সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫

বাংলার রূপকার ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 বাংলার রূপকার
✍️ ডা: অরুণিমা দাস 

সুদূর পাটনার বাকিপুর থেকে মহানগর কোলকাতা
হেঁটে পাড়ি দিলেন তিনি,ভরসা শুধু পায়ের পাতা।

সম্বল বলতে শুধু তখন পাঁচ টাকা পঁচিশ পয়সা
খাবার আর বাসস্থান জোগাতে সেটাই শুধু ভরসা।

মাতৃহারা ছিলেন তিনি,পিতাই ছিলেন সব
খুবই কষ্টের মধ্যে কেটেছিল তাঁর শৈশব।

কলকাতায় এসে করেন ডাক্তারিতে ভর্তির আবেদন 
থাকতেন কলেজ স্ট্রীটে,পয়সার টানাটানি ভীষণ।

পড়াশোনা শেষে শুরু করলেন তিনি প্র্যাকটিস
রোজগার হতো না মন্দ,কেবল খালি উনিশ বিশ।

বারোশো টাকা করে সম্বল,গেলেন তিনি বিদেশ
চূড়ান্ত সম্মান অর্জনে করলেন মনোনিবেশ।

ভারতীয় বলে জুটেছিল শুধুই প্রত্যাখ্যান
কিছুতেই কিন্তু হাল ছাড়েননি ডা:বিধান।

প্রায় বার তিরিশেক করে গেছিলেন টানা আবেদন
দুবছরে মেডিসিন,সার্জারির চূড়ান্ত ডিগ্রী করলেন অর্জন।

ফিরে এলেন তিনি দেশে,শুরু করলেন ডাক্তারি
মনে এলো প্রেমের জোয়ার,হলেন প্রেম পূজারী।

প্রেম যে তাঁর, মানল হার অর্থদণ্ডের বিচারে
প্রত্যাখিত হয়ে এলেন ফিরে,মন দিলে রোজগারে।

সাল যখন উনিশশো আটচল্লিশ,ছেড়ে দিয়ে ডাক্তারি
গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রিত্ব,গড়লেন কল্যাণী সহ আরো উপনগরী।

দায়িত্বে ছিলেন যতদিন,করে গেছেন শুধু বাংলার উন্নয়ন
তাঁর কাছে থাকবে চিরঋণী বাংলার আপামর জনগন।

তিরোধানের পরে ঘরে মেলে এগারো টাকা পঁচিশ পয়সা
জীবনের সঞ্চয় শুধু ছয় টাকা আর মানুষের ভালোবাসা।

আজ তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিনে জানাই তাঁকে নমস্কার মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকুন বাংলার রূপকার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫

শুভ হোক রথযাত্রা ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শুভ হোক রথযাত্রা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ও জগু দাদা! তৈরি হলে তুমি? বেরুতে হবে তো! বাইরে আমাদের জন্য রথ অপেক্ষা করছে। সুভা জিজ্ঞেস করে তার আদরের জগু দাদাকে। 
- হ্যা রে, আরেকটু বাকী বোন। মুকুটটা পরে উত্তরীয়টা জড়িয়ে নিলেই হয়ে যাবে। যা যা তোর বলরাম দাদাকে তাড়া দে, সে তো অনেক সময় লাগায় তৈরি হতে!
- তাই বুঝি? বলরাম ধুতির কোঁচা ঠিক করে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললো। 
- হ্যা গো তাই,জগু বললো।
- তাই বুঝি ঠুঁটো জগন্নাথ বলে লোকে? কই ঠুঁটো বলরাম তো বলে না। 
উফফফ। আর ঝগড়া করো না দাদারা,একটু দয়া করো। মাসী দুবার মিসকল দিয়ে ফেলেছে। ধরিনি কারণ বলতে পারবনা কখন বেরোবো! 
- তোর চুল টা খোলা কেনো রে সুভা? দুই দাদা একসঙ্গে জিজ্ঞেস করে।
- ইস! জানো না যেনো। ঠোঁট ফুলিয়ে বলে সুভা। 
তোমরাই তো আমার চুলে বেণী করে দাও। 
ওহ! ভুলে গেছি রে। নিজেদের কথা ভাবতে গিয়ে বেমালুম ভুলে গেছি। 
আয় দেখি বোস। দুই দাদা দুপাশের বিনুনী করে দিলো সুভার। খুব খুশি দুই দাদার আদরের বোন। সাথে একটা সেলফিও তুললো। 
এর মধ্যে সারথী এসে বললো চলুন প্রভু, এবার যাত্রা করা যাক। নয়তো যা দেখছি গুগল ম্যাপে, মাসী বাড়ী পৌঁছতে মাঝরাত হয়ে যাবে। 
হ্যা হ্যা চলো, যাত্রা শুরু করা যাক। বাড়ীর দরজা বন্ধ করে পুরোহিতের হাতে চাবি হ্যান্ডওভার করে রথে উঠে বসলো তিন ভাই বোন। সুভাকে আগলে রেখে বসে দাদারা বললো চলো সারথী এবার রথ এগিয়ে নিয়ে চলো। দুই দাদার মাঝে বসে ছোট্ট বোনটি দেখতে লাগলো রাস্তায় সার দিয়ে লোকজন দাঁড়িয়ে আছে, একটু রথের দড়ি ছোঁয়ার আশায়। দুই দাদা সকলকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করছে। সুভা হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস দিলো, ফিলিং হ্যাপি, গোয়িং টু মাসী বাড়ী। 
তিন ভাই বোনের যাত্রা শুভ হোক। জয় জগন্নাথ।
সকলের জন্য রথযাত্রার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

সময় বহিয়া যায়✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 সময় বহিয়া যায়
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


নদীর স্রোতের প্রায়,সময় বহিয়া যায়। সময়কে ধরে রাখা কি যায়! ছোটবেলা থেকে বড়বেলা অনেক টা সময় পার হয়ে গেছে,জীবনে অনেক পরিবর্তন আসছে। আনন্দ আর নো টেনশন থেকে এখন ফুল অফ টেনশন আর লেগ পুল। শৈশবে দেখা মামাবাড়ির আমগাছটা এখন আর নেই,আছে শুধু তার স্মৃতি। এখন আর সেভাবে যাওয়া হয়না মামাবাড়ি। স্কুল জীবনের স্মৃতি বিজড়িত দিন গুলো মাঝে মাঝেই মনে করায় বড়ো হয়ে গেছি। বন্ধুরা কে কোথায় ছিটকে গেছে, তেমন কথা হয়না কারোর সাথে। নিজের জীবনে এত চাপ এত চিন্তা! প্রফেশনাল লাইফে এত লেঙ্গিবাজি, অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে। শৈশবের সরল সাধারণ জীবন যাপন এখন আর চলেনা, সব জায়গাতেই একটা প্রতিযোগিতা চলছে যেনো। 
   সমাজেও ঘটেছে আমূল পরিবর্তন। আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। যুদ্ধ বিবাদ এখন নিত্যকার সঙ্গী। বাজারদর আকাশছোঁয়া। মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের বেশ সমঝে চলতে হয় এই অবস্থায়। এখন আর শিক্ষকদের সাথে ছাত্রদের আগের মতন সম্পর্ক নেই। পরীক্ষায় কম্পিটিশন হু হু করে বাড়ছে। সাথে বাড়ছে কোচিং সেন্টারদের রমরমা। বুঝে পড়ার প্রচেষ্টা কম, মুখস্থ করে উতরে যাওয়ার চেষ্টাই বেশী। পরিবর্তনই সংসারের নিয়ম। পরিবর্তন হতে হতে কখন যে জল গড়িয়ে গেছে অনেকদূর খেয়ালই নেই কারোর। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। আগের মতন কিছুই নেই আর, সব কেমন অন্যরকম হয়ে গেছে। 

"সময়ের ব্যবধানে ঘটেছে আমূল পরিবর্তন,
পাল্টেছে মানুষের চিন্তাধারা 
বদল হোক ভালোর জন্যই, তবেই হবে উন্নতি যে নজরকাড়া।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫

শরণার্থী✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শরণার্থী
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শরণার্থী মানেই অন্যের শরণ প্রার্থনা করে যারা। এককথায় উদ্বাস্তু বা রিফিউজি বলা হয় যাদের। নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্য দেশে বা অন্য শহরে অস্থায়ী ভাবে বাস যাদের,তাদের মনে সর্বদা অনিশ্চয়তা বিরাজ করে। এই অস্থায়ী ভাবে বাস করার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে, হতে পারে তা জাতিগত সহিংসতা,
রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় নিপীড়ন, হয়তো কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে যে কারণই হোক না কেনো শরণার্থীদের কষ্ট একমাত্র তারাই বোঝে। ঘরবাড়ি সব হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে বাস করা, অন্যের আশ্রয়তে থাকা যে কি মানসিক যন্ত্রণা দেয় সেটা অন্য কেউ তাদের হয়ে অনুভব করতে পারেনা কোনোদিন।  তবুও তারা নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করে,নিজের দেশে ফেরার পথ হয়তো বন্ধ হয়ে যায় বা সেখানে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা মুশকিল হয়ে ওঠে। তাই অন্য দেশে স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করতে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। তবে অনেক রকম আইন রয়েছে যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার বা মানবিক মর্যাদা রক্ষায় বলবৎ থাকে। ৭১ এর যুদ্ধ হোক কিংবা রোহিঙ্গা জাতি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে,এভাবেই তারা নিজের স্থান ছেড়ে অন্য কোনো জায়গায় নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিদিন প্রতিমুহূর্ত লড়াই করে চলে নিজের মনের সাথে,দ্বিধা দ্বন্দ নিয়ে নতুন জায়গায় নতুন ভাবে বাঁচতে শুরু করে।

"পুরোনো আস্তানার স্মৃতি বুকে নিয়ে মেলে ঠাঁই নতুন স্থানে
শরণার্থী দের মনে থাকা যন্ত্রণা শুধুমাত্র তারাই জানে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫

শ্রদ্ধাবান ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শ্রদ্ধাবান 
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

'শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম' এই ছোট্ট কথাটা এক লহমায় পৌঁছে দিল স্কুল জীবনের দিনগুলোতে। মিশন গার্লস স্কুল ছিলো আমার প্রাইমারী ও সেকেন্ডারি স্কুল। স্কুলের যে ব্যাজ ছিলো আমাদের, তাতে একটা লাইন লেখা থাকতো, 'শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম' আর স্কুলে প্রার্থনার সময় বড় দিদিমনি সব কিছু বলতেন শ্রদ্ধা আর মনোযোগ না থাকলে কোনোদিন কিছু শিখতে পারবে না। লাইনগুলো আজ খুব মনে পড়ছে। সত্যিই শ্রদ্ধা না থাকলে জ্ঞান অর্জন করা খুব সহজ ব্যাপার নয়। আগেকার দিনে গুরুর প্রতি ছাত্রের শ্রদ্ধা আর এখনকার দিনে শ্রদ্ধা এই দুইয়ের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। আজকাল কার ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে ঔদ্ধত্যটা অনেক বেশী,শ্রদ্ধাভাব অনেকটাই কম। সেই ফল স্বরূপ আজকাল ওই তোতাপাখির মতো শিক্ষা শুধু মগজেই ঢুকছে,হৃদয়ঙ্গম হচ্ছেনা। সবাই শুধু ইঁদুর দৌড়ে সামিল হয়ে চলেছে,আসল শিক্ষা অর্জন হচ্ছেনা। মনে হয় ভাগ্যিস স্কুল জীবনটা আগেই কাটিয়ে এসেছি নয়তো এখন বিপদে পড়তাম। শ্রদ্ধা ছাড়া জ্ঞানার্জন অসম্ভব। গুরুর প্রতি,বিদ্যার প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাবনত থাকা উচিত। শিখতে হয় মাথা নীচু করে,বাঁচতে হয় মাথা উঁচু করে। তাই অবনত মস্তকে শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়া জ্ঞানী হওয়া দুষ্কর। তাই আজকাল কার ম্যানার্স এ শ্রদ্ধা কথাটা অবশ্যই থাকা উচিত। 

"শ্রদ্ধা ও মনোযোগ থাকলে তবেই পৌঁছবে জ্ঞানের দরবারে
জ্ঞান লাভের অধিকারী শ্রদ্ধাবান ব্যক্তি, ভুলোনা কোনো প্রকারে।।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৫ জুন, ২০২৫

কনসিসটেন্সি✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 কনসিসটেন্সি
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ছোটবেলায় ক্লাসে একটা কবিতা খুব পড়ানো হতো, "পারিবনা একথাটি বলিও না আর, একবার না পারিলে দেখো শতবার।" সেকথা মাথায় রেখে বলতেই হয় কোনো কাজে লেগে থাকলে শেষ পর্যন্ত সাফল্য ধরা দেবেই। আর তার জন্য লাগবে ধৈর্য্য আর অধ্যবসায়। ব্যাকরণবিদ পানিনিকে সবাই চিনি আর তাঁর সাফল্যের পেছনে ধারাবাহিকতা যে মুখ্য ভূমিকা রাখে সে গল্পও জানি আমরা। প্রথম প্রথম ব্যর্থ হয়ে তিনি শিক্ষা পেয়েছিলেন পুকুর ঘাটে পড়ে থাকা এক পাথরের থেকে,যেখানে রোজ কাপড় কাচার ফলে পাথরের ক্ষয় হতে দেখেন। তখন তার মাথায় আসে এভাবে নিজের বোধবুদ্ধিতে শান দিয়েই তিনি ব্যাকরণ বিদ্যা অর্জন করতে পারবেন। এভাবেই তিনি বিখ্যাত ব্যাকরণবিদ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। জীবনে সুযোগ হয়তো বেশি আসেনা সবসময় কিন্তু নিজের ইছেশক্তি আর ধারাবাহিকতা কাউকে খুব সহজে না হলেও শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর মুকুট পরাতে পারে। এগুলোকে মাথায় রেখেই চলার চেষ্টা করা উচিত আর চেষ্টা করি। জীবনের প্রতি পদে হাঁটতে গিয়ে অনেক বাধা পেয়েছি,দাঁড়িয়েছি কিন্তু থেমে যাইনি। জানিনা আর কতদূর এগোতে পারবো কিন্তু চেষ্টা করে যাবো যতদিন পর্যন্ত সম্ভবপর হবে। 

"সাফল্য আসবেই,দেরীতে হলেও ধারাবাহিকতার হাত ধরেই
চলতে থাকো,দেখবে পৌঁছে যাবে উন্নতির শিখরে অচিরেই।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৯ মে, ২০২৫

শিরোনাম - চিত্ত ও বিত্ত✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - চিত্ত ও বিত্ত
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

মন সদা সর্বদা চঞ্চল, তাকে বাগে আনা খুব দুষ্কর। নানা চিন্তার সমারোহে সে সর্বদা জর্জরিত। কিছু না কিছু ভাবছেই সে। তেমনি বিত্ত বা সম্পত্তি সেও সদা পরিবর্তনশীল। আজ তার কারণে কেউ ধনবান আবার কেউ বা তাকে হারিয়ে পথে নামতে বাধ্য হয়েছে। চিত্ত আর বিত্তকে ধরে রাখা খুব মুশকিল কাজ। আজ এখানে তো কাল সেখানে। তাও এই দুই জিনিসকে ধরে রাখার নিরলস প্রচেষ্টাই আমাদেরকে রোজকার কাজের জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়। আর এই অনুপ্রেরণার জন্যই আমরা এগিয়ে চলি নিজের লক্ষ্যে। তাই বলাই যায় চিত্ত বিত্ত দুজনের অবস্থান একরকম। আর এদেরকে বাগে রেখে চলতে পারলেই জীবনটা অন্য রকমের হতে পারে। আবার এদের বাগে আমরা এসে গেলে তখন জীবন আরেকরকম। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে জীবনতরী বেয়ে চলাই আসল লক্ষ্য হোক সকলের। 

"চিত্ত বিত্ত সদা চঞ্চল,বাগে আনার জন্য করতে হয় কসরত 
এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায়ে আসুক সকলের জীবনে শুভ মহরৎ।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫

শিরোনাম - উপদেশ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - উপদেশ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কিছুদিন আগে একটা ভিডিও দেখেছিলাম যেখানে এক মেয়ে তার মাকে ফোনে শ্বশুর বাড়িতে ঘটা রোজকার ঘটনাগুলো শেয়ার করছিল। কিছুটা সুনাম কিছুটা দুর্নাম সব মিলিয়ে মিশিয়ে। মা তাকে একটি কথাই বলেছিল বিয়ে হয়েছে এখন তোমার, শ্বশুর বাড়ীর সব কথা আমাকে বলার দরকার নেই। নিজের বুদ্ধিমত্তা আর বিশ্লেষণ ক্ষমতা দিয়ে প্রতিটি সমাধান করো তোমার কোনো কিছু অসুবিধে হলে। আমার উপদেশ তোমার ভালো নাও লাগতে পারে। নিজের সংসার নিজেকেই মানিয়ে গুছিয়ে রাখতে হবে,তবে সেটা করতে গিয়েই কোনোভাবেই গুরুজনদের অশ্রদ্ধা করোনা কোনোদিন। যেটা বুঝেছিলাম ভিডিওটি দেখে যে এর মধ্যে একটি ছোট্ট কিন্তু গভীর বার্তা রয়েছে মেয়ের প্রতি মায়ের। কোনো মা চাইবেননা তার মেয়ের সংসার ভেঙে যাক, চাইবেন তার মেয়ে সুখে শান্তিতে সংসার করুক। ছোটবেলা থেকেই তাই মায়েরা মেয়েদের শিক্ষা দেন সব রকম পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। এবার কোনোদিন বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে সেটা আলাদা কথা। সেটাও তাকে নিজেকেই সমাধান করতে হবে। তার জন্য কারোর সাহায্য বা দখলদারির দরকার যেনো না পড়ে। 

"নিজ বুদ্ধিতে চালাও পরিবার,সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে
যে শিক্ষা পেয়েছো ছোটবেলা থেকে সেটাই প্রয়োগ করো  প্রয়োজনে!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৫ মে, ২০২৫

সিন্দুরিয়া✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 সিন্দুরিয়া
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

প্রাচীন কালে মাটি,গাছ এদেরকে প্রাকৃতিক শক্তির প্রতীক হিসেবে ধরে নেওয়া হতো। লাল রং ছিলো তাদের কাছে সৃষ্টির প্রতীক। সেই সময় থেকে ভারতীয় শাস্ত্রে তথা হিন্দু ধর্মে সিঁদুরের ব্যবহার শুরু হয়। বিবাহিত মহিলারা সিঁদুর পরেন স্বামীর মঙ্গলার্থে। আর প্রাচীন বিশ্বাস এই সিঁদুর নারীর শক্তি প্রদর্শন করে সমস্ত বিপদ থেকে দূরে রাখে তাকে আর পরিবারকে। সব নারীই হলো শক্তির উৎস, তাই সিঁদুরের ব্যবহার এই শক্তিকে প্রতিফলিত করে। সম্প্রতি এই সিঁদুর শব্দটি গোটা দেশের জন্য একটা আলোড়ন তৈরী করেছে। কিছু নৃশংস মানুষের বর্বরোচিত আচরণে কয়েক জন নারী তাদের আপনজনকে হারিয়েছে। কিন্তু প্রতিটি  ক্রিয়ার এক সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে। সেই প্রতিক্রিয়া স্বরূপ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে লড়েছে এই দেশ, এক নারীর সার্বিক ক্ষতির বদলা নিয়েছে আরেক নারীই, যার জন্য তার প্রতিবেশী দেশকে অনেক মূল্য চোকাতে হয়েছে। রাত জেগে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছে জনগণ,যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছে অন্যের ক্ষতি করা সেই প্রতিবেশী দেশটি। আর সাংবাদিক সম্মেলনে দুই নারীর দৃঢ় কন্ঠস্বর আমাদের সকলকে মনে করিয়ে দিয়েছে সিঁদুরের শক্তি কতখানি। এর পর আশা রাখি আর কোনোদিন সিঁদুরের শক্তি খর্ব করার মতন দুঃসাহস কারোর হবে না,এই ঘটনা চিরকাল যেনো ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করে মনে করিয়ে দেবে সিঁদুরের শক্তি ঠিক কতখানি!

"মিশন সিন্দুরিয়া,আলোড়ন ফেলে দিয়েছে সকল দেশবাসীর মনে
মর্যাদা থাকুক অটুট,কেউ যেনো কোনোদিন তার প্রতি আঘাত না হানে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


সোমবার, ১২ মে, ২০২৫

রবীন্দ্রনাথের লেখা গল্পের নারীচরিত্র বিশ্লেষণ গল্পের নাম - দেনাপাওনা নারী চরিত্রের নাম - নিরুপমা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 রবীন্দ্রনাথের লেখা গল্পের নারীচরিত্র বিশ্লেষণ
 গল্পের নাম - দেনাপাওনা
 নারী চরিত্রের নাম - নিরুপমা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

রবীন্দ্রনাথের লেখা গল্পের নারী চরিত্র হিসেবে প্রথমেই মনে আসে নিরুপমার নাম। দেনাপাওনা গল্পটি প্রথম পড়েছিলাম ক্লাস নাইনে,নিরুপমার দুঃখের কাহিনী সেই ছোট বয়সেই মনে আলোড়ন তুলেছিল আমার। তার পিতার আর্থিক সংগতি না থাকার জন্য যে কষ্ট তাকে ভোগ করতে হয়েছিল, যেভাবে অর্থলোভী আর বনেদী নামের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নৃশংস মানুষদের অত্যাচারের স্বীকার হতে হয়েছিল নিরুপমাকে,সেরকম আজও অনেক মেয়েকে নিপীড়িত হতে হচ্ছে। পণপ্রথা তারপরও রদ হয়নি,এখনো সেই অভিশাপ বয়ে চলেছে সমাজ। পিতা রামসুন্দর মিত্রের গলগ্রহ হয়ে থাকতে চায়নি নিরুপমা,তার শ্বশুরবাড়িতে পিতার অপমান সহ্য করতে সে আর পারেনি একটা সময়ের পর। একটু ভালবাসা চেয়েছিল সে,বদলে জুটেছিল অবহেলা আর গঞ্জনা। টাকাপয়সার বিচারই তখন বোধহয় মানসম্মানের মাপকাঠি ছিলো। দিনের পর দিন নাওয়া খাওয়া ছেড়ে জীবনের প্রতি মায়া কমাতে চেয়েছিল নিরুপমা আর সফলও হয়েছিল। বেঁচে থাকলে যে সম্মান তার প্রাপ্য ছিলো সেই সম্মান সে পায়নি,বরং চলে যাওয়ার পর তাকে ধুমধাম করে ধরাধাম থেকে বিদায় জানানো হয়েছিলো। পিতার বুকের জ্বালা কমাতে গিয়ে নিরুপমার এই আত্মবলিদান সকল পাঠকের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫

শিরোনাম-লহ প্রণাম ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম-লহ প্রণাম
✍️ ডা:অরুণিমা দাস


প্রণমি তোমারে অন্তর হতে,প্রিয় কবি হে মোর 
হিয়ার মাঝে সদা প্রাণবন্ত তুমি ও তোমার কণ্ঠস্বর।

স্কুলের পথ ভুলেছ, সৃষ্টি করেছো অসামান্য রচনা
লেখালিখির চেষ্টা করি মাত্র,তুমিই যে অনুপ্রেরণা।

জটিল জীবন সহজ হয়,তোমার লেখায় আর গানে
আশার আলো সঞ্চারিত হয় অন্ধকারের মধ্যিখানে।

দিকে দিকে চলছে আজ পঁচিশে বৈশাখ উদযাপন 
তোমার শুভ জন্মদিনে জানাই সশ্রদ্ধ অভিবাদন।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫

শিরোনাম- শ্রম দিবস✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম- শ্রম দিবস
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

নিশ্চুপে নিঃশব্দে ওরা যে কাজ করে চলে 
দিবারাত্র হয় সারা,মাথার ঘাম পায়ে ফেলে।

তাদের জানাতে সম্মান,একটি দিন বরাদ্দ কেবলি
বাকি দিনগুলোয় ওদের সকলে বেমালুম ভুলি।

শ্রমজীবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের যথাযোগ্য মূল্যায়ন হোক
মে দিবস শুধু কেনো!বাকী দিনও তাঁদের প্রতি সশ্রদ্ধ সম্মান অটুট থাকুক।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫

জি ভরকে খাইয়ে আইসক্রিম✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জি ভরকে খাইয়ে আইসক্রিম
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

