বুধবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২২

এখনও খুঁজি(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


এখনও খুঁজি

সুদেষ্ণা দত্ত

 

 থিয়েটারকে করে অনাথ--

পাগলা ঘোড়া’, ‘কথা অমৃতসমান’, ‘নাথবতী অনাথবৎ’,

চিতার এক একটা পোড়া কাঠ--

বলে যায় জীবনের নানাপাঠ,

ফুলভারে দেহ প্রদর্শনে অনীহা প্রকট,

তাই নীরবে চলে যায় শববাহী শকট

 

চরণযুগল তুলেছে লহর--

মৃদু বা প্রবলে মেতেছে নগর,

রবিশঙ্করের লয়ের পুতুল’,

অভিনেতা-আমজনতা শিখেছে কত্থকের বোল

হঠাৎ নীরব ছন্দ পায়ের

ঘুঙুর ছিঁড়ল মহারাজের

 

মজার ছবি রঙতুলিতে

বাঁটুল,হাঁদা-ভোঁদা,নন্টে-ফন্টের দুস্টুমিতে,

পিঠে পড়ত যখন মায়ের শাসনের হাত,

ক্ষত মলম হতেন নারায়ণ দেবনাথ

ছিল না স্মার্টফোন,ভিডিও গেম বৈভবের

কাটল সুতো শৈশবের

 

যুগ এক একটা যায় হারিয়ে--

আমরা এগিয়ে চলি পথের ধুলো মাড়িয়ে,

শবহলে অকৃপণ হাতে খরচ করি কত শব্দ

তবু থেকে যায় প্রিয়জন-প্রয়োজনের নিকটে কত ঋণ লব্ধ

ন্যুব্জ হতে বাধা যখন অহমিকা

 

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

ছবি:সংগৃহীত

 

 

 

 

 

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২২

প্রণমি তোমায়

*নারায়ণ দেবনাথের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন* 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন বাংলা কমিকসের জনক
আজ থেকে শুকতারার পাতায় থাকবেনা কোনো চমক।

আকাশের বুকে উনি আঁকুন ছবি নিয়ে রং তুলি
বাঁটুল, নন্টে ফন্টের স্রষ্টাকে মোরা যেনো কভু না ভুলি।

ভালো থাকুন তারাদের দেশে,
আর মর্ত্যে আপনার সৃষ্টিরা বেঁচে থাকুক
বাঁটুল,কেলটু,নন্টে ফন্টের চোখ দিয়েই আগামী প্রজন্মরা আপনাকে চিনুক।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২২

মকর সংক্রান্তি

মকর সংক্রান্তি 
✍️ডা: অরুণিমা দাস

আজি মকর সংক্রান্তির পূণ্য দিনে চলছে গঙ্গাসাগর মেলায় যাওয়ার প্রস্তুতি
গঙ্গা স্নানে পূণ্য মেলে,তাই সকলে উঠেছে উৎসবে মাতি।

দুর দুরান্ত থেকে আসছে পুন্যার্থীরা কপিল মুনির আশ্রম দর্শনে
মনস্কামনা যে হবে পূরণ সাগর মেলায় সাগর স্নানে।

কেউ বা আবার ব্যস্ত রয়েছে টুসু দেবীর  আরাধনায়
তিন দিন তিন রাত্রি কাটে উপাসনা আর নাচ গানের মূর্ছনায়।

পৌষ মাসের শেষ দিনে চলছে পিঠে পুলি তৈয়ারী
সাথে আছে নলেন গুড়ের পায়েস,মন যে খুশি ভারী।

পাশাপাশি চলছে সবার ঘুড়ি ওড়ানোর আয়োজন 
মাঞ্জা,লাটাই সবই আছে,আকাশ হয়েছে ঘুড়ীদের রঙে রঙিন।

এই ভাবেই উৎসবে মেতে আনন্দ গানে সকলের দিনটি কাটুক
কাল থেকে না হয় শুরু হবে তিনশো পয়ষট্টি দিনের অপেক্ষা,আজ খুশিতে মাতুক।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২২

আমার মন চলে যায় ভ্রমণে ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার মন চলে যায় ভ্রমণে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
 

মেঘের সঙ্গী হতে যে চায় মোর এই মন 
যাওয়া যাবে সবখানে, চাইবো যখন।

কখনো বা দেখতে চায় কাঞ্চনজঙ্ঘার সূর্যোদয়
কোনোদিন বা পৌঁছে যাবো মরুভূমি,বালুকাময়।

মন যে করে উড়ু উড়ু, চায় যেতে দুর বহুদূর
কল্পনার পাখায় ভর করে,ইছেশক্তি যে ভরপুর।

ডাকছে আকাশ,ডাকছে বাতাস ডাকছে যে প্রকৃতি
বেরোতে যে চাইছে মন,ইচ্ছেরা দিচ্ছে উঁকি ইতি উতি।

দিচ্ছে যে হাতছানি, গ্রাম ছাড়া ওই রাঙামাটির পথ 
মন আজ খুশিতে পাড়ি দিতে চায়,চড়ে ইচ্ছের বিজয়রথ।


   

ছাড়িস না হাত আমার ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

*বিষয় - চিত্রালোচনা* 
 *ছাড়িস না হাত আমার* 
✍️ *ডা: অরুণিমা দাস* 

যাস না ছেড়ে আমার এই হাত,রাখবো আগলে জীবনভর 
তোর মতন আপন আর নেই তো কেউ আমার।

একসাথে পাড়ি দেবো সুখ দুঃখের পথে
আসুক যতই বাঁধা,লড়বো একসাথে।

জীবনের রাস্তা নয়কো সোজা, আঁকা বাঁকা ভীষণ
হাতে হাত রেখে চলবো মোরা, হারবোনা কোনোদিন।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

আশার আলো- মুছে দিক সব কালো ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

*আশার আলো- মুছে দিক জীবনের সব কালো* 
✍️ *ডা: অরুণিমা দাস* 


সূর্যের আলোয় ভরে উঠেছে সারাঘর,ভাঙলো ঘুম তিথির
যেতে হবে কলেজ, বাড়ি থেকে যে তা বহুদূর।

যাওয়ার পথেই চোখ বুলিয়ে নিতে হবে বইয়ের পাতায়, সময় যে খুব সীমিত
রাতে পড়াশোনা হবে না আর তার, গ্রাম যে তার বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত।

চেষ্টা ছাড়েনি সে, কখনো পড়েছে হারিকেনের আলোতে কখনো বা ল্যাম্প পোস্টের আলোয়
বাবা বলে হবি কি তুই বিদ্যের সাগর, থাকতে হবে তো সেই স্বামীর পায়ের তলায়।

গর্জে উঠে তিথি বলে সেসব দিন কবেই গেছে, পড়াশোনা করে স্বনির্ভর হবো আমি
গ্রামে ছড়িয়ে দেবো শিক্ষার আলো,বোঝাবো সকলকে শিক্ষার চেয়ে নেই কিছু দামী।

মা এসে জড়িয়ে ধরে বলে তিথিকে,তুই হলি আমাদের আঁধারি জীবনে চাঁদের আলো
হবি যেদিন শিক্ষিত, করবি দামী চাকরী, ঘুচবে মোদের জীবনের কালো।

থাকবেনা গ্রাম অন্ধকারে,একদিন ঠিক উঠবে ভরে বিদ্যুত আর শিক্ষার আলোয়
আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে বুকে, মোরা রইবো সবাই সেই দিনের অপেক্ষায়।।


©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

লহ প্রণাম হে বীর

*লহ প্রণাম হে বীর* 
  ✍️ *ডা: অরুণিমা দাস* 

হে মহামানব আজি তোমার জন্মদিনে
প্রণাম জানাই তোমার চরণে।
তোমারি আদর্শে যেন সদা চলতে পারি 
ঈশ্বর কে সেবি, জীবে প্রেম করি।
ভুলে সব ভেদাভেদ,উঁচু নীচু জাত পাত
সবার তরে বাড়িয়ে দিই সাহায্যের হাত।
হিন্দু ধর্ম পেয়েছিল মর্যাদা তোমারই চেষ্টায়
তোমার কর্মকাণ্ড সব রয়েছে  মনের খাতায়।
ধন্য হয়েছে এই ভুবন মহামানবকে পেয়ে
থাকবে তুমি বেঁচে চিরদিন মানব হৃদয়ে।

 ©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

# নাম - স্বামী বিবেকানন্দ। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

#বিষয় - *জন্মদিন-স্মরণে।*
  #নাম - *'স্বামী বিবেকানন্দ।'*
  ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

