বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সেদিনের ক্লাসরুমটা খুব চুপচাপ ছিলো✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সেদিনের ক্লাসরুমটা খুব চুপচাপ ছিলো
✍️ ডা:অরুণিমা দাস


এই বিষয় দেখে দুটো ঘটনা মনে পড়ে গেলো। একটা প্রাইমারি স্কুলের ঘটনা ওই ক্লাস টু বা থ্রী হবে আরেকটা ক্লাস নাইনের অ্যানুয়াল রেজাল্টের দিনের ঘটনা। 
প্রাইমারি স্কুলের ঘটনাটা আগে বলা যাক। ক্লাস ওয়ান পাস করে গেছি মানে আমি সিনিয়র এরম একটা ব্যাপার লাগতো,সে কীভাবে পাস আর শেষের দিক থেকে কত নম্বরে নাম সেটা বলে নিজেকে আর লজ্জা দিতে চাইনা। সিনিয়র হলে আমাদের জুনিয়র ক্লাসের ওপর মাঝে মাঝে নজর রাখতে বলা হতো। টিফিনের পরের ক্লাসগুলো করার অত দরকার মনে হতোনা আমার। যখন জানতে পারতাম জুনিয়র ক্লাসের বাচ্চারা হল্লা করছে ওদের ক্লাস হচ্ছেনা তখন পৌঁছে যেতাম দিদিগিরি ফলাতে। একদিন এরকম গেছি দেখি একটা বাচ্চা মেয়ে কি একটা বিষয় নিয়ে যেনো খুব হাত পা নেড়ে কথা বলছে। চুপ করতে বলায় সে পাত্তা দিলোনা। তখন গিয়ে পিঠে কাঠের স্কেলের এক বাড়ি মেরেছি আর তারপরই আসল বিপদ ঘনিয়ে এলো। পরের দিন ক্লাসে হেড মিস্ট্রেস এসে আমার নাম ধরে ডেকে তারপর আমার কীর্তির কথা বলে জানালেন যাকে আমি স্কেলাঘাত করেছি সে এই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকার নাতনী। গোটা ক্লাসরুমের সবাই শুনে চুপ করে রইল। আমার তো দুই কান তখন লজ্জায় লাল। তারপর নেক্সট দিন গার্ডিয়ান কল আর পেরেন্ট টিচার মিটিং। বাড়ী গিয়ে আমার ওপর বেত্রাঘাত চললো। সেই থেকে আমি হেভিওয়েট লোকেদের এড়িয়ে চলি। ম্যাডামদের সাথে যখন পরে দেখা হতো বলতেন দুষ্টুমিগুলো না করে পড়াশোনাটা করতে পারিস। তোর রেজাল্ট দেখে আমাদের লজ্জা হয় খালি তোরই হয়না। হেসে খেলতে চলে যেতাম মাঠে। হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন ওনারা। এভাবে প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি পেরোলাম হাই স্কুলে গেলাম। 
দ্বিতীয় ঘটনা ঘটার আগে যখন নাইনের অ্যানুয়াল এক্সামে ইংলিশ পরীক্ষা দিচ্ছি। উফফ!সে কি কঠিন প্রশ্ন! দাঁত ভেঙে যাওয়ার জোগাড়। হলে যখন ইংলিশ ম্যাডাম এসেছিলেন প্রশ্ন কেমন হয়েছে জানতে আমি বলেছিলাম একদম ভালো হয়নি। শুনে সেদিনও সবাই এর ওর চোখের দিকে তাকিয়ে নিশ্চুপ ছিলো। এক্সাম দিয়ে এসে বাড়িতে লাফালাফি কান্নাকাটি আমি পাস করবোনা ইংলিশে। ইংলিশ স্যার চেঞ্জ করতে বললাম। বাড়ীতে বলা হলো পরের এক্সামগুলো দিতে হবে তাই এসব নিয়ে না ভাবতে। তারপর বাকি এক্সাম গুলো দিলাম। আর রেজাল্টের আগের দিন তো পড়াশোনা শিকেয় উঠেছে। ইংলিশে কি হবে ৩৪ পাবো তো পাস নম্বর এটাই একমাত্র চিন্তা! পরদিন যখন রেজাল্ট বেরোবে সবাই ক্লাসে হাজির,হেড মিষ্ট্রেস এলেন,নাম ধরে ধরে রেজাল্ট বুক দিলেন সবাইকে। আর প্রথম নাম যখন আমার ডাকলেন আমি ভাবলাম এটা কোন দিক থেকে নাম ডাকছেন? এরপর দিদিমণি বললেন আমি নাকি ফার্স্ট হয়েছি। পুরো ক্লাস নিস্তব্ধ আর আমি অবাক! জিজ্ঞেস করলাম ইংলিশে পাস করেছি দিদিমণি? রেজাল্ট দেখে বললেন ওই চল্লিশের ঘরে পেয়েছিস। মনে মনে বললাম পাস করে গেছি তাহলে। এদিকে বন্ধুরা বলছে ন্যাকামি রাখ!ওদের বোঝাতে পারছি না ইংলিশ নিয়ে আমি কি পরিমাণ চিন্তায় ছিলাম!ওদের ন্যাকামি মনে হলে কিছু বলার নেই। তবে তারপর থেকে বন্ধুরা বিশাল ভালো ব্যবহার করতো। এই রূপ পরিবর্তন দেখে বুঝেছিলাম ভালো সময়ে সবাই আপন হতে আসবে কিন্তু ইংলিশ পরীক্ষায় পাশ নিয়ে চিন্তার সময়ে কেউ পাশে ছিলোনা। আজও একই নিয়ম চলে দুনিয়াতে। তাই নিজেই নিজের বন্ধু হওয়া ভালো।
তবে আমাদের সময়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের সবাই সম্মান করতাম। মজা করতাম আমরাও কিন্তু তাঁদের অসম্মান করার কথা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি।

"ভাগ্যিস জেন জি নই আমরা,সবাই যে মোরা জেন ওয়াই 
সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছি,সকলকে সম্মান প্রদর্শন করতে চাই।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সেদিনের ক্লাসরুমটা খুব চুপচাপ ছিলো✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সেদিনের ক্লাসরুমটা খুব চুপচাপ ছিলো ✍️ ডা:অরুণিমা দাস এই বিষয় দেখে দুটো ঘটনা মনে পড়ে গেলো। একটা প্রাইমারি স্কুলের ঘটনা ওই ক্লাস টু বা থ্রী ...