বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

জয়✍️ ডা:অরুণিমা দাস

জয়
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কোনো কাজে সফল হতে গেলে প্রতিভা ও ক্ষুরধার বুদ্ধি ছাড়াও বেশি দরকার ইচ্ছাশক্তি ও একাগ্রতার। অধ্যবসায় না থাকলে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়না অনেক সময়ই। ইচ্ছেশক্তির ডানায় ভর দিয়ে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, সাথে যদি অদম্য জেদ আর একাগ্রতা সঙ্গী হয়। কোনো কাজে সফল হতে গেলে ৯৯ শতাংশ ইচ্ছেশক্তি আর ১ শতাংশ ভাগ্যের সাথ প্রয়োজন। তাই দিনের শেষে জয় হয় ইচ্ছেশক্তির। প্রতিভা যদি বিজয় পথে চলার গাড়ি হয় ইচ্ছেশক্তি হচ্ছে সেই গাড়ির জ্বালানী। জ্বালানী ছাড়া যেমন গাড়ী এগোতে পারে না তেমনি ইচ্ছেশক্তি ছাড়া জয়ের মুখ দেখা যায় না।

প্রতিভা থাক যতই সাথে, ইচ্ছেশক্তি চাই লড়তে হলে
জীবন পথে জয়ী হবে একাগ্রতা,জেদ আর ইচ্ছের মিলে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

শিরোনাম - সংগ্রাম✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - সংগ্রাম
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বিশাল এক ঝড় উঠেছে, আকাশখানি কালো 
উত্তাল সমুদ্রে জাহাজখানি করছে টলোমলো।

পাড়ে যে ভিড়তে হবে তাকে, বাঁচবে তবে যাত্রী সকল
সমুদ্রের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে এগোতে চাই যে বল।

জাহাজ সমুদ্র নিমিত্তমাত্র, আছে লুকিয়ে এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সময় যখন খারাপ চলে,হাল না ছেড়ে এগিয়ে চলাই যে জয়ের মূল পথ্য। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

ভুল ঠিক ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ভুল ঠিক
✍️ডা:অরুণিমা দাস

অন্যের ভুল ঠিক বিচার করার কাজে মানুষ পারদর্শী হলেও সে কিন্তু তখন প্রকৃত অর্থে মানুষ নয়, সে তখন বিচারক হিসেবে নিজেকে জাহির করতে বেশি ভালোবাসে। এই বিচারভারের দায়িত্ব না হয় সর্বশক্তিমানের হাতে দিয়ে নিজের কাজের ভুল ঠিক বিচার করার জন্য তৎপর হলে বোধহয় উন্নতিটা বেশী তাড়াতাড়ি সম্ভব। ক্ষমতার পিয়াসী মানুষ নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে গিয়ে অন্যের ভুল ধরে তাকে টেনে নিচে নামানোর চেষ্টাকেই মহৎ কাজ বলে মনে করে। এতে যেমন তার নিজের নীচ মানসিকতার পরিচয় দেয় তেমনি ক্ষতবিক্ষত করে তার মনুষ্যত্বকে। নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার প্রচেষ্টা সর্বদা রাখা উচিত কিন্তু সেটা নিজের ভুল গুলো শুধরে ফেলে,অন্য কারোর ভুল ধরে নয়। প্রতিযোগিতা সবসময় নিজের সাথে হওয়া উচিত, আমি আগের থেকে কতটা উন্নতি করলাম কতটা এগোতে পারলাম সেটাই জানার দরকার। এতে নিজের কাছে যেমন স্বচ্ছ থাকা যাবে তেমন কাউকে ছোট করাও হবেনা।

"ভুল যা আছে খোঁজো নিজের মধ্যে,শুধরে নেয়ার সময় রেখো
অন্যের দোষ খুঁজে কি লাভ! প্রকৃত মানুষ হতে আপনারে নিখুঁত রাখতে শেখো।"

©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩

শিরোনাম - মেডিটেশন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - মেডিটেশন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চোখ বন্ধ করে মাঝে মাঝে চলুক মেডিটেশন
বাড়বে যে এতে তোমার কনসেন্ট্রেশন।

জ্ঞানস্পৃহা জাগবে,বাড়বে বুদ্ধির প্রখরতা
সেরিব্রাম থেকে সেরেবেলাম, আসবে উন্নত চিন্তা।

কাজের চাপে পড়ে যখন, জীবন হচ্ছে জেরবার
তখনই প্রাণায়াম শক্তি দেবে লড়বার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

শিরোনাম - ব্যালেন্স✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ব্যালেন্স
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চলছি সবাই জীবন পথে, খেলছি ব্যালেন্সিং গেম
কাজ আর জীবনের ভারসাম্য  থাকলে বজায় তবেই তুমি জেম। 

কর্মই যে জীবন এসব কথা মানায় বইয়ের পাতায় 
জীবনের চ্যালেঞ্জ গুলো নিজেদের চিনতে শেখায়।

তুলাদন্ডের সূক্ষ্য কাঁটা যেনো না নড়ে ডাইনে বা বাম দিকে
মধ্যিখানে রেখে কাঁটা চালাক ব্যালেন্স কর্ম আর জীবনকে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

ক্যান্টিনের অন্দরে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 ক্যান্টিনের অন্দরে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কলেজে ভর্তি হবার পর নতুন নতুন বন্ধুদের সাথে গল্প আড্ডা মারার জন্য একদম উপযোগী জায়গা ছিলো ক্যান্টিন। কলেজে উঠে একটু বড়ো বড়ো ভাব এসেছে তখন। ছেলেদের জন্য লুকিয়ে তামাক সেবন করার উত্তম জায়গা ছিলো ক্যান্টিন। অনেক টুকরো টুকরো ঘটনা মনে আসছে। একদিন আমাদের এক বন্ধু শ্রেয়ান সিগারেটটা ধরিয়ে টান দেবে এমন সময় মাথায় এক গাট্টা আর কানমলা খেলো। এসবের চোটে বিষম খেয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে দাদা দাড়িয়ে আছে। আমরা উল্টো দিক থেকে ওর দাদা কে আসতে দেখেছিলাম কিন্তু দাদা আমাদের হাত দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেছিল। সেদিনের পর থেকে শ্রেয়ান ক্যান্টিনকে সেফ মনে করতো না, কলেজের বাথরুমটা ওর জন্য সেফ ছিলো। 
আর আহমেদ কলেজের ক্যান্টিনে আমরা বন্ধুরা মিলে খেতে গেছি, ছটা মতন ফিশ ফ্রাই অর্ডার করেছি আর সাথে চা। আমি চা খাই না বলে বন্ধুরা পেছনে লাগছে কমপ্ল্যান খাবি বোর্নভিটা খাবি এসব বলছে। আমি নিরুত্তর হয়ে ফিশ ফ্রাই খাচ্ছি। সকলের খাওয়া হলে বিল এলো। বিল দেখে একটু অবাক লাগলো, বেশ কম। বিল মিটিয়ে সবাই মেনু দেখি ফিশ ফ্রাই এর জায়গায় ফিশ ফিঙ্গারের দাম ধরেছে। আমরা তাড়াতাড়ি করে ব্যাগ পত্র গুটিয়ে পালাচ্ছি, ওরা বোধয় বুঝতে পেরেছিল। অনেকবার ডেকেছিল কিন্তু আমরা তখন হাওয়া। পরে যদিও ওই ক্যান্টিনের সকলকে কফি আর রোল খাইয়েছিলাম আমরা সবাই। তবে আমার জন্য চায়ে পে চর্চা টা কফি পে চর্চা তে বদলে গেছিলো।
এরপর এম বি বি এস পড়তে ঢুকে মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনে প্রচুর গল্প জমে আছে পাঁচ বছরের। একদিন বন্ধুরা সকলে মিলে খেতে বসেছি চিকেনে দেখি বেশ কয়েকটা আরশোলা। আমরা চেঁচামেচি শুরু করেছি ক্যান্টিনের দাদা শান্ত স্বরে বললো আরে চাইনিজ ফুড তো মাঞ্চুরিয়ান, দু একটা আরশোলা থাকলে কি ক্ষতি? আমরা রেগে গিয়ে বেশ ঝাড়লাম দাদাকে। পরে অবশ্য ভালো চিকেন পাকোড়া খাইয়েছিল আমাদের ক্যান্টিনের দাদা। বেশ ভালো সম্পর্ক হয়ে গেছিলো পাঁচ বছরে। তবে দাদা বলতো তোরা সব মা বাবার স্বপ্ন, পড়াশোনা ভালো করে করিস। কলেজে উঠেছিস বলে নিজেদের বখিয়ে দিসনা। দাদার কথা গুলো তখন বুঝতে না পারলেও এখন উপলব্ধি করতে পারি একটু একটু।
তারপর পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে পড়তে ঢুকে প্রথম ছমাস কোভিডের জন্য ক্যান্টিনে সেরকম যাওয়া হতো না। আর আন্ডার গ্র্যাজুয়েট জীবনের থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট জীবন টা অন্য রকম ছিলো। এখানে সবাই কলিগ বন্ধু কেউ নয় বুঝলাম। তাও ডিউটির চাপে যখন ফাঁকা পেতাম কাকিমার ক্যান্টিনে চলে যেতাম আড্ডা দিতে। কাকিমা খুব আন্তরিক ভাবে আমাদের আপ্যায়ন করতেন। আড্ডা দিতে বসে কার ওটি তে কোন কেস ঘেটেছে আর কিভাবে ম্যানেজ করেছে সেসব গল্প হতো। স্যার ম্যাডামদের নতুন নতুন নাম দেওয়া হতো, সেসব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলত কার জন্য কোন নামটা মানাবে। এই ভাবেই তিনটে বছর কেটে গেলো। তবে ওটিতে ব্যস্ত থাকলে কাকিমাকে একটা ফোন করে দিলেই খাবার এসে যেতো। 
আর এখন সময়ের অভাবে খুব একটা ক্যান্টিনে যাওয়া হয়ে ওঠেনা। ক্যান্টিনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পুরনো কথাগুলো মনে পড়লে বেশ আনন্দে ভরে ওঠে মনটা।

©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৩

লক্ষ্যভেদ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

লক্ষ্যভেদ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চলার পথ সুগম হবে,এটা আশা করা উচিত নয় বরং কোনো আশা না রাখাই শ্রেয়। শত বাধা বিপত্তি আসবে,সেগুলো উপেক্ষা করে এগিয়ে চলার মাঝেই রয়েছে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছনোর আনন্দ। গরম চা খেতে গিয়ে জিভ যখন পুড়ে যায়, বাকি স্বাদকোরক গুলো বরং আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে, চায় তারা বাকি চা টুকুর উষ্ণ পরশ নিতে, তখন খাওয়া কিন্তু থামিয়ে রাখা যায় না। চলার সময় পথে বাঁধা বিপত্তির সম্মুখীন হলে থেমে যাওয়া যায় না। এগিয়ে যেতে হয় সেই কাটার পথ ধরে, পায়ের দগদগে ক্ষতগুলোই মনে করিয়ে দেয় লড়াই করে যেতে হবে, লক্ষ্যভেদ করতে হবে। তাই তো জীবনের মূলমন্ত্র হলো চরৈবতি। কোনোভাবেই ছাড়া যাবে না হাল,বেয়ে যেতে হবে জীবনতরী  তবেই পাওয়া যাবে পাড়ে পৌঁছানোর আনন্দস্বাদ।

"দুর্গম পথ যতই ধরাক পায়ে জ্বালা,থেমে যাওয়া তো যাবেনা
লক্ষ্যে থেকে অবিচল,আস্থা রেখে নিজের ওপর জীবন করো চালনা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৩

সম্পূর্না✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 সম্পূর্না
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