এরম একটা বিষয় দেখে মনটা ছুট্টে চলে গেলো সেই মায়াভরা দিনগুলোতে। যখন নার্সারী স্কুলে পড়তাম,ছুটি হলেই দৌড়ে দৌড়ে গেটের বাইরে এসে ভ্যানকাকুর কাছে বায়না করতাম সবাই আইসক্রিম কিনে দেওয়ার জন্য। কাকু কিছুতেই কিনে দিতে চাইতো না। বলতো না বাবুরা,এসব খেতে নেই তোমাদের বাড়ি থেকে বকা দেবে আমায়। তারপর আমাদের সবাইকে ভ্যানে তুলে দরজা লক করে যে যার বাড়িতে ছেড়ে দেবার উদ্দেশ্যে রওনা দিতো। আর আমরা সবাই বাইরের দিকে আইসক্রিম গাড়িটার দিকে করুন চোখে তাকিয়ে থাকতাম। বাড়ি ফিরে দেখতাম দুপুরবেলায় কাকিমা জেঠিমা তাঁদের ছেলেমেয়েদের আইসক্রিম কিনে দিচ্ছেন। আমি আয়া মাসীর দিকে জুল জুল চোখে তাকিয়ে থাকতাম। মাসী বলতো বাবা বাড়ি আসার সময় নিয়ে আসবেন তোমার জন্য আইসক্রিম,মন খারাপ কোরোনা। গল্প বলতে বলতে দুপুরের খাবারটা খাইয়ে দিতো আমায় আর তারপর পরম স্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতো। আরেকটু বড় যখন হলাম,আলাদা বাড়িতে আমরা থাকতে শুরু করলাম। তখন ঠাকুমা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকতেন আর তারপর দাদুর বাড়ীতে চলে যেতেন। যেই গরমের ছুটি পড়তো দুপুরে ঠেলা গাড়ি নিয়ে আইসক্রিম ওয়ালা গেলেই ঠাকুমার আঁচলে টান পড়তো। আর ঠাকুমা আঁচলের খুঁট খুলে ১ টাকা দিতেন আমায়। সেই ১ টাকা নিয়ে দৌড়াতাম দরজা খুলে। কোনোদিন নারকেল,কোনোদিন অরেঞ্জ কোনোদিন পাইন অ্যাপেল আইসক্রিম খেতাম। সাথে টিভিতে দেখতাম অসওয়ার্ল্ড কার্টুন,ওর একটা গান খুব মনে পড়ছে,'আইসক্রিম আইসক্রিম আইসক্রিম, চলিয়ে জি ভরকে খায়ে আইসক্রিম'। বাড়িতে মা এসে বকা দিতেন মাঝে মাঝেই কিন্তু তাতেও দমে যেতাম না। এরপর আসতে আসতে হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে উঠলাম,তখন স্কুল ছুটির পর টিউশন পড়তে যাবার তাড়া। তার মধ্যেও ফাঁকা পেলে এক দুদিন কুলফি আইসক্রিম কিনে রিক্সাতে উঠে আয়েশ করে খেতে খেতে বাড়ি ফিরতাম। আর যেদিন সাইকেলে ফিরতাম সেদিন এক হাতে সাইকেলের হ্যান্ডেল ধরে আরেক হাতে আইস ক্রিম খেতে খেতে বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে ফিরতাম। তারপর যখন আরো বড় হলাম, যখন আইস ক্রিম খেতে কোনো প্রতিবন্ধকতা রইলো না আর তখন আর সেভাবে মন টানতো না আইসক্রিম খাবার জন্য। জীবনটা অন্যরকম হয়ে গেছে এখন। বরং সেই ভ্যানকাকু,কাকিমা জেঠিমা এদের কথাগুলোও বেশি মনে আসে। মায়াভরা চোখে দাদা দিদিদের আইসক্রিমের দিকে তাকিয়ে থাকা দিনগুলো খুব বেশি করে মনে পড়ে। মাঝেমাঝেই ভাবি যদি সত্যিই টাইম মেশিন পেতাম আর সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারতাম তাহলে আরেকবার ছোটবেলার দিনগুলো কাটাতে পারতাম। যেটা হবেনা সেটা ভেবে লাভ নেই বরং স্মৃতির পথ ধরেই মাঝে মাঝে ঘুরে আসি,আর তাতেই মন ভালো হয়ে যায় এক নিমেষে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫

পাঠ প্রতিক্রিয়া বইয়ের নাম - বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে লেখক - হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্ত✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 পাঠ প্রতিক্রিয়া
 বইয়ের নাম - বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে
 লেখক - হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্ত
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সম্প্রতি পড়ে শেষ করলাম বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে বইটি। অনেকদিন পর সম্পূর্ণ ভিন্নস্বাদের একটা গল্প পড়লাম। বইটি শেষ না হওয়া অবধি এক অমোঘ আকর্ষণ অনুভব করছিলাম যেই টানে ভাতঘুমের সুযোগ হেলায় দূরে সরিয়ে পুরোটা পড়লাম এক অদ্ভুত সুন্দর ভালোলাগা নিয়ে। 
গল্পের ঘটনাস্থল কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাট মন্দির যেখানে রয়েছে বিষ্ণুলোক,যেখানে ঠাঁই পেতে অনেক পূণ্য অর্জন করতে হয়। সেই মন্দিরের সংস্কার কার্যে ভারত থেকে এক প্রত্নতত্ত্ব বিদ তাঁর টিম নিয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু তাদের কাজে বাঁধা দিতে অনেকেই পেছনে লেগেছিল। তাদের বেশিরভাগের মতলব ভালো ছিলোনা। এর আগে বলে নেওয়া যাক বর্মন রাজাদের কিছু কথা। রাজা মহাবর্মনের শাসনকালের পর হরিদেব আর ধরিন্দ্রী বর্মনের মধ্যে সিংহাসন দখলের এক ঠান্ডা যুদ্ধ চলছিল। চামদের সাথে ফন্দি করে কিভাবে রাজা উগ্রদেব ধরীন্দ্রি বর্মনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন আর সেই পরিকল্পনা সফল হতে দেননি চম্পা নামে একজন নর্তকী যাকে বিষ্ণুর স্বপ্নাদেশে প্রাণভিক্ষা দিয়েছিলেন রাজা ধরীন্দ্রি বর্মন। আবার এটাও বলা আছে গল্পে যে হরিদেব যাতে সিংহাসনে বসতে না পারেন তাই একপ্রকার তাকে পথ থেকে সরিয়ে দেন ধরীন্দ্রী বর্মন,তাও মাহুতের সাহায্য নিয়ে হাতির পায়ের তলায় পিষে দিয়ে। তারপর সেই মাহুতকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। মাহুতের মেয়ে ও স্ত্রী সেই বদলা নিতে উগ্রদেবকে প্ররোচিত করে রাজা ধরিন্দ্রী বর্মনকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। চম্পা নিজের প্রাণের বিনিময়ে ধরিন্দ্রীকে বাঁচিয়ে দেয়। কিন্তু তার প্রাণপুরুষ বনহির সাথে তার মিলন হয়না। সেই বনহি এই জনমে স্বাগত নামে জন্ম নেয় যে ওই প্রত্নতত্ত্ববিদের টিমে ছিলো। চম্পা মাঝে মাঝেই এক খাম মেয়ের রূপ ধরে এসে বিষ্ণুলোকের চাতালে বসে স্বাগতকে পূর্বজন্মের কথা গল্পের মতো করে বলতো। আর মন্ত্রমুগ্ধের মত স্বাগত শুনতো সেই গল্প হারিয়ে যেতো বনহির মধ্যে। উগ্রদেবের উত্তর পুরুষ হারুম চেষ্টা করে উগ্রদেবকে মুক্তি দিয়ে বিষ্ণুলোকে প্রবেশ করানোর কিন্তু শেষ পর্যন্ত উগ্রদেবের মুক্তি হয়না আর তার প্রবেশও হয়না বিষ্ণুলোকে। এর মাঝেই দুজন ব্যক্তির খুন হয় বিষ্ণু লোকে গুপ্তধনের সন্ধানে গিয়ে। তাই কম্বোডিয়া সরকার সংস্কারকার্য বন্ধ করিয়ে স্বাগতদের দেশে ফিরে যেতে বলেন। আর স্বাগত বিষ্ণুমন্দিরে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করে আর কোনোদিন এখানে সে আসবেনা কারণ এলেই চম্পার কথা তার মনে পড়বে আর নিজেকে সামলাতে পারবেনা। সব কিছু ভুলে যেতে চেষ্টা করবে স্বাগত। কিন্তু স্বাগত ভুলতে পারলেও এই গল্পের চিত্রপট পাঠকের মনে এক চিরস্থায়ী জায়গা করে নেবে বলে আশা রাখি। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫

শিরোনাম - স্বাগতম ১৪৩২ ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - স্বাগতম ১৪৩২
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

নববর্ষের হরষে বৈশাখের আগমনী বার্তা,জানাও তারে সাদর সম্ভাষণ 
মাস ও বচ্ছর পয়লাতে চলছে হালখাতা ও বর্ষবরণের আয়োজন।

প্রস্তুতি সব সম্পন্ন প্রায়,সকলেই যে আনন্দে আত্মহারা 
বাংলা টু নিউইয়র্ক টাইমস স্কোয়ার,আসন্ন মুহূর্তের জন্য চলে মহড়া।

একটি বছর ঘুরে এলো যে ১৪৩২ সন,নতুন আরেক বছর
সম্ভাবনায় পূর্ণ এই বর্ষে সবার প্রতি রইলো শুভেচ্ছা নিরন্তর।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৫

জীবন - এক রঙ্গমঞ্চ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 জীবন - এক রঙ্গমঞ্চ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবন নামক নাট্যশালায় সকলেই ব্যস্ত নিজের নিজের চরিত্রে দক্ষতার সাথে অভিনয় করার কাজে। কেউ ভালো থাকার অভিনয়ে পারদর্শী কেউ বা ভালো সাজার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছে নিখুঁত অভিনয়ের। টিকে থাকার জন্য প্রতিদিনের সংগ্রাম চলছে, চলবে। এর নেপথ্যে থাকা মানুষেরা নিজেদের অবস্থান সঠিক রেখে নাটকের প্রতিটি অঙ্ক মন দিয়ে বাস্তবায়িত করার চেষ্টায় মগ্ন। এই নাটকের দর্শক শুধু ঈশ্বরই নন, দর্শক তার চেনাজানা সকলে। তুখোড় পারফরমেন্স যার হবে সেই মানুষের মনে জায়গা করে নেবে। তার জন্য এমন কাজ করা উচিত জীবনে,যাতে সকলের ভালো হয়,কারোর অনিষ্ট চিন্তা যেনো মনে না আসে। পাপ পুণ্যের পুরো হিসেব নিকেষ এই দুনিয়াতেই করতে হবে, তাই ভালো মানুষ সাজার থেকে ভালো মানুষ হয়ে থাকাটাই শ্রেয়। মানুষ বেঁচে থাকে তার কাজের মধ্যে দিয়ে, তাই কাজ অর্থাৎ অভিনয় এমন করতে হবে যেটা সারাজীবন ধরে মনে রাখবে সকলে, এমনকি নাটকের শেষ দৃশ্যের পরেও। সুস্থ ভাবে বাঁচো, পাশের সকলে সুস্থ ভাবে বাঁচতে দাও। 

"ভালো মানুষ সাজার থেকেও বেশি দরকার ভালো মানুষ হওয়ার
জীবনের নাট্যমঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে, কোরো সেটার সদ্ব্যবহার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫

শিরোনাম - সংসার✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - সংসার
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সংসার মানেই সকলের যৌথ কন্ট্রিবিউশন দ্বারা রোজ সকাল থেকে রাত অতিবাহিত করা। সংসার নামক গাড়িতে চড়ে নারী পুরুষ উভয়েই মন দিয়ে চালানোর অদম্য চেষ্টা করে। সংসারের জাঁতাকলে পিষ্ট সবাইকেই হতে হয়। চাপে সকলেই থাকে কিন্তু যেখানে নিজেদের মধ্যে আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা ঠিক থাকে সেখানে কষ্টটা বোধহয় একটু কম থাকে। বাড়ীর পুরুষের মাথায় থাকে আয় করে সকলের প্রতি কর্তব্য পালন করা,আর নারী যদি শুধু গৃহিণী হয় তার ওপর ভার থাকে সকলের সব আবদার পূরণ করা হাসিমুখে,আর নারী যদি বাইরে ঘরে দুদিকের কাজে নিয়োজিত হয় তখন চাপ একটু বেশীই এসে পড়ে। কেউ কেউ হয়তো নিজের শখ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে সবার মুখে হাসি ফোটাতেই কাটিয়ে দেয় সারাজীবন। তারপরও হয়তো যোগ্য মর্যাদাটুকু পায়না। তবে জীবন সব হিসেব নিকেশ কড়ায় গন্ডায় মিটিয়ে দেয় এই ভরসাতেই সে সংসারের জন্য নিজের সবটুকু দিয়ে দেয়। সংসারের চাপে নারী যেমন দশভূজা হয়ে ওঠে তেমনি পুরুষরাও দশভূজ হয়ে যায়। দুজনে হাতে হাত মিলিয়ে সব ঝড় ঝাপটা কে সামাল দেয়। নিত্যদিনের চাপের মাঝেও একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে থাকলে জাঁতাকলও বোধহয় মাঝেমাঝে রেহাই দেয় রোজনামচা থেকে,তখন সপ্তাহান্তে দু একদিনের জন্য থোড় বড়ি খাড়া জীবন থেকে একটু দূরে কোথাও ছুটি কাটিয়ে আসা যায় সপরিবারে। তারপর আবার ফুল এনার্জি নিয়ে জাঁতাকলে পিষ্ট হতে সবাই নিজেকে নুইয়ে দেয়। 

"সংসারের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েও একে অপরের প্রতি থেকো সহানুভূতিশীল 
চাপ কম হবে এতে,দেখবে জীবন হবে খুবই সহজ ও সরল।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম - বালুকা মাঝারে ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - বালুকা মাঝারে
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বালি তটে আরামের আবেশে চলছে সানবাথ 
ট্যান ফ্যানকে না করে  পরোয়া,নিয়ে প্রকৃতির সাথ। 

ব্যস্ততার মাঝে অনুভব করে সে কারোর অনুপস্থিতি 
সব ভুলে তাই নিজেকে নিয়েই আছে মাতি।

'ভিটামিন ডি' এর ঘাটতি পূরণে সূর্যলোকের নেই যে তুলনা 
সেইজন্য মন প্রাণ ভরে নৈসর্গিক সৌন্দর্য আস্বাদনে নিয়োজিত ললনা।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম - ইফতার✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ইফতার
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

আজ ঈদের শুভদিনে একটা ছোট্ট ঘটনা মনে পড়ে গেলো। তখন সবে ফার্স্ট ইয়ারে এমডি করতে ঢুকেছি,মাস নয়েক পর রমজান মাস শুরু হলো।হোস্টেলে আমাদের ফ্লোরে রোশনারা,ফিরোজা এরা রোজা রাখা শুরু করলো। আমাদের গার্লস গ্রুপ ও ছিল একটা। তো ফিরোজা আর রোশনারা বাদে যারা আমরা ইফতারে হামলে পড়তাম সুস্বাদু খাবার খেতে তারা ঠিক করলাম একটা রবিবার দিন যেদিন আমাদের কারোর কোনো ডিউটি থাকবেনা দিনের বেলায় তারাও ওদের দুজনের মতো খাবার না খেয়ে (যদিও আমরা এমনিতেই সবাই ডিউটি চক্করে ৮-৯ ঘণ্টা না খেয়েই থাকতাম) জল না খেয়ে ওদের সাথে ইফতারে খাবো একসাথে। তো যেমন কথা তেমন কাজ! সারাদিন নির্জলা আর খাবার ছাড়া কাটিয়ে দিয়ে ঠিক ইফতারের সময় খেতে বসা হবে সেই সময় মৌমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লো,মাথা ঘোরাচ্ছে বলছিল, চোখে অন্ধকার দেখছে। ইফতার করা মাথায় উঠলো সবার,ওকে নিয়ে সকলে গেলাম মেডিসিন ওয়ার্ডে। আর এম ও স্যার বললেন ভেসোভ্যাগাল হয়ে গেছে। প্রচণ্ড ডিহাইড্রেটেড,এখুনি একে ফ্লুইড দাও আর মুখে কিছু খেতে দাও। পা দুটো একটু বালিশের ওপরে তুলে রাখুক। তারপর মোটামুটি স্টেবল হতে স্যার জিজ্ঞেস করলেন কি করে হলো এরকম? তখন ঐ ইফতার উপলক্ষ্যে সবার রোজা রাখার গল্প বললাম। স্যার হেসে বললেন পারিস ও ভাই তোরা! সব কটা যা একটা মিনারেল ওয়াটার বোতল কিনে জল খা। নয়তো বাকি গুলোও মাথা ঘুরিয়ে পড়বি সব। আর এত বেড কিন্তু নেই তোদের জন্য। সেদিন মৌমি একটু সুস্থ হতে স্যার বললেন দেখি কি কি অ্যারেঞ্জ করছিলি তোরা? তখন আবার হোস্টেলে ফোন করে ইফতারের সব খাবার হোস্টেলের ভিজিটিং রুমে আনানো হলো। স্যার ও খুব মজা করে খেয়েছিলেন সেদিন আমাদের সবার সাথে। আর বলেছিলেন দেখ ফিরোজা রোশনারা এরা প্রতি বছর রোজা রাখে, এদের অভ্যাস আছে আর এদের শরীরে বায়োলজিক্যাল ক্লকও এভাবে মানিয়ে নেয়। তোরা জল না খেয়ে গরমে থাকতে পারবি না, তাই এসব ওস্তাদি করতে যাস না। মৌমি আবার দুম করে সরি বলে ফেলেছিল। ফিরোজা ওকে জড়িয়ে বলেছিল কিসের সরি রে! তোদের এই কান্ড দেখে আমরা হতবাক। আমরা বললাম সত্যি খাবার ছাড়া থাকা গেলেও এতটা সময় জল ছাড়া থাকা অসহনীয়, জিভ ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছিলো খুব কষ্ট হচ্ছিল। তোরা সত্যি খুব কষ্ট করে রোজা রাখিস রে! ফিরোজা বললো এখন এগুলো আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। চল এরপর আর আমাদের কষ্ট বোঝার জন্য পাকামো মেরে তোদের জল আর খাবার না খেয়ে থাকতে হবে না! প্রমিস কর সবাই! মৌমি সহ আমরা সবাই প্রমিস করেছিলাম সেদিন। এখনো স্যারের সাথে দেখা হলে সেই দিনের কথা স্যার তুলবেন একবার হলেও। আজ ফিরোজা এসএস কে এম,রোশনারা মুর্শিদাবাদ,মৌমি ডায়মন্ড হারবারে,অর্চিতা ন্যাশনালে আর একজন এন আর এসে থাকলেও রমজান মাস শুরু হলে আর যে কোনো রকম উৎসবে সবাই আমরা ফোনের গ্রুপে মেতে উঠি এক অনাবিল আনন্দে,বুঝতেই পারিনা যে আমরা একে অপরের থেকে এতদূরে আছি, মনে হয় এই তো কালকের ঘটনা। এভাবেই স্মৃতির পাতায় জমে উঠছে কত কত গল্প।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫

জন্মদিনে শরদিন্দু

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনী
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বাংলা সাহিত্যে যাদের অবদান অনস্বীকার্য তাদের মধ্যেই একজন স্মরণীয় ও বরণীয় বিশিষ্ট সাহিত্যিক হলেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। ইনি তিরিশে মার্চ ১৮৯৯ সালে উত্তর প্রদেশে জৌনপুর নামক শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।আর কোলকাতায় এসে ওনার নিবাস হয় বরানগরের আদিকুঠি এলাকায়। 

 পড়াশোনা ও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ:
মাত্র ষোলো বছর বয়সে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ম্যাট্রিক পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হন। ছোটবেলা, স্কুল জীবন সবটাই মুঙ্গেরে কাটে তাঁর। আর খেলাধুলোতেও বেশ পারদর্শী ছিলেন তিনি। ছোট বেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি তাঁর একটা ভালোবাসা ছিল,কিন্তু তাঁর বাবা তারাভূষণ বন্দোপাধ্যায় চাইতেন ছেলে ব্যারিস্টার হোক। বাবার ইচ্ছে আর নিজের সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ এই দুই ভাবনার অন্তর্দ্বন্দ্বে ভুগতেন তিনি। বাবার ইচ্ছে রাখতে তিনি বি এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পাটনায় আইন নিয়ে পড়তে যান। কিন্তু মনে যার সাহিত্য বাস করে সে কি করে অন্য কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবে! পরে তাঁর বাবাও হয়তো বুঝেছিলেন ছেলের মন নেই ওকালতিতে, তাই ছেলে নিজের মনের কথা শুনে সাহিত্য চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।

১৯ বছর বয়সে মুঙ্গেরের উকিল জীবন চক্রবর্তীর পৌত্রী পারুল দেবীর সাথে তার বিবাহ হয়। 
১৯২৬ সালে  পাটনা থেকে আইন পাস করে ওকালতি শুরু করেন তিনি। কিন্তু তাঁর ওকালতি জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ওকালতি শুরুর তিন বছরের মাথায় পাটনা ছেড়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি দেন আর সেখানে মুভির জন্য স্ক্রিনপ্লে লেখা শুরু করেন। বেশিদিন মুম্বাই তে থাকেননি, ১৯৫২ সালে পুনে আসেন আর নিজের সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ কে প্রাধান্য দিয়ে মনোনিবেশ করেন সাহিত্য চর্চায়।

সাহিত্য জীবন - পড়াশোনা চলা কালীন কুড়ি বছর বয়সে কলেজে পড়ার সময়ে প্রথম সাহিত্য হিসেবে একটি কবিতা সংকলন প্রকাশ পায় যার নাম ছিল "যৌবন স্মৃতি"।এই সংকলনে প্রায় একুশটা মত কবিতা ছিল এবং প্রতিটি লেখাই ছিল পাঠকের মনোগ্রাহী। ওকালতি জীবনেই 'বসুমতী' তে ছাপা হয়েছিল তাঁর প্রথম গল্প 'উড়ো মেঘ'।শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার মধ্যে সব চেয়ে জনপ্রিয় ছিল গোয়েন্দা কাহিনী। এছাড়াও সামাজিক, রোমান্টিক, ডিটেকটিভ কাহিনী, ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস রচনা করেছিলেন তিনি। তাঁর বর্ণনা রীতি ছিল অসাধারণ আর ভাষার বুনন থাকতো খুব মজবুত। অতি সহজেই তাঁর লেখা তাই পাঠকের মনে আনন্দ দান করেছিল। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। উপন্যাসের পাশাপাশি লিখেছিলেন কবিতাও। তাঁর সাহিত্যে প্রেরণার কথা বলতে গিয়ে নিজের মা বিজলীপ্রভা দেবীর কথা বলেছেন যিনি কিশোর শরদিন্দুকে পড়ে শোনাতেন 'মেঘনাদবধ কাব্য'।সেই থেকেই তাঁর মনে সাহিত্য চর্চার উন্মেষ হয়।বম্বে টকিজ ছবির গল্প লেখক হিসেবে কাজ করার সুবাদে ভাবী,বচন, দুর্গা, কঙ্কন এগুলো তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাণিজ্যিক ফরমায়েশি পালন ছিল না তাঁর রক্তে, তাই পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা একটু ফিরতেই  আবার তিনি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। একটা কথা তিনি সবসময় বলতেন " জীবনকে এড়িয়ে কোনোদিন গোয়েন্দা গল্প লেখবার চেষ্টা করিনি "। কি, কেনো, কবে, কীভাবের উত্তর অন্বেষণ করতে করতে বাঙালি যে কখন গোয়েন্দা হয়ে ওঠে বোঝা মুশকিল। বাঙালির এই খানা তল্লাশি করার কাজে আজও তারা গোয়েন্দা গিরিতে চোখ বন্ধ করে ফলো করে ব্যোমকেশকে। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই বাঙালি তার প্রথম প্রাইভেট ডিটেকটিভ  হিসেবে পেয়েছিল সত্যান্বেষী কে। শরদিন্দু তাঁর বলিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে গোয়েন্দা কাহিনী গুলোকে এক অন্য রকম মাত্রা দিয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎ কারে বলেছিলেন " ওগুলো (ব্যোমকেশের কাহিনী গুলো) নিছক গোয়েন্দা কাহিনী নয়। প্রতিটি কাহিনী আপনি শুধু সামাজিক কাহিনী হিসেবেও পড়তে পারেন"। তাই শুধু গোয়েন্দা গল্পই নয়, শরদিন্দুর যে কোনো লেখাতেই জীবন সম্পৃক্ততার পূর্ণ প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। শুধু সমসাময়িক বা জীবনের দৈনন্দিন ঘটনা কেই তিনি শুধু প্রাধান্য দেননি, ইতিহাসকেও চমৎকার ভাবে দেখতে পারতেন তিনি। নিজেই বলতেন " আমি বাঙালিকে তাহার প্রাচীনের সাথে পরিচয় করাইয়া দিবার চেষ্টা করিয়াছি। বাঙালি যতদিন না নিজের বংশ গরিমার কথা জানতে পারিবে,ততদিন তাহার চরিত্র গঠিত হইবে না..."। তাই বাঙালি পেয়েছে 'কালের মন্দিরা ', ' গৌড়মল্লার ', ' কুমারসম্ভবের কবি', ' শিবাজী ও সদাশিব ' এর মত ঐতিহাসিক উপন্যাসকে। ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছিলেন " লোকে ইতিহাস পড়িবে না,কিন্তু আপনার বই পড়িবে"।ছোট গল্পেও তার অবদান অনস্বীকার্য। 'ভল্লু সর্দার', 'কর্তার কীর্তি' এই রচনা গুলো বারবার পড়েও পুনরায় পড়ার সাধ থেকে যায় পাঠকের মনে। বই পড়া, রচনার পাশাপাশি ভাষা চর্চার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল বেশ। নিজে সংস্কৃত শিখবেন বলে পণ্ডিতও নিয়োগ করেছিলেন তিনি। 