দক্ষিণেশ্বরে নরেন্দ্রনাথের অচিরেই যোগাযোগ ঘটল। মিত্তির ম'শায়ের বাড়ীতে নরেনকে দেখে সপ্তরথির এক রথি দিব্য দৃষ্টিতে দেখলেন ঠাকুর। তাঁকে জড়িয়ে ধরতে খুব ইচ্ছে করছিল, কিন্তু চারদিকের মানুষ ও লোকলজ্জাজনিত কারনে নিজেকে সংযত রাখলেন। আর যাওয়ার সময় ঠাকুর নরেনকে দক্ষিনেশ্বরে আসার জন্য ডেকে গেলেন। নরেন রাজি হলেন,ও সে নাহয় হবে এমন একটা ভাব নিয়ে। 
  নরেন পায়ে পায়ে একদিন গেলেন। প্রথম প্রথম বিশ্বাসই হচ্ছে না ঈশ্বর দর্শন করাতে পারবেন কিনা। আর সেই নরেন ঠাকুরের তিরোধানের মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে নরেন্দ্রনাথ কি হয়ে যাবেন ঠাকুরের কৃপায় সে তো সবার জানা।
   নরেন ঠাকুরের সংসারে ঢুকে জানতে পারলেন- 
এই জগতের রূপ এক নির্বাক শূন্য ব্রহ্মান্ডের মধ্যে প্রকাশিত যা অসীম মর্ত্য সীমায় এক আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নেমে এসেছে। প্রকৃতি তাঁরই অলঙ্কার। তাঁকেই প্রকাশের জন্য মানুষের আকূতি থেকেই ঈশ্বর লাভের পথ খোঁজে। ঈশ্বরকে খুঁজতে গিরি গুহায় সাধু তপস্যার পথগামী হন। জগৎ সংসার তুচ্ছ জ্ঞান হয়। সকলের যদি এই ইচ্ছা পূরণ হত তাহলে সব মানুষ তো সাধু হয়ে যেতেন। কিন্তু তা তো নয়। হওয়ার কথাও নয়। মানুষ জগতের অংশ। পঞ্চভূত থেকে জন্ম। পঞ্চভূতের অংশ। এই জগৎ তার জন্য। জগত সংসারকে উপেক্ষা করে বাঁচা অসম্ভব। তাই মানুষ থাকে জগতের সীমাবদ্ধতার মধ্যে। স্বভাব তার সীমাবদ্ধ। তাই কোনো বস্তু যদি সীমাবদ্ধ হয় তবেই সে ভাল বোঝে। তাই কোনো কিছু বোধগম্য হতে হলে বস্তুকে বিভাজিত ও সীমিত হতেই হবে।
     যেহেতু ঈশ্বর ও তাঁর শক্তি অবিভাজ্য ও অসীম, সেহেতু সীমাবদ্ধ মানুষের পক্ষে ভাগবতীয় শক্তি বোধগম্য হওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। সাধু-সজ্জন ব্যতিক্রম। তাঁদের সংখ্যা মুষ্ঠিমেয়। জগত সীমাবদ্ধ চেতনা সম্পন্ন মানুষের। অবতার ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ঈশ্বরের অংশ হয়েও শিষ্য নরেন্দ্রনাথকে জগৎ-নিরপেক্ষ হয়ে থাকতে দিলেন না। নরেন্দ্রনাথ জগৎ থেকে নির্বাসন চাইতেই ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে স্বার্থপরের দাগা দিলেন। ওটি হবে না। জগতকে শিক্ষা দিতে এসেছ, শিক্ষা দিতে হবে... ঘাড় পারবে।
    কী সেই শিক্ষা?
    'জীব সেবা শিব সেবা'।
দেশে ধর্মের ছড়াছড়ি। তার উপর খ্রিস্টানরা রাশি রাশি পাথর ঠেসে গুঁজে গীর্জার পর গীর্জা বানিয়ে চলছে। ধর্মের কথায় পেট ভরে না কবে ভরেছে? পেটে ক্ষুধা,ধর্মে পেট ভরবে না। গীর্জার বদলে যদি ওরা অন্ন দিত তাহলে মানুষ ধর্মের কথা শুনত। খালি পেটে ধর্ম হয়না। যে অন্ন দেবে মানুষ তার সঙ্গে। এই মর্ম বাণী ঠাকুর শিষ্যের কানে ঢেলে দিলেন। দরিদ্রকে নারায়ণ জ্ঞানে অন্ন সেবা দিতে হবে।
সীমাবদ্ধ চেতনায় আবদ্ধ মানুষ অনন্ত ও অখন্ড ঈশ্বরেরই বা কী বোঝে। বোঝে ক্ষুধা পেটে অন্ন। এই মোক্ষম কাজটি ঠাকুর শিষ্যকে দিয়ে করিয়ে নিলেন। তারপরে অখন্ড ঈশ্বরের কথা, মানুষ,প্রকৃতিও ঈশ্বরের অংশ বলতেই মানুষ কত সহজেই নিতে পারল। জীবে প্রেম থেকে ঈশ্বরে প্রেম এল। অখন্ড ঈশ্বরকে খন্ডরূপে যেই অনুধাবনের মধ্যে এল, অমনি অখন্ড ঈশ্বরের স্বরূপ উপলব্ধিতে আসার সুযোগ পেল। বহুর মধ্যে একত্বের ভাব কত সহজেই আনা গেল। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ স্বামী বিবেকানন্দের মধ্যে সেই ভাববাদের জন্ম দিয়ে জগতকে কি সুন্দর শিখিয়ে পড়িয়ে নিলেন। 
আর পাশ্চাত্য চেনাতেই আমরা চিনলাম। পাশ্চাত্যকে কীভাবে চিনিয়ে ছিলেন! 
চিকাগো বিশ্বধর্ম মহাসম্মেলন। মহাসম্মেলনে প্রাণের আকূতিভরা জলদগম্ভীরস্বরে নিনাদিত কন্ঠে গোটা বিশ্ব শুনবে -
  "সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা..."
এই কথাগুলো বলবেন বলেই কি তাই ভেবে তিনি ভারতবর্ষ ছেড়েছিলেন। না একদম না। 
  কলম্বাস হলের দর্শকাসনে সাত হাজার আমেরিকার বোদ্ধা নরনারী। অদূরে নিউ লিবার্টি বেলে শোনা গেল- টেন সলেম স্ট্রোকস্- সকাল দশটা,১১ সেপ্টেম্বর- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ। ঘন্টার ধ্বনিই যেন বলে দিচ্ছে -
   'A new commandant I give unto you,that you love to another.'
  পূর্ববর্তী বক্তাদের লিখিত বক্তব্য শুনে অভ্যস্ত শ্রোতৃগণ, দেখছেন অপার কৌতূহল ভরা দৃষ্টি নিয়ে,এ কোন সন্ন্যাসী যাঁর হাতে কোনো লেখিত বক্তব্য নেই। হিন্দুধর্মের উপর আলোকপাতের কি-ই বা আছে, তখন পাশ্চাত্য জানত প্রতাপ চন্দ্র মজুমদারের হিন্দুধর্ম, যিনি ( প্রতাপ চন্দ্র মজুমদার) আবার এই মহাসম্মেলনের অ্যাডভাইসরি কাউন্সিলের মনোনীত সদস্য,তাঁর বহূল প্রচারিত বক্তব্যের উর্ধ্বে কি এমন নতুন বার্তা দেবেন। তাই নিয়ে শ্রোতৃগণের অপার কৌতূহল! গোটা হল তখন দেখল এক আলোকময় পুরুষকে। আপাদমস্তক গেরুয়া বসনে আবৃত। নিস্তব্ধ গোটা সম্মেলন কক্ষ।
আর অমনি যেই না জলদগম্ভীর স্বরে নিনাদিত হয়ে উঠল- "হে আমেরিকাবাসী বোন ও ভাইয়েরা..." -সে যেন এক ব্রাহ্মমুহূর্ত! নিস্তব্ধ কক্ষ খান খান, যেন দর্শকাসন হলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট! উল্লাসে আসন ছেড় লাফিয়ে উঠলেন সকলে। ডিসিপ্লিন গেল ভেসে। তালি আর তালি। সে অনেকক্ষণ! 
নিস্তব্ধ ডিসিপ্লিন কক্ষে গুরুই যেন শিষ্যের জিহ্বাগ্রে উপবিষ্ট হয়ে বলতে বলেছিলেন -
    শোনাও তোমার মাতৃভূমির মর্মবাণী 'যত মত তত পথ।' শোনাও আমিই ভারতবর্ষ। দরিদ্র ভারতবাসী,চন্ডাল ভারতবাসী আমার ভাই। শোনাও বিশ্বের জন্য একটা মন্ত্র,যে মন্ত্রে ধর্ম,রাজনীতি,যুদ্ধ,সংঘাত সব দূর হয়ে যাক। সকলে আমার ভাই ও ভগিনী। বাইবেল,কোরান,বেদ জেন্দাবেস্তা সব এক। যথা - 
   *"নদীনাং বহোবম্বুবেগাঃ - যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে। শান্তিই বেদ। ভ্রাতৃত্বই হলো অমৃতত্ত্ব।"*
              ******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
        

     

   

বিবেক(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


বিবেক

সুদেষ্ণা দত্ত

বর্তমান ভারত’, ‘কর্মযোগগ্রন্থ আরও কত--

কর্মযোগী তুমি মুছেছিলে সঙ্কীর্ণ রাজনীতির ক্ষত

ধর্মীয় সংকীর্ণতা পায়নি প্রশ্রয়,

দরিদ্র-অজ্ঞ-মুচি-মেথরকে দিয়েছিলে আশ্রয়

প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সমন্বয়ে গড়া শীল

বিবিধের মাঝে চেয়েছিলে মিল

 

তোমার আবির্ভাবের পেরিয়ে একশো ষাট-

বর্তমান ভারত তোমার আদর্শের নিল কত পাঠ!

