বুধবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২২

ডিজনি(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


      ডিজনি

©সুদেষ্ণা দত্ত

 আজ দুপুরে হঠাৎই বুকটা কেমন চিনচিন করে উঠলআজ ১লা জানুয়ারীবড় ছেলে,বৌমা,নাতি গিয়েছে সবলা মেলায়ছোট ছেলে,বৌমা,নাতনী শ্বশুরবাড়ীর লোকদের সঙ্গে বনভোজনেআজ আর কিছু খেতে ইচ্ছে করল নানা শরীর খারাপ নয়,রাগও নয়,বুক জুড়ে একরাশ অভিমানী মেঘ বচ্ছরকার দিনে মেলা বসিয়েছে মনের মাঠেডিজনি আমার মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেবোধহয় কিছু বলতে চায়কর্তা থাকতে ওকে এনেছিলেনওর এখন বছর বারো বয়সকর্তা চলে গিয়েছেন চার বছর হলতবু এই দিনে ছেলেমেয়েদের মুখে নিজের হাতে তৈরী কিছু তুলে দিতে বড় ইচ্ছে করেবাড়ীতে নতুন চাল,নলেন গুড় সবই আছে

       পিঠে-পুলি বানাতে বসি আমি-মহাশ্বেতাবয়স হলে নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও কেমন মীরজাফর হয়ে যায়!আগামীকাল আবার অমাবস্যামিনিট দশেক বসতে না বসতেই হাঁটুদুটো টনটন করে উঠলডিজনি বসে আছে আমার গা ঘেঁষেপিঠে বানাতে বানাতে কখন হৃদয়পুরে ডুব দিয়েছি সে খেয়াল নেইদেশেরবাড়ী বসন্তপুরে শাশুড়ী মা থাকতে শীতের মিঠে রোদ্দুর যখন ধীরে ধীরে কম্বলের ওমে হারাতে বসত,তখন শাশুড়ী মা আমাদের তিন বৌমাকে সঙ্গে নিয়ে উনুনের ঢিমে আঁচে চিতই পিঠে,দুধ পুলি,আস্কে,নতুন গুড়ের পায়েসকত কি করতেন!সেই মিঠে সুগন্ধ বাড়ী ছেড়ে পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে পৌঁছে তাঁদের বাড়ীর আঙিনায় এনে ফেলতসকলে মিলে সে সব ভাগ করে খাওয়ার আনন্দই ছিল আলাদা!শাশুড়ী মাও চলে গিয়েছেন বেশ কয়েক বছরযৌথ পরিবার ভেঙে আজ শহুরে অণুধীরে ধীরে পাটিসাপটা,নতুন গুড়ের পায়েস বানিয়ে ফেললামডিজনি লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে,কিন্তু আমার এত খেয়াল রাখলেও,আমি কেন জানিনা ওকে সন্তানদের আগে বসিয়ে খাওয়াতে পারলাম নাছেলেরা সব বিকেল-বিকেল ফিরে গিয়ে আগে একটু মুখে দিক

                   ছেলেবৌমারা সারাদিন হুল্লোড় করে বেশ রাত করেই বাড়ী ফিরলওরা আসার পরেই ওদের সামনে তুলে ধরলাম সারাদিনের অভুক্ত আমি আমার ভালবাসার স্বাদছোট্ট নাতনীটা পাটিসাপটা খেতে চাইলে ছোট বৌমা ওকে ধমকে বলল-“বৃষ্টি তুমি এখনই পিজ্জা,বার্গার খেয়ে এলে না!এখন এগুলো খেলে শরীর খারাপ করবেতাছাড়া এগুলো খুব মিষ্টি হয়এসব খাওয়া উচিত নয়উপরে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে শুয়ে পড়বাকীরাও তাদের পেট ভর্তি বলে আমার ভালবাসাকে প্রত্যাখ্যান করে চলে গেলচোখের জল নলেন গুড়ের সাথে মিশে সুখাদ্যের স্বাদ বিস্বাদ করে দিতে চাইলহঠাৎ ডিজনি ঝাঁপিয়ে পড়ল পায়েসের বাটির উপরপ্রথমে ভীষণ রাগ হল,তারপর মনে হল এই মনুষ্যেত্বর প্রাণীটাই বোঝে ভালবাসার আসল মানেওকে জড়িয়ে ধরলাম বুকেডিজনিও ভৌ ভৌ করে আমার ভালবাসাকে সম্মান জানাল

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

ছবি সৌজন্য:গুগুল।

1 টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...