জীবনের শেষ উনিশ বছর নিজের তৈরী বাড়ি মিথিলা তে কাটিয়েছিলেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়।  তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিল শুধু বই আর বই। ভালো পাঠক না হলে ভালো লেখক হওয়া যায় না, শিক্ষিত পাঠক সৃষ্টি করে এক শিক্ষিত লেখকের। এর জলজ্যান্ত উদাহরণ ছিলেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। 
বড়োদের গল্প উপন্যাসের পাশাপাশি শিশু কিশোরদের জন্য ও তাঁর লেখালিখির পরিমাণ কম নয়। শিশু সাহিত্যে তাঁর স্মরণীয় নায়ক চরিত্র ছিল 'সদা শিব '।  

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরস্কার প্রাপ্তি :
শরৎ চন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার (১৯৬৭)
রবীন্দ্র পুরস্কার ( তুঙ্গভদ্রার তীরে)

তাঁর এই সাহিত্যময় জীবন ছেড়ে অবশেষে ১৯৭০ সালে
 ২২ সেপ্টেম্বর পুনেতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলা সাহিত্য তাঁর এই অবদানের জন্য তাঁর কাছে চিরঋণী।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম - কথকথা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - কথকথা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কথায় আছে ভাবিয়া করিও কাজ,করিয়া ভাবিও না। কোনো কিছু করার আগে অবশ্যই ভেবে নেওয়া উচিত বেশ খানিকটা। আর কথাতো হলো এমন এক,যা একবার মুখ থেকে বেরোলে তাকে আর ফিরিয়ে নেওয়া যায়না ঠিক ধনুক থেকে তীর নিক্ষেপের মতন। ব্যবহার দিয়েই মানুষকে চেনা যায় আর মনেও রাখা যায়। স্থান কাল পাত্র নির্বিশেষে কোথায় কোন কথা বলা যায় আর কোন কথা বলা যায়না এগুলো আগে থেকেই ভাবনাচিন্তা করা উচিত। হয়তো কোনো কিছু বলার আগে রাগ হচ্ছে তখন চুপ থাকাই শ্রেয়। কথার মারপ্যাঁচে কাউকে বিপদে ফেলাও অনুচিত। কারো বলা কথায় কেউ যাতে কোনো কষ্ট না পায় সেটাই ভাবা উচিত সব সময়। কোনো এক সিনেমায় একটা উক্তি শুনেছিলাম 'অ্যাডজাস্টমেন্ট মানে হেরে যাওয়া নয়,বরং নতুন করে মানিয়ে নিয়ে বাঁচা।' তা নতুনের সাথে মানিয়ে নিতে ক্ষতি তো কিছু নেই। কথা আদান প্রদান এমন হোক যাতে কারোর মনে কোনো কোনো খেদ না জন্মায়,ক্ষত না তৈরি হয়।দিন দিন বরং মানুষের ধৈর্য্য কমছে,না ভেবেচিন্তেই কথা দিয়ে আরেকজনকে আঘাত করছে। কথায় বলে মানুষ সব থেকে বেশী প্রেমে পড়ে কথার, কথা দিয়ে যেমন করো মন ভালো করা যায় আবার তেমন কথার দ্বারা কারো মন ভেঙেও দেওয়া যায়। তাই সব দিক ভেবেচিন্তে বুদ্ধি স্থির রেখে কথা বলা উচিত সে নিজের লোকই হোক বা বাইরের কেউ হোক। 

"শব্দ হোক ভদ্র মার্জিত,কথাই হলো ব্যক্তির মনের প্রতিফলন
তাই ভেবে চিন্তে বলো কথা,এর যে হয়না বিপরীত গমন।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম-রুদ্ধ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম-রুদ্ধ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন,নেই যাওয়া আসা বহুদিন ধরে 
বিস্তৃত রেলপথ একাকী,গাছ উঠেছে তার বুক ফুঁড়ে।

ভুলে যদি যাও,না থাকে কোনো কথা বিনিময়
অপর প্রান্ত নিশ্চুপ থেকে অপেক্ষা করবে কিছু সময়।

জানোই তো সকলে,প্রকৃতি নিয়ম রক্ষার্থে বড়ই কঠোর
সংযোগহীনতায় বন্ধ হয় ফেরার পথ,রুদ্ধ হয় সব দ্বার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০২৫

সংস্কার ও কুসংস্কার✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 সংস্কার ও কুসংস্কার
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সংস্কার মানে কিছু নিয়ম বা আচার যা সৃষ্টি হয়েছে সেই আদিকাল থেকে, সমাজের মাথারা এসবের  হর্তাকর্তা। আর এই সংস্কারের বশবর্তি হয়ে কিছু অযৌক্তিক জিনিস মেনে নিয়ে চলাকে কুসংস্কার বলা হয়। 
"কুসংস্কার" শব্দটি ল্যাটিন সুপারস্টার থেকে আসে, সাধারণত "দাঁড়িয়ে থাকা" হিসাবে অনুবাদ করা হয়, তবে তার সঠিক মানে ব্যাখ্যা করার বিষয়ে কিছু মতভেদ রয়েছে।
কিছু যুক্তি দেয় যে এটি আশ্চর্যের কিছু কিছু "দাঁড়িয়ে" বলে অভিহিত করেছে, কিন্তু এটিও প্রস্তাব করা হয়েছে যে এটি "বেঁচে থাকা" বা "চলমান",যেমন অযৌক্তিক বিশ্বাসের দৃঢ়তা হিসাবে। 
সহজ ভাষায় কুসংস্কার অতিপ্রাকৃত একটি বিশ্বাস,  যা বিশ্বজগতের প্রকৃতি বা বিজ্ঞানের জ্ঞানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন অস্তিত্বের একটি বিশ্বাস।
আর এই বিশ্বাস জন্মানোর জন্য যে মূল দায়ী সে হলো সংস্কার। প্রাচীনকাল থেকে সংস্কারের জাতা কলে পিষ্ট হতে হতে কুসংস্কারের জন্ম হয়েছে মানুষের মনে। তাই আজও একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষ ধর্মের গোঁড়ামি থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি। যার ফল স্বরূপ আজও শোনা যায় ডাইনী সন্দেহে কাউকে মেরে ফেলা হয়েছে, সাপে কাটলে তাকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে গিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া,শিশুবলি, গণেশের দুধপান,বশীকরণ ইত্যাদি। 
লোকসমাজে চলে আসা এসব ভ্রান্ত ধারণা তথা কু সংস্কার দুর করতে পারে একমাত্র বিজ্ঞানের আলোচনা। বিজ্ঞান বনাম কুসস্কারাচ্ছন্ন মানুষের মন এই লড়াই চলে আসছে অনেক দিন ধরেই। 
যেদিন মানুষ মন থেকে কুসংস্কার দূরে সরিয়ে দিয়ে বিজ্ঞানের জয়গান গাইবে সেদিন নতুন সমাজের সৃষ্টি হবে,ধর্মীয় অনুশাসনের অচলায়তন থেকে বেরিয়ে আসবে মানুষ, মুক্ত হবে সংস্কারের প্রভাবে সৃষ্ট কুসংস্কারের নিগড় থেকে। আর এর জন্য চাই সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার দিশারী। বিজ্ঞান মঞ্চ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয় মাঝে মাঝেই। নানা রকম ক্যাম্প করে বিজ্ঞানের চিন্তাধারার মূল রোপণ করতে হবে সাধারণ মানুষের মনে। তবেই বাঁচবে সমাজ আর সমাজের লোক সকল।

