যেদিন পাহাড় কথা বলেছিলো
✍️ ডা:অরুণিমা দাস
প্রকৃতি চলে নিজের নিয়মে। সেই নিয়ম মেনে হয়তো আমরা চলতে পারিনা। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রকৃতির সৃষ্টিতে হাত বাড়িয়ে ফেলি। অজান্তে ডেকে আনি বিপদের বার্তা। ভাবি প্রকৃতি কি বা করতে পারে? কিন্তু প্রকৃতি কি করতে পারে তার প্রমাণ হিসেবে ভূমিকম্প,সুনামি,এল নিনো এক অন্যরকম ভাবনা নিয়ে আসে। পাহাড় চলে তার কায়দায়,কিন্তু তার বুক চিরে রাস্তা বানাই আমরা,নদীর গতিপথ পাল্টে দিতেও আমরা পিছপা হইনা। পাহাড়ের বুকফাটা আর্তনাদ শুনতে পেয়েও এড়িয়ে যাই আমরা। আর সেই আর্তনাদ যখন অশ্রুবিন্দুতে পরিণত হয় সেই জলের ধারায় ভেসে যায় অসহায় মানুষজন। ধস আর হড়পা বানের অতর্কিত আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা নেই আমাদের। শুধু অসহায় ভাবে ক্ষতির পরিমাণ দেখতে দেখতে চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে সবার। আসলে পাহাড় বলতে চেয়েছিলো আমার বুক এভাবে ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়োনা,কেড়ে নিয়োনা আমার বুকে জড়িয়ে থাকা অনুভূতিগুলো। শুনতে চাইনি আমরা,আধুনিক হবার নেশায় ক্ষতি করে গেছি শুধু প্রকৃতির। বদলা তাই সেও নিতে শিখেছে। হিমবাহ গলেছে,নদীর নাব্যতা কমেছে, জলস্তর বেড়েছে,পাহাড় কথা বলতে শিখেছে। সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গেলে পাহাড় বলেছে এবার রেহাই দাও আমায় নয়তো ফল হবে মারাত্মক। সেই ফল ভুগছি আমরা সবাই। আর যাতে কোথাও নেপালের মতো অবস্থা না হয় সেই চেষ্টা করা উচিত সবার। প্রকৃতিকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের,তাহলে আমরাও রক্ষা পাবো। পাহাড়ের কথা যেনো আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে,কোনো আক্রমণবার্তা যেনো না নিয়ে আসে।
"পাহাড় কথা বলেছিলো যেদিন,বড্ড অবুঝ ছিলাম আমরা
আজ ক্ষতির মুখে পড়ে বুঝতে পারি,সেদিন বুঝতে হতো পাহাড়ের ইশারা!"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন