বুধবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২২

এখনও খুঁজি(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


এখনও খুঁজি

সুদেষ্ণা দত্ত

 

 থিয়েটারকে করে অনাথ--

‘পাগলা ঘোড়া’, ‘কথা অমৃতসমান’, ‘নাথবতী অনাথবৎ’,

চিতার এক একটা পোড়া কাঠ--

বলে যায় জীবনের নানাপাঠ,

ফুলভারে দেহ প্রদর্শনে অনীহা প্রকট,

তাই নীরবে চলে যায় শববাহী শকট।

 

চরণযুগল তুলেছে লহর--

মৃদু বা প্রবলে মেতেছে নগর,

রবিশঙ্করের ‘লয়ের পুতুল’,

অভিনেতা-আমজনতা শিখেছে কত্থকের বোল।

হঠাৎ নীরব ছন্দ পায়ের

ঘুঙুর ছিঁড়ল মহারাজের।

 

মজার ছবি রঙ—তুলিতে

বাঁটুল,হাঁদা-ভোঁদা,নন্টে-ফন্টের দুস্টুমিতে,

পিঠে পড়ত যখন মায়ের শাসনের হাত,

ক্ষত’য় মলম হতেন নারায়ণ দেবনাথ।

ছিল না স্মার্টফোন,ভিডিও গেম বৈভবের

কাটল সুতো শৈশবের।

 

যুগ এক একটা যায় হারিয়ে--

আমরা এগিয়ে চলি পথের ধুলো মাড়িয়ে,

‘শব’ হলে অকৃপণ হাতে খরচ করি কত শব্দ—

তবু থেকে যায় প্রিয়জন-প্রয়োজনের নিকটে কত ঋণ লব্ধ।

ন্যুব্জ হতে বাধা যখন অহমিকা।

 

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

ছবি:সংগৃহীত

 

 

 

 

 

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২২

প্রণমি তোমায়

*নারায়ণ দেবনাথের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন* 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন বাংলা কমিকসের জনক
আজ থেকে শুকতারার পাতায় থাকবেনা কোনো চমক।

আকাশের বুকে উনি আঁকুন ছবি নিয়ে রং তুলি
বাঁটুল, নন্টে ফন্টের স্রষ্টাকে মোরা যেনো কভু না ভুলি।

ভালো থাকুন তারাদের দেশে,
আর মর্ত্যে আপনার সৃষ্টিরা বেঁচে থাকুক
বাঁটুল,কেলটু,নন্টে ফন্টের চোখ দিয়েই আগামী প্রজন্মরা আপনাকে চিনুক।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২২

মকর সংক্রান্তি

মকর সংক্রান্তি 
✍️ডা: অরুণিমা দাস

আজি মকর সংক্রান্তির পূণ্য দিনে চলছে গঙ্গাসাগর মেলায় যাওয়ার প্রস্তুতি
গঙ্গা স্নানে পূণ্য মেলে,তাই সকলে উঠেছে উৎসবে মাতি।

দুর দুরান্ত থেকে আসছে পুন্যার্থীরা কপিল মুনির আশ্রম দর্শনে
মনস্কামনা যে হবে পূরণ সাগর মেলায় সাগর স্নানে।

কেউ বা আবার ব্যস্ত রয়েছে টুসু দেবীর  আরাধনায়
তিন দিন তিন রাত্রি কাটে উপাসনা আর নাচ গানের মূর্ছনায়।

পৌষ মাসের শেষ দিনে চলছে পিঠে পুলি তৈয়ারী
সাথে আছে নলেন গুড়ের পায়েস,মন যে খুশি ভারী।

পাশাপাশি চলছে সবার ঘুড়ি ওড়ানোর আয়োজন 
মাঞ্জা,লাটাই সবই আছে,আকাশ হয়েছে ঘুড়ীদের রঙে রঙিন।

এই ভাবেই উৎসবে মেতে আনন্দ গানে সকলের দিনটি কাটুক
কাল থেকে না হয় শুরু হবে তিনশো পয়ষট্টি দিনের অপেক্ষা,আজ খুশিতে মাতুক।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২২

আমার মন চলে যায় ভ্রমণে ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার মন চলে যায় ভ্রমণে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
 

মেঘের সঙ্গী হতে যে চায় মোর এই মন 
যাওয়া যাবে সবখানে, চাইবো যখন।

কখনো বা দেখতে চায় কাঞ্চনজঙ্ঘার সূর্যোদয়
কোনোদিন বা পৌঁছে যাবো মরুভূমি,বালুকাময়।

মন যে করে উড়ু উড়ু, চায় যেতে দুর বহুদূর
কল্পনার পাখায় ভর করে,ইছেশক্তি যে ভরপুর।

ডাকছে আকাশ,ডাকছে বাতাস ডাকছে যে প্রকৃতি
বেরোতে যে চাইছে মন,ইচ্ছেরা দিচ্ছে উঁকি ইতি উতি।

দিচ্ছে যে হাতছানি, গ্রাম ছাড়া ওই রাঙামাটির পথ 
মন আজ খুশিতে পাড়ি দিতে চায়,চড়ে ইচ্ছের বিজয়রথ।


   

ছাড়িস না হাত আমার ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

*বিষয় - চিত্রালোচনা* 
 *ছাড়িস না হাত আমার* 
✍️ *ডা: অরুণিমা দাস* 

যাস না ছেড়ে আমার এই হাত,রাখবো আগলে জীবনভর 
তোর মতন আপন আর নেই তো কেউ আমার।

একসাথে পাড়ি দেবো সুখ দুঃখের পথে
আসুক যতই বাঁধা,লড়বো একসাথে।

জীবনের রাস্তা নয়কো সোজা, আঁকা বাঁকা ভীষণ
হাতে হাত রেখে চলবো মোরা, হারবোনা কোনোদিন।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

আশার আলো- মুছে দিক সব কালো ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

*আশার আলো- মুছে দিক জীবনের সব কালো* 
✍️ *ডা: অরুণিমা দাস* 


সূর্যের আলোয় ভরে উঠেছে সারাঘর,ভাঙলো ঘুম তিথির
যেতে হবে কলেজ, বাড়ি থেকে যে তা বহুদূর।

যাওয়ার পথেই চোখ বুলিয়ে নিতে হবে বইয়ের পাতায়, সময় যে খুব সীমিত
রাতে পড়াশোনা হবে না আর তার, গ্রাম যে তার বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত।

চেষ্টা ছাড়েনি সে, কখনো পড়েছে হারিকেনের আলোতে কখনো বা ল্যাম্প পোস্টের আলোয়
বাবা বলে হবি কি তুই বিদ্যের সাগর, থাকতে হবে তো সেই স্বামীর পায়ের তলায়।

গর্জে উঠে তিথি বলে সেসব দিন কবেই গেছে, পড়াশোনা করে স্বনির্ভর হবো আমি
গ্রামে ছড়িয়ে দেবো শিক্ষার আলো,বোঝাবো সকলকে শিক্ষার চেয়ে নেই কিছু দামী।

মা এসে জড়িয়ে ধরে বলে তিথিকে,তুই হলি আমাদের আঁধারি জীবনে চাঁদের আলো
হবি যেদিন শিক্ষিত, করবি দামী চাকরী, ঘুচবে মোদের জীবনের কালো।

থাকবেনা গ্রাম অন্ধকারে,একদিন ঠিক উঠবে ভরে বিদ্যুত আর শিক্ষার আলোয়
আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে বুকে, মোরা রইবো সবাই সেই দিনের অপেক্ষায়।।


©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

লহ প্রণাম হে বীর

*লহ প্রণাম হে বীর* 
  ✍️ *ডা: অরুণিমা দাস* 

হে মহামানব আজি তোমার জন্মদিনে
প্রণাম জানাই তোমার চরণে।
তোমারি আদর্শে যেন সদা চলতে পারি 
ঈশ্বর কে সেবি, জীবে প্রেম করি।
ভুলে সব ভেদাভেদ,উঁচু নীচু জাত পাত
সবার তরে বাড়িয়ে দিই সাহায্যের হাত।
হিন্দু ধর্ম পেয়েছিল মর্যাদা তোমারই চেষ্টায়
তোমার কর্মকাণ্ড সব রয়েছে  মনের খাতায়।
ধন্য হয়েছে এই ভুবন মহামানবকে পেয়ে
থাকবে তুমি বেঁচে চিরদিন মানব হৃদয়ে।

 ©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

# নাম - স্বামী বিবেকানন্দ। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

#বিষয় - *জন্মদিন-স্মরণে।*
  #নাম - *'স্বামী বিবেকানন্দ।'*
  ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

দক্ষিণেশ্বরে নরেন্দ্রনাথের অচিরেই যোগাযোগ ঘটল। মিত্তির ম'শায়ের বাড়ীতে নরেনকে দেখে সপ্তরথির এক রথি দিব্য দৃষ্টিতে দেখলেন ঠাকুর। তাঁকে জড়িয়ে ধরতে খুব ইচ্ছে করছিল, কিন্তু চারদিকের মানুষ ও লোকলজ্জাজনিত কারনে নিজেকে সংযত রাখলেন। আর যাওয়ার সময় ঠাকুর নরেনকে দক্ষিনেশ্বরে আসার জন্য ডেকে গেলেন। নরেন রাজি হলেন,ও সে নাহয় হবে এমন একটা ভাব নিয়ে। 
  নরেন পায়ে পায়ে একদিন গেলেন। প্রথম প্রথম বিশ্বাসই হচ্ছে না ঈশ্বর দর্শন করাতে পারবেন কিনা। আর সেই নরেন ঠাকুরের তিরোধানের মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে নরেন্দ্রনাথ কি হয়ে যাবেন ঠাকুরের কৃপায় সে তো সবার জানা।
   নরেন ঠাকুরের সংসারে ঢুকে জানতে পারলেন- 
এই জগতের রূপ এক নির্বাক শূন্য ব্রহ্মান্ডের মধ্যে প্রকাশিত যা অসীম মর্ত্য সীমায় এক আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নেমে এসেছে। প্রকৃতি তাঁরই অলঙ্কার। তাঁকেই প্রকাশের জন্য মানুষের আকূতি থেকেই ঈশ্বর লাভের পথ খোঁজে। ঈশ্বরকে খুঁজতে গিরি গুহায় সাধু তপস্যার পথগামী হন। জগৎ সংসার তুচ্ছ জ্ঞান হয়। সকলের যদি এই ইচ্ছা পূরণ হত তাহলে সব মানুষ তো সাধু হয়ে যেতেন। কিন্তু তা তো নয়। হওয়ার কথাও নয়। মানুষ জগতের অংশ। পঞ্চভূত থেকে জন্ম। পঞ্চভূতের অংশ। এই জগৎ তার জন্য। জগত সংসারকে উপেক্ষা করে বাঁচা অসম্ভব। তাই মানুষ থাকে জগতের সীমাবদ্ধতার মধ্যে। স্বভাব তার সীমাবদ্ধ। তাই কোনো বস্তু যদি সীমাবদ্ধ হয় তবেই সে ভাল বোঝে। তাই কোনো কিছু বোধগম্য হতে হলে বস্তুকে বিভাজিত ও সীমিত হতেই হবে।
     যেহেতু ঈশ্বর ও তাঁর শক্তি অবিভাজ্য ও অসীম, সেহেতু সীমাবদ্ধ মানুষের পক্ষে ভাগবতীয় শক্তি বোধগম্য হওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। সাধু-সজ্জন ব্যতিক্রম। তাঁদের সংখ্যা মুষ্ঠিমেয়। জগত সীমাবদ্ধ চেতনা সম্পন্ন মানুষের। অবতার ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ঈশ্বরের অংশ হয়েও শিষ্য নরেন্দ্রনাথকে জগৎ-নিরপেক্ষ হয়ে থাকতে দিলেন না। নরেন্দ্রনাথ জগৎ থেকে নির্বাসন চাইতেই ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে স্বার্থপরের দাগা দিলেন। ওটি হবে না। জগতকে শিক্ষা দিতে এসেছ, শিক্ষা দিতে হবে... ঘাড় পারবে।
    কী সেই শিক্ষা?
    'জীব সেবা শিব সেবা'।
দেশে ধর্মের ছড়াছড়ি। তার উপর খ্রিস্টানরা রাশি রাশি পাথর ঠেসে গুঁজে গীর্জার পর গীর্জা বানিয়ে চলছে। ধর্মের কথায় পেট ভরে না কবে ভরেছে? পেটে ক্ষুধা,ধর্মে পেট ভরবে না। গীর্জার বদলে যদি ওরা অন্ন দিত তাহলে মানুষ ধর্মের কথা শুনত। খালি পেটে ধর্ম হয়না। যে অন্ন দেবে মানুষ তার সঙ্গে। এই মর্ম বাণী ঠাকুর শিষ্যের কানে ঢেলে দিলেন। দরিদ্রকে নারায়ণ জ্ঞানে অন্ন সেবা দিতে হবে।