মেয়েদের নিজের বাড়ি বলে কি সত্যিই কিছু হয়না? এই প্রশ্ন সকলের। অনেকে নানা মত ব্যক্ত করেন। ছোটবেলায় বাবার বাড়ি, বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি, তারপর ছেলের বাড়ি এভাবেই বাড়ী বদল হয়তো হতে থাকে একটি মেয়ের জীবনে। কিন্তু কোনো বাড়ীতেই মেয়ে না থাকলে সেই বাড়ী,বাড়ী হয়ে ওঠেনা। নারী মানেই হলো শক্তির আরেক রূপ। সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে। নারী ছাড়া কি করে আর সংসার হয়? আজকাল সব মেয়ের জীবন শুধু সংসারের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ নয়,কেউ কেউ পা রেখেছে বাইরের দুনিয়ায়,কর্মক্ষেত্রে আর বাড়ীতে দুজায়গাতেই সমান ভাবে সাবলীল ভাবে কাজ করে। তাই নারী তোর বাড়ি কোথায়? এই প্রশ্নে কাউকে বিব্রত না করে বলা উচিত নারী তুমি ছাড়া বাড়ি বলো,সংসার বলো সব অসম্পূর্ণ। আজকাল পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেও নারী ছাড়া বাড়ীতে কোথাও একটা শুন্যতা থেকেই যায়। তাই নারীর কোনো বাড়ী লাগে না,বাড়ীর বরং নারীকে দরকার বাড়ীকে সম্পূর্ণ করার জন্য। 

"কোনটা তোর বাড়ী,জিজ্ঞেস করে নারীকে কষ্ট দিও না।
নারী ছাড়া শূন্য যে বাড়ী, তাই যে সে অদ্বিতীয়া ও সম্পূর্ণা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৩

শিরোনাম - জীবনের পথ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - জীবনের পথ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চলার পথে আসবে বাঁধা,
করতে হবে অতিক্রম
বাঁধাহীন পথে চলা সহজ, এসব শুধুই মনের ভ্রম।

আঁকাবাঁকা যে জীবনের পথ, নয় যে তা সোজা
প্রতি বাঁকে আছে চ্যালেঞ্জ, লড়তে পারলেই আসল মজা।

বুক চিতিয়ে বলো প্রতিবন্ধকতাকে ডরাই নাকো আর
লক্ষ্যে অবিচল থেকে পথের শেষ বিন্দুতে পৌঁছতে বদ্ধ পরিকর। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম-বৌ হরণ✍️ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম-বৌ হরণ
✍️ডা: অরুণিমা দাস


আজ সেনগুপ্ত বাড়িতে মহা সমারোহ। এবাড়ির ছোট ছেলে বিজয়কৃষ্ণের আজ বিয়ে। পাশের পাড়ার শ‍্যামলীর সাথে। বাড়িতে খুব হৈচৈ। পুরনোদিনের বাড়ি। বাবা, কাকা, জেঠ‍্যা কাজের লোক সবাই মিলে প্রায় কুড়িজন মতো লোকজন এবাড়িতে বসবাস করে।ওরা নিজেরাও তো ভাইবোন অনেক। বিজয়কৃষ্ণ কলকাতায় থেকে পড়াশোনা করে । গরমের ছুটিতে বাড়িতে এসেছে। মা আগেই মেয়ে দেখে রেখে দিয়েছিল। তাই ছুটিতে আসার সাথে সাথেই বিয়ে। মেয়েকে একবার দেখেনি পর্যন্ত। তখন অবশ্য এমনই হতো।


যাইহোক বিয়ে তো মিটে গেল বেশ ভালোভাবেই।  কিন্তু দুজনেই বেশ ছোট। তাই বিয়ের পরেই পাঠিয়ে দেওয়া হলো মেয়েকে বাপের বাড়িতে। বড় হবে , আর এদিকে বিজয়ের লেখাপড়া শেষ হবে , তখন মেয়ে আবার শশুর বাড়িতে আসবে। তখনকার দিনে এমন হতো। বিজয়ের ও তাই হলো ।


কিন্তু নিজের বিয়ে করা বৌকে একবার চোখের দেখাও দেখতে পেলো না কলকাতায় চলে যাওয়ার সময়। বড়দের সামনে দেখা করা  যেতনা তখন।বড় লজ্জার ব‍্যাপার ছিল। এদিকে নতুন বৌ রেখে যেতেও ইচ্ছা করছে না।  কিন্তু কি আর করা । বাধ‍্য হয়ে চলে যেতে হলো। কিন্তু মন তো বসছে না কিছুতেই কলকাতায়। তাই সে প্লান করলো বৌ চুরি করবে।


কিন্তু প্ল্যান তো একা করা যায় না। বিজয় বন্ধুদের জানালো ব্যাপারটা। বন্ধুরা সবাই মিলে উপায় ভাবতে লাগলো। কেউ বললো চল কালকের ট্রেনে তোর শ্বশুর বাড়ী। গিয়ে নিয়ে আসবি বউ কে। বিজয় বললো না এরকম হয় না, চুরি মানে চুরি ই করবো। ভাবতে দে একটু। সারারাত ধরে ভেবে বিজয় প্ল্যান করলো ছদ্মবেশে যাবে শ্যামলী দের বাড়ীতে। পরদিন বিজয় ফকির সেজে আর এক বন্ধুকে মেয়ে সাজিয়ে চললো শ্বশুর বাড়ী। বিজয় শুনেছিল শ্বশুরের দয়ার শরীর, কাউকে কখনো ফেরান না। পরদিন দুপুরে হাজির হলো শ্বশুর বাড়ী। দরজা খুললো শ্যামলী নিজেই। ফকির বাবা কে দেখে প্রণাম করে বললো আসুন বাবা ভিতরে আসুন। ফকির বলে উঠলো কিরে বেটি তোর মুখ এত শুকনো কেনো? কিছু হয়েছে নাকি? শ্যামলী কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো হ্যা বাবা,আমার মনের মানুষ চলে গেছে অনেক দূরে। মন বড্ড খারাপ তার জন্য। কিন্তু আপনি কি করে জানলেন?


ফকির বললেন আমি সব জানি বেটি। বল কোথায় আছে তোর মনের মানুষ?


- সে তো শহরে আছে বাবা। অনেক দূরের পথ। আমি জানিও না কি ভাবে যাবো।


- আচ্ছা আমি আর আমার মেয়ে বেরিয়েছি তীর্থে যাবো বলে। আজ তো অনেক বেলা হলো। একটু জিরিয়ে নিয়ে কাল আবার বেরোব। তোর বাসায় একটু থাকতে দিবি?


ওদের কথার মাঝে শ্যামলীর বাবা এসে হাজির। ফকির কে দেখে প্রণাম করে বললেন কি চাই বাবা? শ্যামলী বললো ফকির বাবা আর ওনার মেয়ে আশ্রয় চান আজকের রাতটা। ওনারা তীর্থে যাবেন। শ্যামলীর বাবা বললেন হ্যাঁ কোনো অসুবিধে নেই। তুই যা তোর মাকে গিয়ে বল এনাদের খাবার ব্যবস্থা করতে। আমি সেরেস্তায় গেলাম। শ্যামলী ঘাড় নাড়লো। মাকে ডাক দিল। কাজের লোক নিয়ে এসে তাদের খাবার খেতে দিল শ্যামলীর মা। খাওয়া শেষে ফকির একটা কাগজ গুঁজে দিলো শ্যামলীর হাতে। শ্যামলী আড়ালে গিয়ে খুলে দেখলো লেখা আছে রাতে দরজা খুলে রেখো, আসবে তোমার মনের মানুষ। রাতের বেলা সকলে খাওয়া দাওয়া সেরে ফকির বাবা আর তার মেয়েকে অতিথি সদনে পাঠিয়ে ঘুমোতে গেলো। ঠিক রাত বারোটার সময় শ্যামলীর দরজায় টোকা পড়লো। দরজা ভেজানো ছিলো। দরজা খুলে দেখে ফকির বাবার মেয়ে দাড়িয়ে আছে। চট করে মেয়েটা ঘরে ঢুকে শ্যামলীকে একটা বোরখা দিলো।বললো এটা পরে নাও। নিচে বাগানে ফকির বাবা অপেক্ষা করছেন, যাও তার কাছে। শ্যামলী বললো কেনো? বেশি কথা বলো না, পরো বোরখাটা আর বেরিয়ে পড়ো। সকলের কাগজের লেখাটা মনে রেখো। আমায় বিশ্বাস করতে পারো। নিচের দারোয়ানদের ঘুম পাড়িয়ে রাখা আছে। তারা জেগে ওঠার আগে বেরোতে হবে তোমাদের। শ্যামলী বোরখা পরে বাগানে হাজির হয়। ফকির বাবা পেছন করে দাঁড়িয়ে ছিলো। শ্যামলী বললো বাবা আমায় ডেকেছেন? ফকির মুখ ঘুরিয়ে তাকালো। শ্যামলী অবাক! কোথায় ফকিরের গোঁফ দাড়ি? এযে তার মনের মানুষ। কিছু বলতে যাবে, ফকির তার মুখ চেপে বললো চলো শেষ ট্রেন টা ধরতে পারলে আমাদের আর কেউ ধরতে পারবে না। বিয়ের পর বৌ ছেড়ে থাকার থেকে বউ চুরি ঢের ভালো আর চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা যদি না পড়ে ধরা। শ্যামলী আর ফকির বাবা রাতের অন্ধকারে স্টেশনের দিকে রওনা হলো, বিজয়ের মুখে হাসির রেখা, শেষ অব্দি বউ চুরিতে সাকসেসফুল হলো সে।


©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৩

লড়াকু✍️ ডা:অরুণিমা দাস

লড়াকু
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

স্বপ্ন থাকে প্রতিটা মানুষের চোখে। স্বপ্নের মায়াজাল বুনতে বুনতে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সকলে চায়। সফল হতে চায়,শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে। কিন্তু সেই পথ কখনো মসৃন হয় না পুরোপুরি। কখনো দুর্গম কখনো সুগম। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলে মনে মনে সংকল্প থাকে সেটা পূরণ করার। সমস্ত প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ়চেতা হয় মানুষ। যে কোনো উপায়ে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর নিজের জেদ অধ্যবসায় এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদে সে একদিন ঠিক নিজের জায়গা করে নিতে পারে, পূরণ করতে পারে নিজের স্বপ্ন। দরকার শুধু হাল না ছাড়ার মানসিকতা। 

প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থেকে নিজের জ্ঞানচক্ষুর হোক উন্মীলন 
অদম্য জেদ আর লক্ষ্যে অবিচল থেকে করো স্বপ্ন পূরণ।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৩

আরাধনা রাইট ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আরাধনা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কোজাগরী পূর্ণিমা, চাঁদের আলোয় আলোকিত গগন
আলপনা দিয়ে লক্ষ্মীর পদচিহ্ন,হোক দেবীর আগমন।

দেবী বিরাজ করুন ঘরে ঘরে,সব দুঃখ ঘুচুক
মঙ্গল কামনা করে জনে জনে পুজোয় মাতুক।

মিষ্টান্ন ফলমূল সাজিয়ে প্রসাদের থালা করুক নিবেদন
সম্মুখে বসি পড়ে পাঁচালী,শুনেন যে লক্ষী নারায়ণ।

আশীষ দিও সবারে, গৃহ হোক ধনধান্যে পরিপূর্ণ
মনস্কামনা পূরণ কোরো সকলের,অভাব যেনো হয় নগণ্য।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৩

শুভ বিজয়া✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শুভ বিজয়া
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

প্রথমা থেকে নবমী, আকাশে বাতাসে পুজোর রেশ
দশমীর আগমন জানান দিলো পুজো এবার হবে শেষ।

চলছে দশমী পুজো, মেঘে মেঘে কাটছে যে বেলা
যাবার সময় এবার উমার,সাজছে যে বরণডালা।

নীলকন্ঠ পাখি উড়ে চলে কৈলাসে, উমা আসার খবর দিতে
মহাদেব ভীষণ খুশী,চারদিন শেষে গিন্নি আসছে তার মর্ত্য হতে। 