তোমার সত্যের জায়গা-মিথ্যা করেছে দখল,

স্খলিত যুবসমাজ পরেছে নকাব নকল

তাদের নাইকো বিবেকনাই আনন্দ,

মনের ঘরে তাদের শুধু মনের সাথে দ্বন্দ্ব

 

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

 

 

 

 


বুধবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২২

#নাম- 'সত্য' ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ শব্দ আলোচনা বাসর।
  # বিষয় - *শব্দালোচনা।*
   # নাম - *সত্য।*
  ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

   *"সত্যমেব জয়তে।"*

  *"সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।"* - চন্ডীদাস।

      *"সত্যের জন্য সবকিছুকে ত্যাগ করা যায় কিন্তু কোনো কিছুর জন্য সত্যকে বর্জন করা যায় না।"* - স্বামী বিবেকানন্দ।

      *সত্য* কথাটি জগৎ ব্যাপিয়া কোথায় নেই - সবেতেই। জগৎ যে সত্যের উপর দাঁড়িয়ে সে সত্যকে কেই বা কতটুকু জানে। সত্য দেয় আত্মবিশ্বাস। যে যত সত্য সন্ধানী হয় সে তত আত্মবিশ্বাসী হয়। 
    জীব ও জড়কে সত্যের অভিধায় চেনার নাম জ্ঞাণ। সত্য বিনা জ্ঞাণ,জ্ঞাণ বিনা সত্যের অস্তিত্ব নেই। সত্য জানলে অজ্ঞাণতার বোঝা লাঘব হয়। সত্য জ্ঞাণের সীমা ক্রমবর্ধমান করে। সবাই জ্ঞাণ ও চেতনা নিয়ে জন্মায়,সত্য তাকে পরিচিতি দেয়। সত্যের নিরিখে মানুষে মানুষে পার্থক্য গড়ে ওঠে। সত্যের নিরিখে বিষয় ভিন্ন ভিন্ন - পদার্থ নিয়ে পদার্থবিদ্যা,জীব নিয়ে জীববিদ্যা। বিদ্যা কত ভেরিয়েবল! অনন্ত যেমন অন্তহীন, বিদ্যা,জ্ঞাণও তেমনি অন্তহীন। আর অন্তহীন জ্ঞাণের সত্য এই জীবনে যতদিন বাঁচি ততদিন শিখি। সত্যের স্বরূপ ধ্রুবসত্য,সত্যের স্বরূপ আপেক্ষিক। আর সত্য বিবর্তনধর্মী - আজ যা সত্য সময়ের ধারায় সে সত্য মিথ্যা হতে পারে। 
  ধ্রুব সত্য হল সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে পশ্চিমে অস্ত যায়,মানুষ মরণশীল, জল নিচের দিকে গড়ায়,হাতির দাঁত বেরলে আর ভেতরে ঢোকে না,সেই সত্য নিয়ে প্রচলিত প্রবাদ- *'হাতিকা দাঁত মরদ কি বাত।'* চরম সত্য কথা - *'শতং বদ,মা লিখং'* - যত ইচ্ছা বলে যাও লিখলে প্রমাণ,যে লিখিত প্রমাণ থেকে বিপদ হতে পারে। ছোঁড়া তীর আর ফিরে আসে না। *সূর্যের চারধারে পৃথিবী ঘোরে* যিনি বললেন তাঁর সত্য আবিস্কারের পুরস্কার কারাগারে বন্দী,অন্ধত্বের শিকার হয়ে কারাগারেই মৃত্যু! মৃত্যু সত্যের জন্য। এমন অন্যায় সত্যের প্রমাণ ভুরি ভুরি। 
   আপেক্ষিক সত্য তুলনা থেকেই আসে। ওটাও ঠিক,এটাও ঠিক। সত্যের দ্বন্দ্ব থেকে আপেক্ষিক সত্য। যেমন - বিতর্ক সভায় বিষয়ের পক্ষ ও বিপক্ষ যখন প্রবল যুক্তি দেখিয়ে শ্রোতাকে স্বমতে আনবে তাই হল আপেক্ষিক সত্য। নেটদুনিয়া নিয়ে,সোস্যাল মিডিয়া, অনলাইন বনাম অফলাইনে শিক্ষা ইত্যাদি।
  আর সত্যের বিবর্তন - আজ যা সত্য কাল তা মিথ্যা। পৃথিবীর চারদিকে সূর্য ঘোরে একসময় মানা হত,চরম সত্য জ্ঞাণ হত বলে এই সত্যকে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হতে এখন এই সত্যই চরম সত্যরূপে গৃহীত হল। রাম জন্মভূমি নিয়ে সত্যের বিবর্তন।   সন্তান উৎপাদনের পিথাগোরাসের তত্ত্ব আবিষ্কৃত হয়েছিল বলে ক্রমবিবর্তনের ধারায় ম্যান্ডেলার বংশগতি এসেছিল। বিজ্ঞানের বিষয়ও অনেক আপডেট হচ্ছে। অর্থাৎ সত্য নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা না চললে বিজ্ঞান প্রগতিশীলতার পথ দেখানোর দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পারত না। প্রগতিশীলতা বিবর্তনশীল সত্যের প্রকৃষ্ট পরিচয়।
    *সত্য* - যার শেষ নেই তাই নিয়ে আলোচনার শেষ কথাও নেই। সত্য দিয়ে নিজেকে চেনাটাই শ্রেষ্ঠ চেন-সত্য।
              ******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

সোমবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২২

#নাম - চৈতন্যময় শ্রীরামকৃষ্ণ। ✍️ মৃদুল কুমার দাস।

শুভ আধ্যাত্মিক আলোচনা-বাসর।
 #বিষয় - *আধ্যাত্মিক।*
  #নাম - *চৈতন্যময় শ্রীরামকৃষ্ণ।*
   ✍️  - মৃদুল কুমার দাস।