"এসেছে সময় সংস্কারজাত কুসংস্কার থেকে মুক্তির
দিশা দেখাবে বিজ্ঞান সকলে গাও জয়গান তার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫

'ফিল গুড' এক্সপ্রেশন✍️ ডা:অরুণিমা দাস

'ফিল গুড' এক্সপ্রেশন
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

লবণের অনুপস্থিতি যেমন তরকারিতে তার উপস্থিতি উপলব্ধি করায়, জলের মূল্য যেমন জীবনে অপরিহার্য, সেরকম মনের কথা যতক্ষণ থাকে অবলা, ততক্ষণ পর্যন্ত সেটি প্রকাশের জন্য অপেক্ষমান থাকে। কোনো কথা যদি জমা থাকে মনের কোণে,যদি মনে হয় কাউকে বলা যায়না তাহলে সেটা লিখে ফেলা উচিত কোনো খাতায়, ডায়রী লেখার অভ্যাস হয়তো এই জন্য থাকা ভালো। সেটা অবশ্যই যে যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। একটু ডাক্তারি পরিভাষায় নিরিখে কিছু কথা এসে যাচ্ছে মনে। অবলা কথা মনে জমে থাকা একটা কষ্টের সৃষ্টি হওয়া যা মানসিক চাপকে বাড়িয়ে দেয় বেশ খানিকটা। ফলস্বরূপ নিঃসৃত হয় স্ট্রেস হরমোন যা বেশ ক্ষতিকর শরীর ও মন দুইয়ের পক্ষে। তাই মনের জমে থাকা কথা প্রকাশে একটা ফিল গুড অনুভূতি আসে মনে,চাপ কমে অনেকটা। আর চাপ কমার সাথে সাথে নিঃসৃত হয় হ্যাপি হরমোন যেমন ডোপামিন,সেরোটোনিন ইত্যাদি। মন যেমন ভালো হয় এতে তেমন নিজেকে বেশ হাসি খুশী আর উদ্যমী লাগে। এভাবেই কোনো কথা অব্যক্ত না রেখে যে কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করে গুমরে না থেকে,অবসাদে না ভুগে প্রাণখোলা আনন্দে মেতে থাকা উচিত। 

"রেখো না কিছুই অব্যক্ত,যে কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করো মনের কথা
হ্যাপি হরমোন দেবে 'ফিল গুড' তোমায়,ভোলাবে সকল ব্যথা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম - দূরত্ব✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দূরত্ব
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

মান অভিমানে বেড়েছে দূরত্ব, তবুও যত্নশীল একে অপরের প্রতি 
আসলে ভালোবাসা থাকলে মনে,রাগেও ফোটে সহানুভূতি।

যতই আসুক ঝড় ঝাপটা, ভরসার হাত ছেড়ো না কখনো 
স্বামী স্ত্রী যে একে অপরের অবলম্বন সকলেই তো জানো। 

চলবে জীবন নিজের মতন, থাকবে হাতাহাতি আর ঝগড়া ঝাঁটি 
এর মাঝেই চিরস্থায়ী থাকুক যত্নসুখের আবেশ,তবেই না ভালোবাসা হবে খাঁটি। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম - উপহার ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - উপহার
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

উপহার যদি দেওয়া যায়, আমার মতে সেরা উপহার হলো সময় দেওয়া। সময় কাউকে দেওয়া মানে সেই মুহূর্ত গুলো দেওয়া যা কখনো আর ফিরে আসবে না কিন্তু স্মৃতির মণিকোঠায় ছাপ পড়ে থাকবে। আজকাল কার যুগে মানুষ এতটাই যান্ত্রিক হয়ে পড়েছে যে সময়ের অভাব বড্ড প্রকট। মোবাইল, ল্যাপটপ বা আইপ্যাড এসবে এতটাই বুঁদ হয়ে গেছে যে কাছের মানুষ আত্মীয় স্বজনদের সময় দেবার কথা ভুলেই গেছে। এর দরুন সম্পর্কে চিড় ধরছে, ভাঙ্গন ধরছে সম্পর্কে। ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়ছে, একাকীত্ব বাড়ছে। তাই সময় দেওয়া টা খুব প্রয়োজন। আর সারাদিনে নিজের জন্য সময় বের করে নিজের সাথে সময় কাটানো টাও নিজেকে দেওয়া সেরা উপহার। সময় বের করে নিজের প্যাশন গুলো এক্সিকিউট করাটাও দরকার।  সময় থাকতে সচেতন হওয়া দরকার, সময় দেওয়াটা খুব প্রয়োজন, নিজের ভালোর জন্য আর চারপাশের সবার ভালোর জন্য। 

"দিনদিন মানুষ হয়ে উঠতে যান্ত্রিক,সময় দিতে পারছে কোথায়
উপহার হিসেবে দাও তাই সময়,সেরা হয়ে থাকবে স্মৃতির পাতায়।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০২৫

জেনারেশন গ্যাপ ডা:অরুণিমা দাস

 জেনারেশন গ্যাপ
 ডা:অরুণিমা দাস

এসেছে দাদু অনেকদিনের পরে,খুশি তাই সকলে
ছুট্টে এসে জড়িয়ে ধরে নাতি আবদারখানা বলেই ফেললে।

চাই তার আইপ্যাড ফর ইমপ্রুভমেন্ট ইন এডুকেশন
ছোট্ট হেসে দাদু বলেন তাই নাকি!আগে বইতে করো কনসেনট্রেশন।

দাদুর মুখে ইংরেজি শুনে নাতি হয় ভীষণ অবাক
বুঝতে পেরে দাদু বলেন গ্যাজেট সব চুলোয় যাক।

বই পড়ো ভালো করে,বুক ভরে ঘ্রাণ নাও বইয়ের 
আইপ্যাড না বললে কিসব, ওসবকে করো ইগনোর।

হয়েছি আমরাও বড়ো,করেছি শিক্ষকতা বছরের পর বছর
লাগেনি কোনো ডিজিটাল হেল্প,ছিলাম বই আর ডিকশনারি নির্ভর।

আমিও ফেসবুক করি,শুনলে হতবাক হবে তুমি জানি তা
কিন্তু নই আমি গ্যাজেট নির্ভর,আছে নিজস্বতা।

আজও বলবো হোয়োনা যান্ত্রিক,তুমি যে আমার বড়ই নিকট
জানি একথা শুনে লাগবে খারাপ তোমার,জেনারেশন গ্যাপ যে বড়ই প্রকট।

দাদুর কথায় হেসে নাতি বলে, ভুল হয়েছে আমারই
আইপ্যাড আর নয়,জ্ঞান বাড়াবো বিভিন্ন বই পড়েই।

আজ তাই বুঝতে পারি তোমরা কতটা আলাদা ছিলে,ছিল অন্যরকম চিন্তা ভাবনা
তুমিই হবে আমার চলার পথে আদর্শ,বই হবে বন্ধু ওসব গ্যাজেট আর মানবো না।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০২৫

আজি এ দোলেতে✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 আজি এ দোলেতে
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বসন্তের সমাগমে চারিদিক যে হয়েছে মুখর
প্রকৃতি রেঙেছে লাল পলাশে খুশি ভরপুর।

দোল উৎসবে রঙের খেলাতে মেতেছে সবাই
লাল সবুজ হলুদ আবিরে সকলেরে রাঙাই।

মনের গভীরে যায় যে রঙ,আসে তার ছাপ রেখে
এই দোলেতে আনন্দ দ্বিগুণ হোক সেই রঙখানি মেখে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...