মনভরা বিষাদে সকলে জানাচ্ছে বিদায়,বিজয়ার শুভেচ্ছা রইল 
আগামী বছরের অপেক্ষা শুরু,উমাদেবী কৈলাসে ফিরলো।

©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৩

মর্ত্যে আগমন লাইভ

মর্ত্যে আগমন লাইভ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কিরে তোরা সকলে তৈরী হলি? উমা দেবী শাড়ির আঁচল ঠিক করতে করতে বলেন। মা আমার বাটার ফ্লাই ক্লিপ টা খুঁজে পাচ্ছি না! কোথায় রেখেছো গো? লক্ষ্মীর কথায় উমাদেবী ভ্রু কুঁচকে বললেন দেখো গে যাও তোমায় ভাইবোনদের ঘরে। আমি কি সব কিছুর ঠেকা নিয়ে বসে আছি? লক্ষ্মী চুপ করে সরে গেলো। কার্তিক চন্দ্র এসে বললো হাই মাম্মা! হেয়ার ট্রিটমেন্ট করিয়েছি দেখো তো কেমন হয়েছে? উমা দেবী একবার তাকিয়ে চমকে উঠে বললেন ওগো শুনছো দেখে যাও তোমার ছেলের কাণ্ড! ওদিকে উনি তো ছয় দিনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, গঞ্জিকা সেবনের সব জিনিস পত্র সংগ্রহ করছে নন্দী ভৃঙ্গী। গিন্নীর ডাক শুনে জটা জুটো সামলে দৌড়ে এসে বললেন কি হয়েছে উমা? 
কি হয়েছে মানে? দেখো কাতু কি করেছে? চুলটাকে রংচং দিয়ে নষ্ট করেছে। এসব ওই মর্ত্যের ছোড়া গুলোকে দেখে শিখে এসেছে নিশ্চয়ই। না না মাম্মা, কার্তিক বললো। এই ট্রিটমেন্টটা আমায় বিশু মামা বলেছেন। এতে নাকি চুল ভালো থাকে। তোমার বিশু মামা কে দেখছি, ফিরে আসি মর্ত্য থেকে। বাবা খুব বাজে লাগছে কি? না রে, মডার্ন হবি, কিন্তু মন যেনো নিষ্পাপ থাকে। খালি একটু সজারুর কাটার মত লাগছে তোর মাথাটা। ওহ বাবা, ওটাকে স্পাইক বলে। যাক গে আমি তো ছাই মেখে থাকা মানুষ,অত বুঝিনা বাপু। তোদের সাজতে দেখলে আমার খুব ভালো লাগে রে! কোথায় একটু শাসন করবে তা নয়! উনি আরো তোল্লাই দিচ্ছেন ছেলে কে! আরে গিন্নি চটছো কেনো? আমাদের ছেলে মেয়ে গুলো তো আর অবাধ্য নয়। কদিন একটু মামাবাড়ি গিয়ে আনন্দ করে আসুক না। দাড়াও তোমার আর দুজন বাচ্চার খোজ নিই। তারা কে কি করছে! গনু বাবা কোথায় তুই? এই তো আমি প্রায় তৈরী মা! তোর চোখে এটা কি বাবা? কেনো মা সানগেলাস! ইদুর টা ফিচ ফিচ করে বলে। সেটা কি রে গনু? আরে মাম্মা এটা টাইটান থেকে করানো স্পেশাল সানগ্লাস। ওই মর্ত্যে গিয়ে রোদে রোদে ঘুরে যাতে চোখের ক্ষতি না হয় কিনেছি অনলাইন অর্ডার দিয়ে। তোদের পাশে আমিই বোধয় বড্ড সেকেলে লাগবো। না মা একদম না! তুমি যাই পরো না কেনো ইউনিক লাগে সব সময়, সরু এসে বললো। দেখো তো মা এই হেড ফোন টা কেমন হয়েছে? উমা দেবী বললেন এসব কেনো সরু? আরে মা মর্ত্যে ওই তোমার ভক্তদের ওসব হিন্দি গানের মাইকের শব্দে আমার মাথা ধরে যায়। তাই এই হেড ফোন কানে দিয়ে একটু ইনোভেটিভ কিছু শুনবো মোবাইলে। আচ্ছা আচ্ছা বুঝেছি। তোরা সব ব্যাগপত্র গুছিয়ে নে। অসুর টা ক্যাব বুক করছে। এসে গেলে আমরা রওনা দেব। বলতে বলতে অসুর এসে বললো মা জননী ক্যাব আসতে আধ ঘণ্টা মতো লাগবে। সিংহ কে দেখেই লক্ষ্মী ছুটে এসে বললো এই তুমি আমার ক্লিপ টা মাথায় নিয়েছো কেনো? বা রে! গরমে আমার কেশর গুলো এদিক ওদিক ছড়িয়ে থাকে,কষ্ট হয় না! তাই এটা দিয়ে সেট করলাম কেশর গুলোকে। এখন বেশ আরাম লাগছে। দেখো না মা! এই বনু চল আমার থেকে ক্লিপ নিবি। সরু বললো। সবার কথার শেষে শিবজী বললেন যাও সবাই সব কিছু দেখে নাও। বাবার কথায় সবাই যে যার ঘরে গেলো। উমা দেবী কে বললেন সাবধানে যেও, তোমায় ছাড়া ঘর টা ফাঁকা ফাঁকা লাগবে। ঢং যত, আমি বেরোলেই তো নন্দী ভৃঙ্গিকে নিয়ে গাঁজা সেবন করতে বসবে। আমার কথা কি ভাবো! ভাবলে এসব করতে না! আচ্ছা কম খাবো না হয়, ছাড়তে তো পারবোনা। যাও তোমার ভক্তরা সব অপেক্ষা করছে, সবাইকে এই কটাদিন হাসিখুশীতে মাতিয়ে রেখে আবার ফিরে এসো কৈলাসে। এই বুড়ো অপেক্ষা করবে তোমার জন্য,ছেলে মেয়েদের জন্য। ওই দেখো হর্নের আওয়াজ, ক্যাব বোধয় এসে গেলো। যাও যাও গিন্নী। হ্যা আসি,তুমিও নিজের খেয়াল রেখো। চার ছেলে মেয়ে অসুরদের নিয়ে উমা দেবী উঠলেন গাড়ীতে। শিবজি সকলকে হাসিমুখে সি অফ করলেন। গাড়ী এগিয়ে চললো কৈলাশ থেকে মর্ত্যের পথে।

মা দুর্গা আসছেন বাপের বাড়ী, সকলে তৈরী হয় ওনাকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য। শুভ হোক শারদীয়া। খুব ভালো কাটুক পুজো সকলের। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৩

মনে ভক্তি রবে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 মনে ভক্তি রবে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


ভক্তি যেমন মানুষকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যায়, তেমন অহংকার মানুষকে এক লহমায় পতনের দিকে ঠেলে দেয়। ভক্তি দ্বারা সব কিছু করা যায়, মনে ভক্তি থাকলে যে কোনো কাজ সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন হয়। আর অহংকার বাসা বাঁধলে কাজের থেকে অকাজ হয় বেশি। সামান্য একটা পাতা যেমন ঈশ্বরের অঙ্গুলিহেলন ছাড়া স্থানান্তরিত হতে পারেনা তেমনি মানুষকেও ঈশ্বরই চালনা করেন। ভক্তি আর অহংকার দুটোই মানুষের নিজস্ব, এবার কোনটা প্রয়োগে নিজের ভালো হবে সেটা নিজেকেই বুঝে নিতে হবে। মনে অহংকার বাসা বাঁধলে তখন মানুষ আর মানুষ থাকে না। নিজেকে পীর ভাবতে শুরু করে,আত্মবিশ্বাসী হবার চেয়ে ওভার কনফিডেন্ট হয়ে পড়ে আর ঠিক তখনি ভুল হয় কাজে। বুঝতে পারে না যে সব কিছুর নিয়ন্ত্রক হলো মন,সেই মনের শুদ্ধতা না থাকলে ভক্তি ভাব না থাকলে প্রতিপদে হেরে যেতে হবে। তাই ভক্তি আর নিষ্ঠা সহকারে সব কাজ করা উচিত, অহংকার ত্যাগ করা উচিত। 

"হৃদ মাঝারে থাকুক ভক্তি সদা,দূর হোক অহংকার
সফলতা ধরা দেবে,বাজবে মনে খুশির ঝঙ্কার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩

মোকাবিলা

শিরোনাম-মোকাবিলা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বিপদ যখন আসার সংকেত দেয় মানুষের তখনি সতর্ক হওয়া উচিত। মনে মনে তৈরী হতে হবে যাতে বিপদকে দূর হটানো যায়। বিপদ যখন আসে শক্তি যেনো থাকে সাথে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার। জীবনের পথ পুরো সুগম কোনোদিন নয় কিন্তু পুরোটাই কণ্টকাকীর্ণ এমনটাও নয়। বিপদের আঁধারে ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসা কোনোদিনই উচিত নয়। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর শক্তি দিন যাতে দৃঢ়চেতা হয়ে সেই বিপদের মোকাবিলা করে বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারে সকল মানুষ। বাঁধভাঙা দুঃখের দিনে আশার প্রদীপ নিভে যেনো না যায়। বুক চিতিয়ে লড়াই করার শক্তি যেনো সকলের থাকে। চক্রাকারে আবর্তিত সময় ঠিক বিপদ কাটিয়ে ভালো দিন নিয়ে আসবে। ভরসা রাখতে হবে শুধু সময়ের ওপর। সময়ের চেয়ে বলবান কেউ নয় কোনোদিন, বিপদও নয়।

"বিপদ যতই আসুক জীবনে,লড়তে হবে সাহস নিয়ে
মোকাবিলা করতে ডর পিছে ফেলে,যাও এগিয়ে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ক্লাপিং টাইম✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ক্লাপিং টাইম
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

গ্রীনিচের সময় যেমন ভারতের থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পিছিয়ে তেমনি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন টাইম টেবিল রয়েছে। মানুষের জীবনও ঠিক তাই, আজ খারাপ সময় যাচ্ছে পিছিয়ে পড়ছে কেউ তার মানে এই নয় যে সে সারাজীবন পিছিয়ে থাকবে। হয়তো তার চেষ্টায় কোনো গলদ ছিলো বা হয়তো তার এগিয়ে যাওয়ার সময় এখনো আসেনি। আর ঠিক সেই মুহূর্তে অন্য কারোর উন্নতি হলো,তার মানে সেই সময় তখন তার জন্য উপযুক্ত। কারোর উন্নতি দেখে হিংসে না করে সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে কি ত্রুটি ছিলো চেষ্টার যে পিছিয়ে পড়তে হলো! সময় নিজের গতিতে চলবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে নিজের মনকে, অধ্যবসায় আর চেষ্টা এই দুই হলো সাফল্যের চাবিকঠি। আজ খারাপ হয়েছে তো কি হলো? কাল না হলে পরশু ভালো তো হতেই পারে। মনে আশার আলো সর্বদা জ্বালিয়ে রাখতে হবে যাতে নিরাশার মেঘ না ঘনিয়ে আসে মনের কোণে।
"Untill its my time,i will clap for others"
অন্যের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হতে হবে, নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, তবেই একদিন পৌঁছে যাবে সাফল্যের শিখরে। মনে হিংসার জন্ম নিলে নেগেটিভ চিন্তারও সঞ্চার হবে ক্রমশঃ পিছিয়ে যেতে হবে এর জন্য। তার চেয়ে স্বত প্রণোদিত চেষ্টায় যাতে সাফল্য অর্জন করা যায় সেদিকে মন দেওয়া উচিত,তখন অন্যেরা হাততালি দিয়ে তোমার জয়কে স্বাগত জানাবে, তোমায় আদর্শ করে নিজের লক্ষ্য স্থির করবে।

"অন্যের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে চলার পথ সুগম হোক
লক্ষ্য থাক সর্বদা শিখর ছোঁয়ার হিংসা দ্বেষ দূর হটুক।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