    ঠাকুর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের চৈতন্যময় লীলার স্বরূপের *কল্পতরু* মূর্তি ধারণ ছিল এক মাহেন্দ্রক্ষণ।
 তিনি জগৎবাসীকে প্রথম দেখিয়েছিলেন বহুসাধনার একটাই মনস্কামনা মাতৃরূপ স্বচক্ষে দেখা চাই চাই। মা তো কোনোমতেই কর্নপাত করছেনই না। ঠাকুরের মনে হল এ জীবন বৃথা। তখন ঠাকুর বেপরোয়া হয়ে মায়ের সামনে আত্মাহূতিই শ্রেয় মনে করলেন। যেমনভাবে শ্রীরামচন্দ্র আত্মাহূতি দান করতে উদ্যত হয়েছিলেন, ঠাকুরও উত্তর দিকের দেওয়ালে ঝোলানো খাঁড়ায় এক হ্যাচকা টান দিলেন। স্বহস্তে মুন্ডচ্ছেদই ভবিতব্য জ্ঞাণ করলেন। মায়ের সামনেই হোক আত্মাহূতি - *কি লাভ এত সাধনার। মা তুই এত পাষাণী!* তৎক্ষণাৎ মা ভবতারিণী, মা জগদম্বা মানবী বেশে খাঁড়া নিলেন কেড়ে। ঠাকুর দেখছেন এক বিমূর্ত মূর্তি এক অসীম দয়ালু অনন্ত চেতনার জ্যোতিঃসমুদ্র,তার উজ্জ্বল উর্মিমালা ঠাকুরকে গ্রাস করতে উদ্যত। তাতে ঠাকুরের হাবুডুবু খেয়ে প্রাণে হাঁফধরা অবস্থায় ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। সেই অনন্তময়ীকে সেদিন ঠাকুর ধারন করলেন। তাই হল প্রথম কালজয়ী ঘটনা।
  ঠাকুরের সিদ্ধি লাভ হল। ঠাকুর মাকে নিয়ে চললেন,মাও ঠাকুরে পড়লেন বাঁধা। ১৮৮৬, ১ জানুয়ারিতে ঠাকুরের লীলা অন্তে ঘটল দ্বিতীয় ঘটনা। স্থান কাশীপুর উদ্যানবাটী। ঠাকুর গুরুতর অসুস্থ। শয্যাশায়ী। ইতিমধ্যে ঠাকুরকে ঘিরে একটি ১২ জনের শিষ্যসংঘ গড়ে উঠেছে। সকলে পালা করে ঠাকুরের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। নরেন্দ্রনাথ দলের পরিচালক। দিন রাত এক করে ঠাকুরের সেবা চলছে। ঠাকুর শয্যা ছেড়ে উঠবেন এমন আশা সবার মনে দূরস্থ। 
   হঠাৎ একদিন ঠাকুর ভ্রাতুষ্পুত্র রামলালকে কাছে ডাকলেন। ঠাকুর বললেন - *"দেখ রামলাল,আজ ভাল আছি মনে হচ্ছে। চল,নীচে একটু বেড়িয়ে আসি।"* রামলাল এক কথায় রাজী। ঠাকুর একটা কান ঢেকেছেন সবুজ রঙের বনাতের টুপি দিয়ে। হাতে একটা ছড়ি। রামলাল তাড়াতাড়ি ঠাকুরের গায়ে একটা রেশমের গরম চাদর জড়িয়ে দিয়ে হাতটি ধরে আস্তে আস্তে সিঁড়ি বেয়ে নামাচ্ছেন। নীচে নেমে সদর দিয়ে বেরনোর সময় ঠাকুর হলঘরে উঁকি মেরে দেখলেন তাঁর সেবক সন্তানেরা ঘোর ঘুমে আচ্ছন্ন। ঠাকুর বললেন - *"ঘুমোক ওরা,ওরা যে সারারাত আমার সেবা করে করে ক্লান্ত। দিনে একটু না ঘুমিয়ে নিলে চলে।"*
  ঠাকুর বাগানের পশ্চিম দিকের গেটের দিকে ধীর পায়ে এগোতে থাকলেন। বাগানে তখন গিরিশ ঘোষ,অতুল চন্দ্র ঘোষ,রামচন্দ্র দত্ত, নবগোপাল ঘোষ, হরমোহন, বৈকুন্ঠ্যনাথ সান্যাল,কিশোরী রায়,হারানচন্দ্র দাস,অক্ষয়কুমার সেন ঠাকুরকে নিয়ে আলোচনায় মশগুল। হঠাৎ তাঁরা দেখলেন ঠাকুর ধীর পায়ে হাঁটছেন। তাঁরা সকলে আনন্দে আত্মহারা। ঠাকুর বিছানা ছেড়ে উঠে এমন হাঁটবেন এমন ছিল কল্পনাতীত! সঙ্গে সঙ্গে সকলে ছুটে এসে ঠাকুরের পায়ে প্রণাম করতে লাগলেন একে একে। তাঁদের মধ্যে গিরিশ ঘোষকে দেখে ঠাকুর বললেন - *"তুমি যে আমার সম্পর্কে এত কথা বলে বেড়াও,তুমি আমার সম্বন্ধে কি দেখেছ ও কি  বুঝেছ?"*
  গিরিষ ঘোষ তৎক্ষণাৎ ঠাকুরের সামনে নতজানু হয়ে জোড় হাতে বললেন - *"ব্যাস,বাল্মীকি যাঁর ইয়ত্ত্বা করতে পারেন নাই,আমি তাঁহার সম্বন্ধে অধিক কি বলিতে পারি।"* -এই কথা গিরিশ ঘোষ যখন বলছেন তখন তাঁর শরীরে এক অপূর্ব রোমাঞ্চ ভাবের শিহরণ খেলে যাচ্ছে। তখন ঠাকুর সেই কথার জের ধরে উপস্থিত সবাইকে বল উঠলেন - *"তোমাদের আর কি বলব,আশীর্বাদ করি তোমাদের চৈতন্য হোক।"* ঠাকুর এই ক'টি কথা বলেই গভীর সমাধিস্থ হয়ে পড়লেন। আর ভক্তরা প্রাণে এক অনির্বচনীয় আনন্দে ভাসমান হতে লাগলেন। এতদিন সকলের প্রতিজ্ঞা ছিল ঠাকুর সুস্থ হয়ে না ওঠা পর্যন্ত কেউ ঠাকুরের দেহ স্পর্শ করবেন না। সে প্রতিজ্ঞা মুহূর্তে ভেসে গেল। চতুর্দিকে শুধু *'জয় রামকৃষ্ণ,জয় রামকৃষ্ণ'* রব। ঠাকুরের পরশমণি ছোঁয়ায় সকলে বাহ্যজ্ঞাণ দশা রহিত হল। সকলের ভাবের সে কি বিচিত্র অবস্থা - কেউ হাসছেন,কেউ মাত্রাতিরিক্ত আনন্দ সহ্য করতে না পেরে কাঁদছেন, কেউ ধ্যানস্থ হয়ে পড়ছেন,কেউ উন্মাদের মত হাসছেন,কেউ আনন্দে নাচছেন। ঠাকুরের মুখে তখন এক অপার্থিব  ও অপরূপ হাসি। তিনি সকলকে স্পর্শ করে যেতে লাগলেন। ঠাকুর সবাইকে চৈতন্য সাগরে অবগাহন করিয়ে দিচ্ছেন। তখন গোটা বাগানময় তল্লাসি হতে লাগল আর কে কে ঠাকুরের কৃপা থেকে বঞ্চিত থাকল। দেখা গেল বাগানের র়াধুনি গাঙ্গুলি বাদ পড়েছেন কারন রান্নাঘরে আটা মাখছেন তিনি। তাঁকে সেই অবস্থায় ধরে আনলেন গিরিশ।ঘোষ। ঠাকুরের স্পর্শে গাঙ্গুলির ভাবান্তর হল। অক্ষয়কুমারের কানে মন্ত্র দিতেই অক্ষয়কুমারের চোখ বিস্ফারিত হল। একই দশা নবগোপাল বাবুর। উপেন্দ্র মজুমদারের মনে হল এতদিনের স্থূল দেহ ঠাকুরের স্পর্শে সোনায় পরিণত হল। হারানচন্দ্র গেলেন অসীমের মাঝে হারিয়ে। ঠাকুরের সঙ্গী রামলালের গতি হল। সেদিন উদ্যানবাটীতে যাঁরা যাঁরা ছিলেন সবার কোনো না কোনো গতি হল।  এদিকে রামকৃষ্ণ পার্ষদগণের এই হট্টগোলে ঘুম ভেঙে গেল। তাঁর পুত্ররা কৃপা পাবেন না সে কি হয়! এটাই হল একশত পঁয়ত্রিশ বছর আগে ঠাকুরের এই ভাবসমাধির নাম - *'কল্পতরু।'*
  আজ পূর্ণ চৈতন্যের স্বরূপ নিয়ে বাহ্যিক আড়ম্বর সহকারে পালিত *'কল্পতরু'* উৎসব নিয়ে কত আধ্যাত্মিক ভাবের চর্চায় আমরা ডুবে যাই। এই একটি দিনের(১জানুয়ারি ১৮৮৬) গুরুত্ব নিয়ে স্বামী শ্রদ্ধানন্দজি মহারাজ বলছেন - 
   "কেবলমাত্র আজকের দিনে  কল্পতরু হয়েছিলেন - তা কেন? তিনি তো সদাই কল্পতরু। জীবকে কৃপা করাই তাঁর একমাত্র কাজ ছিল। আমরা তো চোখের সামনে দেখছি,তিনি নিত্যই কত জীবকে কতভাবে কৃপা করতেন। হ্যাঁ,কাশীপুরের বাগানে এই দিনে তিনি একসঙ্গে অনেক ভক্তকে কৃপা করেছিলেন। সে হিসেবে আজকের দিনের একটা বিশেষত্ব আছে। তি যে কৃপাসিন্ধু ছিলেন, তা সেদিনকার ঘটনায় ভক্তরা বিশেষ করে বুঝতে পেরেছিলেন।"  
  এর থেকে চৈতন্যের স্বরূপ নিয়ে শ্রদ্ধানন্দজি মহারাজ এক পরম অনুভূতি থেকে যে অমৃতবাণী বিতরণ করেছিলেন তা স্মরণ করে আমরা চিরসমৃদ্ধ হই। তিনি বলছেন -
      "আমরা যে যেখানে দাঁড়িয়ে আছি,সেখান হইতেই আমাদের সংস্কার, শক্তি ও প্রবণতা অনুযায়ী  যেন অন্তরে চৈতন্যকে ধারণ করিতে পারি,বুঝিতে পারি। কাহারও পথ ভক্তির, কাহারও কর্মের বা তত্ত্ববিচারের,কাহারও যোগের - সকল পথের সিদ্ধিই এক দ্বার দিয়া আসিবে - তাই চৈতন্যের দীপ্তি। যে যত চৈতন্য লোকে নিজেকে প্রবুদ্ধ করিতে পারিবে,সে তত ঐহিকতা, সংকীর্ণতা, ভোগলোলুপতা হইতে মুক্ত হইবে - সত্য, প্রেম, পবিত্রতা ততই তার চরিত্রকে করিবে উজ্জ্বল। নরদেহ সে হইবে দেবতা।  ইহাই মানুষের ইপ্সিততম সম্ভাবনা। শ্রীরামকৃষ্ণ চাহিয়াছিলেন আমরা যেন দেবতা হই,আমাদের সুপ্ত সম্ভাবনা যেন পরিপূর্ণভাবে বাস্তব হইয়া উঠে। 
   আমাদের চৈতন্য হউক। বর্ণ, জাতি,চরিত্র, অবস্থা, সংস্কার,ধর্ম - এই সকল বিভেদ সত্ত্বেও সকল মানুষ সেখানে এক - যাহা লইয়া এক - সেই মানবাত্মার সত্য যেন আমরা আবিস্কার করিতে পারি। এই আবিষ্কারের দ্বারাই আসিবে মানুষে মানুষে,জাতিতে জাতিতে মিলন,পারস্পারিক শান্তি ও সামঞ্জস্য। শ্রীরামকৃষ্ণের আশীর্বাদ সমগ্র বিশ্বকে এক করিতে চাহিতেছে।"
  তাই সকল হৃদয়ে চৈতন্য জরুরী। এক অমৃতলোকের সন্ধানের উৎস। সেই সূত্র ধরে জগতের কল্যাণকামী ও শিক্ষাদাত্রী শ্রীমা বলেছেন - "হে ঠাকুর, ওদের চৈতন্য দাও, মুক্তি দাও। এই সংসারে বড় দুঃখকষ্ট। আর যেন তাদের না আসতে হয়।"
              *******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১

