শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ওয়েলকাম✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ওয়েলকাম
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সাজগোজ করে সেলফি মোড অন করেছে এমন সময়ে কানে এলো,কিরে গজু! এখনও রেডি হতে পারলিনা? এই তো বিশু স্যার রেডি আমি। আসলে একটু দেরি করে ঘুমিয়েছিলাম রিহার্সাল দিয়ে। তা ঠিক করে নাচগুলো প্র্যাকটিস করেছিস তো? হ্যা স্যার স্পেশালি ওই হিন্দী গানগুলোতে প্র্যাকটিস করেছি। এখন তো মনে হয় পুজো পেতে যাচ্ছি কই! নাচ দেখতে আর পাকা ছোঁড়াগুলোর পাকামি দেখতে যাচ্ছি। তাই এবারে আমিও ঠিক করেছি নাচবো আর ওদের নাচানো কাকে বলে দেখাবো! প্রতিবারে সারারাত ধরে আকণ্ঠ রঙিন জল গিলে 'বিশ্বকর্মা মাই কি জয়' বলে অতিষ্ঠ করে দেয়। এবারে তোকে ওদের মাঝখানে ছেড়ে দেবো বুঝলি গজু! ব্যাটাদের শিক্ষা দেওয়া দরকার। আবার মাঞ্জা দিয়ে ঘুড়ি ওড়াবে বলে রেডি হচ্ছেন বাবুরা। একটা যদি কারোর ক্ষতি হয় ওই মাঞ্জা সুতোতে, তাহলে দেখে নেবো সবকটাকে। আমার পুজো নিয়ে রিপোর্ট হয়েছে,কৈলাসে ডাক পড়েছিল আমার। তাই আমি এবারে সবকিছু সামলে থাকবো বুঝলি গজু! হ্যা স্যার এবারে সব ঠিক হবে দেখবেন। চলুন আমার পিঠে চড়ে বসুন,এবার যাওয়া যাক। আমরা বরং এগোই এবার,প্যান্ডেল সব রেডি করে ফেলেছে আর আমাদের অপেক্ষায় সবাই। হ্যা চল বেরিয়ে পড়ি,যা ট্র্যাফিক জ্যাম অনেকখানি সময় লাগবে যেতে। ওনারাও আসছেন আর আমরাও রেডি ওনাদের ওয়েলকাম করতে। সকলের জন্য বিশ্বকর্মা পুজোর শুভেচ্ছা রইলো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিরোনাম-কণ্ঠস্বর✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম-কণ্ঠস্বর
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সময়ের নিয়মে বদল হয় অনেক। থেকে যায় কিছু কথা,কিছু কণ্ঠস্বর। প্রথমেই মনে পড়ে ছোটবেলার কথা। স্কুলে মিসরা বলতেন যে কাজ করবে সেটাই মন দিয়ে করো। নিজের একশো ভাগ দিয়ো। আজও তাদের কথা মেনে চলতে চেষ্টা করি। ক্লাস এইটে পড়ার সময়ে একজন দিদিমণি ছিলেন নন্দা দিদিমণি। অঙ্ক ক্লাস নিতেন। আর অঙ্কতে আমি ছিলাম সুপার ডুপার। সিলেবাসে অঙ্ক যে কেনো ছিলো সেই নিয়ে খুব ভাবতাম আমি! একদিন ক্লাসে বলেছিলাম নন্দু মেরি ইয়ারা,তু হ্যায় বহুত প্যারা। ম্যাম বলেছিলেন তোকে আমি বলে দিচ্ছি অঙ্ক জীবনে তোর দ্বারা কোনোদিন হবেনা। ম্যামের কথা কিন্তু অক্ষরে অক্ষরে ফলেছে। অঙ্ক থেকে আমি অনেক দূরে আজ। ম্যামের সাথে দেখা হয়েছিলো যখন বলেছিলাম ম্যাম আপনি ঠিক বলেছিলেন,অঙ্ক হবেনা আমার দ্বারা। ম্যাম আর সাথে থাকা আরও ম্যামরা বলেছিলেন জীবনের অঙ্ক কষিস তুই রোজদিন,আবার কোন অঙ্ক চাই তোর! এটাই আমাদের কাছে গর্বের। আজও ভুলিনি সেই কণ্ঠস্বরগুলো। ম্যাম আজ নেই আমাদের মধ্যে কিন্তু তাঁর বলা কথা রয়ে গেছে। ঠাকুমা,দিদা সবসময় বলতেন কারোর ভালো করতে না পারিস খারাপ করবিনা। খুব মনে পড়ে সেগুলো। চেষ্টা করি আমার দ্বারা কারোর ক্ষতি যেনো না হয়। এক বন্ধু ছিলো স্কুলে,অনেকদিন তার সাথে যোগাযোগ নেই কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তার গানের ভিডিও আর গলা মনে দাগ কেটে যায় প্রতিদিন। কলেজজীবনে ম্যাম স্যারদের কথা খুব মনে পড়ে। গাইড স্যারের কথা জীবনকে সহজ ভাবে নিবি তাহলে ভালো থাকবি। মনে পড়ে এই কথাগুলো। স্যারের সাথে দেখা হলে আজও কেস নিয়ে আলোচনা হয়। আর কিছু বন্ধুদের বাঁকা কথা সেসবও মনে পড়ে। যারা আমার লেখা নিয়ে হাসাহাসি করতো তারা যখন লেখা পড়ার লিঙ্ক চায় তখন মনে হয় এরা তো হারিয়ে যায়নি এরা আমাকে চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। সবাই ভালো থাকুক নিজের মতন। তাদের কথাগুলোই তাদের কথা মনে করিয়ে দেবে। 