পূণ্য হোক নিজের✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পূণ্য হোক নিজের
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


করতে হয় যদি মহৎ কাজ করো তা নিজের মতো করে
সর্বসম্মুখে বাহবা পেতে ভালো মানুষের মুখোশ না পরে।


দান ধ্যানে মগ্ন হয়ে অবিচার করো না কারোর প্রতি
সৎ থাকো নিজের কাছে, বিরাজ করবে প্রশান্তি।

প্রচারের আলোয় আলোকিত না হলে ক্ষতি তো কিছু নেই
অন্তর হতে উদ্ভাসিত আলোয় ভরুক মন,পরম প্রাপ্তি যে সেই।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ফেক স্মাইল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ফেক স্মাইল
✍️ ডা: অরুণিমা দাস 


মুখে বলছি আছি ভালো, সাথে বিগ স্মাইল
মনের ভেতরে চলছে দুঃখ কষ্টের মিছিল।

 ভালো নেই,পারছি বলতে কই সাহস করে?
লোকের চোখে করুণার পাত্র হতে মন যে ডরে।

তার চেয়ে বলি চলো অল ইজ ফাইন,আই অ্যাম ওকে
দুনিয়ায় কেউ তাহলে আঘাত করবেনা তোমাকে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

বিশ্বকর্মা পুজো স্পেশাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বিশ্বকর্মা পুজো স্পেশাল
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ও বিশু দা,সব রেডি তো? গাড়ী টা ঠিক আছে কিনা চেক করে নিয়েছো? হাতিয়া বলে উঠলো। 
- হ্যা চেক করে নিয়েছি সব। তোর ওপর কোনো দায়িত্ব দিয়ে কি আর আমি নিশ্চিন্ত হতে পারি?
- এরকম করে বললে তো? জানো আমি কি করছিলাম?
- কি রাজকার্য করছিলে শুনি? নিজের খাবার গুলো প্যাক করছিলে! এই তো? 
- না গো বিশু দা! আমি তোমার জন্য অনলাইনে এস্পেশাল মাঞ্জা দেওয়া সুতো অর্ডার দিচ্ছিলাম। ডেলিভারির ঠিকানা মর্ত্যে দিয়েছি। 
- বা বেড়ে বুদ্ধি হয়েছে তো তোর! ডায়েট টা  করতে   বলেছিলাম ওই জন্য। বুদ্ধি খোলতাই হচ্ছে তোর। 
- ডায়েট তো সেরকম করিনি বিশু দা! সরস্বতী দি বলেছিল অনলাইনে অর্ডার টা দিতে। দিদি তো এসব অনলাইন জিনিস গুলো ভালো বোঝে। 
- হ্যা তুমি তো আবার দিদি ভক্ত। তা তোমার দিদির এসব অনলাইনে কাজ করার যে সফটওয়্যার সেটা কিন্তু বানায় তোমার এই বিশু দা। বুঝেছ?
- হাতিয়া ঘাড় নেড়ে বললো হ্যা দাদা!
ওদের কথার মাঝে বিশু দাদার ফোনে একটা কল আসে। ফোন খুলে দেখে মা দুর্গার ফোন। বিশু দা বলে হ্যা মা বলুন, এই তো বেরোবো একটু পরেই। আপনার কোনো চিন্তা নেই। কাল গনু আসবে তো! ওর জন্য সব প্যান্ডেল রেডী কিনা, নিরাপত্তা কেমন থাকবে ওর সব দেখে নেবো আজ রাতের দিকে। ওকে খালি অ্যান্টাসিডটা গুছিয়ে পাঠিয়ে দেবেন। আহা! বাছা আমার একটু খেতে না হয় ভালোইবাসে, তা বলে এরকম বলবে তুমি বিশ্বকর্মা? না মা সেটা নয়, সাবধান থাকা ভালো। আপনি কি রাগ করলেন? না বিশু রাগ করিনি। তবে হ্যা বাপু মর্ত্যে গিয়ে আবার বেশি ঘুড়ি লাটাই নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেওনা! ওসব মাঞ্জা সুতো দিয়ে যেনো আমার কোনো ভক্তের ক্ষতি না হয় দেখো। আচ্ছা মা খেয়াল রাখবো। তাহলে বেরিয়ে পড়ো এবার। সাবধানে যেও বাছা। পৌঁছে সরু কে একটা মেসেজ করে দিও। হ্যা মা মেসেজ করে দেবো। রাখি এখন। 
এই হাতিয়া চল চল। গাড়ীতে উঠি। ওখানকার যা রাস্তা ঘাট পৌঁছতে অনেক সময় লাগবে। ভক্তরা না খেয়ে রয়েছে সব। 
-ছাড়ো তো বিশু দা! রাতে তো সব ছাইপাশ খেয়ে পড়ে থাকবে তোমার ভক্ত রা! মাইকের শব্দ আর ওদের উদ্দাম নাচে আমার ঘুমটাই মাটি হবে। সে যাই হোক,ফিরে এসে ঘুমিয়ে নেবো। 
-হ্যা সে যা পারিস করিস,এখন চল বেরোই আমরা। প্যান্ডেলে সকলে অপেক্ষা করছে। 
- চলো বিশু দা। 
একটা বছরের অপেক্ষার পর বেশ ভালোই লাগে খাতির যত্ন পেতে। কি বলো? 
-ভালো বলেছিস হাতিয়া। 
বিশুদা আর হাতিয়া গাড়ীতে উঠে রওনা দিলো মর্ত্যের পথে। ভালো কাটুক বিশ্বকর্মা পুজো সকলের। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মানুষ ও মানসিকতা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

মানুষ ও মানসিকতা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

যতই দিন দিন মানুষের জীবন যাত্রার মানের উন্নতি হোক, মানসিকতার উন্নতি সেরকম হয়নি আজ অবদি আর হবে বলে আশা করাও উচিত নয়। উচ্চশ্রেণীর মানুষেরা নিম্নশ্রেণীর মানুষের ওপর চিরকাল অত্যাচার করে এসেছে, উপকারীর উপকারের প্রতিদান হিসেবে পিঠে ছুরি বসিয়েছে এটাই হয়ে চলেছে দিনের পর দিন। চিন্তাধারার কোন উন্নতি সেরকম ভাবে লক্ষ্য করা যায়না। নিম্নবিত্ত রা চিরকাল লাঞ্ছিত,নিপীড়িত। হয়তো দিন দিন উন্নতির শিখরে পৌঁছতে গিয়ে মস্তিষ্কের ইমোশনাল লোবে মরচে ধরেছে, তাই পশুর ন্যায় আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে মানুষের মধ্যে। পশুদের হয়তো অত বুদ্ধি নেই কিন্তু কোনোদিন তারা নীচতা করেনি উপকারীর সাথে বা বিশ্বাসভঙ্গ করেনি। পশু চাইলে কোনোদিন মানুষ হয়ে উঠতে পারবে না কিন্তু দিন দিন বিকৃত রুচির পরিচয় দিয়ে মানুষ পশুতে খুব সহজেই রূপান্তরিত হতে পারে।

"সমাজের শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ,দাও পরিচয় উন্নত মানসিকতার
পশুর ন্যায় আচরণ করে ভোঁতা কোরোনা ক্ষুরধার বুদ্ধির।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শিরোনাম - জীবনের অঙ্ক✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - জীবনের অঙ্ক
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


সাফল্যের শিখরে ওঠার পথ নয় যে খুব সোজা
প্রতি মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ,নিজের মধ্যে সেরাকে খোঁজা 

সিড়িভাঙ্গা অঙ্কের মতোই  জীবনের ছক সাজানো
সব ধাপেই রয়েছে এক নতুন ধাঁধা লুকোনো।

পড়বে তুমি ফাঁদে যখনই শর্ট কার্ট চাইবে নিতে
নিরলস পরিশ্রমে চলো,কাটবে একদিন বিজয়ীর লাল ফিতে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ফিরে দেখি যখন

ফিরে দেখি যখন

✍️ ডা: অরুণিমা দাস


হারিয়ে যাওয়া জিনিস, সে তো অনেক কিছু! প্রথমেই মনে পড়ে ছোটবেলা,যেটা কোনোদিন ফিরে আসবেনা। আসবেনা ফিরে টেনশন ফ্রি দিন গুলো,পরীক্ষার আগে ঘুড়ি ওড়ানো দিন গুলো, টেনেটুনে ইতিহাস পাস করার দিন গুলো। ঠাকুমার ঝুলি থেকে বের হওয়া গল্পগুলো, শুনতে শুনতে কল্পনার পথ বেয়ে পৌঁছে যাওয়া রাজ্যে, রাত গুলোতে শিহরণ জাগানো গল্প শোনা আসবেনা সেসব ফিরে। সপ্তাহের শেষে মামাবাড়ি গিয়ে দিদার কাছে পিঠেপুলি আর আচারের আবদার, দাদুর কাছে একটা ডিউস বল কেনার জন্য দাবি করায় কুড়ি টা অঙ্ক কষতে বসা! সত্যিই ফিরবেনা সেসব দিন। স্কুল পালিয়ে বন্ধুদের সাথে চুরমুর খেতে যাওয়া, আজও হাতছানি দেয়। পারিনা শুধু ফিরে পেতে সেসব কিছু। মহালয়ার আগে টেপ রেকর্ডারে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের ক্যাসেট লাগিয়ে ঠিক ভোরবেলায় চালিয়ে দেওয়া,আসবেনা সেইসব। কালের ফেরে বড়ো হচ্ছি, বড্ড মন কেমন করে হারিয়ে যাওয়া জিনিস গুলো ফিরে পেতে, কিন্তু কোনোভাবেই সম্ভবপর নয় তা এখন। তাই ফটো এ্যালবাম আর স্মৃতির পাতায় চোখ রেখে বসে থাকা,এগুলোই ভরসা এখন।

হারিয়ে গেছে অনেক কিছু লিস্ট যে লম্বা বিশাল

খুঁজে বেড়াই তাদের হাতড়াই বুনি স্মৃতির জাল।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শিক্ষকের প্রতি✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিক্ষকের প্রতি
✍️ ডা:অরুণিমা দাস


জন্মের পর বাবা মা ই হলেন প্রথম শিক্ষাগুরু

ওনাদের পরে শিক্ষকদের কাছে জ্ঞানার্জন শুরু ।


শিক্ষকই হলেন প্রকৃত মানুষ গড়ার প্রধান কারিগর

তার আদর্শেই অনুগামী আমরা, তিনিই আমাদের ঈশ্বর।


শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে প্রকৃত মানুষ গড়ার কর্মকাণ্ডে আপনারা সদা নিয়োজিত

মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখান, হতে দেন না কভু পরাজিত।


আঁধার থেকে আলোর পথে চলার দিশা দেখান তিনি

তাঁর কাছে আমরা ছাত্রগণ থাকবো চিরদিন ঋণী।


পিতামাতা দিলেন মোদের ছোট থেকে বড়  হবার শিক্ষা

আর শিক্ষকেরা দিলেন মোদের মনুষ্যত্বের দীক্ষা।


জীবনে চলার পথে তিনিই যেনো হন আমাদের আদর্শ

জ্ঞানচক্ষু খুলুক মানুষের,সুশিক্ষা যেনো করে স্পর্শ।


জন্মেছিলেন এক মহামানব এই ভারতের ই ঘরে

ডা: সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন নাম তাঁর,যা সবার মুখে  ফেরে।