সীমাবদ্ধ চেতনায় আবদ্ধ মানুষ অনন্ত ও অখন্ড ঈশ্বরেরই বা কী বোঝে। বোঝে ক্ষুধা পেটে অন্ন। এই মোক্ষম কাজটি ঠাকুর শিষ্যকে দিয়ে করিয়ে নিলেন। তারপরে অখন্ড ঈশ্বরের কথা, মানুষ,প্রকৃতিও ঈশ্বরের অংশ বলতেই মানুষ কত সহজেই নিতে পারল। জীবে প্রেম থেকে ঈশ্বরে প্রেম এল। অখন্ড ঈশ্বরকে খন্ডরূপে যেই অনুধাবনের মধ্যে এল, অমনি অখন্ড ঈশ্বরের স্বরূপ উপলব্ধিতে আসার সুযোগ পেল। বহুর মধ্যে একত্বের ভাব কত সহজেই আনা গেল। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ স্বামী বিবেকানন্দের মধ্যে সেই ভাববাদের জন্ম দিয়ে জগতকে কি সুন্দর শিখিয়ে পড়িয়ে নিলেন। 
আর পাশ্চাত্য চেনাতেই আমরা চিনলাম। পাশ্চাত্যকে কীভাবে চিনিয়ে ছিলেন! 
চিকাগো বিশ্বধর্ম মহাসম্মেলন। মহাসম্মেলনে প্রাণের আকূতিভরা জলদগম্ভীরস্বরে নিনাদিত কন্ঠে গোটা বিশ্ব শুনবে -
  "সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা..."
এই কথাগুলো বলবেন বলেই কি তাই ভেবে তিনি ভারতবর্ষ ছেড়েছিলেন। না একদম না। 
  কলম্বাস হলের দর্শকাসনে সাত হাজার আমেরিকার বোদ্ধা নরনারী। অদূরে নিউ লিবার্টি বেলে শোনা গেল- টেন সলেম স্ট্রোকস্- সকাল দশটা,১১ সেপ্টেম্বর- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ। ঘন্টার ধ্বনিই যেন বলে দিচ্ছে -
   'A new commandant I give unto you,that you love to another.'
  পূর্ববর্তী বক্তাদের লিখিত বক্তব্য শুনে অভ্যস্ত শ্রোতৃগণ, দেখছেন অপার কৌতূহল ভরা দৃষ্টি নিয়ে,এ কোন সন্ন্যাসী যাঁর হাতে কোনো লেখিত বক্তব্য নেই। হিন্দুধর্মের উপর আলোকপাতের কি-ই বা আছে, তখন পাশ্চাত্য জানত প্রতাপ চন্দ্র মজুমদারের হিন্দুধর্ম, যিনি ( প্রতাপ চন্দ্র মজুমদার) আবার এই মহাসম্মেলনের অ্যাডভাইসরি কাউন্সিলের মনোনীত সদস্য,তাঁর বহূল প্রচারিত বক্তব্যের উর্ধ্বে কি এমন নতুন বার্তা দেবেন। তাই নিয়ে শ্রোতৃগণের অপার কৌতূহল! গোটা হল তখন দেখল এক আলোকময় পুরুষকে। আপাদমস্তক গেরুয়া বসনে আবৃত। নিস্তব্ধ গোটা সম্মেলন কক্ষ।
আর অমনি যেই না জলদগম্ভীর স্বরে নিনাদিত হয়ে উঠল- "হে আমেরিকাবাসী বোন ও ভাইয়েরা..." -সে যেন এক ব্রাহ্মমুহূর্ত! নিস্তব্ধ কক্ষ খান খান, যেন দর্শকাসন হলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট! উল্লাসে আসন ছেড় লাফিয়ে উঠলেন সকলে। ডিসিপ্লিন গেল ভেসে। তালি আর তালি। সে অনেকক্ষণ! 
নিস্তব্ধ ডিসিপ্লিন কক্ষে গুরুই যেন শিষ্যের জিহ্বাগ্রে উপবিষ্ট হয়ে বলতে বলেছিলেন -
    শোনাও তোমার মাতৃভূমির মর্মবাণী 'যত মত তত পথ।' শোনাও আমিই ভারতবর্ষ। দরিদ্র ভারতবাসী,চন্ডাল ভারতবাসী আমার ভাই। শোনাও বিশ্বের জন্য একটা মন্ত্র,যে মন্ত্রে ধর্ম,রাজনীতি,যুদ্ধ,সংঘাত সব দূর হয়ে যাক। সকলে আমার ভাই ও ভগিনী। বাইবেল,কোরান,বেদ জেন্দাবেস্তা সব এক। যথা - 
   *"নদীনাং বহোবম্বুবেগাঃ - যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে। শান্তিই বেদ। ভ্রাতৃত্বই হলো অমৃতত্ত্ব।"*
              ******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
        