"যোগাযোগ থাকুক বা না থাকুক, থেকে যায় কিছুজনের কণ্ঠস্বর
পড়লে মনে সেসব আজও হৃদ মাঝারে ওঠে যে ঝড়।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সেদিনের ক্লাসরুমটা খুব চুপচাপ ছিলো✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সেদিনের ক্লাসরুমটা খুব চুপচাপ ছিলো
✍️ ডা:অরুণিমা দাস


এই বিষয় দেখে দুটো ঘটনা মনে পড়ে গেলো। একটা প্রাইমারি স্কুলের ঘটনা ওই ক্লাস টু বা থ্রী হবে আরেকটা ক্লাস নাইনের অ্যানুয়াল রেজাল্টের দিনের ঘটনা। 
প্রাইমারি স্কুলের ঘটনাটা আগে বলা যাক। ক্লাস ওয়ান পাস করে গেছি মানে আমি সিনিয়র এরম একটা ব্যাপার লাগতো,সে কীভাবে পাস আর শেষের দিক থেকে কত নম্বরে নাম সেটা বলে নিজেকে আর লজ্জা দিতে চাইনা। সিনিয়র হলে আমাদের জুনিয়র ক্লাসের ওপর মাঝে মাঝে নজর রাখতে বলা হতো। টিফিনের পরের ক্লাসগুলো করার অত দরকার মনে হতোনা আমার। যখন জানতে পারতাম জুনিয়র ক্লাসের বাচ্চারা হল্লা করছে ওদের ক্লাস হচ্ছেনা তখন পৌঁছে যেতাম দিদিগিরি ফলাতে। একদিন এরকম গেছি দেখি একটা বাচ্চা মেয়ে কি একটা বিষয় নিয়ে যেনো খুব হাত পা নেড়ে কথা বলছে। চুপ করতে বলায় সে পাত্তা দিলোনা। তখন গিয়ে পিঠে কাঠের স্কেলের এক বাড়ি মেরেছি আর তারপরই আসল বিপদ ঘনিয়ে এলো। পরের দিন ক্লাসে হেড মিস্ট্রেস এসে আমার নাম ধরে ডেকে তারপর আমার কীর্তির কথা বলে জানালেন যাকে আমি স্কেলাঘাত করেছি সে এই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকার নাতনী। গোটা ক্লাসরুমের সবাই শুনে চুপ করে রইল। আমার তো দুই কান তখন লজ্জায় লাল। তারপর নেক্সট দিন গার্ডিয়ান কল আর পেরেন্ট টিচার মিটিং। বাড়ী গিয়ে আমার ওপর বেত্রাঘাত চললো। সেই থেকে আমি হেভিওয়েট লোকেদের এড়িয়ে চলি। ম্যাডামদের সাথে যখন পরে দেখা হতো বলতেন দুষ্টুমিগুলো না করে পড়াশোনাটা করতে পারিস। তোর রেজাল্ট দেখে আমাদের লজ্জা হয় খালি তোরই হয়না। হেসে খেলতে চলে যেতাম মাঠে। হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন ওনারা। এভাবে প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি পেরোলাম হাই স্কুলে গেলাম। 