পালন করি তার জন্মদিন শিক্ষক দিবস হিসেবে

সকল শিক্ষক শিক্ষিকার প্রতি মনে সদা ভক্তি রবে।


©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


শনিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৩

বীর বিক্রম✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বীর বিক্রম
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বিক্রম তুই রেডী তো? বন্ধুরা সব জিজ্ঞেস করছে। ইয়েস আমি রেডী। একটু ভয় বই লাগছে বৈকি! কিন্তু ল্যান্ডিং তো আমায় করতেই হবে সফল ভাবে।
গতবার আমার সিনিয়র ল্যান্ডিং না করতে পারায় সবাই খুব মুষড়ে পড়েছিল। তাছাড়া চাঁদ মামার বাড়িতে খুব মজা হবে সবাই বলছিলো। মামার মা  মানে দিদা নাকি ওখানে চরকা কাটে। ওটা দেখতে পাবো ভেবেই বেশ এক্সসাইটেড লাগছে, বেশ একটা গান্ধীজি ফিলিং আসবে। হ্যা রে তোর খুব মজা,তাই না বিক্রম? হ্যা এতদিন ধরে আমায় ঘষে মেজে তৈরি করেছে এত মানুষ তাদের মুখ তো আমায় রাখতেই হবে রে ভাই! তোদেরকে সব খবর দেবো, বাকি গ্রহযানদের বললো বিক্রম।
সবার চোখ টিভির পর্দায়। বিক্রমের সফল ল্যান্ডিং হওয়ার অপেক্ষায়। সুপার এক্সসাইটেড হয়ে কেউ বলে ফেললো রাকেশ রওশনের নাম! যে নাকি প্রথম মহাকাশচারী ছিলো। গোটা দুনিয়া জুড়ে তোলপাড় চলছে,রওশন বাবুর বন্ধুরা বার বার ফোন করছে ওনাকে, কবে কিভাবে গেছিলেন উনি? বড্ড বিপদে পড়ে গেছেন উনি। বাড়িতে নাতি নাতনি ধরেছে দাদু গল্প বলো,কেমন অভিজ্ঞতা ছিলো? এই খবর রাকেশ শর্মা জানতে পেরে ভাবলেন আমার কষ্টের এই মূল্য পেলাম! সে এক কাণ্ড বটে!
এসবের মাঝেই কোনো মনোসংযোগে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে বিক্রম পৌঁছে গেলো মামা বাড়ী। গিয়েই সে কি সাদর সম্ভাষণ পেলো। খুব খুশি সে এসব পেয়ে। এই সাফল্যের আনন্দ ছড়িয়ে পড়লো গোটা দেশে, ইসরোতে খুশির হাওয়া বয়ে গেলো। সকলের প্রশ্ন একটাই রওশন না শর্মা? উত্তর একটাই। যেটা দিতে পারেন একমাত্র চাঁদমামা।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০২৩

শিরোনাম - নিজের মতন করে ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - নিজের মতন করে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

করো মেরামত আপনারে, হাতুড়ি,ছেনি নিয়েছো হাতে
গড়ে তোলো এমন অবয়ব আঙ্গুল কেউ না তোলে যাতে।


দোষী কোরোনা কাউরে,করো নিজের কাছে অঙ্গীকার
আত্ম উন্নয়ন হোক জীবনের চলার পথে হাতিয়ার।

আসবে বাধা চলার পথে,তাই হাল ধরো শক্ত হাতে
থেমোনা কখনো,পিছপা হয়ো না ভুল শুধরে নিতে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০২৩

শিরোনাম - যৌবনের অন্দরে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - যৌবনের অন্দরে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

যৌবনের স্থায়িত্ব বেশিদিন নয়, তাই সকলেই উপভোগ করতে চায়। যৌবন মানে কুড়ি থেকে বিকশিত হওয়া ফুলের বড়ো হওয়া। যৌবন মানে অনেক দায়িত্ত্ব যাতে পরবর্তী সময় কাল ভালো কাটে। যৌবন মানে আবেগে ভেসে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়, সুপরিকল্পিত ভাবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্ল্যান করা। বাবা মায়ের অনেক স্বপ্ন থাকে সন্তানদের নিয়ে, যৌবনে উপনীত হয়ে অনেকেই তা ভুলে যায়। কলেজে সমবয়সীদের পাল্লায় পড়ে কিংবা সিনিয়রদের প্রভাবে অনেকেই বিপথে চলে যায়। কেউ হয় র‍্যাগিং এর স্বীকার কেউ হয় ড্রাগ অ্যাডিক্টেড। আসলে সবটাই নিজের চিন্তাধারার ওপর নির্ভর করে। সব কিছুর সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মতো কঠোর মনোভাবাপন্ন হওয়া খুব দরকার। রঙিন দুনিয়া সব সময় হাতছানি দেবে কিন্তু নিজেকে সংযত রাখা খুব প্রয়োজন। দেশের যুবক বৃন্দের কাছে সকলের অনেক আশা,এরাই দেশের ভবিষ্যত। তাই এমন কিছু করা উচিত নয় যা নিজের ও দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যৌবন ধরে রাখার আর নতুন আর কি উপায় হতে পারে, সংযত জীবন যাপন করা, নিজেকে নষ্ট হতে না দেওয়া, সব জায়গায় নিজের বাঁচিয়ে চলা আর বুদ্ধিহীনতার পরিচয় না দেওয়া। বাকি তো রইলো হরমোনাল ব্যাপার, পিটুইটারি নিজের ছন্দে চলবে। সেই ছন্দে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে এমন কোনো কাজ আবেগী হরমোনের বশে না করাই উচিত। এর জন্য সকালে প্রাণায়াম, যোগ কিছুটা হলেও কাজে দেবে। 
"ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে"। 
এই কথা মাথায় রেখেই জীবনে চলার উচিত। 

স্বল্পস্থায়ী যৌবন,খুঁজছে পন্থা সকলে তারে ধরে রাখার 
সুচিন্তা আর হরমোনের ভারসাম্যে লুকিয়ে রয়েছে  উপায় তার। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৩

শিরোনাম - আশায় বাঁচি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - আশায় বাঁচি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়,আড়ালে তার সূর্য হাসে
হারা শশীর হারা হাসি অন্ধকারেই ফিরে আসে।।

আশা নিয়েই তো মানুষ বেঁচে থাকে। জীবনের আকাশে নিরাশার মেঘ ঘনিয়ে এলেও মনের মাঝে আশা নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। আশা নিরাশার চক্রাকারে আবর্তনই তো জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলে। নিরাশার অন্ধকারে নিজেকে ডুবিয়ে দেওয়া মানে আশার দরজা বন্ধ করে দেওয়া। কথায় আছে একটা দরজা বন্ধ হলে ঠিক আরেকটা দরজা খুলে যায়। নিজের কাজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে, বুকের মাঝে আশাকে সঞ্চারিত করতে হবে সর্বদা। ঠকতে ঠকতে যেমন একদিন জিতে যাওয়া যায় তেমনি আশার আলো আমাদের নতুন করে বাঁচার পথ দেখায়। লড়াই তো চলতেই থাকবে,বাঁচতে হলে করতেও হবে লড়াই, তাই বলে নিরাশা যেনো কখনোই মনে বাসা না বাঁধে। নিজেকে নিরাশ কখনোই করা উচিত নয়, পজিটিভ চিন্তাশক্তি মনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে,নিরাশার মেঘ কেটে আশার আলো দেখা ঠিকই যাবে একদিন। সেদিন মনে হবে ভাগ্যিস আশা নিয়ে এগিয়ে গেছিলাম নয়তো কোথায় হারিয়ে যেতাম।


আশার আলো জ্বালিয়ে মনে চলতে থাকো জীবন পথে

নিরাশাকে বাঁধতে দিওনা বাসা, চড়বে তবেই বিজয়রথে।


©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 

মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট, ২০২৩

শিরোনাম-মুখোশের আড়ালে ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম-মুখোশের আড়ালে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস 

হাসির আড়ালে দুঃখকে একপাশে করে
বিষন্নতার ছোঁয়াকে রেখেছে সে দূরে।

খুশীতে ভাসে যে সকল মানুষের মুখ
সুখী হওয়ার নাটকে তারা বিদায় করে দুখ।

বুঝবেনা কেউ মনের গহীনে থাকা যন্ত্রণা
মুখোশের আড়ালে কষ্ট লোকাতে নেই তাই মানা।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৩

বইস্মৃতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 বইস্মৃতি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চিলেকোঠার ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে বই খানি খুঁজে পায় মেয়েটি। ধুলোর পুরু আস্তরণ পড়ে গেছে,মলিন হলদেটে পাতা গুলো ওল্টাতে ওল্টাতে মনে পড়ে যায় অনেক কথা। বিয়ের পর থেকে তার পড়াশুনো বন্ধ। শ্বশুর বাড়ীর সবাই বলে মেয়েমানুষ পড়াশোনা করে কি রাজ্য জয় করবে? তার স্থান হেশেলে। স্বামী তাকে সমর্থন করলেও মায়ের মুখের ওপর কথা বলতে পারেনি সে কোনোদিন। 
এই বইখানি বছর খানেক আগে তার ভাইয়ের দেওয়া,প্রথম পাতায় লেখা আছে দেশের কাজে পথে নামলাম,যদি কোনোদিন আসি ফিরে, হবে আবার দেখা। ভাইকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে পুলিশের চোখের আড়াল করে লুকিয়ে পালাতে সাহায্য করেছিল দিদি। সে কথা শুধু তার বাবা আর স্বামী জানে,অন্য কেউ জানে না। দুপুরে ঘুমিয়ে পড়েছে সবাই, মেয়েটি খুলে বসে  পথের দাবী বইটি। হলদেটে হয়ে গেছে পাতাগুলো, কিন্তু লেগে রয়েছে ভাইয়ের পরশ, হাতের গন্ধ। কোথায় আছে ভাইটা কে জানে! ভাইকে নিয়ে তার যে গর্বের শেষ নেই। গুলির শব্দে ঘোর কাটে মেয়েটির, জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখে কতগুলো পুলিশ একটা ছেলেকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে, আর বলছে স্বদেশী করা ঘুচিয়ে দেবো। ভাইয়ের মুখটা মনে পড়ে মেয়েটির চোখে নামে জলের ধারা। আরো শক্ত করে বুকে চেপে ধরে বইটি, দুর থেকে কানে আসে 
"পথে এবার নামো সাথী, পথেই হবে এ পথ চেনা।" হাত দুখানি জড়ো করে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে জানায় ভাই যেনো ভালো থাকে, যেখানে থাকে। বইটি নিয়ে নিচে নেমে আসে, নিজের বিছানায় নীচে রাখে। আমৃত্যু এই বই তার সাথে থাকবে,থাকবেনা আর চিলেকোঠায়।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম-মোটিভেশন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম-মোটিভেশন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আজকালকার দিনে সঠিক পথ দেখানোর মানুষের বড়ই অভাব। পিছিয়ে দেওয়ার মানুষের সংখ্যাটা বড্ড বেশি। কেউ যখন বলে তোর দ্বারা হবে না কাজটা,ছেড়ে দে,এটা শুনতে খুব খারাপ লাগে। চেষ্টা কর ঠিক পারবি,কেনো এভাবে বলা কি যায় না? যে ডি মোটিভেট করে সে নিজেই সারাক্ষণ নেগেটিভ চিন্তায় মগ্ন থাকে তাই কাউকে পজিটিভ কিছু চিন্তাভাবনা করতে সাহায্য করতে পারেনা। কাউকে পিছিয়ে দেওয়ার মধ্যে নেই কোনো বীরত্ব, বরং এতে নিজের নীচু মানসিকতা, নেগেটিভ চিন্তার পরিচয় দেওয়া হয়। যে সবসময় পজিটিভ ভাববে সে কখনোই এভাবে কাউকে এভাবে পিছিয়ে দিতে পারবেনা। বরং বলবে একবারে হয়নি তো কি হয়েছে? নিশ্চই হবে আরও কিছু বার চেষ্টা করে দেখ,হাল ছাড়িসনা। আশা নিয়েই মানুষ বাঁচে, সেই আশার পথ না দেখিয়ে কেউ যদি নিরাশার মেঘ আনে কারোর জীবনে সেটা ঠিক কাজ নয়। এর দ্বারা বোঝা যায় সে নিজে কাজটা পারবেনা বলে অন্য কারোর দ্বারা কাজটা হোক সেটা চায় না। আর এতে তার নিজের অপারদর্শিতা প্রকাশ পায়। তাই নিজে পজিটিভ ভাবা উচিত, আর অন্যকেও পজিটিভলি মোটিভেট করা উচিত। 