     

   

বিবেক(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


বিবেক

সুদেষ্ণা দত্ত

‘বর্তমান ভারত’, ‘কর্মযোগ’ গ্রন্থ আরও কত--

কর্মযোগী তুমি মুছেছিলে সঙ্কীর্ণ রাজনীতির ক্ষত।

ধর্মীয় সংকীর্ণতা পায়নি প্রশ্রয়,

দরিদ্র-অজ্ঞ-মুচি-মেথরকে দিয়েছিলে আশ্রয়।

প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সমন্বয়ে গড়া শীল

বিবিধের মাঝে চেয়েছিলে মিল।

 

তোমার আবির্ভাবের পেরিয়ে একশো ষাট-

বর্তমান ভারত তোমার আদর্শের নিল কত পাঠ!

তোমার সত্যের জায়গা-মিথ্যা করেছে দখল,

স্খলিত যুবসমাজ পরেছে নকাব নকল।

তাদের নাইকো বিবেক—নাই আনন্দ,

মনের ঘরে তাদের শুধু মনের সাথে দ্বন্দ্ব।

 

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

 

 

 

 


বুধবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২২

#নাম- 'সত্য' ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ শব্দ আলোচনা বাসর।
  # বিষয় - *শব্দালোচনা।*
   # নাম - *সত্য।*
  ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

   *"সত্যমেব জয়তে।"*

  *"সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।"* - চন্ডীদাস।

      *"সত্যের জন্য সবকিছুকে ত্যাগ করা যায় কিন্তু কোনো কিছুর জন্য সত্যকে বর্জন করা যায় না।"* - স্বামী বিবেকানন্দ।

      *সত্য* কথাটি জগৎ ব্যাপিয়া কোথায় নেই - সবেতেই। জগৎ যে সত্যের উপর দাঁড়িয়ে সে সত্যকে কেই বা কতটুকু জানে। সত্য দেয় আত্মবিশ্বাস। যে যত সত্য সন্ধানী হয় সে তত আত্মবিশ্বাসী হয়। 
    জীব ও জড়কে সত্যের অভিধায় চেনার নাম জ্ঞাণ। সত্য বিনা জ্ঞাণ,জ্ঞাণ বিনা সত্যের অস্তিত্ব নেই। সত্য জানলে অজ্ঞাণতার বোঝা লাঘব হয়। সত্য জ্ঞাণের সীমা ক্রমবর্ধমান করে। সবাই জ্ঞাণ ও চেতনা নিয়ে জন্মায়,সত্য তাকে পরিচিতি দেয়। সত্যের নিরিখে মানুষে মানুষে পার্থক্য গড়ে ওঠে। সত্যের নিরিখে বিষয় ভিন্ন ভিন্ন - পদার্থ নিয়ে পদার্থবিদ্যা,জীব নিয়ে জীববিদ্যা। বিদ্যা কত ভেরিয়েবল! অনন্ত যেমন অন্তহীন, বিদ্যা,জ্ঞাণও তেমনি অন্তহীন। আর অন্তহীন জ্ঞাণের সত্য এই জীবনে যতদিন বাঁচি ততদিন শিখি। সত্যের স্বরূপ ধ্রুবসত্য,সত্যের স্বরূপ আপেক্ষিক। আর সত্য বিবর্তনধর্মী - আজ যা সত্য সময়ের ধারায় সে সত্য মিথ্যা হতে পারে। 
  ধ্রুব সত্য হল সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে পশ্চিমে অস্ত যায়,মানুষ মরণশীল, জল নিচের দিকে গড়ায়,হাতির দাঁত বেরলে আর ভেতরে ঢোকে না,সেই সত্য নিয়ে প্রচলিত প্রবাদ- *'হাতিকা দাঁত মরদ কি বাত।'* চরম সত্য কথা - *'শতং বদ,মা লিখং'* - যত ইচ্ছা বলে যাও লিখলে প্রমাণ,যে লিখিত প্রমাণ থেকে বিপদ হতে পারে। ছোঁড়া তীর আর ফিরে আসে না। *সূর্যের চারধারে পৃথিবী ঘোরে* যিনি বললেন তাঁর সত্য আবিস্কারের পুরস্কার কারাগারে বন্দী,অন্ধত্বের শিকার হয়ে কারাগারেই মৃত্যু! মৃত্যু সত্যের জন্য। এমন অন্যায় সত্যের প্রমাণ ভুরি ভুরি। 
   আপেক্ষিক সত্য তুলনা থেকেই আসে। ওটাও ঠিক,এটাও ঠিক। সত্যের দ্বন্দ্ব থেকে আপেক্ষিক সত্য। যেমন - বিতর্ক সভায় বিষয়ের পক্ষ ও বিপক্ষ যখন প্রবল যুক্তি দেখিয়ে শ্রোতাকে স্বমতে আনবে তাই হল আপেক্ষিক সত্য। নেটদুনিয়া নিয়ে,সোস্যাল মিডিয়া, অনলাইন বনাম অফলাইনে শিক্ষা ইত্যাদি।
  আর সত্যের বিবর্তন - আজ যা সত্য কাল তা মিথ্যা। পৃথিবীর চারদিকে সূর্য ঘোরে একসময় মানা হত,চরম সত্য জ্ঞাণ হত বলে এই সত্যকে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হতে এখন এই সত্যই চরম সত্যরূপে গৃহীত হল। রাম জন্মভূমি নিয়ে সত্যের বিবর্তন।   সন্তান উৎপাদনের পিথাগোরাসের তত্ত্ব আবিষ্কৃত হয়েছিল বলে ক্রমবিবর্তনের ধারায় ম্যান্ডেলার বংশগতি এসেছিল। বিজ্ঞানের বিষয়ও অনেক আপডেট হচ্ছে। অর্থাৎ সত্য নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা না চললে বিজ্ঞান প্রগতিশীলতার পথ দেখানোর দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পারত না। প্রগতিশীলতা বিবর্তনশীল সত্যের প্রকৃষ্ট পরিচয়।
    *সত্য* - যার শেষ নেই তাই নিয়ে আলোচনার শেষ কথাও নেই। সত্য দিয়ে নিজেকে চেনাটাই শ্রেষ্ঠ চেন-সত্য।
              ******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

সোমবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২২

#নাম - চৈতন্যময় শ্রীরামকৃষ্ণ। ✍️ মৃদুল কুমার দাস।

শুভ আধ্যাত্মিক আলোচনা-বাসর।
 #বিষয় - *আধ্যাত্মিক।*
  #নাম - *চৈতন্যময় শ্রীরামকৃষ্ণ।*
   ✍️  - মৃদুল কুমার দাস।

    ঠাকুর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের চৈতন্যময় লীলার স্বরূপের *কল্পতরু* মূর্তি ধারণ ছিল এক মাহেন্দ্রক্ষণ।
 তিনি জগৎবাসীকে প্রথম দেখিয়েছিলেন বহুসাধনার একটাই মনস্কামনা মাতৃরূপ স্বচক্ষে দেখা চাই চাই। মা তো কোনোমতেই কর্নপাত করছেনই না। ঠাকুরের মনে হল এ জীবন বৃথা। তখন ঠাকুর বেপরোয়া হয়ে মায়ের সামনে আত্মাহূতিই শ্রেয় মনে করলেন। যেমনভাবে শ্রীরামচন্দ্র আত্মাহূতি দান করতে উদ্যত হয়েছিলেন, ঠাকুরও উত্তর দিকের দেওয়ালে ঝোলানো খাঁড়ায় এক হ্যাচকা টান দিলেন। স্বহস্তে মুন্ডচ্ছেদই ভবিতব্য জ্ঞাণ করলেন। মায়ের সামনেই হোক আত্মাহূতি - *কি লাভ এত সাধনার। মা তুই এত পাষাণী!* তৎক্ষণাৎ মা ভবতারিণী, মা জগদম্বা মানবী বেশে খাঁড়া নিলেন কেড়ে। ঠাকুর দেখছেন এক বিমূর্ত মূর্তি এক অসীম দয়ালু অনন্ত চেতনার জ্যোতিঃসমুদ্র,তার উজ্জ্বল উর্মিমালা ঠাকুরকে গ্রাস করতে উদ্যত। তাতে ঠাকুরের হাবুডুবু খেয়ে প্রাণে হাঁফধরা অবস্থায় ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। সেই অনন্তময়ীকে সেদিন ঠাকুর ধারন করলেন। তাই হল প্রথম কালজয়ী ঘটনা।
  ঠাকুরের সিদ্ধি লাভ হল। ঠাকুর মাকে নিয়ে চললেন,মাও ঠাকুরে পড়লেন বাঁধা। ১৮৮৬, ১ জানুয়ারিতে ঠাকুরের লীলা অন্তে ঘটল দ্বিতীয় ঘটনা। স্থান কাশীপুর উদ্যানবাটী। ঠাকুর গুরুতর অসুস্থ। শয্যাশায়ী। ইতিমধ্যে ঠাকুরকে ঘিরে একটি ১২ জনের শিষ্যসংঘ গড়ে উঠেছে। সকলে পালা করে ঠাকুরের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। নরেন্দ্রনাথ দলের পরিচালক। দিন রাত এক করে ঠাকুরের সেবা চলছে। ঠাকুর শয্যা ছেড়ে উঠবেন এমন আশা সবার মনে দূরস্থ। 
   হঠাৎ একদিন ঠাকুর ভ্রাতুষ্পুত্র রামলালকে কাছে ডাকলেন। ঠাকুর বললেন - *"দেখ রামলাল,আজ ভাল আছি মনে হচ্ছে। চল,নীচে একটু বেড়িয়ে আসি।"* রামলাল এক কথায় রাজী। ঠাকুর একটা কান ঢেকেছেন সবুজ রঙের বনাতের টুপি দিয়ে। হাতে একটা ছড়ি। রামলাল তাড়াতাড়ি ঠাকুরের গায়ে একটা রেশমের গরম চাদর জড়িয়ে দিয়ে হাতটি ধরে আস্তে আস্তে সিঁড়ি বেয়ে নামাচ্ছেন। নীচে নেমে সদর দিয়ে বেরনোর সময় ঠাকুর হলঘরে উঁকি মেরে দেখলেন তাঁর সেবক সন্তানেরা ঘোর ঘুমে আচ্ছন্ন। ঠাকুর বললেন - *"ঘুমোক ওরা,ওরা যে সারারাত আমার সেবা করে করে ক্লান্ত। দিনে একটু না ঘুমিয়ে নিলে চলে।"*