দ্বিতীয় ঘটনা ঘটার আগে যখন নাইনের অ্যানুয়াল এক্সামে ইংলিশ পরীক্ষা দিচ্ছি। উফফ!সে কি কঠিন প্রশ্ন! দাঁত ভেঙে যাওয়ার জোগাড়। হলে যখন ইংলিশ ম্যাডাম এসেছিলেন প্রশ্ন কেমন হয়েছে জানতে আমি বলেছিলাম একদম ভালো হয়নি। শুনে সেদিনও সবাই এর ওর চোখের দিকে তাকিয়ে নিশ্চুপ ছিলো। এক্সাম দিয়ে এসে বাড়িতে লাফালাফি কান্নাকাটি আমি পাস করবোনা ইংলিশে। ইংলিশ স্যার চেঞ্জ করতে বললাম। বাড়ীতে বলা হলো পরের এক্সামগুলো দিতে হবে তাই এসব নিয়ে না ভাবতে। তারপর বাকি এক্সাম গুলো দিলাম। আর রেজাল্টের আগের দিন তো পড়াশোনা শিকেয় উঠেছে। ইংলিশে কি হবে ৩৪ পাবো তো পাস নম্বর এটাই একমাত্র চিন্তা! পরদিন যখন রেজাল্ট বেরোবে সবাই ক্লাসে হাজির,হেড মিষ্ট্রেস এলেন,নাম ধরে ধরে রেজাল্ট বুক দিলেন সবাইকে। আর প্রথম নাম যখন আমার ডাকলেন আমি ভাবলাম এটা কোন দিক থেকে নাম ডাকছেন? এরপর দিদিমণি বললেন আমি নাকি ফার্স্ট হয়েছি। পুরো ক্লাস নিস্তব্ধ আর আমি অবাক! জিজ্ঞেস করলাম ইংলিশে পাস করেছি দিদিমণি? রেজাল্ট দেখে বললেন ওই চল্লিশের ঘরে পেয়েছিস। মনে মনে বললাম পাস করে গেছি তাহলে। এদিকে বন্ধুরা বলছে ন্যাকামি রাখ!ওদের বোঝাতে পারছি না ইংলিশ নিয়ে আমি কি পরিমাণ চিন্তায় ছিলাম!ওদের ন্যাকামি মনে হলে কিছু বলার নেই। তবে তারপর থেকে বন্ধুরা বিশাল ভালো ব্যবহার করতো। এই রূপ পরিবর্তন দেখে বুঝেছিলাম ভালো সময়ে সবাই আপন হতে আসবে কিন্তু ইংলিশ পরীক্ষায় পাশ নিয়ে চিন্তার সময়ে কেউ পাশে ছিলোনা। আজও একই নিয়ম চলে দুনিয়াতে। তাই নিজেই নিজের বন্ধু হওয়া ভালো।
তবে আমাদের সময়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের সবাই সম্মান করতাম। মজা করতাম আমরাও কিন্তু তাঁদের অসম্মান করার কথা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি।

"ভাগ্যিস জেন জি নই আমরা,সবাই যে মোরা জেন ওয়াই 
সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছি,সকলকে সম্মান প্রদর্শন করতে চাই।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিক্ষক- প্রকৃত মানুষ গড়ার কারিগর ডা:অরুণিমা দাস