আশা নিয়ে এগিয়ে চলো,ফল একদিন পাবে নিশ্চয়
অন্যকে প্রভাবিত করো সদর্থক চিন্তায়,হও দৃঢ় প্রত্যয়।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০২৩

স্বপ্ন যদি সত্যি হতো✍️ডা: অরুণিমা দাস

স্বপ্ন যদি সত্যি হতো
✍️ডা: অরুণিমা দাস

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই তাতান বললো,গুড মর্নিং বাঘু! উঠে পড়ুন এবার। বাঘুর কোনো সাড়া না পেয়ে তাতান বিছানা থেকে নেমে ওকে খুঁজতে গেলো। দেখলো বারান্দায় বসে আছে বাঘু, লেজটা খালি নাড়ছে। কিরে? চল! ব্রেকফাস্ট করবি। বাঘু চুপ করে রইলো। তাতান গিয়ে ওর গলা জড়িয়ে বললো চল রে! দেখলো ওর চোখ টা ভিজে আছে। কিরে? বনের কথা মনে পড়ছে? ঘাড় নাড়লো বাঘু। তাতান বললো চল টেবিলে চল। তোর জন্য সারপ্রাইজ আছে, কাল বাবা বলছিলো। তাতানের পিছন পিছন চলতে লাগলো বাঘু। টেবিলের কাছে আসতেই সক্কলে বাঘুকে বললো হ্যাপি টাইগার্স ডে।
দেখ সোনা, তোর জন্য কত আয়োজন, মুখ ভার করে থাকিসনে কিন্তু। বাঘু কেঁদে ফেললো, বললো এসব করে কি হবে বলো তো? সেই ছোটবেলা থেকে তোমরা আমায় মানুষ করছো! গুলির আঘাতে লুটিয়ে পড়া এই অবলা বাঘকে তোমরা বাড়িতে এনে সেবা করে বাঁচিয়ে তুলেছো! এটাই আমার জন্য অনেক গো। আজ আলাদা করে টাইগার্স ডে পালন করে আমার পুরনো দিনগুলো মনে করিয়ে দিও না। তাতান যখন পড়ে, দিনদিন বাঘের সংখ্যা কমে আসছে, সুন্দরবন আর অন্য অভয়ারণ্য গুলোতে, খুব কষ্ট হয় শুনে। মানুষকে বড্ড ভয় লাগে,ভয় লাগে যদি তোমাদের থেকে আমায় কেউ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়! কে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে তোকে? আমি যতদিন আছি ফরেস্ট অফিসারের পদে, কেউ তোকে কোথাও নিয়ে যাবে না, তাতানের বাবা বললেন। এখন আয় তোর জন্য খাবার গুলো রান্না করেছে তোর মা, খেয়ে নিবি আয়। আগে আয় কেকটা কাট। একদম দুঃখ করবিনা। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে তোদের প্রজাতিটা বিলুপ্ত না হয়ে যায়। বাঘের সংখ্যা যাতে না কমে তার চেষ্টা চলছে বুঝলি বাঘু। তোমাদের কাছে আছি বলেই হয়তো এখনো ইতিহাসের পাতায় ঠাই হয়নি আমার, কৃতজ্ঞ আমি তোমাদের কাছে। অনেক বড়ো বড়ো কথা হলো,কেকটা কাট এবার। তাতানের স্কুল, আমার অফিস যাওয়ার আছে। বাঘু আর তাতান দুজনে মিলে কেক কেটে সবাইকে খাওয়ালো। আসছে রবিবার আমরা সুন্দরবনের ইলিশ উৎসবে যাচ্ছি,সবাই খুব মজা করবো। বাঘুকেও ওর বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষন সময় কাটাতে দেবো। বাঘু আনন্দে তাতানের পায়ে মাথা ঘষতে লাগলো, তাতানের ঘুমটা ভেঙে গেলো হঠাৎ! এটা কি স্বপ্ন ছিলো তাহলে? উঠে দেখলো পায়ের কাছে টেডি বাঘ টা পড়ে আছে। কাল তাহলে সুন্দরবন নিয়ে পড়ছিল, বাঘের সংখ্যা কমে আসছে, সেটাই বোধয় স্বপ্ন হয়ে দেখা দিলো। মায়ের ডাকে স্কুল যাওয়ার জন্য তৈরি হতে বিছানা থেকে নামলো। মনে মনে ভাবলো সব স্বপ্ন যদি সত্যি হতো কতই না ভালো হতো। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩

প্রযুক্তি বনাম ছাপা বই✍️ডা: অরুণিমা দাস

প্রযুক্তি বনাম ছাপা বই
✍️ডা: অরুণিমা দাস

প্রযুক্তির ধাক্কা যতই আমাদেরকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে দিক, ছাপা বইয়ের ভূমিকা কখনোই কম হবে না। বই পড়লে যখন চোখের সামনে অক্ষর গুলো ভেসে ওঠে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, কল্পনা শক্তি প্রখর হয়ে ওঠে। আর ওই আইপ্যাড, মোবাইলে যতই পড়ি না কেনো, ব্রেইনে কোনো ইম্প্রেশন সেভাবে তৈরি হয় না। চিন্তা শক্তি, উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটেনা খুব একটা। সাদা পাতায় কালো অক্ষর সেগুলো মস্তিষ্কে গেঁথে যায় একরকম, কিন্তু কালার ফুল আইপ্যাডের লেখা বেশিদিন ব্রেইনে টিকে থাকে না। আর তাতে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়, দেখা দেয় আলজাইমার্স এর মত স্মৃতি বিস্মৃত প্রায় রোগ। তাই মস্তিষ্ককে উর্বর রাখতে ছাপা বইয়ের ভূমিকা অনেকাংশে বেশি প্রযুক্তির চেয়ে। আর নতুন বইয়ের গন্ধ নেওয়ার মত আনন্দ কিন্তু কোনো  গ্যাজেট দিতে পারবেনা। তাই নতুন প্রযুক্তি কখনোই ছাপা বইকে ছাপিয়ে যেতে পারবেনা। 

উন্নয়নের পথে চলেছি আমরা ভুলতে বসেছি ছাপা বইকে
মস্তিষ্ক সচল রাখতে হলে আইপ্যাড ট্যাব - প্লীজ  জারা হাটকে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই, ২০২৩

শিরোনাম - সমস্যা ও তার মোকাবিলা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সমস্যা ও তার মোকাবিলা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সমস্যা নেই, তাহলে কি থাকলো জীবনে? জীবনে চলার পথে অনেক বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। প্রধানত সমস্যা ছাড়া জীবনে বড়ো হওয়া যায় না, এগোনো যায় না। সমস্যা আসাটাই স্বাভাবিক, আর সেটার সমাধান করা মানে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। চ্যালেঞ্জ নেওয়া মানে নিজেকে বড়ো করা, আরো বেশী পরিণত করা। চলার পথ মসৃণ হলে সেই পথে চলে যেমন আনন্দ নেই, তেমন জীবনে বাধা না থাকলে সেই জীবন খানিকটা মূল্যহীন ও বটে। সমস্যা আসবে, ভেঙে না পড়ে হাসিমুখে তার মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়াটা লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাতে যেমন একটা জয়ের আনন্দ পাওয়া যায়, তেমন আত্মবিশ্বাসও অনেকাংশে বেড়ে যায়। তাই সমস্যা থাকুক, সাথে থাকুক সমাধান ও। তবেই জীবনে কিছু করলাম মনে হবে, আর লড়াই করার ইচ্ছেটাও দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। 

"সমস্যা বিনে বৃথা জীবন,থাকুক সাথে সমাধান ও
এগিয়ে চলো জীবন পথে, তুমি যে এক ও অনন্য।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০২৩

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চিন্তাশক্তি,বুদ্ধি কিংবা বিশ্লেষণ ক্ষমতা মানুষের সহজাত। কিন্তু একটি যন্ত্রকে মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তা দিয়ে, সেটিকে চিন্তা করানো কিংবা বিশ্লেষণ করানোর ক্ষমতা দেওয়ার ধারণাটিকে সাধারণভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলা হয়। 
কিছুদিন আগেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ছিল দূর ভবিষ্যতের একটি কাল্পনিক বিষয়। কিন্তু সম্প্রতি এই দূরবর্তী ভবিষ্যতের বিষয়টি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হতে শুরু করেছে। তার প্রধান কারণ, পৃথিবীর মানুষ ডিজিটাল বিশ্বে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়েছে যে, হঠাৎ করে অচিন্তনীয় পরিমাণ ডেটা সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই ডেটাকে প্রক্রিয়া করার মত ক্ষমতাশালী কম্পিউটার আমাদের হাতে চলে এসেছে। এই ডেটা বা তথ্যকে প্রক্রিয়া করার জন্য বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদরা এমন একটি পদ্ধতি বেছে নিয়েছে যেটি মানুষের মস্তিষ্কের মতো করে কাজ করে। এটা নিউরাল নেট নামে পরিচিত। সহজভাবে বলা যায় এর একটি ইনপুট স্তর এবং আউটপুট স্তর রয়েছে যার মাঝখানের স্তরটি হচ্ছে ‘লুকোনো’ স্তর।
প্রথমে এই নিউরাল নেটকে ইনপুট এবং তার সাথে যুক্ত আউটপুট ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তখন ‘লুকোনো’ স্তরটি এমনভাবে পরিবর্তিত হতে থাকে যেন প্রশিক্ষণের জন্য দেওয়া ইনপুটের জন্য সত্যি আউটপুটটি পাওয়া যায়। একবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েগেলে এই নিউরাল নেটকে সম্পূর্ণ নতুন ইনপুট দিলেও সেটি সম্ভাব্য সঠিক আউটপুটটি দিতে পারবে। যত বেশি ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে,নিউরাল নেটটি তত ভালো কাজ করবে। একটি স্তর না রেখে একাধিক স্তর দিয়ে এই নেটকে আরো অনেক বুদ্ধিমান করা সম্ভব। তখন নেটটি নিজেই ডেটা ব্যবহার করে শিখে নিতে পারবে। এই প্রক্রিয়ার নাম ‘ডিপ লার্নিং’ এবং বলা যেতে পারে একটি সত্যিকারের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সবচেয়ে কাছাকাছি একটি প্রক্রিয়া।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানত  Java, Python, SHRDLU, LISP, CLISP ইত্যাদি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা হয়।
কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীতার ভিত্তিতে ডেভলপাররা তাদের পছন্দসই প্রোগ্রাম ব্যবহার করে থাকেন।
কদিন আগেও আমার পরীক্ষার আগে আমার এক বন্ধু চ্যাট জি পি টি নামক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর নাম বলে। ওখানে প্রশ্ন টাইপ করে উত্তর পাওয়া যায়। কিন্তু উত্তর গুলো দেখে আমার ঠিক ভালো লাগলো না। ওকে বললাম নিজের ইন্টেলিজেন্স কাজে লাগিয়ে এর চেয়ে অনেক ভালো উত্তর দিতে পারবো আমরা। আর এসব চ্যাট জি পি টি মানুষেরই আবিষ্কার। তো এসব না করে বই পড়ে উত্তর তৈরি করাটাই আসল ক্রেডিট। এসব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শুনতে বেশ ভালো লাগে কিন্তু ইনবর্ন ইন্টেলিজেন্স এর ভ্যালু অনেক, তাই এসব ভুলে পড়ায় মন দিই চল। পরে বই পরে বন্ধু বলেছিল অনেক ভালো উত্তর দেওয়া আছে।
ওসব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কাজে না লাগিয়ে নিজের পছন্দের কাজগুলো করলে এমনি ব্রেইন অনেক ডেভেলপড হয়, ইন্টেলিজেন্স বাড়ে।