  ঠাকুর বাগানের পশ্চিম দিকের গেটের দিকে ধীর পায়ে এগোতে থাকলেন। বাগানে তখন গিরিশ ঘোষ,অতুল চন্দ্র ঘোষ,রামচন্দ্র দত্ত, নবগোপাল ঘোষ, হরমোহন, বৈকুন্ঠ্যনাথ সান্যাল,কিশোরী রায়,হারানচন্দ্র দাস,অক্ষয়কুমার সেন ঠাকুরকে নিয়ে আলোচনায় মশগুল। হঠাৎ তাঁরা দেখলেন ঠাকুর ধীর পায়ে হাঁটছেন। তাঁরা সকলে আনন্দে আত্মহারা। ঠাকুর বিছানা ছেড়ে উঠে এমন হাঁটবেন এমন ছিল কল্পনাতীত! সঙ্গে সঙ্গে সকলে ছুটে এসে ঠাকুরের পায়ে প্রণাম করতে লাগলেন একে একে। তাঁদের মধ্যে গিরিশ ঘোষকে দেখে ঠাকুর বললেন - *"তুমি যে আমার সম্পর্কে এত কথা বলে বেড়াও,তুমি আমার সম্বন্ধে কি দেখেছ ও কি  বুঝেছ?"*
  গিরিষ ঘোষ তৎক্ষণাৎ ঠাকুরের সামনে নতজানু হয়ে জোড় হাতে বললেন - *"ব্যাস,বাল্মীকি যাঁর ইয়ত্ত্বা করতে পারেন নাই,আমি তাঁহার সম্বন্ধে অধিক কি বলিতে পারি।"* -এই কথা গিরিশ ঘোষ যখন বলছেন তখন তাঁর শরীরে এক অপূর্ব রোমাঞ্চ ভাবের শিহরণ খেলে যাচ্ছে। তখন ঠাকুর সেই কথার জের ধরে উপস্থিত সবাইকে বল উঠলেন - *"তোমাদের আর কি বলব,আশীর্বাদ করি তোমাদের চৈতন্য হোক।"* ঠাকুর এই ক'টি কথা বলেই গভীর সমাধিস্থ হয়ে পড়লেন। আর ভক্তরা প্রাণে এক অনির্বচনীয় আনন্দে ভাসমান হতে লাগলেন। এতদিন সকলের প্রতিজ্ঞা ছিল ঠাকুর সুস্থ হয়ে না ওঠা পর্যন্ত কেউ ঠাকুরের দেহ স্পর্শ করবেন না। সে প্রতিজ্ঞা মুহূর্তে ভেসে গেল। চতুর্দিকে শুধু *'জয় রামকৃষ্ণ,জয় রামকৃষ্ণ'* রব। ঠাকুরের পরশমণি ছোঁয়ায় সকলে বাহ্যজ্ঞাণ দশা রহিত হল। সকলের ভাবের সে কি বিচিত্র অবস্থা - কেউ হাসছেন,কেউ মাত্রাতিরিক্ত আনন্দ সহ্য করতে না পেরে কাঁদছেন, কেউ ধ্যানস্থ হয়ে পড়ছেন,কেউ উন্মাদের মত হাসছেন,কেউ আনন্দে নাচছেন। ঠাকুরের মুখে তখন এক অপার্থিব  ও অপরূপ হাসি। তিনি সকলকে স্পর্শ করে যেতে লাগলেন। ঠাকুর সবাইকে চৈতন্য সাগরে অবগাহন করিয়ে দিচ্ছেন। তখন গোটা বাগানময় তল্লাসি হতে লাগল আর কে কে ঠাকুরের কৃপা থেকে বঞ্চিত থাকল। দেখা গেল বাগানের র়াধুনি গাঙ্গুলি বাদ পড়েছেন কারন রান্নাঘরে আটা মাখছেন তিনি। তাঁকে সেই অবস্থায় ধরে আনলেন গিরিশ।ঘোষ। ঠাকুরের স্পর্শে গাঙ্গুলির ভাবান্তর হল। অক্ষয়কুমারের কানে মন্ত্র দিতেই অক্ষয়কুমারের চোখ বিস্ফারিত হল। একই দশা নবগোপাল বাবুর। উপেন্দ্র মজুমদারের মনে হল এতদিনের স্থূল দেহ ঠাকুরের স্পর্শে সোনায় পরিণত হল। হারানচন্দ্র গেলেন অসীমের মাঝে হারিয়ে। ঠাকুরের সঙ্গী রামলালের গতি হল। সেদিন উদ্যানবাটীতে যাঁরা যাঁরা ছিলেন সবার কোনো না কোনো গতি হল।  এদিকে রামকৃষ্ণ পার্ষদগণের এই হট্টগোলে ঘুম ভেঙে গেল। তাঁর পুত্ররা কৃপা পাবেন না সে কি হয়! এটাই হল একশত পঁয়ত্রিশ বছর আগে ঠাকুরের এই ভাবসমাধির নাম - *'কল্পতরু।'*
