শুভ সান্ধ্য আলোচনা-বাসর।
# বিষয়- *পত্র সাহিত্য।*
# নাম- *পত্রের রূপ-রীতি।* ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
মানব মনের দুটি আয়না - চোখ ও চিঠি। অন্তরের পুঞ্জিভূত ভাবের প্রকাশ দুই প্রকার- কথা ও লিখিত। এই কথা ব্যবহারিক ও সাহিত্যিক। সকল কথার কোনো কোনো কথা সাহিত্যিক। সবসময়ই কথা বলি কিন্তু সাহিত্য করে বলতে হলে বিশেষ স্টাইল লাগে। এই স্টাইলটির জন্য কেউ কেউ সাহিত্যিক। রবীন্দ্রনাথ ব্যবহারিক প্রয়োজনের মানুষ যা বলে তাকে- *ছোটো আমি* বলেছেন। আর সাহিত্য স্রষ্টাকে বলেছেন- *বড় আমি*।
পত্র হলো ব্যবহারিক জীবনের, আবার সাহিত্যের জন্য। তাই পত্রকে বলা হয় - *স্টাইল ইজ দ্য ম্যান।* আবার এও বলা হয়- *লেটার ইজ দ্য ম্যান।*
রবীন্দ্রনাথ *পথে ও পথের প্রান্তে* গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন- "....সর্বজনের দরবারে সাধারণ সাহিত্যের আর অন্তরঙ্গ মহলে চিঠির সাহিত্যের গতিবিধি। সাধারণ সাহিত্যকে টানে বিরাট পাঠককেন্দ্র,চালায় দূরদেশের দূরকালের পথে ব্যক্তিগত জীবনের সীমানা ছাড়িয়ে। আর চিঠির সাহিত্যে ধরা দেয় লেখকের কাছ-ঘেঁষা জগতের দৈনিক ছায়া-প্রতিচ্ছায়া,ধ্বণি-প্রতিধ্বণি,তার ক্ষণিক হাওয়ার মার্জিত,আর তার সঙ্গে প্রধানত মিলিয়ে সদ্য-প্রত্যক্ষ সংসার পথের চলতি ঘটনা নিয়ে আলাপ প্রতিলাপ।" এর থেকেই পত্র সাহিত্যের লক্ষণগুলি মোটামুটি এরকম-
১। পত্র সাহিত্য ব্যক্তিগত হয়েও সমাজগত।
২। পত্র সাহিত্য সমকালের হয়েও চিরকালের।
৩। পত্র সাহিত্য শুধু প্রয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় - পত্র বৌদ্ধিক বিকাশের চাহিদা মেটায়। তাই একে অনেকে *বাই প্রোডাক্ট* বলেছেন।
৪। চিঠি আবেগ মথিত,আবার বাস্তবায়নের সহজ রসের সামগ্রী।
৫। যেমন ছবি আঁকা,পত্রও তেমনি,ঘটনা নিজে ডাকপিয়নগিরি করে না,মানুষকে দিয়ে করিয়ে নেয়। নিজের সংবাদ নিজেই করে।
৬। প্রত্যক্ষ আলাপের অভাব দূর করে। আবার প্রত্যক্ষ আলাপে যে ভাব প্রকাশিত হতে পারে না পত্রে তাকে সহজেই ধরা যায়।
যেদিন প্রথম লিপি আবিষ্কৃত হয়,সেদিন সাথে সাথে প্রথম পত্র সাহিত্য আসে। রামায়ণ, মহাভারত, কালিদাসের শকুন্তলার পত্র,তবে প্রথম পত্র সাহিত্য রিচার্ডসনের *পামেলা* গ্রন্থ। পরবর্তীকালে জন কীটস,কুপার,লুকাশ,বার্ণার্ড শ,রাজেন্দ্রলাল মিত্র *পত্রকৌমুদী* সম্পাদনা করতে গিয়ে বলেছেন- "বররুচিকৃত পত্রকৌমুদী নামক সংগ্রহই অধুনা সর্বাপেক্ষা প্রাচীন।"
কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর *অভয়ামঙ্গল* এ দুখানি পত্রের নিদর্শন পাই। রামরাম বসুর *লিপিমালা* পত্রের আকারে রচিত হলেও, পত্র মেনে না হলেও পত্র সাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা। মধুসূদনের *বীরাঙ্গনা* পত্র কাব্য।
বঙ্কিমচন্দ্রের *কমলাকান্তের পত্র* এর পাঁচটি পত্র উল্লেখযোগ্য। আর রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্র সাহিত্য- *জাপান যাত্রী*, *য়ূরোপ প্রবাসীর পত্র*, *ছিন্নপত্র*, *রাশিয়ার চিঠি*, *ভানুসিংহের পত্রাবলী* ও স্বামীজীর পত্রাবলী বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।
বিষয়বস্তু অনুসারে পত্রের দুটি শ্রেণি - পত্রিকা( Epistle) ও চিঠি(Letter)। প্রশাসনিক কাজের পত্র ছাড়া এক পাও চলার উপায় নেই।
আর বিষয়বস্তু অনুসারে পত্র সাহিত্যের তিনটি শ্রেণি - বৈষয়িক, ব্যক্তিগত বা সামাজিক ও প্রেম পত্র।
বৈষয়িক হলো ব্যবসা বাণিজ্য,সংবাদ জ্ঞাপন,প্রশাসনিক কাজকর্ম। এই ধরণের পত্র সাধারণত সংক্ষিপ্ত ও যুক্তিনির্ভর। সাহিত্যের অবকাশ নেই।
সামাজিক পত্র হৃদয়ে মেলে ধরার জন্য। সৌজন্য বিনিময়,খোঁজখবর - ব্যক্তিগত ভাবের আদান প্রদান ঘটে।
আর প্রেমপত্র- এখানেই যেন জীবনের সব রসের ধারা যেন হিমবাহ থেকে নেমে আসি খরস্রোতা নদীর মতো।
প্রেম পত্র জীবনে আবেগের ঘনীভূত অবস্থা। প্রেম পত্র ছাড়া জীবনের সব স্বাদ থেকেও কিছু একটা শূন্যতা,রিক্ততা থেকে যায়। জীবনে প্রেম আসুক না আসুক প্রেম পত্র আসবেই। লেখার অধিকার সবার আছে। প্রেম পত্র ছাড়া জীবন অর্থহীন।
অনন্য সাধারণ।শিক্ষার্থী থাকাকালীন এত কিছু জানতে পারিনি।শিক্ষালাভের কোন বয়স নেই।তাই সমৃদ্ধ করার জন্য ধন্যবাদ দাদা।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤💫💫💥💥
মুছুনঅসাধারণ লাগলো
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤💫💫💥💥
মুছুনঅসাধারণ।। শিখলাম। ।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤💫💫💥💥
মুছুনদারুন লাগলো
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤💫💫💥💥
মুছুনঅপূর্ব দাদা...💐💝
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤💫💫💥💥
উত্তরমুছুনতোর লেখা মানেই অনেক জানা ।অসাধারণ ।👍👍👍👍👌👌👌👌👌💙💙
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤💫💫💥💥
উত্তরমুছুন