"ডিভাইস অনেক রয়েছে,পাল্লা দিচ্ছে মানব বুদ্ধিকে
মস্তিষ্ক প্রসূত চিন্তাধারা কিন্তু ইউনিক সবদিক থেকে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 


শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০২৩

শিরোনাম-স্বপ্ন সব সত্যি হোক✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম-স্বপ্ন সব সত্যি হোক
✍️ ডা:অরুণিমা দাস 


নির্ঘুম চোখে স্বপ্নের ভিড়,রাত্রি যেনো কাটে না
যার তরে দেখি স্বপন,সে তো কিছু বোঝে না। 

ছুটছে যে সে টাকার পিছে,মত্ত হয়ে উল্লাসে
তার কথা ভেবে ভিজে আসে চোখ,মুখখানি হয় ফ্যাকাসে।

ক্লান্ত লাগে ভোরের বেলা ভীষণ,ইচ্ছেগুলো হয় না পূরণ
আশায় থাকি বুঝবে একদিন সে, ব্যর্থ না হোক রাতের স্বপন।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১ জুলাই, ২০২৩

কবিতা: বাংলার রূপকার ডা:বিধান চন্দ্র রায় ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

স্মরণে মননে ডা: বিধান চন্দ্র রায়                            কবিতা: বাংলার রূপকার ডা:বিধান চন্দ্র রায় 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সুদূর পাটনার বাকিপুর থেকে কোলকাতা
পায়ে হেঁটে এলেন তিনি,ভরসা শুধু পায়ের পাতা।

সম্বল বলতে শুধু তখন পাঁচ টাকা পঁচিশ পয়সা
খাবার আর বাসস্থান জোগাতে সেটাই শুধু ভরসা।

মাতৃহারা ছিলেন তিনি,পিতাই ছিলেন তাঁর সব
খুবই কষ্টের মধ্যে কেটেছিল তাঁর শৈশব।

কলকাতায় এসে করেন ডাক্তারিতে ভর্তির আবেদন 
থাকতেন কলেজ স্ট্রীটে,পয়সার টানাটানি ভীষণ।

পড়াশোনা শেষে শুরু করলেন তিনি প্র্যাকটিস
রোজগার হতো না মন্দ,কেবল খালি উনিশ বিশ।

বারোশো টাকা করে সম্বল,গেলেন তিনি বিদেশ
চূড়ান্ত সম্মান অর্জনে করতে মনোনিবেশ।

ভারতীয় বলে জুটেছিল শুধুই প্রত্যাখ্যান
কিছুতেই কিন্তু হাল ছাড়েননি ডা:বিধান।

প্রায় বার তিরিশেক করলেন টানা আবেদন
দুবছরে মেডিসিন,সার্জারির চূড়ান্ত ডিগ্রী করলেন অর্জন।

ফিরলেন দেশে,শুরু করলেন ডাক্তারি
মনে এলো প্রেমের জোয়ার,হলেন প্রেম পূজারী।

প্রেম তাঁর মানল হার অর্থদণ্ডের বিচারে
প্রত্যখিত হয় এলেন ফিরে,মন দিলে রোজগারে।

সাল যখন উনিশশো আটচল্লিশ,ছেড়ে দিয়ে ডাক্তারি
গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রিত্ব,গড়লেন কল্যাণী সহ আরো উপনগরী।

দায়িত্বে ছিলেন যতদিন,করে গেছেন শুধু বাংলার উন্নয়ন
তাঁর কাছে চিরঋণী বাংলার আপামর জনগন।

তিরোধানের পরে ঘরে মেলে এগারো টাকা পঁচিশ পয়সা
জীবনের সঞ্চয় শুধু ছয় টাকা আর মানুষের ভালোবাসা।

আজ তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিনে জানাই তাঁকে নমস্কার মানুষের হৃদয়ে অমর থাকুন বাংলার রূপকার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০২৩

শিরোনাম - পজিটিভিটি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - পজিটিভিটি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পজিটিভ ভাবো সদা,নো নেগেটিভ ভাবনা
বিপদে পড়লেও কভু পিছু হটো না।

চড়াই উৎরাই জীবনের পথ,
আনন্দ যে এই পথ চলাতেই 
থেমো না,শুধু চলো ভালোমন্দ উভয় গ্রহন করেই।

জয় যে হবেই একদিন,জেতার পথ যে নয়কো সোজা
বিজয় পতাকা উত্তোলন করে সেদিন তুমি হবে রাজা।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ২১ জুন, ২০২৩

শিরোনাম - এক রাউন্ড গুলি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - এক রাউন্ড গুলি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

গল্পটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার। এক ভারতীয় ছেলে অমৃতাংশু চৌধুরী ডাক্তারী পড়তে জার্মানিতে   যায়, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তার তৃতীয় বর্ষ। কলেজের প্রফেসর লর্ড ব্যারন খুব স্নেহ করতেন তাকে। ব্যারন ছিলেন খাঁটি জার্মান। তখন কার সময়ে ইহুদী আর জার্মানদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো না। জানা সত্ত্বেও ব্যারন তার বাড়িতে স্টেলা নামক ইহুদীকে তার দুই ছেলের গভরনেস হিসেবে রেখেছিলেন। মাতৃহারা দুই ছেলে আবেল আর হানস কে স্টেলা মায়ের স্নেহেই বড়ো করে তুলেছিল। ব্যারণের বাড়িতে শু (অমৃতাংশুর নাম) এর যাতায়াত ছিলো ভালই। এই সূত্রেই স্টেলার প্রেমে পড়ে সে। ব্যারন খুব ভরসা করতেন স্টেলা কে,তাই ইহুদী জার্মান দ্বন্দ্ব চলাকালীন বাইরের কাউকে জানতে দেন নি স্টেলা ইহুদী। কিন্তু ব্যারনের বাড়ির বাকি কাজের লোকরা জার্মান ছিলো। তাদের মধ্যে মারিয়া স্টেলাকে দু চোখে দেখতে পারতো না ইহুদী বলে। শু আর স্টেলার সম্পর্ক ভালো চোখে দেখত না সে। একদিন হিংসার বশবর্তী হয়ে মারিয়া জার্মান ক্যাম্পে জানিয়ে দেয় স্টেলার কথা,সে যে ইহুদী সেই কথা জানিয়ে দেয়। ব্যারন কোনো ভাবে তা জানতে পেরে স্টেলাকে বাঁচানোর জন্য ছেড়ে আসেন প্রিয় ছাত্র শু এর কাছে। কিছু টাকা আর নার্সের পোশাক স্টেলার সাথে দিয়ে দেন যাতে শু ডাক্তার আর স্টেলা তার সহকারী নার্স সেই পরিচয়ে তারা বার্লিনে পালিয়ে যেতে পারে যুদ্ধ শিবিরে আহত সৈনিক দের সেবা করতে পারে। স্টেলা কেও এভাবে জার্মান আক্রমণ থেকে বাঁচাতে পারবেন ব্যারন। স্টেলার কাছে তিনি কৃতজ্ঞ কারণ তার দুই ছেলেকে স্টেলা আপন করে নিয়েছিল। ব্যারন নিজে সব ঝুঁকি নিয়ে শু আর স্টেলা কে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন বার্লিন গামী ট্রেনে। চারিদিকে যুদ্ধ কালীন তৎপরতা, যে কোনো সময়ে বোম পড়তে পারে। স্টেশনে ঢোকার মুখে একটা বোম ফেলে জার্মানি। তারপর শুরু হয় গুলির খেলা। এক রাউন্ড গুলি চলার পরে শু আর খুঁজে পায় না স্টেলাকে, স্টেশনেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। একুশ দিন পর যখন শু এর জ্ঞান ফিরে আসে নিজেকে আবিষ্কার করে এক সেনা হাসপাতালে। উঠে বসতে গিয়ে দেখে একটা পা খোয়া গেছে তার। রাউন্ডে ডাক্তার বাবু তার ছুটি ঘোষণা করেন। ক্রাচ পায়ে বেরিয়ে পড়ে সে স্টেলার খোঁজে। সমস্ত সেনা শিবির খুঁজে ফেলে তন্ন তন্ন করে। কোথাও পায় না তার স্টেলা কে। ব্যারনের বাড়ী গিয়ে দেখে কেউ দখল নিয়েছে সেই বাড়ীর। বোম আর গুলির খেলায় শু হারিয়ে ফেলে স্টেলা কে কিন্তু বিশ্বাস রাখে কোনো না কোনোদিন স্টেলা ঠিক ফিরে আসবে, যেদিন যুদ্ধ শেষ হবে, পৃথিবী শান্ত হবে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০২৩

গ্রন্থালোচনা

বিষয় - গ্রন্থালোচনা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার পড়া প্রিয় বই- অগ্নীশ্বর
লেখক- বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)


আমার পড়া সব বইয়ের মধ্যে অন্যতম প্রিয় একটি বই হলো বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায়ের (বনফুল) লেখা "অগ্নীশ্বর "। অগ্নীশ্বর লেখাটি তাঁর এক অনবদ্য সৃষ্টি। এই নামে সত্যিই কেউ ছিলেন কিনা সেটা গবেষণা সাপেক্ষ। তবে বনফুল নিজেই এর উত্তর দিয়েছিলেন। বনফুল সৃষ্ট অগ্নীশ্বর মুখোপাধ্যায় ছিলেন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক চিকিৎসক (১৮৮৫-১৯৬৫)। আসল নাম ছিল বনবিহারী মুখোপাধ্যায়। বনফুলের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছিল রেলওয়ে মেডিক্যাল অফিসার পদে থাকার সময়। বনবিহারী চিকিৎসাশাস্ত্র আর সাহিত্য চর্চা সমান ভাবেই করতেন।  দৃঢ়চেতা মনোভাবের মানুষ ছিলেন তিনি। বনফুলের লেখায় তার যে ব্যক্তিত্বের ছবি পাঠক মনে ফুটে উঠেছে টা অকল্পনীয় হলেও কিছুটা বাস্তবতাও রয়েছে তার মধ্যে।

বইটি পড়ে আমার অনুভূতি খুব ছোট্ট করে লেখার মাধ্যমে ব্যক্ত করার চেষ্টা করছি।

অগ্নীশ্বর নাম টির মধ্যেই বোঝা যায় তিনি আগুনের মতোই উজ্জ্বল আর প্রখর ছিলেন। এইটুকুই মিল ছিল তার সাথে অগ্নির। তাঁর হৃদয়ের অন্ত:স্থলে একটা পরোপকারী, নিঃস্বার্থ, রোগী প্রেমিক মানুষ সর্বদা বিরাজ করত। কুসংস্কারের ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি। বাইবেলে মানুষকে ডিভাইন বললেও তাঁর চোখে মানবজাতি ছিল বোভাইন, পেজোমি আর বোকা বদমায়েশি র মিশেল। 
সব রোগী রোগিনী রা তার কাছে সমান ছিল। উচ্চ পদকর্তা রা ভাবতেন তাদের পদ মর্যাদার জোরে অগ্নীশ্বর কে দিয়ে স্পেশাল ট্রিটমেন্ট আদায় করাবেন, কিন্তু তা কোনোভাবেই সম্ভবপর ছিল না। রেলওয়ের হসপিটাল ছিল চেরিটেবল হসপিটাল, তাই কোনো কর্তা তাঁর কাছে স্পেশাল অ্যাটেনশন চাইলে বলতেন এই হসপিটালে লোকে ওষুধ ভিক্ষা করতে আসেন, আপনিও সেই জন্য এসেছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু দাবী করবেন না। 
তাঁর রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি আর চিকিৎসা পদ্ধতি সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে। যে ভাবে তিনি তার চিকিৎসা নৈপুণ্যের জোরে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন তা সত্যিই মাখনের তালের মধ্যে ছুরির মতো। 
রেলওয়ের দুঁদে ইঞ্জিনিয়ার যোগেশ রক্ষিত কে যেভাবে উপহাসের পাত্র করেছিলেন,তাতে হাসা র ছিল না কোনো মানা। রেলওয়ের ডি টি এস স্কট সাহেবকে তার  উদ্ব্ত্যের জন্য নাকানি চোবানি খাইয়ে ছেড়েছিলেন। অগ্নীশ্বর কে মিস্টার স্কট তার স্ত্রী কে দেখার জন্য টেলিগ্রাম করেছিলেন, কিন্তু তাতে প্লীজ লেখা না থাকার জন্য অগ্নীশ্বর যান নি আর হসপিটালে অ্যাপেন্ডিক্স এর অপারেশন করাটা তাঁর কাছে বেশি ইমার্জেন্সী মনে হয়েছিল। তাই পাঠিয়েছিলেন তাঁর সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন ডাঃ লতিফকে। মিস্টার স্কট যে দুর্ব্যবহার করেছিলেন ডা: লতিফের সাথে সেটা অগ্নীশ্বর ভোলেন নি। কিছুদিন পর বদলা নিয়েছিলেন ঠিকই তিনি। রেলের কর্মচারী দের আনফিট সার্টিফিকেট দিয়ে রেলের কর্মব্যবস্থা কে মুখ থুবড়ে মাটিতে ফেলে দিতে পিছপা হন নি। স্কট আই জি সাহেব কে অভিযোগ করলেও অগ্নীশ্বরের বিরুদ্ধে কোনো স্টেপ নেওয়া হয়নি। এরকমই দোর্দন্দপ্রতাপশালী ব্যক্তি ছিলেন অগ্নীশ্বর।

