বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

থমকে দাঁড়ায় সময় যখন ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

থমকে দাঁড়ায় সময় যখন 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সক্কাল সক্কাল ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে বেরিয়ে দেখলাম চারপাশটা কেমন থম মেরে আছে। ভাবলাম কি হলো! হোস্টেলে বাকিরা কি ডিউটি চলে গেলো? এত শান্ত পরিবেশ তো সকালে থাকেনা। কেউ দৌড়চ্ছে বাথরুমে তো কেউ দৌড়চ্ছে ব্রাশ করতে। ঘড়িতে দেখলাম ৮ টা বেজে ৫২ মিনিট। যাইহোক ব্রাশ নিয়ে গেলাম বেসিনের কাছে। গিয়ে দেখি একি! একটা মেয়েও ব্রাশ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,কিন্তু স্থির। ব্রাশ করছেও না আবার ওখান থেকে সরছেওনা। দুবার ডেকে আশাহত হয়ে অন্য বেসিনে গেলাম। ভাবলাম ব্যাপারটা কি হলো? যাইহোক রুমে এসে দেখলাম সময় সেই এক। ৮:৫২ টা। একি আমি ভুল দেখছি? চোখ কচলে আবার দেখলাম কই না তো! ঠিক দেখছি। ফ্রেশ হয়ে ব্যাগ গুছিয়ে নীচে ক্যান্টিনে গেলাম খেতে। এরপর ডিউটি যেতে হবে। দেরী হলে ম্যাডাম  বকবেন। খেতে গিয়ে দেখি রান্নার দিদিরা সব এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন। সবাই কেমন স্থানু হয়ে আছেন। দুবার বললাম দিদি একটা ডিম টোস্ট। কিছু উত্তর এলো না। অগত্যা নিজেই বয়াম থেকে কেক নিয়ে হিসেবের খাতায় দাম লিখে বেরোলাম ডিউটিতে। রাস্তায় যাবার সময়ও অনেক লোককে দেখলাম দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু হাঁটাচলা করছেনা। হাতঘড়ি দেখলাম এক দেখাচ্ছে ৮:৫২ টা। কেমন যেনো থমকে গেছে সময়। ওটি তে গিয়েও এক জিনিস দেখলাম। পেশেন্ট গুলোও স্থির হয়ে আছে। কি অদ্ভুত না! আমি একাই চলমান খালি আর বাকি সবাই কেমন চুপচাপ দাঁড়িয়ে রয়েছে। আজ আর ডিউটি করতে হবে না ভেবে দৌড় দিলাম কলেজ স্ট্রীট। বাস ট্রাম কিছুই চলছে না। তাই হেঁটেই যেতে হলো। ভাবছি আজ কি হলো! আমি একাই গতিশীল আর দুনিয়ার সবকিছু স্থিতিশীল। ভাবতে ভাবতে সোজা হাজির স্টল গুলোতে। যেখানে যা ডিসকাউন্ট অফার দিচ্ছে দেখে দেখে বই নিয়ে অনলাইন পেমেন্ট করে দিলাম। কেউ কিছু না বললেও যতই সুযোগ থাক বিনামূল্যে বই নিতে কেমন যেনো বাধলো। সব দোকানের লোকেরা কেমন একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। এরপর গেলাম সরবতের দোকানে। না কিছুই নেই সেরকম। পকেটে থাকা কেক আর দোকানে দু গ্লাস জল খেয়ে হাটা দিলাম হোস্টেলের পথে। রাস্তা গুলো কেমন সব গুম মেরে আছে। কোনো গাড়ি ঘোড়ার আওয়াজ নেই,সবাই নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। কেবল আমি ছুটে চলেছি যেনো ইচ্ছে ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে। 'কোলকাতা,তুমিও হেটে দেখাও কোলকাতা' গানটা খুব গাইতে ইচ্ছে করছে। রাস্তায় দেখলাম ঘোড়ার গাড়ীগুলো দাঁড়িয়ে আছে আর ঘোড়াগুলোও চুপ হয়ে আছে। হেটে হেটে হোস্টেল ফিরলাম। সময় সেই এক। রুমে ঢুকে একটু বসলাম। কেমন যেনো হারিয়ে যাচ্ছি চিন্তার সাগরে। ফোনের আওয়াজে সম্বিত ফিরলো। জুনিয়র ফোন করেছে,দিদি আজ ডিউটি আসবে তো? তাহলে কাবাব নিয়ে যাবো। বললাম হ্যা আসবো। উঠে দেখি নটা বেজে গেছে। বইগুলো যেগুলো আনলাম গুছিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু কী হলো? বই কই? ফোনে দেখি হইচই চ্যানেল চলছে। ওয়েব সিরিজ দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বোধহয়। রুমের দরজা খুলে দেখলাম সবাই দৌড়াদৌড়ি করছে রেডি হয়ে ডিউটি যাবে বলে। কই কেউ তো চুপচাপ দাঁড়িয়ে নেই। এতক্ষণ তাহলে? স্বপ্ন দেখছিলাম বুঝি! যদি সত্যিই এরম হতো ভালোই হতো। তারপর ভাবলাম,না! বরং স্বপ্ন স্বপ্নের জায়গায় থাক। এবার বাস্তবে ফিরে আসি। কোথায় যেনো বাজছে 'যখন সময় থমকে দাঁড়ায় নিরাশার পাখি দু হাত বাড়ায় স্বপ্ন......স্বপ্ন দেখে মন'। যাই হোক স্বপ্ন দেখে আর কাজ নেই,জলদি রেডি হয়ে দৌড়তে হবে,ওটি কলিং,অল আর ওয়েটিং। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

থমকে দাঁড়ায় সময় যখন ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

থমকে দাঁড়ায় সময় যখন  ✍️ ডা: অরুণিমা দাস সক্কাল সক্কাল ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে বেরিয়ে দেখলাম চারপাশটা কেমন থম মেরে আছে। ভাবলাম কি হলো! হোস...