বুধবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২২

#নাম- 'সত্য' ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ শব্দ আলোচনা বাসর।
  # বিষয় - *শব্দালোচনা।*
   # নাম - *সত্য।*
  ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

   *"সত্যমেব জয়তে।"*

  *"সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।"* - চন্ডীদাস।

      *"সত্যের জন্য সবকিছুকে ত্যাগ করা যায় কিন্তু কোনো কিছুর জন্য সত্যকে বর্জন করা যায় না।"* - স্বামী বিবেকানন্দ।

      *সত্য* কথাটি জগৎ ব্যাপিয়া কোথায় নেই - সবেতেই। জগৎ যে সত্যের উপর দাঁড়িয়ে সে সত্যকে কেই বা কতটুকু জানে। সত্য দেয় আত্মবিশ্বাস। যে যত সত্য সন্ধানী হয় সে তত আত্মবিশ্বাসী হয়। 
    জীব ও জড়কে সত্যের অভিধায় চেনার নাম জ্ঞাণ। সত্য বিনা জ্ঞাণ,জ্ঞাণ বিনা সত্যের অস্তিত্ব নেই। সত্য জানলে অজ্ঞাণতার বোঝা লাঘব হয়। সত্য জ্ঞাণের সীমা ক্রমবর্ধমান করে। সবাই জ্ঞাণ ও চেতনা নিয়ে জন্মায়,সত্য তাকে পরিচিতি দেয়। সত্যের নিরিখে মানুষে মানুষে পার্থক্য গড়ে ওঠে। সত্যের নিরিখে বিষয় ভিন্ন ভিন্ন - পদার্থ নিয়ে পদার্থবিদ্যা,জীব নিয়ে জীববিদ্যা। বিদ্যা কত ভেরিয়েবল! অনন্ত যেমন অন্তহীন, বিদ্যা,জ্ঞাণও তেমনি অন্তহীন। আর অন্তহীন জ্ঞাণের সত্য এই জীবনে যতদিন বাঁচি ততদিন শিখি। সত্যের স্বরূপ ধ্রুবসত্য,সত্যের স্বরূপ আপেক্ষিক। আর সত্য বিবর্তনধর্মী - আজ যা সত্য সময়ের ধারায় সে সত্য মিথ্যা হতে পারে। 
  ধ্রুব সত্য হল সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে পশ্চিমে অস্ত যায়,মানুষ মরণশীল, জল নিচের দিকে গড়ায়,হাতির দাঁত বেরলে আর ভেতরে ঢোকে না,সেই সত্য নিয়ে প্রচলিত প্রবাদ- *'হাতিকা দাঁত মরদ কি বাত।'* চরম সত্য কথা - *'শতং বদ,মা লিখং'* - যত ইচ্ছা বলে যাও লিখলে প্রমাণ,যে লিখিত প্রমাণ থেকে বিপদ হতে পারে। ছোঁড়া তীর আর ফিরে আসে না। *সূর্যের চারধারে পৃথিবী ঘোরে* যিনি বললেন তাঁর সত্য আবিস্কারের পুরস্কার কারাগারে বন্দী,অন্ধত্বের শিকার হয়ে কারাগারেই মৃত্যু! মৃত্যু সত্যের জন্য। এমন অন্যায় সত্যের প্রমাণ ভুরি ভুরি। 
   আপেক্ষিক সত্য তুলনা থেকেই আসে। ওটাও ঠিক,এটাও ঠিক। সত্যের দ্বন্দ্ব থেকে আপেক্ষিক সত্য। যেমন - বিতর্ক সভায় বিষয়ের পক্ষ ও বিপক্ষ যখন প্রবল যুক্তি দেখিয়ে শ্রোতাকে স্বমতে আনবে তাই হল আপেক্ষিক সত্য। নেটদুনিয়া নিয়ে,সোস্যাল মিডিয়া, অনলাইন বনাম অফলাইনে শিক্ষা ইত্যাদি।
  আর সত্যের বিবর্তন - আজ যা সত্য কাল তা মিথ্যা। পৃথিবীর চারদিকে সূর্য ঘোরে একসময় মানা হত,চরম সত্য জ্ঞাণ হত বলে এই সত্যকে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হতে এখন এই সত্যই চরম সত্যরূপে গৃহীত হল। রাম জন্মভূমি নিয়ে সত্যের বিবর্তন।   সন্তান উৎপাদনের পিথাগোরাসের তত্ত্ব আবিষ্কৃত হয়েছিল বলে ক্রমবিবর্তনের ধারায় ম্যান্ডেলার বংশগতি এসেছিল। বিজ্ঞানের বিষয়ও অনেক আপডেট হচ্ছে। অর্থাৎ সত্য নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা না চললে বিজ্ঞান প্রগতিশীলতার পথ দেখানোর দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পারত না। প্রগতিশীলতা বিবর্তনশীল সত্যের প্রকৃষ্ট পরিচয়।
    *সত্য* - যার শেষ নেই তাই নিয়ে আলোচনার শেষ কথাও নেই। সত্য দিয়ে নিজেকে চেনাটাই শ্রেষ্ঠ চেন-সত্য।
              ******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...