এবার বলি অগ্নীশ্বরের সাহিত্য চর্চা নিয়ে। বনফুল কে তিনি উপহার দিয়েছিলেন " *আধুনিক পঞ্চকন্যা* " লেখাটি, যেটা বনফুল পড়েছিলেন এফ আর সি এস করতে স্কটল্যান্ড যাওয়ার সময় জাহাজে বসে।লেখাটিতে পুরাকালের পাঁচ জন নারীর যেমন উল্লেখ ছিল তার সাথে অগ্নীশ্বরের বাস্তব জীবনে দেখা পাঁচ জন নারীরাও স্থান পেয়েছিল। বাস্তবের পাঁচ নারীর প্রত্যেকের ঘটনাই মনে আঁচড় কেটেছিল। এই পাঁচজনের মধ্যে সুছন্দা চরিত্র টি অন্যতম ছিল আমার কাছে। 

বিদেশ থেকে ফিরে বনফুল অনেক খোঁজ করেছিলেন অগ্নীশ্বর এর, কিন্তু পাননি তার সন্ধান। 
অগ্নীশ্বরের ছেলের সাথে যোগাযোগ করে একটি চিঠির দেখা মেলে যাতে লেখা ছিল সংসারের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে চাননি তিনি। তাই ছেলের হাতে সব দায়িত্ব ছেড়ে তিনি গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিলেন। বনফুলের চোখে যেমন অগ্নীশ্বর অমর, আমার চোখেও তাই। এরকম দৃঢ়চেতা, মহানুভব আত্মার বিনাশ কোনোদিন ই হয় না, হবেও না।
শেষ করবো অগ্নীশ্বরের কিছু উক্তি দিয়ে। পা সবারই আছে, তা বলে সেটা সবাইকে চাটতে হবে এমন কোথাও লেখা নেই।
আর একটি উক্তি ছিল - উপকার হলো "a sort of exhibitionism" তাই যখন চাগাড় দেয় তখন বে - এক্তার করে দেয়। তাই যথাসাধ্য লুকিয়ে করি।

অগ্নীশ্বর কে আদর্শ করে তাই পথ চলার চেষ্টা করি।
 
--- ©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 😊

পাঠ প্রতিক্রিয়া ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পাঠ প্রতিক্রিয়া
✍️ ডা:অরুণিমা দাস
বইয়ের নাম - জাল
লেখক - মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন

সম্প্রতি পড়ে শেষ করেছি জাল নামের গল্প বইটি। থ্রিলার প্রেমীদের জন্য আদর্শ একটি বই। কিভাবে একজন নামকরা ব্যারিস্টার কে মিথ্যে খুনের অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে আর এক্স ডিবি কে এস কে এর ক্ষুরধার বুদ্ধি আর জটিল পাসলস সলভ করার নৈপুণ্যতায় ব্যারিস্টার রক্ষা পায় শেষ অব্দি সেটাই গল্পের মূল বিষয়। আরও কিছু বিশেষ চরিত্র হলো ডা: মামুন, রফিক, মাহবুব এনারা। আসল খুনি কে ছিলো! খুঁজে বের করতে গিয়ে নাজেহাল হন ডিবি ইনভেস্টিগেটর আমিনুল আর তার সহকারীরা। তাই মাঝে মধ্যে শরনাপন্ন হতেন কে এস কে এর কাছে। এদিকে ব্যারিস্টার নিজেও আলাদা ভাবে কে এস কে এর কাছে যান নিজেকে উদ্ধার করার জন্য। ব্যারিস্টার জানায় একটা জালে তিনি ক্রমাগত আটকা পড়ে চলেছেন। শেষ পর্যন্ত বুদ্ধির জোরে কে এস কে উদ্ধার করেন ব্যারিস্টার কে জাল থেকে। দুর্দান্ত এক থ্রিলার, আর টানটান উত্তেজনায় ভরপুর এই বইটি। আশা করি সকলের ভালো লাগবে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস




মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩

শিরোনাম-লহ প্রণাম ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম-লহ প্রণাম 
✍️ ডা:অরুণিমা দাস


প্রণমি তোমারে অন্তর হতে,প্রিয় কবি হে মোর 
হিয়ার মাঝে সদা প্রাণবন্ত তুমি,তোমার কণ্ঠস্বর।

স্কুলের পথ ভুলেছ, সৃষ্টি করেছো অসামান্য রচনা
লেখালিখির চেষ্টা করি সামান্য,তুমি যে অনুপ্রেরণা।

জটিল জীবন সহজ হয়,তোমার লেখায় আর গানে
আশার আলো সঞ্চার হয় অন্ধকারের মধ্যিখানে।

দিকে দিকে চলছে যে পঁচিশে বৈশাখ উদযাপন 
আজ তোমার জন্মদিনে জানাই সশ্রদ্ধ অভিবাদন।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ২ মে, ২০২৩

শিরোনাম- শ্রম দিবস✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম- শ্রম দিবস
✍️ ডা:অরুণিমা দাস 

নিঃশব্দে কাজ যে করে চলে ওরা
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, দিবারাত্র সারা।

তাদের জানাতে সম্মান
একটি দিন বরাদ্দ কেবলি
বাকিদিন ওদের কে ভুলি সকলি।

যথাযোগ্য মূল্যায়ন হোক এদের অক্লান্ত পরিশ্রমের
শুধু মে দিবস নয়,বাকী দিনও শ্রদ্ধা জানাই শ্রমজীবীদের।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস




শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৩

শিরোনাম- বৃষ্টি তুমি ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম- বৃষ্টি তুমি                                            ✍️ ড: অরুণিমা দাস                              
               
বৃষ্টি তুমি তো প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি         
 নামো যখন অঝোর ধারায় দেখতে লাগে খুব মিষ্টি।    
   
গ্রীষ্মের দাবদাহে ক্লান্ত যখন এই ধরাভূমি         
সবার মনে দোলা দিতে আসো তুমি।          
            
একটু ঠাণ্ডা হবার অপেক্ষায়,                                 ধরণী তোমার আসার দিন গুনে যায়।
         
যখন বারিধারা হয়ে ঝরে পড়ো
এই শুষ্ক ধরণীর বুকে প্রাণের সঞ্চার করো।      
   
তোমার প্রতিটি ফোঁটায় থাকে প্রাণের স্পন্দন        এই ধরণী তাই হয়ে ওঠে তোমার ক্রীড়াঙ্গণ।     
             
মাঠ ঘাট যখন তুমি জলে ভরো                     
তোমারি অপেক্ষায় থাকা চাতকের তৃষ্ণা তুমি হরো।  
   
প্রতি গ্রীষ্মের শেষে তাই তোমার আসার প্রহর গুনি। 
বর্ষা তুমি এসে প্রতিবার করে যাও আমাদের ঋণী।
   
তোমার ঋণ মেটাতে আজ ধরার কাছে আমার অঙ্গীকার          
গাছ লাগাবো,গাছ বাঁচাবো বৃষ্টি তোমায় আনতে প্রতিবার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৩

সঠিক নাকি সুহৃদয়✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সঠিক নাকি সুহৃদয়
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কোনো কোনো সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে গেলে কঠোর হৃদয়ের পরিচয় দিতে হতে পারে। জীবনের চড়াই উতরাই তে আমরা নানা ঘটনার সম্মুখীন হয়ে থাকি। সেখানে অনেক ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। হয়তো এমন এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যাতে বাস্তবতা কে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে হৃদয়হীনতার পরিচয় দিতে হলো। তার চেয়ে যদি হৃদয় দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যাতে সহৃদয়তার পরিচয় দেওয়া যায়, সেটা সঠিক সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে নাও হতে পারে। আবার সহৃদয়তার সাথে আপোষ করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটা যথাযথ হতে পারে, এবং বেশির ভাগ সময় সেটা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে। সিদ্ধান্ত যেমন ভাবেই নেওয়া হোক তাতে যেনো মানবিকতার ছোঁয়াটুকু লেগে থাকে,এটাই সকলের কাম্য হওয়া উচিত। 

"প্রয়োজন বিশেষে সঠিক হও বা হও যদি সুহৃদয়
  সিদ্ধান্ত  হোক তোমার সদা প্রাণবন্ত,কল্যাণময়"।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৩

শিরোনাম - বন্ধুর মতো ✍️ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - বন্ধুর মতো
✍️ডা: অরুণিমা দাস

বিশ্বাস করো কাকে! সে কি বন্ধু সত্যিই তোমার?
গোপনে সে করে ফন্দি,  তোমায় ফাঁদে ফেলবার।

গলা জড়িয়ে তোমার করে সে দারুণ নাটক
বুঝতেও পারবেনা তুমি পড়েছো তার জালে আটক।

মিষ্টি হেসে পেছন থেকে যখন সে চালিয়ে দেবে ছুরি
সম্বিত ফিরলে দেখো রক্তাক্ত শরীর-হয়ে গেছে তখন অনেক দেরী!

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৩

শিরোনাম - বর্ষবরণ ✍️ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - বর্ষবরণ
✍️ডা:অরুণিমা দাস

বছর শুরুর প্রথম দিনে চলছে বৈশাখী বরণের আয়োজন
নববর্ষ,হালখাতা- আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেছে জনসাধারণ।

পুরনো সব দুঃখ ভুলে,ভেদাভেদ সকল দূরে সরিয়ে ফেলে
জাতিধর্ম নির্বিশেষে বাঁচো নতুনের আশায় মনের আগল খুলে।

আকাশ বাতাস মুখরিত,বঙ্গবাসী গাও নববর্ষের জয়গান
ফুল,ফলের গন্ধ প্রকৃতিতে মিশে,সাথে পাখির কলতান।

নতুন বছরের প্রথম দিনে সকলকে জানাই প্রাণভরা
শুভেচ্ছা
ভালো কাটুক এই বছর, পূর্ণ হোক মনের সকল ইচ্ছা।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৩

শিরোনাম - বহুরূপী✍️ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - বহুরূপী
✍️ডা: অরুণিমা দাস

বহুরূপী আমি,প্রকাশ আমার নানা ছদ্মবেশে
আয় যা হয় দিন চলে যায় কায়ক্লেশে।

আনন্দ দিতে পারি আমি সকলকে
রংচং দিয়ে চাপা রাখি মনের কষ্টকে।

যেমন খুশী সাজতে যে আমি পারি
জীবন সংগ্রামে লড়তে কভু যেনো না ডরি।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...