  আজ পূর্ণ চৈতন্যের স্বরূপ নিয়ে বাহ্যিক আড়ম্বর সহকারে পালিত *'কল্পতরু'* উৎসব নিয়ে কত আধ্যাত্মিক ভাবের চর্চায় আমরা ডুবে যাই। এই একটি দিনের(১জানুয়ারি ১৮৮৬) গুরুত্ব নিয়ে স্বামী শ্রদ্ধানন্দজি মহারাজ বলছেন - 
   "কেবলমাত্র আজকের দিনে  কল্পতরু হয়েছিলেন - তা কেন? তিনি তো সদাই কল্পতরু। জীবকে কৃপা করাই তাঁর একমাত্র কাজ ছিল। আমরা তো চোখের সামনে দেখছি,তিনি নিত্যই কত জীবকে কতভাবে কৃপা করতেন। হ্যাঁ,কাশীপুরের বাগানে এই দিনে তিনি একসঙ্গে অনেক ভক্তকে কৃপা করেছিলেন। সে হিসেবে আজকের দিনের একটা বিশেষত্ব আছে। তি যে কৃপাসিন্ধু ছিলেন, তা সেদিনকার ঘটনায় ভক্তরা বিশেষ করে বুঝতে পেরেছিলেন।"  
  এর থেকে চৈতন্যের স্বরূপ নিয়ে শ্রদ্ধানন্দজি মহারাজ এক পরম অনুভূতি থেকে যে অমৃতবাণী বিতরণ করেছিলেন তা স্মরণ করে আমরা চিরসমৃদ্ধ হই। তিনি বলছেন -
      "আমরা যে যেখানে দাঁড়িয়ে আছি,সেখান হইতেই আমাদের সংস্কার, শক্তি ও প্রবণতা অনুযায়ী  যেন অন্তরে চৈতন্যকে ধারণ করিতে পারি,বুঝিতে পারি। কাহারও পথ ভক্তির, কাহারও কর্মের বা তত্ত্ববিচারের,কাহারও যোগের - সকল পথের সিদ্ধিই এক দ্বার দিয়া আসিবে - তাই চৈতন্যের দীপ্তি। যে যত চৈতন্য লোকে নিজেকে প্রবুদ্ধ করিতে পারিবে,সে তত ঐহিকতা, সংকীর্ণতা, ভোগলোলুপতা হইতে মুক্ত হইবে - সত্য, প্রেম, পবিত্রতা ততই তার চরিত্রকে করিবে উজ্জ্বল। নরদেহ সে হইবে দেবতা।  ইহাই মানুষের ইপ্সিততম সম্ভাবনা। শ্রীরামকৃষ্ণ চাহিয়াছিলেন আমরা যেন দেবতা হই,আমাদের সুপ্ত সম্ভাবনা যেন পরিপূর্ণভাবে বাস্তব হইয়া উঠে। 
   আমাদের চৈতন্য হউক। বর্ণ, জাতি,চরিত্র, অবস্থা, সংস্কার,ধর্ম - এই সকল বিভেদ সত্ত্বেও সকল মানুষ সেখানে এক - যাহা লইয়া এক - সেই মানবাত্মার সত্য যেন আমরা আবিস্কার করিতে পারি। এই আবিষ্কারের দ্বারাই আসিবে মানুষে মানুষে,জাতিতে জাতিতে মিলন,পারস্পারিক শান্তি ও সামঞ্জস্য। শ্রীরামকৃষ্ণের আশীর্বাদ সমগ্র বিশ্বকে এক করিতে চাহিতেছে।"
  তাই সকল হৃদয়ে চৈতন্য জরুরী। এক অমৃতলোকের সন্ধানের উৎস। সেই সূত্র ধরে জগতের কল্যাণকামী ও শিক্ষাদাত্রী শ্রীমা বলেছেন - "হে ঠাকুর, ওদের চৈতন্য দাও, মুক্তি দাও। এই সংসারে বড় দুঃখকষ্ট। আর যেন তাদের না আসতে হয়।"
              *******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

শিরোনাম-সাহস✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম-সাহস ✍️ ডা: অরুণিমা দাস সত্যি কথা বলতে সত্য কিন্তু অপ্রিয় হয়। মিথ্যেকে আড়াল করার অনেক পন্থা পাওয়া গেলেও সত্যকে চাপা দেওয়া একটু...