনীর পরাজয়ে ঝাঁসি বাহিনীর মেয়েদের নিরাপদে মেয়েদের ফেরাতে তাদের সঙ্গ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ পথ যাত্রায় পায়ে ফোস্কা পড়া তুচ্ছ জ্ঞাণ করেছিলেন, মেয়েরা নিশ্চিন্তে ফেরার খবর পেয়ে তিনি পরম স্বস্তি লাভ করেছিলেন। 
  এই হলেন নারীর ভেতরে আত্মশক্তি জাগরণের বীরনায়ক। একটা পরাক্রম দিবস দিয়ে যত ঋণ শোধের কথা ভাবি না কেন,তত ঋণী হই,কেননা ফিরে দেখি যখন তখন নিজেদের ক্ষুদ্রতার ফাঁদে আটকে পড়া দেখি। নারীর যে মর্যাদার রাজপথ গড়ে দিয়ে গিয়েছিলাম কতটা সে পথের মান রাখতে পেরেছি!বরং তাঁকে নিয়ে রাজনীতি, প্রাদেশিক সঙ্কীর্ণতা বেশি করে বয়ে চলেছি। স্বাধীনতার ৭৫ বছরে নেতাজীকে নিয়ে রাজনীতির পাঠ যতটা জরুরী মনে করেছি তাঁর স্বপ্ন পূরণের কোনো অনুশোচনায় বিদ্ধ হই না,এটাতেই বরং পরাক্রমের জাহির দেখি।
              *******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল দাস।

নেতাজী ও আমরা

 
 নাম - নেতাজী স্মরণে   
✍️ডা: অরুণিমা দাস 


ভারতের বীরসন্তান যে তুমি নেতাজী
লহ প্রণাম, তব জন্মদিন যে আজি।

মনে দেশপ্রেম আর ভারত মাতার প্রতি ভক্তি
রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা,এই ছিল উক্তি।

আজাদ হিন্দ ফৌজ,ফরওয়ার্ড ব্লক গড়েছিলে তুমি
বীর দেশনায়ককে পেয়ে ধন্য যে জন্মভূমি।

বিশ্ব জুড়ে তোমার কর্মকাণ্ড,খ্যাতি বিশ্ব জুড়ে
ছাড়লে দেশ চুপি সারে রাতের অন্ধকারে।

ভীত যে নড়িয়েছিলে  ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের
স্বাধীনতার বীজ মন্ত্র দিয়েছ দেশবাসী দের।

ইতিহাসের পাতায় তোমার সৃষ্টিরা আজও অমলিন
ফিরে এসো নেতাজী,ক্ষয়িষ্ণু দেশ গুনছে যে দিন।

হে সুভাষ কোথায় তুমি,দেশের যে তোমায় দরকার
আজো দেশবাসী খোঁজে,মৃত্যু যে নেই মহানাত্মার।