#শরৎ সাহিত্যে নারী -✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

শরৎচন্দ্রের সাহিত্যে নারী:-
 শরৎচন্দ্রের (১৮৭৬-১৯৩৮) সাহিত্য-জীবনের তিনটি পর্ব - 
  ১. প্রাক রেঙ্গুন পর্ব ২. রেঙ্গুন পর্ব (১৯০৩ - ১৯১২) ৩. রেঙ্গুনোত্তর পর্ব (১৯১২- ১৯৩৮)। 
  রেঙ্গুন পর্বকে বলা হয় প্রস্তুতি পর্ব। এখানে কোনো সাহিত্য রচনা করেননি। শুধু পাহাড় প্রমান অভিজ্ঞতা অর্জন ছিল। ১৯১৪ থেকে 'বড়দিদি' দিয়ে শুরু হলো কথা সাহিত্যের জয়যাত্রা। শুরু করলেন পুরাতনকে ঘিরে ঘুরে ফিরে দেখা। যত এগিয়েছেন তত চরিত্র চিত্রণে নানা রূপান্তর ঘটিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে দেখা যাক শরৎ- সাহিত্যে নারীর অবস্থান কেমন ছিল।
 সৃষ্টির প্রথম লগ্নে ভাগলপুরে বয়ঃসন্ধির কাল কেটেছে। এই সময় কোনো নারীকে ঘিরে দেহ-নিরপেক্ষ ভাবেই যৌনজীবন ও প্রেমজীবন গড়ে ওঠে। ১৭/১৮ যখন বয়স তখন ভাগলপুর,আর রেঙ্গুনে যখন তখন বয়স ২৬/২৭। 
 বালবিধবা নিরুপমা দেবীর বৈধব্য দুঃখ নিয়ে এলেন ১৮৯৭ এ ভাগলপুরে। আর তার সেই দুঃখ দেখে নারী চরিত্র পাঠের শরৎচন্দ্রের সূচনা হল। ভাগলপুরের জীবন থেকে একে একে উঠে এলো অনুপমার প্রেম, দেবদাস,কাশীনাথ, বড়দিদি,চন্দ্রনাথ,হরিচরণ,শুভদা প্রভৃতি।
 বিধবা নিরুপমার সঙ্গে ঘণিষ্ঠতা চেয়েও সংস্কারের বেড়াজালে শরৎ চন্দ্র থেকে নিরুপমা বিমুখ ছিলেন। এদের দুঃখ নিয়ে একে একে উঠে এলো 'বড়দিদি' মাধবী,'চন্দ্রনাথ'- এর গৃহত্যাগিনী সুলোচনা, অনুপমা সব একে একে বিধবার দু়ঃখ কথা। নারীর প্রেম যত খন্ডিত তত তাঁর হৃদয় হয়েছে মথিত, কেননা খন্ডিত প্রেমই জীবনকে ব্যথিত করে। তাই শরৎ সাহিত্যে নারীর পরিচয় অত্যন্ত সকরুণ। ১৯১২ থেকে ১৯৩৮ পর্যন্ত মেয়েদের নিয়ে তাই একটানা লিখে গেছেন। শরৎ- সাহিত্যের সকল নারী সাধারণ মেয়ে, মধ্যবিত্ত,নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। কেউ বা নিম্নবর্গের, কিংবা সমাজের দৃষ্টিতে ভ্রষ্টা। পতিতা,বিধবা,বৈষ্ণবী,সতী,অরক্ষনীয়া অথবা বিবাহ বহির্ভূত প্রেম - তা যেমনটাই হোক না কেন শরৎচন্দ্র তাদের প্রেমে অভিভূত হয়ে থাকতেন। তারই ফসল নারী চরিত্র অঙ্কনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিঁখুত।
   'বড়দিদি'(১৯১৪) থেকে 'শেষের পরিচয়'(১৯৩৮) - ২৩ খানা উপন্যাসে একের পর এক নারী চরিত্র নির্মানে তিনি ছিলেন অক্লান্ত এক কথা সাহিত্যিক। যেমন সহজ বিষয়, তেমনি কি সহজ ও সুন্দর ভাষা!
   'গৃহদাহ' র অচলা,, অন্যদিকে মৃণাল, 'চরিত্রহীন'এ একদিকে সাবিত্রী, অন্যদিকে কিরণময়ী,'বিন্দুর ছেলে'র বিন্দুবাসিনী,' 'পথের দাবী'র ভারতী, 'মেজদি'র হেমাঙ্গিনী,' 'নিষ্কৃতি'র শৈলজা,'দেবদাস' এর চন্দ্রমুখী,'শুভদা'র কাত্যায়নী' 'আঁধারে আলো'র বিজলীর মতো বারবণিতাকে নিয়ে আখ্যানের  সরলতা, তাদের হৃদয় সৌন্দর্য পাঠককে যুগ যুগ ধরে মুগ্ধ করে আসছে। 
 শরৎচন্দ্রের মতে 'পাপকে ঘৃণা করো পাপীকে নয়',তারই প্রমাণে বহু কুলত্যাগিনী বঙ্গ রমণী পেয়েছিল তাঁর লেখনীতে সহমর্মিতা। তিনি দেখেছিলেন শুধু বিধবারা কুলত্যাগ করেনি, অনেক সধবাও এই পথে এসেছে। অধিকাংশই এসেছে দারিদ্র্য অথবা স্বামীগৃহের অত্যাচার, উৎপীড়নের কারণে। পুরুষ শাসিত সমাজে কেবল নারীদের দোষ দেখানো হয়। তিনি 'নারীর মূল্য' প্রবন্ধে বলেছিলেন - "সমাজ নারীর ভুল ভ্রান্তি এক পাইও ক্ষমা করে না, কিন্তু পুরুষের ষোলো আনাই ক্ষমা করিবে।" প্রচলিত হিন্দু সমাজের রীতি নীতির প্রতি তীব্র অনাস্থা থেকে নারীর প্রতি সহানুভূতিতে তিনি অবিচল ছিলেন।
 পতিতারা তাদের প্রেম, প্রেমের একনিষ্ঠতা ও সেবাপরায়ণতার পরিচয় দিয়েছে। পিয়ারী বাঈ বাল্য প্রণয়ের টানে আজীবন শ্রীকান্তনিষ্ঠ থেকেছে। সাবিত্রী ও সতীশের মধ্যে চলে প্রেমের নানা খেলা,চন্দ্রমুখী অনুরক্ত হয়ে থাকে দেবদাসের প্রতি,বিজলি সত্যেন্দ্রের প্রেমে পড়ে পেশা ছেড়ে বলে - "যে রোগে আলো জ্বাললে আঁধার মরে,সূর্য উঠলে রাত্রি মরে - আজ সেই রোগেই তোমাদের বাঈজী চিরদিনের মতো মরে গেল।"
 বাস্তবে দেখা যায় এই বারবণিতারা ব্যক্তি বিশেষের কাছে আস্থাভাজন হয়, কিন্তু সামাজিক সম্মান অর্জন করেনি। প্রেমের সামাজিক স্বীকৃতি সম্ভব হয়নি বলেই শরৎচন্দ্র লিখলেন - "বড় প্রেম শুধু কাছে টানে না,ইহা দূরেও ঠেলিয়া দেয়।" 
 তাই দেখি সতীশ জীবনসঙ্গিনী হিসেবে সহধর্মিণী গ্রহন করার অধিকার পায়না,কারণ হিন্দুধর্মে বিধবা বিবাহ পাপ। তাই সাবিত্রী প্রত্যাখ্যাতা হয়। এই ভাবে রাজলক্ষ্মী,কমললতা,অন্নদা দিদি সমাজকে অস্বীকার করে ছিটকে আসতে চেয়েছে, কিন্তু সমাজের তুচ্ছ সংস্কারের মোহ ছাড়তে পারেনি। যেমন- 'গৃহদাহ' এর অচলাকে তিনি নৈতিক হিন্দু ধর্মে প্রতিষ্ঠা দিতে পারেননি,কারণ বিবাহোত্তর নারীর প্রেম সমাজ- বিরুদ্ধ কাজ। স্বামীর প্রতি হৃদয়ের একাগ্রতা হারানো অপরাধ। একনিষ্ঠতার অভাব পাপাচার। রুগ্ন মহিমকে একা গাড়িতে ফেলে সুরেশের একা অচলাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া সমাজ বরদাস্ত করেনি, সমাজের চোখে সুরেশ ঘৃণিত। অচলাও স্বামীর প্রতি সেবাপরায়ণ মনোভাব দেখাতে পারেনি। পারেনি স্বামীর প্রতি দেহ মন প্রাণে পূর্ণাঙ্গরূপে সমর্পিত হতে। আর এর কারণে তার শেষ পরিণতি নিরাশ্রয়তা। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতা।
 এইভাবে সমগ্র সাহিত্য জুড়ে নারীই যেন শরৎ-সাহিত্যের নানা গতিপ্রকৃতিতে মুখর হয়েছে। নারীর জন্যই যেন কলম ধরতে বাধ্য হয়েছিলেন। আর তারই ফলস্বরূপ দ্রুত নারী জাগরণ যে এসেছে এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
          #____#

শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১

#কপিরাইট ও বৈষম্য -✍️ মৃদুল কুমার দাস।

# নাম- কপিরাইট ও বৈষম্য। 
      (২ফেব্রুয়ারী,২০২১)
    যে কোনও জাতির বুনিয়াদ গড়ায় ভাষা প্রধান হোতা। ভাষা আমরা যত বলি,তার চেয়ে কম লিখি,তারও চেয়ে কম পড়ি। কেউ কেউ আবার বই দিয়ে ড্রইং রুম সাজান। 
    গ্রন্থপাঠক,গ্রন্থগ্রাহক - দু'য়ের যোগফল হল বিশ্বের গ্রন্থগরীমা। আর এই দু'য়ের সংযোগ সেতু গ্রন্থ-কারবারী। এই তিনের গতিপ্রকৃতিতেই বিশ্বে গ্রন্থ-সাম্রাজ্য চালিত হয়। তবে এই সাম্রাজ্যে এই তিনের অভিমুখ তিন রকম। গ্রন্থ-কারবারীদের দ্বারা দেশের পুঁজিবাদী শক্তির একটা অংশ প্রভাবিত হয় নিঃসন্দেহে। প্রমাণ ইউরোপ। ইউরোপে গ্রন্থপাঠকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। আর ঠিক এই জায়গায় দাঁড়িয়ে কপিরাইট যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের মূলে কীভাবে আছে তা জলের মতো পরিষ্কার।ভাষা,সাহিত্য,পাঠক,ক্রেতার চাহিদাকে গ্রন্থ প্রকাশক ও বিক্রেতা যেমন বুঝবেন,তেমনই দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদের একটা অংশের সুরাহা হয়ে থাকে। প্রমাণ ইউরোপ। ইউরোপে গ্রন্থপাঠকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। আর ঠিক এই জায়গায় দাঁড়িয়ে কপিরাইট যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের মূলে কীভাবে আছে তা জলের মতো পরিষ্কার।
   আন্তর্জাতিক বাজারে কপিরাইটও অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আরও দৃষ্টিকটু করেছে। ছোট ছোট দেশ,পিছিয়ে পড়া দেশে ভাষা ও সাহিত্য চর্চা প্রকাশক ও বিক্রেতার মত,বইয়ের কপিরাইট  উঠে গেলে মুনাফা বেশী হবে।
    বাংলা বইয়ের বাজারের এখানেই গন্ডগোল। বাজার সীমিত। ক্রেতার পকেটে টান। আর মুনাফাখোরদের মুনাফার লোভে গ্রন্থ পড়ে যে কোনো মুহূর্তে আসল নকল একাকার হয়ে যায়। একবার ঢাকায় বইমেলায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় গেছেন আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে। একটি স্টলে গিয়ে দেখলেন তাঁর রচিত 'রাধাকৃষ্ণ' বইটি ঝড়ের মতো বিক্রি হচ্ছে। দামে খুব সস্তা। পাঁচ ছ'কপি 'রধাকৃষ্ণ'-তে অটোগ্রাফ দিয়ে স্টল থেকে বেরিয়ে সঙ্গী বাদল বসুকে বললেন- "সব ক'টা বই জাল ছিল।"
   এখানেই দেশভেদে কপিরাইট উঠে যাওয়া আর উঠে না যাওয়া নিয়ে যৌক্তিকতা বিচার্য খুব সেনসিটিভ বিষয়। তার চেয়েও জরুরী এটাই ভাবা উচিত,কোনটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ- বেশী মুনাফা,নাকি বেশী মানুষের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া?
  ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 
  @ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

#বঙ্গ - পূর্ব ও পশ্চিম - ✍️ -মৃদুল কুমার দাস।

শুভ সান্ধ্য আলোচনা-বাসর।
   #বিষয় - বঙ্গ আমার জননী আমার। 
     # নাম- পূর্ব ও পশ্চিম- বঙ্গ।
      ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

       বঙ্গের আগে পূর্ব ও পশ্চিম নিয়ে বঙ্গের পরিচয় বঙ্গবাসীর এ এক দুর্ভাগ্যের কাহিনী। অখন্ড বঙ্গের একটি পৌরাণিক কাহিনী বলি তাহলে।
    পুরাণে মহর্ষি দীর্ঘতমস ছিলেন জন্মান্ধ। মহর্ষির স্ত্রীর নাম প্রদ্বেষী। কয়েক সন্তানের জননী। কিন্তু মহর্ষির সঙ্গে স্ত্রীর বনিবনা না হওয়ার জন্য দাম্পত্য সঙ্কটে তাদের সুখ দুরস্থ। 
  একদিন প্রদ্বেষী পুত্রদের নির্দেশ দিলেন তাদের বাবা দীর্ঘতমসকে গঙ্গায় ফেলে দিয়ে আসতে। ছেলেরা মায়ের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করল। অন্ধ মহর্ষি ভাসতে ভাসতে দৈত্যরাজা বলির আশ্রয়ে এলেন। 
 এদিকে বলিরাজা ও তাঁর স্ত্রী সুদেষ্ণা নিঃসন্তান। মহর্ষির স্পর্শে সুদেষ্ণা পাঁচটি সন্তানের জন্ম দিলেন। এই পাঁচ পুত্র - অঙ্গ,বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুন্ড্র ও সুহ্ম। এদের নামে এক একটি দেশ। দেশগুলি সব উত্তর-পূর্ব ভারতের।
   অঙ্গ হল রাজশাহী ও ভাগলপুর। উত্তরে ভাগীরথী থেকে দক্ষিণে গোদাবরী পর্যন্ত কলিঙ্গ,অধুনা উড়িষ্যাকে বলা হয়। অঙ্গ ও কলিঙ্গের  পূর্ব- প্রদেশের নাম বঙ্গ বলে অভিহিত হয়। রাজসাহী বিভাগের পশ্চিমাঞ্চল হলো পুন্ড্র। বর্ধমান ও মেদিনীপুরের পূর্বাংশ বঙ্গ,আর এই বঙ্গের পশ্চিমভাগে সমগ্র বর্ধমান সুহ্ম রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।  
 বায়ু,বিষ্ণু,মৎস,মার্কেন্ডেয় প্রভৃতি পুরাণে এই পাঁচটি নামের উল্লেখ পাই।
  বঙ্গ নামের নেপথ্যে এই পৌরাণিক কাহিনী বাঙালি এখন প্রায় ভুলতে বসেছে।
  নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ে এই বঙ্গ থেকে বাঙালি জাতি অস্ট্রিক-দ্রাবিড়-মঙ্গোলয়েড- আর্যজাতির মিশ্রিত এক জাতি। আবার পরবর্তী সময়ে ইসলাম,বৌদ্ধ, জৈন,বিভিন্ন বহিরাগত রাজবংশ পাল,সেন মিশ্রনে এই মিশ্র জাতি থেকে এল জাতপাত, সম্প্রদায়,শ্রেনি ইত্যাদির বিভাজন। তার মূলে ভৌগলিক সীমা,পরিবেশও পরিচয়কে প্রভাবিত করল। ব্রিটিশ সরকারের সাম্রাজ্য বিস্তারের সুবিধার্থে বঙ্গ-বিভাজন ছিল একটি অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা।
 ভৌগলিক বিচারে গঙ্গা ও ভাগরথীকে মধ্যস্থ মেনে বঙ্গের আড়াআড়ি বিভাজন সাম্রাজ্যবাদীর অসৎ উদ্দেশ্যে বাঙালি হল প্রশাসনিকগত বলির পাঁঠা। গঙ্গা-ভাগীরথীর এপার ওপার। লোকসংস্কৃতি যার প্রাণের বন্ধন। ভৌগলিক সীমানায় বাহ্যিক পরিচয় বাঙালির দ্বৈত সত্তা- হিন্দু বাঙালি ও মুসলমান বাঙালি। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব দিক পূর্ববঙ্গ। পশ্চিম 
দিক পশ্চিমবঙ্গ। 
 স্বাধীন ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম মুছে দিয়ে অখন্ড বঙ্গদেশের তকমা নিয়ে গঙ্গা ভাগীরথীতে অনেক জল গড়িয়েছে। কিন্তু হিন্দু ও মুসলিম বাঙালির তকমায় মেরুকরণ দিয়ে হল পাঞ্জালড়াই। ইতিহাসে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম,উদ্বাস্তু সমস্যার কি না ঘটেনি। বাঙালি দুই স্বাধীন দেশের দ্বিধাবিভক্ত। গঙ্গা-ভাগীরথী পূর্ব ও পশ্চিম জাতিসত্তায় দ্বিধা বিভক্ত। কিন্তু সাংস্কৃতিক সত্তায় মেরুকরণ অসম্ভব। রাজনীতি তিস্তার জলে সীমাবদ্ধ,মেরুকরণ দুই দেশ। কিন্তু অন্তস্থলে সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের ফল্গুস্রোত জাত্যাভিমান মুছে দেয়। এখানেই বাঙালি হিসেবে চির গৌরবের অঙ্গীকার হৃদয় থেকে হৃদয়ান্তরে।
 ধন্যবাদ।  নমস্কার। ❤❤🙏🙏
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