 শিক্ষক- প্রকৃত মানুষ গড়ার কারিগর
 ডা:অরুণিমা দাস


জন্মের পর বাবা মা ই হলেন প্রথম শিক্ষাগুরু
ওনাদের পরে শিক্ষক ই হলেন জ্ঞানের অন্য গুরু।

শিক্ষকই হলেন প্রকৃত মানুষ গড়ার প্রধান কারিগর
তার আদর্শেই অনুগামী আমরা, তিনিই আমাদের ঈশ্বর।

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে প্রকৃত মানুষ গড়ার কর্মকাণ্ডে আপনারা সদা নিয়োজিত
মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখান, হতে দেন না কভু পরাজিত।

আঁধার থেকে আলোর পথে চলার দিশা দেখান তিনি
তাঁর কাছে আমরা ছাত্রগণ থাকবো চিরদিন ঋণী।

পিতামাতা দিলেন মোদের বড় হবার শিক্ষা
আর শিক্ষকেরা দিলেন মোদের মনুষ্যত্বের দীক্ষা।

জীবনে চলার পথে তিনিই যেনো হন আমাদের আদর্শ
জ্ঞানচক্ষু খুলুক মানুষের,সুশিক্ষা যেনো করে স্পর্শ।

জন্মেছিলেন এক মহামানব এই ভারতের ই ঘরে
ডা: সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন নাম তাঁর, যা সবার মুখে  ফেরে।

পালন করি তার জন্মদিন শিক্ষক দিবস হিসেবে
সকল শিক্ষক শিক্ষিকার প্রতি মনে সদা ভক্তি রবে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিরোনাম - ব্যস্ততা যদি নেয় অবসর একদিনের জন্য✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - ব্যস্ততা যদি নেয় অবসর একদিনের জন্য
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

একদিনের জন্যও যদি ব্যস্ততা না থাকে তাহলে তো নিজেকে মুক্ত বিহঙ্গ মনে হবে। মনে হবে একদিনের জন্য কাজের গোলাম না হয়ে রাজা হয়ে উঠলাম। ল্যাধ খেয়ে রিল্যাক্স করে হইচই ওয়েব সিরিজ দেখা যাবে সকালটা। তারপর দুপুর বেলায় সূর্যের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একটা ভালো সিনেমা দেখে লাঞ্চ করতে হবে কোনো পাইস হোটেলে। তারপর সেই ভরপেট খাবার হজম করতে সমস্ত বুক স্টল ঘুরে ঘুরে নিজের প্রিয় না কেনা বইগুলো ব্যাগ বন্দী করার প্ল্যান করতে হবে। পকেটের দিকে খেয়াল রেখে অবশ্যই। তারপর একটু গলা ভেজাতে কোনো শরবতের দোকানে ঢুকতে হবে আর খানিক জিরিয়ে নিয়ে বিকেলের দিকে জেটি করে নদীর বুকে ঘুরে বেড়াতে হবে এক ভালোলাগার আবেশ নিয়ে। ভেবেই কেমন যেনো স্বপ্ন মনে হচ্ছে। তারপর বেলুড় মঠে সন্ধ্যারতি দেখে নিয়ে একটু ঝালমুড়ি খেতে খেতে নিজের গন্তব্যে ফেরার পালা শুরু হবে। ভেবেই কেমন যেনো আনন্দ হচ্ছে নিজের সাথে সময় কাটাতে পারবো সারাদিন। এবার অপেক্ষায় থাকা কবে আসবে সেইদিন! 

"কবে আসবে সেইদিন,যেদিন ব্যস্ততা নেবে অবসর!অপেক্ষায় রই
থাকবো সেদিন রাজা হয়ে,যদিও মেজাজ আসল রাজা আমি রাজা নই।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



শিরোনাম-সাহস✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম-সাহস ✍️ ডা: অরুণিমা দাস সত্যি কথা বলতে সত্য কিন্তু অপ্রিয় হয়। মিথ্যেকে আড়াল করার অনেক পন্থা পাওয়া গেলেও সত্যকে চাপা দেওয়া একটু...