--- ©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 🌞

শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২২

#নাম - শাঁওলি মিত্র। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

# বিষয় - *প্রয়াতা স্মরণে।*
  #নাম - *'শাঁওলি মিত্র'।*
   ✍️ মৃদুল দাস।

      বিখ্যাত বাবা ও মায়ের সন্তান বিখ্যাত হন,ব্যতিক্রম দু'একটি ছাড়া। বাবা শম্ভু মিত্র, মা তৃপ্তি মিত্রের একমাত্র সন্তান শা়ঁওলি মিত্র (১৯৪৮ - ২০২২)-এর মাত্র চুয়াত্তর বছরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শবদেহ হলেন তখন সিরিটি মহাশ্মশান যখন ত়াঁকে ধারণ করল তখন ত়াঁর পাশে ছিলেন একমাত্র মানসপুত্র সায়ক চক্রবর্তী ও মানসকন্যা অর্পিতা ঘোষ। তাঁর তাই নির্দেশ ছিল ইচ্ছাপত্রে - "তাঁর শবদেহকে যেন অযথা ফুলের মালার বোঝা বইতে না হয়। দাহ হওয়ার পর যেন সবাই জানতে পারে।" এমন ইচ্ছা পিতা শম্ভু মিত্রের মত,এও যেন পিতার কাছ থেকে  নির্দেশ পাওয়। বাপের বেটি তো! এই নীরবে চলে যাওয়াটা আমাদের কাছে অনুভূত হল তিনি বড্ড অকালে চলে গেলেন। বারে বারে নিজস্ব পরিসরে বিশ্বাস নিয়ে গড়া সম্পর্কের ভাঙন শাঁওলি মিত্রকে একা করে দিত। শাঁওলি মিত্র আমাদের রিক্ত করে কোন পরপারে চলে গেলেন তাঁর স্পষ্টতম ও মিষ্টতম বাংলা বলাটিকে নিয়ে।
 শুরু ঋত্বিক ঘটকের 'যুক্তি তক্ক আর গপ্প' চলচ্চিত্রে বঙ্গবালা চরিত্র দিয়ে। মঞ্চে প্রথম পদার্পণ রবীন্দ্রনাথের 'ডাকঘর' নাটকের অমল চরিত্র রূপায়ণ দিয়ে। আর দেখতে দেখতে বাংলা নাট্যমোদি দর্শকের কাছে তিনি শাঁওলির চেয়ে 'নাথবতী অনাথবৎ' নামে বেশী আদরনীয় হয়ে গেলেন। জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিনয় - 'নাথবতী অনাথবৎ' এর শুরু তবলাতরঙ্গ বেজে উঠছে। বাজছে মন্দিরা, মৃদঙ্গ। মঞ্চে সার বেঁধে বসা জুড়ির দলের দিকে মুখটি ফিরে তিনি। একটা কালো কাঠের জলচৌকির ওপরে দুলছে একটা লম্বা বেণী। একটি আলতারাঙা পায়ের নূপুর তাল রাখছে ছন্দে। জুড়ির দল গান ধরেছে, গানের শেষে কথক ঠাকরুণ পেন্নাম করে বলে উঠলেন ‘‘এক অভাগিনী মেয়ের কথা! রানি, কিন্তু রানি নয়!