#গীতি সত্ত্বায় রবীন্দ্রনাথ ও নরেন্দ্রনাথ - ✍️ মৃদুল কুমার দাস


   # বিষয়- নিবন্ধ।
      # নাম- গায়ক নরেন ও জোড়াসাঁকো।
        ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

    
       নরেন্দ্রনাথের মধ্যেও যে গীতি-সত্তার অলৌকিকতা বিরাজ যে করছে তা রবীন্দ্রনাথের কাছে অল্প স্বল্প খবর ছিল। 
    রবীন্দ্রনাথের কিছু কিছু গান নরেন্দ্রনাথের ভালো লাগত। কন্ঠ্যস্থও ছিল। যেমন, 'তোমাকেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা...' - গানটি বিভোর হয়ে প্রায় গাইতেন নরেন্দ্রনাথ। 
      এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী ১৮৮১। জুলাই মাস। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঋষি রাজনারায়ন বসুর চতুর্থ কন্যা লীলাবতীদেবীর বিয়ে। পাত্র কৃষ্ণ কুমার মিত্র। বিয়ে শ্রাবণের ১৫ তারিখে। অনুষ্ঠানটি হবে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের মন্দিরে। খুব ধুমধাম সহকারে। এই উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ তিনটি গান বাঁধেন। নিজেই সুর দিলেন। 
      প্রথমটি সাহানা ঝাঁপতালে- 'অবশেষে জীবনের মহাযাত্রা ফুরাইলে/তোমারি স্নেহের কোলে যেন গো আশ্রয় মিলে,/দুটি হৃদয়ের সুখ দুটি হৃদয়ের দুখ/দুটি হৃদয়ের আশা মিলায় তোমার পায়।' 
   দ্বিতীয়টি খাম্বাজ একতালে- 'জগতের পুরোহিত তুমি...', 
   তৃতীয়টি বেহাগ তেতালে- 'শুভ দিনে এসেছ দোঁহে...'। 
  সমস্যা হল কাকে দিয়ে গাওয়াবেন। হতে হল বৌঠান কাদম্বরী দেবীর দ্বারস্থ। বৌঠান কাদম্বরী দেবী নরেনকে দিয়ে গান গাওয়াতে বললেন। নতুন বৌঠান কাদম্বরী দেবী নরেনের অনেক পরিচয় দিলেন- 
   "নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত। প্রায়শই আসে বাবা মশায়ের কাছে। বাবা ম'শায়কে গানও শোনায়। বাবা ম'শায় ভারি স্নেহ করেন ওকে।আর বলেন,যেমন গান-বাজনায়, তেমনি লেখা-পড়ায়। তাছাড়া নানা আধ্যাত্মিক সংশয়ের মধ্যে রয়েছে ছেলেটি। কী যেন খুঁজছে সারাক্ষণ।কি ভরাট কন্ঠ্যস্বর! আর কি ব্যক্তিত্ব!" 
রবীন্দ্রনাথের মনে পড়ল নরেন্দ্রনাথের মুখ। প্রায়ই ব্রাহ্মসমাজের অনুষ্ঠানে গায় বটে! নরেনকে পেতে দ্বীপেন্দ্রকে বলা হল বাড়িতে নিয়ে আসতে।   গানের তালিম নিতে হবে যে।
    জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে নরেন্দ্রনাথ হাজির। দক্ষিণের বারান্দায় মুখোমুখি রবীন্দ্রনাথ ও নরেন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ অপূর্ব কন্ঠ্যস্বরে ও রসবাণীর সূক্ষ্ম জ্ঞানে প্রথম গানটি গাইছেন। আর নরেন্দ্রনাথকে নির্দেশ দিচ্ছেন। আশ্বস্থ করছেন দু'একবার প্র্যাকটিস করলেই গানটি উঠে যাবে।
         মুহূর্তে নরেন্দ্রনাথ বললেন তার আর দরকার নেই। শুনে শুনেই গানটি আয়ত্বে এসে গেল। নরেন্দ্রনাথ গানটিকে অপূর্ব কন্ঠ্যস্বরে রবীন্দ্রনাথকেও ছাপিয়ে গাইলেন। রবীন্দ্রনাথতো শুনে থ'। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন এক বোদ্ধা আরেক বোদ্ধার দিকে।
        ঠাকুর বাড়ির দুটি গানে খুব শান্তি পেতেন নরেন্দ্রনাথ। একটি দ্বীজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা- 
    'অনুপম মহিম পূর্ণ ব্রহ্ম কর ধ্যান।'
    আর অপরটি রবীন্দ্রনাথের। যেমন,
   'মহাসিংহাসনে বসি শুনিছ হে বিশ্ব পিতা/তোমার রচিত ছন্দে মহান বিশ্বের গীত।/মর্ত্যের মৃত্তিকা হয়ে ক্ষুদ্র এই কন্ঠ্য লয়ে।/আমিও দুয়ারে তব হয়েছি হে উপণীত।/কিছু নাহি চাহি দেব, কেবল দর্শন মাগি।/তোমারে শোনাব গীত, এসেছি তাহারি লাগি।...' - এই গান গাইতে গাইতে নরেন্দ্রনাথ খুব কেঁদে উঠতেন। গভীর ধ্যানের সঙ্গে এই গান মিশে যেত। এই গানেই নরেন্দ্রনাথ খুঁজে পেতেন, প্রাচীন ভারতের ঋষি-মন্ত্র। কি প্রত্যয়! কি ভক্তি, প্রেম,ও আত্ম সমর্পণের আকূতি! 
  ব্রাহ্মসমাজ থেকেই তিনি সঙ্গীতবোদ্ধা অচিরেই প্রমাণিত হল। ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবেরও ব্রাহ্মমমাজে যাতায়াত ছিল। ব্রাহ্মসমাজ মতবিরোধ থেকে ত্রিখন্ডিত হলেও নরেন্দ্রনাথের যাতায়াত ছিল সর্বত্রগামী। উপণিষদের উপাসনা মন্ত্র ছিল নরেন্দ্রনাথের ব্রহ্মোপাসনার একমাত্র উপায়। ব্রাহ্মসমাজ সেই সেঁতু। 
    সেই পথ ধরে নরেন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে পৌঁছে গেলেন।এরপর সঙ্গীতময় জীবন ঠাকুরে নিবেদন করে ঈশ্বর লাভের পথে তিনি ভারতীয় আধ্যাত্মিকতার পথিক হবেন।                               
                 ******
  @ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১

# নাম - সতীত্ব ও সহমরণ। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ আধ্যাত্মিক আলোচনা-বাসর।
#বিষয় - *আধ্যাত্মিক।*
  #নাম - *সতীত্ব ও সহমরণ।*
   ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

*"আত্তার্ত্তে মোদিতা হৃষ্টে প্রোষিতে মলিনা কৃশ।*
*ত চ ম্রিয়তে পত্যৌ সা স্ত্রী জ্ঞেয়া পতিব্রতা।।"*- যে রমণী স্বামীর দুঃখে দুঃখিতা,স্বামীর সুখে সুখিনী,স্বামী প্রবাসী হলে মলিনা ও কৃশাঙ্গী হন এবং যিনি স্বামীর মরণে সহমৃতা হন,শাস্ত্রে তাঁকে পতিব্রতা রমণী বলে। সতী,সীতা, সাবিত্রী,দময়ন্তী,অরুন্ধতী,বেহুলা সব আদর্শ সতীনারী যাঁরা ব্যবহারিক জীবনের নারীদের মডেল। নারীসমাজ কথাটিতে নারীই একম অদ্বিতীয়ম। সেখানে কেবলমাত্র মেয়েলি আদব কায়দা,লোকাচার, স্ত্রী আচার!  বিপরীতে পুরুষসমাজ,পুরুষের একাধিপত্য। 
 শঙ্করপত্নী *সতী* সতীত্বের পূর্ণপ্রতিভূ। তিনিই সতীত্বের উৎস।   বালিকা থেকে কুমারী হওয়ার জ্ঞাণোদয় হলে সতীর আদর্শে অনুগতা হয়ে অনুশীলনে ব্রতী হয় মেয়েরা। শিবপূজা তার সতীত্বের অনুসঙ্গ। তাই লোকাচার। এই দেবভক্তি থেকে পুণ্য,পবিত্রতা ও ভক্তিমতী ভাব আসে। বারব্রতধারিণী হয়। সংসারের পুণ্যার্থে এক অপূর্ব পবিত্রতার বলয়ে নিজের অবস্থানকে সুরক্ষিত করে। 
 বিবাহকালে সতীত্বের প্রধান বিচার্য বিষয় কতটা ভক্তিমতী। শিক্ষাসংস্কার,সংস্কৃতিমনস্ক,রুচিশীলতা,রন্ধনপটিয়সী,সেবাব্রতিনী একেবারে সবেতেই পরিপূর্ণা হতে হয়। আর হিন্দু সমাজে মেয়েদের মাতৃরূপের প্রাধান্য বলে গৃহবধূ হতে গেলে সতীত্বের সে কত বাছবিচার। মেয়ে হয়ে জন্মালে পরের ধন হয়ে বাপের কাছে,স্বামীগৃহে প্রবেশ কালে সতীত্বের পরীক্ষা একটা লোকাচারে পর্যবসিত হয়েছে।
 গৃহবধূ হলে রূপে লক্ষ্মী ও গুণে সরস্বতী হওয়া চাই। 
   এতসব বাছবিচারের পর ব্যবহারিক জীবনে নারীর স্থানের কথায় আসি এবার।
 কন্যাকে অপরূপা হতে হবে। নম্রা,রুচিশীল, চলনে ভীতা- শঙ্কিতা,কমলমতী,গৃহনিপুনা হতে হবে। তারপর পাকা দেখা। সেই সঙ্গে দানসামগ্রীতে মেয়ের মূল্য নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ পণ-এ হল মেয়ের মূল্য নির্ধারিত হয়। 
  সতীত্বে সতী, সীতা, সাবিত্রী, দময়ন্তী চাই। আর পণের সময় সমাছকে নাককাটা নির্লজ্জ মনে হয়। এখন আবার বলে দাবী নেই *যা দেবেন* - যা দেবেনের হাঁ বেশী। বাবা তো খালি হাতে পাঠাতে পারেন না। মেয়ে শ্বশুরবাড়ীতে প্রবেশের পর বধূবরণ উৎসবে যৌতুক নিয়ে কানাকানি ফিসফিসানি দেখলে মনে হবে সতীত্বের সাথে এগুলো হল মেয়েটির ব্যবহারিক মূল্য, যা সতীত্বের মর্যাদা বাড়ায়। কি সমাজ! এই পণ নিয়ে টানাপোড়েন অনেক সময় সতীত্ব বৃথা হয় ,পাকা দেখা থেকে বিয়ে ভেঙে যায়। কখনো বা বিবাহস্থল থেকে বর তুলে নেওয়ার ঘটনা প্রায়শই ঘটত। এখনও। 
  একজন সতী নারীর গুণ নিয়ে শ্বশুরবাড়ীতে প্রবেশ কি লোকাচারের গুমোর! শ্বশুরবাড়ী বলা হয়,শাশুড়ী গৃহকর্তৃ। সংসারের অন্দরে আধিপত্য তাঁর।  আগেই বলেছি মাতৃপ্রধান সংসার,বধূর প্রাধান্য থাকেনা। পাশ্চাত্যে বধূর প্রাধান্য। মেয়ে ও পুরুষে স্বাধীকারের প্রাধান্য। সতীত্বের মাপকাঠি নেই। স্বামী দেবতা,সে দেবত্বগুণ থাকুক বা নাই থাকুক, স্বামীকে দেবতা বলতে হয়। পাশ্চাত্যে ওটি চলবে না। দেবত্বগুণ থাকলে তবেই তুমি স্বামীদেবতা। হিন্দু ধর্মে কেবল এই স্বামী দেবতার কথা আছে। বড়ই গন্ডগোলে ভাব  ছিল। এখনো তাই মনে হয়।
   সতীত্বের কিছু প্রমাণ বাকী থাকে বলে তাই মাতৃত্বের অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে থাকতে হয়। সংসারের ট্রেনিং চলে শাশুড়ি ট্রেনার। এই শাশুড়ি নামক আইটেমটি আর্থসামাজিক অবস্থার উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির হন। একদিন শাশুড়ি যেদিন গৃহবধূ ছিলেন সেদিন তাকে তাঁর শাশুড়ি যে যে আচার ও নিয়ম মেনে আসতে বাধ্য করতেন ইনিও তাই করবেন। সংসারের ঐতিহ্য বলে একটা মডেল সামনে থাকবে। এখন আধুনিক শিক্ষা দীক্ষায় তার বদল কিছুটা এলেও পুরোপুরি বদলায়নি। চাকরিওয়ালা মাধ্যমে মেয়েদের ঘরে ও বাইরে সামাল দিয়ে খুব একটা স্বস্তি নেই, তবে রোজগারের দিক বলে সবাই মানানোর চেষ্টা করে। খটামটি হামেশাই লেগে থাকে সংসার যাঁতাকলে। এতো গেলো সমাজ সাংসারের ব্যবহারিক দিকের কথা। সতীত্ব অর্থনৈতিক তুল্যমূল্য বিচার্য।
 তারাই সতী নারী যাঁরা স্বামী ভিন্ন পরপুরুষের চিন্তাকে পাপ মনে করে। অসতী বলে চিহ্নিত হয় যদি অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এখন আইন পর্যন্ত এই পরকিয়া সম্পর্ককে বৈধতা দিতে বাধ্য হয়েছে। আধুনিকতার খাতিরে। জীবনের দাবীতে। এতদিন নারীর সতীত্ব নিয়ে যা ভেবে এসেছি তা ভেক। সতী,সীতা,সাবিত্রী হলে ব্যবহারিক ভোগ,ব্যবহারিক জীবনের আইনী বৈধতাকে অস্বীকার করা থেকে সরিয়ে রাখা মানে অনেককিছু থেকে বঞ্চিত করে রাখা। অর্থাৎ জীবন এখন খুব বৈজ্ঞানিক পথে হাঁটতে চায়। সেখানে সতীত্বের ফাঁকা বুলি অস্বীকার করলে কোনো যায় আসে না। সতীত্বেও এখন আপেক্ষিক গুণাগুণ এসেছে জুটেছে।
 সতীত্ব নিয়ে বিতর্ক এখন মেলা। আর সহমরণের দিন শেষ। সহমরণ কথাটা নিতান্তই ভেক। সহমরণের যুগকে অভিশপ্ত মানে আধুনিক সমাজ। সতীত্ব ও সহমরণ কথাটা নিতান্তই সেকেলে। সেকেলে ধরনে আটকে। বরং আধুনিক জীবনে নারী ও পুরুষের যৌথ সম্পর্কে ও সমানাধিকারে সমাজ কতটা উন্নত হবে তাই ভাবার দিন এখন। মাতৃত্ব ও বধূর মধ্যে যত দূরত্ব কমবে তত সাংসারিক অশান্তি কমবে। বধূনির্যাতন কমবে। নারী স্বাধীনতার নতুন সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে আমাদের কাছে সতীত্ব ও সহমরণ নামক ভাববাদ থেকে ক্রমে সরে এসে সমসাময়িক প্রগতিশীল ভাবনার সঙ্গে যত সমবেত হব তত সমাজ ও সংসার নতুনভাবে সজ্জিত হবে।
                 *****
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...