‘নাথবতী অনাথবৎ’। এমন কুশলী অভিনয় দেখে নাট্য রসবেত্তা মাত্রেরই মনে বিস্ময়ের সেই ঢেউ আছড়ে পড়ে এই নাট্যবাংলার ইতিহাসে পেশাদার রঙ্গালয়ের বাইরে একমাত্র ‘নীলদর্পণ’ ছাড়া এত সাড়া-জাগানো অভিনয় আর হয়েছে কি! একবার এক ঘটনা ঘটেছিল - মা তৃপ্তি মিত্র হঠাৎ অসুস্থ। তখন তিনি কলকাতার বাইরে নাথবতীর এক নাট্যশো শেষে সেই অবস্থায় মেকাপ না তুলে মাকে দেখতে ছুটে এলেন। মেক আপ তোলার সময়টুকু পর্যন্ত দিতে চাননা,কারণ পরের শো আছে বলে। 
  আর 'ডাকঘর' মঞ্চাভিনয় করার সময়ও ঘটনা যা ভোলার নয় - ছোটবেলা খুব অসুখে ভুগতেন। একবার তিনি জ্বরে শয্যাশায়ী। মা তৃপ্তি মিত্র 'ডাকঘর' নাটক বিছানায় দিয়ে বললেন- "তোকে অমলের অভিনয় করতে হবে।" সেদিন সেই নাটকটি পড়ে ছোট্ট শাঁওলি খুব কেঁদেছিলেন। অমলের অভিনয়ে খুব সাফল্য পেয়েছিলেন। নাটকে ডেডিকেটরাই এমন ইতিহাস গড়ার সুযোগের সদ্ব্যবহার করে থাকেন। মেয়ে শয্যাশায়ী,ওই পারবে অমলের ভেতরটা দেখতে, এটাই তো মোক্ষম সময়।
  তাঁর মঞ্চসফল অভিনয় যেমন - 'পুতুল খেলা', 'একটি রাজনৈতিক হত্যা', 'হযবরল', 'কথা অমৃতসমান', 'লঙ্কাদহন', 'পাগলা ঘোড়া', 'পাখি', 'গ্যালিলিওর জীবন', 'যদি আর একবার'।
   সংগীত নাটকের জন্য অ্যাকাদেমিক পুরস্কার পান ২০০৩ এ,২০০৯ এ পদ্মশ্রী,২০১২ তে পান বঙ্গবিভূষণ। রাজনীতি থেকে শত যোজন দূরে থাকতেন। কিন্তু সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের আন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন। মহাশ্বেতা দেবী চলে যাওয়ার পর বাংলা অ্যাকাদেমির তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আবার একসময় স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়েও দেন। তাঁর সম্পর্কে সফল মঞ্চাভিনেত্রী ও জাতীয় পুরস্কারে ভূষিতা সুদীপ্তা চক্রবর্তী এই অকাল প্রয়াণকে ঘিরে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেছেন - "অনেক আদর পেয়েছি। অনেক ভালবাসা। আদর করে কত কি খাইয়েছিলেন। আমি তাঁর বন্ধু বিপ্লবকেতন চক্রবর্তীর মেয়ে! অনেক কিছু শিখেছি। মঞ্চাভিনয়ের খুঁটিনাটি। অবাক চোখে তাকিয়ে দেখেছি ত়াঁর অভিনয় সেই ছোট্টবেলা থেকে। আমার নাটক দেখে ফোন করে খুব প্রশংসা করেছিলেন। আনন্দে কেঁদেই ফেলেছিলাম। বড় হয়ে একসঙ্গে সিনেমায় একটা কাজ করার আর্জি নিয়ে গিয়েছিলাম। রাজি হননি। তাই আর একসঙ্গে কাজ করার বা একদম সামনে থেকে অভিনয় দেখার সৌভাগ্য হল না।" আর সেই সাথে বাংলা নাট্যমোদি দর্শকও বাঁচবে শুধু 'নাথবতী আনাথবৎ'-এর স্মৃতি নিয়ে।
          ******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল দাস

বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২২

#নাম- 'শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত'। ✍️- মৃদুল কুমার দাস।

#বিষয় - *গ্রন্থ আলোচনা।*
  # নাম- 
         *শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত।*
           ✍️  - মৃদুল দাস।

     বুদ্ধ, যিশু,হজরত,চৈতন্য সকল সন্তসাধকের জীবনী শিষ্যসম্প্রদায়ের রচিত। সেই সঙ্গে স্মরণীয় আধুনিক যুগের আধ্যাত্মিক প্রাণপূরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের জীবনী নিয়ে রচিত আস্ত পাঁচ খন্ডে রচিত 'শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত'। গ্রন্থটি একটি সামাজিক ও আধ্যাত্মিক আকরগ্রন্থ। যেখানে ঠাকুর মূল চরিত্র আর ত়াঁর অগনিত ভক্ত সম্প্রদায় ঠাকুরের সূত্রধর। 
  কথামৃত গ্রন্থটি ঠাকুরের আজ কেন ভূত ভবিষ্যৎ জন্ম জন্মান্তর ঠাকুরের চলমানতার স্মারক। গ্রন্থটির লেখক মহেন্দ্র গুপ্ত ওরফে শ্রীম। তিনি ঠাকুরের চোদ্দ সদস্যের গুরুভ্রাতা মিশনের অন্যতম একজন ছিলেন।     শ্রীম উনিশ শতকের শেষার্ধে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র। কৃতি শিক্ষক। ব্রাহসমাজের অনুরাগী। অন্তর্মুখী। সংসারে নিত্য অনটনে একসময় হতাশায় নিজেকে বড়ই দুর্বহ মনে করেছিলেন। হঠাৎ ১৮৮২,২৬ ফেব্রুয়ারীতে দক্ষিণেশ্বর ঠাকুরের পায়ে প্রণত হলেন। প্রথম সাক্ষাতের দিন শ্রীমকে দিব্যদৃষ্টিতে দেখলেন উত্তম আধার। ঠাকুরের সাক্ষাতে মাষ্টার শ্রী মহেন্দ্র গুপ্তের বদলে গেল জীবনের সব তুচ্ছতা,গেলেন আমূল বদলে। তিনি বিবাহিত ও সন্তানাদির জনক ঠাকুর জেনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন - "যাঃ,ছেলে হয়ে গেছে! .. তোমার পরিবার কেমন? বিদ্যাশক্তি না অবিদ্যাশক্তি?" সেদিন মাষ্টারের কাছে ঠাকুরের এইসব কথায় নত মস্তকে বুক ঢিপ ঢিপ করছিল। ঠাকুর আরো জিজ্ঞাসা করেছিলেন - "সাকারে বিশ্বাস না নিরাকারে?" শ্রীম বললেন - "সাকারে বিশ্বাস থাকলে কি নিরাকারে বিশ্বাস হয়?" তারপর থেকে শ্রীম এর মধ্যে সে এক ঘোর লাগা অবস্থা। সময় হলেই ছোটেন ঠাকুরের কাছে। প্রতি সাক্ষাতের অভিজ্ঞতার চলল ব্যক্তিগত ডায়রী লেখা। তাই হল কথামৃতের ভিত্তি - ১৮৮২ থেকে ১৮৮৬ এই চার বছর। অর্থাৎ ঠাকুরের সাক্ষাতে সে সব বিচিত্র অভিজ্ঞতা বৃথা যাতে না হয় শ্রীম গোপন ডায়রীতে লিখে রাখতেন। ক্রমে ডায়রীর পাতা ভরে উঠল। সে শতাধিক সাক্ষাতের বিবরণ। সে বিবরণ যেন অমৃতপাত্রে একান্ত ব্যক্তিগত ভক্তবিনম্র ধ্যানের বিষয় নিবেদন। কেউ দেখতে চাইলে বলতেন - "ও আমি নিজের জন্য লিখেছি। অন্যের জন্য নয়।"(কথামৃত,পৃ. - ১০৬১)
      শ্রীম এর এই মহতি সিদ্ধি সময় যত গড়াতে থাকে তার একটা রূপ পেতে আস্পৃহা জন্মায়,তা থেকে প্রথম প্রকাশিত রূপ ১৮৯৭ -তে ইংরাজী ভাষায় প্রথম রচিত একটি ছোট পুস্তিকা 'গসপেল অফ শ্রীরামকৃষ্ণ' আর বাংলা ভাষায় রচিত গ্রন্থের নাম - 'শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত'। গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য শ্রীশ্রীসারদা মায়ের কাছে অনুমতি নিতে গেলে শ্রীমা আশীর্বাণী স্বরূপ বলেছিলেন - "বাবাজীবন,তাঁহার নিকট যাহা শুনিয়াছিলে সেই কথাই সত্য। ইহাতে তোমার কোনো ভয় নাই। এক সময় তিনিই তোমার কাছে এ সকল কথা রাখিয়াছিলেন। এক্ষণে আবশ্যকমত তিনিই প্রকাশ করাইতেছেন। ঐ সকল তথ্য ব্যক্ত না করিলে লোকের চৈতন্য হইবে না জানিবে। তোমার নিকট যে সমস্ত তাঁহার কথা আছে তাহা সবই সত্য। একদিন তোমার মুখে শুনিয়া আমার বোধ হইল,তিনিই ঐ সমস্ত কথা বলাইতেছেন।" ( জয়রামবাটী,২১ শে আষাঢ়,১৩০৪)।
  গ্রন্থটির পাঁচটি ভাগ । 
    **প্রথম ভাগে ঠাকুরের বংশ তালিকা দিয়ে শুরু। শেষ অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ- বরাহনগর মঠ দিয়ে।
   ** দ্বিতীয় ভাগ - নরেন্দ্রনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ দিয়ে শুরু। শেষ সপ্তবিংশতি পরিচ্ছেদ বারোজন গুরুভ্রাতা দিয়ে।
   ** তৃতীয় ভাগ - বিদ্যাসাগরের সঙ্গে ঠাকুরের সাক্ষাৎকার দিয়ে শুরু। শেষ ষড়বিংশ পরিচ্ছেদ দিয়ে।
   ** চতুর্থ ভাগ - শুরু দক্ষিণেশ্বর ও ঠাকুর দিয়ে। শেষ ত্রয়োত্রিংশ পরিচ্ছেদে কাশীপুর উদ্যান,লাটু নরেন্দ্র প্রমুখ ভক্তগণকে নিয়ে।
   ** পঞ্চম ভাগ - শুরু বলরাম মন্দিরে রাখাল, নিত্যগোপাল, বলরাম প্রমুখগণকে নিয়ে। শেষ অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ - মৌনাবলম্বী ঠাকুর দিয়ে।
  শ্রীমের 'শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত' গ্রন্থটি উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে বাঙালি কি তাই চেনার দায়িত্ব যেন। পাঠকের কাছে গ্রন্থটি অদ্যাবধি কেন বলব যুগ থেকে যুগান্তরে হবে প্রাণের আরাম,মনের আনন্দ আর আত্মার পরম শান্তি। আবার অনেকের কাছে নিত্য সাধনার পথিকৃৎ। বিশ্বে শ্রেষ্ঠ ধর্ম সাহিত্যগুলির মধ্যে অসামান্য স্থানাধিকারী হয়ে ওঠে। গ্রন্থটি শুধু ঠাকুর ও শ্রীমের কথোপকথন বললে ভুল হবে বিচিত্র সব জীবনের কাছে পারমার্থিক দিশা হয়ে উঠল। মহাভারতের কথা অমৃতসমান বলে যে শোনে সেই পুণ্যবান হয়,ঠিক তেমনি আপামর বাঙালির পুণ্যার্জনের সহায় এই কথামৃত। শাক্ত, বৈষ্ণব,খ্রিস্টান, ইসলাম সব একাকার করে সর্বধর্মের সমণ্বয়ের তাঁর কথা ছিল অমৃতসমান  - 'যত মত তত পথ'। 
 ঠাকুর স্বয়ং কেশব সেন,নীলকন্ঠ, বৈষ্ণবচররণ, রামলাল, নরেন্দ্রনাথ,গিরিশ ঘোষ থেকে গৃহী ভক্ত, সাধু ও অসাধু,মাতাল,দীনহীন, দরিদ্র,ধনী, নির্ধন, সাধ্বী,বেশ্যা,শূদ্র সবাইকে যেন উদ্ধার করতে এসেছিলেন। কলির শুরুতে তিনি মানুষের অধঃপতন কীভাবে রক্ষা পাবে তার পথ বলতে এসেছিলেন। ঠাকুর বলতেন - "অদ্বৈত জ্ঞাণ আঁচলে বেঁধে যেখানে ইচ্ছা যাও।"(পৃ. - ১০৭৪) অর্থাৎ পরম সত্যকে উপলব্ধির পর ঠাকুরের কথায় বিজ্ঞানীর অবস্থায় থাকতে হবে। এই অবস্থায় পৌঁছালে সংসার আর 'ধোঁকার টাটি' থাকে না। হয়ে ওঠে 'মজার কুটি'। সেখানে শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য , মধুরে ঈশ্বরের লীলা উপলব্ধি করে জীবন আনন্দময় হয়ে ওঠে। গিরিশচন্দ্র ঘোষের সার্থক রূপান্তরে তিনিই স্বয়ং। যুক্তিবাদী ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার রূপান্তরিত ঠাকুরের অমৃতকথায়। মহেন্দ্রলাল বলছেন - "যাঁর কথা হচ্ছে তিনিও (ঈশ্বর) যেমন অনন্ত,আপনিও তেমনি অনন্ত! আপনার অন্ত পাওয়া যায় না।"(পৃ.- ৭৭) আরো শ্রী সরকার বলেছিলেন - "আপনাকে যে যত বুঝবে ,সে তত উন্নত হবে।"(পৃ.-২৬১) 
 গ্রন্থটি ভাব থেকে মহাভাব সমাধির পরিচয় পাই। গ্রন্থে তিনি ভাবের কল্পতরু। তিনি অনুপম ভাবসমাধি দিয়ে আপামর জনসাধারণকে এক মহান তীর্থলোকে নিয়ে গেছেন। যে লোকের নাম রামকৃষ্ণলোক। গ্রন্থটি কথাসর্বস্ব - ঠাকুর কি বলছেন তাই কেন্দ্রবিন্দু, আর সেই কথার সূত্রধর হলেন শ্রীম। এ এমন কথামৃত যা 'মিছরির রুটি'র মত যা "সিধে করে খাও,আর আড় করে খাও মিষ্টি লাগবেই।" (পৃ.- ৫৭৭)
        *****
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল দাস।

বুধবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২২

ডিজনি(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


      ডিজনি

©সুদেষ্ণা দত্ত

 আজ দুপুরে হঠাৎই বুকটা কেমন চিনচিন করে উঠলআজ ১লা জানুয়ারীবড় ছেলে,বৌমা,নাতি গিয়েছে সবলা মেলায়ছোট ছেলে,বৌমা,নাতনী শ্বশুরবাড়ীর লোকদের সঙ্গে বনভোজনেআজ আর কিছু খেতে ইচ্ছে করল নানা শরীর খারাপ নয়,রাগও নয়,বুক জুড়ে একরাশ অভিমানী মেঘ বচ্ছরকার দিনে মেলা বসিয়েছে মনের মাঠেডিজনি আমার মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেবোধহয় কিছু বলতে চায়কর্তা থাকতে ওকে এনেছিলেনওর এখন বছর বারো বয়সকর্তা চলে গিয়েছেন চার বছর হলতবু এই দিনে ছেলেমেয়েদের মুখে নিজের হাতে তৈরী কিছু তুলে দিতে বড় ইচ্ছে করেবাড়ীতে নতুন চাল,নলেন গুড় সবই আছে

       পিঠে-পুলি বানাতে বসি আমি-মহাশ্বেতাবয়স হলে নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও কেমন মীরজাফর হয়ে যায়!আগামীকাল আবার অমাবস্যামিনিট দশেক বসতে না বসতেই হাঁটুদুটো টনটন করে উঠলডিজনি বসে আছে আমার গা ঘেঁষেপিঠে বানাতে বানাতে কখন হৃদয়পুরে ডুব দিয়েছি সে খেয়াল নেইদেশেরবাড়ী বসন্তপুরে শাশুড়ী মা থাকতে শীতের মিঠে রোদ্দুর যখন ধীরে ধীরে কম্বলের ওমে হারাতে বসত,তখন শাশুড়ী মা আমাদের তিন বৌমাকে সঙ্গে নিয়ে উনুনের ঢিমে আঁচে চিতই পিঠে,দুধ পুলি,আস্কে,নতুন গুড়ের পায়েসকত কি করতেন!সেই মিঠে সুগন্ধ বাড়ী ছেড়ে পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে পৌঁছে তাঁদের বাড়ীর আঙিনায় এনে ফেলতসকলে মিলে সে সব ভাগ করে খাওয়ার আনন্দই ছিল আলাদা!শাশুড়ী মাও চলে গিয়েছেন বেশ কয়েক বছরযৌথ পরিবার ভেঙে আজ শহুরে অণুধীরে ধীরে পাটিসাপটা,নতুন গুড়ের পায়েস বানিয়ে ফেললামডিজনি লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে,কিন্তু আমার এত খেয়াল রাখলেও,আমি কেন জানিনা ওকে সন্তানদের আগে বসিয়ে খাওয়াতে পারলাম নাছেলেরা সব বিকেল-বিকেল ফিরে গিয়ে আগে একটু মুখে দিক

                   ছেলেবৌমারা সারাদিন হুল্লোড় করে বেশ রাত করেই বাড়ী ফিরলওরা আসার পরেই ওদের সামনে তুলে ধরলাম সারাদিনের অভুক্ত আমি আমার ভালবাসার স্বাদছোট্ট নাতনীটা পাটিসাপটা খেতে চাইলে ছোট বৌমা ওকে ধমকে বলল-“বৃষ্টি তুমি এখনই পিজ্জা,বার্গার খেয়ে এলে না!এখন এগুলো খেলে শরীর খারাপ করবেতাছাড়া এগুলো খুব মিষ্টি হয়এসব খাওয়া উচিত নয়উপরে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে শুয়ে পড়বাকীরাও তাদের পেট ভর্তি বলে আমার ভালবাসাকে প্রত্যাখ্যান করে চলে গেলচোখের জল নলেন গুড়ের সাথে মিশে সুখাদ্যের স্বাদ বিস্বাদ করে দিতে চাইলহঠাৎ ডিজনি ঝাঁপিয়ে পড়ল পায়েসের বাটির উপরপ্রথমে ভীষণ রাগ হল,তারপর মনে হল এই মনুষ্যেত্বর প্রাণীটাই বোঝে ভালবাসার আসল মানেওকে জড়িয়ে ধরলাম বুকেডিজনিও ভৌ ভৌ করে আমার ভালবাসাকে সম্মান জানাল

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

ছবি সৌজন্য:গুগুল।

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...